বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৬
১০১. কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কআইনের প্রয়োগ
- খআইনের ব্যাখ্যা
- গসংবিধানের ব্যাখ্যা
- ঘসংবিধান প্রণয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সংবিধান প্রণয়ন
প্রশ্নটা রাষ্ট্রের তিন বিভাগের কাজের পার্থক্য পরীক্ষা করছে। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে, নির্বাহী বিভাগ আইন বাস্তবায়ন করে, আর বিচার বিভাগ বিরোধ মীমাংসায় আইন ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করে বিচার করে।
বিচার বিভাগের মূল কাজ কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক আইন কী বলে তা ব্যাখ্যা করা এবং সেই আইন ঘটনার উপর প্রয়োগ করে রায় দেওয়া। বাংলাদেশে সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী সুপ্রিম কোর্ট; কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আদালত তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণ করেছিল নির্বাচিত গণপরিষদ; এটি গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। পরে সংশোধনের ক্ষমতা পেয়েছে জাতীয় সংসদ।
ফাঁদ হলো আইনের প্রয়োগ বিকল্পটি। প্রশাসনিকভাবে আইন বাস্তবায়ন নির্বাহী বিভাগের কাজ ঠিকই, কিন্তু আদালতও মামলার ঘটনায় আইন প্রয়োগ করেই বিচার করে; তাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বিচার বিভাগের বাইরের কাজ হলো সংবিধান প্রণয়ন।
মনে রাখুন: প্রণয়ন শব্দ দেখলেই আইনসভা বা গণপরিষদ; ব্যাখ্যা শব্দ দেখলেই আদালত।
১০২. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ কত সালে জারি হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৯৮০ সালে
- খ১৯৮১ সালে
- গ১৯৮৫ সালে
- ঘ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৮৫ সালে
প্রশ্নটা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিশেষ আদালত গঠনের আইনটির সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৮৫, যখন অধ্যাদেশ আকারে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ জারি হয়।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী পাঁচ ধরনের মামলা পারিবারিক আদালতে চলে: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত। উদ্দেশ্য ছিল এসব মামলা সাধারণ দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রতা থেকে আলাদা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
পরীক্ষার সময় এই অধ্যাদেশই চালু ছিল। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পারিবারিক আদালত আইন পাস হয়, যা ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের জায়গা নিয়েছে।
কাছাকাছি সালগুলো বিভ্রান্তি তৈরি করে। ১৯৮০ সালে হয়েছিল যৌতুক নিরোধ আইন, তাই নারী ও পরিবার বিষয়ক আইন মনে করে অনেকে ১৯৮০ বেছে নেন; পারিবারিক আদালত এসেছে তার পাঁচ বছর পরে।
মনে রাখুন: পারিবারিক আইনের ক্রম: একষট্টিতে মুসলিম পারিবারিক আইন, আশিতে যৌতুক, পঁচাশিতে পারিবারিক আদালত।
১০৩. 'গণহত্যা যাদুঘর' কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঢাকা
- খচট্টগ্রাম
- গকুমিল্লা
- ঘখুলনা
সঠিক উত্তর: ঘ. খুলনা
প্রশ্নটা একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে গড়ে ওঠা বিশেষ জাদুঘরের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এর পুরো নাম ১৯৭১ গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর, আর এটি খুলনায় অবস্থিত।
জাদুঘরটি ২০১৪ সালে খুলনায় যাত্রা শুরু করে, শুরুতে শেরেবাংলা রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে। প্রধান উদ্যোক্তা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। ২০১৫ সালে সরকার খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোডে এর জন্য বাড়ি ও জমি বরাদ্দ দেয়।
এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের গণহত্যা ও নির্যাতনের দলিল, ছবি ও স্মারক সংরক্ষণ করা হয়। দেশে গণহত্যা বিষয়ক একমাত্র জাদুঘর হিসেবে এটি পরিচিত।
ফাঁদ হলো ঢাকা। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অনেক বেশি পরিচিত, কিন্তু সেটি পুরো মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর; গণহত্যা বিষয়ক বিশেষ জাদুঘরটি খুলনায়।
