বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২৬
৫০১. বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা কত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৪৫০০
- খ৪৫৫০
- গ৫৬০০
- ঘ৪৬০০
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪৫৫০। এখন: ৪,৫৮৫টি (২০২২)।
প্রশ্নের সময় বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ছিল সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি। বিকল্পের মধ্যে ৪৫৫০ সেই সংখ্যার সবচেয়ে কাছে, তাই এটিই উত্তর।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে নিচের স্তর। কয়েকটি ইউনিয়ন মিলে উপজেলা, কয়েকটি উপজেলা মিলে জেলা।
নতুন ইউনিয়ন গঠন বা কোনো ইউনিয়ন পৌরসভার অংশ হয়ে গেলে সংখ্যা বদলায়। তাই এই তথ্যটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল।
৫৬০০ অনেক বেশি, আর ৪৫০০ বা ৪৬০০ মোটামুটি কাছাকাছি হলেও প্রচলিত উত্তর থেকে দূরে। কাছাকাছি সংখ্যাগুলোই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: জেলা ৬৪, ইউনিয়ন সাড়ে চার হাজারের ঘরে।
৫০২. মহাস্থবীর শিলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআনন্দ বিহার
- খনালন্দা বিহার
- গগোসিপো বিহার
- ঘসোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর: খ. নালন্দা বিহার
মহাস্থবির শীলভদ্র ছিলেন নালন্দা মহাবিহারের আচার্য বা অধ্যক্ষ। নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র, আজকের ভারতের বিহার রাজ্যে।
শীলভদ্র সমতটের, অর্থাৎ কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ ছিলেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ নালন্দায় তাঁর কাছেই শিক্ষা নেন।
সোমপুর মহাবিহার নওগাঁর পাহাড়পুরে, আট শতকে পাল রাজা ধর্মপাল এটি প্রতিষ্ঠা করেন; শীলভদ্রের সময়ের পরে। আনন্দ বিহার কুমিল্লার ময়নামতিতে, দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের সময়ের।
ফাঁদ হলো সোমপুর বিহার, কারণ এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বিহার। কিন্তু শীলভদ্রের কর্মস্থল ছিল নালন্দা।
মনে রাখুন: শীলভদ্র আর হিউয়েন সাঙের প্রশ্নে উত্তর প্রায় সবসময় নালন্দা।
৫০৩. খাসিয়া গ্রামগুলো কি নামে পরিচিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবারাং
- খপাড়া
- গপুঞ্জি
- ঘমৌজা
সঠিক উত্তর: গ. পুঞ্জি
খাসিয়া জনগোষ্ঠীর গ্রামকে পুঞ্জি বলা হয়। বাংলাদেশে খাসিয়ারা মূলত সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকায় বাস করে।
খাসিয়ারা পান চাষের জন্য পরিচিত; পাহাড়ে বড় গাছের গায়ে পান লতা তুলে চাষ করে। তাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, সম্পত্তি ও বংশপরিচয় মায়ের দিক থেকে চলে।
মৌজা হলো ভূমি রাজস্বের একটি প্রশাসনিক একক, কোনো জনগোষ্ঠীর গ্রামের নাম নয়। পাড়া বাংলা শব্দ, গ্রামের একটি অংশ বোঝায়।
ফাঁদ হলো পাড়া, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জনগোষ্ঠীর গ্রামকে পাড়া বলা হয়। খাসিয়াদের ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ পুঞ্জি।
মনে রাখুন: খাসিয়া, পান, পুঞ্জি: তিনটি একসাথে মনে রাখুন।
৫০৪. নিচের কোন ব্যবস্থাটি ভারত উপমহাদেশে লর্ড ক্যানিং প্রথম চালু করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কচিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
- খদ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- গসতীদাহ নিবারণ ব্যবস্থা
- ঘপুলিশ ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: ঘ. পুলিশ ব্যবস্থা
লর্ড ক্যানিংয়ের সময়ে ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়। এই আইনের কাঠামো বহু দিন ধরে চলেছে।
