বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৪
২৬১. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপুণ্ড্র
- খতাম্রলিপ্ত
- গগৌড়
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: ক. পুণ্ড্র
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ পুণ্ড্র। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়।
মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি বাংলার প্রাচীনতম লিপিগুলোর একটি; এখান থেকেই পুণ্ড্রের প্রাচীনত্বের প্রমাণ মেলে। পুণ্ড্র জনপদ মূলত উত্তরবঙ্গে।
তাম্রলিপ্ত ছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর অঞ্চলের প্রাচীন বন্দর। গৌড় পরবর্তী যুগে শক্তিশালী হয়, রাজা শশাঙ্কের সময়ে বিখ্যাত। হরিকেল পূর্ববঙ্গের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনপদ।
ফাঁদ হলো গৌড়, কারণ এটি বিখ্যাত ও বড় জনপদ। কিন্তু প্রাচীনত্বে পুণ্ড্র এগিয়ে।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম জনপদ পুণ্ড্র, প্রাচীনতম নগর মহাস্থানগড়।
২৬২. বাংলা (দেশ ও ভাষা) নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে সর্বাধিক উল্লেখিত হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলমগীরনামা
- খআইন-ই-আকবরী
- গআকবরনামা
- ঘতুজুক-ই-আকবরী
সঠিক উত্তর: খ. আইন-ই-আকবরী
বাংলা নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আবুল ফজলের আইন ই আকবরী গ্রন্থে।
আবুল ফজল লিখেছেন, প্রাচীন নাম বঙ্গ, আর এ অঞ্চলের মানুষ জমিতে আল বা বাঁধ দিত। বঙ্গ আর আল মিলে বাঙ্গালা নাম হয়েছে।
আইন ই আকবরী আসলে আকবরনামার তৃতীয় খণ্ড, যেখানে সম্রাট আকবরের সাম্রাজ্যের প্রশাসন, রাজস্ব ও অঞ্চলের বিবরণ আছে। আকবরনামার বাকি অংশ মূলত আকবরের রাজত্বের ইতিহাস।
আলমগীরনামা আওরঙ্গজেবের রাজত্বের ইতিহাস। তুজুক নামের আত্মজীবনী বিখ্যাত বাবর ও জাহাঙ্গীরের; আকবরের নামে এমন কোনো আত্মজীবনী নেই। ফাঁদ হলো আকবরনামা, কারণ লেখক একই আবুল ফজল।
মনে রাখুন: বঙ্গ যোগ আল সমান বাঙ্গালা: আইন ই আকবরী।
২৬৩. ঢাকার লালবাগের দুর্গ নির্মাণ করেন : (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশাহ সুজা
- খশায়েস্তা খান
- গমীর জুমলা
- ঘসুবেদার ইসলাম খান
সঠিক উত্তর: খ. শায়েস্তা খান
লালবাগ দুর্গের নির্মাণ শুরু করেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম, ১৬৭৮ সালে। পরে সুবাদার শায়েস্তা খান কাজ চালিয়ে যান। বিকল্পের মধ্যে তাই শায়েস্তা খানই সঠিক।
শায়েস্তা খানের মেয়ে পরীবিবির মৃত্যুর পর তিনি দুর্গের কাজ বন্ধ করে দেন, তাই দুর্গটি অসমাপ্ত থেকে যায়। দুর্গের ভেতরে পরীবিবির সমাধি, দরবার হল ও মসজিদ আছে।
শাহ সুজার আমলে ঢাকায় বড় কাটরা নির্মিত হয়। মীর জুমলা আসাম অভিযান ও ঢাকার রাস্তা, সেতু ও ঢাকা গেটের জন্য পরিচিত। সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করে নাম দেন জাহাঙ্গীরনগর।
শাহজাদা আজম বিকল্পে নেই বলে এখানে শায়েস্তা খানই উত্তর; তাঁর আমলের সঙ্গেই দুর্গটি সবচেয়ে বেশি জড়িত।
মনে রাখুন: লালবাগ দুর্গ, পরীবিবি, শায়েস্তা খান: তিনটি একসাথে।
২৬৪. বাংলার ‘ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ – এর সময় কাল: (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
- খ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
- গ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ
- ঘ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে। বাংলা সন অনুযায়ী সেটা ছিল ১১৭৬ সাল, তাই এর নাম ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
নামটা থেকেই হিসাব মেলে: বাংলা সনের সঙ্গে প্রায় ৫৯৪ বা ৫৯৩ যোগ করলে খ্রিস্টাব্দ পাওয়া যায়। ১১৭৬ এর সঙ্গে ৫৯৪ যোগ করলে ১৭৭০।