মনে রাখুন: গণহত্যা জাদুঘর মানে খুলনা; মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মানে ঢাকা।
১০৪. নভেরা আহমেদের পরিচয় কী হিসাবে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককবি
- খনাট্যকার
- গকণ্ঠশিল্পী
- ঘভাস্কর
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাস্কর
প্রশ্নটা একজন শিল্পীর পরিচয় জানতে চেয়েছে। নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ, অর্থাৎ তিনি ছিলেন ভাস্কর।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশা তৈরিতে তিনি শিল্পী হামিদুর রহমানের সাথে যুক্তভাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ভাস্কর্যের প্রদর্শনী হয়।
১৯৯৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। জীবনের দীর্ঘ সময় ফ্রান্সে কাটিয়ে ২০১৫ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
নামটি শুনে কবি বা গায়িকা মনে হতে পারে বলে অনেকে ভুল বিকল্প বেছে নেন। মনে রাখার সহজ সূত্র: শহীদ মিনারের নকশার দুই শিল্পী, চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও ভাস্কর নভেরা আহমেদ।
মনে রাখুন: শহীদ মিনারের প্রশ্নে দুই নাম: হামিদুর রহমান চিত্রশিল্পী, নভেরা আহমেদ ভাস্কর।
১০৫. আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাঙ্গামাটি
- খবরিশাল
- গচট্টগ্রাম
- ঘময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর: ক. রাঙ্গামাটি
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটি, প্রায় ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার একটি।
পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় আর বন বেশি, জনবসতি তুলনামূলক কম; জেলাটির বিশাল আয়তনের বড় অংশই এই পাহাড়ি এলাকা। রাঙ্গামাটিতেই আছে দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ।
দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা চট্টগ্রাম, প্রায় ৫ হাজার ২৮৩ বর্গকিলোমিটার, আর সবচেয়ে ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জ।
ফাঁদ হলো চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিভাগ আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ, আর জেলা হিসেবেও চট্টগ্রাম দ্বিতীয়; তাই অনেকে বিভাগ আর জেলা গুলিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: বড় জেলা: রাঙ্গামাটি; বড় বিভাগ: চট্টগ্রাম; ছোট জেলা: নারায়ণগঞ্জ; ছোট বিভাগ: ময়মনসিংহ।
১০৬. বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য কয়টি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৯ (নয়) টি
- খ১০ (দশ) টি
- গ১১ (এগার) টি
- ঘ১২ (বার) টি
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১১ (এগার) টি। এখন: ৬৪টি (সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। জিআই হলো এমন পণ্যের স্বীকৃতি, যার গুণ বা খ্যাতি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মাটি, আবহাওয়া বা ঐতিহ্যের সাথে জড়িত।
বাংলাদেশে এই নিবন্ধন দেয় পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। প্রথম জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, ২০১৬ সালে; দ্বিতীয় ইলিশ, ২০১৭ সালে। এরপর যুক্ত হয় ক্ষীরশাপাতি আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, কালিজিরা চাল, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল ও নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি।
এর পর বাগদা চিংড়ি ২০২২ সালে এবং রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম যুক্ত হয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় এগারো। ২০২৩ সালের এপ্রিলের হিসাবেও সংখ্যাটি এগারো ছিল, তাই পরীক্ষার সময় সঠিক উত্তর এগারোটি।
নয়টি ছিল বাগদা চিংড়ি ও ফজলি আম যুক্ত হওয়ার আগের হিসাব, আর দশটি এর মাঝের হিসাব। পুরোনো সংখ্যা মনে রাখলেই এই ভুল হয়। পরীক্ষার পরে আরও বহু পণ্য তালিকায় এসেছে।
মনে রাখুন: পরীক্ষার তারিখ দেখে সংখ্যা ঠিক করুন: ২০২৩ সালের মাঝামাঝির আগে এগারো, এরপর দ্রুত বেড়েছে।
১০৭. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 'মনিপুরী' বাংলাদেশের কোন জেলায় বেশি বসবাস করে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসিলেট
- খমৌলভীবাজার
- গহবিগঞ্জ
- ঘসুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর: খ. মৌলভীবাজার
প্রশ্নটা মণিপুরী জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি এলাকা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশে মণিপুরীরা মূলত বৃহত্তর সিলেটে থাকেন, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৌলভীবাজার জেলায়, বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলায়।
মণিপুরীদের আদি বাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। আঠারো ও উনিশ শতকে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁদের একটি অংশ সিলেট অঞ্চলে চলে আসে এবং টিলা ও চা বাগানের এই এলাকায় বসতি গড়ে।
মণিপুরী নৃত্য তাঁদের সবচেয়ে পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিচয়, আর তাঁতে বোনা মণিপুরী শাড়ি ও চাদরও বিখ্যাত। কমলগঞ্জে প্রতিবছর রাস উৎসব বড় আয়োজনে পালিত হয়।
ফাঁদ হলো সিলেট, কারণ সিলেট শহরেও মণিপুরী পাড়া আছে এবং পুরো অঞ্চলকে বৃহত্তর সিলেট বলা হয়। কিন্তু জেলা হিসেবে সংখ্যায় এগিয়ে মৌলভীবাজার।
মনে রাখুন: মণিপুরী নৃত্য আর রাস উৎসবের ঠিকানা কমলগঞ্জ, মানে মৌলভীবাজার।
১০৮. বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় জনশুমারি ও গৃহ গণনা কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১০ জুন থেকে ১৬ জুন, ২০২২
- খ১৫ জুন থেকে ২১ জুন, ২০২২
- গ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই, ২০২২
- ঘ২০ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই, ২০২২
সঠিক উত্তর: খ. ১৫ জুন থেকে ২১ জুন, ২০২২
প্রশ্নটা দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার সময়কাল জানতে চেয়েছে। এটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন, আর এটি ছিল দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি, যেখানে কাগজের বদলে ট্যাবলেটে তথ্য নেওয়া হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে জনশুমারি হয়েছে ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে; তাই ২০২২ সালেরটি ষষ্ঠ। সাধারণত দশ বছর পর পর হলেও করোনা মহামারির কারণে এবার তা পিছিয়ে ২০২২ সালে হয়।
আয়োজক ছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে জনসংখ্যা পাওয়া যায় ষোলো কোটি একান্ন লাখের কিছু বেশি।
বিকল্পগুলোর তারিখ খুব কাছাকাছি, তাই মনে রাখার কৌশল জরুরি: মাস জুন, শুরু পনেরো তারিখে, চলে সাত দিন।
মনে রাখুন: ষষ্ঠ শুমারি বছরের ষষ্ঠ মাসে: জুন, পনেরো থেকে একুশ।
১০৯. কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গত ২০২০ সালে প্রবর্তিত পুরস্কারের নাম কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
- খবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড
- গবাংলাদেশ ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
- ঘবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
প্রশ্নটা কূটনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে চালু হওয়া পুরস্কারের সঠিক নাম জানতে চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ইংরেজি নাম দেয় বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ডিপ্লোম্যাটিক এক্সিলেন্স, আর বাংলা বিকল্পগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স এর সবচেয়ে কাছাকাছি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক এবং বাংলাদেশে কাজ করা একজন বিদেশি কূটনীতিককে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের জন্য মনোনীত হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রবিষয়ক ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত।
নামটির তিনটি অংশ মনে রাখলেই হয়: শুরুতে বঙ্গবন্ধু, মাঝে ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড, শেষে ফর এক্সিলেন্স। বিষয় কূটনীতি, আর স্বীকৃতি শ্রেষ্ঠত্বের।
বিকল্পগুলো একই শব্দ ঘুরিয়ে বানানো। এক্সিলেন্স বাদ পড়লে নাম অসম্পূর্ণ, আর বঙ্গবন্ধুর বদলে বাংলাদেশ এলে সেটি ভুল নাম।
মনে রাখুন: তিনটি অংশ মিলিয়ে নিন: বঙ্গবন্ধু, ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড, ফর এক্সিলেন্স; যে বিকল্পে তিনটিই আছে সেটিই উত্তর।
