বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৬
৩০১. ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ৰমৃত্যুর প্রতিবাদে কোন উপাচার্য পদত্যাগ করেছিলেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্যার এ. এফ. রহমান
- খরমেশচন্দ্র মজুমদার
- গসৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন
- ঘবিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: ঘ. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
প্রশ্নটি একাত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই উপাচার্যকে খুঁজছে, যিনি ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। তিনি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
উনিশশো একাত্তরের মার্চে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সভায় যোগ দিতে জেনেভায় ছিলেন। সেখানে বসে ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর পেয়ে তিনি উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপর তিনি মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়েন। স্বাধীনতার পর বাহাত্তরের জানুয়ারিতে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।
ফাঁদ হলো সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন। তিনি একাত্তরের মাঝামাঝি উপাচার্য হন এবং পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, প্রতিবাদে পদত্যাগকারী নন।
মনে রাখুন: জেনেভায় বসে পদত্যাগ, পরে রাষ্ট্রপতি: এই দুই তথ্য একসঙ্গে মনে রাখলে নাম ভুল হয় না।
৩০২. “তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন _____ সাহেবের কথা।” (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআইয়ুব খান
- খইয়াহিয়া খান
- গভুট্টো
- ঘকিসিঞ্জার
সঠিক উত্তর: গ. ভুট্টো
প্রশ্নটি সাতই মার্চের ভাষণের একটি লাইন থেকে নেওয়া। পুরো লাইনটি হলো: তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।
এখানে তিনি মানে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসুক। ইয়াহিয়া সে কথা না রেখে জুলফিকার আলী ভুট্টোর চাওয়া মেনে মার্চের প্রথম সপ্তাহে অধিবেশন ডাকেন, পরে পয়লা মার্চ তা স্থগিতও করেন।
এই ভাষণ রেসকোর্স ময়দানে, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে।
ফাঁদ হলো ইয়াহিয়া খান। বাক্যে তিনি বলতে ইয়াহিয়াকেই বোঝানো হয়েছে; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে তিনি কার কথা রাখলেন।
মনে রাখুন: বাক্যের তিনি হলেন ইয়াহিয়া; যার কথা রাখা হলো তিনি ভুট্টো।
৩০৩. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশে বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅনুচ্ছেদ ২২
- খঅনুচ্ছেদ ২৩
- গঅনুচ্ছেদ ২৪
- ঘঅনুচ্ছেদ ২৫
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুচ্ছেদ ২৫
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির ভিত্তি। উত্তর অনুচ্ছেদ পঁচিশ।
পঁচিশ অনুচ্ছেদের শিরোনাম আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন। এতে বলা আছে, রাষ্ট্র অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি মেনে চলবে।
এই নীতির সারকথা হলো সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। অনুচ্ছেদটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির মধ্যে।
পাশের অনুচ্ছেদগুলো গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল: বাইশে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, তেইশে জাতীয় সংস্কৃতি, চব্বিশে জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন।
মনে রাখুন: পঁচিশ মানে পররাষ্ট্র: দুটোই প দিয়ে শুরু।
৩০৪. বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদক্ষিণ তালপট্টি
- খসেন্টমার্টিন
- গনিঝুম দ্বীপ
- ঘভোলা
সঠিক উত্তর: খ. সেন্টমার্টিন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে চারটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে দক্ষিণে। উত্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
দক্ষিণ মানে কম অক্ষাংশ। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সাগরে থাকা সেন্টমার্টিন প্রায় বিশ ডিগ্রি সাঁইত্রিশ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে, যা দেশের মূল ভূখণ্ডের চেয়েও দক্ষিণে। এর দক্ষিণে লাগোয়া ছেঁড়াদ্বীপই বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু।