ক্যানিং ছিলেন সিপাহি বিদ্রোহের সময়ের গভর্নর জেনারেল এবং ব্রিটিশ রাজের প্রথম ভাইসরয়। বিদ্রোহের পর শাসন শক্ত করতেই নতুন পুলিশ ব্যবস্থা ও দণ্ডবিধির মতো আইন আসে।
বাকি তিনটি ব্যবস্থা অন্যদের: দ্বৈত শাসন রবার্ট ক্লাইভ, ১৭৬৫ সালে; চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৯৩ সালে; সতীদাহ নিবারণ লর্ড বেন্টিঙ্ক, ১৮২৯ সালে।
শাসক ও সংস্কার জোড়া করে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজে মিলে যায়।
মনে রাখুন: ক্লাইভ দ্বৈত শাসন, কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী, বেন্টিঙ্ক সতীদাহ, ক্যানিং পুলিশ।
৫০৫. ১৯ মে ২০১২ তারিখে কোন বাংলাদেশী এভারেস্ট জয় করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কওয়াসফিয়া নাজনীন
- খমুসা ইব্রাহিম
- গএম. এ. মুহিত
- ঘনিশাত মজুমদার
সঠিক উত্তর: ঘ. নিশাত মজুমদার
২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদার এভারেস্ট জয় করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী এভারেস্টজয়ী।
একই দিনে এম এ মুহিতও দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। তবে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর নিশাত মজুমদার, কারণ সেই দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল প্রথম বাংলাদেশি নারীর এভারেস্ট জয়।
প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহিম, ২০১০ সালের মে মাসে। ওয়াসফিয়া নাজনীন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ওঠেন একই বছরের ২৬ মে, নিশাতের এক সপ্তাহ পরে।
ফাঁদ হলো ওয়াসফিয়া নাজনীন, কারণ তিনিও ২০১২ সালের মে মাসে এভারেস্টে ওঠেন। তারিখটাই এখানে পার্থক্য গড়ে দেয়।
মনে রাখুন: উনিশে নিশাত, ছাব্বিশে ওয়াসফিয়া।
৫০৬. পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি কে উত্থাপন করেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআব্দুল মতিন
- খধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- গশেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
- ঘহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: খ. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি তোলেন। গণপরিষদে বাংলার পক্ষে এটিই প্রথম দাবি।
তিনি যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের ভাষা বাংলা, তাই উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাও ব্যবহার করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের সদস্যরা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।
এই প্রত্যাখ্যানের খবর পূর্ব বাংলায় পৌঁছালে ভাষা আন্দোলন জোরালো হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যা করে।
আবদুল মতিন ভাষা আন্দোলনের রাজপথের নেতা, ভাষা মতিন নামে পরিচিত, কিন্তু তিনি গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না। প্রশ্নের চাবি শব্দ গণপরিষদের অধিবেশন।
মনে রাখুন: গণপরিষদে প্রথম বাংলার দাবি: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ১৯৪৮।
৫০৭. বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘ তিন কন্যা’ এর চিত্রকর কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কজয়নুল আবেদিন
- খকামরুল হাসান
- গএস এম সুলতান
- ঘরফিকুন্নবী
সঠিক উত্তর: খ. কামরুল হাসান
তিন কন্যা পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত চিত্রকর্ম। লোকশিল্পের পটচিত্রের ঢঙে আঁকা এই ছবি তাঁর শিল্পরীতির পরিচিত উদাহরণ।
