বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২২
৪২১. ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৫.৯২%
- খ৬.০%
- গ৬.৪১%
- ঘ৬.৪৩%
সঠিক উত্তর: ক. ৫.৯২%
প্রশ্নটা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি জানতে চেয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে ওই অর্থবছরে বারো মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ, অর্থাৎ ছয় শতাংশের নিচে।
মূল্যস্ফীতি মাপা হয় ভোক্তা মূল্যসূচক দিয়ে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে পণ্য ও সেবা কেনে তার দাম গড়ে কত বেড়েছে। বার্ষিক গড় মানে বারো মাসের সূচকের গড় তুলনা, কোনো একটি মাসের হার নয়।
সংখ্যাটির মানে বুঝে নিন: আগের বছর যে পণ্য ও সেবার ঝুড়ি একশো টাকায় কেনা যেত, গড়ে তা কিনতে এ বছর লেগেছে প্রায় একশো পাঁচ টাকা বিরানব্বই পয়সা।
ফাঁদ হলো ৬ শতাংশ বা তার ওপরের সংখ্যাগুলো। অর্থবছরের গড় আর কোনো একটি মাসের বা আগের বছরের হার গুলিয়ে ফেললে এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছয়ের নিচে নেমেছিল; ছয়ের নিচের একমাত্র বিকল্পটিই উত্তর।
৪২২. বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কফার্নেস অয়েল
- খকয়লা
- গপ্রাকৃতিক গ্যাস
- ঘডিজেল
সঠিক উত্তর: গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রশ্নটা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি ছিল প্রাকৃতিক গ্যাস।
কারণ দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের মধ্যে গ্যাসই প্রধান। তিতাস, বিবিয়ানাসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাস তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসভিত্তিক করে গড়ে তোলা হয়।
ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল আমদানি করতে হয় এবং খরচ বেশি, তাই এগুলো মূলত ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত চালু করা কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়। কয়লার একমাত্র উল্লেখযোগ্য দেশীয় কেন্দ্র তখন বড়পুকুরিয়া।
ফাঁদ হলো ফার্নেস অয়েল বেছে নেওয়া, কারণ এটি দ্বিতীয় বড় উৎস ছিল। কিন্তু অংশে গ্যাস অনেক এগিয়ে।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, সার আর শিল্প: সবকিছুর প্রধান জ্বালানি গ্যাস।
৪২৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান মতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের মেয়াদকাল - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৩ বছর
- খ৪ বছর
- গ৫ বছর
- ঘ৬ বছর
সঠিক উত্তর: গ. ৫ বছর
প্রশ্নটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ জানতে চেয়েছে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর।
একই অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করে: দায়িত্ব পালনে কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবে। রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন।
সংবিধানের অনেক সাংবিধানিক পদের মেয়াদ পাঁচ বছর, যেমন সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ও মহা হিসাব-নিরীক্ষকের মেয়াদেও পাঁচ বছরের সীমা আছে। সংসদের মেয়াদও পাঁচ বছর।
অন্য সংখ্যাগুলো কাছাকাছি দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সংবিধানে তিন, চার বা ছয় বছরের কোনো মেয়াদ এই পদের জন্য নেই।
মনে রাখুন: সংসদ পাঁচ বছর, নির্বাচন কমিশনও পাঁচ বছর।
৪২৪. দেশের কোনো এলাকাতেই ভোটার হননি এমন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কনির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
- খআইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
- গসংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে প্রার্থী হতে পারবেন
- ঘকোনোক্রমেই প্রার্থী হতে পারবেন না
সঠিক উত্তর: ঘ. কোনোক্রমেই প্রার্থী হতে পারবেন না
প্রশ্নটা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে দেশের কোনো না কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হয়।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার মৌলিক যোগ্যতা বলা আছে: বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে পঁচিশ বছর বয়স। আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ যোগ করে ভোটার হওয়ার শর্ত।
এটি আইনের শর্ত, কারও অনুমতি বা ছাড়ের বিষয় নয়। তাই কোনো এলাকার ভোটার না হলে নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রণালয় বা দল কেউই তাকে প্রার্থী করতে পারে না।
