বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৭
৩২১. বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয় কী ছিল? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবহুদলীয় ব্যবস্থা
- খবাকশাল প্রতিষ্ঠা
- গতত্ত্বাবধায়ক সরকার
- ঘসংসদে মহিলা আসন
সঠিক উত্তর: গ. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয় কী। উত্তর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়। এতে বলা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেবে, যাতে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে। এ ব্যবস্থায় ছিয়ানব্বই, দুই হাজার এক ও দুই হাজার আট সালের নির্বাচন হয়।
দুই হাজার এগারো সালের পঞ্চদশ সংশোধনী এ ব্যবস্থা বাতিল করে। পরীক্ষার পরে, দুই হাজার পঁচিশ সালের বিশ নভেম্বর আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের আগের রায় বাতিল করে, ফলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আবার ফিরে আসে।
অন্য বিকল্পগুলো অন্য সংশোধনীর বিষয়: বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীর, আর সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে কয়েকটি সংশোধনী হয়েছে, যেমন চতুর্দশ সংশোধনী।
মনে রাখুন: তেরো মানে তত্ত্বাবধায়ক: দুটোই ত দিয়ে শুরু।
৩২২. সংবিধানের চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৪র্থ তফসিল
- খ৫ম তফসিল
- গ৬ষ্ঠ তফসিল
- ঘ৭ম তফসিল
সঠিক উত্তর: ক. ৪র্থ তফসিল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে সংবিধানের কোন তফসিল ব্যবহার করা হয়েছিল। উত্তর চতুর্থ তফসিল।
তফসিল হলো সংবিধানের শেষে জুড়ে দেওয়া তালিকা। চতুর্থ তফসিলের নাম ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি; এর উদ্দেশ্য ছিল নতুন সংবিধানে যাওয়ার সময়ের আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা।
উনিশশো ঊনআশি সালের পঞ্চম সংশোধনী এই তফসিলে নতুন অনুচ্ছেদ যোগ করে পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট থেকে ঊনআশি পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব কাজকে বৈধতা দেয়। পরে সপ্তম সংশোধনীও একইভাবে এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়। ক্রান্তিকালীন বিধানের তফসিলকে এভাবে ব্যবহার করাকেই অপব্যবহার বলা হয়; দুই হাজার দশ সালে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে।
পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যোগ হয় দুই হাজার এগারো সালে। এগুলোতে আছে সাতই মার্চের ভাষণ, ছাব্বিশে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, তাই এগুলো সামরিক শাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন।
মনে রাখুন: সামরিক শাসনের বৈধতা মানে পঞ্চম সংশোধনী আর চতুর্থ তফসিল; সংখ্যা দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
৩২৩. কোন উপজাতিটির আবাসস্থল “বিরিশিরি” নেত্রকোনায়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসাঁওতাল
- খগারো
- গখাসিয়া
- ঘমুরং
সঠিক উত্তর: খ. গারো
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নেত্রকোনার বিরিশিরি কোন জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল। উত্তর গারো।
বিরিশিরি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায়, সোমেশ্বরী নদীর তীরে, মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কাছে। এখানে গারো ও হাজং জনগোষ্ঠীর বড় বসতি আছে এবং তাদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য সরকারি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি রয়েছে।
গারোরা মাতৃসূত্রীয় সমাজ মেনে চলে; সন্তান মায়ের পদবি পায়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা জুড়েই তাদের প্রধান বাস।
অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর আবাস অন্য অঞ্চলে: সাঁওতাল উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে, খাসিয়া সিলেটে, আর মুরং বা ম্রো বান্দরবানে।