কামরুল হাসানকে পটুয়া বলা হয় কারণ তিনি গ্রামীণ পটচিত্র ও লোকশিল্পের ধারা আধুনিক চিত্রে নিয়ে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াহিয়া খানের মুখ নিয়ে আঁকা পোস্টার এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাজ।
জয়নুল আবেদিন বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের চিত্রমালার জন্য, এস এম সুলতান পেশিবহুল কৃষকের ছবির জন্য, আর রফিকুন্নবী টোকাই কার্টুনের জন্য।
শিল্পী আর তাঁর পরিচিত কাজ জোড়া করে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়।
মনে রাখুন: পটুয়া কামরুলের পটে তিন কন্যা।
৫০৮. বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০০৯ অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৭তম
- খ৮তম
- গ৯তম
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ৭তম
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০০৯ অনুযায়ী জনসংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম ছিল।
তখন বাংলাদেশের আগে ছিল চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও পাকিস্তান। বাংলাদেশের ঠিক পরে ছিল নাইজেরিয়া।
নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, তাই পরে নাইজেরিয়া বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়। এ কারণে এই ধরনের প্রশ্নে কোন বছরের প্রতিবেদন, তা খেয়াল করা জরুরি।
ফাঁদ হলো অষ্টম, কারণ পরের বছরগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম হিসেবে বেশি শোনা যায়।
মনে রাখুন: পুরোনো প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সপ্তম, নাইজেরিয়া এগোনোর পর অষ্টম।
৫০৯. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪ অনুযায়ী গড় সাক্ষরতার হার - – (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৬১.১%
- খ৫৭.৯%
- গ৫৬.৮%
- ঘ৬৫.৫%
সঠিক উত্তর: খ. ৫৭.৯%
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৪ অনুযায়ী দেশের গড় সাক্ষরতার হার ধরা হয়েছিল ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর এটিই।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতি বছর বাজেটের সময় অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয় ইত্যাদি সূচকের সর্বশেষ তথ্য থাকে।
সাক্ষরতার হার কোন বয়সের মানুষ ধরে মাপা হয়েছে আর কোন জরিপ থেকে নেওয়া, তার উপর সংখ্যা বদলায়। তাই এ ধরনের প্রশ্নে কোন সালের কোন উৎস, তা মিলিয়ে উত্তর দিতে হয়।
কাছাকাছি সংখ্যাগুলোই ফাঁদ; উৎস ও সাল মনে রাখাই এখানে একমাত্র উপায়।
মনে রাখুন: সংখ্যার প্রশ্নে উৎস আর সাল একসাথে মনে রাখুন।
৫১০. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- খকর্নেল শফিউল্লাহ
- গজেনারেল এম. এ. জি ওসমানী
- ঘমেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বলা হয়, আর রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বাধিনায়ক আর প্রধান সেনাপতি আলাদা পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনী পরিচালনার দায়িত্বে প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
ফাঁদ হলো ওসমানী বিকল্পটি। সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপ্রধানের পদ, প্রধান সেনাপতি সামরিক পদ।
মনে রাখুন: সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু, প্রধান সেনাপতি ওসমানী।
৫১১. ‘বর্ণালী’ এবং ‘শুভ্র’ কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কউন্নত জাতের ভুট্টা
- খউন্নত জাতের আম
- গউন্নত জাতের গম
- ঘউন্নত জাতের চাল
সঠিক উত্তর: ক. উন্নত জাতের ভুট্টা
বর্ণালী ও শুভ্র বাংলাদেশে চাষ হওয়া উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই জাতগুলো চাষের জন্য দিয়েছে।
