বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৬
৩০১. সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬৫.৪ বছর
- খ৬৭.৫ বছর
- গ৭০.৯ বছর
- ঘ৭২.৬ বছর
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৭০.৯ বছর। এখন: ৭২.৩ বছর (SVRS ২০২৩)।
গড় আয়ু মানে জন্মের সময় একজন মানুষ গড়ে কত বছর বাঁচবেন বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশে এর সরকারি হিসাব দেয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম জরিপ।
পরীক্ষার সময়ের সর্বশেষ হিসাব, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৯ বছর। তাই উত্তর এই বিকল্প।
গড় আয়ু সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার বছরের ওপর নির্ভর করে। নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে বেশি।
৭২ দশমিক ৬ বিকল্পটি পরের বছরগুলোর হিসাবের কাছাকাছি, তাই কোনো কোনো গাইডে সেটি উত্তর দেওয়া আছে। পরীক্ষার সময়ের হিসাবে সেটি ভুল।
৩০২. যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশেরপুর
- খময়মনসিংহ
- গসিলেট
- ঘনেত্রকোনা
সঠিক উত্তর: গ. সিলেট
হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। তারা মূলত গারো পাহাড়ের পাদদেশে, অর্থাৎ শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকায়, এবং সুনামগঞ্জে বাস করে।
বিকল্পগুলোর মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা তিনটিই হাজং-অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকা। বাকি থাকে সিলেট জেলা, যেখানে হাজংদের উল্লেখযোগ্য বসবাস নেই।
হাজংরা ব্রিটিশ আমলের টংক আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত। টংক ছিল ফসলের মাধ্যমে খাজনা দেওয়ার নিপীড়নমূলক প্রথা; এর বিরুদ্ধে মণি সিংহের নেতৃত্বে আন্দোলন হয় এবং রাশিমণি হাজং শহীদ হন।
সিলেট অঞ্চলে খাসিয়া ও মণিপুরীদের বসবাস বেশি, তাই সেখানে হাজংও আছে ভেবে ভুল হতে পারে। হাজংদের মূল এলাকা গারো পাহাড় সংলগ্ন জেলাগুলো।
৩০৩. ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে Household প্রতি জনসংখ্যা- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৪.৪ জন
- খ৫.০ জন
- গ৫.৪ জন
- ঘ৫.৫ জন
সঠিক উত্তর: ক. ৪.৪ জন
খানা বা হাউসহোল্ড মানে একসঙ্গে বাস করে এক চুলায় রান্না করা মানুষের দল। খানাপ্রতি জনসংখ্যা মানে গড়ে একটি খানায় কতজন থাকেন।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে খানার গড় আকার ছিল ৪ দশমিক ৪ জন।
পরিবারের আকার দিন দিন ছোট হচ্ছে, কারণ জন্মহার কমছে আর যৌথ পরিবারের জায়গায় একক পরিবার বাড়ছে। পরের শুমারিতে খানার আকার আরও কমেছে।
পাঁচের বেশি বিকল্পগুলো পুরোনো দিনের বড় পরিবারের ধারণা থেকে আসে; ২০১১ সালের হিসাবে খানা অনেক ছোট।
৩০৪. যে বিভাগে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঢাকা বিভাগ
- খরাজশাহী বিভাগ
- গবরিশাল বিভাগ
- ঘখুলনা বিভাগ
সঠিক উত্তর: ক. ঢাকা বিভাগ
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: বরিশাল বিভাগ। এখন: ঢাকা বিভাগ (জনশুমারি ২০২২)।
প্রশ্নটি বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার নিয়ে, আর পরীক্ষার সময়, ২০১৬ সালে, প্রচলিত তথ্য ছিল ২০১১ সালের হিসাব। তখন বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি আর সিলেটে সবচেয়ে কম ছিল।
যেমন ২০১১ সালের সাক্ষরতা মূল্যায়ন জরিপে বরিশালের হার ছিল ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ, আর সিলেটের ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
সাক্ষরতার মতো সূচক সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই উত্তর পরীক্ষার বছরের তথ্য দিয়ে বিচার করতে হয়।
রাজধানী থাকায় ঢাকা বিভাগকেই সবচেয়ে এগিয়ে ভাবা সাধারণ ভুল। পরীক্ষার সময়ের হিসাবে বরিশাল এগিয়ে ছিল।
৩০৫. ২০১৫-১৬ অর্থবছের বাংলাদেশের অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬.৮৫%
- খ৬.৯৭%
- গ৭.০০%
- ঘ৭.৫%
সঠিক উত্তর: গ. ৭.০০%