বাকি তিনটি অনেক উত্তরে। নিঝুম দ্বীপ ও ভোলা মেঘনা মোহনায়, আর দক্ষিণ তালপট্টি সাতক্ষীরার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়।
ফাঁদ হলো দক্ষিণ তালপট্টি, নামের দক্ষিণ শব্দ দেখে। কিন্তু অবস্থানে এটি সেন্টমার্টিনের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি উত্তরে।
মনে রাখুন: সর্বদক্ষিণের প্রশ্নে কক্সবাজার উপকূল ভাবুন: সেন্টমার্টিন, আর তার লাগোয়া ছেঁড়াদ্বীপ।
৩০৫. বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য কয়টি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৩টি
- খ৪টি
- গ৫টি
- ঘ৬টি
সঠিক উত্তর: গ. ৫টি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ভারতের কয়টি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে। উত্তর পাঁচটি।
পশ্চিমে ও উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর পূর্বে আসাম ও মেঘালয়, পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম। এর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, তারপর ত্রিপুরা।
মনে রাখার সহজ উপায় হলো মানচিত্রে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরা: পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম। এর পরে দক্ষিণ পূর্বে যে প্রতিবেশী, সে মিয়ানমার, ভারতের রাজ্য নয়।
ফাঁদ হলো মিয়ানমারকে গুনে ফেলা অথবা কোনো একটি রাজ্য, যেমন দক্ষিণ পূর্ব কোণের মিজোরাম বা সবচেয়ে ছোট সীমান্তের আসাম, বাদ দেওয়া। প্রথম ভুলে সংখ্যা হয় ছয়, দ্বিতীয় ভুলে চার।
মনে রাখুন: পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম: প্রথম অক্ষর মিলিয়ে পমেআত্রিমি।
৩০৬. কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসিপাহী মোস্তফা কামাল
- খল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
- গল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- ঘসিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর: ঘ. সিপাহী হামিদুর রহমান
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ দেশে এনে মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। উত্তর সিপাহী হামিদুর রহমান।
হামিদুর রহমান একাত্তরের অক্টোবরে মৌলভীবাজারের ধলই সীমান্ত ফাঁড়ির যুদ্ধে শহিদ হন। তাঁকে সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরার হাতিমেরছড়া গ্রামে কবর দেওয়া হয়েছিল।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ ২০০৬ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে এনে ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এর পরের বছর, ২০০৭ সালের দশ ডিসেম্বর ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করা হয় এবং এগারো ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বাকি তিনজনের কবর যুদ্ধক্ষেত্রের কাছেই দেশের মাটিতে ছিল, তাই তাঁদের দেহাবশেষ বিদেশ থেকে আনার প্রশ্ন ওঠেনি।
মনে রাখুন: দুই বীরশ্রেষ্ঠ বিদেশ থেকে ফিরেছেন: মতিউর পাকিস্তান থেকে, হামিদুর ভারত থেকে।
৩০৭. কে বীরশ্রেষ্ঠ নন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কহামিদুর রহমান
- খমোস্তফা কামাল
- গমুন্সী আব্দুর রহিম
- ঘনুর মোহাম্মদ শেখ
সঠিক উত্তর: গ. মুন্সী আব্দুর রহিম
প্রশ্নটি নাম শুদ্ধভাবে চেনার পরীক্ষা: চারটির মধ্যে কে বীরশ্রেষ্ঠ নন। উত্তর মুন্সী আব্দুর রহিম, কারণ এই নামে কোনো বীরশ্রেষ্ঠ নেই।
বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব, পেয়েছেন সাতজন। সেনাবাহিনীর সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান ও ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর; ইপিআরের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ও ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ; বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান; আর নৌবাহিনীর ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন।
প্রশ্নকর্তা আসল নাম মুন্সী আব্দুর রউফকে একটু বদলে মুন্সী আব্দুর রহিম লিখেছেন। প্রথম অংশ মিলে যাওয়ায় চোখ ফাঁকি খায়।
