বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২১
৪০১. ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপর্তুগীজরা
- খইংরেজরা
- গওলন্দাজরা
- ঘফরাসিরা
সঠিক উত্তর: ক. পর্তুগীজরা
প্রশ্নটা ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম বাংলায় আসে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর পর্তুগিজরা, যারা ষোড়শ শতকের প্রথম ভাগে বাংলায় আসে।
১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা সমুদ্রপথে ভারতের কালিকটে পৌঁছানোর পর পর্তুগিজরা ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যে আধিপত্য গড়ে। এরপর তারা বাংলার চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্য শুরু করে; চট্টগ্রামকে তারা বলত পোর্তো গ্রান্দে, আর সাতগাঁওকে পোর্তো পেকেনো।
অন্য ইউরোপীয় শক্তিগুলো আসে সপ্তদশ শতকে: প্রথমে ওলন্দাজ, তারপর ইংরেজ, দিনেমার ও ফরাসি। ইংরেজরা পরে পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাংলার শাসক হয়ে ওঠে।
ফাঁদ হলো ইংরেজ, কারণ বাংলার ইতিহাসে তাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রভাব বেশি মানেই প্রথম আসা নয়।
মনে রাখুন: ইউরোপীয়দের আগমনের ক্রম: পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ, দিনেমার, ফরাসি।
৪০২. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় কোন জেলায়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কফরিদপুর
- খরংপুর
- গজামালপুর
- ঘশেরপুর
সঠিক উত্তর: ক. ফরিদপুর
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন জেলায় পাট সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়। পরীক্ষার সময়ের কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী উত্তর ফরিদপুর।
পাট চাষে দরকার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, প্রচুর বৃষ্টি আর নরম পলিমাটি। কাটার পর পাট পচাতে লাগে খাল, বিল বা ডোবার পানি। পদ্মা তীরের ফরিদপুর অঞ্চলে এর সবই আছে, তাই সেখানে পাটের আবাদ ও ফলন দুটোই বেশি।
পাটের জন্য পরিচিত অন্য অঞ্চলগুলো হলো যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ। তবে উৎপাদনের তালিকায় শীর্ষে ফরিদপুর।
ফাঁদ হলো জামালপুর, কারণ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল পাটের জন্য নাম করা। জামালপুরে পাট হয় ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বেশি নয়।
মনে রাখুন: পাটের প্রশ্নে প্রথমে ফরিদপুর মনে করুন; পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কিন্তু ঢাকায়।
৪০৩. বাংলাদেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক২ কোটি ৪০ লক্ষ একর
- খ২ কোটি ৫০ লক্ষ একর
- গ২ কোটি ২৫ লক্ষ একর
- ঘ২ কোটি ২১ লক্ষ একর
সঠিক উত্তর: ঘ. ২ কোটি ২১ লক্ষ একর
প্রশ্নটি দেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ একরে জানতে চেয়েছে। সরকারি হিসাব সাধারণত হেক্টরে দেওয়া থাকে, তাই একরে রূপান্তর করে বিকল্পের সঙ্গে মেলাতে হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দুই হাজার উনিশ ও বিশ সালের ভূমি ব্যবহার জরিপে আবাদযোগ্য জমি ছিল প্রায় ৮৮ লক্ষ হেক্টর। এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান, তাই এটি দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ১৮ লক্ষ একর।
বিকল্পগুলোর মধ্যে এর সবচেয়ে কাছের মান ২ কোটি ২১ লক্ষ একর। বসতি, রাস্তা ও কারখানায় কৃষিজমি চলে যাওয়ায় এ পরিমাণ প্রতি বছর একটু একটু কমছে, তাই বিভিন্ন বইয়ে সংখ্যা সামান্য আলাদা দেখা যায়।
ফাঁদ হলো ২ কোটি ৪০ লক্ষ একর, যা কোনো কোনো গাইডে উত্তর হিসেবে দেওয়া আছে। এটি প্রায় ৯৭ লক্ষ হেক্টরের সমান, সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
মনে রাখুন: হেক্টরকে একরে নিতে আড়াই দিয়ে গুণ করুন; প্রায় ৮৮ লক্ষ হেক্টর মানে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ একর।