১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি পায়। খরার সঙ্গে কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায় মিলে এই দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়; বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায় বলে অনুমান করা হয়।
বিকল্পের ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন, ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ। এই পরিচিত সালগুলোই ফাঁদ।
মনে রাখুন: নামেই সাল: বাংলা ১১৭৬ যোগ ৫৯৪ সমান ১৭৭০।
২৬৫. সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
- খ২ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
- গ১৮ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
- ঘ২০ জানুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর: ক. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি। ঢাকা বার লাইব্রেরিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সভায় এটি গঠিত হয়; আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
এর কয়েক দিন আগে, ২৭ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টনে ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদেই সব দলকে নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়।
পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে, আর পরদিন তা ভেঙে মিছিল হলে গুলি চলে।
ফাঁদ হলো ২০ জানুয়ারি; তারিখ ও মাসের অঙ্ক মিলিয়ে বিভ্রান্ত করা। মনে রাখুন, নাজিমুদ্দিনের ঘোষণার পরেই পরিষদ, অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ দিন।
মনে রাখুন: নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা ২৭ জানুয়ারি, চার দিন পরে ৩১ জানুয়ারি পরিষদ।
২৬৬. ৬ দফা দাবি পেশ করা হয় : (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৭০ সালে
- খ১৯৬৬ সালে
- গ১৯৬৫ সালে
- ঘ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৬৬ সালে
প্রশ্নটি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছয় দফার সাল জানতে চেয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
এর পটভূমি ছিল ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান প্রায় অরক্ষিত ছিল, তাই প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন, আলাদা মুদ্রা বা রিজার্ভ, কর আদায়ের ক্ষমতা ও নিজস্ব আধাসামরিক বাহিনীর দাবি জোরালো হয়।
ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচন।
১৯৬৯ বা ১৯৭০ বেছে নেওয়া সাধারণ ভুল। ওই সালগুলো ছয় দফার ফল হিসেবে আসা গণ-অভ্যুত্থান ও নির্বাচনের, দাবি পেশের নয়।
মনে রাখুন: স্বাধিকার আন্দোলনের ক্রম: পঁয়ষট্টির যুদ্ধ, ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন।
২৬৭. বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন চলছিল সেটি হলো : (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কইসলামাবাদের সামরিক সরকার পদত্যাগের আন্দোলন
- খপূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন
- গপ্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার পদত্যাগ আন্দোলন
- ঘমার্শাল ‘ল’ পদত্যাগের আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর ডাকে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
অসহযোগ মানে কেন্দ্রীয় সামরিক সরকারের সঙ্গে কোনো সহযোগিতা না করা। অফিস, আদালত, ব্যাংক কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে।
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে, এখনকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, দেওয়া ভাষণে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে চারটি দাবি তোলেন: সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরানো, হত্যার তদন্ত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
বিকল্পগুলোতে পদত্যাগের কথা থাকায় বিভ্রান্তি হয়। কিন্তু তখনকার দাবি কারও পদত্যাগ ছিল না, ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার ও ক্ষমতা হস্তান্তর।