প্রশ্নটি ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার জানতে চেয়েছে। ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৭ শতাংশ। প্রশ্নে ছাপা অর্থবছের শব্দটি আসলে অর্থবছরের।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে অর্জন ছিল ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, আর পরে প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এই প্রথম বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ায়।
বিকল্পগুলোর কোনোটিই হুবহু মেলে না; ৭ শতাংশের বিকল্পটি সবচেয়ে কাছের, তাই এটিই প্রচলিত উত্তর।
৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ দেখতে খুব কাছাকাছি, কিন্তু সেটি ৭ শতাংশের নিচে; অথচ এ বছরের মূল খবরই ছিল প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানো।
৩০৬. বাংলাদেশে তৈরি জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ রপ্তানি হয়েছে- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কফিনল্যান্ড
- খডেনমার্কে
- গনরওয়েতে
- ঘসুইডেনে
সঠিক উত্তর: খ. ডেনমার্কে
স্টেলা মেরিস বাংলাদেশে তৈরি প্রথম রপ্তানিকৃত সমুদ্রগামী জাহাজ। আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেড এটি তৈরি করে।
২০০৮ সালের ১৫ মে জাহাজটি ডেনমার্কের স্টেলা শিপিং কোম্পানির কাছে রপ্তানি করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখায়।
পরে একই ক্রেতার জন্য আনন্দ শিপইয়ার্ড স্টেলা মুন নামে আরেকটি জাহাজও তৈরি করে। জাহাজের নামের স্টেলা অংশটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মেলে, যা মনে রাখার সহজ সূত্র।
ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন সবই উত্তর ইউরোপের সমুদ্রনির্ভর দেশ, তাই বিকল্পগুলো কাছাকাছি মনে হয়। স্টেলা শিপিং ডেনমার্কের, এটুকু মনে রাখলেই হয়।
৩০৭. বেনাপোল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপেট্রাপোল
- খকৃষ্ণনগড়
- গডউকি
- ঘমোহাদিপুর
সঠিক উত্তর: ক. পেট্রাপোল
বেনাপোল যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর। এর ঠিক ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর।
ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে সড়কপথের প্রধান বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল এই জোড়া বন্দর দিয়েই হয়।
অন্য পরিচিত জোড়া: সিলেটের তামাবিলের বিপরীতে মেঘালয়ের ডাউকি, আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের মাহাদিপুর।
স্থলবন্দরের নাম জোড়ায় জোড়ায় মনে রাখতে হয়। ডাউকি ও মাহাদিপুরও সত্যিকারের ভারতীয় স্থলবন্দর, শুধু বেনাপোলের বিপরীতে নয়; এটাই এখানে ফাঁদ।
৩০৮. বাংলাদেশে সরকারি EPZ সংখ্যা – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬টি
- খ৮টি
- গ১০টি
- ঘ১২টি
সঠিক উত্তর: খ. ৮টি
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড হলো রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধাযুক্ত এলাকা। সরকারি ইপিজেডগুলো পরিচালনা করে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা।
বেপজার অধীন ইপিজেড ৮টি: চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, কুমিল্লা, উত্তরা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী ও আদমজী। প্রথমটি চট্টগ্রাম ইপিজেড, ১৯৮৩ সালে চালু।
ঢাকা ইপিজেড সাভারে, উত্তরা ইপিজেড নীলফামারীতে, আর আদমজী ইপিজেড নারায়ণগঞ্জে, বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের জায়গায়।
বেসরকারি কোরিয়ান ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এ হিসাবের বাইরে। এগুলো যোগ করলে সংখ্যা বেড়ে যায় আর বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
৩০৯. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কচীন
- খভারত
- গযুক্তরাজ্য
- ঘথাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর: ক. চীন
প্রশ্নের ভাষা খেয়াল করুন: বাংলাদেশে রপ্তানি করে, অর্থাৎ কোন দেশ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য পাঠায়। অন্যভাবে বললে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে কোন দেশ থেকে।
