বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২০
৩৮১. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ‘ভেটো’ প্রদান করেছিল? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কযুক্তরাজ্য
- খফ্রান্স
- গযুক্তরাষ্ট্র
- ঘসোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সোভিয়েত ইউনিয়ন
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে কে ভেটো দিয়েছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর সোভিয়েত ইউনিয়ন।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব ওঠে। এমন প্রস্তাব পাস হলে পাকিস্তানি বাহিনী রক্ষা পেত, তাই সোভিয়েত ইউনিয়ন একাধিকবার ভেটো দিয়ে সেগুলো আটকে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ভোটদানে বিরত থাকে।
ভেটো ক্ষমতা আছে কেবল পাঁচ স্থায়ী সদস্যের: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিকল্পের চারটিই স্থায়ী সদস্য, তাই প্রত্যেকের ভূমিকা জানা জরুরি।
মনে রাখুন: একাত্তরে বন্ধু সোভিয়েত, বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
৩৮২. বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কচতুর্থ তফসিলে
- খপঞ্চম তফসিলে
- গষষ্ঠ তফসিলে
- ঘসপ্তম তফসিলে
সঠিক উত্তর: খ. পঞ্চম তফসিলে
প্রশ্নটা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে আছে, তা জানতে চেয়েছে। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ভাষণটি পঞ্চম তফসিলে যুক্ত করা হয়।
একই সংশোধনীতে স্বাধীনতার আরও দুটি দলিল যুক্ত হয়। ষষ্ঠ তফসিলে আছে ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, আর সপ্তম তফসিলে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
সহজ কৌশল: তিনটি দলিল সময়ের ক্রমে তিনটি তফসিলে বসানো। প্রথমে ৭ মার্চ, তারপর ২৬ মার্চ, তারপর ১০ এপ্রিল; অর্থাৎ পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম।
চতুর্থ তফসিল আলাদা বিষয়ের: এটি ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধান নিয়ে।
মনে রাখুন: পাঁচ, ছয়, সাত: ভাষণ, ঘোষণা, ঘোষণাপত্র।
৩৮৩. ‘বঙ্গভঙ্গ’ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কলর্ড কার্জন
- খলর্ড ওয়াভেল
- গলর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
- ঘলর্ড লিনলিথগো
সঠিক উত্তর: ক. লর্ড কার্জন
প্রশ্নটা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময়ের ভাইসরয় জানতে চেয়েছে। তখন ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন, আর তাঁর উদ্যোগেই বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বাংলা প্রদেশ ভাগ করে ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।
বাকি তিনজন অনেক পরের ভাইসরয়। লর্ড লিনলিথগো ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, লর্ড ওয়াভেল তার পরে, আর লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় শেষ ভাইসরয়।
কৌশল: বঙ্গভঙ্গ শুরু শতাব্দীর শুরুতে, তাই বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে আগের ভাইসরয়কে খুঁজুন।
মনে রাখুন: কার্জন ভাগ করেন, হার্ডিঞ্জ জোড়া লাগান।
৩৮৪. বাংলাদেশ প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯৭২ সালে
- খ১৯৭৩ সালে
- গ১৯৭৪ সালে
- ঘ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৭৪ সালে
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি কোন সালে হয়েছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৭৪ সাল।
আদমশুমারি মানে দেশের সব মানুষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে গুনে তাদের বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, পেশা ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা। বাংলাদেশে এর দায়িত্ব পরিসংখ্যান ব্যুরোর।
প্রথম শুমারির পর সাধারণত দশ বছর পরপর শুমারি হয়েছে: ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১। ২০২২ সালের শুমারি ছিল প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি, যার নামও বদলে জনশুমারি ও গৃহগণনা রাখা হয়।
ফাঁদ হলো ১৯৭২ বা ১৯৭৩ বেছে নেওয়া। ১৯৭৫ বিকল্পটিও কাছাকাছি, কিন্তু দ্বিতীয় শুমারি ১৯৮১ সালে হওয়ার হিসাব মনে রাখলে প্রথমটি ১৯৭৪ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
