বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৫
৮১. হিলি স্থল বন্দরটি বাংলাদেশের কোথায় অবস্থিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিরামপুর, দিনাজপুর
- খঘোড়াঘাট, দিনাজপুর
- গহাকিমপুর, দিনাজপুর
- ঘপাঁচ বিবি, জয়পুর হাট
সঠিক উত্তর: গ. হাকিমপুর, দিনাজপুর
প্রশ্নটা হিলি স্থলবন্দরের সঠিক উপজেলা জানতে চেয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলা; হিলি এলাকাটি এই উপজেলাতেই।
হিলির অপর পাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল, পেঁয়াজ, আলুসহ নানা পণ্য আমদানি হয়, তাই উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অনেক।
হাকিমপুর উপজেলা অনেকের কাছে হিলি নামেই পরিচিত, আর এটিই প্রশ্নের মূল চাবি। দিনাজপুরের আরেকটি পরিচিত স্থলবন্দর বিরল।
বিকল্পের বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট দিনাজপুরেরই অন্য উপজেলা, আর পাঁচবিবি জয়পুরহাট জেলায়। সবই একই অঞ্চলের নাম বলে বিভ্রান্তি হয়, কিন্তু বন্দরটি হাকিমপুরে।
মনে রাখুন: হিলি মানে হাকিমপুর: দুটো নামই হ দিয়ে শুরু।
৮২. 'ভারত ছাড়' আন্দোলন শুরু হয় - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৯১৭ সালে
- খ১৯২৭ সালে
- গ১৯৩৭ সালে
- ঘ১৯৪২ সালে
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯৪২ সালে
প্রশ্নটা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি বড় পর্বের সাল জানতে চেয়েছে। ভারত ছাড় আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪২ সালে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালের আগস্টে বোম্বাইয়ে কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারত ছাড় প্রস্তাব গৃহীত হয়। গান্ধী ডাক দেন করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে, অর্থাৎ করব নয়তো মরব। পরদিনই গান্ধীসহ শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন, আর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এর ঠিক আগে, ১৯৪২ সালের মার্চে, ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। ভারতীয়দের পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি না পেয়ে কংগ্রেস ব্রিটিশদের অবিলম্বে ভারত ছেড়ে যাওয়ার দাবি তোলে।
বিকল্পের বাকি বছরগুলোও গান্ধী বা ব্রিটিশ শাসনের অন্য ঘটনার বছর: ১৯১৭ সালে চম্পারণ সত্যাগ্রহ, ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন গঠন, ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন। এগুলো চিনে রাখলে বিভ্রান্তি কমে।
মনে রাখুন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝখানে, ক্রিপস মিশনের পর: ১৯৪২।
৮৩. 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি' গঠিত হয় - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৯৪৮ সালে
- খ১৯৫০ সালে
- গ১৯৫২ সালে
- ঘ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৫২ সালে
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনের একটি সংগঠনের গঠনকাল জানতে চেয়েছে। উত্তরমালায় সঠিক ধরা হয়েছে ১৯৫২ সাল।
১৯৫২ সালের জানুয়ারির শেষে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় আবার ঘোষণা দেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সভা করে সব দলের প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়, আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুব।
এই সর্বদলীয় পরিষদই ২১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতাল ও বিক্ষোভের ডাক দেয়। সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল হলে পুলিশের গুলিতে রফিক, জব্বার, বরকতসহ অনেকে শহীদ হন।
সাবধান থাকুন: ১৯৪৮ সালেও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নতুন করে গঠিত হয়েছিল, আর ১৯৫০ সালে আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি হয়। কিন্তু সব দলকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ, যার ডাকে একুশ এসেছে, সেটি ১৯৫২ সালের।
মনে রাখুন: সর্বদলীয় আর কেন্দ্রীয় শব্দ দুটি মানেই ১৯৫২, একুশের ঠিক আগে।
৮৪. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাষ্ট্রপতি
- খস্পীকার
- গচীফ হুইপ
- ঘপ্রধানমন্ত্রী