১১০. নিচের কোনটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কবাখরাবাদ
- খহরিপুর
- গতিতাস
- ঘহবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর: গ. তিতাস
প্রশ্নটা মজুদের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র জানতে চেয়েছে। উত্তর তিতাস, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত এবং ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত হয়।
তিতাসের মজুদ দেশের অন্য যেকোনো গ্যাসক্ষেত্রের চেয়ে বেশি ধরা হয়, তাই একে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বলা হয়। ঢাকা অঞ্চলে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানির নামও তিতাস।
বিকল্পের বাকি তিনটিও পুরোনো ও পরিচিত গ্যাসক্ষেত্র, তবে মজুদে তিতাসের চেয়ে ছোট। হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৬৩ সালে, কুমিল্লার বাখরাবাদ ১৯৬৯ সালে, আর সিলেটের হরিপুর ১৯৫৫ সালে, যা দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র।
একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখুন। মজুদে বৃহত্তম তিতাস, কিন্তু পরীক্ষার সময় দৈনিক সবচেয়ে বেশি গ্যাস উঠত হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা থেকে, যা দেশের মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি জোগাত। আর প্রথম আবিষ্কারের প্রশ্নে উত্তর হরিপুর।
মনে রাখুন: প্রথম হরিপুর, বৃহত্তম তিতাস, সর্বোচ্চ উৎপাদন বিবিয়ানা।
১১১. UNESCO কত তারিখে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৮ নভেম্বর ১৯৯৯
- খ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
- গ১৯ নভেম্বর ২০০১
- ঘ২০ নভেম্বর ২০০১
সঠিক উত্তর: খ. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চেয়েছে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
সিদ্ধান্তটি আসে প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে, বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে। এর পেছনে কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের উদ্যোগের বড় ভূমিকা ছিল।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে দিনটি পালিত হচ্ছে।
এখানে একদিন আগে-পরের তারিখ আর ২০০০ সালের প্রথম উদযাপনের কাছাকাছি বছর দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ঘোষণার সাল ১৯৯৯, উদযাপন শুরু ২০০০।
মনে রাখুন: সতেরো নভেম্বর নিরানব্বই: ঘোষণা; দুই হাজার: প্রথম উদযাপন।
১১২. বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক কে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজাতীয় সংসদ
- খশাসন বিভাগ
- গসুপ্রিম কোর্ট
- ঘআইন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর: গ. সুপ্রিম কোর্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে সংবিধানের অভিভাবক বা রক্ষক কে। বাংলাদেশে এই ভূমিকা সুপ্রিম কোর্টের।
সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ বলে, সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন; এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকু বাতিল হবে। কোন আইন অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তা চূড়ান্তভাবে ঠিক করে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদের রিট এখতিয়ারে মৌলিক অধিকার বলবৎ করে এবং আইন বা সরকারি কাজের বৈধতা যাচাই করে। আপিল বিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়।
জাতীয় সংসদ আইন তৈরি করে এবং সংবিধান সংশোধনও করতে পারে, তাই অনেকে সংসদকে রক্ষক ভাবেন। কিন্তু আইনপ্রণেতা নিজের তৈরি আইনের বৈধতা বিচার করতে পারে না; সেই কাজ আদালতের।
মনে রাখুন: যে প্রতিষ্ঠান আইন বাতিল করতে পারে, সেই সংবিধানের রক্ষক: সুপ্রিম কোর্ট।
১১৩. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপুণ্ড্র
- খতাম্রলিপ্ত
- গগৌড়
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: ক. পুণ্ড্র
প্রশ্নটা প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি জানতে চেয়েছে। উত্তর পুণ্ড্র।
পুণ্ড্রের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়। সেখানে পাওয়া মৌর্য যুগের ব্রাহ্মী শিলালিপিটি বাংলাদেশে পাওয়া প্রাচীনতম শিলালিপি। এমন প্রত্নপ্রমাণের কারণেই পুণ্ড্রকে বাংলার প্রাচীনতম জনপদ ধরা হয়।
