আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ২৩
৪৪১. সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৮২
- খ১৯৮৫
- গ১৯৮৪
- ঘ১৯৮৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৮৫
প্রশ্নটা সার্ক প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৮৫; সে বছরের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে সার্ক সনদ গৃহীত হয়ে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা প্রথম তোলা হয় ১৯৮০ সালে, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। ১৯৮১ সালের এপ্রিলে কলম্বোয় সাত দেশের পররাষ্ট্রসচিবেরা প্রথম বৈঠকে বসেন।
১৯৮৩ সালের আগস্টে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ঘোষণা গ্রহণ করেন, যা সার্কের পূর্বপ্রস্তুতি। তাই ১৯৮৩ বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাতটি: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান অষ্টম সদস্য হয়। সচিবালয় ১৯৮৭ সালে কাঠমান্ডুতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
মনে রাখুন: সার্কের জন্ম ঢাকায়, ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫; সচিবালয় কাঠমান্ডুতে।
৪৪২. জাতিসংঘ কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৪১
- খ১৯৪৫
- গ১৯৪৮
- ঘ১৯৪৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৪৫
প্রশ্নটা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৪৫; সে বছরের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়, আর দিনটি জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি দেশ সনদে সই করে; পোল্যান্ড পরে সই করে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়, ফলে মোট প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৫১টি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ জাতিপুঞ্জের জায়গায় জাতিসংঘ গঠিত হয়। প্রস্তুতির ধাপগুলো হলো ১৯৪১ সালের আটলান্টিক সনদ, ১৯৪২ সালের জাতিসংঘ ঘোষণা আর ১৯৪৫ সালের ইয়াল্টা সম্মেলন।
ফাঁদ হলো ১৯৪১ ও ১৯৪৮: ১৯৪১ আটলান্টিক সনদের বছর, আর ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা গ্রহণ করে।
মনে রাখুন: জাতিসংঘ দিবস ২৪ অক্টোবর, বছর ১৯৪৫।
৪৪৩. আলেপ্পো শহরটি কোথায় অবস্থিত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমিশর
- খইরান
- গইরাক
- ঘসিরিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. সিরিয়া
প্রশ্নটা আলেপ্পো শহরের অবস্থান জানতে চেয়েছে। আলেপ্পো উত্তর সিরিয়ার একটি প্রাচীন ও বড় শহর।
এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। ১৯৮৬ সালে প্রাচীন আলেপ্পো শহর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ২০১২ সাল থেকে আলেপ্পোতে তীব্র লড়াই হয় এবং শহরের ঐতিহাসিক অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পরীক্ষার সময়ও সেই লড়াই চলছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো দেশ অনুযায়ী মনে রাখুন: সিরিয়ায় দামেস্ক, আলেপ্পো, হোমস; ইরাকে বাগদাদ, মসুল, বসরা; ইরানে তেহরান, ইস্পাহান; মিসরে কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া।
মনে রাখুন: আলেপ্পো আর দামেস্ক: সিরিয়ার দুই প্রাচীন শহর।
৪৪৪. মাদার তেরেসা কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমেসিডোনিয়া
- খআলজেরিয়া
- গআলবেনিয়া
- ঘফ্রান্স
সঠিক উত্তর: ক. মেসিডোনিয়া
প্রশ্নটা মাদার তেরেসার জন্ম কোন দেশে, তা জানতে চেয়েছে। তিনি ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট স্কোপিয়ে শহরে জন্মান, যা পরীক্ষার সময় মেসিডোনিয়ার রাজধানী ছিল; তাই সঠিক উত্তর মেসিডোনিয়া।
জন্মের সময় স্কোপিয়ে ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। তাঁর পারিবারিক নাম অ্যাগনেস গনজা বোয়াজিউ, আর পরিবার ছিল জাতিগতভাবে আলবেনীয়।