৪০৪. ‘গারো উপজাতি’ কোন জেলায় বাস করে ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপার্বত্য চট্টগ্রাম
- খসিলেট
- গময়মনসিংহ
- ঘটাঙ্গাইল
সঠিক উত্তর: গ. ময়মনসিংহ
প্রশ্নটি গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান আবাসস্থল জানতে চেয়েছে। উত্তর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল।
গারোরা মূলত ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে বাস করে। বাংলাদেশে তাদের বড় বসতি নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের সীমান্ত এলাকায়। এসবই বৃহত্তর ময়মনসিংহের অংশ।
গারো সমাজ মাতৃসূত্রীয়: সম্পত্তি ও বংশপরিচয় চলে মায়ের দিক থেকে। তারা নিজেদের আচিক বা মান্দি বলে পরিচয় দেয়।
ফাঁদ হলো টাঙ্গাইল, কারণ মধুপুর গড়েও গারো বসতি আছে। কিন্তু প্রধান ও বিস্তৃত আবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ।
মনে রাখুন: জাতিগোষ্ঠীর নামের সঙ্গে পাহাড়ের নাম মেলান: গারো পাহাড়ের নিচেই বৃহত্তর ময়মনসিংহ।
৪০৫. BITAC is an institution for technical support /assistance to - (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কcottage industries
- খindustries
- গRMG
- ঘAll of these
সঠিক উত্তর: খ. industries
BITAC-এর পূর্ণরূপ Bangladesh Industrial Technical Assistance Center, বাংলায় বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সদর দপ্তর ঢাকার তেজগাঁওয়ে।
নামেই কাজ বোঝা যায়: দেশের শিল্প খাতকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া। যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামত, শিল্পের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা, আর দক্ষ জনবল তৈরির প্রশিক্ষণ দেয় BITAC।
এর শুরু ১৯৬২ সালে পাকিস্তান আমলে, একটি শিল্প কারিগরি কেন্দ্র হিসেবে। স্বাধীনতার পর নাম হয় BITAC। কুটির শিল্প বা পোশাক খাত এর আওতায় পড়ে ঠিকই, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য সাধারণভাবে শিল্প খাত, তাই উত্তর industries।
মনে রাখুন: নামের Industrial শব্দটাই উত্তর বলে দেয়।
৪০৬. Which country is developing a 750 acre Industrial zone in Bangladesh? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কJapan
- খIndia
- গMalaysia
- ঘChina
সঠিক উত্তর: ঘ. China
প্রশ্নটা বাংলাদেশে চীনের জন্য নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে সাতশো একরের বেশি জমিতে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি দুই সরকারের মধ্যে, মানে জি-টু-জি ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্প।
প্রকল্পের উন্নয়নকারী হিসেবে কাজ পায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বেজা, এর দেখভাল করে।
বেজা কয়েকটি দেশের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছে। জাপানের জন্য নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে, ভারতের জন্য মোংলা ও মিরসরাইয়ে।
তাই জাপান ও ভারতও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল পাচ্ছে বলে ফাঁদ তৈরি হয়। কিন্তু ৭৫০ একর আর আনোয়ারা, এই দুটো সূত্র মিললে উত্তর চীন।
মনে রাখুন: আনোয়ারা = চীন, আড়াইহাজার = জাপান, মোংলা-মিরসরাই = ভারত।
৪০৭. প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ অঞ্চলভুক্ত এলাকা - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করাজশাহী
- খদিনাজপুর
- গখুলনা
- ঘচট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর: ঘ. চট্টগ্রাম
প্রশ্নটা প্রাচীন বাংলার জনপদের ভৌগোলিক অবস্থান যাচাই করছে। হরিকেল ছিল বাংলার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের জনপদ, যার মধ্যে বর্তমান চট্টগ্রাম অঞ্চল পড়ে; সিলেট অঞ্চলকেও এর অংশ ধরা হয়।
