বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৭
৩২১. ক্রিকেটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায়- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৯৭ সালে
- খ১৯৯৯ সালে
- গ২০০১ সালে
- ঘ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর: ঘ. ২০০০ সালে
প্রশ্নটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাইলফলকের সাল জানতে চেয়েছে। ২০০০ সালের ২৬ জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশকে পূর্ণ সদস্যপদ দেয়, ফলে বাংলাদেশ দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হয়।
মর্যাদা পাওয়ার কয়েক মাস পরে, ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ তার অভিষেক টেস্ট খেলে।
এর আগের ধাপগুলো মনে রাখলে বিকল্পগুলো সহজে আলাদা করা যায়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশ ওয়ানডে মর্যাদা পায়, আর ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলে।
সাধারণ ফাঁদ হলো ১৯৯৭ বা ১৯৯৯ বেছে নেওয়া, কারণ ওই দুই বছরের সাফল্যই টেস্ট মর্যাদার পথ খুলে দিয়েছিল; কিন্তু মর্যাদা এসেছে ২০০০ সালে।
মনে রাখুন: সাতানব্বইয়ে ওয়ানডে, নিরানব্বইয়ে প্রথম বিশ্বকাপ, দুই হাজারে টেস্ট: তিন ধাপ মনে রাখলেই সাল গুলিয়ে যায় না।
৩২২. বাগদা চিংড়ি কোন দশক থেকে রপ্তানি পণ্য হিসেবে স্থান করে নেয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপঞ্চাশ দশক
- খষাট দশক
- গসত্তর দশক
- ঘআশির দশক
সঠিক উত্তর: ঘ. আশির দশক
বাগদা চিংড়ি আশির দশক থেকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়। প্রচলিত উত্তর তাই আশির দশক।
সত্তরের দশকে সামান্য পরিমাণ চিংড়ি রপ্তানি হলেও তখন চাষ ছিল অল্প। আশির দশকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লোনা পানির জমিতে ঘের করে বাগদা চাষ দ্রুত বাড়ে, আর রপ্তানিও বড় আকার নেয়।
বাগদা লোনা পানির চিংড়ি, আর গলদা মিঠা পানির। দুটিই রপ্তানি হয়, তবে রপ্তানিতে বাগদার অংশ বেশি। চিংড়িকে তাই সাদা সোনা বলা হয়।
ফাঁদ হলো সত্তরের দশক, কারণ তখনই অল্প রপ্তানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় আশির দশকে।
মনে রাখুন: চিংড়ি রপ্তানির উত্থান মানেই আশির দশক।
৩২৩. বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক১১০
- খ১১৫
- গ১১৭
- ঘ১২০
সঠিক উত্তর: গ. ১১৭
সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান আছে। সরকারি কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, পদোন্নতি বা শাস্তি নিয়ে বিরোধ এই ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়।
সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ বিচার বিভাগ নিয়ে। এর মধ্যে ১১০ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর, আর ১১৫ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতে নিয়োগের কথা আছে।
এর ঠিক পরের সপ্তম ভাগ নির্বাচন নিয়ে। ১২০ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী সম্পর্কিত।
ফাঁদ হলো ১১৫, কারণ এটিও বিচার ও নিয়োগ সংক্রান্ত। কিন্তু প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আলাদাভাবে ১১৭ অনুচ্ছেদে।
মনে রাখুন: এক এক সাত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল।
৩২৪. বাংলাদেশে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা - – (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক২৫
- খ২৬
- গ২৭
- ঘ৪১
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪১। এখন: ৫০টি অনুমোদিত (৩৬টি সম্প্রচারে, অক্টোবর ২০২৫)।
প্রশ্নের সময় প্রচলিত উত্তর ছিল ৪১। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন দশটি চ্যানেলের অনুমোদনের পর দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১টি।
অনুমোদন পাওয়া চ্যানেল আর সম্প্রচারে থাকা চ্যানেলের সংখ্যা এক নয়। তখন সম্প্রচারে ছিল ২২টি চ্যানেল; অনুমোদনের পর সম্প্রচারে আসতে সময় লাগে, কিছু চ্যানেল তরঙ্গ বরাদ্দই পায়নি।
বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলা, ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে। এরপর গত দুই দশকে চ্যানেলের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, তাই এই তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলায়।