১৯২৯ সালে তিনি ভারতে আসেন, ১৯৫০ সালে কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেন, আর ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পান।
ফাঁদ হলো আলবেনিয়া: তিনি জাতিগতভাবে আলবেনীয় হলেও তাঁর জন্মস্থান আলবেনিয়া রাষ্ট্রে নয়। পরীক্ষার পরে, ২০১৯ সালে, মেসিডোনিয়ার নাম বদলে উত্তর মেসিডোনিয়া রাখা হয়।
মনে রাখুন: জন্মস্থান স্কোপিয়ে মানে মেসিডোনিয়া; আলবেনীয় শুধু জাতিগত পরিচয়।
৪৪৫. BRICS এর সদর দপ্তর কোথায়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কচীনের সাংহাই
- খসদরদপ্তর নাই
- গপ্রিটোরিয়া
- ঘনয়াদিল্লী
সঠিক উত্তর: খ. সদরদপ্তর নাই
প্রশ্নটা যাচাই করছে ব্রিকস জোটের কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর আছে কি না। পরীক্ষার সময় ব্রিকস ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এই পাঁচ দেশের অনানুষ্ঠানিক জোট; এর কোনো স্থায়ী সচিবালয় বা সদর দপ্তর নেই।
জোটের কাজ চলে পালাক্রমে সভাপতিত্বের মাধ্যমে। যে দেশ যে বছর সভাপতি থাকে, সেই দেশই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে ও সমন্বয়ের দায়িত্ব নেয়। পরীক্ষার বছর ২০১৬ সালে সভাপতি ছিল ভারত, আর শীর্ষ সম্মেলন হয় গোয়ায়।
জোটটি সদর দপ্তরহীন হলেও এর গড়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদর দপ্তর চীনের সাংহাইয়ে। ব্যাংকটির চুক্তি হয় ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ফোর্তালেজা সম্মেলনে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ সাংহাই বেছে নেওয়া। সাংহাই জোটের ব্যাংকের ঠিকানা, জোটের নিজের নয়।
মনে রাখুন: অনানুষ্ঠানিক জোট, যেমন ব্রিকস, জি-২০ বা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, সাধারণত স্থায়ী সদর দপ্তরহীন হয়।
৪৪৬. SDR (Special Drawing Rights) সুবিধা প্রবর্তনের জন্য কত সালে IMF এর গঠনতন্ত্র (Articles) সংশোধন করা হয়েছিল? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৬৯
- খ১৯৭১
- গ১৯৭৫
- ঘ১৯৭৮
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৬৯
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশেষ আহরণ অধিকার, সংক্ষেপে এসডিআর, চালুর সাল জানতে চেয়েছে। এসডিআর চালু করতে তহবিলের গঠনতন্ত্রে প্রথম সংশোধনী আনা হয়, যা ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়।
কেন দরকার হয়েছিল: ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় দেশগুলোর রিজার্ভ নির্ভর করত মূলত সোনা ও মার্কিন ডলারের উপর, আর এই দুইয়ের জোগান সীমিত ছিল। তাই সদস্যদের সরকারি রিজার্ভের পরিপূরক হিসেবে এসডিআর তৈরি করা হয়।
এসডিআর নিজে কোনো মুদ্রা নয়; এটি সদস্যদের ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার উপর একটি দাবি। শুরুতে এর মান সোনায় বাঁধা ছিল, পরে কয়েকটি মুদ্রার ঝুড়ি দিয়ে ঠিক হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ঝুড়িতে আছে ডলার, ইউরো, চীনা ইউয়ান, জাপানি ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ড।
ফাঁদ হলো ১৯৭৮। সে বছর দ্বিতীয় সংশোধনী কার্যকর হয়, যা ভাসমান বিনিময় হার বৈধ করে; এসডিআর তার প্রায় এক দশক আগেই চালু হয়ে গিয়েছিল।
মনে রাখুন: প্রথম সংশোধনী ১৯৬৯ মানে এসডিআরের জন্ম; দ্বিতীয় সংশোধনী ১৯৭৮ মানে ভাসমান বিনিময় হার।
৪৪৭. ‘কালাপানি’ কোন দুই রাষ্ট্রের মধ্যে অমীমাংসিত ভূখণ্ড? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কভারত ও নেপাল
- খপাকিস্তান ও চীন
- গভূটান ও ভারত
- ঘবাংলাদেশ ও ভারত
সঠিক উত্তর: ক. ভারত ও নেপাল
প্রশ্নটা দক্ষিণ এশিয়ার একটি সীমান্ত বিরোধ নিয়ে। কালাপানি ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এলাকা। এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলা আর নেপালের দারচুলা জেলার সংযোগে, চীনের তিব্বত সীমান্তের কাছে।
