বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২৫
৪৮১. বাংলাদেশে তৈরি জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ রপ্তানি হয়েছে- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কফিনল্যান্ড
- খডেনমার্কে
- গনরওয়েতে
- ঘসুইডেনে
সঠিক উত্তর: খ. ডেনমার্কে
স্টেলা মেরিস বাংলাদেশে তৈরি প্রথম রপ্তানিকৃত সমুদ্রগামী জাহাজ। আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড এটি তৈরি করে।
২০০৮ সালের ১৫ মে জাহাজটি ডেনমার্কের স্টেলা শিপিং কোম্পানির কাছে রপ্তানি করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখায়।
পরে একই ক্রেতার জন্য আনন্দ শিপইয়ার্ড স্টেলা মুন নামে আরেকটি জাহাজও তৈরি করে। জাহাজের নামের স্টেলা অংশটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মেলে, যা মনে রাখার সহজ সূত্র।
ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন সবই উত্তর ইউরোপের সমুদ্রনির্ভর দেশ, তাই বিকল্পগুলো কাছাকাছি মনে হয়। স্টেলা শিপিং ডেনমার্কের, এটুকু মনে রাখলেই হয়।
৪৮২. বেনাপোল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপেট্রাপোল
- খকৃষ্ণনগড়
- গডউকি
- ঘমোহাদিপুর
সঠিক উত্তর: ক. পেট্রাপোল
বেনাপোল যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর। এর ঠিক ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর।
ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে সড়কপথের প্রধান বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল এই জোড়া বন্দর দিয়েই হয়।
অন্য পরিচিত জোড়া: সিলেটের তামাবিলের বিপরীতে মেঘালয়ের ডাউকি, আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের মাহাদিপুর।
স্থলবন্দরের নাম জোড়ায় জোড়ায় মনে রাখতে হয়। ডাউকি ও মাহাদিপুরও সত্যিকারের ভারতীয় স্থলবন্দর, শুধু বেনাপোলের বিপরীতে নয়; এটাই এখানে ফাঁদ।
৪৮৩. বাংলাদেশে সরকারি EPZ সংখ্যা – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬টি
- খ৮টি
- গ১০টি
- ঘ১২টি
সঠিক উত্তর: খ. ৮টি
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড হলো রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধাযুক্ত এলাকা। সরকারি ইপিজেডগুলো পরিচালনা করে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা।
বেপজার অধীন ইপিজেড ৮টি: চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, কুমিল্লা, উত্তরা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী ও আদমজী। প্রথমটি চট্টগ্রাম ইপিজেড, ১৯৮৩ সালে চালু।
ঢাকা ইপিজেড সাভারে, উত্তরা ইপিজেড নীলফামারীতে, আর আদমজী ইপিজেড নারায়ণগঞ্জে, বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের জায়গায়।
বেসরকারি কোরিয়ান ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এ হিসাবের বাইরে। এগুলো যোগ করলে সংখ্যা বেড়ে যায় আর বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
৪৮৪. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কচীন
- খভারত
- গযুক্তরাজ্য
- ঘথাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর: ক. চীন
প্রশ্নের ভাষা খেয়াল করুন: বাংলাদেশে রপ্তানি করে, অর্থাৎ কোন দেশ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য পাঠায়। অন্যভাবে বললে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে কোন দেশ থেকে।
উত্তর চীন। যন্ত্রপাতি, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল যেমন কাপড় ও সুতা, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীন; দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত।
উল্টো দিকে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে, যা বিকল্পে নেই। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, আর জোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার।
প্রতিবেশী বলে অনেকে ভারত বেছে নেন; ভারত বড় আমদানি উৎস হলেও চীনের পরে। আর বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে, এই দুই কথার পার্থক্য না বুঝলেই ভুল হয়।
মনে রাখুন: প্রশ্নে বাংলাদেশে না বাংলাদেশ থেকে, সেটি আগে ঠিক করুন।