এ ধরনের প্রশ্নে পদবিসহ পুরো নাম মনে রাখুন। মুন্সী শব্দটি থাকলেই সঠিক নাম মুন্সী আব্দুর রউফ।
মনে রাখুন: সাতজনকে বাহিনী অনুযায়ী তিন, দুই, এক, এক করে মনে রাখুন; যে নাম কোনো দলে বসে না সেটাই উত্তর।
৩০৮. বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৭ মার্চ ১৯৭৩
- খ১৭ মার্চ ১৯৭৩
- গ২৭ মার্চ ১৯৭৩
- ঘ৭ মার্চ ১৯৭৪
সঠিক উত্তর: ক. ৭ মার্চ ১৯৭৩
প্রশ্নটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর সাত মার্চ উনিশশো তিয়াত্তর।
বাহাত্তরের চার নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয় এবং ষোলো ডিসেম্বর কার্যকর হয়। নতুন সংবিধান অনুযায়ী প্রথম সংসদ নির্বাচন হয় তিয়াত্তরের সাত মার্চ; তিনশো আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় দুশো তিরানব্বইটি।
প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে সাত এপ্রিল উনিশশো তিয়াত্তর। তারিখটি মনে রাখা সহজ, কারণ একাত্তরের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনও সাত মার্চ।
বিকল্পগুলোর চালাকি হলো একই মাসের কাছাকাছি তারিখ আর সাল বদলানো। সতেরো মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, আর চুয়াত্তরে কোনো জাতীয় নির্বাচন হয়নি।
মনে রাখুন: সাত মার্চ একাত্তরে ভাষণ, সাত মার্চ তিয়াত্তরে প্রথম নির্বাচন।
৩০৯. লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যোগদান করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
- খ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
- গ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
- ঘ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
সঠিক উত্তর: খ. ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে লাহোরের ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কোন দুই দিন যোগ দেন। উত্তর তেইশ ও চব্বিশ ফেব্রুয়ারি উনিশশো চুয়াত্তর।
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন হয় লাহোরে, বাইশ থেকে চব্বিশ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিলে বঙ্গবন্ধু যাবেন না, এই অবস্থান থাকায় সম্মেলনের প্রথম দিন বাইশ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
স্বীকৃতির পর বঙ্গবন্ধু তেইশ ফেব্রুয়ারি লাহোরে পৌঁছান এবং শেষ দুই দিনের অধিবেশনে যোগ দেন। এই সম্মেলনেই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য হয়।
ফাঁদ হলো সম্মেলনের পুরো সময় আর বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতির সময় গুলিয়ে ফেলা। সম্মেলন শুরু বাইশে, কিন্তু তিনি ছিলেন তেইশ ও চব্বিশে।
মনে রাখুন: স্বীকৃতি বাইশে, যোগদান তেইশে, শেষ চব্বিশে: পরপর তিন দিন।
৩১০. বঙ্গবন্ধুকে কখন “জুলিও কুরী” শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২০ মে, ১৯৭৩
- খ২১ মে, ১৯৭২
- গ২২ মে, ১৯৭২
- ঘ২৩ মে, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর: ঘ. ২৩ মে, ১৯৭৩
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদক কবে প্রদান করা হয়। উত্তর তেইশ মে উনিশশো তিয়াত্তর।
জুলিও কুরি পদক দেয় বিশ্ব শান্তি পরিষদ, ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জুলিও কুরির নামে। উপনিবেশবাদবিরোধী সংগ্রাম ও শান্তির পক্ষে অবদানের জন্য পরিষদ বাহাত্তরের দশ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে এ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
আনুষ্ঠানিকভাবে পদক পরিয়ে দেওয়া হয় পরের বছর, তেইশ মে তিয়াত্তরে, ঢাকায় এশীয় শান্তি সম্মেলনে। ঘোষণা আর প্রদান আলাদা দিনে, এটাই প্রশ্নের মূল কৌশল।
বাহাত্তরের মে মাসের তারিখগুলো ফাঁদ: তখনো ঘোষণাই হয়নি। আর বিশে মে তিয়াত্তরের সাল ঠিক হলেও দিন ভুল।
মনে রাখুন: ঘোষণা বাহাত্তরের অক্টোবরে, প্রদান তিয়াত্তরের মে মাসে; প্রদানের প্রশ্নে সাল তিয়াত্তর।
৩১১. ঐতিহাসিক “ছয় দফা দাবিতে” যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশাসনতান্ত্রিক কাঠামো
- খকেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- গস্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
- ঘবিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: ঘ. বিচার ব্যবস্থা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ছয় দফার কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। উত্তর বিচার ব্যবস্থা।
উনিশশো ছেষট্টি সালে লাহোরে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা পেশ করেন। দফাগুলো হলো: এক, ফেডারেল সংসদীয় শাসনতান্ত্রিক কাঠামো; দুই, কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র; তিন, মুদ্রা ও অর্থ; চার, রাজস্ব ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে; পাঁচ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা আয়ের আলাদা হিসাব; ছয়, আঞ্চলিক আধাসামরিক বাহিনী।
ছয়টি দফাই ক্ষমতা, অর্থ, বাণিজ্য আর নিরাপত্তা নিয়ে, অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে। বিচার বিভাগ বা আদালত নিয়ে কোনো দফা নেই।
মনে রাখার কৌশল: কাঠামো, কেন্দ্র, মুদ্রা, কর, বাণিজ্য, বাহিনী। এই ছয়ের বাইরের যেকোনো বিষয় ছয় দফায় নেই।
মনে রাখুন: ছয় দফা মানে কাঠামো, কেন্দ্র, মুদ্রা, কর, বাণিজ্য, বাহিনী; আদালত নেই।
৩১২. “মাৎস্যন্যায়” বাংলার কোন সময়কাল নির্দেশ করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৫ম-৬ষ্ঠ শতক
- খ৬ষ্ঠ-৭ম শতক
- গ৭ম-৮ম শতক
- ঘ৮ম-৯ম শতক
সঠিক উত্তর: গ. ৭ম-৮ম শতক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মাৎস্যন্যায় বাংলার কোন সময়কে বোঝায়। উত্তর সপ্তম থেকে অষ্টম শতক।
মাৎস্যন্যায় মানে মাছের নিয়ম: বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি সবলরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করে। কোনো কেন্দ্রীয় শাসক না থাকলে যে অরাজকতা চলে, তাকেই এ নামে ডাকা হয়।
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় একশো বছর এমন অরাজকতা চলে। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি প্রধানরা মিলে গোপালকে রাজা নির্বাচন করলে পাল বংশের শুরু হয় এবং মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে। ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে এই অরাজকতার উল্লেখ আছে।
ফাঁদ হলো ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতক। সপ্তম শতকের শুরুতে তো শশাঙ্কের শক্ত শাসন ছিল; অরাজকতা শুরু তাঁর মৃত্যুর পরে।
মনে রাখুন: শশাঙ্ক আর গোপালের মাঝখানের ফাঁকটাই মাৎস্যন্যায়।
৩১৩. বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
- খনাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
- গআলাউদ্দিন হোসেন শাহ
- ঘগিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর: গ. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন সুলতানের শাসনকালকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়। উত্তর আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।
হোসেন শাহ চৌদ্দশো চুরানব্বই থেকে পনেরোশো উনিশ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তাঁর সময়ে রাজ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল, শাসন ছিল উদার ও সহনশীল; উচ্চ পদে হিন্দু কর্মকর্তারাও ছিলেন।
এ সময় বাংলা সাহিত্যের বিশেষ বিকাশ ঘটে। তাঁর সেনাপতি পরাগল খানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের বাংলা রূপ রচনা করেন। কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক ও জগৎভূষণ বলে প্রশংসা করেছেন।
ফাঁদ হলো শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, কারণ তিনি স্বাধীন সুলতানি বাংলার ঐক্যের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু স্বর্ণযুগ বলা হয় হোসেন শাহের আমলকে।
মনে রাখুন: স্বর্ণযুগ মানে হোসেন শাহ; ঐক্য মানে ইলিয়াস শাহ।
৩১৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কনওয়াব আবদুল লতিফ
- খস্যার সৈয়দ আহমেদ
- গনওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
- ঘখাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর: গ. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। উত্তর নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।
উনিশশো পাঁচ সালের বঙ্গভঙ্গে ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হয়েছিল। এগারো সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা হতাশ হন। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বারো সালে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানায়, আর হার্ডিঞ্জ আশ্বাস দেন।