বিরোধের মূলে ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। চুক্তিতে কালী বা মহাকালী নদীকে নেপালের পশ্চিম সীমা ধরা হয়, কিন্তু নদীর উৎস কোন ধারা, তা নিয়ে দুই দেশের ব্যাখ্যা আলাদা। নেপাল মনে করে উৎস আরও পশ্চিমে লিম্পিয়াধুরায়, তাই কালাপানি ও লিপুলেখ তার ভূখণ্ড।
এলাকাটি বর্তমানে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। তাই কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা, এই তিনটি নাম একসঙ্গে ভারত-নেপাল বিরোধ হিসেবে মনে রাখুন।
বাংলাদেশ ও ভারত বিকল্পটি অনেককে টানে, কারণ ‘কালাপানি’ শব্দটা আন্দামানের সেলুলার জেলের প্রসঙ্গেও শোনা যায়। কিন্তু সেই কালাপানির সঙ্গে এই হিমালয়ের ভূখণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: কালাপানি, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা: তিন নামই ভারত-নেপাল বিরোধ।
৪৪৮. সলোমন- দ্বীপপুঞ্জ কোন মহাসাগরে অবস্থিত? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কভারত মহাসাগর
- খপ্রশান্ত মহাসাগর
- গআটলান্টিক মহাসাগর
- ঘআর্কটিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর: খ. প্রশান্ত মহাসাগর
প্রশ্নটা মানচিত্রে একটি দ্বীপরাষ্ট্রের অবস্থান যাচাই করছে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে, পাপুয়া নিউগিনির পূর্বে ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
দেশটি ওশেনিয়ার মেলানেশিয়া অঞ্চলের অংশ। রাজধানী হোনিয়ারা, যা গুয়াডালক্যানাল দ্বীপে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বড় যুদ্ধ হয়েছিল। দেশটি ১৯৭৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীন হয়।
মনে রাখার উপায়: প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলো তিন অঞ্চলে ভাগ, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়া। পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন, ভানুয়াতু ও ফিজি মেলানেশিয়ায়।
‘দ্বীপপুঞ্জ’ শুনে অনেকে ভারত মহাসাগর বেছে নেন, কারণ মালদ্বীপ বা সেশেলস সেখানে। কিন্তু সলোমন তার বহু পূর্বে, প্রশান্ত মহাসাগরে।
মনে রাখুন: পাপুয়া নিউগিনির প্রতিবেশী যেকোনো দ্বীপরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরে।
৪৪৯. চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী প্রধান মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কতুর্কমেন
- খউইঘুর
- গতাজিক
- ঘকাজাখ
সঠিক উত্তর: খ. উইঘুর
প্রশ্নটা চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের প্রধান মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম চায়। উত্তর উইঘুর। দাপ্তরিকভাবে অঞ্চলটি প্রদেশ নয়, এর নাম জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল; অর্থাৎ নামেই জাতিগোষ্ঠীটির পরিচয়।
উইঘুররা তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ, ধর্মে মূলত সুন্নি মুসলিম। অঞ্চলটির রাজধানী উরুমচি, আর আয়তনে এটি চীনের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক অঞ্চল।
জিনজিয়াংয়ে কাজাখ, কিরগিজ, তাজিকসহ আরও কিছু মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে, কিন্তু সংখ্যায় তারা উইঘুরদের চেয়ে অনেক কম।
কাজাখ বা তাজিক বেছে নেওয়ার ফাঁদ আছে, কারণ এরা জিনজিয়াংয়েও থাকে এবং প্রতিবেশী কাজাখস্তান ও তাজিকিস্তানের প্রধান জাতি। কিন্তু জিনজিয়াংয়ে প্রধান জনগোষ্ঠী উইঘুর।
মনে রাখুন: অঞ্চলের পুরো নামেই উত্তর: জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
৪৫০. সম্প্রতি ভারত Google কে নিচের কোন প্রোগ্রামের জন্য ছবি তোলা থেকে বিরত করে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কGoogle Earth
- খStreet View
- গRoad Image
- ঘGoogle Map
সঠিক উত্তর: খ. Street View
