বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৩
৪১. বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপ্রেসিডেন্ট
- খজাতীয় সংসদ
- গবাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
- ঘহাই কোর্ট
সঠিক উত্তর: গ. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সংবিধানের রক্ষক বা অভিভাবক কে। উত্তর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, কারণ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার এবং সংবিধানবিরোধী আইন বা কাজকে অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ বলে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন, এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকু বাতিল। আর ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে রিট জারি করতে পারে। একে বিচারিক পর্যালোচনা বলে।
সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ। হাইকোর্ট আলাদা কোনো আদালত নয়, সুপ্রিম কোর্টেরই একটি বিভাগ; তাই পুরো প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টই সংবিধানের অভিভাবক।
রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট বা আইন প্রণেতা হওয়ায় জাতীয় সংসদ বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে সবসময় সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট।
৪২. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য সংবিধানের যে সংশোধন বাতিল করতে হবে- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপঞ্চদশ
- খদ্বাদশ
- গএকাদশ
- ঘত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর: ক. পঞ্চদশ
প্রশ্নটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্ম ও বিলুপ্তির সংশোধনী চিনতে চেয়েছে। ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। তাই ব্যবস্থাটি ফিরিয়ে আনতে হলে পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করতে হবে, এটিই পরীক্ষার সময়ের যুক্তি।
এখানে প্রধান ফাঁদ ত্রয়োদশ সংশোধনী। ত্রয়োদশ সংশোধনী ব্যবস্থাটি এনেছিল; তা বাতিল করলে ব্যবস্থা ফিরে আসবে না, বরং আরও দূরে সরে যাবে। দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতি ফিরিয়ে আনে, আর একাদশ সংশোধনী একই বছরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রধান বিচারপতি পদে ফেরার বিষয় বৈধ করে।
মনে রাখুন: যে সংশোধনী কোনো ব্যবস্থা বাতিল করেছে, সেটি বাতিল করলেই ব্যবস্থা ফেরে।
৪৩. জুলাই শহিদ দিবস কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০১ জুলাই
- খ২৯ জুলাই
- গ০৫ আগস্ট
- ঘ১৬ জুলাই
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৬ জুলাই
প্রশ্নটা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ঘোষিত দিবসগুলোর একটি জানতে চেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৬ জুলাইকে জুলাই শহিদ দিবস ঘোষণা করেছে, আর ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই দিনটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। শুরুতে দিনটির নাম শহিদ আবু সাঈদ দিবস প্রস্তাব করা হয়েছিল, পরে নাম বদলে জুলাই শহিদ দিবস রাখা হয়।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন, তাই এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। শহিদ দিবস আর গণঅভ্যুত্থান দিবস গুলিয়ে ৫ আগস্ট বেছে নেওয়াই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শহিদ দিবস মানে প্রথম শহিদের দিন, ১৬ জুলাই; অভ্যুত্থান দিবস মানে বিজয়ের দিন, ৫ আগস্ট।
৪৪. বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কবে শপথ গ্রহণ করেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট
- খ২০২৪ সালের ০৮ আগস্ট
- গ২০২৪ সালের ০৬ আগস্ট
- ঘ২০২৪ সালের ০৯ আগস্ট
সঠিক উত্তর: খ. ২০২৪ সালের ০৮ আগস্ট
প্রশ্নটা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শপথের তারিখ জানতে চেয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন; রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান।
ঘটনাগুলো পরপর সাজালে উত্তর সহজ হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। ৮ আগস্ট ড. ইউনূস দেশে ফেরেন এবং সেদিন রাতেই উপদেষ্টা পরিষদসহ শপথ নেন।
৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন হওয়ায় অনেকে সেটিকেই শপথের দিন ভেবে ভুল করেন; ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না।
মনে রাখুন: পাঁচে পতন, ছয়ে সংসদ ভাঙা, আটে শপথ।
৪৫. বাংলাদেশে মোট কতবার জরুরি অবস্থা জারী করা হয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক৫ বার
- খ৩ বার
- গ৪ বার
- ঘ৭ বার
সঠিক উত্তর: ক. ৫ বার
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে মোট কতবার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। পরীক্ষার সময় পর্যন্ত মোট পাঁচবার: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯০ ও ২০০৭ সালে।
মূল সংবিধানে জরুরি অবস্থার বিধান ছিল না। ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে নবম-ক ভাগ যোগ করে ১৪১ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, যা এক-এগারো নামে পরিচিত। সাল পাঁচটি মনে রাখলেই গুনে উত্তর পাওয়া যায়; তিন বা চার বলা মানে কোনো একটি সাল বাদ পড়ে যাওয়া।
মনে রাখুন: সাল মনে রাখুন: চুয়াত্তর, একাশি, সাতাশি, নব্বই, সাত।
৪৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল কত সালে আইনে পরিণত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০৭ মার্চ ১৯১৭
- খ১৮ মার্চ ১৯২০
- গ২১ মার্চ ১৯১৯
- ঘ১১ মার্চ ১৯১৮
সঠিক উত্তর: খ. ১৮ মার্চ ১৯২০
প্রশ্নটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সাল জানতে চেয়েছে। দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯২০ সালের মার্চে ভারতীয় আইনসভায় পাস হয় এবং ২৩ মার্চ ১৯২০ গভর্নর জেনারেলের সম্মতি পেয়ে ১৯২০ সালের ১৮ নম্বর আইন হিসেবে কার্যকর হয়।
পটভূমি জানলে সাল গুলিয়ে যায় না। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববঙ্গের ক্ষোভ প্রশমনে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে নাথান কমিটি প্রস্তাব তৈরি করে, আর ১৯১৭ সালে গঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন বা স্যাডলার কমিশন ১৯১৯ সালে প্রতিবেদন দেয়।
এরপর ১৯২০ সালে আইন পাস হয় এবং ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র ১৯২০ সালের তারিখ ১৮ মার্চ, তাই সাল জানলেই উত্তর মেলে।
১৯১৭ ও ১৯১৯ সাল স্যাডলার কমিশনের সঙ্গে যুক্ত বলে চেনা লাগে; এ কারণেই এ দুটি বিকল্প ফাঁদ।
মনে রাখুন: আইন ১৯২০, যাত্রা ১৯২১; বিকল্পে ১৯২০ খুঁজলেই হয়।
৪৭. একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক দুটোই পেয়েছেন- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কভাস্কর শামীম শিকদার
- খভাস্কর হামিদুর রহমান
- গভাস্কর নিতুন কুণ্ডু
- ঘভাস্কর নভেরা আহমেদ
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাস্কর নভেরা আহমেদ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন ভাস্কর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার দুটোই পেয়েছেন। উত্তর নভেরা আহমেদ: তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক এবং ২০২৫ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পান।
নভেরা আহমেদকে বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৬০ সালে ঢাকায় তাঁর প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী হয়, আর তিনি শিল্পী হামিদুর রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশায় কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
বাকি তিনজনও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী: হামিদুর রহমান ১৯৮০ সালে, নিতুন কুণ্ডু ১৯৯৭ সালে, শামীম শিকদার ২০০০ সালে একুশে পদক পান। কিন্তু দুটি পুরস্কারই পাওয়ার তথ্য শুধু নভেরার ক্ষেত্রে আছে।
শহীদ মিনারের সূত্রে হামিদুর রহমানের নাম বেশি পরিচিত, তাই তাঁকে বেছে নেওয়াই এখানে সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: দুই পুরস্কারের প্রশ্নে সাম্প্রতিক স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা দেখুন: ২০২৫ সালে মরণোত্তর পুরস্কার পান নভেরা।
৪৮. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবিকেন্দ্রীভূত
- খফেডারেল
- গরাজতান্ত্রিক
- ঘকেন্দ্রীভূত
সঠিক উত্তর: ঘ. কেন্দ্রীভূত