উত্তর চীন। যন্ত্রপাতি, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল যেমন কাপড় ও সুতা, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীন; দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত।
উল্টো দিকে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে, যা বিকল্পে নেই। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, আর জোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার।
প্রতিবেশী বলে অনেকে ভারত বেছে নেন; ভারত বড় আমদানি উৎস হলেও চীনের পরে। আর বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে, এই দুই কথার পার্থক্য না বুঝলেই ভুল হয়।
মনে রাখুন: প্রশ্নে বাংলাদেশে না বাংলাদেশ থেকে, সেটি আগে ঠিক করুন।
৩১০. বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করে – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কব্র্যাক ব্যাংক
- খডাচ-বাংলা ব্যাংক
- গএবি ব্যাংক
- ঘসোনালী ব্যাংক
সঠিক উত্তর: খ. ডাচ-বাংলা ব্যাংক
মোবাইল ব্যাংকিং মানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা পাঠানো, তোলা ও লেনদেনের সেবা। বাংলাদেশে প্রথম এ সেবা চালু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ২০১১ সালের মার্চে।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই সেবা এখন রকেট নামে পরিচিত। একই বছরের মাঝামাঝি ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ যাত্রা শুরু করে।
ব্যাংক হিসাব ছাড়াই গ্রামের মানুষকে আর্থিক সেবায় আনতে এ সেবা বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিকাশ সবচেয়ে জনপ্রিয় বলে অনেকে ব্র্যাক ব্যাংক বেছে নেন। কিন্তু বিকাশ চালু হয় ডাচ-বাংলার কয়েক মাস পরে।
৩১১. ট্যারিফ কমিশন কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবাণিজ্য মন্ত্রণালয়
- খঅর্থ মন্ত্রণালয়
- গপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
- ঘশিল্প মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর: ক. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এটি শুল্কহার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, ডাম্পিংবিরোধী ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়।
নামের ট্যারিফ বা শুল্ক অংশ দেখে অনেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ভাবেন। কিন্তু শুল্ক আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন; আর ট্যারিফ কমিশন কাজ করে বাণিজ্যনীতির দিক থেকে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আরও আছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।
শিল্প মন্ত্রণালয় দেশীয় শিল্পের প্রসার দেখে, তাই বিকল্পটি কাছাকাছি মনে হয়। তবে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির পরামর্শক এই কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন।
মনে রাখুন: শুল্ক আদায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে, শুল্কনীতির পরামর্শ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।
৩১২. বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপ্রথম
- খদ্বিতীয়
- গসপ্তম
- ঘঅষ্টম
সঠিক উত্তর: গ. সপ্তম
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয় সপ্তম জাতীয় সংসদে। সপ্তম সংসদের মেয়াদ ছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল।
সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালে বুধবারের প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত থাকে। এ সময় সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারেন।
ধারণাটি ব্রিটিশ সংসদের প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস থেকে এসেছে, যেখানেও বুধবার প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর দেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর থেকেই এটি চালু ছিল ভেবে ভুল হয়। আর অষ্টম সংসদ সপ্তমের ঠিক পরের, তাই সেটিও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