ফাঁদ হলো নির্বাচন কমিশনের অনুমতি বিকল্প। কমিশন আইন প্রয়োগ করে, আইনের শর্ত মওকুফ করতে পারে না।
মনে রাখুন: ভোটার না হলে প্রার্থীও নয়: ভোট দেওয়ার যোগ্যতাই ভোট চাওয়ার প্রথম শর্ত।
৪২৫. কোনটি স্থানীয় সরকার নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপৌরসভা
- খপল্লী বিদ্যুৎ
- গসিটি কর্পোরেশন
- ঘউপজেলা পরিষদ
সঠিক উত্তর: খ. পল্লী বিদ্যুৎ
প্রশ্নটা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চিনতে চেয়েছে। স্থানীয় সরকার হলো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। পল্লী বিদ্যুৎ এমন নয়, তাই এটি স্থানীয় সরকার নয়।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি সরকারি সংস্থা, যা গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ করে; সমিতিগুলো এর অধীনে গ্রাহকদের সেবা দেয়। এর কাজ একটি নির্দিষ্ট সেবা দেওয়া, এলাকার সার্বিক প্রশাসন নয়।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের দুটি ধারা: গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ; শহরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন। এগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে নির্বাচিত প্রতিনিধি দিয়ে চলে।
ফাঁদ হলো পল্লী শব্দটি দেখে গ্রামীণ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মনে করা। নামে পল্লী থাকলেও এটি সেবা সংস্থা।
মনে রাখুন: জিজ্ঞেস করুন: এখানে কি জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচিত হন? না হলে সেটি স্থানীয় সরকার নয়।
৪২৬. আইন প্রণয়নের ক্ষমতা - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআইন মন্ত্রণালয়ের
- খরাষ্ট্রপতির
- গস্পীকারের
- ঘজাতীয় সংসদের
সঠিক উত্তর: ঘ. জাতীয় সংসদের
প্রশ্নটা রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার হাতে, তা জানতে চেয়েছে। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত।
রাষ্ট্রের তিন বিভাগ মনে রাখুন: আইনসভা আইন তৈরি করে, নির্বাহী বিভাগ আইন প্রয়োগ করে, বিচার বিভাগ আইন ব্যাখ্যা করে। বাংলাদেশের আইনসভা হলো এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সীমিত: সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি দেন, আর সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। সেই অধ্যাদেশও পরে সংসদে উপস্থাপন করতে হয়।
ফাঁদ হলো আইন মন্ত্রণালয়, কারণ নামের মধ্যে আইন আছে। মন্ত্রণালয় বিলের খসড়া তৈরি করতে পারে, কিন্তু আইন পাস করে সংসদ।
মনে রাখুন: আইন বানায় সংসদ, চালায় সরকার, ব্যাখ্যা করে আদালত।
৪২৭. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৩০ বছর
- খ৩৫ বছর
- গ৪০ বছর
- ঘ৪৫ বছর
সঠিক উত্তর: খ. ৩৫ বছর
প্রশ্নটা রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স জানতে চেয়েছে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়সী কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন।
একই অনুচ্ছেদে আরও দুটি শর্ত আছে: তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে, আর অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি অযোগ্য।
তুলনা করে মনে রাখুন: সংসদ সদস্য হতে ন্যূনতম বয়স পঁচিশ বছর, ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী; রাষ্ট্রপতি হতে তার চেয়ে দশ বছর বেশি, পঁয়ত্রিশ বছর।
ফাঁদ হলো ৩০ বা ৪০ বেছে নেওয়া। রাষ্ট্রপতির বয়সের শর্ত সংসদ সদস্যের চেয়ে ঠিক দশ বছর বেশি।
মনে রাখুন: সংসদ সদস্য পঁচিশ, রাষ্ট্রপতি পঁয়ত্রিশ: দশ বছরের ফারাক।
৪২৮. বাংলাদেশের জাতীয় আয় গণনায় দেশের অর্থনীতিকে ক’টি খাতে ভাগ করা হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১২
- খ১৩
- গ১৪
- ঘ১৫
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১৫। এখন: ২১টি খাত (ভিত্তিবছর ২০১৫-১৬, ২০২১ থেকে)।
প্রশ্নটা জাতীয় আয় হিসাবের খাত বিভাজন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে জাতীয় আয় হিসাব করত, আর সেখানে অর্থনীতিকে ১৫টি খাতে ভাগ করা হতো।
এই পনেরোটি খাতকে আবার তিনটি বৃহৎ খাতে সাজানো হয়: কৃষি, শিল্প ও সেবা। যেমন কৃষি ও বনজ, মৎস্য কৃষি খাতে; খনিজ, ম্যানুফ্যাকচারিং, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, নির্মাণ শিল্প খাতে; আর পাইকারি-খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন, ব্যাংক-বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সেবা খাতে।
