বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৫
২৮১. ‘শুভলং’ ঝরনা কোন জেলায় অবস্থিত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- করাঙামাটি
- খবান্দরবান
- গমৌলভীবাজার
- ঘসিলেট
সঠিক উত্তর: ক. রাঙামাটি
শুভলং ঝরনা রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলায়, কাপ্তাই হ্রদের তীরে অবস্থিত। রাঙামাটি শহর থেকে হ্রদপথে নৌকায় সেখানে যাওয়া যায়।
কাপ্তাই হ্রদ তৈরি হয়েছিল কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানোর সময়। এই হ্রদ ঘিরেই রাঙামাটির পর্যটন, আর শুভলং তার অন্যতম আকর্ষণ।
অন্য জেলারও বিখ্যাত ঝরনা আছে: মৌলভীবাজারে মাধবকুণ্ড ও হামহাম, বান্দরবানে নাফাখুম ও জাদিপাই, সিলেটে পাংথুমাই।
পাহাড়ি ঝরনা মানেই বান্দরবান, এমন ধারণা থেকে অনেকে ভুল করেন। ঝরনার নামের সঙ্গে জেলা মিলিয়ে একটি ছোট তালিকা মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়।
মনে রাখুন: শুভলং মানেই কাপ্তাই হ্রদ, আর কাপ্তাই হ্রদ মানেই রাঙামাটি।
২৮২. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কবে গৃহীত হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৭ জানুয়ারি ১৯৭২
- খ২৬ মার্চ ১৯৭১
- গ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ঘ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
সঠিক উত্তর: ক. ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২
বর্তমান জাতীয় পতাকা সরকারিভাবে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পতাকার লাল বৃত্তের ভেতরে হলুদ রঙে দেশের মানচিত্র ছিল; নতুন পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়।
পতাকা গাঢ় সবুজ আয়তক্ষেত্র, মাঝখান থেকে সামান্য দণ্ডের দিকে সরানো একটি লাল বৃত্ত। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত দশ অনুপাত ছয়, আর বৃত্তের ব্যাসার্ধ দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
মানচিত্রসহ পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে। পরে শিল্পী কামরুল হাসান পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেন।
২৬ মার্চ বা ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস হওয়ায় সেগুলো সহজে চোখে পড়ে। কিন্তু তখন চালু ছিল মানচিত্রসহ পতাকা; বর্তমান পতাকা গৃহীত হয়েছে স্বাধীনতার পরে।
মনে রাখুন: পতাকা গৃহীত ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২; অনুপাত ১০ : ৬।
২৮৩. কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের কত চরণ বাজানো হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপ্রথম ১০ টি
- খপ্রথম ৪ টি
- গপ্রথম ৬ টি
- ঘপ্রথম ৫ টি
সঠিক উত্তর: খ. প্রথম ৪ টি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা গানটির প্রথম দশ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। কিন্তু কণ্ঠে গাওয়া আর বাদ্যযন্ত্রে বাজানোর নিয়ম আলাদা।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কণ্ঠে গাওয়ার সময় প্রথম দশ চরণ গাওয়া হয়, আর যন্ত্রসংগীতে বাজানোর জন্য নির্ধারিত প্রথম চার চরণ। প্রশ্নে বাজানোর কথা বলা হয়েছে, তাই উত্তর প্রথম চার চরণ।
জাতীয় সংগীত ব্যবহারের নিয়ম ঠিক করা আছে ১৯৭৮ সালের জাতীয় সংগীত বিধিমালায়। মূল গানটি পঁচিশ চরণের।
দশ সংখ্যাটি বেশি পরিচিত বলে অনেকে প্রথম দশ চরণ বেছে নেন। প্রশ্নের ক্রিয়াপদটি খেয়াল করুন: গাওয়া হলে দশ, বাজানো হলে চার।
মনে রাখুন: প্রশ্নে ক্রিয়াপদ দেখুন: গাওয়া হলে দশ, বাজানো হলে চার।
২৮৪. ECNEC – এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি কে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঅর্থমন্ত্রী
- খপ্রধানমন্ত্রী
- গপরিকল্পনামন্ত্রী
- ঘস্পীকার
সঠিক উত্তর: খ. প্রধানমন্ত্রী
একনেক মানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সর্বোচ্চ ফোরাম এটি।
একনেকের চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী। মূল সংস্থা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন করে, তারও প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