৪৮৫. বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করে – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কব্র্যাক ব্যাংক
- খডাচ-বাংলা ব্যাংক
- গএবি ব্যাংক
- ঘসোনালী ব্যাংক
সঠিক উত্তর: খ. ডাচ-বাংলা ব্যাংক
মোবাইল ব্যাংকিং মানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা পাঠানো, তোলা ও লেনদেনের সেবা। বাংলাদেশে প্রথম এ সেবা চালু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ২০১১ সালের মার্চে।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই সেবা এখন রকেট নামে পরিচিত। একই বছরের মাঝামাঝি ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ যাত্রা শুরু করে।
ব্যাংক হিসাব ছাড়াই গ্রামের মানুষকে আর্থিক সেবায় আনতে এ সেবা বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিকাশ সবচেয়ে জনপ্রিয় বলে অনেকে ব্র্যাক ব্যাংক বেছে নেন। কিন্তু বিকাশ চালু হয় ডাচ-বাংলার কয়েক মাস পরে।
৪৮৬. ট্যারিফ কমিশন কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবাণিজ্য মন্ত্রণালয়
- খঅর্থ মন্ত্রণালয়
- গপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
- ঘশিল্প মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর: ক. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এটি শুল্কহার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, ডাম্পিংবিরোধী ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়।
নামের ট্যারিফ বা শুল্ক অংশ দেখে অনেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ভাবেন। কিন্তু শুল্ক আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন; আর ট্যারিফ কমিশন কাজ করে বাণিজ্যনীতির দিক থেকে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আরও আছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।
শিল্প মন্ত্রণালয় দেশীয় শিল্পের প্রসার দেখে, তাই বিকল্পটি কাছাকাছি মনে হয়। তবে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির পরামর্শক এই কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন।
মনে রাখুন: শুল্ক আদায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে, শুল্কনীতির পরামর্শ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।
৪৮৭. বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপ্রথম
- খদ্বিতীয়
- গসপ্তম
- ঘঅষ্টম
সঠিক উত্তর: গ. সপ্তম
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয় সপ্তম জাতীয় সংসদে। সপ্তম সংসদের মেয়াদ ছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল।
সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালে বুধবারের প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত থাকে। এ সময় সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারেন।
ধারণাটি ব্রিটিশ সংসদের প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস থেকে এসেছে, যেখানেও বুধবার প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর দেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর থেকেই এটি চালু ছিল ভেবে ভুল হয়। আর অষ্টম সংসদ সপ্তমের ঠিক পরের, তাই সেটিও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
৪৮৮. মাত্র ১টি সংসদীয় আসন – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কলক্ষ্মীপুর জেলায়
- খমেহেরপুর জেলায়
- গঝালকাঠী জেলায়
- ঘরাঙামাটি জেলায়
সঠিক উত্তর: ঘ. রাঙামাটি জেলায়
জাতীয় সংসদের তিনশো আসন মূলত জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাগুলোতে ভাগ করা। কম জনসংখ্যার জেলায় আসন কম, আর তিন পার্বত্য জেলায় একটি করে আসন।
রাঙামাটি জেলায় একটিই আসন, যার নম্বর ২৯৯। খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আর বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসন।
অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে মেহেরপুর ও ঝালকাঠিতে দুটি করে আসন, আর লক্ষ্মীপুরে চারটি আসন।
মেহেরপুর দেশের ছোট জেলাগুলোর একটি, তাই অনেকে সেখানে একটি আসন ভাবেন। কিন্তু মেহেরপুরে মেহেরপুর এক ও মেহেরপুর দুই নামে দুটি আসন আছে।
মনে রাখুন: একটি আসনের জেলা মানেই তিন পার্বত্য জেলা: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান।