মনে রাখুন: শুমারির সাল: চুয়াত্তর, একাশি, একানব্বই, দুই হাজার এক, দুই হাজার এগারো, তারপর দুই হাজার বাইশ।
৩৮৫. Inclusive Development Index ( IDI) – এর ভিত্তিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপ্রথম স্থান
- খদ্বিতীয় স্থান
- গতৃতীয় স্থান
- ঘচতুর্থ স্থান
সঠিক উত্তর: খ. দ্বিতীয় স্থান
প্রশ্নটা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চেয়েছে। ২০১৮ সালের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয়।
এই সূচক শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং প্রবৃদ্ধির সুফল কতটা সমভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় তা মাপে: যেমন বৈষম্য, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশের টেকসই ব্যবহার ও প্রজন্মান্তরের ন্যায্যতা।
উদীয়মান অর্থনীতির তালিকায় নেপাল ছিল ২২তম, বাংলাদেশ ৩৪তম, শ্রীলঙ্কা ৪০তম, পাকিস্তান ৪৭তম আর ভারত ৬২তম। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল প্রথম, বাংলাদেশ দ্বিতীয়।
ফাঁদ হলো প্রথম স্থান বেছে নেওয়া, বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধির কথা ভেবে। কিন্তু এই সূচকে নেপাল এগিয়ে ছিল।
মনে রাখুন: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচক ২০১৮: দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল এক, বাংলাদেশ দুই।
৩৮৬. ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক$ ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- খ$ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- গ$ ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- ঘ$ ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
সঠিক উত্তর: খ. $ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
প্রশ্নটা ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রপ্তানির সংখ্যা নির্ভর করে কোন সময় ও কী ধরা হচ্ছে তার ওপর। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে পণ্য রপ্তানি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৩৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার, আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৪০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। পঞ্জিকাবর্ষ ২০১৮ এর হিসাব দুই অর্থবছরের মাঝামাঝি পড়ে, আর সেবা রপ্তানি যোগ করলে মোট আরও বাড়ে।
রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ, প্রায় চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি, আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
এ ধরনের প্রশ্নে অর্থবছর আর পঞ্জিকাবর্ষ গুলিয়ে না ফেলাই মূল সাবধানতা। এই প্রশ্নের উত্তর গাইডগুলোর প্রচলিত হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।
মনে রাখুন: রপ্তানির প্রশ্নে আগে দেখুন অর্থবছর না পঞ্জিকাবর্ষ, শুধু পণ্য না পণ্য ও সেবা।
৩৮৭. Alliance যে দেশে ভিত্তিক গার্মেন্টস ব্রান্ডগুলোর সংগঠন- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কযুক্তরাজ্যের
- খযুক্তরাষ্ট্রের
- গকানাডার
- ঘইউরোপিয়ান ইউনিয়নের
সঠিক উত্তর: খ. যুক্তরাষ্ট্রের
প্রশ্নটা অ্যালায়েন্স নামের পোশাক ক্রেতা জোট কোন দেশভিত্তিক, তা জানতে চেয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি ছিল উত্তর আমেরিকার, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের জোট।
২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য ক্রেতারা দুটি জোট গঠন করে। ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, টার্গেটের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ দেয় অ্যালায়েন্সে।
অন্য জোটটির নাম অ্যাকর্ড, যাতে ছিল মূলত ইউরোপের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড, যেমন এইচঅ্যান্ডএম ও জারার মালিক প্রতিষ্ঠান। অ্যাকর্ড ছিল ট্রেড ইউনিয়নসহ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি।
ফাঁদ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিকল্প, কারণ দুটি জোটের কথা একসঙ্গে আসে। মনে রাখুন: অ্যালায়েন্স আমেরিকান, অ্যাকর্ড ইউরোপীয়।