পরিকল্পনামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী একনেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, আর প্রকল্প যাচাই করে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারপারসনও প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প অনুমোদন পরিকল্পনার কাজ বলে অনেকে পরিকল্পনামন্ত্রী বেছে নেন। মনে রাখুন, একনেক, এনইসি ও পরিকল্পনা কমিশন তিনটিরই প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
মনে রাখুন: উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সর্বোচ্চ কমিটির সভাপতি সরকারপ্রধান।
২৮৫. ‘অগ্নিশ্বর’ কি ফসলের উন্নত জাত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কধান
- খকলা
- গপাট
- ঘগম
সঠিক উত্তর: খ. কলা
অগ্নিশ্বর বাংলাদেশের একটি কলার জাত। গোলাপি আভা, ভালো ঘ্রাণ ও মিষ্টতার জন্য এটি পরিচিত।
এ ধরনের প্রশ্নে ফসলের জাতের নাম চিনতে হয়। কলার পরিচিত জাতের মধ্যে আছে সবরি, চাম্পা, সাগর ও অগ্নিশ্বর।
ধানের জাতের নামে সাধারণত ব্রি ধান বা বিনা ধান সঙ্গে নম্বর থাকে। গমের পরিচিত জাত কাঞ্চন ও সোনালিকা, আর পাটের প্রধান দুই ধরন দেশি ও তোষা।
মনে রাখতে নামের অগ্নি অংশটিকে এই কলার গোলাপি আভার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। নামটি অচেনা লাগলে অনেকে ধান ভেবে নেন, কারণ ধানের জাতই বেশি পড়া হয়।
২৮৬. বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের বড় অর্জন কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কযুদ্ধপরাধীদের বিচার
- খসমুদ্রসীমা বিজয়
- গবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
- ঘবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: ক. যুদ্ধপরাধীদের বিচার
প্রশ্নটি সময় ও মতনির্ভর। বর্তমান সময় বলতে এখানে পরীক্ষার সময়, অর্থাৎ ২০১৬ সালের জানুয়ারিকে বুঝতে হবে।
পরীক্ষার সময়কার গাইড ও সরকারি প্রচারে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সরকারের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হতো। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এ বিচার শুরু হয়, আর পরীক্ষার আগে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে, কয়েকজনের দণ্ড কার্যকর হয়।
সমুদ্রসীমা বিজয়ও বড় অর্জন: ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও সালিশি আদালতের রায়ে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকা পায়। তাই প্রশ্নটি বিতর্কিত, তবে প্রচলিত উত্তর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
এমন প্রশ্নে পরীক্ষার সময়ের প্রচলিত উত্তর জানা থাকাই কাজে লাগে, কারণ বিকল্পগুলোর সবই কোনো না কোনোভাবে অর্জন।
২৮৭. বাংলাদেশে কখন থেকে বয়স্কভাতা চালু হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৯৯৮ সালে
- খ১৯৯৯ সালে
- গ২০০০ সালে
- ঘ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৯৮ সালে
বাংলাদেশের অর্থবছর জুলাই থেকে জুন। বয়স্কভাতা কর্মসূচি চালু হয় ১৯৯৭ সালের জুলাই থেকে ১৯৯৮ সালের জুন পর্যন্ত চলা অর্থবছরে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে।
অর্থবছরটি দুই সালে ছড়ানো বলে উত্তর নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তরে ১৯৯৮ সাল ধরা হয়।
বয়স্কভাতা দরিদ্র প্রবীণদের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। পরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো কর্মসূচিও চালু হয়।
১৯৯৭ বিকল্পটিও অর্থবছরের প্রথম সাল বলে আকর্ষণীয়, তাই কিছু সূত্রে ১৯৯৭ লেখা থাকে। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর ১৯৯৮।
২৮৮. বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা কত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৫১৩৮ কি.মি
- খ৪৩৭১ কি.মি
- গ৪১৫৬ কি.মি
- ঘ৩৯৭৮ কি.মি
সঠিক উত্তর: গ. ৪১৫৬ কি.মি
বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত দুটি দেশের সঙ্গে: ভারত ও মিয়ানমার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রচলিত হিসাবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ৪১৫৬ কিলোমিটার, আর মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার।