বাংলাদেশে প্রচলিত উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাতের মধ্যে আছে বর্ণালী, শুভ্র, মোহর, খইভুট্টা ইত্যাদি। নামগুলো দানার রং বা ধরন থেকে এসেছে; যেমন শুভ্র মানে সাদা।
ধানের জাতের নাম সাধারণত ব্রি ধান সংখ্যা দিয়ে, গমের জাত বারি গম সংখ্যা দিয়ে, আর আমের জাত বারি আম সংখ্যা দিয়ে পরিচিত। বর্ণালী বা শুভ্র নামে কোনো প্রচলিত ধান, গম বা আমের জাত নেই।
নাম শুনে আম বা চাল ভাবা স্বাভাবিক, এটাই ফাঁদ। ফসলের জাতের প্রশ্নে বর্ণালী, শুভ্র, মোহর দেখলে ভুট্টা মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বর্ণালী, শুভ্র, মোহর: তিনটিই ভুট্টা।
৫১২. ‘Making of a Nation Bangladesh’ গ্রন্থের রচয়িতা কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককামাল হোসেন
- খএস. এ. করিম
- গনুরুল ইসলাম
- ঘআনিসুর রহমান
সঠিক উত্তর: গ. নুরুল ইসলাম
মেকিং অব আ নেশন, বাংলাদেশ গ্রন্থের লেখক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। বইটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়, এর উপশিরোনাম একজন অর্থনীতিবিদের কাহিনি।
নুরুল ইসলাম স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন। বইটিতে নতুন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণের অভিজ্ঞতা লেখা আছে।
কামাল হোসেন ছিলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও প্রথম আইনমন্ত্রী। এস এ করিম কূটনীতিক, বঙ্গবন্ধুর জীবনী লিখেছেন। আনিসুর রহমানও অর্থনীতিবিদ ও প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন, তবে এই বইয়ের লেখক নন।
ফাঁদ হলো আনিসুর রহমান, কারণ তিনিও একই কমিশনের অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
মনে রাখুন: জাতি গঠনের পরিকল্পনা যিনি করেছেন, বইও তাঁর: নুরুল ইসলাম।
৫১৩. জীবনঢুলী কি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কএকটি উপন্যাসের নাম
- খএকটি কাব্যগ্রন্থের নাম
- গএকটি আত্মজীবনীর নাম
- ঘএকটি চলচ্চিত্রের নাম
সঠিক উত্তর: ঘ. একটি চলচ্চিত্রের নাম
জীবনঢুলী একটি চলচ্চিত্র, পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল। ছবিটি ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়।
ছবির কাহিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জীবনকৃষ্ণ দাস নামের একজন ঢুলী বা ঢাকবাদককে ঘিরে, যিনি নিচু বর্ণের হিন্দু হিসেবে সমাজে অবহেলিত। যুদ্ধের দিনে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও প্রতিরোধ ছবিতে ফুটে উঠেছে।
তানভীর মোকাম্মেলের অন্য পরিচিত ছবির মধ্যে আছে চিত্রা নদীর পারে ও লালসালু। প্রশ্নটি পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ের মুক্তি পাওয়া ছবি থেকে এসেছে।
নামের শুরুতে জীবন শব্দ থাকায় অনেকে আত্মজীবনী বা উপন্যাস ভাবেন; এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: তানভীর মোকাম্মেলের মুক্তিযুদ্ধের ছবি: জীবনঢুলী।
৫১৪. বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে কোন ক্রিকেটার পাঁচ উইকেট পেয়েছেন? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসোহাগ গাজী
- খরুবেল হোসেন
- গতাইজুল ইসলাম
- ঘতাসকিন আহমেদ
সঠিক উত্তর: ঘ. তাসকিন আহমেদ
তাসকিন আহমেদ ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট নেন। অভিষেকে এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরল।
ম্যাচটি হয়েছিল ঢাকার মিরপুরে, জুন মাসে। ফাস্ট বোলার তাসকিন তখন মাত্র উনিশ বছরের তরুণ।
তাইজুল ইসলামও ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকে নজর কাড়েন, তবে তাঁর কৃতিত্ব হ্যাটট্রিক, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা তিনিই প্রথম বোলার।