এরপর নাথান কমিশন গঠিত হয় এবং নানা বাধা পেরিয়ে উনিশশো একুশ সালের পয়লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। সলিমুল্লাহ তা দেখে যেতে পারেননি, তিনি পনেরো সালে মারা যান। নবাব আলী চৌধুরী ও এ কে ফজলুল হকও এ আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
ফাঁদ হলো নওয়াব আবদুল লতিফ ও স্যার সৈয়দ আহমেদ, কারণ দুজনই মুসলিম শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ। কিন্তু দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ওঠার অনেক আগে মারা যান।
মনে রাখুন: বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আর তার দাবিদার সলিমুল্লাহ।
৩১৫. ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কখাজা নাজিম উদ্দীন
- খনুরুল আমিন
- গলিয়াকত আলী খান
- ঘমোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর: ক. খাজা নাজিম উদ্দীন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন। উত্তর খাজা নাজিমুদ্দিন।
উনিশশো একান্ন সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হলে গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হন। বায়ান্নোর সাতাশ জানুয়ারি ঢাকার পল্টনে তিনি ঘোষণা দেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণা আন্দোলনকে তীব্র করে, যার পরিণতি একুশে ফেব্রুয়ারি।
একই সময়ে পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন; তাঁর সরকারের আমলেই একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের মিছিলে গুলি চলে।
ফাঁদ হলো নুরুল আমিন। তিনি ছিলেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, পুরো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন।
মনে রাখুন: বায়ান্নোতে কেন্দ্রে নাজিমুদ্দিন, প্রদেশে নুরুল আমিন: কেন্দ্র আর প্রদেশ আলাদা করুন।
৩১৬. বাংলায় সেন বংশের (১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ) শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কহেমন্ত সেন
- খবল্লাল সেন
- গলক্ষণ সেন
- ঘকেশব সেন
সঠিক উত্তর: ঘ. কেশব সেন
প্রশ্নটি সেন বংশের শেষ শাসকের নাম জানতে চেয়েছে, সময়সীমাও দিয়ে দিয়েছে: এক হাজার সত্তর থেকে বারোশো ত্রিশ খ্রিষ্টাব্দ। এই সীমার শেষ প্রান্তে যিনি শাসন করেছেন, তিনি কেশব সেন।
সেন বংশের ধারা মোটামুটি এরকম: সামন্ত সেন, হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, তারপর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন।
বারোশো চার সালের দিকে বখতিয়ার খলজি নদীয়া দখল করলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে সরে যান। তাঁর পরে পুত্ররা আরও কিছুকাল পূর্ববঙ্গে শাসন চালান; প্রচলিত তালিকায় কেশব সেনের শাসন শেষ হয় প্রায় বারোশো ত্রিশ সালে।
ফাঁদ হলো লক্ষ্মণ সেন, কারণ বখতিয়ারের আক্রমণে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনার গল্পে তাঁর নামই বেশি আসে। কিন্তু তাঁর পরেও সেন শাসন পূর্ববঙ্গে টিকে ছিল।
মনে রাখুন: প্রশ্নে সময়সীমা দেওয়া থাকলে শেষ বছরের শাসককে খুঁজুন; লক্ষ্মণ সেনের পরের নাম কেশব।
৩১৭. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুণ্ড্র
- খতাম্রলিপ্তি
- গগৌড়
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: ক. পুণ্ড্র
প্রশ্নটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর পুণ্ড্র।
জনপদ মানে প্রাচীন যুগের আঞ্চলিক রাজ্য বা জনবসতির এলাকা। পুণ্ড্রের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, যা আজকের বগুড়ার মহাস্থানগড়। সেখানে মৌর্য যুগের ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলায় পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো লিখিত নিদর্শনগুলোর একটি।
অন্য তিনটিও প্রাচীন জনপদ, কিন্তু পুণ্ড্রের মতো পুরোনো ও সমৃদ্ধ প্রমাণ নেই। তাম্রলিপ্ত ছিল সমুদ্রবন্দর, আজকের পশ্চিমবঙ্গের তমলুক; গৌড় পরে শশাঙ্কের রাজ্য হিসেবে খ্যাত; হরিকেল বাংলার পূর্ব প্রান্ত, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত।