দুটো মিলিয়ে মোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থলসীমার প্রায় পুরোটাই ভারতের সঙ্গে।
ভারতের পাঁচটি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তে: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ।
৫১৩৮ বিকল্পটি সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করে, কারণ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এটি উপকূলসহ বাংলাদেশের মোট সীমারেখা: স্থলসীমা ৪৪২৭ আর উপকূল ৭১১ কিলোমিটার। শুধু ভারতের সঙ্গে সীমান্ত এটি নয়।
মনে রাখুন: ভারত ৪১৫৬, মিয়ানমার ২৭১, মোট স্থলসীমা ৪৪২৭।
২৮৯. মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য কত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১১.২ কি.মি
- খ১২.২ কি.মি
- গ১১.৮ কি.মি
- ঘ১২.৮ কি.মি
সঠিক উত্তর: গ. ১১.৮ কি.মি
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৮ কিলোমিটার।
২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর এটি উদ্বোধন করা হয়। চালুর সময় এটি ছিল ঢাকার দীর্ঘতম ফ্লাইওভার।
ঢাকার প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের নামে এর নামকরণ। ফ্লাইওভারটির কয়েকটি র্যাম্প থাকায় বিভিন্ন সূত্রে দৈর্ঘ্য সামান্য ভিন্ন লেখা হয়, তবে প্রচলিত উত্তর ১১ দশমিক ৮ কিলোমিটার।
বিকল্পগুলো খুব কাছাকাছি, তাই এখানে অনুমান কাজে আসে না; এগারো দশমিক আট সংখ্যাটি মনে রাখাই কৌশল।
২৯০. ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঢাকায়
- খখুলনায়
- গনারায়ণগঞ্জে
- ঘচাঁদপুরে
সঠিক উত্তর: ঘ. চাঁদপুরে
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বা ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, চাঁদপুরে অবস্থিত।
চাঁদপুর পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে, আর ইলিশের জন্য এর পরিচিতি ইলিশের বাড়ি নামে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্রও চাঁদপুরে।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তর ময়মনসিংহে, আর সামুদ্রিক মৎস্য প্রশিক্ষণের জন্য মেরিন ফিশারিজ একাডেমি চট্টগ্রামে।
ঢাকায় অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের সদর থাকায় অনেকে ঢাকা বেছে নেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি মাছের অঞ্চল চাঁদপুরে।
২৯১. বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কহবিগঞ্জ
- খগোপালগঞ্জ
- গকিশোরগঞ্জ
- ঘমুন্সীগঞ্জ
সঠিক উত্তর: গ. কিশোরগঞ্জ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন জেলায় নিচু ভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নিচু ভূমি মানে যে জমি বর্ষায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে, যেমন হাওর ও বিল।
কিশোরগঞ্জের পূর্বাংশ বিশাল হাওর অঞ্চলের অংশ। ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার বেশিরভাগ জমি বর্ষায় কয়েক মাস ডুবে থাকে, তাই প্রচলিত উত্তর কিশোরগঞ্জ।
হবিগঞ্জেও হাওর আছে, তবে জেলার পূর্ব ও দক্ষিণে টিলা আর চা বাগান থাকায় পুরো জেলা নিচু নয়। গোপালগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে বিল আছে, কিন্তু জেলাগুলো আয়তনে কিশোরগঞ্জের চেয়ে অনেক ছোট।
জেলাভিত্তিক তুলনামূলক সরকারি পরিসংখ্যান সহজলভ্য নয়, তাই উত্তরটি প্রচলিত গাইড-উত্তর। মনে রাখার সূত্র: হাওর মানেই বিস্তীর্ণ নিচু ভূমি।
মনে রাখুন: নিচু ভূমির প্রশ্নে আগে খুঁজুন কোন জেলাটি হাওরের বড় অংশ ধরে আছে।
২৯২. বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমেঘনা
- খযমুনা
- গপদ্মা
- ঘকর্ণফুলী
সঠিক উত্তর: ক. মেঘনা
পরীক্ষার সময়ের পাঠ্যবই ও গাইডে বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী হিসেবে মেঘনার নামই পড়ানো হতো। তাই এ প্রশ্নের উত্তর মেঘনা।
সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত ধারা থেকে মেঘনার শুরু; ভৈরব ও চাঁদপুর হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। চাঁদপুরে পদ্মা এসে মেঘনায় মেশে, আর নিম্ন মেঘনাকে দেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদী বলা হয়।