মনে রাখুন: ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম পঁচিশ দিন মানেই অসহযোগ আন্দোলন।
২৬৮. ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন - - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবেতার/রেডিওর মাধ্যমে
- খওয়্যারলেসের মাধ্যমে
- গটেলিগ্রামের মাধ্যমে
- ঘটেলিভিশনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: খ. ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআর, অর্থাৎ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তাই উত্তর ওয়্যারলেস।
পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এ ঘোষণা পাঠ করা হয়। অর্থাৎ বেতারের ভূমিকা ছিল ঘোষণা প্রচারে, বঙ্গবন্ধুর নিজের ঘোষণা জারিতে নয়।
বেতার বিকল্পটাই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করে, কারণ মানুষ ঘোষণাটি বেতারে শুনেছিল। কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধু কোন মাধ্যমে ঘোষণা জারি করেন।
মনে রাখুন: জারি ওয়্যারলেসে, প্রচার বেতারে।
২৬৯. বাংলাদেশে রোপা আমন ধান কাটা হয় - - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআষাঢ়-শ্রাবণ মাসে
- খভাদ্র-আশ্বিন মাসে
- গঅগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে
- ঘমাঘ-ফাল্গুন
সঠিক উত্তর: গ. অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে
বাংলাদেশে ধানের তিন মৌসুম: আউশ, আমন ও বোরো। প্রতিটির রোপণ ও কাটার সময় আলাদা, আর প্রশ্নে সাধারণত এই সময়ের মিলটাই যাচাই করা হয়।
রোপা আমনের চারা বর্ষায়, মোটামুটি শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে, জমিতে রোপণ করা হয়। হেমন্তে, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে, এ ধান কাটা হয়।
অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে ওঠে বলেই এ সময় নবান্ন উৎসব হয়। আউশ কাটা হয় আষাঢ় ও শ্রাবণে, আর বোরো কাটা হয় বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে।
আমনকে বর্ষার ধান ভেবে আষাঢ়-শ্রাবণ বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল। বর্ষায় আমন লাগানো হয়, কাটা নয়।
মনে রাখুন: আউশ কাটে বর্ষায়, আমন হেমন্তে, বোরো গ্রীষ্মে।
২৭০. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে রদ করা হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১২ তম
- খ১৩ তম
- গ১৪ তম
- ঘ১৫ তম
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১৫ তম। এখন: এখন আর রদ নেই: ২০ নভেম্বর ২০২৫ আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর এই অংশ অকার্যকর ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে (চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে প্রযোজ্য)।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার রাখা।
২০১১ সালে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর একই বছর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়।
দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে, আর চতুর্দশ সংশোধনী ২০০৪ সালে সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ায়। কোন সংশোধনী কী করেছে, সালসহ জোড়ায় মনে রাখলে এমন প্রশ্ন সহজ হয়।
ত্রয়োদশ সংখ্যাটি মাথায় থাকায় অনেকে সেটিই বেছে নেন। কিন্তু ত্রয়োদশ সংশোধনী এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, বাতিল করেনি।
মনে রাখুন: ত্রয়োদশে চালু, পঞ্চদশে বাতিল।
২৭১. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কয় কক্ষবিশিষ্ট? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কএক কক্ষ
- খদুই বা দ্বিকক্ষ
- গতিন কক্ষ
- ঘবহুকক্ষ বিশিষ্ট
সঠিক উত্তর: ক. এক কক্ষ
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ, এবং এটি এককক্ষবিশিষ্ট। অর্থাৎ আইন পাস করার জন্য একটিই কক্ষ আছে।
সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসন তিনশো, সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন। পরীক্ষার সময় নারী আসন ছিল পঞ্চাশটি, ফলে মোট সদস্য তিনশো পঞ্চাশ।
দ্বিকক্ষ আইনসভায় উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ আলাদা থাকে, যেমন ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভা, বা যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডস ও হাউস অব কমন্স।
সংসদে স্পিকার, নানা সংসদীয় কমিটি ইত্যাদি থাকায় কেউ কেউ একাধিক কক্ষ ভাবেন। কিন্তু কক্ষ মানে আলাদা ভোটে আইন পাসের সভা, আর বাংলাদেশে তা একটিই।
২৭২. ভারতের কতটি ‘ছিটমহল’ বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৬২ টি
- খ১১১ টি
- গ৫১ টি
- ঘ১০১ টি
সঠিক উত্তর: খ. ১১১ টি
১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল ২০১৫ সালে কার্যকর হয়। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দুই দেশের ছিটমহল বিনিময় হয়।
এ বিনিময়ে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয়, আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়। দুই দেশ মিলিয়ে মোট ছিটমহল ছিল ১৬২টি।
ছিটমহল মানে এক দেশের ভূখণ্ডের ভেতরে চারদিকে ঘেরা অন্য দেশের ছোট ভূখণ্ড। এগুলোর বাসিন্দারা নিজ দেশের নাগরিক সুবিধা পেতেন না, তাই বিনিময় ছিল মানবিক সমাধান।
সংখ্যাগুলো উল্টে ফেলাই প্রধান ফাঁদ। ৫১টি হলো বাংলাদেশের ছিটমহল, যা ভারতে গেছে, আর ১৬২টি দুই দেশের মোট সংখ্যা।
মনে রাখুন: বড় সংখ্যাটা বাংলাদেশে এসেছে: ১১১ এলো, ৫১ গেল, মোট ১৬২।
২৭৩. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২২°৩০′ – ২০°-৩৪′ দক্ষিণ অক্ষাংশে
- খ৮০°৩১′ – ৪০°-৯০′ দ্রাঘিমাংশে
- গ৩৪°২৫° – ৩৮′ উত্তর অক্ষাংশে
- ঘ৮৮°০১′ – ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
সঠিক উত্তর: ঘ. ৮৮°০১′ – ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে এবং গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখার পূর্বে অবস্থিত। তাই এর অবস্থান লিখতে হয় উত্তর অক্ষাংশ ও পূর্ব দ্রাঘিমাংশ দিয়ে।
বাংলাদেশ ২০ ডিগ্রি ৩৪ মিনিট থেকে ২৬ ডিগ্রি ৩৮ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি ১ মিনিট থেকে ৯২ ডিগ্রি ৪১ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা গেছে।
বিকল্পগুলোর মধ্যে কেবল পূর্ব দ্রাঘিমাংশের বিকল্পটিতে সংখ্যা ও দিক দুটোই ঠিক। দ্রুত যাচাইয়ের উপায় হলো আগে দিক দেখা; দক্ষিণ অক্ষাংশ লেখা বিকল্প সঙ্গে সঙ্গে বাদ।
বাকি বিকল্পগুলোতে সংখ্যাগুলো আসল মানের এলোমেলো রূপ, যা দেখতে পরিচিত লাগে। দিক ও সংখ্যার মান দুটোই মিলিয়ে দেখলে ভুল ধরা পড়ে।
মনে রাখুন: অক্ষাংশ বিশ থেকে ছাব্বিশ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ আটাশি থেকে বিরানব্বই পূর্ব।
২৭৪. বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কবে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৭২ সাল
- খ১৯৭৩ সাল
- গ১৯৭৪ সাল
- ঘ১৯৭৭ সাল
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৭৪ সাল
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর মোটামুটি দশ বছর পরপর শুমারি হয়েছে: ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে।
২০২২ সালের শুমারি ছিল দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি; এখন আদমশুমারির বদলে জনশুমারি ও গৃহগণনা নামটি ব্যবহৃত হয়।
উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়, আর নিয়মিত দশকওয়ারি শুমারি শুরু হয় ১৮৮১ সালে লর্ড রিপনের সময়।
১৯৭৭ সালে হয়েছিল দেশের প্রথম কৃষিশুমারি। জনসংখ্যার শুমারির সঙ্গে এটি গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: শুমারির সাল: ৭৪, তারপর ৮১, ৯১, ০১, ১১ এবং ২২।
২৭৫. কোন উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- করাখাইন