সঠিক উত্তর: ক. রাষ্ট্রপতি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন। উত্তর রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন। সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন ডাকতে হয়, আর দুই অধিবেশনের মাঝে ৬০ দিনের বেশি বিরতি থাকতে পারে না।
তবে সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি এই কাজটি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করেন। তাই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানমন্ত্রী থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।
স্পিকার অধিবেশন চলাকালে সভাপতিত্ব করেন বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন। কিন্তু অধিবেশন ডাকা আর অধিবেশন পরিচালনা করা আলাদা কাজ।
মনে রাখুন: ডাকেন রাষ্ট্রপতি, চালান স্পিকার।
৮৫. ঐতিহাসিক 'ছয়-দফা' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
- খ২৩ মার্চ ১৯৬৬
- গ২৬ মার্চ ১৯৬৬
- ঘ৩১ মার্চ ১৯৬৬
সঠিক উত্তর: খ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
প্রশ্নটা ছয় দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর ২৩ মার্চ ১৯৬৬।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা উত্থাপন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটি এটি অনুমোদন করে, আর ১৮ মার্চ দলের কাউন্সিলে আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি পুস্তিকা বিতরণ করা হয়। ২৩ মার্চ ইংরেজিতে সিক্স পয়েন্ট ফর্মুলা: আওয়ার রাইট টু লিভ নামে এটি প্রকাশিত হয়; এই দিনটিকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন ধরা হয়।
তাই এই প্রশ্নে দুটি তারিখ আলাদা করতে হবে: উত্থাপন ৫ ফেব্রুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ২৩ মার্চ। ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
এখানে বড় ফাঁদ ৫ ফেব্রুয়ারি, কারণ প্রশ্ন উত্থাপন নয়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা জানতে চেয়েছে। আর ২৬ মার্চ তারিখটি স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: উত্থাপন পাঁচ ফেব্রুয়ারি, ঘোষণা তেইশে মার্চ।
৮৬. 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কশেখ মুজিবুর রহমান
- খশামছুল হক
- গআতাউর রহমান খান
- ঘআবুল হাশিম
সঠিক উত্তর: খ. শামছুল হক
প্রশ্নটা পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক জানতে চেয়েছে। উত্তর শামসুল হক।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সভাপতি হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে থাকলেও তাঁকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়।
শেখ মুজিব পরে ১৯৫৩ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর নাম আওয়ামী লীগের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত বলে অনেকে তাঁকেই বেছে নেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার সময় তিনি ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক নন।
মনে রাখুন: প্রতিষ্ঠাকালে ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সম্পাদক, মুজিব যুগ্ম।
৮৭. 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা' কথাটি সংবিধানের কোন্ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅনুচ্ছেদ : ২
- খঅনুচ্ছেদ : ৩
- গঅনুচ্ছেদ : ৪
- ঘঅনুচ্ছেদ : ৫
সঠিক উত্তর: খ. অনুচ্ছেদ : ৩
প্রশ্নটা সংবিধানের প্রথম ভাগ, অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র অংশ থেকে। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা: এই কথাটি আছে অনুচ্ছেদ ৩ এ।
প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদগুলো রাষ্ট্রের মৌলিক পরিচয় দেয়। অনুচ্ছেদ ১ এ প্রজাতন্ত্রের নাম ও প্রকৃতি, ২ এ রাষ্ট্রের সীমানা, ৩ এ রাষ্ট্রভাষা, ৪ এ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক, আর ৫ এ রাজধানী।
ক্রমটা একটা যুক্তিতে মনে রাখা যায়: আগে দেশ কী, তারপর কোথায়, তারপর কোন ভাষায় কথা বলে, তারপর তার প্রতীক, শেষে রাজধানী।
জাতীয় সংগীত, পতাকা আর ভাষা সবই জাতীয় পরিচয়ের বিষয় বলে অনুচ্ছেদ ৪ বেছে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ভাষার জন্য আলাদা অনুচ্ছেদ, ৩।
মনে রাখুন: এক দেশ, দুই সীমানা, তিন ভাষা, চার প্রতীক, পাঁচ রাজধানী।
