বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২
২১. বাংলাদেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঢাকা উত্তর
- খকুমিল্লা
- গময়মনসিংহ
- ঘরংপুর
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ময়মনসিংহ। এখন: বগুড়া (গেজেট মে ২০২৬)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় উত্তর ময়মনসিংহ, যা ২০১৮ সালের এপ্রিলে দেশের দ্বাদশ সিটি কর্পোরেশন হিসেবে অনুমোদন পায়।
বিকল্পের অন্যগুলো আগেই সিটি কর্পোরেশন হয়েছিল। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় এবং একই বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভেঙে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ করা হয়। ২০১২ সালের জুনে রংপুর সিটি কর্পোরেশন হয়।
সর্বশেষ প্রশ্নে সালগুলো পাশাপাশি সাজালে উত্তর সহজ হয়; রংপুর বিভাগীয় শহর হওয়ায় অনেকে একে নতুন ভেবে ভুল করেন।
মনে রাখুন: সর্বশেষের প্রশ্নে সাল সাজান; পরীক্ষার সময় শেষ ছিল ময়মনসিংহ ২০১৮।
২২. সংস্কার কমিশন নতুন সংস্কার প্রস্তাবে বাংলাদেশ সংসদের উচ্চ কক্ষে _______ টি আসন প্রস্তাব করে। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক২৫
- খ৫০
- গ৭৫
- ঘ১০০
সঠিক উত্তর: ঘ. ১০০
প্রশ্নটা অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশনের দ্বিকক্ষ সংসদের প্রস্তাব নিয়ে। কমিশন উচ্চকক্ষে মোট ১০৫টি আসনের প্রস্তাব দেয়, যার ১০০টি দলগুলোর জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে বণ্টন হবে, আর ৫টি আসনে রাষ্ট্রপতি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবেন।
বিকল্পে ১০৫ নেই, তাই প্রশ্নকর্তা সংখ্যানুপাতিক ভোটে নির্বাচিত ১০০টি আসনকেই বুঝিয়েছেন। নিম্নকক্ষে প্রস্তাবিত আসন ৪০০, যার ১০০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচনে পূরণ হবে। দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট ৫০৫ আসন।
পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদেও উচ্চকক্ষ ১০০ সদস্যের রাখা হয়। মনে রাখবেন, প্রস্তাবিত নিম্নকক্ষের নারী আসনও ১০০; তাই উচ্চকক্ষ আর নিম্নকক্ষের হিসাব আলাদা করে মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: উচ্চকক্ষ একশো পাঁচ: একশো ভোটের অনুপাতে, পাঁচ মনোনীত।
২৩. বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষাকর্তা কে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপ্রধান বিচারপতি
- খপ্রধানমন্ত্রী
- গসেনাবাহিনী প্রধান
- ঘরাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর: ক. প্রধান বিচারপতি
প্রশ্নটা সংবিধানের রক্ষাকর্তা জানতে চেয়েছে। প্রকৃত অর্থে সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারী সুপ্রিম কোর্ট, কারণ সংবিধানবিরোধী আইন বা কাজ অবৈধ ঘোষণার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের।
বিকল্পে সুপ্রিম কোর্ট নেই, তাই সবচেয়ে কাছের উত্তর প্রধান বিচারপতি। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান, তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নামে অভিহিত। এভাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে রক্ষাকর্তা ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান এবং শপথে সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করেন, তাই অনেকে রাষ্ট্রপতি বেছে নেন। কিন্তু সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা ও বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই; এটিই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: সুপ্রিম কোর্ট বিকল্পে না থাকলে তার প্রধান, প্রধান বিচারপতিকেই বেছে নিন।
২৪. কোন মুসলিম চিন্তাবিদ প্রথম 'দ্বি-জাতি তত্ত্ব' সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কআল্লামা ইকবাল
- খসৈয়দ আহমদ খান
- গমোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