৩১৩. মাত্র ১টি সংসদীয় আসন – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কলক্ষ্মীপুর জেলায়
- খমেহেরপুর জেলায়
- গঝালকাঠী জেলায়
- ঘরাঙামাটি জেলায়
সঠিক উত্তর: ঘ. রাঙামাটি জেলায়
জাতীয় সংসদের তিনশো আসন মূলত জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাগুলোতে ভাগ করা। কম জনসংখ্যার জেলায় আসন কম, আর তিন পার্বত্য জেলায় একটি করে আসন।
রাঙামাটি জেলায় একটিই আসন, যার নম্বর ২৯৯। খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আর বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসন।
অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে মেহেরপুর ও ঝালকাঠিতে দুটি করে আসন, আর লক্ষ্মীপুরে চারটি আসন।
মেহেরপুর দেশের ছোট জেলাগুলোর একটি, তাই অনেকে সেখানে একটি আসন ভাবেন। কিন্তু মেহেরপুরে মেহেরপুর এক ও মেহেরপুর দুই নামে দুটি আসন আছে।
মনে রাখুন: একটি আসনের জেলা মানেই তিন পার্বত্য জেলা: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান।
৩১৪. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলমগীর কবির
- খখান আতাউর রহমান
- গহুমায়ূন আহমেদ
- ঘসুভাষ দত্ত
সঠিক উত্তর: ক. আলমগীর কবির
ধীরে বহে মেঘনা ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, এর পরিচালক আলমগীর কবির। প্রামাণ্যচিত্র ও কাহিনির মিশেলে তৈরি এ ছবি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাষী নজরুল ইসলামের ওরা এগারো জন, ১৯৭২ সালে।
অন্য বিকল্পের পরিচালকদেরও মুক্তিযুদ্ধের ছবি আছে: খান আতাউর রহমানের আবার তোরা মানুষ হ, সুভাষ দত্তের অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, আর হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি।
সবাই মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানিয়েছেন বলে শুধু বিষয় দিয়ে উত্তর মেলানো যায় না। ছবির নাম ও পরিচালক জোড়ায় মনে রাখতে হয়।
৩১৫. জাতীয় সংসদে ‘কাস্টিং’ ভোট কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসংসদ নেতার ভোট
- খহুইপের ভোট
- গস্পিকারের ভোট
- ঘরাষ্ট্রপতির ভোট
সঠিক উত্তর: গ. স্পিকারের ভোট
সংসদে কোনো প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে সিদ্ধান্ত আটকে যায়। তখন সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি, সাধারণত স্পিকার, যে নির্ণায়ক ভোট দেন তাকে কাস্টিং ভোট বলে।
সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদে এ বিধান আছে। সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি সাধারণ অবস্থায় ভোট দেন না; শুধু সমতা হলে কাস্টিং ভোট দেন, যাতে তাঁর নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
সংসদ নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী, আর হুইপ দলের সদস্যদের শৃঙ্খলা ও উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য নন, তাই সংসদের ভোটাভুটিতে অংশ নেন না।
নির্ণায়ক ভোট শুনে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির কথা মনে আসে, তাই কেউ রাষ্ট্রপতি বা সংসদ নেতা বেছে নেন। কিন্তু ভোটের সমতা ভাঙেন সভার সভাপতি, অর্থাৎ স্পিকার।
৩১৬. NILG এর পূর্ণরূপ- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কNational Information Legal Guide
- খNational Institute Local Government
- গNational Identity Licence Guide
- ঘNational Industrial League Group
সঠিক উত্তর: খ. National Institute Local Government
এনআইএলজি মানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লোকাল গভর্নমেন্ট, বাংলায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট।
প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।
সংক্ষিপ্ত রূপের প্রশ্নে প্রতিটি অক্ষর মিলিয়ে দেখা কাজের কৌশল: এন মানে ন্যাশনাল, আই মানে ইনস্টিটিউট, এল মানে লোকাল, জি মানে গভর্নমেন্ট।
অন্য বিকল্পগুলোও একই চার অক্ষর দিয়ে বানানো, তাই শুধু অক্ষর মেলালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানটির কাজ জানলেই সঠিক পূর্ণরূপ চেনা যায়।