মনে রাখুন: সোমেশ্বরীর পাড়ে বিরিশিরি, গারো পাহাড়ের কাছে, তাই গারো।
৩২৪. বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কIDA credit-এর মাধ্যমে
- খIMF-এর bailout package-এর মাধ্যমে
- গপ্রবাসীদের পাঠানো remittance-এর মাধ্যমে
- ঘবিশ্ব ব্যাংকের budgetary support-এর মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: খ. IMF-এর bailout package-এর মাধ্যমে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হয়। পরীক্ষার কী এবং প্রচলিত গাইড উত্তর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বেইলআউট প্যাকেজ।
যুক্তিটা প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে আসে। আমদানি রপ্তানির চেয়ে বেশি হলে বাণিজ্য ঘাটতি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে। লেনদেন ভারসাম্যের এমন সংকটে দেশকে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ দেওয়াই আইএমএফের মূল দায়িত্ব; বিপদের সময়ের এই উদ্ধার ঋণকেই বেইলআউট বলা হয়।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ আইডিএ দেয় প্রকল্পভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ঋণ, আর বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তা যায় সরকারের বাজেট ও নীতি সংস্কারে।
সতর্কতা: বাস্তবে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির বড় অংশ পূরণ করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তাই অনেকে এই বিকল্প বেছে নেন; এই প্রশ্নের কী নিয়ে বিতর্ক আছে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে লেনদেন বা বাণিজ্য ভারসাম্য আর প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলে আইএমএফ বাছুন; উন্নয়ন প্রকল্প মানে বিশ্বব্যাংক।
৩২৫. অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম রাজা কাকে বলা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅশোক
- খশশাঙ্ক
- গমেগদা
- ঘধর্মপাল
সঠিক উত্তর: খ. শশাঙ্ক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কাকে অবিভক্ত বাংলার প্রথম রাজা বলা হয়। উত্তর শশাঙ্ক।
সপ্তম শতকের শুরুতে গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক বাংলার বড় অংশ এক শাসনে আনেন। তিনি কোনো বড় সাম্রাজ্যের অধীন প্রাদেশিক শাসক ছিলেন না, নিজেই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা ছিলেন। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ, আজকের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের কাছে।
তাঁর সমসাময়িক ছিলেন উত্তর ভারতের হর্ষবর্ধন ও কামরূপের ভাস্করবর্মন, যাঁরা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। শশাঙ্কের মৃত্যুর পরেই বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের অরাজকতা শুরু হয়।
ফাঁদ হলো অশোক, কারণ মৌর্য সাম্রাজ্যে বাংলার অংশ ছিল। কিন্তু অশোক ছিলেন পুরো মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট, বাংলার নিজস্ব রাজা নন।
মনে রাখুন: বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক, প্রথম নির্বাচিত রাজা গোপাল।
৩২৬. বঙ্গভঙ্গ রদ কে ঘোষণা করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কলর্ড কার্জন
- খরাজা পঞ্চম জর্জ
- গলর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
- ঘলর্ড ওয়াভেল
সঠিক উত্তর: খ. রাজা পঞ্চম জর্জ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা কে দেন। উত্তর ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জ।
উনিশশো পাঁচ সালে লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গড়েন, রাজধানী ঢাকা। এর বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন তীব্র হয়।
উনিশশো এগারো সালের বারো ডিসেম্বর দিল্লি দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ নিজে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। একই দরবারে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরানোর ঘোষণাও আসে।
ফাঁদ হলো লর্ড কার্জন। তিনি বঙ্গভঙ্গ করেছিলেন, রদ করেননি। মাউন্টব্যাটেন ও ওয়াভেল এসেছেন অনেক পরে, চল্লিশের দশকে।
