বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৭
১২১. বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কএককেন্দ্রিক
- খযুক্তরাষ্ট্রীয়
- গরাজতন্ত্র
- ঘরাষ্ট্রপতিশাসিত
সঠিক উত্তর: ক. এককেন্দ্রিক
প্রশ্নটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর ধরন জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় নয়।
সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদ বলে, বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র। একক মানে সারা দেশের জন্য একটিই কেন্দ্রীয় সরকার ও একটিই আইনসভা; যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা প্রাদেশিক সরকার বা প্রাদেশিক আইনসভা নেই।
এককেন্দ্রিকতা হলো রাষ্ট্রের কাঠামো, আর সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিশাসিত হলো সরকার চালানোর পদ্ধতি। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর পর থেকে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতি চালু আছে।
রাষ্ট্রপতিশাসিত বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সেটা অতীত, আর এককেন্দ্রিক কাঠামো তখনো বদলায়নি।
মনে রাখুন: অনুচ্ছেদ ১ এর একক শব্দটিই উত্তর: এককেন্দ্রিক।
১২২. BSTI-এর পূর্ণ অভিব্যক্তি কী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কBangladesh Salt Testing Institute
- খBangladesh Strategic Training Institute
- গBangladesh Standards and Testing Institution
- ঘBangladesh Society for Telecommunication and Information
সঠিক উত্তর: গ. Bangladesh Standards and Testing Institution
প্রশ্নটা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত নামের পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। বিএসটিআই এর পূর্ণরূপ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, মানে পণ্যের মান নির্ধারণ ও পরীক্ষার জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। পণ্যের জাতীয় মান নির্ধারণ, পণ্য পরীক্ষা করে মান সনদ দেওয়া এবং ওজন ও পরিমাপের যন্ত্র যাচাই করা এর প্রধান কাজ।
নামের অক্ষরগুলো ভাঙলেই উত্তর মেলে। বি মানে বাংলাদেশ, এস মানে স্ট্যান্ডার্ডস বা মান, টি মানে টেস্টিং বা পরীক্ষণ, আই মানে ইনস্টিটিউশন।
বিকল্পগুলোর প্রতিটিতে অক্ষর মেলানো হয়েছে, তাই শুধু অক্ষর মিলিয়ে উত্তর হয় না। প্রতিষ্ঠানের কাজ, মানে পণ্যের মান যাচাই, মনে থাকলেই সঠিক বিকল্প চেনা যায়।
মনে রাখুন: বিএসটিআই এর কাজ পণ্যের মান দেখা, তাই এস মানে স্ট্যান্ডার্ডস।
১২৩. বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপূর্ববঙ্গ ও বিহার
- খপূর্ববঙ্গ ও আসাম
- গপূর্ববঙ্গ ও উড়িষ্যা
- ঘপূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
সঠিক উত্তর: খ. পূর্ববঙ্গ ও আসাম
প্রশ্নটা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে কোন নতুন প্রদেশ তৈরি হয়েছিল তা জানতে চেয়েছে। উত্তর পূর্ববঙ্গ ও আসাম।
লর্ড কার্জনের সময় বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সি ভাগ করে পূর্ব বাংলার জেলাগুলোর সঙ্গে আসামকে জুড়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়। এর রাজধানী হয় ঢাকা। বাকি পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে থাকে বাংলা প্রদেশ।
প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও এর বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
বিহার ও উড়িষ্যা পুরোনো বাংলা প্রদেশেই থেকে গিয়েছিল, নতুন প্রদেশে যায়নি। আর পশ্চিমবঙ্গ নামের প্রদেশ তৈরি হয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগে, তাই এগুলো ফাঁদ।
মনে রাখুন: বঙ্গভঙ্গের নতুন প্রদেশ মানে পূর্ববঙ্গ যোগ আসাম, রাজধানী ঢাকা।
১২৪. ‘তমদ্দুন মজলিশ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কহাজী শরিয়ত উল্লাহ
- খশেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
- গআবুল কাশেম
- ঘমাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর: গ. আবুল কাশেম
প্রশ্নটা ভাষা আন্দোলনের সূচনাকারী সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা জানতে চেয়েছে। উত্তর অধ্যাপক আবুল কাশেম।