সোহাগ গাজী টেস্টে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের জন্য বিখ্যাত। অভিষেকের রেকর্ড শুনলেই তাইজুল মনে পড়ে, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: অভিষেকে পাঁচ তাসকিন, অভিষেকে হ্যাটট্রিক তাইজুল।
৫১৫. পরিকল্পনা কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কোন মেয়াদে হবে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক২০১৫-২০১৯
- খ২০১৬-২০২০
- গ২০১৭-২০২১
- ঘ২০১৮-২০২২
সঠিক উত্তর: খ. ২০১৬-২০২০
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০২০, অর্থাৎ ২০১৫ ও ২০১৬ এর অর্থবছর থেকে ২০১৯ ও ২০২০ এর অর্থবছর পর্যন্ত।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পাঁচ বছরের, আর আগেরটি শেষ হলে পরেরটি শুরু হয়। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ছিল ২০১১ থেকে ২০১৫, তাই সপ্তমটি ২০১৬ থেকে ২০২০।
এর পরের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০২১ থেকে ২০২৫। এভাবে পাঁচ যোগ করে ক্রম মিলিয়ে নিলে সহজেই উত্তর পাওয়া যায়।
ফাঁদ হলো ২০১৫ থেকে ২০১৯, কারণ পরিকল্পনা শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে। কিন্তু মেয়াদ গণনায় ধরা হয় ২০১৬ থেকে ২০২০।
মনে রাখুন: ষষ্ঠ শেষ ২০১৫, তাই সপ্তম ২০১৬ থেকে ২০২০।
৫১৬. বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া কি নামে পরিচিতি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককুষ্টিয়া গ্রেড
- খচুয়াডাঙ্গা গ্রেড
- গঝিনাইদহ গ্রেড
- ঘমেহেরপুর গ্রেড
সঠিক উত্তর: ক. কুষ্টিয়া গ্রেড
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া বিশ্ববাজারে কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত। এই চামড়া পাতলা, মসৃণ ও টেকসই, তাই দামি চামড়াজাত পণ্যে চাহিদা বেশি।
ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশের দেশি জাতের ছাগল, বিশেষ করে কুষ্টিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে বেশি পালন হয়। সেই অঞ্চলের নামেই চামড়ার মান চিহ্নিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর কুষ্টিয়ার প্রতিবেশী জেলা, সেখানেও এই ছাগল পালন হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে নামটি কুষ্টিয়া গ্রেড।
প্রতিবেশী জেলার নাম দিয়ে বিভ্রান্ত করাই এই প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: কালো ছাগলের চামড়া মানেই কুষ্টিয়া গ্রেড।
৫১৭. কোন বিখ্যাত ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি (Poet of Politics) আখ্যা দিয়েছিল? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কটাইম
- খইকোনোমিস্ট
- গনিউজ উইক্স
- ঘইকোনোমিক এন্ড পলিটিক্যাল উইক্লি
সঠিক উত্তর: গ. নিউজ উইক্স
মার্কিন সাপ্তাহিক সাময়িকী নিউজউইক ১৯৭১ সালের এপ্রিলে বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি বা পোয়েট অব পলিটিক্স আখ্যা দেয়।
৭ মার্চের ভাষণসহ বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার আবেগ ও মানুষকে জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা দেখেই এই উপাধি। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ঘটনা গুরুত্ব পেতে থাকে, এই প্রতিবেদন তারই অংশ।
টাইম ও দি ইকোনমিস্টও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে, আর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি ভারতের একটি গবেষণাধর্মী সাময়িকী। কিন্তু রাজনীতির কবি উপাধিটি নিউজউইকের।
ফাঁদ হলো টাইম ম্যাগাজিন, কারণ এটিই সবচেয়ে পরিচিত মার্কিন সাময়িকী।
মনে রাখুন: পোয়েট অব পলিটিক্স: নিউজউইক, এপ্রিল ১৯৭১।