প্রশ্নটা ২০১৬ সালের একটি খবর নিয়ে। সে বছরের জুনে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুগলকে জানায়, স্ট্রিট ভিউয়ের জন্য দেশজুড়ে রাস্তার ছবি তোলার প্রস্তাব নামঞ্জুর।
স্ট্রিট ভিউ হলো গুগল ম্যাপসের একটি সুবিধা, যেখানে গাড়িতে বসানো ক্যামেরায় রাস্তার চারপাশের ঘুরিয়ে দেখা যায় এমন ছবি তোলা হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা ছিল, স্পর্শকাতর স্থাপনার এমন খুঁটিনাটি ছবি সন্ত্রাসীরা কাজে লাগাতে পারে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার আগে লক্ষ্যবস্তুর ছবি তুলে রেকি করার ঘটনা, আর ২০১৬ সালের জানুয়ারির পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলা এই আশঙ্কা বাড়িয়েছিল।
লক্ষ করুন, বাধা ছিল কেবল রাস্তায় নেমে ছবি তোলায়; গুগল আর্থ বা গুগল ম্যাপ ভারতে বন্ধ হয়নি।
পরীক্ষার পরের ঘটনা: ২০২২ সালের জুলাইয়ে স্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠানের তোলা ছবি দিয়ে ভারতে স্ট্রিট ভিউ আবার চালু হয়।
মনে রাখুন: ‘ছবি তোলা’ শব্দটাই ইঙ্গিত: রাস্তায় ক্যামেরা নিয়ে ঘোরে কেবল স্ট্রিট ভিউ।
৪৫১. সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারের সংসদে কত শতাংশ আসন অনির্বাচিত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২৫%
- খ৩৫%
- গ৪৫%
- ঘ৫৫%
সঠিক উত্তর: ক. ২৫%
প্রশ্নটা মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সংবিধানের একটি বিধান নিয়ে। এই সংবিধান অনুযায়ী সংসদের দুই কক্ষেই মোট আসনের চার ভাগের এক ভাগ, মানে ২৫ শতাংশ, সেনাপ্রধানের মনোনীত সামরিক সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত; তাঁরা নির্বাচিত হন না।
হিসাবটা দেখুন: নিম্নকক্ষের ৪৪০ আসনের মধ্যে ১১০টি, আর উচ্চকক্ষের ২২৪ আসনের মধ্যে ৫৬টি সেনাবাহিনীর। দুটোই ঠিক চার ভাগের এক ভাগ।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: সংবিধান সংশোধনে সংসদের ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্যের সমর্থন লাগে, আর মূল অংশগুলোর বেলায় এরপর গণভোটও লাগে। সেনাবাহিনীর হাতে ২৫ শতাংশ থাকায় তাদের সম্মতি ছাড়া সংশোধন অসম্ভব, অর্থাৎ সংশোধনে তাদের কার্যত ভেটো আছে।
৩৫ বা ৪৫ শতাংশ শুনতে বড় প্রভাবের সঙ্গে বেশি মানানসই মনে হয়। কিন্তু ভেটোর জন্য ২৫ শতাংশই যথেষ্ট, কারণ সংশোধনের সীমা ৭৫ শতাংশের বেশি।
মনে রাখুন: ৪৪০ এর ১১০, ২২৪ এর ৫৬: দুটোই চার ভাগের এক, মানে ২৫%।
৪৫২. World Development Report নিম্নের কোন সংস্থাটির বার্ষিক প্রকাশনা? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কUNDP
- খWorld Bank
- গIMF
- ঘBRICS
সঠিক উত্তর: খ. World Bank
প্রশ্নটা কোন সংস্থা কোন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তা যাচাই করছে। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট বিশ্বব্যাংকের প্রধান বার্ষিক প্রকাশনা, প্রথম প্রকাশ ১৯৭৮ সালে।
প্রতি বছর প্রতিবেদনটি উন্নয়নের একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে। যেমন পরীক্ষার বছরের প্রতিবেদনের বিষয় ছিল ডিজিটাল ডিভিডেন্ড, অর্থাৎ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়ন-সুফল।
নামের মিলের কারণে গুলিয়ে যায় বলে পাশের প্রতিবেদনগুলোও মনে রাখুন: জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট, আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক।
সবচেয়ে বেশি ভুল হয় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বেছে, কারণ ‘ডেভেলপমেন্ট’ শব্দটা দুই নামেই আছে। কিন্তু তাদের প্রতিবেদন হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, মানব উন্নয়ন।
মনে রাখুন: Human Development মানে ইউএনডিপি; World Development মানে বিশ্বব্যাংক; World Economic Outlook মানে আইএমএফ।
৪৫৩. IMF এর সদর দপ্তর অবস্থিত – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কওয়াশিংটন ডিসি
- খনিউইয়র্ক
- গজেনেভা
- ঘরোম