খাতের সংখ্যা নির্ভর করে কোন ভিত্তিবছর ও কোন আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার হচ্ছে তার ওপর। পরে নতুন ভিত্তিবছরে খাতের সংখ্যা বদলেছে, তাই পরীক্ষার সময়ের হিসাবে উত্তর ১৫।
ফাঁদ হলো কাছাকাছি সংখ্যা ১৪ বা ১৩। তিন বৃহৎ খাতের ভেতরের উপখাতগুলো গুনতে গিয়ে ভুল হয়।
মনে রাখুন: পুরোনো ভিত্তিবছর ২০০৫-০৬ মানেই ১৫ খাত।
৪২৯. টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের পক্ষে কে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন ? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কমুশফিক
- খতামিম
- গসাব্বির
- ঘলিটন দাস
সঠিক উত্তর: ক. মুশফিক
প্রশ্নটা টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম দ্বিশতক জানতে চেয়েছে। ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার গলে মুশফিকুর রহিম ঠিক ২০০ রান করে এই কীর্তি গড়েন।
এরপর আরও কয়েকজন দ্বিশতক করেছেন। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ২০৬ রান করেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে সাকিব আল হাসান করেন ২১৭। মুশফিক পরে আরও দ্বিশতক করেছেন।
পরীক্ষার সময় পর্যন্ত সাব্বির রহমান বা লিটন দাস টেস্টে কোনো দ্বিশতক করেননি।
ফাঁদ হলো তামিম, কারণ তিনি ওপেনার হিসেবে বড় ইনিংসের জন্য পরিচিত। কিন্তু তামিমের দ্বিশতক মুশফিকের দুই বছর পরে।
মনে রাখুন: দ্বিশতকের ক্রম: মুশফিক, তামিম, সাকিব; অর্থাৎ ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭।
৪৩০. মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ক’টি জেলার সীমান্ত রয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক২টি
- খ৩টি
- গ৪টি
- ঘ৫টি
সঠিক উত্তর: খ. ৩টি
প্রশ্নটা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের মোট তিনটি জেলার সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত আছে: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
এই তিনটিই চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের জেলা। কক্সবাজারে নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমানা তৈরি করেছে, আর বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির সঙ্গে রয়েছে পাহাড়ি স্থলসীমান্ত।
রাঙ্গামাটি বিশেষ, কারণ এর সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার দুই দেশেরই সীমান্ত আছে।
ফাঁদ হলো খাগড়াছড়িকে ধরে চারটি গোনা। খাগড়াছড়ির সীমান্ত শুধু ভারতের সঙ্গে, মিয়ানমারের সঙ্গে নয়।
মনে রাখুন: মিয়ানমার সীমান্তে তিন জেলা: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
৪৩১. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১৯৯৩
- খ১৯৯৭
- গ১৯৯৯
- ঘ২০০১
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯৭
প্রশ্নটা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির সাল জানতে চেয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর।
চুক্তি হয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমার মধ্যে। এতে প্রায় দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে।
চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা পায়।
ফাঁদ হলো ১৯৯৯ বা ২০০১। ১৯৯৯ সালে আঞ্চলিক পরিষদ কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর ১৯৯৭ সালে।
মনে রাখুন: শান্তিচুক্তি: ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭, বিজয়ের মাসে শান্তি।
৪৩২. বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইটের নাম কী? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবিকন অন্বেষা
- খব্র্যাক অন্বেষা
- গনোয়া ১৮
- ঘনোয়া ১৯
সঠিক উত্তর: খ. ব্র্যাক অন্বেষা
প্রশ্নটা বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইটের নাম জানতে চেয়েছে। নামটি ব্র্যাক অন্বেষা, যা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহায়তায় তৈরি করেন।
২০১৭ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের রকেটে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়, পরে জুলাইয়ে সেখান থেকে কক্ষপথে ছাড়া হয়।
ন্যানো স্যাটেলাইট মানে খুব ছোট ও হালকা উপগ্রহ; অন্বেষা ছিল মাত্র এক কিলোগ্রামের মতো ওজনের একটি কিউবস্যাট। এটি দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে আলাদা, যা উৎক্ষেপিত হয় ২০১৮ সালে।
ফাঁদ হলো বিকন অন্বেষা, যেটি আসল নামের সঙ্গে মিল রেখে বানানো বিভ্রান্তিকর বিকল্প।