এ ধরনের প্রশ্নে সম্প্রচারে থাকা চ্যানেলের ছোট সংখ্যাগুলো বিভ্রান্ত করে; প্রচলিত উত্তর অনুমোদিত চ্যানেলের সংখ্যা।
মনে রাখুন: সংখ্যার প্রশ্নে অনুমোদিত চ্যানেল ধরা হয়েছে, সম্প্রচারে থাকা নয়।
৩২৫. চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঅতীশ দিপঙ্কর
- খশিলভদ্র
- গমা হুয়ান
- ঘমেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর: খ. শিলভদ্র
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের দীক্ষাগুরু ছিলেন শীলভদ্র। সাত শতকে হিউয়েন সাঙ নালন্দা মহাবিহারে তাঁর কাছে বৌদ্ধ দর্শন শিক্ষা নেন।
শীলভদ্র ছিলেন বাঙালি, সমতট অঞ্চলের, অর্থাৎ আজকের কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ। তিনি নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন, তাই একে বাংলার গৌরব হিসেবে পড়ানো হয়।
অতীশ দীপঙ্কর বিক্রমপুরের মানুষ, কিন্তু তিনি হিউয়েন সাঙের প্রায় চারশো বছর পরের, এগারো শতকের পণ্ডিত। মা হুয়ান পনেরো শতকের চীনা পর্যটক, আর মেগাস্থিনিস খ্রিস্টপূর্ব যুগে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে গ্রিক দূত।
ফাঁদ হলো অতীশ দীপঙ্কর, কারণ তিনিও বিখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত। কিন্তু সময় মেলে না।
মনে রাখুন: হিউয়েন সাঙ আর শীলভদ্র দুজনেই সাত শতকের, দুজনকে মেলায় নালন্দা।
৩২৬. বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা কত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৪৫০০
- খ৪৫৫০
- গ৫৬০০
- ঘ৪৬০০
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪৫৫০। এখন: ৪,৫৮৫টি (২০২২)।
প্রশ্নের সময় বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ছিল সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি। বিকল্পের মধ্যে ৪৫৫০ সেই সংখ্যার সবচেয়ে কাছে, তাই এটিই উত্তর।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে নিচের স্তর। কয়েকটি ইউনিয়ন মিলে উপজেলা, কয়েকটি উপজেলা মিলে জেলা।
নতুন ইউনিয়ন গঠন বা কোনো ইউনিয়ন পৌরসভার অংশ হয়ে গেলে সংখ্যা বদলায়। তাই এই তথ্যটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল।
৫৬০০ অনেক বেশি, আর ৪৫০০ বা ৪৬০০ মোটামুটি কাছাকাছি হলেও প্রচলিত উত্তর থেকে দূরে। কাছাকাছি সংখ্যাগুলোই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: জেলা ৬৪, ইউনিয়ন সাড়ে চার হাজারের ঘরে।
৩২৭. মহাস্থবীর শিলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআনন্দ বিহার
- খনালন্দা বিহার
- গগোসিপো বিহার
- ঘসোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর: খ. নালন্দা বিহার
মহাস্থবির শীলভদ্র ছিলেন নালন্দা মহাবিহারের আচার্য বা অধ্যক্ষ। নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র, আজকের ভারতের বিহার রাজ্যে।
শীলভদ্র সমতটের, অর্থাৎ কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ ছিলেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ নালন্দায় তাঁর কাছেই শিক্ষা নেন।
সোমপুর মহাবিহার নওগাঁর পাহাড়পুরে, আট শতকে পাল রাজা ধর্মপাল এটি প্রতিষ্ঠা করেন; শীলভদ্রের সময়ের পরে। আনন্দ বিহার কুমিল্লার ময়নামতিতে, দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের সময়ের।
ফাঁদ হলো সোমপুর বিহার, কারণ এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বিহার। কিন্তু শীলভদ্রের কর্মস্থল ছিল নালন্দা।
মনে রাখুন: শীলভদ্র আর হিউয়েন সাঙের প্রশ্নে উত্তর প্রায় সবসময় নালন্দা।
৩২৮. খাসিয়া গ্রামগুলো কি নামে পরিচিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবারাং
- খপাড়া
- গপুঞ্জি
- ঘমৌজা
সঠিক উত্তর: গ. পুঞ্জি
খাসিয়া জনগোষ্ঠীর গ্রামকে পুঞ্জি বলা হয়। বাংলাদেশে খাসিয়ারা মূলত সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকায় বাস করে।
খাসিয়ারা পান চাষের জন্য পরিচিত; পাহাড়ে বড় গাছের গায়ে পান লতা তুলে চাষ করে। তাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, সম্পত্তি ও বংশপরিচয় মায়ের দিক থেকে চলে।
মৌজা হলো ভূমি রাজস্বের একটি প্রশাসনিক একক, কোনো জনগোষ্ঠীর গ্রামের নাম নয়। পাড়া বাংলা শব্দ, গ্রামের একটি অংশ বোঝায়।
ফাঁদ হলো পাড়া, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জনগোষ্ঠীর গ্রামকে পাড়া বলা হয়। খাসিয়াদের ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ পুঞ্জি।