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ধরন জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র; সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদেই বলা আছে বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র। তাই প্রশাসনিক কাঠামো কেন্দ্রীভূত।
কেন্দ্রীভূত মানে সব প্রশাসনিক ক্ষমতার উৎস কেন্দ্রীয় সরকার। মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। স্থানীয় সরকার থাকলেও তার ক্ষমতা আইন দিয়ে কেন্দ্রই দেয় এবং কেন্দ্রই নিয়ন্ত্রণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো দেশে অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব সংবিধানস্বীকৃত ক্ষমতা থাকে, একে ফেডারেল কাঠামো বলে; বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য নেই।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দেখে বিকেন্দ্রীভূত বলাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: একক রাষ্ট্র মানেই কেন্দ্রীভূত প্রশাসন; প্রদেশ নেই তো ফেডারেলও নয়।
৪৯. টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসাকিব-আল-হাসান
- খমমিনুল হক
- গনাজমুল হোসেন শান্ত
- ঘমুশফিকুর রহিম
সঠিক উত্তর: ঘ. মুশফিকুর রহিম
প্রশ্নটা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর মুশফিকুর রহিম: ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ঠিক ২০০ রান করেন।
এরপর ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ২১৭ রান করে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হন। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান করে মুশফিক আবার রেকর্ড নিজের করে নেন।
সাকিবের ২১৭ রান এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বলে অনেকে তাঁকেই প্রথম ভেবে ভুল করেন। প্রথম আর সর্বোচ্চ আলাদা প্রশ্ন।
মনে রাখুন: প্রথম ডাবল মুশফিক, দ্বিতীয় সাকিব, সর্বোচ্চ আবার মুশফিক।
৫০. ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় কোন পত্রিকাটি নিষিদ্ধ ছিল? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কদৈনিক ইত্তেফাক
- খবাংলাদেশ অবজার্ভার
- গদৈনিক গণকণ্ঠ
- ঘবাংলাদেশ টাইমস
সঠিক উত্তর: গ. দৈনিক গণকণ্ঠ
প্রশ্নটা ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনের সময় সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা জানতে চেয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র ঘোষণা বাতিল অধ্যাদেশ জারি করে মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেখে বাকি সব বন্ধ করা হয়।
যে চারটি রাখা হয়েছিল: দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার ও বাংলাদেশ টাইমস। বিকল্পের বাকি তিনটি এই তালিকায় আছে, শুধু দৈনিক গণকণ্ঠ নেই। তাই গণকণ্ঠই নিষিদ্ধ পত্রিকা।
গণকণ্ঠ ছিল জাসদ সমর্থিত দৈনিক, সম্পাদক ছিলেন কবি আল মাহমুদ; সরকারের কড়া সমালোচনার জন্য পত্রিকাটি পরিচিত ছিল। ১৬ জুন দিনটিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলো সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করে।
কৌশল হলো উল্টো দিক থেকে ভাবা: চালু থাকা চারটি পত্রিকার নাম মনে রাখলে বাকিটা নিজেই বেরিয়ে আসে।
মনে রাখুন: চালু থাকা চার পত্রিকার নাম মনে রাখুন; তালিকার বাইরেরটিই নিষিদ্ধ।
৫১. ওয়াসফিয়া নাজরীন বিখ্যাত- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅ্যাথলেট হিসেবে
- খক্রিকেটার হিসেবে
- গএভারেস্টজয়ী হিসেবে
- ঘনারী উদ্যোক্তা হিসেবে
সঠিক উত্তর: গ. এভারেস্টজয়ী হিসেবে
প্রশ্নটা ওয়াসফিয়া নাজরীনের পরিচয় জানতে চেয়েছে। তিনি পর্বতারোহী; ২০১২ সালে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন, তাই এভারেস্টজয়ী হিসেবে খ্যাত।
তাঁর বড় অর্জন সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়, যাকে সেভেন সামিট বলে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ওশেনিয়ার কার্স্টেনজ পিরামিড জয় করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেভেন সামিট সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালে তিনি কে টু শৃঙ্গও জয় করেন।
বাংলাদেশের এভারেস্টজয়ীদের মধ্যে প্রথম মুসা ইব্রাহীম, ২০১০ সালে; প্রথম নারী নিশাত মজুমদার, ২০১২ সালের মে মাসে। ওয়াসফিয়া একই মৌসুমে এভারেস্ট জয় করে দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হন। প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী কে, এই প্রশ্নে তাঁর নাম লিখলে ভুল হবে।