মনে রাখুন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি, তাই নামেও ব্র্যাক: ব্র্যাক অন্বেষা।
৪৩৩. বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্র সীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কPermanent Court of Justice
- খInternational Tribunal for the law of the Sea
- গInternational Court of Justice
- ঘPermanent Court of Arbitration
সঠিক উত্তর: খ. International Tribunal for the law of the Sea
প্রশ্নটা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ কোন আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি, বাংলায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল।
এই ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তর জার্মানির হামবুর্গে। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ এর রায়ে বিরোধপূর্ণ এলাকার বড় অংশ বাংলাদেশ পায়।
ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ আলাদা প্রতিষ্ঠানে নিষ্পত্তি হয়েছিল: নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিসি আদালত, ২০১৪ সালে।
ফাঁদ হলো দুই প্রতিবেশীর রায় গুলিয়ে ফেলা। মিয়ানমার মানে হামবুর্গের সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল, ভারত মানে হেগের স্থায়ী সালিসি আদালত।
মনে রাখুন: মিয়ানমার আগে, ২০১২, সমুদ্র ট্রাইব্যুনাল; ভারত পরে, ২০১৪, সালিসি আদালত।
৪৩৪. বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বাধিক পরিমাণ অর্থের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কভারত থেকে
- খচীন থেকে
- গজাপান থেকে
- ঘসিঙ্গাপুর থেকে
সঠিক উত্তর: খ. চীন থেকে
প্রশ্নটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি উৎস জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অর্থের পণ্য আমদানি করত চীন থেকে, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত।
চীন থেকে আসে তৈরি পোশাক শিল্পের কাপড় ও সুতা, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য, রাসায়নিক ইত্যাদি। পোশাক রপ্তানি যত বাড়ে, চীনা কাঁচামাল আমদানিও তত বাড়ে।
ভারত থেকে মূলত তুলা, খাদ্যশস্য, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য ও যানবাহন আসে; পরিমাণ বড় হলেও মোট মূল্যে চীনের নিচে।
ফাঁদ হলো ভারত, কারণ ভারত নিকটতম প্রতিবেশী ও বড় বাণিজ্য অংশীদার। মনে রাখুন, আমদানিতে চীন প্রথম আর রপ্তানিতে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।
মনে রাখুন: রপ্তানির বাজার পশ্চিমে, আমদানির উৎস চীনে।
৪৩৫. বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন মূল জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদ্রাবিড়
- খনেগ্রিটো
- গভোটচীন
- ঘঅষ্ট্রিক
সঠিক উত্তর: ঘ. অষ্ট্রিক
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠী থেকে এসেছে বলে ধরা হয়। অস্ট্রিকদের নিষাদ জাতিও বলা হয়।
বাঙালি একটি মিশ্র জাতি। অস্ট্রিকদের সঙ্গে পরে দ্রাবিড়, ভোটচীনীয় বা মঙ্গোলীয় এবং আর্যদের মিশ্রণ ঘটেছে। তবু ভিত্তি বা প্রধান অংশ অস্ট্রিক।
সাঁওতাল, মুন্ডা ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর ভাষা অস্ট্রিক ভাষা পরিবারের, আর বাংলা ভাষার অনেক দেশি শব্দও অস্ট্রিক উৎসের। এটি প্রাচীন অস্ট্রিক প্রভাবের একটি প্রমাণ।
ফাঁদ হলো দ্রাবিড় বিকল্পটি, কারণ দ্রাবিড় প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু প্রধান অংশ অস্ট্রিক।
মনে রাখুন: বাঙালির ভিত্তি অস্ট্রিক, বাকিরা পরে মিশেছে।
৪৩৬. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপুণ্ড্র
- খতাম্রলিপ্ত
- গগৌড়
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: ক. পুণ্ড্র
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ পুণ্ড্র। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়।
মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি বাংলার প্রাচীনতম লিপিগুলোর একটি; এখান থেকেই পুণ্ড্রের প্রাচীনত্বের প্রমাণ মেলে। পুণ্ড্র জনপদ মূলত উত্তরবঙ্গে।
তাম্রলিপ্ত ছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর অঞ্চলের প্রাচীন বন্দর। গৌড় পরবর্তী যুগে শক্তিশালী হয়, রাজা শশাঙ্কের সময়ে বিখ্যাত। হরিকেল পূর্ববঙ্গের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনপদ।
ফাঁদ হলো গৌড়, কারণ এটি বিখ্যাত ও বড় জনপদ। কিন্তু প্রাচীনত্বে পুণ্ড্র এগিয়ে।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম জনপদ পুণ্ড্র, প্রাচীনতম নগর মহাস্থানগড়।
