বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৯
৫৬১. বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয় কোন নাট্যকারের হাতে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমধুসূদন দত্ত
- খদীনবন্ধু মিত্র
- গজ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘতারাচরণ শিকদার
সঠিক উত্তর: ঘ. তারাচরণ শিকদার
মৌলিক নাটক মানে অনুবাদ বা রূপান্তর নয়, নিজের লেখা কাহিনির নাটক। বাংলায় প্রথম মৌলিক নাটক তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন, প্রকাশিত ১৮৫২ সালে।
একই বছর যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের কীর্তিবিলাস বের হয়, যাকে প্রথম বাংলা ট্র্যাজেডি বলা হয়। তাই ১৮৫২ সালকে বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রার বছর ধরা হয়।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা ১৮৫৯ সালে বের হয়; এটি প্রথম সার্থক বাংলা নাটক, প্রথম মৌলিক নাটক নয়। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ ১৮৬০ সালের।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ মধুসূদন। প্রথম আর প্রথম সার্থক, এ দুটো আলাদা করে মনে রাখলেই ভুল হয় না।
মনে রাখুন: প্রথম মৌলিক: ভদ্রার্জুন; প্রথম সার্থক: শর্মিষ্ঠা; প্রথম ট্র্যাজেডি: কীর্তিবিলাস।
৫৬২. প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় ____। (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কউপমিত
- খউপমান
- গউপমেয়
- ঘরূপক
সঠিক উত্তর: গ. উপমেয়
উপমা অলংকারে চারটি অংশ থাকে: যাকে তুলনা করা হয়, যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, দুইয়ের মধ্যে মিলের গুণ, আর তুলনাবাচক শব্দ।
যাকে তুলনা করা হয়, যে বস্তু সামনে আছে বা প্রত্যক্ষ, তাকে বলে উপমেয়। যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যে বস্তু সামনে নেই বা পরোক্ষ, তাকে বলে উপমান।
মুখখানি চাঁদের মতো সুন্দর বাক্যে মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান, সুন্দর হলো সাধারণ ধর্ম, আর মতো তুলনাবাচক শব্দ।
উপমেয় আর উপমান শব্দ দুটো প্রায় একরকম বলে উল্টে যায়। মনে রাখুন, মেয় মানে যাকে মাপা হচ্ছে, আর মান মানে মাপকাঠি।
মনে রাখুন: মেয় মানে যাকে মাপি, মান মানে মাপকাঠি: মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান।
৫৬৩. ‘পাখি সব করে রব রাত্রি পহাইল’ পঙ্ক্তির রচয়িতা ____। (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- করামনারায়ণ তর্করত্ন
- খবিহারী লাল
- গকৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- ঘমদনমোহন তর্কালংকার
সঠিক উত্তর: ঘ. মদনমোহন তর্কালংকার
পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল, এই পঙ্ক্তিটি মদনমোহন তর্কালংকারের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগের কবিতা থেকে নেওয়া। শিশুদের পড়ার জন্য লেখা এই বই উনিশ শতকের বাংলা শিশুপাঠের অন্যতম ভিত্তি।
মদনমোহন তর্কালংকার ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহপাঠী ও সমসাময়িক। শিশুশিক্ষার ছোট ছন্দোবদ্ধ কবিতাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুখস্থ করেছে।
অন্য তিনজনের পরিচয় আলাদা। রামনারায়ণ তর্করত্ন নাট্যকার, কুলীনকুলসর্বস্ব নাটকের লেখক। বিহারীলাল চক্রবর্তী গীতিকবিতার পথিকৃৎ, সারদামঙ্গলের কবি। কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সদ্ভাবশতকের কবি।