৮৮. ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন্ তফসিলে আছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচতুর্থ তফসিল
- খপঞ্চম তফসিল
- গষষ্ঠ তফসিল
- ঘসপ্তম তফসিল
সঠিক উত্তর: খ. পঞ্চম তফসিল
প্রশ্নটা সংবিধানের তফসিল নিয়ে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আছে পঞ্চম তফসিলে।
২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তিনটি নতুন তফসিল যোগ হয়। পঞ্চম তফসিলে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, আর সপ্তম তফসিলে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
ক্রমটা ঘটনার সময় অনুসারে সাজানো: আগে ভাষণ, তারপর ঘোষণা, তারপর মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র। চতুর্থ তফসিলে আছে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি।
ষষ্ঠ আর সপ্তম তফসিল দুটিই স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে, নামের মিল থেকে বিভ্রান্তি হয়। ঘটনার ক্রম মনে রাখলেই ভাষণের জায়গা পঞ্চম।
মনে রাখুন: ঘটনার ক্রমেই তফসিল: ভাষণ পাঁচ, ঘোষণা ছয়, ঘোষণাপত্র সাত।
৮৯. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী "কোর্ট অব্ রেকর্ড" হিসাবে গণ্য - (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কলেবার কোর্ট
- খজজ কোর্ট
- গহাই কোর্ট
- ঘসুপ্রীম কোর্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. সুপ্রীম কোর্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সংবিধান অনুযায়ী কোন আদালত কোর্ট অব রেকর্ড। উত্তর সুপ্রিম কোর্ট।
সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ বলে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অব রেকর্ড হবে এবং আদালত অবমাননার জন্য তদন্ত ও শাস্তির আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাসহ এ ধরনের আদালতের সব ক্ষমতা তার থাকবে।
কোর্ট অব রেকর্ড মানে এমন আদালত, যার রায় ও কার্যধারা স্থায়ী নথি হিসেবে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তী মামলায় প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়; নিজের অবমাননার শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও তার থাকে। আলাদাভাবে ১১১ অনুচ্ছেদ বলে, সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত আইন অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
হাইকোর্ট বিভাগ আলাদা আদালত নয়, এটি সুপ্রিম কোর্টের একটি বিভাগ। তাই সংবিধান মর্যাদাটি দিয়েছে পুরো সুপ্রিম কোর্টকে; হাইকোর্ট বিকল্পটি এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: সংবিধানে কোর্ট অব রেকর্ড একটাই: সুপ্রিম কোর্ট, অনুচ্ছেদ ১০৮।
৯০. বাংলাদেশে মোট কতটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৬ (ছয়) টি
- খ৭ (সাত) টি
- গ৮ (আট) টি
- ঘ৯ (নয়) টি
সঠিক উত্তর: গ. ৮ (আট) টি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে কতটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় পর্যন্ত মোট ৮টি নেওয়া হয়েছিল, আর অষ্টমটি তখন চলমান ছিল।
প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত একটি দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত, আর পঞ্চমটি ১৯৯৭ থেকে ২০০২।
২০০২ এর পর কয়েক বছর দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র দিয়ে কাজ চলে। এরপর ষষ্ঠ পরিকল্পনা ২০১১ থেকে ২০১৫, সপ্তম ২০১৬ থেকে ২০২০, আর অষ্টম ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত।
মাঝে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা আর কৌশলপত্রের বছরগুলো থাকায় অনেকে সাল গুনে বেশি বা কম পরিকল্পনা ধরে নেন। নম্বর ধরে গুনলেই হিসাব মেলে: অষ্টম পর্যন্ত, মানে ৮টি।
মনে রাখুন: পরীক্ষার সময় চলমান পরিকল্পনার নম্বরই মোট সংখ্যা: অষ্টম, তাই ৮টি।
৯১. মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন্ সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২ (দুই) নম্বর
- খ৩ (তিন) নম্বর
- গ৪ (চার) নম্বর
- ঘ৫ (পাঁচ) নম্বর
সঠিক উত্তর: ক. ২ (দুই) নম্বর
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর বিভাজন থেকে। ঢাকা শহর ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।
২ নম্বর সেক্টরে ছিল ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালীর একাংশ। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এ টি এম হায়দার।