৪৩৭. বাংলা (দেশ ও ভাষা) নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে সর্বাধিক উল্লেখিত হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলমগীরনামা
- খআইন-ই-আকবরী
- গআকবরনামা
- ঘতুজুক-ই-আকবরী
সঠিক উত্তর: খ. আইন-ই-আকবরী
বাংলা নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আবুল ফজলের আইন ই আকবরী গ্রন্থে।
আবুল ফজল লিখেছেন, প্রাচীন নাম বঙ্গ, আর এ অঞ্চলের মানুষ জমিতে আল বা বাঁধ দিত। বঙ্গ আর আল মিলে বাঙ্গালা নাম হয়েছে।
আইন ই আকবরী আসলে আকবরনামার তৃতীয় খণ্ড, যেখানে সম্রাট আকবরের সাম্রাজ্যের প্রশাসন, রাজস্ব ও অঞ্চলের বিবরণ আছে। আকবরনামার বাকি অংশ মূলত আকবরের রাজত্বের ইতিহাস।
আলমগীরনামা আওরঙ্গজেবের রাজত্বের ইতিহাস। তুজুক নামের আত্মজীবনী বিখ্যাত বাবর ও জাহাঙ্গীরের; আকবরের নামে এমন কোনো আত্মজীবনী নেই। ফাঁদ হলো আকবরনামা, কারণ লেখক একই আবুল ফজল।
মনে রাখুন: বঙ্গ যোগ আল সমান বাঙ্গালা: আইন ই আকবরী।
৪৩৮. ঢাকার লালবাগের দুর্গ নির্মাণ করেন : (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশাহ সুজা
- খশায়েস্তা খান
- গমীর জুমলা
- ঘসুবেদার ইসলাম খান
সঠিক উত্তর: খ. শায়েস্তা খান
লালবাগ দুর্গের নির্মাণ শুরু করেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম, ১৬৭৮ সালে। পরে সুবাদার শায়েস্তা খান কাজ চালিয়ে যান। বিকল্পের মধ্যে তাই শায়েস্তা খানই সঠিক।
শায়েস্তা খানের মেয়ে পরীবিবির মৃত্যুর পর তিনি দুর্গের কাজ বন্ধ করে দেন, তাই দুর্গটি অসমাপ্ত থেকে যায়। দুর্গের ভেতরে পরীবিবির সমাধি, দরবার হল ও মসজিদ আছে।
শাহ সুজার আমলে ঢাকায় বড় কাটরা নির্মিত হয়। মীর জুমলা আসাম অভিযান ও ঢাকার রাস্তা, সেতু ও ঢাকা গেটের জন্য পরিচিত। সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করে নাম দেন জাহাঙ্গীরনগর।
শাহজাদা আজম বিকল্পে নেই বলে এখানে শায়েস্তা খানই উত্তর; তাঁর আমলের সঙ্গেই দুর্গটি সবচেয়ে বেশি জড়িত।
মনে রাখুন: লালবাগ দুর্গ, পরীবিবি, শায়েস্তা খান: তিনটি একসাথে।
৪৩৯. বাংলার ‘ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ – এর সময় কাল: (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
- খ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
- গ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ
- ঘ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে। বাংলা সন অনুযায়ী সেটা ছিল ১১৭৬ সাল, তাই এর নাম ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
নামটা থেকেই হিসাব মেলে: বাংলা সনের সঙ্গে প্রায় ৫৯৪ বা ৫৯৩ যোগ করলে খ্রিস্টাব্দ পাওয়া যায়। ১১৭৬ এর সঙ্গে ৫৯৪ যোগ করলে ১৭৭০।
১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি পায়। খরার সঙ্গে কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায় মিলে এই দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়; বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায় বলে অনুমান করা হয়।
বিকল্পের ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন, ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ। এই পরিচিত সালগুলোই ফাঁদ।
মনে রাখুন: নামেই সাল: বাংলা ১১৭৬ যোগ ৫৯৪ সমান ১৭৭০।
৪৪০. সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
- খ২ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
- গ১৮ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
- ঘ২০ জানুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর: ক. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি। ঢাকা বার লাইব্রেরিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সভায় এটি গঠিত হয়; আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
এর কয়েক দিন আগে, ২৭ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টনে ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদেই সব দলকে নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়।
পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে, আর পরদিন তা ভেঙে মিছিল হলে গুলি চলে।
ফাঁদ হলো ২০ জানুয়ারি; তারিখ ও মাসের অঙ্ক মিলিয়ে বিভ্রান্ত করা। মনে রাখুন, নাজিমুদ্দিনের ঘোষণার পরেই পরিষদ, অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ দিন।
মনে রাখুন: নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা ২৭ জানুয়ারি, চার দিন পরে ৩১ জানুয়ারি পরিষদ।