প্রাচীনতম জনপদ আর প্রাচীনতম নগরের প্রশ্ন প্রায় একই উত্তরে যায়: পুণ্ড্র এবং তার নগর পুণ্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম দেখলেই পুণ্ড্র আর মহাস্থানগড়।
৩১৮. কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করোজ গার্ডেন
- খসিরাজগঞ্জে
- গসন্তোষে
- ঘসুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর: গ. সন্তোষে
প্রশ্নটি কাগমারী সম্মেলনের স্থান জানতে চেয়েছে। উত্তর সন্তোষ, যা টাঙ্গাইলে অবস্থিত।
উনিশশো সাতান্ন সালের ফেব্রুয়ারিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে, কাগমারীতে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন আয়োজন করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করেন।
এ সম্মেলনেই তিনি বলেন, দাবি না মানলে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানকে আসসালামু আলাইকুম জানাবে, অর্থাৎ বিদায় জানাবে। মতবিরোধের জেরে সে বছরই তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন।
ফাঁদ হলো সিরাজগঞ্জ, কারণ ভাসানীর জন্ম সিরাজগঞ্জে। আর রোজ গার্ডেন হলো আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্মস্থান, কাগমারী সম্মেলনের নয়।
মনে রাখুন: কাগমারী, সন্তোষ, টাঙ্গাইল: তিনটি নাম একই জায়গার।
৩১৯. মুক্তিযুদ্ধকালে কোলকাতার ৮, থিয়েটার রোডে “বাংলাদেশ বাহিনী” কখন গঠন করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কএপ্রিল ১০, ১৯৭১
- খএপ্রিল ১১, ১৯৭১
- গএপ্রিল ১২, ১৯৭১
- ঘএপ্রিল ১৩, ১৯৭১
সঠিক উত্তর: খ. এপ্রিল ১১, ১৯৭১
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী, অর্থাৎ বাংলাদেশ বাহিনী কবে গঠিত হয়। প্রচলিত গাইড ও পরীক্ষার উত্তর অনুযায়ী এগারো এপ্রিল উনিশশো একাত্তর।
ঘটনাগুলো কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে, তাই ক্রমটা মনে রাখা জরুরি। চার এপ্রিল হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। দশ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি হয়। এর পরদিন এগারো এপ্রিল কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান করে বাংলাদেশ বাহিনী গঠনের কথা প্রচলিত উত্তরে বলা হয়।
বাংলাপিডিয়ায় অবশ্য বলা আছে, ওসমানী বারো এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন এবং সতেরো এপ্রিল মুজিবনগরে শপথের দিন তাঁকে প্রধান সেনাপতি করা হয়। কলকাতার আট নম্বর থিয়েটার রোড পরে সরকার ও বাহিনীর সদর দপ্তর হয়।
ফাঁদ হলো দশ এপ্রিল, কারণ সেদিন সরকার গঠিত হয়। সরকার আর বাহিনী গঠনের তারিখ আলাদা রাখুন।
মনে রাখুন: সরকার দশে, বাহিনী এগারোয়, শপথ সতেরোয়।
৩২০. কোন অনুচ্ছেদ বলে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅনুচ্ছেদ ৭
- খঅনুচ্ছেদ ৭ক
- গঅনুচ্ছেদ ৭খ
- ঘঅনুচ্ছেদ ৮
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: অনুচ্ছেদ ৭খ। এখন: অনুচ্ছেদ ৭খ এখন বাতিল: হাইকোর্ট ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ অনুচ্ছেদ ৭ক ও ৭খ অবৈধ ঘোষণা করে, আপিল বিভাগ ৯ জুলাই ২০২৬ তা বহাল রাখে।
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক বিধানগুলোকে সংশোধনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে। পরীক্ষার সময়ের সংবিধান অনুযায়ী উত্তর অনুচ্ছেদ সাত খ।
দুই হাজার এগারো সালের পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানে দুটি নতুন অনুচ্ছেদ যোগ করে। সাত ক অনুচ্ছেদে বলা হয়, অসাংবিধানিক উপায়ে সংবিধান বাতিল বা স্থগিত করা রাষ্ট্রদ্রোহ। সাত খ অনুচ্ছেদে বলা হয়, প্রস্তাবনা, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত বিধানগুলো সংশোধন করা যাবে না।
মূল সাত অনুচ্ছেদ বলে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান সর্বোচ্চ আইন। আট অনুচ্ছেদে আছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
পরীক্ষার পরে, দুই হাজার চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট সাত ক ও সাত খ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করে এবং দুই হাজার ছাব্বিশ সালের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখে। পরীক্ষার উত্তরে তবু সাত খ, কারণ প্রশ্ন তখনকার সংবিধান নিয়ে।
মনে রাখুন: ক মানে কঠোর শাস্তি, খ মানে খোদাই করা বিধান যা বদলানো যায় না।