৩১৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২৬
- খ২৭
- গ২৮
- ঘ৩১
সঠিক উত্তর: ক. ২৬
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ২৭। এখন: ২৬টি (২০১৮ থেকে)।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস বিভিন্ন ক্যাডারে বিভক্ত, যেমন প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। পরীক্ষার সময়, ২০১৬ সালে, ক্যাডারের সংখ্যা ছিল ২৭টি।
২০১৮ সালে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ফলে ক্যাডারের সংখ্যা কমে ২৬টি হয়।
এখনকার বইয়ে তাই ২৬ লেখা থাকে, আর সেটি দেখেই কিছু গাইড এ প্রশ্নের উত্তর ২৬ দিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার সময়ের সঠিক উত্তর ২৭।
সময়নির্ভর প্রশ্নে সবসময় পরীক্ষার বছর মাথায় রাখুন। বর্তমান সংখ্যা দিয়ে পুরোনো প্রশ্নের উত্তর দিলে ভুল হয়।
৩১৮. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ আছে- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৩০
- খ১৩১
- গ১৩৭
- ঘ১৪০
সঠিক উত্তর: গ. ১৩৭
সংবিধানের নবম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কিত বিধান আছে। এর প্রথম অনুচ্ছেদ ১৩৭, যেখানে কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
পরের অনুচ্ছেদগুলো ক্রমানুসারে: ১৩৮ সদস্য নিয়োগ, ১৩৯ পদের মেয়াদ, ১৪০ কমিশনের দায়িত্ব, আর ১৪১ বার্ষিক রিপোর্ট।
অষ্টম ভাগের ১২৭ থেকে ১৩২ অনুচ্ছেদ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সম্পর্কিত; ১৩০ ও ১৩১ সেই অংশের।
১৪০ বিকল্পটি সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর, কারণ সেখানেও কমিশনের কথা আছে। কিন্তু ১৪০ অনুচ্ছেদ কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে, প্রতিষ্ঠা নিয়ে নয়।
৩১৯. বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম অনারব মুসলিম দেশ কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসেনেগাল
- খমালয়েশিয়া
- গমালদ্বীপ
- ঘপাকিস্তান
সঠিক উত্তর: ক. সেনেগাল
প্রশ্নটি দুটি শর্ত দিয়েছে: দেশটি মুসলিমপ্রধান, কিন্তু আরব নয়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী এ দুই শর্ত পূরণ করা প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশ পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, যা আফ্রিকার প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশও।
প্রচলিত হিসাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার স্বীকৃতি আসে সেনেগালের পরে। আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ইরাক, আর পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৪ সালে, লাহোরে ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনের সময়।
স্বীকৃতির প্রশ্নে বিভাগ অনুযায়ী প্রথম দেশগুলো মনে রাখুন: সব মিলিয়ে প্রথম ভুটান, ইউরোপে পূর্ব জার্মানি, আফ্রিকায় ও অনারব মুসলিম দেশে সেনেগাল, আরবে ইরাক।
মালয়েশিয়া এশিয়ার মুসলিম দেশ বলে অনেকে সেটি বেছে নেন। পাকিস্তান বেছে নেওয়াও ভুল, কারণ দেশটি স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক পরে।
মনে রাখুন: প্রথম ভুটান, ইউরোপে পূর্ব জার্মানি, আফ্রিকা ও অনারব মুসলিমে সেনেগাল, আরবে ইরাক।
৩২০. বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবীর প্রতীক
- খবীরশ্রেষ্ঠ
- গবীর উত্তম
- ঘবীর বিক্রম
সঠিক উত্তর: ঘ. বীর বিক্রম
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য চারটি খেতাব দেওয়া হয়। মর্যাদার ক্রম অনুযায়ী এগুলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
তাই তৃতীয় খেতাব বীর বিক্রম। খেতাবগুলো ১৯৭৩ সালে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন সাতজন, সবাই শহীদ। বাকি তিন খেতাবের প্রাপক অনেক বেশি, এবং তাঁদের মধ্যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাও আছেন।
বীর প্রতীক ও বীর বিক্রমের ক্রম গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল। মনে রাখুন, বীর প্রতীক সবার শেষে, চতুর্থ।