মনে রাখুন: ভঙ্গ কার্জনের, রদ রাজার।
৩২৭. ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কব্রিটিশ আমলে
- খসুলতানি আমলে
- গমুঘল আমলে
- ঘস্বাধীন নবাবী আমলে
সঠিক উত্তর: গ. মুঘল আমলে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন কোন আমলে। উত্তর মুঘল আমল।
ষোলোশো দশ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে শহরের নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। রাজধানী হওয়ার পর থেকেই ঢাকা পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে উঠতে থাকে, তাই এ সময়কে নগর ঢাকার গোড়াপত্তন ধরা হয়।
এর আগেও ঢাকায় বসতি ছিল। নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদ চৌদ্দশো সাতান্ন সালের, সুলতানি আমলের। কিন্তু তখন ঢাকা ছোট জনপদ, রাজধানী বা বড় নগর নয়।
ফাঁদ হলো সুলতানি আমল, কারণ সেই সময়ের মসজিদ ঢাকায় আছে। আর নবাবি আমলে তো রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে চলে যায়।
মনে রাখুন: ঢাকার জন্মসাল ষোলোশো দশ, জন্মদাতা ইসলাম খান, প্রথম নাম জাহাঙ্গীরনগর।
৩২৮. পাকিস্তান কবে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কফেব্রুয়ারি ২০, ১৯৭৪
- খফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৭৪
- গফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৭৪
- ঘফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর: গ. ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৭৪
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে পাকিস্তান কবে বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। উত্তর বাইশ ফেব্রুয়ারি উনিশশো চুয়াত্তর।
লাহোরে ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় বাইশ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বীকৃতি ছাড়া তিনি সম্মেলনে যাবেন না। মুসলিম দেশগুলোর চাপে সম্মেলনের প্রথম দিনই পাকিস্তান স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়, আর পরদিন বঙ্গবন্ধু লাহোরে যান।
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান ও ভারত, উনিশশো একাত্তরের ছয় ডিসেম্বর, যুদ্ধ চলাকালেই।
ফাঁদ হলো তেইশ ফেব্রুয়ারি, কারণ সেদিন বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌঁছান। স্বীকৃতি তার আগের দিন।
মনে রাখুন: আগে স্বীকৃতি, পরে যাত্রা: বাইশে স্বীকৃতি, তেইশে লাহোর।
৩২৯. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- খমোহাম্মদউল্লাহ
- গতাজউদ্দিন আহমদ
- ঘক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে। উত্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সংসদীয় সরকারে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন, আর তিনিই সংসদ নেতা। উনিশশো তিয়াত্তরের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল জয় পায়; দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তাই প্রথম সংসদ নেতা।
একই সংসদে স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদউল্লাহ, যিনি পরে রাষ্ট্রপতি হন। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অর্থমন্ত্রী, আর ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মন্ত্রী ছিলেন এবং পঁচাত্তরে প্রধানমন্ত্রী হন।
ফাঁদ হলো মোহাম্মদউল্লাহ। স্পিকার সংসদ পরিচালনা করেন, কিন্তু সংসদ নেতা হলেন সরকারপ্রধান।
মনে রাখুন: সংসদ নেতা মানেই প্রধানমন্ত্রী; প্রশ্নে প্রথম থাকলে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম।
৩৩০. ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরিত হয় কত সালে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯১২ সালে
- খ১৯১৩ সালে
- গ১৯১৪ সালে
- ঘ১৯১৫ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৯১২ সালে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে কবে সরানো হয়। উত্তর উনিশশো বারো সাল।