প্রাচীন চীনা পর্যটক ও বিভিন্ন লিপিতে হরিকেলকে বঙ্গের পূর্ব প্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চন্দ্র রাজবংশের শাসনামলে হরিকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ছিল।
অন্য বিকল্পগুলো উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার এলাকা। রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল ছিল বরেন্দ্র ও পুণ্ড্র জনপদের অংশ, যার কেন্দ্র ছিল বগুড়ার মহাস্থানগড়।
মনে রাখার উপায়: জনপদের নাম শুনলে মানচিত্রে দিক ঠিক করুন। হরিকেল পূর্বে সমুদ্রের ধারে, পুণ্ড্র ও বরেন্দ্র উত্তরে।
মনে রাখুন: হরিকেল মানেই পূর্ব প্রান্ত: চট্টগ্রাম ও সিলেট।
৪০৮. নিচের মোঘল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআকবর
- খবাবর
- গশাহজাহান
- ঘহুমায়ুন
সঠিক উত্তর: খ. বাবর
প্রশ্নটা মোগল সম্রাটদের লেখা আত্মজীবনী নিয়ে। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর নিজেই তাঁর জীবনের কাহিনি লিখেছিলেন, যার নাম তুজুক-ই-বাবরি বা বাবরনামা। এটি তিনি লিখেছিলেন চাগতাই তুর্কি ভাষায়।
বাবর ছিলেন প্রথম মোগল সম্রাট, তাই তাঁর আত্মজীবনীই স্বাভাবিকভাবে প্রথম মোগল আত্মজীবনী। পরে সম্রাট জাহাঙ্গীরও তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি নামে আত্মজীবনী লেখেন।
বাকি সম্রাটদের জীবনী অন্যরা লিখেছেন। হুমায়ুনের জীবনী হুমায়ুননামা লিখেছেন তাঁর বোন গুলবদন বেগম, আকবরের সময়ের ইতিহাস আকবরনামা লিখেছেন আবুল ফজল।
ফাঁদ হলো আকবরনামা বা হুমায়ুননামা নাম দেখে সম্রাটকেই লেখক ভাবা। নামের সঙ্গে সম্রাটের নাম থাকলেই সেটি আত্মজীবনী নয়।
মনে রাখুন: মোগলদের নিজ হাতে লেখা আত্মজীবনী দুটি: বাবর ও জাহাঙ্গীর; প্রথম বাবর।
৪০৯. ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করা হয় ১৯৬৬ সালের - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কফেব্রুয়ারিতে
- খমে মাসে
- গজুলাই মাসে
- ঘআগস্টে
সঠিক উত্তর: ক. ফেব্রুয়ারিতে
প্রশ্নটা ছয় দফা ঘোষণার মাস জানতে চেয়েছে। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। তারিখটি ছিল ৫ ফেব্রুয়ারি।
ছয় দফার মূল দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন: আলাদা মুদ্রা বা মুদ্রা পাচার রোধের ব্যবস্থা, কর আদায়ের ক্ষমতা, বৈদেশিক বাণিজ্যের হিসাব আর আঞ্চলিক আধাসামরিক বাহিনী। একে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
পরে ছয় দফার পক্ষে আন্দোলন জোরালো হয়। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন সারা দেশে হরতাল পালিত হয়, যে দিনটি এখন ছয় দফা দিবস।
ফাঁদ হলো ছয় দফা দিবস ৭ জুনের কথা মনে করে জুন কাছাকাছি কোনো মাস বেছে নেওয়া। ঘোষণা ফেব্রুয়ারিতে, দিবস জুনে।
মনে রাখুন: ঘোষণা ফেব্রুয়ারি, লাহোরে; দিবস ৭ জুন, ঢাকায়।
৪১০. মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
- খতাজউদ্দীন আহমদ
- গএ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
- ঘখন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর: গ. এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
প্রশ্নটা ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন যাচাই করছে। এ এইচ এম কামারুজ্জামান ছিলেন স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী।
এই সরকারে বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ছিলেন অর্থমন্ত্রী, আর খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন পররাষ্ট্র এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
মনে রাখুন, শরণার্থী ও ত্রাণের দায়িত্ব ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতেই, তাই কামারুজ্জামান। জাতীয় চার নেতার সবাই এই সরকারে থাকায় নামগুলো সহজে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: তা প্রধান, ম অর্থ, মো পররাষ্ট্র, কা স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ।
৪১১. কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কদ্বি-জাতি তত্ত্ব