মনে রাখুন: ওয়াসফিয়া মানে সেভেন সামিট; প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী নিশাত।
৫২. পাহাড়পুরের 'সোমপুর মহাবিহার' বাংলার কোন শাসন আমলের স্থাপত্য কীর্তির নিদর্শন? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমৌর্য
- খপাল
- গগুপ্ত
- ঘচন্দ্র
সঠিক উত্তর: খ. পাল
প্রশ্নটা পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার কোন রাজবংশের আমলে তৈরি, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর পাল আমল; বিহারটি নির্মাণ করেন পাল রাজা ধর্মপাল, অষ্টম শতকের শেষ ভাগে।
পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক, তাই তাঁদের আমলে বাংলায় বড় বড় বৌদ্ধবিহার গড়ে ওঠে। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এবং উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধবিহার।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে। বাংলাদেশের অন্য দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হলো বাগেরহাটের মসজিদের শহর ও সুন্দরবন।
ফাঁদ হলো মৌর্য ও গুপ্ত। মৌর্য আমলের নিদর্শন হিসেবে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের শিলালিপি পরিচিত, আর গুপ্ত যুগ শেষ হয়েছিল পালদের অনেক আগে। বাংলার বড় বৌদ্ধবিহার শুনেই পাল মনে করুন।
মনে রাখুন: বাংলার বড় বৌদ্ধবিহার মানেই পাল আমল, আর পাহাড়পুর মানেই ধর্মপাল।
৫৩. মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার নেতৃত্ব দেন কে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমোহাম্মদ সোলায়মান
- খআব্দুল খালেক
- গমাহবুব উদ্দিন আহমেদ
- ঘশৈলেন্দ্র কিশোর চৌধুরী
সঠিক উত্তর: গ. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
প্রশ্নটা মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন, তা জানতে চেয়েছে। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে সরকারের শপথ হয়, আর সেখানে গার্ড অব অনারে নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ মহকুমার তৎকালীন পুলিশ প্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
তিনি সহযোদ্ধা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি প্রতিরোধযুদ্ধে যুক্ত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, আর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাজউদ্দীন আহমদ, আর বৈদ্যনাথতলার নাম রাখা হয় মুজিবনগর।
বিকল্পের অন্য নামগুলো এই দায়িত্বের সাথে যুক্ত নয়। আব্দুল খালেক ছিলেন পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং পরে দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রসচিব, তাই পুলিশ শব্দ শুনে তাঁকে বেছে নেওয়া সহজ ফাঁদ।
মনে রাখুন: মুজিবনগরের তিন দায়িত্ব: ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইউসুফ আলী, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান, গার্ড অব অনার দেন মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
৫৪. ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিতে কোন দু'টি বিষয় কেন্দ্রিয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব ছিল? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা
- খঅর্থ ও পররাষ্ট্র
- গস্বরাষ্ট্র ও পরিকল্পনা
- ঘপ্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র
প্রশ্নটা ছয় দফার একটি নির্দিষ্ট দাবি জানতে চেয়েছে: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কোন দুটি বিষয় থাকবে। উত্তর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র; এটি ছয় দফার দ্বিতীয় দফা।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনের বিষয় নির্ধারণী কমিটিতে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা উপস্থাপন করেন। লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, তাই কেন্দ্রের হাতে কেবল দুটি বিষয় রেখে বাকি সব ক্ষমতা প্রদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