- ঘমওলানা আকরম খাঁ
সঠিক উত্তর: খ. সৈয়দ আহমদ খান
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মুসলিম চিন্তাবিদ প্রথম স্পষ্টভাবে দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণা দেন। প্রচলিত উত্তর স্যার সৈয়দ আহমদ খান, যিনি উনিশ শতকের শেষ ভাগে বলেন হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি।
সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৮৭৫ সালে তিনি আলীগড়ে মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হয়। মুসলমানদের আলাদা শিক্ষা ও রাজনৈতিক স্বার্থের পক্ষে তাঁর যুক্তি থেকেই দ্বিজাতি ধারণার সূচনা ধরা হয়।
পরে এই ধারণা রাজনৈতিক রূপ পায়। আল্লামা ইকবাল ১৯৩০ সালে এলাহাবাদে মুসলিম লীগের অধিবেশনে উত্তর পশ্চিম ভারতে মুসলমানদের আলাদা রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেন, আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনে দ্বিজাতি তত্ত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
ফাঁদ হলো জিন্নাহ, কারণ তিনিই তত্ত্বটিকে পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি বানান। কিন্তু প্রশ্নে প্রথম শব্দটি আছে; প্রথম ধারণা দেন সৈয়দ আহমদ খান, জিন্নাহ তা প্রচার ও প্রয়োগ করেন।
মনে রাখুন: দ্বিজাতি তত্ত্বের তিন ধাপ: ধারণা সৈয়দ আহমদের, স্বপ্ন ইকবালের, রাজনৈতিক দাবি জিন্নাহর।
২৫. কোন বছর পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক১৯৫২
- খ১৯৫৪
- গ১৯৫৬
- ঘ১৯৬৯
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৫৬
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে পাকিস্তান সরকার কবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়। চূড়ান্ত সাংবিধানিক স্বীকৃতি আসে ১৯৫৬ সালে, পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে।
১৯৫৬ সালের সংবিধানের ২১৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু ও বাংলা। সংবিধানটি গৃহীত হয় ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং কার্যকর হয় ২৩ মার্চ ১৯৫৬।
এর পেছনে ছিল দীর্ঘ আন্দোলন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চূড়া; ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করে, আর ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা আইনি রূপ পায়।
ফাঁদ হলো ১৯৫৪, কারণ সে বছর গণপরিষদে প্রস্তাব পাস হয়। কিন্তু প্রস্তাব আর সাংবিধানিক স্বীকৃতি আলাদা; প্রশ্নটি স্বীকৃতির, তাই উত্তর ১৯৫৬।
মনে রাখুন: বায়ান্নয় রক্ত, চুয়ান্নয় প্রস্তাব, ছাপ্পান্নয় সংবিধানে স্বীকৃতি।
২৬. 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- করসায়ন বিজ্ঞান
- খগণিত
- গইতিহাস
- ঘপদার্থ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর: ঘ. পদার্থ বিজ্ঞান
প্রশ্নটা তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর পদার্থবিজ্ঞান।
ভাষা আন্দোলনের সূচনায় তাঁর ভূমিকা বড়। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন, আর ১৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু নামে পুস্তিকা প্রকাশ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে এটি প্রথম দিকের সংগঠিত লিখিত উদ্যোগ।
বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও তিনি বাংলা মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পক্ষে ছিলেন। পরে ঢাকায় বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্ব দেন।
বিজ্ঞানের শিক্ষক ভাষা আন্দোলনের নেতা, এই অমিলই প্রশ্নের মূল চমক। ভাষা ও সংস্কৃতির সংগঠন দেখে ইতিহাসের মতো মানবিক বিষয় ভাবা স্বাভাবিক, কিন্তু তিনি ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক।
মনে রাখুন: তমদ্দুন মজলিসের নেতা বিজ্ঞানের মানুষ: পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, পরে বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