সঠিক উত্তর: ক. ওয়াশিংটন ডিসি
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদর দপ্তর জানতে চায়। উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি; বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরও একই শহরে।
দুটি সংস্থাই ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস সম্মেলনে পরিকল্পিত হয়, তাই এদের ব্রেটন উডস যমজ বলা হয়। মুদ্রা তহবিলের মূল কাজ আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা রাখা এবং লেনদেন ভারসাম্যের সংকটে পড়া দেশকে ঋণ দেওয়া।
জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট শহরগুলো গুলিয়ে ফেলবেন না: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর, জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আর রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।
নিউইয়র্ক বেছে নেওয়ার প্রবণতা আছে, কারণ সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর ও জাতিসংঘের শহর। কিন্তু ব্রেটন উডসের সংস্থা দুটি রাজধানী ওয়াশিংটনে।
মনে রাখুন: ব্রেটন উডস যমজ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক, দুজনেই ওয়াশিংটনে।
৪৫৪. বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোন সংস্থ্যাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি খাতে আর্থিক সহায়তা ও উপদেশ দিয়ে থাকে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কIFC
- খIBRD
- গMIGA
- ঘICSID
সঠিক উত্তর: ক. IFC
প্রশ্নটা বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্থাগুলোর কাজ আলাদা করতে পারছেন কি না, তা যাচাই করছে। উন্নয়নশীল দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ, শেয়ারে বিনিয়োগ ও পরামর্শ দেয় আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা, সংক্ষেপে আইএফসি, প্রতিষ্ঠিত ১৯৫৬ সালে।
মূল পার্থক্য হলো কাকে টাকা দেয়। পুনর্গঠন ও উন্নয়নের আন্তর্জাতিক ব্যাংক, আইবিআরডি, এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতি, আইডিএ, ঋণ দেয় সরকারকে। আইএফসি সরকারের নিশ্চয়তা ছাড়াই সরাসরি বেসরকারি কোম্পানিকে অর্থায়ন করে।
বাকি দুটি অর্থ দেয় না, সুরক্ষা দেয়। বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ নিশ্চয়তা সংস্থা, মিগা, বিদেশি বিনিয়োগকারীকে রাজনৈতিক ঝুঁকির বিপরীতে গ্যারান্টি দেয়। আর বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তির আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, ইকসিড, বিনিয়োগকারী ও রাষ্ট্রের বিরোধ মেটায়।
মিগা বেছে নেওয়ার ফাঁদ আছে, কারণ সেটিও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মিগা টাকা ধার দেয় না, ঝুঁকির গ্যারান্টি দেয়।
মনে রাখুন: প্রশ্নে ‘বেসরকারি খাত’ দেখলেই আইএফসি।
৪৫৫. সামন্তবাদ কোন ইউরোপীয় দেশে প্রথম সূত্রপাত হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কইতালি
- খইংল্যান্ড
- গফ্রান্স
- ঘরাশিয়া
সঠিক উত্তর: ক. ইতালি
প্রশ্নটা ইউরোপে সামন্তবাদের সূচনা কোথায়, তা জানতে চায়। সামন্তবাদ এমন ব্যবস্থা যেখানে রাজা বা প্রভু অনুগত যোদ্ধাকে জমি বা জায়গির দেন, আর বিনিময়ে সেই সামন্ত আনুগত্য ও সামরিক সেবা দেন; জমিতে খাটে ভূমিদাস কৃষক।
এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ইতালি, এবং এখানে সেটিই ধরা হয়েছে। ইতালির সঙ্গে সামন্তবাদের যোগ সবচেয়ে স্পষ্ট আইনের দিক থেকে: সামন্ত আইনের বিখ্যাত সংকলন ‘লিব্রি ফিউডোরাম’ বারো ও তেরো শতকে লম্বার্ডির রীতি থেকে গড়ে ওঠে এবং বোলোনিয়ায় চূড়ান্ত রূপ পায়; পরে ইতালি ও ফ্রান্সের আইনশিক্ষায় এটি ব্যাপকভাবে পড়ানো হয়।
তবে ইতিহাসবিদদের বড় অংশ মনে করেন, প্রভু ও অনুগতের এই বন্ধন প্রথম গড়ে ওঠে অষ্টম ও নবম শতকে ফ্রাঙ্কিশ বা ক্যারোলিঞ্জীয় রাজ্যে, যার কেন্দ্র আজকের ফ্রান্স। পরে ১০৬৬ সালে নরম্যান বিজয়ের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা ইংল্যান্ডে পূর্ণ রূপ পায়।