অন্য দফাগুলো ক্ষমতা ভাগের বাকি অংশ ঠিক করে। প্রথম দফায় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় সংসদীয় সরকার, তৃতীয় দফায় মুদ্রা, চতুর্থ দফায় কর ও রাজস্ব, পঞ্চম দফায় বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য, আর ষষ্ঠ দফায় প্রদেশের নিজস্ব আধাসামরিক বাহিনী।
ফাঁদ হলো অর্থ ও বৈদেশিক বাণিজ্য। ছয় দফায় মুদ্রা, কর এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষমতা বরং প্রদেশের হাতে চাওয়া হয়েছিল, কারণ পূর্ব পাকিস্তানের আয় পশ্চিমে চলে যাওয়াই ছিল মূল অভিযোগ। প্রশ্নপত্রে কেন্দ্রিয় ছাপা হয়েছে; প্রমিত বানান কেন্দ্রীয়, কারণ ঈয় প্রত্যয় যুক্ত হলে ঈ-কার বসে।
মনে রাখুন: ছয় দফায় কেন্দ্রের ভাগে মাত্র দুটি বিষয়, তাই যে বিকল্পে অর্থ বা বাণিজ্য আছে সেটি বাদ।
৫৫. বাংলার প্রাচীন জনপথ হরিকেল-এর বর্তমান নাম কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসিলেট ও চট্টগ্রাম
- খঢাকা ও ময়মনসিংহ
- গকুমিল্লা ও নোয়াখালী
- ঘরাজশাহী ও রংপুর
সঠিক উত্তর: ক. সিলেট ও চট্টগ্রাম
প্রশ্নটা প্রাচীন বাংলার জনপদ হরিকেলের বর্তমান অবস্থান জানতে চেয়েছে। প্রচলিত মতে হরিকেল ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তের জনপদ, যা বর্তমান সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।
হরিকেল নামাঙ্কিত মুদ্রা কুমিল্লার ময়নামতিতে পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় জনপদটি সমতটের পাশে, আরও পূর্বে আরাকানের দিকে ছিল। বাংলাপিডিয়া এর কেন্দ্র চট্টগ্রাম অঞ্চলে বলে মত দেয়, আর কিছু পরবর্তী পুথিতে হরিকেলকে সিলেটের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
তাই পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম। মনে রাখুন, প্রাচীন জনপদের সীমানা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে, কিন্তু হরিকেলকে সবাই বাংলার পূর্ব প্রান্তেই রাখেন। প্রশ্নপত্রে জনপথ ছাপা হয়েছে, কিন্তু সঠিক শব্দ জনপদ; জনপথ মানে রাস্তা, আর জনপদ মানে প্রাচীন অঞ্চল বা রাজ্য।
অন্য বিকল্পগুলো অন্য জনপদের এলাকা। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল ছিল সমতট, রাজশাহী অঞ্চল পুণ্ড্র ও বরেন্দ্রের অংশ, আর ঢাকা অঞ্চল প্রাচীন বঙ্গ জনপদের সাথে যুক্ত।
মনে রাখুন: মানচিত্রে উত্তরে পুণ্ড্র, মাঝে বঙ্গ, পূর্বে সমতট, আর একেবারে পূর্ব প্রান্তে হরিকেল।
৫৬. বাংলাদেশের কোন বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসিলেট
- খখুলনা
- গবরিশাল
- ঘচট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর: গ. বরিশাল
প্রশ্নটা বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনা চেয়েছে। জনশুমারি ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে কম ঘনত্ব বরিশাল বিভাগে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৬৮৮ জন।
ঘনত্ব মানে মোট জনসংখ্যাকে আয়তন দিয়ে ভাগ করলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন থাকেন। বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা আটটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম, অথচ আয়তনে এটি সবচেয়ে ছোট বিভাগ নয়; তাই প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষও সেখানে সবচেয়ে কম।
উল্টো দিকে সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব ঢাকা বিভাগে, প্রায় ২১৫৬ জন। বিকল্পের অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় প্রায় ৭৮২, সিলেটে ৮৭৩ আর চট্টগ্রামে ৯৭৯ জন।
ফাঁদ হলো খুলনা, কারণ এর ঘনত্বও কম এবং বরিশালের কাছাকাছি। খুলনা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, কিন্তু সর্বনিম্ন বরিশাল।
মনে রাখুন: জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট বিভাগ বরিশাল, ঘনত্বেও সবার নিচে।
৫৭. ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপরিকল্পনা
- খশিল্প
- গবাণিজ্য
- ঘঅর্থ
সঠিক উত্তর: গ. বাণিজ্য
প্রশ্নটা টিসিবি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, তা জানতে চেয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
টিসিবি গঠিত হয় ১৯৭২ সালে। এর মূল কাজ চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্য আমদানি বা সংগ্রহ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা, এবং বাজারে দাম অস্বাভাবিক বাড়লে সরবরাহ বাড়িয়ে তা স্থিতিশীল রাখা।