২৭. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'জল্লাদের দরবার' এর রচয়িতা কে ছিলেন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ককল্যাণ মিত্র
- খরাজু আহমেদ
- গএম আর আকতার মুকুল
- ঘনারায়ণ ঘোষ (মিতা)
সঠিক উত্তর: ক. কল্যাণ মিত্র
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান জল্লাদের দরবার কে লিখেছিলেন, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর নাট্যকার কল্যাণ মিত্র।
জল্লাদের দরবার ছিল রূপকধর্মী ধারাবাহিক নাটক। এতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানকে কেল্লা ফতে খান নামে ব্যঙ্গ করে দেখানো হতো, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্রোতাদের মনোবল বাড়াত।
কল্যাণ মিত্রের জন্ম ১৯৩৯ সালে কুষ্টিয়ায়; তিনি অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার। ১৯৭২ সালে তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ এম আর আখতার মুকুল, কারণ তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারের আরেক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্রের রচয়িতা ও পাঠক। রাজু আহমেদ এই নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করতেন, আর নারায়ণ ঘোষ মিতা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পরিচিত; দুজনের কেউই নাটকটির রচয়িতা নন।
মনে রাখুন: স্বাধীন বাংলা বেতারের দুই ব্যঙ্গ অনুষ্ঠান: চরমপত্র মুকুলের, জল্লাদের দরবার কল্যাণ মিত্রের।
২৮. কোন তারিখে আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক১৮ জানুয়ারি ১৯৬৯
- খ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯
- গ২২ জানুয়ারি ১৯৬৯
- ঘ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯
সঠিক উত্তর: খ. ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯
প্রশ্নটা ছাত্রনেতা আসাদের শহিদ হওয়ার তারিখ জানতে চেয়েছে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
ছাত্রদের এগারো দফার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়, আর তাঁর স্মরণে ঢাকার আইয়ুব গেটের নাম বদলে রাখা হয় আসাদ গেট।
এর চার দিন পর, ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯, স্কুলছাত্র মতিউর রহমান পুলিশের গুলিতে শহিদ হন; দিনটি গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে অধ্যাপক শামসুজ্জোহা শহিদ হন, আর ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
ফাঁদ হলো ২৪ জানুয়ারি, কারণ সেটিও শহিদ হওয়ার দিন এবং বেশি পরিচিত গণঅভ্যুত্থান দিবস। আসাদ ২০ জানুয়ারি, মতিউর ২৪ জানুয়ারি।
মনে রাখুন: ঊনসত্তরের শহিদের ক্রম: বিশে আসাদ, চব্বিশে মতিউর, আঠারো ফেব্রুয়ারি জোহা।
২৯. 'ঢাকা প্রকাশ' সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক কে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ককৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- খসিকান্দর আবু জাফর
- গশামসুর রাহমান
- ঘরামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
প্রশ্নটা সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক জানতে চেয়েছে। উত্তর কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম দিকের বাংলা সংবাদপত্রগুলোর একটি এবং পূর্ববঙ্গের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয়।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার কবি হিসেবেও পরিচিত; তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক।
অন্য বিকল্পগুলো পরের যুগের সম্পাদক। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় কলকাতার প্রবাসী ও মডার্ন রিভিউর সম্পাদক, সিকান্দার আবু জাফর ১৯৫৭ সালে মাসিক সমকাল প্রতিষ্ঠা করেন, আর কবি শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন; সময়ের হিসাবেই এঁরা ১৮৬১ সালের পত্রিকার প্রথম সম্পাদক হতে পারেন না।