- খসামাজিক চেতনা
- গঅসাম্প্রদায়িকতা
- ঘবাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর: ঘ. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনের আদর্শিক ভিত্তি জানতে চেয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে যে আন্দোলন হয়, তার মূলে ছিল বাঙালি পরিচয়ের চেতনা, অর্থাৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
পাকিস্তান রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর। কিন্তু উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টায় পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝল, ধর্ম এক হলেও ভাষা ও সংস্কৃতিতে তারা আলাদা জাতি।
এই উপলব্ধিই ভাষা আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম বড় প্রকাশে পরিণত করে, যা পরে ছয় দফা ও মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে।
ফাঁদ হলো অসাম্প্রদায়িকতা বেছে নেওয়া। আন্দোলনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল, কিন্তু মূল ভিত্তি ছিল ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা।
মনে রাখুন: ভাষা মানেই জাতিসত্তা: ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
৪১২. ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
- খহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
- গমাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- ঘনবাব স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে কে যুক্ত ছিলেন না। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালেই মারা যান, তাই প্রায় চার দশক পরের এ নির্বাচনে তাঁর থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এর প্রধান তিন নেতা ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
যুক্তফ্রন্ট একুশ দফা কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে নামে এবং বিপুল জয় পায়। ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হন।
এ ধরনের প্রশ্নে কৌশল হলো নেতাদের জীবৎকাল মিলিয়ে দেখা। সলিমুল্লাহর নাম আসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে।
মনে রাখুন: মৃত্যুসাল দেখুন: ১৯১৫ সালে মারা যাওয়া কেউ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে থাকতে পারেন না।
৪১৩. জুম চাষ হয় - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবরিশালে
- খময়মনসিংহে
- গখাগড়াছড়িতে
- ঘদিনাজপুরে
সঠিক উত্তর: গ. খাগড়াছড়িতে
প্রশ্নটা জুম চাষের অঞ্চল জানতে চেয়েছে। জুম হলো পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল কেটে ও পুড়িয়ে গর্ত করে বীজ বোনার এক ধরনের স্থানান্তরিত চাষ। তাই এটি হয় পাহাড়ি এলাকায়, যেমন খাগড়াছড়ি।
বাংলাদেশে জুম চাষ প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে প্রচলিত। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এই পদ্ধতিতে ধান, ভুট্টা, তিল ইত্যাদি একসঙ্গে চাষ করে।
কয়েক বছর চাষের পর জমির উর্বরতা কমে গেলে কৃষকেরা অন্য ঢালে সরে যান, তাই একে স্থানান্তরিত চাষ বলে।
সমতলের জেলা দেখলেই বাদ দিন। বরিশাল, ময়মনসিংহ ও দিনাজপুরে পাহাড়ি ঢাল নেই, সেখানে প্রচলিত লাঙলের চাষ হয়।
মনে রাখুন: জুম শুনলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম: খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান।
৪১৪. চাকমা জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা সর্বাধিক - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করাঙ্গামাটি জেলায়
- খখাগড়াছড়ি জেলায়
- গবান্দরবান জেলায়
- ঘসিলেট জেলায়
সঠিক উত্তর: ক. রাঙ্গামাটি জেলায়
প্রশ্নটা চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি জানতে চেয়েছে। চাকমারা বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আর তাদের সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে রাঙ্গামাটি জেলায়।