৪৮৯. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলমগীর কবির
- খখান আতাউর রহমান
- গহুমায়ূন আহমেদ
- ঘসুভাষ দত্ত
সঠিক উত্তর: ক. আলমগীর কবির
ধীরে বহে মেঘনা ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, এর পরিচালক আলমগীর কবির। প্রামাণ্যচিত্র ও কাহিনির মিশেলে তৈরি এ ছবি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাষী নজরুল ইসলামের ওরা এগারো জন, ১৯৭২ সালে।
অন্য বিকল্পের পরিচালকদেরও মুক্তিযুদ্ধের ছবি আছে: খান আতাউর রহমানের আবার তোরা মানুষ হ, সুভাষ দত্তের অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, আর হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি।
সবাই মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানিয়েছেন বলে শুধু বিষয় দিয়ে উত্তর মেলানো যায় না। ছবির নাম ও পরিচালক জোড়ায় মনে রাখতে হয়।
৪৯০. জাতীয় সংসদে ‘কাস্টিং’ ভোট কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসংসদ নেতার ভোট
- খহুইপের ভোট
- গস্পিকারের ভোট
- ঘরাষ্ট্রপতির ভোট
সঠিক উত্তর: গ. স্পিকারের ভোট
সংসদে কোনো প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে সিদ্ধান্ত আটকে যায়। তখন সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি, সাধারণত স্পিকার, যে নির্ণায়ক ভোট দেন তাকে কাস্টিং ভোট বলে।
সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদে এ বিধান আছে। সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি সাধারণ অবস্থায় ভোট দেন না; শুধু সমতা হলে কাস্টিং ভোট দেন, যাতে তাঁর নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
সংসদ নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী, আর হুইপ দলের সদস্যদের শৃঙ্খলা ও উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য নন, তাই সংসদের ভোটাভুটিতে অংশ নেন না।
নির্ণায়ক ভোট শুনে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির কথা মনে আসে, তাই কেউ রাষ্ট্রপতি বা সংসদ নেতা বেছে নেন। কিন্তু ভোটের সমতা ভাঙেন সভার সভাপতি, অর্থাৎ স্পিকার।
৪৯১. NILG এর পূর্ণরূপ- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কNational Information Legal Guide
- খNational Institute Local Government
- গNational Identity Licence Guide
- ঘNational Industrial League Group
সঠিক উত্তর: খ. National Institute Local Government
এনআইএলজি মানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লোকাল গভর্নমেন্ট, বাংলায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট।
প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।
সংক্ষিপ্ত রূপের প্রশ্নে প্রতিটি অক্ষর মিলিয়ে দেখা কাজের কৌশল: এন মানে ন্যাশনাল, আই মানে ইনস্টিটিউট, এল মানে লোকাল, জি মানে গভর্নমেন্ট।
অন্য বিকল্পগুলোও একই চার অক্ষর দিয়ে বানানো, তাই শুধু অক্ষর মেলালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানটির কাজ জানলেই সঠিক পূর্ণরূপ চেনা যায়।
৪৯২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২৬
- খ২৭
- গ২৮
- ঘ৩১
সঠিক উত্তর: ক. ২৬
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ২৭। এখন: ২৬টি (২০১৮ থেকে)।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস বিভিন্ন ক্যাডারে বিভক্ত, যেমন প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। পরীক্ষার সময়, ২০১৬ সালে, ক্যাডারের সংখ্যা ছিল ২৭টি।
২০১৮ সালে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ফলে ক্যাডারের সংখ্যা কমে ২৬টি হয়।
এখনকার বইয়ে তাই ২৬ লেখা থাকে, আর সেটি দেখেই কিছু গাইড এ প্রশ্নের উত্তর ২৬ দিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার সময়ের সঠিক উত্তর ২৭।
সময়নির্ভর প্রশ্নে সবসময় পরীক্ষার বছর মাথায় রাখুন। বর্তমান সংখ্যা দিয়ে পুরোনো প্রশ্নের উত্তর দিলে ভুল হয়।
৪৯৩. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ আছে- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৩০
- খ১৩১
- গ১৩৭
- ঘ১৪০
সঠিক উত্তর: গ. ১৩৭
সংবিধানের নবম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কিত বিধান আছে। এর প্রথম অনুচ্ছেদ ১৩৭, যেখানে কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