তাই পরীক্ষার হলে এই প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর ইতালিই দিন, কিন্তু মনে রাখুন ফ্রান্সের পক্ষেও জোরালো ঐতিহাসিক যুক্তি আছে। ইংল্যান্ড বেছে নেওয়া ভুল, কারণ সেখানে ব্যবস্থাটি বাইরে থেকে এসেছে।
মনে রাখুন: এই প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর ইতালি; ইংল্যান্ডে সামন্তবাদ এসেছে ১০৬৬ সালে, বাইরে থেকে।
৪৫৬. জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য : (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কজাপান , জার্মানি, ফ্রান্স , ব্রিটেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র
- খফ্রান্স , রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন
- গযুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন, ব্রাজিল, চীন, নাইজেরিয়া
- ঘউত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, ভারত, ইসলায়েল, চীন
সঠিক উত্তর: খ. ফ্রান্স , রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন
প্রশ্নটা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য চায়: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। জাতিসংঘ সনদেই এদের নাম লেখা, আর প্রত্যেকের ভেটো ক্ষমতা আছে।
কেন এই পাঁচ: এরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান বিজয়ী মিত্রশক্তি। সনদে মূলত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন প্রজাতন্ত্রের নাম ছিল; ১৯৭১ সালে চীনের আসনটি গণচীন পায়, আর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আসন পায় রাশিয়া।
নিরাপত্তা পরিষদে মোট সদস্য ১৫; বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য, দুই বছরের জন্য নির্বাচিত।
ফাঁদ হলো জার্মানি ও জাপান। এরা বড় অর্থনীতি এবং স্থায়ী আসন চায়, কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত পক্ষ ছিল, তাই স্থায়ী সদস্য নয়। যে বিকল্পে এদের নাম আছে, সেটি সরাসরি বাদ।
মনে রাখুন: স্থায়ী সদস্য মানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাঁচ বিজয়ী মিত্র; বিকল্পে জার্মানি বা জাপান থাকলে বাদ।
৪৫৭. ‘Law of the Sea Convention’ অনুযায়ী উপকূল থেকে কত দূরত্ব পর্যন্ত ‘Exclusive Economic Zone’ হিসেবে গণ্য? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২২ নটিক্যাল মাইল
- খ৪৪ নটিক্যাল মাইল
- গ২০০ নটিক্যাল মাইল
- ঘ৩৭০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর: গ. ২০০ নটিক্যাল মাইল
প্রশ্নটা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের সমুদ্র-অঞ্চল নিয়ে। উপকূলের ভিত্তিরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এই অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্র মাছ, তেল-গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের একচেটিয়া অধিকার পায়। তবে অন্য দেশের জাহাজ ও বিমান চলাচলের স্বাধীনতা থাকে।
ধাপগুলো মনে রাখুন: ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, যেখানে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব; ২৪ পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল; আর ২০০ পর্যন্ত একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এক নটিক্যাল মাইল প্রায় ১ দশমিক ৮৫২ কিলোমিটার। তাই অন্য বিকল্পগুলো আসলে কিলোমিটারের ফাঁদ: ১২ নটিক্যাল মাইল প্রায় ২২ কিলোমিটার, ২৪ প্রায় ৪৪ কিলোমিটার, আর ২০০ প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। একক বদলে সংখ্যাগুলো বিকল্পে বসানো হয়েছে।
মনে রাখুন: ১২-২৪-২০০: সার্বভৌম, সংলগ্ন, অর্থনৈতিক। কিলোমিটারে ২২-৪৪-৩৭০; বিকল্পে এই কিলোমিটারের সংখ্যাই ফাঁদ।