রাঙ্গামাটি চাকমা সার্কেলের কেন্দ্র; চাকমা রাজার বাসস্থানও এখানেই। খাগড়াছড়িতেও বিপুলসংখ্যক চাকমা আছে, তবে মোট সংখ্যায় রাঙ্গামাটি এগিয়ে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন সার্কেল মনে রাখলে প্রশ্নটা সহজ হয়: চাকমা সার্কেল রাঙ্গামাটিতে, বোমাং সার্কেল বান্দরবানে, মং সার্কেল খাগড়াছড়িতে। বান্দরবানে মারমারা বেশি।
ফাঁদ হলো খাগড়াছড়ি বেছে নেওয়া, কারণ সেখানেও চাকমা বসতি ঘন। আর সিলেটের পরিচিত নৃগোষ্ঠী খাসিয়া ও মণিপুরি, চাকমা নয়।
মনে রাখুন: চাকমা সার্কেল মানেই রাঙ্গামাটি।
৪১৫. বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারী হয় - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১৯৭৯ সালে
- খ১৯৭২ সালে
- গ১৯৭৩ সালে
- ঘ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯৭৪ সালে
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারির সাল জানতে চেয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।
এরপর প্রায় দশ বছর পরপর শুমারি হয়েছে: ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে। ২০২২ সালের শুমারি হয় প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি হিসেবে।
স্বাধীনতার পরের প্রথম দুই বছরে রাষ্ট্র গঠনের বড় কাজগুলো চলছিল: ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচন। শুমারি হয় এর পরে, ১৯৭৪ সালে।
ফাঁদ হলো ১৯৭২ বা ১৯৭৩ বেছে নেওয়া, স্বাধীনতার ঠিক পরের বছর ভেবে। মনে রাখুন, দ্বিতীয় শুমারি ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ প্রথমটির সাত বছর পর।
মনে রাখুন: শুমারির সাল: চুয়াত্তর, একাশি, একানব্বই, দুই হাজার এক, দুই হাজার এগারো, তারপর দুই হাজার বাইশ।
৪১৬. বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষিখাতের অবদান - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কনিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে
- খঅনিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে
- গক্রমহ্রাসমান
- ঘঅপরিবর্তিত থাকছে
সঠিক উত্তর: গ. ক্রমহ্রাসমান
প্রশ্নটা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে কৃষিখাতের অংশের প্রবণতা জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময়ের মতো এখনও কৃষির অংশ ক্রমশ কমছে।
কারণ হলো কাঠামোগত রূপান্তর। কৃষির উৎপাদন বাড়লেও শিল্প, বিশেষত তৈরি পোশাক ও নির্মাণ, আর সেবা খাত অনেক দ্রুত বাড়ছে। ফলে পুরো অর্থনীতির মধ্যে কৃষির ভাগ ছোট হয়ে যাচ্ছে।
এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা জরুরি: কৃষির মোট উৎপাদন কমছে না, কমছে জিডিপিতে তার শতকরা অংশ। কর্মসংস্থানে অবশ্য কৃষি এখনো সবচেয়ে বড় একক খাত।
ফাঁদ হলো কৃষি উৎপাদন বাড়ছে শুনে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিকল্প বেছে নেওয়া। প্রশ্ন অংশ নিয়ে, পরিমাণ নিয়ে নয়।
মনে রাখুন: অর্থনীতি যত উন্নত হয়, জিডিপিতে কৃষির অংশ তত কমে।
৪১৭. বাংলাদেশের অন্যতম বিশেষায়িত ব্যাংক - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
- খসোনালী ব্যাংক
- গঅগ্রণী ব্যাংক
- ঘরূপালী ব্যাংক
সঠিক উত্তর: ক. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
প্রশ্নটা বিশেষায়িত ব্যাংক চিনতে চেয়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংক হলো সেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, যা সাধারণ বাণিজ্যিক কাজের বদলে নির্দিষ্ট একটি খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য গঠিত। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য গঠিত, তাই এটি বিশেষায়িত ব্যাংক।
রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষিভিত্তিক বিশেষায়িত ব্যাংক দুটি: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এরা আমানত নেয়, সব খাতে ঋণ দেয়, আমদানি-রপ্তানির লেনদেন করে।