পরের অনুচ্ছেদগুলো ক্রমানুসারে: ১৩৮ সদস্য নিয়োগ, ১৩৯ পদের মেয়াদ, ১৪০ কমিশনের দায়িত্ব, আর ১৪১ বার্ষিক রিপোর্ট।
অষ্টম ভাগের ১২৭ থেকে ১৩২ অনুচ্ছেদ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সম্পর্কিত; ১৩০ ও ১৩১ সেই অংশের।
১৪০ বিকল্পটি সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর, কারণ সেখানেও কমিশনের কথা আছে। কিন্তু ১৪০ অনুচ্ছেদ কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে, প্রতিষ্ঠা নিয়ে নয়।
৪৯৪. বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম অনারব মুসলিম দেশ কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসেনেগাল
- খমালয়েশিয়া
- গমালদ্বীপ
- ঘপাকিস্তান
সঠিক উত্তর: ক. সেনেগাল
প্রশ্নটি দুটি শর্ত দিয়েছে: দেশটি মুসলিমপ্রধান, কিন্তু আরব নয়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী এ দুই শর্ত পূরণ করা প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশ পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, যা আফ্রিকার প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশও।
প্রচলিত হিসাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার স্বীকৃতি আসে সেনেগালের পরে। আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ইরাক, আর পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৪ সালে, লাহোরে ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনের সময়।
স্বীকৃতির প্রশ্নে বিভাগ অনুযায়ী প্রথম দেশগুলো মনে রাখুন: সব মিলিয়ে প্রথম ভুটান, ইউরোপে পূর্ব জার্মানি, আফ্রিকায় ও অনারব মুসলিম দেশে সেনেগাল, আরবে ইরাক।
মালয়েশিয়া এশিয়ার মুসলিম দেশ বলে অনেকে সেটি বেছে নেন। পাকিস্তান বেছে নেওয়াও ভুল, কারণ দেশটি স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক পরে।
মনে রাখুন: প্রথম ভুটান, ইউরোপে পূর্ব জার্মানি, আফ্রিকা ও অনারব মুসলিমে সেনেগাল, আরবে ইরাক।
৪৯৫. বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবীর প্রতীক
- খবীরশ্রেষ্ঠ
- গবীর উত্তম
- ঘবীর বিক্রম
সঠিক উত্তর: ঘ. বীর বিক্রম
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য চারটি খেতাব দেওয়া হয়। মর্যাদার ক্রম অনুযায়ী এগুলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
তাই তৃতীয় খেতাব বীর বিক্রম। খেতাবগুলো ১৯৭৩ সালে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন সাতজন, সবাই শহীদ। বাকি তিন খেতাবের প্রাপক অনেক বেশি, এবং তাঁদের মধ্যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাও আছেন।
বীর প্রতীক ও বীর বিক্রমের ক্রম গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল। মনে রাখুন, বীর প্রতীক সবার শেষে, চতুর্থ।
৪৯৬. ক্রিকেটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায়- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৯৭ সালে
- খ১৯৯৯ সালে
- গ২০০১ সালে
- ঘ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর: ঘ. ২০০০ সালে
প্রশ্নটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাইলফলকের সাল জানতে চেয়েছে। ২০০০ সালের ২৬ জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশকে পূর্ণ সদস্যপদ দেয়, ফলে বাংলাদেশ দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হয়।
মর্যাদা পাওয়ার কয়েক মাস পরে, ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ তার অভিষেক টেস্ট খেলে।
এর আগের ধাপগুলো মনে রাখলে বিকল্পগুলো সহজে আলাদা করা যায়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশ ওয়ানডে মর্যাদা পায়, আর ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলে।
সাধারণ ফাঁদ হলো ১৯৯৭ বা ১৯৯৯ বেছে নেওয়া, কারণ ওই দুই বছরের সাফল্যই টেস্ট মর্যাদার পথ খুলে দিয়েছিল; কিন্তু মর্যাদা এসেছে ২০০০ সালে।
মনে রাখুন: সাতানব্বইয়ে ওয়ানডে, নিরানব্বইয়ে প্রথম বিশ্বকাপ, দুই হাজারে টেস্ট: তিন ধাপ মনে রাখলেই সাল গুলিয়ে যায় না।
৪৯৭. বাগদা চিংড়ি কোন দশক থেকে রপ্তানি পণ্য হিসেবে স্থান করে নেয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপঞ্চাশ দশক