মনে রাখুন: খাসিয়া, পান, পুঞ্জি: তিনটি একসাথে মনে রাখুন।
৩২৯. নিচের কোন ব্যবস্থাটি ভারত উপমহাদেশে লর্ড ক্যানিং প্রথম চালু করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কচিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
- খদ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- গসতীদাহ নিবারণ ব্যবস্থা
- ঘপুলিশ ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: ঘ. পুলিশ ব্যবস্থা
লর্ড ক্যানিংয়ের সময়ে ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়। এই আইনের কাঠামো বহু দিন ধরে চলেছে।
ক্যানিং ছিলেন সিপাহি বিদ্রোহের সময়ের গভর্নর জেনারেল এবং ব্রিটিশ রাজের প্রথম ভাইসরয়। বিদ্রোহের পর শাসন শক্ত করতেই নতুন পুলিশ ব্যবস্থা ও দণ্ডবিধির মতো আইন আসে।
বাকি তিনটি ব্যবস্থা অন্যদের: দ্বৈত শাসন রবার্ট ক্লাইভ, ১৭৬৫ সালে; চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৯৩ সালে; সতীদাহ নিবারণ লর্ড বেন্টিঙ্ক, ১৮২৯ সালে।
শাসক ও সংস্কার জোড়া করে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজে মিলে যায়।
মনে রাখুন: ক্লাইভ দ্বৈত শাসন, কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী, বেন্টিঙ্ক সতীদাহ, ক্যানিং পুলিশ।
৩৩০. ১৯ মে ২০১২ তারিখে কোন বাংলাদেশী এভারেস্ট জয় করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কওয়াসফিয়া নাজনীন
- খমুসা ইব্রাহিম
- গএম. এ. মুহিত
- ঘনিশাত মজুমদার
সঠিক উত্তর: ঘ. নিশাত মজুমদার
২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদার এভারেস্ট জয় করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী এভারেস্টজয়ী।
একই দিনে এম এ মুহিতও দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। তবে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর নিশাত মজুমদার, কারণ সেই দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল প্রথম বাংলাদেশি নারীর এভারেস্ট জয়।
প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহিম, ২০১০ সালের মে মাসে। ওয়াসফিয়া নাজনীন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ওঠেন একই বছরের ২৬ মে, নিশাতের এক সপ্তাহ পরে।
ফাঁদ হলো ওয়াসফিয়া নাজনীন, কারণ তিনিও ২০১২ সালের মে মাসে এভারেস্টে ওঠেন। তারিখটাই এখানে পার্থক্য গড়ে দেয়।
মনে রাখুন: উনিশে নিশাত, ছাব্বিশে ওয়াসফিয়া।
৩৩১. পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি কে উত্থাপন করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআব্দুল মতিন
- খধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- গশেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
- ঘহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: খ. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি তোলেন। গণপরিষদে বাংলার পক্ষে এটিই প্রথম দাবি।
তিনি যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের ভাষা বাংলা, তাই উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাও ব্যবহার করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের সদস্যরা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।
এই প্রত্যাখ্যানের খবর পূর্ব বাংলায় পৌঁছালে ভাষা আন্দোলন জোরালো হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যা করে।
আবদুল মতিন ভাষা আন্দোলনের রাজপথের নেতা, ভাষা মতিন নামে পরিচিত, কিন্তু তিনি গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না। প্রশ্নের চাবি শব্দ গণপরিষদের অধিবেশন।
মনে রাখুন: গণপরিষদে প্রথম বাংলার দাবি: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ১৯৪৮।
৩৩২. বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘ তিন কন্যা’ এর চিত্রকর কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কজয়নুল আবেদিন
- খকামরুল হাসান
- গএস এম সুলতান
- ঘরফিকুন্নবী
সঠিক উত্তর: খ. কামরুল হাসান
তিন কন্যা পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত চিত্রকর্ম। লোকশিল্পের পটচিত্রের ঢঙে আঁকা এই ছবি তাঁর শিল্পরীতির পরিচিত উদাহরণ।