৪৫৮. ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি যা Joint Comprehensive Plan of Action নামে পরিচিত তা সই হয়- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২ এপ্রিল ২০১৫
- খ১৪ জুলাই ২০১৫
- গ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪
- ঘ১০ ডিসেম্বর ২০১৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৪ জুলাই ২০১৫
প্রশ্নটা ইরানের পারমাণবিক চুক্তির সঠিক তারিখ চায়। যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নামের চুক্তিটি ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় চূড়ান্ত হয়।
চুক্তির পক্ষ ইরান এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানি, সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখতে ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মানতে রাজি হয়, বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পায়।
চুক্তির আগের দুই ধাপ: ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর জেনেভায় অন্তর্বর্তী সমঝোতা, আর ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের লোজানে কাঠামো সমঝোতা। চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে।
ফাঁদ হলো ২ এপ্রিল ২০১৫: সেদিন কেবল কাঠামোর ঘোষণা হয়েছিল, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নয়। পরীক্ষার পরের ঘটনা: ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।
মনে রাখুন: লোজানে কাঠামো এপ্রিলে, ভিয়েনায় চুক্তি জুলাইয়ে।
৪৫৯. ‘গ্রিনপিস’ যাত্রা শুরু করে- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৪৫
- খ২০১১
- গ২০১৩
- ঘ১৯৭১
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯৭১
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের যাত্রা শুরুর সাল চায়। উত্তর ১৯৭১; শুরু কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে।
শুরুর গল্প: ১৯৭১ সালে একদল কর্মী একটি নৌকা নিয়ে আলাস্কার আমচিটকা দ্বীপের দিকে রওনা দেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিবাদে। এই অভিযান থেকেই গ্রিনপিসের জন্ম।
বর্তমানে গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। সংগঠনটি সরকার বা কোম্পানির অনুদান না নিয়ে স্বাধীনভাবে চলার নীতির জন্য পরিচিত।
১৯৪৫ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ সেটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার চেনা সাল। মনে রাখার সহজ উপায়: বাংলাদেশ ও গ্রিনপিস, দুটোর যাত্রাই ১৯৭১।
মনে রাখুন: গ্রিনপিস আর বাংলাদেশ সমবয়সি: দুটোর যাত্রাই ১৯৭১।
৪৬০. ‘Black Lives Matter’ কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কএকটি গ্রন্থের নাম
- খএকটি পানীয়
- গবর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন
- ঘএকটি NGO
সঠিক উত্তর: গ. বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন
প্রশ্নটা ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ কী, তা জানতে চায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া একটি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি পুলিশি সহিংসতা ও কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে।
শুরু ২০১৩ সালে: কিশোর ট্রেভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যার মামলায় জর্জ জিমারম্যান খালাস পেলে সামাজিক মাধ্যমে স্লোগানটি হ্যাশট্যাগ হিসেবে ছড়ায়। এর সূচনাকারী তিন কর্মী অ্যালিসিয়া গারজা, প্যাট্রিস কালর্স ও ওপাল তোমেতি।
২০১৪ সালে মিসৌরির ফার্গুসনে মাইকেল ব্রাউন হত্যার পর রাস্তার বিক্ষোভে আন্দোলনটি জাতীয় রূপ পায়।
এনজিও বিকল্পটি বিভ্রান্তিকর, কারণ পরে এই নামে সংগঠনও গড়ে উঠেছে। কিন্তু মূলত এটি বিকেন্দ্রীভূত গণ-আন্দোলন, একক কোনো এনজিও নয়।
মনে রাখুন: নামটা একটা স্লোগান, ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনেরও মূল্য আছে’; স্লোগান মানেই আন্দোলন।