- খষাট দশক
- গসত্তর দশক
- ঘআশির দশক
সঠিক উত্তর: ঘ. আশির দশক
বাগদা চিংড়ি আশির দশক থেকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়। প্রচলিত উত্তর তাই আশির দশক।
সত্তরের দশকে সামান্য পরিমাণ চিংড়ি রপ্তানি হলেও তখন চাষ ছিল অল্প। আশির দশকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লোনা পানির জমিতে ঘের করে বাগদা চাষ দ্রুত বাড়ে, আর রপ্তানিও বড় আকার নেয়।
বাগদা লোনা পানির চিংড়ি, আর গলদা মিঠা পানির। দুটিই রপ্তানি হয়, তবে রপ্তানিতে বাগদার অংশ বেশি। চিংড়িকে তাই সাদা সোনা বলা হয়।
ফাঁদ হলো সত্তরের দশক, কারণ তখনই অল্প রপ্তানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় আশির দশকে।
মনে রাখুন: চিংড়ি রপ্তানির উত্থান মানেই আশির দশক।
৪৯৮. বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক১১০
- খ১১৫
- গ১১৭
- ঘ১২০
সঠিক উত্তর: গ. ১১৭
সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান আছে। সরকারি কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, পদোন্নতি বা শাস্তি নিয়ে বিরোধ এই ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়।
সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ বিচার বিভাগ নিয়ে। এর মধ্যে ১১০ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর, আর ১১৫ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতে নিয়োগের কথা আছে।
এর ঠিক পরের সপ্তম ভাগ নির্বাচন নিয়ে। ১২০ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী সম্পর্কিত।
ফাঁদ হলো ১১৫, কারণ এটিও বিচার ও নিয়োগ সংক্রান্ত। কিন্তু প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আলাদাভাবে ১১৭ অনুচ্ছেদে।
মনে রাখুন: এক এক সাত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল।
৪৯৯. বাংলাদেশে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা - – (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক২৫
- খ২৬
- গ২৭
- ঘ৪১
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪১। এখন: ৫০টি অনুমোদিত (৩৬টি সম্প্রচারে, অক্টোবর ২০২৫)।
প্রশ্নের সময় প্রচলিত উত্তর ছিল ৪১। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন দশটি চ্যানেলের অনুমোদনের পর দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১টি।
অনুমোদন পাওয়া চ্যানেল আর সম্প্রচারে থাকা চ্যানেলের সংখ্যা এক নয়। তখন সম্প্রচারে ছিল ২২টি চ্যানেল; অনুমোদনের পর সম্প্রচারে আসতে সময় লাগে, কিছু চ্যানেল তরঙ্গ বরাদ্দই পায়নি।
বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলা, ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে। এরপর গত দুই দশকে চ্যানেলের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, তাই এই তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলায়।
এ ধরনের প্রশ্নে সম্প্রচারে থাকা চ্যানেলের ছোট সংখ্যাগুলো বিভ্রান্ত করে; প্রচলিত উত্তর অনুমোদিত চ্যানেলের সংখ্যা।
মনে রাখুন: সংখ্যার প্রশ্নে অনুমোদিত চ্যানেল ধরা হয়েছে, সম্প্রচারে থাকা নয়।
৫০০. চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঅতীশ দিপঙ্কর
- খশিলভদ্র
- গমা হুয়ান
- ঘমেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর: খ. শিলভদ্র
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের দীক্ষাগুরু ছিলেন শীলভদ্র। সাত শতকে হিউয়েন সাঙ নালন্দা মহাবিহারে তাঁর কাছে বৌদ্ধ দর্শন শিক্ষা নেন।
শীলভদ্র ছিলেন বাঙালি, সমতট অঞ্চলের, অর্থাৎ আজকের কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ। তিনি নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন, তাই একে বাংলার গৌরব হিসেবে পড়ানো হয়।
অতীশ দীপঙ্কর বিক্রমপুরের মানুষ, কিন্তু তিনি হিউয়েন সাঙের প্রায় চারশো বছর পরের, এগারো শতকের পণ্ডিত। মা হুয়ান পনেরো শতকের চীনা পর্যটক, আর মেগাস্থিনিস খ্রিস্টপূর্ব যুগে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে গ্রিক দূত।
ফাঁদ হলো অতীশ দীপঙ্কর, কারণ তিনিও বিখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত। কিন্তু সময় মেলে না।
মনে রাখুন: হিউয়েন সাঙ আর শীলভদ্র দুজনেই সাত শতকের, দুজনকে মেলায় নালন্দা।