- খমারমা
- গপাঙন
- ঘখিয়াং
সঠিক উত্তর: গ. পাঙন
প্রশ্নটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর ধর্মবিশ্বাস নিয়ে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ নৃ-গোষ্ঠী বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান বা প্রকৃতিপূজারী; ইসলাম ধর্মাবলম্বী নৃ-গোষ্ঠী খুবই কম।
পাঙন হলো মণিপুরী জনগোষ্ঠীর মুসলিম অংশ, যাদের মণিপুরী মুসলিমও বলা হয়। তারা মূলত মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে বাস করে এবং ইসলাম ধর্ম পালন করে।
রাখাইন ও মারমারা থেরবাদী বৌদ্ধ। রাখাইনরা মূলত কক্সবাজার ও পটুয়াখালী অঞ্চলে, আর মারমারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে। খিয়াংরাও পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্ঠী, যাদের বেশিরভাগ বৌদ্ধ, কিছু খ্রিস্টান।
মণিপুরী বললে অনেকে কেবল হিন্দু বৈষ্ণব মণিপুরীদের কথা ভাবেন, তাই পাঙন নামটি অপরিচিত লাগে। মনে রাখুন, মণিপুরীদের মুসলিম শাখাই পাঙন।
মনে রাখুন: নৃ-গোষ্ঠী আর ইসলাম একসঙ্গে দেখলেই উত্তর পাঙন।
২৭৬. ঢাকার ‘ ধোলাই খাল’ কে খনন করেন? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপরিবিবি
- খইসলাম খান
- গশায়েস্তা খান
- ঘঈশা খান
সঠিক উত্তর: খ. ইসলাম খান
ধোলাই খাল পুরান ঢাকার একটি ঐতিহাসিক খাল। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খান ১৬০৮ থেকে ১৬১০ সালের মধ্যে এটি খনন করান।
ইসলাম খান চিশতী ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আনেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে শহরের নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। নতুন রাজধানীর প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগে খালটির গুরুত্ব ছিল।
অন্য বিকল্পের ব্যক্তিরা ঢাকার অন্য ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। শায়েস্তা খান ছোট কাটরা নির্মাণ করেন ও লালবাগ কেল্লার কাজ এগিয়ে নেন; পরীবিবি তাঁর কন্যা, যাঁর সমাধি লালবাগ কেল্লায়। ঈশা খান ছিলেন বারো ভূঁইয়াদের প্রধান, তাঁর কেন্দ্র সোনারগাঁও।
শায়েস্তা খান ঢাকার মুঘল ইতিহাসে সবচেয়ে পরিচিত নাম বলে অনেকে তাঁকেই বেছে নেন। কিন্তু খাল খনন রাজধানী স্থাপনের সময়ের কাজ, যা ইসলাম খানের আমলে।
মনে রাখুন: ঢাকায় রাজধানী আর ধোলাই খাল, দুটোই ইসলাম খানের।
২৭৭. বাংলাভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ কোন তারিখে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৭ মে ১৯৫৪
- খ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩
- গ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬
- ঘ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর: ক. ৭ মে ১৯৫৪
ভাষা আন্দোলনের পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েক ধাপে এগিয়েছে। প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে পাকিস্তান গণপরিষদ কবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেয়।
১৯৫৪ সালের মার্চে প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবির পর, ওই বছরের মে মাসে গণপরিষদ মুসলিম লীগের সমর্থনে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রস্তাবটি গৃহীত হয় ১৯৫৪ সালের ৭ মে, আর এ প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর এই তারিখটিই।
পরে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ও উর্দু দুটোই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে লেখা হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী গণপরিষদ ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এ বিধান সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে।
তাই ১৯৫৬ সালের বিকল্পটিও যুক্তিসংগত মনে হয়, আর এখানেই বিভ্রান্তি। প্রচলিত উত্তরে প্রথম স্বীকৃতি ধরা হয় ১৯৫৪ সালের মে মাসের প্রস্তাবকে। আর ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ আন্দোলনের দিন, স্বীকৃতির নয়।