এই সেক্টরের গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালও এই সেক্টরের যোদ্ধা ছিলেন।
ঢাকা দেশের মাঝখানে বলে অনেকে ভাবেন এটি আলাদা কোনো সেক্টর বা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলের ১১ নম্বরে। কিন্তু ঢাকা শহর ছিল খালেদ মোশাররফের ২ নম্বর সেক্টরে।
মনে রাখুন: ঢাকা মানেই খালেদ মোশাররফের ২ নম্বর সেক্টর আর ক্র্যাক প্লাটুন।
৯২. 'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায় কত তারিখে অনুমোদন করা হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২ মার্চ, ২০২২
- খ৩ মার্চ, ২০২২
- গ৪ মার্চ, ২০২২
- ঘ৫ মার্চ, ২০২২
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ২ মার্চ, ২০২২। এখন: "জয় বাংলা" এখন আর জাতীয় স্লোগান নয়: ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে।
প্রশ্নটা জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতির তারিখ জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলোর মধ্যে সঠিক ধরা হয়েছে ২ মার্চ ২০২২।
এখানে দুটি তারিখ আলাদা করে জানা দরকার। মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, আর ২ মার্চ ২০২২ এ সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রশ্নে অনুমোদন শব্দ থাকলেও বিকল্পে ২০ ফেব্রুয়ারি নেই; প্রজ্ঞাপনের তারিখটিই উত্তর।
এর পটভূমি ছিল হাইকোর্টের একটি রায়। ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে রায় দেয়, যার ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নেয়।
প্রশ্নে অনুমোদন শব্দ থাকায় অনেকে বিভ্রান্ত হন, কারণ মন্ত্রিসভার বৈঠকের তারিখ বিকল্পে নেই। বিকল্পের চারটি তারিখের মধ্যে কেবল ২ মার্চের সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের যোগ আছে।
মনে রাখুন: বিকল্পে চারটিই মার্চের প্রথম সপ্তাহ; প্রজ্ঞাপনের তারিখ মাসের দ্বিতীয় দিন।
৯৩. বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কবে গঠিত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৬ এপ্রিল ১৯৭২
- খ৭ এপ্রিল ১৯৭২
- গ৮ এপ্রিল ১৯৭২
- ঘ৯ এপ্রিল ১৯৭২
সঠিক উত্তর: গ. ৮ এপ্রিল ১৯৭২
প্রশ্নটা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের তারিখ জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ৮ এপ্রিল ১৯৭২।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৩৪ এর মাধ্যমে কর্ম কমিশন গঠনের বিধান করা হয়, আর প্রচলিত উত্তরে গঠনের তারিখ ধরা হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২। বাংলাপিডিয়া অবশ্য বলছে, এই আদেশের অধীনে দুটি কমিশন ১৯৭২ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরে ১৯৭৭ সালে দুটি কমিশন একীভূত করে একক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন করা হয়, যা ২২ ডিসেম্বর ১৯৭৭ থেকে কাজ শুরু করে। সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদে কমিশনের গঠন ও দায়িত্বের বিধান আছে।
বিকল্পের চারটি তারিখই একই সপ্তাহের, তাই এখানে অনুমানে কাজ হয় না। আদেশের তারিখ ৮ এপ্রিল মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: পিএসসি: বাহাত্তরের আট এপ্রিল, রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর চৌত্রিশ।
৯৪. 'e-TIN' চালু করা হয় কত সালে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২০১৩ সালে
- খ২০১৪ সালে
- গ২০১৫ সালে
- ঘ২০১৬ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ২০১৩ সালে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ই-টিন কবে চালু হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১৩ সালে অনলাইনে ই-টিন নিবন্ধন চালু করে।
টিন মানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর। আগে কাগজে আবেদন করে দশ অঙ্কের টিন নিতে হতো; ২০১৩ সালের ৩০ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইন পোর্টাল চালুর পর ঘরে বসেই বারো অঙ্কের ই-টিন পাওয়া যায়, আর পুরোনো টিনধারীদেরও ই-টিনে নতুন করে নিবন্ধন করতে হয়।
ই-টিন কর ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার প্রথম বড় ধাপ। পরে অনলাইনে রিটার্ন জমা বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থাও চালু হয়।