দেশভাগের পরপরই, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক আবুল কাশেম তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এটিই ছিল প্রথম সাংগঠনিক উদ্যোগ, তাই ভাষা আন্দোলনের শুরু তমদ্দুন মজলিসের হাত ধরে।
শেরে বাংলা বা ভাসানীর মতো বড় নাম দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। ভাসানী ১৯৫২ সালের সর্বদলীয় কর্মপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন, কিন্তু তমদ্দুন মজলিস তাঁর গড়া নয়।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস, প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম।
১২৫. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি কে রচনা করেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমুনীর চৌধুরী
- খজহির রায়হান
- গআবদুল গাফফার চৌধুরী
- ঘকাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর: গ. আবদুল গাফফার চৌধুরী
প্রশ্নটা একুশের অমর গানের রচয়িতা জানতে চেয়েছে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি লিখেছেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণের পর শহীদদের স্মরণে তিনি কবিতাটি লেখেন। প্রথমে এতে সুর দেন আবদুল লতিফ; পরে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই প্রভাতফেরির গান হিসেবে প্রচলিত হয়।
এখানে রচয়িতা আর সুরকার আলাদা করে মনে রাখা জরুরি। কথা গাফ্ফার চৌধুরীর, বর্তমান সুর আলতাফ মাহমুদের।
ভাষা আন্দোলন নিয়ে কবর নাটক লিখেছেন মুনীর চৌধুরী, আর যে চলচ্চিত্রে একুশের প্রভাতফেরির দৃশ্যে এই গান আছে, সেই জীবন থেকে নেয়া বানিয়েছেন জহির রায়হান। এই দুই পরিচিত নামই এখানে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: কথা গাফ্ফার, সুর আলতাফ, নাটক মুনীর।
১২৬. কোন দেশ বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কলাইবেরিয়া
- খনামিবিয়া
- গহাইতি
- ঘসিয়েরা লিওন
সঠিক উত্তর: ঘ. সিয়েরা লিওন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশ বাংলাকে তাদের অন্যতম সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে। উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন।
সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধের পর সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনারা বড় ভূমিকা রাখেন। তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমদ তেজান কাব্বা বাংলাকে সম্মানসূচক সরকারি ভাষা ঘোষণা করেন।
এখানে কারণটা মনে রাখলেই দেশ মনে থাকবে: শান্তিরক্ষী সেনা থেকে ভাষার স্বীকৃতি। সিয়েরা লিওনের প্রধান সরকারি ভাষা ইংরেজি; বাংলার মর্যাদাটি সম্মানসূচক।
লাইবেরিয়াও সিয়েরা লিওনের প্রতিবেশী এবং সেখানেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ছিলেন, তাই এটি সবচেয়ে কাছের ফাঁদ।
মনে রাখুন: শান্তিরক্ষী আর বাংলা ভাষা: সিয়েরা লিওন।
১২৭. বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২০
- খ৪৮
- গ২৫
- ঘ৩২
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪৮। এখন: ৫০টি (গেজেটভুক্ত, ২০১৯ থেকে)।
প্রশ্নটা বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার উত্তরমালায় সঠিক ধরা হয়েছে ৪৮।
এই সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণ, সরকারি তালিকা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ এর তফসিলে ২৭টি জনগোষ্ঠীর নাম ছিল। ২০১৯ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তফসিল সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০।
বিকল্পে ৫০ নেই, আর ২০, ২৫ বা ৩২ কোনো সরকারি তালিকার সঙ্গে মেলে না। তাই উত্তরমালা বিকল্পগুলোর মধ্যে ৪৮ কেই সঠিক ধরেছে।
এ ধরনের প্রশ্নে কোন সালের কোন তালিকা, সেটা খেয়াল রাখা জরুরি। পরীক্ষার সময়, অর্থাৎ ২০২২ সালে, গেজেট অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ছিল ৫০টি।
মনে রাখুন: সরকারি তালিকা দুটি মনে রাখুন: ২০১০ সালে ২৭, ২০১৯ সালে ৫০।
১২৮. নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসবুজপত্র
- খশনিবারের চিঠি
- গকল্লোল
- ঘধূমকেতু
সঠিক উত্তর: ঘ. ধূমকেতু
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন পত্রিকার প্রকাশ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন। উত্তর কাজী নজরুল ইসলামের ধূমকেতু।