কামরুল হাসানকে পটুয়া বলা হয় কারণ তিনি গ্রামীণ পটচিত্র ও লোকশিল্পের ধারা আধুনিক চিত্রে নিয়ে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াহিয়া খানের মুখ নিয়ে আঁকা পোস্টার এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাজ।
জয়নুল আবেদিন বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের চিত্রমালার জন্য, এস এম সুলতান পেশিবহুল কৃষকের ছবির জন্য, আর রফিকুন্নবী টোকাই কার্টুনের জন্য।
শিল্পী আর তাঁর পরিচিত কাজ জোড়া করে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়।
মনে রাখুন: পটুয়া কামরুলের পটে তিন কন্যা।
৩৩৩. বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০০৯ অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৭তম
- খ৮তম
- গ৯তম
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ৭তম
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০০৯ অনুযায়ী জনসংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম ছিল।
তখন বাংলাদেশের আগে ছিল চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও পাকিস্তান। বাংলাদেশের ঠিক পরে ছিল নাইজেরিয়া।
নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, তাই পরে নাইজেরিয়া বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়। এ কারণে এই ধরনের প্রশ্নে কোন বছরের প্রতিবেদন, তা খেয়াল করা জরুরি।
ফাঁদ হলো অষ্টম, কারণ পরের বছরগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম হিসেবে বেশি শোনা যায়।
মনে রাখুন: পুরোনো প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সপ্তম, নাইজেরিয়া এগোনোর পর অষ্টম।
৩৩৪. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪ অনুযায়ী গড় সাক্ষরতার হার - – (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৬১.১%
- খ৫৭.৯%
- গ৫৬.৮%
- ঘ৬৫.৫%
সঠিক উত্তর: খ. ৫৭.৯%
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪ অনুযায়ী দেশের গড় সাক্ষরতার হার ধরা হয়েছিল ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর এটিই।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতি বছর বাজেটের সময় অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয় ইত্যাদি সূচকের সর্বশেষ তথ্য থাকে।
সাক্ষরতার হার কোন বয়সের মানুষ ধরে মাপা হয়েছে আর কোন জরিপ থেকে নেওয়া, তার উপর সংখ্যা বদলায়। তাই এ ধরনের প্রশ্নে কোন সালের কোন উৎস, তা মিলিয়ে উত্তর দিতে হয়।
কাছাকাছি সংখ্যাগুলোই ফাঁদ; উৎস ও সাল মনে রাখাই এখানে একমাত্র উপায়।
মনে রাখুন: সংখ্যার প্রশ্নে উৎস আর সাল একসাথে মনে রাখুন।
৩৩৫. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- খকর্নেল শফিউল্লাহ
- গজেনারেল এম. এ. জি ওসমানী
- ঘমেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বলা হয়, আর রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বাধিনায়ক আর প্রধান সেনাপতি আলাদা পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনী পরিচালনার দায়িত্বে প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
ফাঁদ হলো ওসমানী বিকল্পটি। সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপ্রধানের পদ, প্রধান সেনাপতি সামরিক পদ।
মনে রাখুন: সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু, প্রধান সেনাপতি ওসমানী।
৩৩৬. ‘বর্ণালী’ এবং ‘শুভ্র’ কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কউন্নত জাতের ভুট্টা
- খউন্নত জাতের আম
- গউন্নত জাতের গম
- ঘউন্নত জাতের চাল
সঠিক উত্তর: ক. উন্নত জাতের ভুট্টা
বর্ণালী ও শুভ্র বাংলাদেশে চাষ হওয়া উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই জাতগুলো চাষের জন্য দিয়েছে।
বাংলাদেশে প্রচলিত উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাতের মধ্যে আছে বর্ণালী, শুভ্র, মোহর, খইভুট্টা ইত্যাদি। নামগুলো দানার রং বা ধরন থেকে এসেছে; যেমন শুভ্র মানে সাদা।
ধানের জাতের নাম সাধারণত ব্রি ধান সংখ্যা দিয়ে, গমের জাত বারি গম সংখ্যা দিয়ে, আর আমের জাত বারি আম সংখ্যা দিয়ে পরিচিত। বর্ণালী বা শুভ্র নামে কোনো প্রচলিত ধান, গম বা আমের জাত নেই।
নাম শুনে আম বা চাল ভাবা স্বাভাবিক, এটাই ফাঁদ। ফসলের জাতের প্রশ্নে বর্ণালী, শুভ্র, মোহর দেখলে ভুট্টা মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বর্ণালী, শুভ্র, মোহর: তিনটিই ভুট্টা।