৫১৮. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- করাজশাহী
- খঢাকা
- গচট্টগ্রাম
- ঘসিলেট
সঠিক উত্তর: ঘ. সিলেট
সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। চৌদ্দ শতকে হযরত শাহজালাল তাঁর ৩৬০ জন সঙ্গী নিয়ে সিলেটে আসেন বলে প্রচলিত আছে।
সিলেট বিজয়ের পর শাহজালালের সঙ্গীরা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁদের স্মৃতি থেকেই এই নাম। সিলেটে শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার আছে।
চট্টগ্রামকে বলা হয় বারো আউলিয়ার দেশ। ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর, আর রাজশাহীতে আছে হযরত শাহ মখদুমের মাজার।
ফাঁদ হলো চট্টগ্রাম, কারণ এটিও আউলিয়ার দেশ নামে পরিচিত; তবে সংখ্যাটি বারো, তিনশো ষাট নয়।
মনে রাখুন: সংখ্যা বড় সিলেটে: ৩৬০; চট্টগ্রামে ১২।
৫১৯. ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিঃ-এর উৎপাদিত সার-এর নাম কোনটি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কইউরিয়া এবং এএসপি
- খইউরিয়া
- গটিএসপি এবং এএসপি
- ঘডিএপি
সঠিক উত্তর: খ. ইউরিয়া
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ইউরিয়া এবং এএসপি। এখন: ফেঞ্চুগঞ্জের কারখানা এখন শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, উৎপাদন করে ইউরিয়া (বিসিআইসি)।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সার উৎপাদন করত। বিকল্পের এএসপি দিয়ে এখানে অ্যামোনিয়াম সালফেট বোঝানো হয়েছে।
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানা দেশের প্রথম সার কারখানা। সিলেট অঞ্চলের প্রাকৃতিক গ্যাস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের জন্যই নাম ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার।
দেশের অন্য বড় কারখানাগুলো, যেমন ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ ও জামালপুর, শুধু ইউরিয়া উৎপাদন করে। চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্সে টিএসপি, আর চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানায় ডিএপি সার তৈরি হয়।
ফাঁদ হলো শুধু ইউরিয়া বিকল্পটি। ইউরিয়া এখানে উৎপাদিত হতো ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে অ্যামোনিয়াম সালফেটও ছিল; তাই পূর্ণ উত্তর ইউরিয়া এবং এএসপি।
মনে রাখুন: ফেঞ্চুগঞ্জ মানে দুই সার: ইউরিয়া আর অ্যামোনিয়াম সালফেট।
৫২০. বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকার? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
- খধান-প্রধান বাণিজ্যিক
- গস্বয়ংভোগী মিশ্র
- ঘস্বয়ংভোগী শষ্য চাষ ও পশুপালন
সঠিক উত্তর: ক. ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
বাংলাদেশের কৃষিকে বলা হয় ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি। তিনটি শব্দের প্রত্যেকটি একটি বৈশিষ্ট্য বোঝায়।
ধান প্রধান, কারণ মোট আবাদি জমির সবচেয়ে বড় অংশে ধান চাষ হয়। নিবিড়, কারণ ছোট ছোট জমিতে বেশি শ্রম দিয়ে বছরে একাধিক ফসল ফলানো হয়। স্বয়ংভোগী, কারণ উৎপাদনের বড় অংশ কৃষক পরিবারের নিজের খাবারে লাগে, বাজারে বিক্রির জন্য নয়।
বাণিজ্যিক কৃষিতে মূল উদ্দেশ্য বাজারে বিক্রি, সাধারণত বড় খামারে। মিশ্র কৃষি বা শস্য চাষের সঙ্গে পশুপালন কৃষির অন্য ধরন, যেখানে শস্য ও পশু সমান গুরুত্ব পায়।
ফাঁদ হলো ধান প্রধান বাণিজ্যিক বিকল্পটি; ধান প্রধান ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশের ছোট কৃষকের উৎপাদন মূলত নিজের ভোগের জন্য।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের কৃষি: ধান, নিবিড়, স্বয়ংভোগী; তিনটি শব্দই উত্তরে থাকতে হবে।