সহজ পরীক্ষা: ব্যাংকের নামে কোনো খাতের নাম আছে কি না দেখুন। কৃষি নাম থাকায় উত্তর সহজেই বেরিয়ে আসে।
মনে রাখুন: ব্যাংকের নামে খাতের নাম, যেমন কৃষি বা উন্নয়ন, থাকলে সাধারণত সেটি বিশেষায়িত।
৪১৮. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় সকল নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কধারা ২৬
- খধারা ২৭
- গধারা ২৮
- ঘধারা ২৯
সঠিক উত্তর: খ. ধারা ২৭
প্রশ্নটা সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের একটি অনুচ্ছেদ জানতে চেয়েছে। ২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
উল্লেখ্য, সংবিধানের বিধানকে ধারা নয়, অনুচ্ছেদ বলা হয়; প্রশ্নে ধারা শব্দটি প্রচলিত ভুল ব্যবহার।
পাশের অনুচ্ছেদগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন। ২৬ অনুচ্ছেদ বলে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ। ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগে সুযোগের সমতা।
ফাঁদ হলো ২৮ অনুচ্ছেদ, কারণ সেটিও সমতার কথা বলে। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে সমতা শব্দগুচ্ছ হুবহু আছে ২৭ অনুচ্ছেদে।
মনে রাখুন: ২৬ থেকে ২৯: বাতিল, সমতা, বৈষম্য নয়, চাকরিতে সমতা।
৪১৯. বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ, ২০১৬ অনুসারে বাংলাদেশের শিশু মৃত্যুর হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে) - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক২৬
- খ২৭
- গ২৯
- ঘ৩০
সঠিক উত্তর: গ. ২৯
প্রশ্নটা একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রকাশনার তথ্য জানতে চেয়েছে: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ অনুযায়ী শিশু মৃত্যুর হার। সেখানে এই হার ছিল প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ২৯ জন।
শিশু মৃত্যুর হার মানে এক বছরের কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা, প্রতি হাজার জীবিত জন্মের হিসাবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার আলাদা সূচক, যা সবসময় এর চেয়ে বেশি।
এই তথ্য আসে পরিসংখ্যান ব্যুরোর নমুনা ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন জরিপ থেকে, আর অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতি বছর বাজেটের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। তাই উত্তর নির্ভর করে কোন বছরের সমীক্ষা ধরা হয়েছে তার ওপর।
ফাঁদ হলো কাছাকাছি সংখ্যাগুলো। বছরের পর বছর হার কমছে বলে আগের বা পরের বছরের সংখ্যা মনে থাকলে ভুল হয়।
মনে রাখুন: পরিসংখ্যানের প্রশ্নে প্রকাশনার সাল খেয়াল করুন; ২০১৬ সালের সমীক্ষায় শিশু মৃত্যুর হার ২৯।
৪২০. ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা মেয়াদে প্রতিবছর বাংলাদেশের গড় প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৭.০০%
- খ৭.১২%
- গ৭.৩০%
- ঘ৭.৪০%
সঠিক উত্তর: ঘ. ৭.৪০%
প্রশ্নটা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা জানতে চেয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ মেয়াদের এই পরিকল্পনায় গড় বার্ষিক প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছিল ধাপে ধাপে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য: প্রথম বছরে ৭ শতাংশের কিছু বেশি থেকে শুরু করে শেষ বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ শতাংশে পৌঁছানো। পুরো মেয়াদের গড় দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রকৃত জিডিপি মানে মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে স্থির মূল্যে হিসাব করা উৎপাদন, তাই এটি অর্থনীতির আসল বৃদ্ধি দেখায়।
ফাঁদ হলো ৭ শতাংশ বেছে নেওয়া, কারণ প্রথম বছরের লক্ষ্য ছিল সাতের ঘরে। গড় লক্ষ্য আর প্রথম বছরের লক্ষ্য আলাদা।
মনে রাখুন: সপ্তমে সাত দশমিক চার: সাত আর চার মিলিয়ে মনে রাখুন।