মনে রাখুন: প্রশ্নে ঢাকা প্রকাশ মানেই ১৮৬১; বিশ শতকের সম্পাদকেরা আপনাতেই বাদ পড়েন।
৩০. সেরিকালচার বলতে বোঝায়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কতুলা চাষ
- খনীল চাষ
- গরেশম পোকা চাষ
- ঘতামাক চাষ
সঠিক উত্তর: গ. রেশম পোকা চাষ
প্রশ্নটা সেরিকালচার শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। সেরিকালচার মানে রেশম পোকা পালন করে রেশম উৎপাদন।
শব্দটির প্রথম অংশ সেরি এসেছে রেশম বোঝানো গ্রিক ও লাতিন শব্দ থেকে, আর কালচার মানে চাষ বা পালন। রেশম পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে গুটি বাঁধে, আর সেই গুটি থেকে সুতা ছাড়িয়ে রেশম বস্ত্র তৈরি হয়।
বাংলাদেশে রেশমের কেন্দ্র রাজশাহী; এখানেই বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তর, আর রাজশাহী সিল্ক একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য।
এ ধরনের প্রশ্নে কালচার যুক্ত শব্দের তালিকা মনে রাখলে সুবিধা: এপিকালচার মৌমাছি পালন, পিসিকালচার মাছ চাষ, হর্টিকালচার উদ্যান চাষ, সিলভিকালচার বনায়ন।
মনে রাখুন: কালচারের আগের অংশটাই বিষয়: সেরি রেশম, এপি মৌমাছি, পিসি মাছ।
৩১. বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে কোন ফসলের চাষ তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কভূট্টা
- খপাট
- গধান
- ঘগোল আলু
সঠিক উত্তর: ক. ভূট্টা
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে গত পঞ্চাশ বছরে কোন ফসলের চাষ তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। উত্তর ভুট্টা; কারণ শুরুতে এর আবাদ প্রায় ছিলই না, আর এখন এটি ধানের পরেই উৎপাদনে দ্বিতীয় প্রধান দানাশস্য।
তুলনামূলক বৃদ্ধি মানে শতকরা হারে বৃদ্ধি। খুব ছোট ভিত্তি থেকে শুরু হওয়ায় ভুট্টার উৎপাদন ও আবাদি জমি বহু গুণ বেড়েছে। ধানের উৎপাদনও বেড়েছে, কিন্তু ধান শুরু থেকেই বড় ফসল, তাই হারে বৃদ্ধি অনেক কম।
ভুট্টার এই বিস্তারের মূল কারণ হাঁস মুরগি ও মাছের খাদ্যের চাহিদা। পোলট্রি শিল্প বাড়ার সাথে সাথে পশুখাদ্যের প্রধান উপাদান হিসেবে ভুট্টার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, আর হাইব্রিড জাত ফলন বাড়িয়েছে।
পাট বিকল্পটি ফাঁদ: পাট একসময় সোনালি আঁশ ও প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর এর আবাদ বাড়েনি, বরং কমেছে। গোল আলুর উৎপাদনও বেড়েছে, তবে ভুট্টার মতো প্রায় শূন্য থেকে শুরু হয়নি।
মনে রাখুন: তুলনামূলক বৃদ্ধির প্রশ্নে খুঁজুন কোন ফসল প্রায় শূন্য থেকে শুরু করেছে; বাংলাদেশে সেটি ভুট্টা।
৩২. ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কপ্রায় উনিশ কোটি
- খপ্রায় সাড়ে ষোলো কোটি
- গপ্রায় আঠারো কোটি
- ঘপ্রায় সতেরো কোটি
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রায় সতেরো কোটি
প্রশ্নটা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা জানতে চেয়েছে। চূড়ান্ত বা সমন্বিত হিসাবে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ, যা প্রায় সতেরো কোটি।
জনশুমারির ফল দুই ধাপে প্রকাশ হয়। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে গণনা করা সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। এরপর গণনা পরবর্তী যাচাই জরিপে যারা বাদ পড়েছিলেন তাঁদের হিসাব যোগ করে সংখ্যাটি সমন্বয় করা হয়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম সমন্বিত সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ঘোষণা করেন। ১৬ কোটি ৯৮ লাখকে সাড়ে ষোলো নয়, সতেরো কোটির কাছাকাছি ধরতে হয়।
ফাঁদ হলো প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি বিকল্পটি, যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের সংখ্যা। চূড়ান্ত হিসাব ধরলে উত্তর প্রায় সতেরো কোটি।