উনিশশো এগারো সালের বারো ডিসেম্বর দিল্লি দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ দুটি ঘোষণা দেন: বঙ্গভঙ্গ রদ আর রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তর। ঘোষণা এগারোতে হলেও বাস্তবে সরকার দিল্লিতে সরে আসে উনিশশো বারো সালে।
দিল্লিকে কেন বেছে নেওয়া হলো? দিল্লি ভারতের কেন্দ্রে, মুঘলসহ বহু সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল, আর কলকাতায় তখন বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের চাপ। পরে নতুন পরিকল্পিত শহর নয়াদিল্লি উদ্বোধন হয় উনিশশো একত্রিশ সালে।
ঘোষণার বছর আর কার্যকর হওয়ার বছর আলাদা মনে রাখুন: ঘোষণা এগারোতে, স্থানান্তর বারোতে। প্রশ্নে স্থানান্তর চাওয়া হয়েছে, তাই উত্তর বারো।
মনে রাখুন: এগারোতে ঘোষণা, বারোতে স্থানান্তর, একত্রিশে নয়াদিল্লি।
৩৩১. বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কময়নামতি
- খপুণ্ড্রবর্ধন
- গপাহাড়পুর
- ঘসোনারগাঁ
সঠিক উত্তর: খ. পুণ্ড্রবর্ধন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি কোনটি। উত্তর পুণ্ড্রবর্ধন, যার নগরকেন্দ্র বগুড়ার মহাস্থানগড়।
মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি মৌর্য যুগের, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বলে ধরা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে এখানে খ্রিষ্টপূর্ব যুগ থেকে নগরজীবনের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
বাকি তিনটি অনেক পরের। ময়নামতির শালবন বিহারসহ বৌদ্ধ নিদর্শনগুলো সপ্তম শতক থেকে পরের সময়ের; পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার অষ্টম শতকে পাল রাজা ধর্মপালের তৈরি; সোনারগাঁ মধ্যযুগে সুলতানি আমলের রাজধানী।
ফাঁদ হলো পাহাড়পুর, কারণ এটি বিশ্ব ঐতিহ্য হওয়ায় বেশি পরিচিত। কিন্তু পরিচিতি আর প্রাচীনত্ব এক নয়।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম বসতি, প্রাচীনতম জনপদ, প্রাচীনতম নগর: সব প্রশ্নের উত্তর মহাস্থানগড় ঘিরে।
৩৩২. বাংলাদেশ সংবিধান হাতে লেখার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত ছিল? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কহাশেম খান
- খএ.কে.এম আব্দুর রউফ
- গআবুল বারক আলভী
- ঘসমরজিৎ রায় চৌধুরী
সঠিক উত্তর: খ. এ.কে.এম আব্দুর রউফ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান হাতে লেখার দায়িত্বে কে ছিলেন। উত্তর শিল্পী এ কে এম আব্দুর রউফ।
উনিশশো বাহাত্তর সালের সংবিধানের মূল কপি ছাপা নয়, হাতে লেখা। সুন্দর হস্তলিপিতে পুরো বাংলা পাঠ লেখেন আব্দুর রউফ। এ অবদানের জন্য দুই হাজার ষোলো সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
সংবিধানের অলংকরণ বা নকশার কাজ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল। সদস্য ছিলেন হাশেম খান, জুনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক আলভী।
এ প্রশ্নের ফাঁদ হলো অলংকরণ দলের শিল্পীদের নাম। হাশেম খান, আবুল বারক আলভী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী সবাই সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু লেখার কাজ নয়, সাজানোর কাজে।
মনে রাখুন: লেখা রউফের, সাজানো জয়নুলের দলের।
৩৩৩. বাংলাদেশে কোনটি ব্যাংক নোট নয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২ টাকা
- খ১০ টাকা
- গ৫০ টাকা
- ঘ১০০ টাকা
সঠিক উত্তর: ক. ২ টাকা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি ব্যাংক নোট নয়। পরীক্ষার সময়ের নিয়ম অনুযায়ী উত্তর ২ টাকা।
বাংলাদেশে কাগজের টাকা দুই রকম। এক, সরকারি নোট বা কারেন্সি নোট: ১, ২ ও ৫ টাকার নোট সরকারের মালিকানায় অর্থ মন্ত্রণালয় ইস্যু করে, তাই এতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে। দুই, ব্যাংক নোট: ১০ টাকা ও তার চেয়ে বেশি মূল্যমানের নোট বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করে, তাই এতে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে।
সহজ পরীক্ষা হলো স্বাক্ষর দেখা। অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকলে সরকারি নোট, গভর্নরের স্বাক্ষর থাকলে ব্যাংক নোট।