নদীর দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতি নিয়ে সরকারি সূত্রগুলো একমত নয়। পরে নদী রক্ষা কমিশনের একটি প্রকাশনায় পদ্মাকে দীর্ঘতম দেখানো হয়, আর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তালিকায় অন্য নদী ওপরে আসে।
পদ্মা ও যমুনা বড় নদী হিসেবে বেশি পরিচিত বলে অনেকে সেগুলো বেছে নেন। পরীক্ষার সময়ের প্রচলিত উত্তর মেঘনা।
২৯৩. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন - (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কলর্ড রিপন
- খলর্ড কার্জন
- গলর্ড মিন্টো
- ঘলর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড কার্জন
১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সি ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। এটিই বঙ্গভঙ্গ, আর তখন গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন।
প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও কংগ্রেস ও কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত সমাজ এটিকে বাঙালিদের বিভক্ত করার চেষ্টা মনে করে। ফলে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় বঙ্গভঙ্গ রদ হয় এবং ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরানো হয়। মাঝখানে লর্ড মিন্টোর সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের অক্টোবরে, আর কার্জন একই বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব ছাড়েন; তাই মিন্টোকে অনেকে ভুল করে বেছে নেন। প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন কার্জনের আমলেই।
মনে রাখুন: গঠন কার্জন ১৯০৫, রদ হার্ডিঞ্জ ১৯১১।
২৯৪. ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কধানের শীষ
- খনৌকা
- গলাঙল
- ঘবাইসাইকেল
সঠিক উত্তর: খ. নৌকা
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনে নামে, যার প্রথম দফা ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা। মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে হারে এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হন।
নৌকা প্রতীক পরে আওয়ামী লীগের প্রতীক হিসেবে থেকে যায়। ধানের শীষ এখন বিএনপির, আর লাঙল জাতীয় পার্টির প্রতীক।
দলগুলোর বর্তমান প্রতীক মনে রেখে বিকল্প বাছতে গেলে ভুল হয়। প্রশ্নটি ১৯৫৪ সালের জোটের প্রতীক জানতে চেয়েছে।
মনে রাখুন: যুক্তফ্রন্ট মানে নৌকা, ২১ দফা, ফজলুল হক।
২৯৫. ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবিল অব রাইটস
- খম্যাগনাকার্টা
- গপিটিশন অব রাইটস
- ঘমুখ্য আইন
সঠিক উত্তর: খ. ম্যাগনাকার্টা
ম্যাগনাকার্টা ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জনের স্বাক্ষর করা সনদ, যা প্রথমবারের মতো রাজার ক্ষমতা সীমিত করে প্রজাদের অধিকার স্বীকার করে। তাই কোনো জাতির অধিকারের মৌলিক দলিলকে ম্যাগনাকার্টার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবি তুলে ধরে। এজন্য একে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বা মুক্তির সনদ বলা হয়।
ইংল্যান্ডের আরও দুটি দলিল অধিকারের সঙ্গে জড়িত: পিটিশন অব রাইট ১৬২৮ সালে এবং বিল অব রাইটস ১৬৮৯ সালে। তবে ছয় দফার উপমা হিসেবে প্রচলিত শুধু ম্যাগনাকার্টা।
বিল অব রাইটসও অধিকারের দলিল বলে বিভ্রান্তি হয়। কিন্তু ছয় দফার প্রচলিত উপাধি বাঙালির ম্যাগনাকার্টা।
২৯৬. বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন নবাব কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কনবাব সিরাজউদ্দৌলা
- খমুর্শিদ কুলী খান
- গইলিয়াস শাহ
- ঘআলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর: খ. মুর্শিদ কুলী খান
মুঘল আমলে বাংলার শাসক ছিলেন সম্রাটের নিযুক্ত সুবাদার। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর কেন্দ্র দুর্বল হলে মুর্শিদ কুলী খান কার্যত স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন শুরু করেন; তাই তাঁকে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব বলা হয়।
তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে সরিয়ে নেন, আর তাঁর নামেই শহরের নাম মুর্শিদাবাদ। নবাবি আমলের শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, যিনি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন।