মনে রাখুন: জনশুমারি ২০২২: প্রাথমিক সাড়ে ষোলো কোটি, চূড়ান্ত প্রায় সতেরো কোটি।
৩৩. ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রধানত- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কদারিদ্র হ্রাস করে
- খভিক্ষাবৃত্তি হ্রাস করে
- গনারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে
- ঘনারীর অংশগ্রহণ হ্রাস করে
সঠিক উত্তর: গ. নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ক্ষুদ্রঋণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রধানত কী প্রভাব ফেলে। প্রত্যাশিত উত্তর নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কারণ বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রভাব গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত করা।
ক্ষুদ্রঋণ মানে জামানত ছাড়া ছোট অঙ্কের ঋণ, যা দলভিত্তিক দায়বদ্ধতায় দেওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংকসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণগ্রহীতার বিশাল অংশই নারী। ঋণ নিয়ে তাঁরা হাঁস মুরগি ও গবাদিপশু পালন, সেলাই বা ছোট ব্যবসা শুরু করেন, ফলে পরিবারের আয় ও সিদ্ধান্তে তাঁদের ভূমিকা বাড়ে।
ক্ষুদ্রঋণের ঘোষিত লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন, কিন্তু এর প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল মিশ্র; কোথাও দারিদ্র্য কমার প্রমাণ মিলেছে, কোথাও ঋণের চক্রে পড়ার উদাহরণও আছে। তাই প্রধান প্রভাব হিসেবে প্রচলিত উত্তর নারীর অংশগ্রহণ, যা নিয়ে বিতর্ক তুলনামূলক কম।
ভিক্ষাবৃত্তি হ্রাস একটি সীমিত ও পরোক্ষ প্রভাব, আর নারীর অংশগ্রহণ হ্রাস বিকল্পটি বাস্তবতার একেবারে উল্টো।
মনে রাখুন: ক্ষুদ্রঋণের প্রধান প্রভাব জানতে চাইলে ভাবুন ঋণগ্রহীতা কারা: বেশিরভাগই নারী।
৩৪. বর্তমানে পৃথিবীর কোন্ দেশে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসৌদি আরব
- খমালয়েশিয়া
- গসংযুক্ত আরব আমিরাত
- ঘইতালি
সঠিক উত্তর: ক. সৌদি আরব
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। উত্তর সৌদি আরব; পরীক্ষার সময়ও সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী সেখানে ছিলেন, আর প্রতিবছর নতুন কর্মীও সবচেয়ে বেশি সেখানে যান।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর সবচেয়ে বড় অংশ গেছে সৌদি আরবে। নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, কৃষি ও গৃহকর্মে সেখানে বিপুল চাহিদা আছে।
অন্য বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান ও কাতার। ইউরোপে ইতালিতে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি থাকলেও সংখ্যায় তা মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় অনেক কম।
একটি পার্থক্য মনে রাখুন: কর্মীর সংখ্যায় শীর্ষ সৌদি আরব, কিন্তু কোনো কোনো অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে অন্য দেশ, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তাই রেমিট্যান্সের তথ্য দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর বাছাই করলে ভুল হতে পারে।
মনে রাখুন: কর্মী সংখ্যার প্রশ্নে সৌদি আরব; রেমিট্যান্সের প্রশ্নে বছরভিত্তিক তথ্য দেখে নিতে হয়।
৩৫. বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির সহনশীল মাত্রা হলো- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক০৬-০৮ শতাংশ
- খ০১-০৫ শতাংশ
- গ০৯-১২ শতাংশ
- ঘ১৩-১৫ শতাংশ
সঠিক উত্তর: ক. ০৬-০৮ শতাংশ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মূল্যস্ফীতির সহনীয় মাত্রা কত। প্রত্যাশিত উত্তর ছয় থেকে আট শতাংশ।
সহনীয় মাত্রা মানে মূল্যস্ফীতির সেই সীমা, যার নিচে থাকলে দাম বাড়া প্রবৃদ্ধির বড় ক্ষতি করে না। সীমা পেরোলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়ে, আর প্রবৃদ্ধি কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষক সায়েরা ইউনুস ও আখতারুজ্জামানের ২০১২ সালের এক গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য এই সীমা পাওয়া গেছে সাত থেকে আট শতাংশের মধ্যে, যা প্রশ্নের ছয় থেকে আট শতাংশের সাথে মেলে।