দশ, পঞ্চাশ ও একশো টাকা তিনটিই ব্যাংক নোট। তাই চারটির মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম দুই টাকা।
মনে রাখুন: দশের নিচে সরকার, দশ থেকে ব্যাংক।
৩৩৪. ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ কিসের সাথে সংশ্লিষ্ট? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কশ্রম বাজার
- খচাকুরি বাজার
- গস্টক মার্কেট
- ঘকৃষি বাজার
সঠিক উত্তর: গ. স্টক মার্কেট
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সেকেন্ডারি মার্কেট কিসের সঙ্গে যুক্ত। উত্তর স্টক মার্কেট বা শেয়ারবাজার।
পুঁজিবাজারের দুটি স্তর। প্রাথমিক বাজারে কোম্পানি প্রথমবার শেয়ার ছেড়ে, যেমন আইপিওর মাধ্যমে, সরাসরি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলে। সেকেন্ডারি মার্কেটে আগে থেকে ইস্যু হওয়া সেই শেয়ার বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা করেন; এ লেনদেনের টাকা কোম্পানির কাছে যায় না।
বাংলাদেশে সেকেন্ডারি মার্কেট হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। সেকেন্ডারি মার্কেট আছে বলেই বিনিয়োগকারী দরকার হলে শেয়ার বেচে টাকা ফেরত পান, তাই প্রাথমিক বাজারেও মানুষ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়।
শ্রমবাজার বা কৃষি বিপণনেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শব্দ আলাদা অর্থে ব্যবহার হয়, তাই বিকল্পগুলো বিভ্রান্তিকর লাগে। কিন্তু শুধু সেকেন্ডারি মার্কেট বললে প্রচলিত অর্থে শেয়ারবাজারই বোঝায়।
মনে রাখুন: প্রথম বিক্রি প্রাথমিক বাজারে, পরের সব কেনাবেচা সেকেন্ডারিতে।
৩৩৫. বাংলাদেশ সরকার কোন খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কআয়কর
- খভূমিকর
- গআমদানি-রপ্তানি শুল্ক
- ঘমূল্য সংযোজন কর
সঠিক উত্তর: ঘ. মূল্য সংযোজন কর
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার কোন খাত থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব পায়। পরীক্ষার সময়ের তথ্য অনুযায়ী উত্তর মূল্য সংযোজন কর, সংক্ষেপে মূসক বা ভ্যাট।
সরকারের রাজস্বের বড় অংশ আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, তিন ভাগে: মূসক, আয়কর, আর আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক। এর মধ্যে মূসকের অংশ সবচেয়ে বড়।
কারণ মূসক পরোক্ষ কর: প্রতিটি পণ্য ও সেবা কেনার সময় দামের সঙ্গে সবাই এটি দেয়, ধনী গরিব নির্বিশেষে। অন্যদিকে আয়কর দেন তুলনামূলক কম মানুষ। বাংলাদেশে মূসক চালু হয় উনিশশো একানব্বই সালে।
ফাঁদ হলো আয়কর, কারণ উন্নত দেশে আয়করই প্রধান রাজস্ব। বাংলাদেশে আয়করের অবদান বাড়ছে, তবু শীর্ষে মূসক।
মনে রাখুন: উন্নয়নশীল দেশে পরোক্ষ করই বড়; বাংলাদেশে শীর্ষে মূসক।
৩৩৬. আর্যদের ধর্মগ্রন্থের নাম কী ছিল? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কমহাভারত
- খরামায়ণ
- গগীতা
- ঘবেদ
সঠিক উত্তর: ঘ. বেদ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে আর্যদের ধর্মগ্রন্থের নাম। উত্তর বেদ।
আর্যরা ভারতে আসে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে। তাদের ধর্মীয় স্তোত্র ও আচার নিয়ে রচিত হয় বেদ, যা চার ভাগে: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। এর মধ্যে ঋগ্বেদ সবচেয়ে প্রাচীন।
বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। প্রাচীন যুগের এই সময়কে বেদের নামেই বৈদিক যুগ বলা হয়।
মহাভারত ও রামায়ণ মহাকাব্য, রচিত হয় বৈদিক যুগের অনেক পরে। আর গীতা মহাভারতেরই একটি অংশ, ভীষ্মপর্বের অন্তর্ভুক্ত।
মনে রাখুন: আর্য মানেই বৈদিক যুগ, আর বৈদিক শব্দ এসেছে বেদ থেকে।
৩৩৭. বাংলার প্রাচীন জনপদ কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুণ্ড্র
- খতাম্রলিপ্ত
- গগৌড়
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: ক. পুণ্ড্র
প্রশ্নটি বাংলার প্রাচীন জনপদ জানতে চেয়েছে। চারটি বিকল্পই প্রাচীন জনপদ, তাই প্রশ্নের উদ্দেশ্য আসলে প্রাচীনতম জনপদ; উত্তর পুণ্ড্র।