অন্য জনপদগুলোর উল্লেখ পরে পাওয়া যায়। গৌড় নাম বিশেষ গুরুত্ব পায় সপ্তম শতকে শশাঙ্কের সময়, হরিকেলের উল্লেখ আসে আরও পরে। তাম্রলিপ্ত ছিল প্রাচীন সমুদ্রবন্দর, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর অঞ্চলে।
গৌড় নামটি বেশি শোনা যায় বলে অনেকে একে প্রাচীনতম ভাবেন। কিন্তু পরিচিতি আর প্রাচীনতা এক কথা নয়।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম জনপদ পুণ্ড্র, তার রাজধানী পুণ্ড্রনগর আজকের মহাস্থানগড়: দুটোই বগুড়ায়।
১১৪. বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসমতট
- খপুণ্ড্র
- গবঙ্গ
- ঘহরিকেল
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গ
প্রশ্নটা বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল প্রাচীন কালে কোন জনপদে ছিল তা জানতে চেয়েছে। উত্তর বঙ্গ জনপদ।
বঙ্গ জনপদ ছিল বর্তমান ঢাকা, বিক্রমপুর, ফরিদপুর ও আশপাশের নিচু এলাকা নিয়ে। বিক্রমপুর ছিল বঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, পরে চন্দ্র ও সেন রাজাদের সময়েও এর গুরুত্ব ছিল।
এই বঙ্গ নাম থেকেই পরে বাঙ্গালা ও বাংলা নামের উৎপত্তি হয়েছে। তাই ঢাকা মনে পড়লে বঙ্গ জনপদের কথাই আসা উচিত।
সমতট কুমিল্লা অঞ্চলে বলে ঢাকার কাছাকাছি মনে হয়, তাই অনেকে এটি বেছে নেন। কিন্তু সমতট ছিল মেঘনার পূর্বে, ঢাকা মেঘনার পশ্চিমে।
মনে রাখুন: ঢাকা-বিক্রমপুর মানেই বঙ্গ; বঙ্গ থেকেই বাংলা।
১১৫. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক৭ জন
- খ৬৮ জন
- গ১৭৫ জন
- ঘ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর: গ. ১৭৫ জন
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাবের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। বীর বিক্রম খেতাব পেয়েছেন ১৭৫ জন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য চার স্তরের খেতাব দেওয়া হয়। মর্যাদার ক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন; সব মিলিয়ে ৬৭৬ জন।
নিয়মটা সহজ: খেতাব যত উঁচু, সংখ্যা তত কম। বীর বিক্রম তৃতীয় স্তরের খেতাব, তাই এর সংখ্যা তৃতীয় সংখ্যাটি।
বিকল্পের বাকি তিনটি সংখ্যা আসলে অন্য তিন খেতাবের। সংখ্যা চেনা থাকলেও কোনটি কোন খেতাবের, তা গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: খেতাব নিচে নামলে সংখ্যা বাড়ে: ৭, ৬৮, ১৭৫, ৪২৬।
১১৬. মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কতাজউদ্দিন আহমেদ
- খএ এইচ এম কামরুজ্জামান
- গসৈয়দ নজরুল ইসলাম
- ঘএম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর: খ. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
প্রশ্নটা মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীদের দায়িত্ব জানতে চেয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল শপথ নেওয়া মুজিবনগর সরকারে কামারুজ্জামানের হাতে ছিল স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়।
অন্যদের দায়িত্বও মনে রাখা দরকার। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, আর পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্ত্রণালয় নিজের হাতে রেখেছিলেন বলে অনেকে তাজউদ্দীন আহমদকে বেছে নেন। কিন্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন ছিল কামারুজ্জামানের দায়িত্বে।
মনে রাখুন: কামারুজ্জামানের তিন দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ।
১১৭. কোন শাসকদের আমলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমৌর্য
- খগুপ্ত
- গপাল
- ঘমুসলিম
সঠিক উত্তর: ঘ. মুসলিম
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন যুগে পুরো বাংলাভাষী অঞ্চল একটি নামে, বাঙ্গালা নামে পরিচিত হয়। উত্তর মুসলিম শাসনামল।
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ চৌদ্দ শতকের মাঝামাঝি লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁওকে এক শাসনের অধীনে আনেন। তিনি শাহ-ই-বাঙ্গালা উপাধি নেন, আর তখন থেকেই পুরো অঞ্চল বাঙ্গালা নামে পরিচিত হতে থাকে।
এর আগে বাংলা নানা জনপদে বিভক্ত ছিল: পুণ্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, সমতট ইত্যাদি। মৌর্য, গুপ্ত বা পাল আমলে পুরো অঞ্চলের একক নাম বাঙ্গালা ছিল না। পরে মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় এটি সুবা বাংলা নামে পরিচিত হয়।