মনে রাখুন: অ্যালায়েন্সের এ আমেরিকা, অ্যাকর্ড ইউরোপ।
৩৮৮. ২০১৮ সালে বাংলাদেশের GDP – তে শিল্প খাতের অবদান কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক২৯.৬৬%
- খ৩০.৬৬%
- গ৩২.৬৬%
- ঘ৩৩.৬৬%
সঠিক উত্তর: ঘ. ৩৩.৬৬%
প্রশ্নটা ২০১৮ সালে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান জানতে চেয়েছে। সরকারি হিসাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিল্প খাতের অবদান ছিল তেত্রিশ শতাংশের কিছু বেশি, বিকল্পগুলোর মধ্যে যা মেলে ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে।
একই সময়ে সেবা খাতের অংশ ছিল অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ শতাংশ, আর কৃষির অংশ প্রায় ১৪ শতাংশ।
শিল্প খাতের অংশ গত কয়েক দশক ধরে বাড়ছে, মূলত তৈরি পোশাক, নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে। তাই প্রতি বছর এর অংশ আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়।
বিকল্পগুলো এক শতাংশের ব্যবধানে সাজানো, তাই আনুমানিক ধারণা যথেষ্ট নয়। মনে রাখুন, তিন খাতের ভাগ মিলে একশো শতাংশ; কৃষি প্রায় চৌদ্দ আর সেবা বাহান্নর বেশি হলে শিল্পের জন্য থাকে তেত্রিশ থেকে চৌত্রিশের ঘর।
মনে রাখুন: বড় তিন খাতের ভাগ মোটামুটি মনে রাখুন: কৃষি চৌদ্দ, শিল্প তেত্রিশ-চৌত্রিশ, সেবা বাহান্ন।
৩৮৯. ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রপ্তানি প্রণোদনা রাখা হয়েছে- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
- খসাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা
- গসাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা
- ঘসাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা
সঠিক উত্তর: ক. সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
প্রশ্নটা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি প্রণোদনার বরাদ্দ জানতে চেয়েছে। সে বছর রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তার জন্য মোট সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ পঁয়তাল্লিশ বিলিয়ন টাকা রাখা হয়।
রপ্তানি প্রণোদনা মানে রপ্তানিকারকদের রপ্তানি মূল্যের নির্দিষ্ট অংশ নগদ টাকায় ফেরত দেওয়া। এর উদ্দেশ্য বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা এবং নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে রপ্তানিকে উৎসাহিত করা।
তৈরি পোশাক ছাড়াও পাট, চামড়া, কৃষিপণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো খাত এই সুবিধা পায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তালিকায় নতুন ৯টি পণ্য যোগ হয়ে মোট পণ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫।
বিকল্পগুলো এক হাজার কোটির ব্যবধানে সাজানো। সংখ্যাটি মনে রাখার উপায়: সাড়ে চার হাজার কোটি মানে পঁয়তাল্লিশ বিলিয়ন টাকা।
মনে রাখুন: সাড়ে চার হাজার কোটি মানে পঁয়তাল্লিশ বিলিয়ন টাকা।
৩৯০. বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট (VAT) চালু হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯৯১ সালে
- খ১৯৭৩ সালে
- গ১৯৮৬ সালে
- ঘ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৯১ সালে
প্রশ্নটা বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কবে চালু হয়, তা জানতে চেয়েছে। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর আওতায় ১৯৯১ সালের ১ জুলাই দেশে ভ্যাট চালু হয়।
ভ্যাট হলো পরোক্ষ কর, যা পণ্য বা সেবার প্রতিটি হাতবদলের ধাপে শুধু সংযোজিত মূল্যের ওপর আদায় হয়। আগের বিক্রয় করের তুলনায় এতে করের ওপর কর চাপার সমস্যা কমে।
পরে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ প্রণীত হয়, যা কার্যকর হয় ২০১৯ সালের ১ জুলাই। ভ্যাট আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
ফাঁদ হলো ১৯৯৬ বা ১৯৮৬ বেছে নেওয়া। মনে রাখুন, ভ্যাট এসেছে ১৯৯১ সালের আইনে; আর নতুন আইন প্রণীত হয় ২০১২ সালে, কার্যকর হয় ২০১৯ সালে।
মনে রাখুন: একানব্বইয়ে ভ্যাট এল, উনিশে নতুন আইন চালু হলো।