পরের বছরগুলোর বিকল্প দেখে অনেকে অনলাইন রিটার্নের সময়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ই-টিন এসেছে তারও আগে, ২০১৩ সালে।
মনে রাখুন: ই-টিন মানে তেরো: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন যাত্রার শুরু।
৯৫. কত সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২০১১ সালে
- খ২০১২ সালে
- গ২০১৩ সালে
- ঘ২০১৪ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ২০১২ সালে
প্রশ্নটা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সাল জানতে চেয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রণীত হয় ২০১২ সালে।
বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রথম আইন হয় ২০০২ সালে। পরে ২০০৯ সালে নতুন আইন হয়, আর আন্তর্জাতিক মান আরও ভালোভাবে মানতে ২০১২ সালে আগের আইন বাতিল করে বর্তমান আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
মানি লন্ডারিং মানে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করে তাকে বৈধ অর্থের মতো দেখানো। এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে।
একই সময়ের আরেকটি আইন সন্ত্রাসবিরোধী আইন, যা ২০০৯ সালে প্রণীত হয়ে ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এই দুই আইনের সাল গুলিয়ে যাওয়াই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: মানি লন্ডারিং আইন: দুই, নয়, বারো।
৯৬. দেশের কোন জেলায় সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচট্টগ্রাম
- খফেনী
- গনরসিংদী
- ঘময়মনসিংহ
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ময়মনসিংহ। এখন: গাইবান্ধা (তিস্তা সোলার, ২০০ মেগাওয়াট, ২০২৩)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ের দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেলা জানতে চেয়েছে। উত্তর ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২০ সালের শেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় এবং তখন দেশের সবচেয়ে বড় সৌরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বিকল্পের অন্য তিন জেলায় এর চেয়ে বড় কোনো চালু কেন্দ্র তখন ছিল না।
একটি সূক্ষ্ম বিষয় জেনে রাখা ভালো: পরীক্ষার আগেই, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর চরে ২০০ মেগাওয়াটের তিস্তা সোলার পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছিল; আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় পরীক্ষার পরে, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট। গাইবান্ধা বিকল্পে না থাকায় এই প্রশ্নে ময়মনসিংহই সঠিক।
এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই কোন সময়ের তথ্য চাওয়া হচ্ছে তা খেয়াল রাখুন। অনেকে চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের নাম দেখে সেটি বেছে নেন, কিন্তু সৌরকেন্দ্রের আকার শহরের আকারের উপর নির্ভর করে না।
মনে রাখুন: বিকল্পে গাইবান্ধা না থাকলে বড় সৌরকেন্দ্র মানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর।
৯৭. বাংলাদেশে বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাজশাহী
- খকুমিল্লা
- গচট্টগ্রাম
- ঘগাজীপুর
সঠিক উত্তর: গ. চট্টগ্রাম
প্রশ্নটা বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এটি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহরে অবস্থিত।
দেশের প্রাকৃতিক বনের বড় অংশ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে, তাই বন গবেষণার কেন্দ্রও সেখানে। প্রতিষ্ঠানটি বনজ সম্পদ, কাঠ, বাঁশ, বেত, বনজ উদ্ভিদের চাষ ও সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা ধরে মনে রাখা সুবিধা। গাজীপুরে কৃষি ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুমিল্লার কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রাজশাহীতে রেশম গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর চট্টগ্রামে বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
গাজীপুরে অনেক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকায় অনেকে বন গবেষণাও সেখানেই ধরে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: বন যেখানে বেশি, বন গবেষণাও সেখানে: চট্টগ্রাম।