পাল আমল বাংলার নিজস্ব শাসনের গৌরবময় যুগ বলে অনেকে পাল বেছে নেন। কিন্তু পাল রাজারা গৌড়েশ্বর নামে পরিচিত ছিলেন, পুরো দেশের একক নাম তখনো তৈরি হয়নি।
মনে রাখুন: বাঙ্গালা নাম মানেই ইলিয়াস শাহ, শাহ-ই-বাঙ্গালা।
১১৮. বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কশশাঙ্ক
- খমুর্শিদ কুলি খান
- গসিরাজউদ্দৌলা
- ঘআব্বাস আলী মীর্জা
সঠিক উত্তর: খ. মুর্শিদ কুলি খান
প্রশ্নটা বাংলার নবাবি আমলের সূচনা পরীক্ষা করছে। মুর্শিদকুলী খান প্রথমে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ১৭০০ সালের দিকে বাংলার দেওয়ান, মানে রাজস্ব প্রধান, হন।
১৭০৪ সালের দিকে তিনি দেওয়ানি দপ্তর ঢাকা থেকে মকসুদাবাদে সরিয়ে নেন, যার নাম পরে হয় মুর্শিদাবাদ। ১৭১৭ সালে তিনি বাংলার সুবাদার বা নাজিম হন।
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল কেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়ে। মুর্শিদকুলী খান সম্রাটের প্রতি নামমাত্র আনুগত্য রাখতেন আর নিয়মিত রাজস্ব পাঠাতেন, কিন্তু শাসন চালাতেন নিজের মতো; তাঁর পর ক্ষমতা যায় জামাতা সুজাউদ্দিনের হাতে, মানে পদটা কার্যত বংশগত হয়ে যায়। এই কার্যত স্বাধীনতার জন্যই তাঁকে বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব বলা হয়।
ফাঁদ হলো শশাঙ্ক আর সিরাজউদ্দৌলা। শশাঙ্ক সপ্তম শতকে বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা, নবাব নন; আর সিরাজউদ্দৌলা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।
মনে রাখুন: প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক, প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান, শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
১১৯. চীনদেশের কোন ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আগমন করেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কহিউয়েন সাং
- খফা হিয়েন
- গআই সিং
- ঘএদের সকলেই
সঠিক উত্তর: খ. ফা হিয়েন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে গুপ্তযুগে কোন চীনা পরিব্রাজক বাংলায় এসেছিলেন। উত্তর ফা-হিয়েন।
ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে, পঞ্চম শতকের শুরুতে ভারতবর্ষ ভ্রমণ করেন। বাংলায় তিনি তাম্রলিপ্ত বন্দরে প্রায় দুই বছর থেকে বৌদ্ধ গ্রন্থ নকল করেন, তারপর সেখান থেকে জাহাজে শ্রীলঙ্কা যান।
হিউয়েন সাং এসেছিলেন সপ্তম শতকে, হর্ষবর্ধনের সময়ে, যখন গুপ্ত সাম্রাজ্য আর ছিল না। ইৎসিং বা আই সিং আসেন আরও পরে, সপ্তম শতকের শেষ দিকে। তাই তিনজনই গুপ্তযুগে এসেছিলেন, এ কথা ঠিক নয়।
তিন পরিব্রাজকের ক্রম মনে রাখুন: ফা-হিয়েন প্রথম, হিউয়েন সাং দ্বিতীয়, ইৎসিং তৃতীয়। হিউয়েন সাং সবচেয়ে পরিচিত বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: ক্রমে আসে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং, ইৎসিং; গুপ্তযুগের প্রশ্নে প্রথমজন।
১২০. কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি মামলা করতে পারেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক৪৪
- খ৪৭
- গ১০২
- ঘ১০৩
সঠিক উত্তর: গ. ১০২
প্রশ্নটা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলার বিধান কোন অনুচ্ছেদে তা জানতে চেয়েছে। মামলা করা হয় অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগে।
অনুচ্ছেদ ৪৪ বলে, তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য ১০২ অনুচ্ছেদের প্রথম দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু করার অধিকার নিশ্চিত করা হলো। অর্থাৎ ৪৪ অধিকারটির নিশ্চয়তা দেয়, আর ১০২ বলে কীভাবে, কোন আদালতে সেটি প্রয়োগ হবে।
অনুচ্ছেদ ১০২ হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার। এর মাধ্যমে আদালত সরকারি কর্তৃপক্ষকে কোনো কাজ করতে বা না করতে নির্দেশ দিতে পারে, আটক ব্যক্তিকে হাজির করাতে পারে।
এই প্রশ্নে সবচেয়ে বড় ফাঁদ অনুচ্ছেদ ৪৪, কারণ এটিও মৌলিক অধিকার বলবৎ করার কথা বলে। কিন্তু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত বিধান ১০২ এ।
মনে রাখুন: অধিকারের নিশ্চয়তা ৪৪ এ, মামলার রাস্তা ১০২ এ।