৩৯১. সংবিধানের কোন সংশোধনকে ‘first distortion of constitution’ বলে আখ্যায়িত করা হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক৫ম সংশোধনকে
- খ৪ র্থ সংশোধনকে
- গ৩ য় সংশোধনকে
- ঘ২ য় সংশোধনকে
সঠিক উত্তর: ক. ৫ম সংশোধনকে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন সংশোধনীকে সংবিধানের প্রথম বিকৃতি বলা হয়। প্রচলিত উত্তর পঞ্চম সংশোধনী।
১৯৭৯ সালে পাস হওয়া পঞ্চম সংশোধনী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব ফরমান, আদেশ ও কার্যক্রমকে বৈধতা দেয়। একই সঙ্গে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতিতে আনা পরিবর্তন, যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া, স্থায়ী রূপ পায়।
সংসদের বাইরে সামরিক ফরমানে সংবিধান বদলানো এবং পরে তা বৈধ করার কারণেই একে সংবিধানের বিকৃতি বলা হয়। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।
ফাঁদ হলো চতুর্থ সংশোধনী। ১৯৭৫ সালের এই সংশোধনী একদলীয় রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা আনে এবং কেউ কেউ এর সমালোচনাও করেন, তবে প্রচলিত উত্তরে প্রথম বিকৃতি বলা হয় পঞ্চম সংশোধনীকে।
মনে রাখুন: সামরিক শাসনের বৈধতা দেওয়া সংশোধনী দুটি: পঞ্চম ও সপ্তম; প্রথমটি পঞ্চম।
৩৯২. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের কততম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কচতুর্থ
- খপঞ্চম
- গষষ্ঠ
- ঘসপ্তম
সঠিক উত্তর: ঘ. সপ্তম
প্রশ্নটা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের কোন তফসিলে আছে, তা জানতে চেয়েছে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার যে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে, তা আছে সপ্তম তফসিলে।
এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতেই মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল শপথ নেয়। একে বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধানও বলা হয়।
২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তিনটি দলিল যুক্ত হয়: পঞ্চম তফসিলে ৭ মার্চের ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, সপ্তম তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
ফাঁদ হলো ষষ্ঠ তফসিল। স্বাধীনতার ঘোষণা আর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দুটি আলাদা দলিল; পত্র শব্দটিই পার্থক্য গড়ে দেয়।
মনে রাখুন: ঘোষণা ষষ্ঠে, ঘোষণাপত্র সপ্তমে: পত্র যোগ হলে তফসিলও এক বাড়ে।
৩৯৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৭ এপ্রিল , ১৯৭১
- খ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
- গ৭ মার্চ , ১৯৭২
- ঘ২৬ মার্চ, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
প্রশ্নটা বাংলাদেশের সংবিধান কবে প্রবর্তিত বা কার্যকর হয়, তা জানতে চেয়েছে। সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে।
এর আগে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়। তাই দুটি তারিখ আলাদা: ৪ নভেম্বর গৃহীত, ১৬ ডিসেম্বর প্রবর্তিত।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে চৌত্রিশ সদস্যের খসড়া কমিটি সংবিধান প্রণয়ন করে। স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়।
ফাঁদ হলো ১৭ এপ্রিল ১৯৭১, যেদিন মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়। সেটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সঙ্গে যুক্ত, সংবিধানের সঙ্গে নয়।
মনে রাখুন: গৃহীত ৪ নভেম্বর, প্রবর্তিত ১৬ ডিসেম্বর, দুটিই ১৯৭২।
৩৯৪. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘সরকারি কর্ম কমিশন’ (PSC) গঠনের উল্লেখ আছে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
- খ১৩৫ নং অনুচ্ছেদে
- গ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
- ঘ১৩৪ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর: ক. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
প্রশ্নটা সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি গঠনের সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ জানতে চেয়েছে। সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাবে।