৯৮. বাংলাদেশের মৎস্য প্রজাতি গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচাঁদপুর
- খফরিদপুর
- গময়মনসিংহ
- ঘভোলা
সঠিক উত্তর: গ. ময়মনসিংহ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে দেশের মাছ নিয়ে গবেষণার মূল কেন্দ্র কোথায়। এ কাজের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, আর এর সদর দপ্তর ময়মনসিংহে।
ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। সদর দপ্তরের সাথেই আছে স্বাদুপানি কেন্দ্র, যেখানে দেশি মাছের প্রজনন, পোনা উৎপাদন আর বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষার গবেষণা হয়। ২০২০ সালে ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরে দেশি মাছের একটি জিন ব্যাংকও চালু হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের অন্য কেন্দ্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের মাছ নিয়ে কাজ করে। চাঁদপুরে নদী কেন্দ্র, যেখানে মূলত ইলিশ নিয়ে গবেষণা হয়; খুলনায় লোনাপানি কেন্দ্র; আর কক্সবাজারে সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ চাঁদপুর, কারণ ইলিশ গবেষণার জন্য নামটি খুব পরিচিত। কিন্তু সেটি একটি বিশেষায়িত নদী কেন্দ্র; সদর দপ্তর ও প্রজাতি নিয়ে মূল গবেষণা ময়মনসিংহে।
মনে রাখুন: মাছ গবেষণার প্রশ্নে আগে ময়মনসিংহ ভাবুন; শুধু ইলিশের কথা থাকলে তবেই চাঁদপুর।
৯৯. বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককয়লা
- খপ্রাকৃতিক গ্যাস
- গচুনাপাথর
- ঘচীনামাটি
সঠিক উত্তর: খ. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রশ্নটা দেশের খনিজ সম্পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস, কারণ মজুদ ও ব্যবহারের দিক থেকে অন্য কোনো খনিজ এর ধারেকাছে নেই।
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এরপর তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, বিবিয়ানাসহ বহু ক্ষেত্র পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প, বাসাবাড়ি ও যানবাহন, সবখানেই এই গ্যাস জ্বালানি।
অন্য খনিজগুলোও দেশে আছে, তবে সীমিত। কয়লা তোলা হয় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে, চুনাপাথর পাওয়া যায় সুনামগঞ্জের টাকেরঘাট ও জয়পুরহাটে, আর সাদামাটি বা চীনামাটি নেত্রকোনার বিজয়পুরে।
ফাঁদ হলো কয়লা, কারণ বিশ্বের অনেক দেশে কয়লাই প্রধান খনিজ। বাংলাদেশে কয়লা খনি মাত্র কয়েকটি এবং উৎপাদন কম, তাই এখানে প্রধান সম্পদ গ্যাস।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের প্রধান খনিজ, প্রধান বাণিজ্যিক জ্বালানি, ইউরিয়া সারের কাঁচামাল: তিন প্রশ্নেরই উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
১০০. ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপ্রাকৃতিক গ্যাস
- খচুনাপাথর
- গমিথেন গ্যাস
- ঘইলমেনাইট
সঠিক উত্তর: ক. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রশ্নটা ইউরিয়া সার কোন কাঁচামাল থেকে তৈরি হয় তা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের ইউরিয়া সার কারখানাগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে চলে, তাই উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
ইউরিয়াতে আছে কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন। কারখানায় প্রথমে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বাষ্প থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করে বাতাসের নাইট্রোজেনের সাথে মিলিয়ে অ্যামোনিয়া বানানো হয়। এরপর অ্যামোনিয়ার সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশিয়ে ইউরিয়া তৈরি হয়, আর এই কার্বন ডাই অক্সাইডও আসে গ্যাস থেকেই।
গ্যাস এখানে দুই কাজ করে: কাঁচামাল হিসেবে হাইড্রোজেন ও কার্বন জোগায়, আবার কারখানা চালানোর জ্বালানিও দেয়। তাই গ্যাসের সরবরাহ কমলে সার উৎপাদনও কমে যায়।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, তাই মিথেন গ্যাস বিকল্পটি বিভ্রান্তিকর। কিন্তু কারখানায় পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসই কাঁচামাল হিসেবে ঢোকে, আলাদা করে মিথেন নয়; তাই প্রত্যাশিত উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
মনে রাখুন: ইউরিয়া কারখানার নাম শুনলেই গ্যাস মনে করুন: অ্যামোনিয়ার হাইড্রোজেন আর ইউরিয়ার কার্বন দুটোই আসে গ্যাস থেকে।