ফাঁদ হলো বিহারীলাল। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ভোরের পাখি বলেছিলেন বলে পাখি আর ভোরের পঙ্ক্তিতে অনেকে তাঁর নাম ভাবেন।
মনে রাখুন: শিশুপাঠের বিখ্যাত পঙ্ক্তি মানেই শিশুশিক্ষা, আর শিশুশিক্ষা মানেই মদনমোহন।
৫৬৪. ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ – এর রচয়িতা কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কসিকান্দার আবু জাফর
- খআবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
- গফররুখ আহমদ
- ঘআহসান হাবীব
সঠিক উত্তর: খ. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা, আর একই নামে তাঁর কাব্যগ্রন্থও আছে। কবিতায় বাঙালির ইতিহাস, শ্রম আর সংগ্রামের ঐতিহ্য বলা হয়েছে।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কবিতা কোন এক মাকে, যা ভাষাশহিদের মাকে নিয়ে লেখা। তিনি সরকারি উচ্চপদে চাকরিও করেছেন।
নামের মিল থেকে সবচেয়ে বড় ফাঁদ তৈরি হয়েছে: সিকান্দার আবু জাফর। তিনি সমকাল পত্রিকার সম্পাদক এবং জনতার সংগ্রাম চলবে গানের লেখক।
ফররুখ আহমদের পরিচয় সাত সাগরের মাঝি, আর আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ।
মনে রাখুন: দুই আবু জাফর: ওবায়দুল্লাহ কিংবদন্তীর কবি, সিকান্দার সমকালের সম্পাদক।
৫৬৫. ‘জীবনে জ্যাঠামি ও সাহিত্যে ন্যাকামি’ সহ্য করতে পারতেন না- (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবঙ্কিমচন্দ্র
- খসৈয়দ মুজতবা আলী
- গপ্রমথ চৌধুরী
- ঘপ্রমথনাথ বিশী
সঠিক উত্তর: গ. প্রমথ চৌধুরী
প্রমথ চৌধুরী ছিলেন স্পষ্টভাষী, বুদ্ধিদীপ্ত আর বাহুল্যবিরোধী গদ্যশিল্পী। ভারী পাণ্ডিত্যের ভান আর সাহিত্যে আবেগের ন্যাকামি, দুটোই তাঁর অপছন্দ ছিল; সে কারণেই তাঁর সম্পর্কে এই কথা বলা হয়।
তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক, বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রধান প্রবর্তক, আর তাঁর ছদ্মনাম বীরবল। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ বইপড়া আর প্রবন্ধসংগ্রহ।
নামের মিলে সবচেয়ে বড় ফাঁদ প্রমথনাথ বিশী। তিনি কেরী সাহেবের মুন্সী উপন্যাসের লেখক, ভিন্ন মানুষ।
বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যসম্রাট, বঙ্গদর্শনের সম্পাদক। সৈয়দ মুজতবা আলী রম্যরচনার জন্য বিখ্যাত, দেশে বিদেশের লেখক।
মনে রাখুন: প্রমথ চৌধুরী মানেই সবুজপত্র, বীরবল আর চলিত রীতি।
৫৬৬. ‘এ মাটি সোনার বাড়া’ – এ উদ্ধৃতিতে ‘সোনা’ কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবিশেষণের অতিশায়ন
- খরূপবাচক বিশেষণ
- গউপাদান বাচক বিশেষণ
- ঘবিধেয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক. বিশেষণের অতিশায়ন
সোনার বাড়া মানে সোনার চেয়েও বেশি, সোনাকেও ছাড়িয়ে যায় এমন। এখানে সোনা কোনো উপাদান নয়, তুলনার মাপকাঠি; মাটির গুণকে সোনার চেয়েও উৎকৃষ্ট বলে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
একের সঙ্গে অন্যের তুলনা করে উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝালে তাকে বলে বিশেষণের অতিশায়ন। চেয়ে, অপেক্ষা, তর, তম, বাড়া এ ধরনের শব্দ অতিশায়ন বোঝায়।
ফাঁদ হলো উপাদানবাচক বিশেষণ। সোনার আংটি বললে সোনা উপাদান, কারণ আংটিটা সোনা দিয়ে তৈরি। কিন্তু মাটি সোনা দিয়ে তৈরি নয়।
লাল ফুলের লাল রূপবাচক বিশেষণ, আর লোকটা অন্ধ বাক্যে অন্ধ বিধেয় বিশেষণ, কারণ তা বিশেষ্যের পরে বাক্যের বিধেয় অংশে বসে।
মনে রাখুন: তুলনা করে বেশি বা কম বোঝালেই অতিশায়ন: চেয়ে, অপেক্ষা, তর, তম, বাড়া।