সংবিধানের নবম ভাগ বাংলাদেশের কর্মবিভাগ নিয়ে। এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন: ১৩৭ এ প্রতিষ্ঠা, ১৩৮ এ সদস্য নিয়োগ, ১৩৯ এ পদের মেয়াদ, ১৪০ এ কমিশনের দায়িত্ব।
প্রথম পরিচ্ছেদে আছে কর্মবিভাগের সাধারণ বিধান: ১৩৪ অনুচ্ছেদে কর্মের মেয়াদ, ১৩৫ অনুচ্ছেদে বেসামরিক কর্মচারীদের বরখাস্ত বা অপসারণের সুরক্ষা।
ফাঁদ হলো ১৩৮, যা পিএসসির সঙ্গেই যুক্ত কিন্তু সদস্য নিয়োগ নিয়ে, প্রতিষ্ঠা নিয়ে নয়।
মনে রাখুন: পিএসসি শুরু ১৩৭ থেকে: প্রতিষ্ঠা ১৩৭, নিয়োগ ১৩৮, মেয়াদ ১৩৯, দায়িত্ব ১৪০।
৩৯৫. আওয়ামী লীগের ৬-দফা পেশ করা হয়েছিলো – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯৬৬ সালে
- খ১৯৬৭ সালে
- গ১৯৬৮ সালে
- ঘ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৬৬ সালে
প্রশ্নটা ছয় দফা পেশের সাল জানতে চেয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ছয় দফা পেশ করেন। পরে এটি আওয়ামী লীগের কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়।
ছয় দফার মূল কথা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। একে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়, কারণ এর দাবিগুলোই পরে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি হয়।
পরের ঘটনাগুলো ক্রমে মনে রাখুন: ছয় দফা আন্দোলন দমাতে ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, আর তার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
ফাঁদ হলো ১৯৬৮ বা ১৯৬৯, কারণ ওই বছরগুলোর বড় ঘটনা ছয় দফারই ধারাবাহিকতা।
মনে রাখুন: ছেষট্টিতে ছয় দফা: দুটোতেই ছয়।
৩৯৬. বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামী সংখ্যা ছিল – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক৩৪ জন
- খ৩৫ জন
- গ৩৬ জন
- ঘ৩২ জন
সঠিক উত্তর: খ. ৩৫ জন
প্রশ্নটা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামির সংখ্যা জানতে চেয়েছে। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়।
মামলার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য, আর তিনি ছিলেন এক নম্বর আসামি। অভিযোগ ছিল ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র পন্থায় পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র।
ছয় দফা আন্দোলন দমাতে মামলাটি করা হয়েছিল, কিন্তু ফল হয় উল্টো। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চাপে ২২ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রত্যাহার হয় এবং পরদিন শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়।
বিকল্পগুলো একজনের ব্যবধানে সাজানো, তাই সংখ্যাটি হুবহু মনে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে গুনলে ৩৪ আসে, এটাই প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: এক নম্বর আসামি বঙ্গবন্ধু, মোট পঁয়ত্রিশ।
৩৯৭. তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৩ হাজার ১২৫ টি
- খ১৩ হাজার ১৩০ টি
- গ১৩ হাজার ১৩৬ টি
- ঘ১৩ হাজার ১৪৬ টি
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১৩ হাজার ১৩৬ টি। এখন: ১৪,৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু (জুন ২০২৬)।
প্রশ্নটা তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে চালু কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় দেশে তেরো হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু ছিল, আর প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী সংখ্যাটি ১৩ হাজার ১৩৬।
কমিউনিটি ক্লিনিক হলো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে নিচের স্তর, যেখানে প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি ক্লিনিক রাখার লক্ষ্য। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং বিনামূল্যে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়।
সেবাগ্রহীতাদের বড় অংশ নারী ও শিশু। জনগণের দান করা জমিতে সরকার ক্লিনিক নির্মাণ করে, তাই এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের উদাহরণ।
সংখ্যাটি সময়ের সঙ্গে বাড়ছে, তাই প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার সময়ের হিসাবে। বিকল্পগুলো খুব কাছাকাছি, শেষ দুই অঙ্ক তিন ছয় মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: তেরো হাজার একশো ছত্রিশ: তেরো, এক, তিন, ছয়।