এক থেকে পাঁচ শতাংশ উন্নত দেশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি; যেমন অনেক উন্নত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই শতাংশ লক্ষ্য ধরে। নয় শতাংশ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়।
মনে রাখুন: উন্নত দেশ দুই শতাংশের আশপাশে, উন্নয়নশীল দেশ ছয় থেকে আটের মধ্যে; বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় সীমা সাত থেকে আট শতাংশ।
৩৬. বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি করা অর্থ পাচার করা হয়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কযুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ায়
- খযুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে
- গযুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনে
- ঘশ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে
সঠিক উত্তর: ঘ. শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে
প্রশ্নটা ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে হ্যাকাররা সুইফট বার্তাব্যবস্থায় ভুয়া নির্দেশ পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়।
এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের কয়েকটি হিসাবে, যার বড় অংশ সেখানকার ক্যাসিনো হয়ে হারিয়ে যায়। বাকি প্রায় ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কার একটি সংস্থার নামে, কিন্তু নামের বানানে ভুল দেখে সন্দেহ হওয়ায় সেই অর্থ আটকে ফেরত আসে।
ফাঁদ হলো যুক্তরাষ্ট্র। টাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সরানো হয়েছে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র উৎস, গন্তব্য নয়; প্রশ্ন জানতে চেয়েছে টাকা কোথায় পাচার হয়েছে।
মনে রাখুন: উৎস যুক্তরাষ্ট্র, গন্তব্য ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা: যে বিকল্পে যুক্তরাষ্ট্র আছে সেটি বাদ।
৩৭. অর্থ পাচারের কারণ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করা
- খকর ফাঁকি না দেয়া
- গকোম্পানির মুনাফা লুকানো
- ঘদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি না থাকা
সঠিক উত্তর: খ. কর ফাঁকি না দেয়া
প্রশ্নটা অর্থপাচারের কারণগুলোর মধ্যে কোনটি কারণ নয়, তা খুঁজতে বলেছে। উত্তর কর ফাঁকি না দেওয়া; কারণ যিনি সঠিকভাবে কর দেন, তাঁর অর্থ লুকানোর প্রয়োজন নেই।
অর্থপাচার মানে অবৈধ বা অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস গোপন করে তাকে বৈধ দেখানো, অথবা নিয়মবহির্ভূত পথে দেশের বাইরে পাঠানো। বাংলাদেশে এ বিষয়ের মূল আইন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, আর তদারকি করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।
পাচারের সাধারণ কারণ হলো দুর্নীতি বা অপরাধে উপার্জিত অর্থ গোপন করা, কর ফাঁকি দেওয়া, কোম্পানির মুনাফা লুকানো, এবং দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা। আমদানি রপ্তানিতে পণ্যের দাম কমবেশি দেখানো পাচারের একটি প্রচলিত পদ্ধতি।
না শব্দযুক্ত প্রশ্নে সাবধান থাকুন। কর ফাঁকি দেওয়া পাচারের কারণ, কিন্তু বিকল্পে লেখা আছে কর ফাঁকি না দেওয়া; এই একটি না শব্দই উত্তর ঠিক করে দেয়।
মনে রাখুন: নেতিবাচক প্রশ্নে বিকল্পের ভেতরের না শব্দটি আগে খুঁজুন।
৩৮. বাংলাদেশ কোন্ দুটি দেশ হতে সিংহভাগ সয়াবিন তেল আমদানী করে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া
- খভারত ও চীন
- গজার্মানি ও ভিয়েতনাম
- ঘআর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
সঠিক উত্তর: ঘ. আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