মনে রাখুন: ধাপ মনে রাখুন: ৫২ আন্দোলন, ৫৪ প্রস্তাব, ৫৬ সংবিধান।
২৭৮. মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২৫ মার্চ ১৯৭১
- খ২৬ মার্চ ১৯৭১
- গ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ঘ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর: গ. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে, পরাজয় নিশ্চিত বুঝে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর ও আলশামস পরিকল্পিতভাবে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এর সবচেয়ে ব্যাপক রূপ দেখা যায় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিকদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরের বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল নতুন রাষ্ট্রকে মেধাশূন্য করা। তাই ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নিহত হন। তবে সে রাতের হত্যাযজ্ঞ ছিল সাধারণ মানুষের ওপর গণহত্যা, আর দিনটি এখন জাতীয় গণহত্যা দিবস।
২৫ মার্চেও শিক্ষক হত্যার কথা জানা থাকায় অনেকে সেটি বেছে নেন। কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের ওপর পরিকল্পিত ব্যাপক হত্যার দিন ১৪ ডিসেম্বর, বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে।
মনে রাখুন: চোদ্দ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী, ষোলো ডিসেম্বর বিজয়: মাঝে দুই দিন।
২৭৯. বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কযুক্তরাজ্য
- খপূর্ব জার্মানি
- গস্পেন
- ঘগ্রিস
সঠিক উত্তর: খ. পূর্ব জার্মানি
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান, তারপর ভারত, দুটোই ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। ইউরোপের দেশগুলোর স্বীকৃতি আসে স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে।
ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি, অর্থাৎ তৎকালীন জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
পূর্ব জার্মানি তখন সোভিয়েত বলয়ের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে ছিল; তাই সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো আগেভাগে স্বীকৃতি দেয়। যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেয়ে প্রথমে লন্ডনে যান, আর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কও আছে; তাই অনেকে যুক্তরাজ্য বেছে নেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি এসেছিল পূর্ব জার্মানির তিন সপ্তাহেরও বেশি পরে।
মনে রাখুন: প্রথম ভুটান; ইউরোপে প্রথম পূর্ব জার্মানি; আফ্রিকায় প্রথম সেনেগাল।
২৮০. বাংলাদেশের বৃহত্তর জেলা কতটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৭ টি
- খ২০ টি
- গ৬৪ টি
- ঘ১৯ টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯ টি
বৃহত্তর জেলা বলতে ১৯৮৪ সালে মহকুমাগুলো জেলায় উন্নীত হওয়ার আগের পুরোনো বড় জেলাগুলোকে বোঝায়। আজও বৃহত্তর ময়মনসিংহ, বৃহত্তর কুমিল্লা এভাবে বলা হয়।
স্বাধীনতার সময় দেশে জেলা ছিল ১৯টি। এর আগে ১৯৬৯ সালে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ থেকে এবং পটুয়াখালী বরিশাল থেকে আলাদা জেলা হয়, তাতে ১৭টি জেলা বেড়ে ১৯টি হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে জামালপুর আলাদা জেলা হয়, পরে আরও কয়েকটি জেলা গঠিত হয়, আর ১৯৮৪ সালের মধ্যে মহকুমা উন্নীত হয়ে জেলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪টিতে। কিন্তু বৃহত্তর জেলার হিসাব হয় সেই পুরোনো ১৯টি জেলা ধরে।
৬৪ বর্তমান জেলার সংখ্যা, আর ২০ সংখ্যাটি আসে ১৯৭৮ সালে জামালপুর জেলা হওয়ার পরের হিসাব থেকে। প্রশ্ন বৃহত্তর জেলার, তাই উত্তর ১৯টি।
মনে রাখুন: বৃহত্তর জেলা উনিশ, এখনকার জেলা চৌষট্টি।