৩৯৮. ‘Let There Be light ‘ – বিখ্যাত ছবিটি পরিচালনা করেন- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআমজাদ হোসেন
- খজহির রায়হান
- গখান আতাউর রহমান
- ঘশেখ নিয়ামত আলী
সঠিক উত্তর: খ. জহির রায়হান
প্রশ্নটা লেট দেয়ার বি লাইট চলচ্চিত্রের পরিচালক জানতে চেয়েছে। উত্তর জহির রায়হান। তিনি স্বাধীনতার আগে ইংরেজি ভাষায় এই চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেন, কিন্তু তা অসমাপ্ত থেকে যায়।
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে মিরপুরে গিয়ে জহির রায়হান নিজেই নিখোঁজ হন। ফলে ছবিটি আর শেষ হয়নি।
জহির রায়হানের অন্য বিখ্যাত কাজ: জীবন থেকে নেয়া, আর মুক্তিযুদ্ধের সময় বানানো প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড। তিনি হাজার বছর ধরে উপন্যাসের লেখকও।
অন্য পরিচালকদের পরিচিত কাজ দিয়ে বিকল্পগুলো বাদ দেওয়া যায়: খান আতাউর রহমানের আবার তোরা মানুষ হ, শেখ নিয়ামত আলীর সূর্য দীঘল বাড়ি, আমজাদ হোসেনের গোলাপী এখন ট্রেনে।
মনে রাখুন: আলো জ্বালার ছবি অসমাপ্ত রেখে হারিয়ে যান জহির রায়হান।
৩৯৯. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ কখন বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৪৯৮ – ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
- খ১৪৯৮ -১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে
- গ১৪৯৮ – ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে
- ঘ১৪৯৮ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৪৯৮ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
প্রশ্নটা হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকাল জানতে চেয়েছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী তিনি ১৪৯৪ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
লক্ষ করুন, সব বিকল্পেই শুরুর সাল ১৪৯৮ ছাপা হয়েছে, যা বাংলাপিডিয়ার ১৪৯৪ সালের সঙ্গে মেলে না; এটি প্রশ্নেরই ত্রুটি। তাই এখানে উত্তর ঠিক করতে হয় শুধু শেষের সাল দেখে: তাঁর শাসন শেষ হয় ১৫১৯ সালে।
তাঁর শাসনামলকে বাংলার মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগ বলা হয়। তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন, চট্টগ্রাম দখলে আনেন এবং বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন; তাঁর সময়েই শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব আন্দোলন বিস্তার লাভ করে।
কৌশল: শুরুর সাল এক হলে শুধু শেষের সালের পার্থক্য দেখুন। হুসেন শাহের পর তাঁর পুত্র নসরত শাহ ১৫১৯ সালে সিংহাসনে বসেন।
মনে রাখুন: হুসেন শাহের শেষ বছর ১৫১৯, পুত্র নসরত শাহের শুরুও ১৫১৯।
৪০০. প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঅশোক মৌর্য
- খচন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- গসমুদ্রগুপ্ত
- ঘএর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
প্রশ্নটা মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা জানতে চেয়েছে। মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, যিনি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে নন্দ বংশকে পরাজিত করে মগধে এই সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
বাংলার উত্তরাঞ্চল যে মৌর্য শাসনের অধীনে ছিল, তার প্রমাণ বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি। তাই প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের সূচনাও এই বংশের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে যুক্ত।
অশোক ছিলেন চন্দ্রগুপ্তের পৌত্র এবং মৌর্য বংশের সবচেয়ে বিখ্যাত সম্রাট, কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা নন। সমুদ্রগুপ্ত পরবর্তী গুপ্ত বংশের সম্রাট, মৌর্য নন।
ফাঁদ হলো অশোক, কারণ তাঁর নাম বেশি পরিচিত। প্রতিষ্ঠাতা শব্দটি দেখলেই বংশের প্রথম শাসককে খুঁজুন।
মনে রাখুন: যে বংশের নামে প্রশ্ন, সেই বংশের প্রথম রাজাই প্রতিষ্ঠাতা: মৌর্য মানে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।