ইলিয়াস শাহ ও আলাউদ্দিন হুসেন শাহ সুলতানি আমলের শাসক। ইলিয়াস শাহ প্রথম সমগ্র বাংলাকে একত্র করে স্বাধীন সুলতান হন, আর হুসেন শাহের শাসনকালকে সুলতানি যুগের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
প্রশ্নে নবাব শব্দটি খেয়াল করুন। ইলিয়াস শাহ স্বাধীন ঠিকই, কিন্তু তিনি সুলতান, নবাব নন; আর সিরাজউদ্দৌলা প্রথম নন, শেষ স্বাধীন নবাব।
মনে রাখুন: সুলতানে প্রথম ইলিয়াস শাহ, নবাবে প্রথম মুর্শিদ কুলী খান, নবাবে শেষ সিরাজউদ্দৌলা।
২৯৭. আলুর একটি জাত - (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কডায়মন্ড
- খরূপালী
- গড্রামহেড
- ঘব্রিশাইল
সঠিক উত্তর: ক. ডায়মন্ড
ডায়মন্ড বাংলাদেশে বহুল চাষ হওয়া একটি উচ্চফলনশীল আলুর জাত। মূল জাতটি নেদারল্যান্ডসের ডায়মান্ট, যা বাংলাদেশে ডায়মন্ড নামে পরিচিত।
আলুর আরও কিছু পরিচিত জাত কার্ডিনাল, গ্রানোলা ও অ্যাস্টেরিক্স। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এমন জাতগুলোকে বারি আলু নাম ও নম্বর দিয়ে অবমুক্ত করে।
ড্রামহেড বাঁধাকপির একটি পরিচিত জাত, যার মাথা ঢোলের মতো বড় ও চ্যাপ্টা। ব্রিশাইল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুরোনো একটি ধানের জাত।
রূপালী নামটি আলুর রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে, কিন্তু আলুর প্রচলিত জাতের তালিকায় এটি নেই।
২৯৮. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআউশ ধান
- খআমন ধান
- গবোরো ধান
- ঘইরি ধান
সঠিক উত্তর: গ. বোরো ধান
বাংলাদেশে ধানের তিন মৌসুম: আউশ, আমন ও বোরো। এর মধ্যে মোট উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্ধেকেরও বেশি, আসে বোরো থেকে।
বোরো শুকনো মৌসুমের সেচনির্ভর ধান; শীতে রোপণ করে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে কাটা হয়। সেচ ও উচ্চফলনশীল জাতের কারণে এর ফলন হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে বেশি।
উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃষ্টিনির্ভর আমন, আর সবচেয়ে কম আউশ।
ইরি আলাদা কোনো মৌসুম নয়। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বা ইরির উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানকে মানুষ ইরি ধান বলে, যা মূলত বোরো মৌসুমেই চাষ হয়। তাই ইরি বিকল্প দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
২৯৯. প্রধান বীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কBARI
- খBRRI
- গBADC
- ঘBINA
সঠিক উত্তর: গ. BADC
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএডিসি দেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত জাতের বীজ বড় পরিমাণে উৎপাদন করে কৃষকের কাছে পৌঁছানো এর কাজ।
এখানে পার্থক্যটা গবেষণা আর উৎপাদনের। বারি, ব্রি ও বিনা নতুন জাত উদ্ভাবন করে; বিএডিসি সেই জাতের বীজ উৎপাদন ও বিতরণ করে।
বারি ধান বাদে অন্যান্য ফসল, যেমন আলু, ডাল, তেলবীজ ও সবজির জাত উদ্ভাবন করে; ব্রি শুধু ধান নিয়ে কাজ করে; আর বিনা পরমাণু কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন জাত তৈরি করে।
ব্রি ধানের জাতের নাম সবার জানা বলে অনেকে ব্রি বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, জাত উদ্ভাবনকারী নয়।
৩০০. ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুপাত – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১০০ : ১০৬
- খ১০০ : ১০০.৬
- গ১০০ : ১০০.৩
- ঘ১০০ : ১০০
সঠিক উত্তর: গ. ১০০ : ১০০.৩
লিঙ্গ অনুপাত মানে প্রতি একশো নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে এ অনুপাত ছিল একশো দশমিক তিন, অর্থাৎ পুরুষ সামান্য বেশি।
তাই নারী ও পুরুষের অনুপাত লিখলে হয় একশো অনুপাত একশো দশমিক তিন।
২০২২ সালের জনশুমারিতে চিত্র উল্টে গেছে: প্রতি একশো নারীর বিপরীতে পুরুষ প্রায় আটানব্বই, অর্থাৎ নারী বেশি। তবে প্রশ্নটি নির্দিষ্টভাবে ২০১১ সালের কথা জানতে চেয়েছে।
একশো দশমিক ছয় বিকল্পটি দেখতে খুব কাছাকাছি, তাই দশমিকের পরের অঙ্কটি মনে রাখাই এখানে মূল কৌশল।
মনে রাখুন: লিঙ্গ অনুপাত সবসময় প্রতি একশো নারীতে পুরুষের সংখ্যা।