প্রশ্নটা বাংলাদেশের ভোজ্যতেল আমদানির উৎস জানতে চেয়েছে, বিশেষ করে সয়াবিন তেলের। বাংলাদেশ চাহিদার বেশির ভাগ ভোজ্যতেল আমদানি করে, আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের বড় অংশ আসে দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে।
কারণটা সহজ: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদক ও সয়াবিন তেল রপ্তানিকারক। চট্টগ্রাম বন্দরে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে যে জাহাজগুলো আসে, সেগুলোর বেশির ভাগ এই দুই দেশ থেকেই রওনা দেয়; পরে দেশের শোধনাগারে তা পরিশোধন করা হয়।
এই প্রশ্নে আসল ফাঁদ হলো পাম তেল আর সয়াবিন তেলকে গুলিয়ে ফেলা। পাম তেল আসে মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে, কারণ এই দুই দেশ বিশ্বের প্রধান পাম তেল উৎপাদক। তাই ভোজ্যতেল শুনেই মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বেছে নিলে ভুল হবে।
মনে রাখুন: সয়াবিন মানে দক্ষিণ আমেরিকা, পাম মানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
৩৯. বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ নয় কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কবৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি পাওয়া
- খঅভ্যন্তরীণ জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধি
- গদুর্বল মুদ্রানীতি
- ঘটাকার অবমূল্যায়ন
সঠিক উত্তর: ক. বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি পাওয়া
প্রশ্নটা নেতিবাচক: বিশ্বব্যাংক যে কারণগুলো দেখিয়েছে তার বাইরের কারণটি খুঁজতে হবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে জ্বালানির উচ্চ দাম, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির দুর্বল কার্যকারিতার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটির যুক্তি বোঝা দরকার। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, তাই সব পণ্যের দাম বাড়ে। টাকার মান কমলে আমদানি পণ্য কিনতে বেশি টাকা লাগে। আর সুদের হারের ঊর্ধ্বসীমার মতো কারণে মুদ্রানীতি দুর্বল থাকলে বাজারে অর্থের জোগান কমানো যায় না।
অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা প্রবাহ বাড়লে টাকার ওপর চাপ কমে, টাকা স্থিতিশীল বা শক্তিশালী হয় এবং আমদানি সস্তা হয়। এটি মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকে কাজ করে, বাড়ানোর দিকে নয়।
নেতিবাচক প্রশ্নে তাড়াহুড়ো করে প্রথম পরিচিত কারণটি বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল। তিনটি বিকল্প দাম বাড়ায়, একটি দাম কমায়; সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: তিন বিকল্প যদি দাম বাড়ায় আর একটি কমায়, নেতিবাচক প্রশ্নে কমানোটিই উত্তর।
৪০. বাংলাদেশের বৃহত্তম সার কারখানার নাম- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড
- খযমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
- গপলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
- ঘন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
সঠিক উত্তর: গ. পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা কোনটি। উত্তর নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা, যা বিকল্পে পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার নামে এসেছে।
কারখানাটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া, যা দেশের অন্য যেকোনো সার কারখানার চেয়ে বেশি। এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীন।
এর আগে বড় কারখানা হিসেবে পরিচিত ছিল জামালপুরের তারাকান্দির যমুনা ফার্টিলাইজার, যার দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন। পুরোনো তথ্য মনে রেখে যমুনা বেছে নেওয়াই এই প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: নতুন ও সবচেয়ে বড়: পলাশ, নরসিংদী, চালু ২০২৩।