নামের ট্রেডিং শব্দটিই সূত্র: পণ্য কেনাবেচা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও একই মন্ত্রণালয়ের অধীন।
ফাঁদ হলো শিল্প মন্ত্রণালয়, কারণ কর্পোরেশন শব্দটি দেখে রাসায়নিক শিল্প সংস্থা বা চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার মতো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কথা মনে আসে। কিন্তু টিসিবি কিছু উৎপাদন করে না, কেবল কেনাবেচা করে।
মনে রাখুন: নামে ট্রেডিং মানে কেনাবেচা, আর কেনাবেচার মন্ত্রণালয় বাণিজ্য।
৫৮. বাংলাদেশ সরকার কোন উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভূমি রাজস্ব
- খমূল্য সংযোজন কর
- গআয়কর
- ঘআমদানি শুল্ক
সঠিক উত্তর: খ. মূল্য সংযোজন কর
প্রশ্নটা সরকারের রাজস্বের সবচেয়ে বড় উৎস জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ছিল সবচেয়ে বড় খাত, তারপর আয়কর।
ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর: পণ্য বা সেবার প্রতিটি ধাপে যে মূল্য যোগ হয় তার উপর কর বসে, আর শেষ পর্যন্ত তা পরিশোধ করেন ভোক্তা। বাংলাদেশে ভ্যাট চালু হয় ১৯৯১ সালে। প্রায় সব কেনাকাটায় যুক্ত থাকায় এর আদায় সবচেয়ে বেশি।
আয়কর প্রত্যক্ষ কর, কিন্তু দেশে করদাতার সংখ্যা তুলনামূলক কম, তাই এর অংশ ভ্যাটের চেয়ে ছোট। বাণিজ্য উদারীকরণে শুল্কহার কমানো হয়েছে, তাই আমদানি শুল্কের অংশও ভ্যাটের চেয়ে কম।
ভূমি রাজস্ব ব্রিটিশ আমলে সরকারের প্রধান আয় ছিল; এখন এটি খুব ছোট উৎস এবং আদায় করে ভূমি মন্ত্রণালয়। ইতিহাসের এই তথ্য থেকেই বিকল্পটি ফাঁদ।
মনে রাখুন: রাজস্ব বোর্ডের আদায়ে শীর্ষ দুই মনে রাখুন: প্রথমে ভ্যাট, তারপর আয়কর।
৫৯. মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিজু
- খরাশ
- গসাংগ্রাই
- ঘবাইশু
সঠিক উত্তর: গ. সাংগ্রাই
প্রশ্নটা মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসবের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর সাংগ্রাই, যা পুরোনো বছর বিদায় ও নতুন বছর বরণের সময়, এপ্রিলের মাঝামাঝি পালিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি জাতিসত্তা এই সময়ে বর্ষবরণ উৎসব করে, শুধু নাম আলাদা। মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিজু, ত্রিপুরাদের বৈসু বা বৈসুক। তিনটির আদ্যক্ষর মিলিয়ে পুরো উৎসবটিকে বৈসাবি বলা হয়।
মারমাদের সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে পরিচিত আয়োজন জলকেলি বা পানি খেলা, যেখানে তরুণ তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
বিকল্পের রাস হলো মণিপুরীদের বড় উৎসব, কার্তিক পূর্ণিমায় রাসলীলা হিসেবে পালিত হয়। আর বাইশু নামটি ত্রিপুরাদের বৈসুর কাছাকাছি শোনায় বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: বৈসাবি ভাঙুন: বৈ মানে ত্রিপুরার বৈসু, সা মানে মারমার সাংগ্রাই, বি মানে চাকমার বিজু।
৬০. বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৩-এ বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ রান করেন? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কলিটন দাস
- খমুশফিকুর রহিম
- গসাকিব আল হাসান
- ঘমাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
সঠিক উত্তর: ঘ. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
প্রশ্নটা ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আট ম্যাচে ৩২৮ রান।
তিনি ছিলেন ওই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান; দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় হারের ম্যাচেও তিনি সেঞ্চুরি করেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল চুয়ান্নর বেশি, যা দলের সেরা।
আসরটি হয় ভারতে, আর বাংলাদেশ নয় ম্যাচে মাত্র দুটিতে জেতে। দলের অন্য ব্যাটারদের মধ্যে লিটন দাস করেন ২৮৪, মুশফিকুর রহিম ২০২ এবং সাকিব আল হাসান ১৮৬ রান।
ফাঁদ হলো লিটন দাস, কারণ তিনি ওপেনার এবং রানে মাহমুদউল্লাহর কাছাকাছি। অধিনায়ক সাকিবকেও অনেকে বেছে নেন, কিন্তু চারজনের মধ্যে তাঁর রানই সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন: হতাশার আসরে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহই ছিলেন ব্যাটিংয়ের ভরসা: সর্বোচ্চ রান ও একমাত্র সেঞ্চুরি।