পুণ্ড্রের রাজধানী পুণ্ড্রনগর, আজকের বগুড়ার মহাস্থানগড়। এখানে পাওয়া মৌর্য যুগের ব্রাহ্মী শিলালিপি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, যা বাংলায় নগর ও প্রশাসনের সবচেয়ে পুরোনো প্রমাণগুলোর একটি।
অন্য জনপদগুলোর মধ্যে তাম্রলিপ্ত ছিল সমুদ্রবন্দর, আজকের তমলুক; গৌড় খ্যাতি পায় সপ্তম শতকে শশাঙ্কের রাজ্য হিসেবে; হরিকেল ছিল পূর্ব প্রান্তে, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত।
এক উত্তরের প্রশ্নে যখন সব বিকল্পই সঠিক মনে হয়, তখন প্রশ্নকর্তা সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীনটি চেয়েছেন। সেই বিচারে পুণ্ড্রই এগিয়ে।
মনে রাখুন: জনপদের প্রশ্নে প্রাচীনতম বা প্রধান চাইলে পুণ্ড্র।
৩৩৮. মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতাজউদ্দিন আহমদ
- খসৈয়দ নজরুল ইসলাম
- গএম. মনসুর আলী
- ঘএ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর: ক. তাজউদ্দিন আহমদ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মুজিবনগর সরকারে অর্থনৈতিক বিষয় ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন। উত্তর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
উনিশশো একাত্তরের দশ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ নিজের হাতে রাখেন প্রতিরক্ষা, তথ্য, অর্থনৈতিক বিষয় ও পরিকল্পনাসহ বেশ কয়েকটি দপ্তর।
অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষিমন্ত্রী, আর খন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী।
ফাঁদ হলো এম মনসুর আলী, কারণ অর্থ শব্দটা দেখে অর্থমন্ত্রীর কথা মনে আসে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় আর অর্থনৈতিক বিষয় ও পরিকল্পনা বিভাগ আলাদা দপ্তর ছিল।
মনে রাখুন: অর্থ মনসুর আলীর, কিন্তু অর্থনৈতিক বিষয় ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের।
৩৩৯. বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২৯ (২)
- খ২৮ (২)
- গ৩৯ (১)
- ঘ৩৯ (২)
সঠিক উত্তর: খ. ২৮ (২)
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তর আটাশ অনুচ্ছেদের দুই নম্বর দফা।
আটাশের দুই দফায় বলা আছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। এটি সংবিধানের তৃতীয় ভাগে, মৌলিক অধিকারের মধ্যে।
পাশের অনুচ্ছেদগুলো গুলিয়ে যায় বলে ক্রমটা মনে রাখুন। সাতাশে আইনের দৃষ্টিতে সমতা; আটাশের এক দফায় ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য নিষেধ; আটাশের দুইয়ে নারী পুরুষের সমান অধিকার; ঊনত্রিশে সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা।
ফাঁদ হলো ঊনত্রিশের দুই দফা, কারণ সেখানেও নারী পুরুষভেদের কারণে অযোগ্য না করার কথা আছে। কিন্তু সেটি শুধু প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে, সর্বস্তরে নয়।
মনে রাখুন: সাতাশে আইন, আটাশে বৈষম্য ও নারী, ঊনত্রিশে চাকরি, ঊনচল্লিশে বাকস্বাধীনতা।
৩৪০. কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনে সম্প্রতি চীনের সাথে বাংলাদেশের কোন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবেক্সিমকো
- খস্কয়ার
- গইনসেপটা
- ঘএক্মি
সঠিক উত্তর: গ. ইনসেপটা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোভিড উনিশের টিকা উৎপাদনে চীনের সঙ্গে কোন বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানির চুক্তি হয়। পরীক্ষার সময়ের তথ্য অনুযায়ী উত্তর ইনসেপটা।
দুই হাজার একুশ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সরকার, চীনের সিনোফার্ম এবং ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়। এর অধীনে সিনোফার্মের টিকা দেশে এনে ইনসেপটার কারখানায় বোতলজাত করে উৎপাদনের কথা ছিল।
বেক্সিমকোও টিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে অন্যভাবে: তারা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশে আনার চুক্তি করেছিল।
তাই ফাঁদ হলো বেক্সিমকো। মনে রাখুন, চীনের টিকা মানে সিনোফার্ম আর ইনসেপটা; ভারতের টিকা মানে সেরাম আর বেক্সিমকো।
মনে রাখুন: চীন হলে ইনসেপটা, ভারত হলে বেক্সিমকো।