৩৩৭. ‘Making of a Nation Bangladesh’ গ্রন্থের রচয়িতা কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককামাল হোসেন
- খএস. এ. করিম
- গনুরুল ইসলাম
- ঘআনিসুর রহমান
সঠিক উত্তর: গ. নুরুল ইসলাম
মেকিং অব আ নেশন, বাংলাদেশ গ্রন্থের লেখক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। বইটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়, এর উপশিরোনাম একজন অর্থনীতিবিদের কাহিনি।
নুরুল ইসলাম স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন। বইটিতে নতুন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণের অভিজ্ঞতা লেখা আছে।
কামাল হোসেন ছিলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও প্রথম আইনমন্ত্রী। এস এ করিম কূটনীতিক, বঙ্গবন্ধুর জীবনী লিখেছেন। আনিসুর রহমানও অর্থনীতিবিদ ও প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন, তবে এই বইয়ের লেখক নন।
ফাঁদ হলো আনিসুর রহমান, কারণ তিনিও একই কমিশনের অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
মনে রাখুন: জাতি গঠনের পরিকল্পনা যিনি করেছেন, বইও তাঁর: নুরুল ইসলাম।
৩৩৮. জীবনঢুলী কি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কএকটি উপন্যাসের নাম
- খএকটি কাব্যগ্রন্থের নাম
- গএকটি আত্মজীবনীর নাম
- ঘএকটি চলচ্চিত্রের নাম
সঠিক উত্তর: ঘ. একটি চলচ্চিত্রের নাম
জীবনঢুলী একটি চলচ্চিত্র, পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল। ছবিটি ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়।
ছবির কাহিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জীবনকৃষ্ণ দাস নামের একজন ঢুলী বা ঢাকবাদককে ঘিরে, যিনি নিচু বর্ণের হিন্দু হিসেবে সমাজে অবহেলিত। যুদ্ধের দিনে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও প্রতিরোধ ছবিতে ফুটে উঠেছে।
তানভীর মোকাম্মেলের অন্য পরিচিত ছবির মধ্যে আছে চিত্রা নদীর পারে ও লালসালু। প্রশ্নটি পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ের মুক্তি পাওয়া ছবি থেকে এসেছে।
নামের শুরুতে জীবন শব্দ থাকায় অনেকে আত্মজীবনী বা উপন্যাস ভাবেন; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: তানভীর মোকাম্মেলের মুক্তিযুদ্ধের ছবি: জীবনঢুলী।
৩৩৯. বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে কোন ক্রিকেটার পাঁচ উইকেট পেয়েছেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসোহাগ গাজী
- খরুবেল হোসেন
- গতাইজুল ইসলাম
- ঘতাসকিন আহমেদ
সঠিক উত্তর: ঘ. তাসকিন আহমেদ
তাসকিন আহমেদ ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট নেন। অভিষেকে এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরল।
ম্যাচটি হয়েছিল ঢাকার মিরপুরে, জুন মাসে। ফাস্ট বোলার তাসকিন তখন মাত্র উনিশ বছরের তরুণ।
তাইজুল ইসলামও ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকে নজর কাড়েন, তবে তাঁর কৃতিত্ব হ্যাটট্রিক, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা তিনিই প্রথম বোলার।
সোহাগ গাজী টেস্টে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের জন্য বিখ্যাত। অভিষেকের রেকর্ড শুনলেই তাইজুল মনে পড়ে, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: অভিষেকে পাঁচ তাসকিন, অভিষেকে হ্যাটট্রিক তাইজুল।
৩৪০. পরিকল্পনা কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কোন মেয়াদে হবে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক২০১৫-২০১৯
- খ২০১৬-২০২০
- গ২০১৭-২০২১
- ঘ২০১৮-২০২২
সঠিক উত্তর: খ. ২০১৬-২০২০
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০২০, অর্থাৎ ২০১৫ ও ২০১৬ এর অর্থবছর থেকে ২০১৯ ও ২০২০ এর অর্থবছর পর্যন্ত।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পাঁচ বছরের, আর আগেরটি শেষ হলে পরেরটি শুরু হয়। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ছিল ২০১১ থেকে ২০১৫, তাই সপ্তমটি ২০১৬ থেকে ২০২০।
এর পরের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০২১ থেকে ২০২৫। এভাবে পাঁচ যোগ করে ক্রম মিলিয়ে নিলে সহজেই উত্তর পাওয়া যায়।
ফাঁদ হলো ২০১৫ থেকে ২০১৯, কারণ পরিকল্পনা শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে। কিন্তু মেয়াদ গণনায় ধরা হয় ২০১৬ থেকে ২০২০।
মনে রাখুন: ষষ্ঠ শেষ ২০১৫, তাই সপ্তম ২০১৬ থেকে ২০২০।