১৯২২ সালের আগস্টে নজরুল অর্ধসাপ্তাহিক ধূমকেতু প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাণী পাঠান, যার শুরু আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু। এই আশীর্বাণী পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার প্রথম পাতায় ছাপা হতো।
ধূমকেতুতে প্রকাশিত আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার জন্য নজরুল রাজদ্রোহের অভিযোগে কারাদণ্ড পান। কারাগারে থাকাকালে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বসন্ত নাটক উৎসর্গ করেন।
সবুজপত্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে নিয়মিত লিখতেন, তাই এটি বড় ফাঁদ। কিন্তু আশীর্বাণী পাঠানোর বিখ্যাত ঘটনাটি ধূমকেতুর।
মনে রাখুন: আশীর্বাণীর লাইনেই পত্রিকার নাম: আয় চলে আয় রে ধূমকেতু।
১২৯. বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি তারকা আছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২টি
- খ৩টি
- গ৪টি
- ঘ৫টি
সঠিক উত্তর: গ. ৪টি
প্রশ্নটা বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে তারকার সংখ্যা জানতে চেয়েছে। উত্তর ৪টি।
জাতীয় প্রতীকের মাঝখানে পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা। শাপলার দুই পাশে ধানের শীষ, আর উপরে পরস্পর যুক্ত পাটগাছের তিনটি পাতা। পাটপাতার দুই পাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকা।
প্রতীকটি ছবির মতো কল্পনা করলে গোনা সহজ: বাম পাশে দুটি, ডান পাশে দুটি। সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীকের বর্ণনা আছে।
পাটপাতা তিনটি বলে অনেকে তারকাও তিনটি ধরে নেন। এটাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: পাতা তিন, তারা চার।
১৩০. বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪
- খ২২ মার্চ ১৯৫৮
- গ২০ এপ্রিল ১৯৬২
- ঘ২৩ মার্চ ১৯৬৬
সঠিক উত্তর: ঘ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
প্রশ্নটা ছয় দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর ২৩ মার্চ ১৯৬৬।
ঘটনাক্রমটা এমন: ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা উত্থাপন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটি এটি অনুমোদন করে, আর ১৮ মার্চ দলের কাউন্সিলে আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি পুস্তিকা বিতরণ করা হয়। ২৩ মার্চ ইংরেজিতে সিক্স পয়েন্ট ফর্মুলা: আওয়ার রাইট টু লিভ নামে এটি প্রকাশিত হয়; এই দিনটিকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন ধরা হয়।
তাই উত্থাপনের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তারিখ ২৩ মার্চ, দুটো আলাদা করে মনে রাখতে হবে। ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য ঘটনার বছর দিয়ে বানানো। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন; ছয় দফা এসেছে ১৯৬৬ সালে।
মনে রাখুন: ছয় দফা: পাঁচ ফেব্রুয়ারি উত্থাপন, তেইশে মার্চ ঘোষণা, সাল ছেষট্টি।
১৩১. ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ – জাতির পিতা কবে এই ঘোষণা দেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২৬ মার্চ ১৯৭১
- খ৭ মার্চ ১৯৭১
- গ৩ মার্চ ১৯৭১
- ঘ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর: খ. ৭ মার্চ ১৯৭১
প্রশ্নটা বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত উক্তিটি কোন দিনের ভাষণে, তা জানতে চেয়েছে। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম: এটি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের শেষ অংশ।
সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু ভাষণটি দেন। এতে তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো ভাষণটিকে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে, অর্থাৎ বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার দিন বলে অনেকে এটি বেছে নেন। কিন্তু এই উক্তিটি ঘোষণাপত্রের নয়, ৭ মার্চের জনসভার ভাষণের।
মনে রাখুন: মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম: ৭ মার্চের ভাষণের শেষ লাইন।
১৩২. বাংলাদেশে জুম চাষ কোথায় হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবান্দরবান
- খময়মনসিংহ
- গরাজশাহী
- ঘদিনাজপুর
সঠিক উত্তর: ক. বান্দরবান
প্রশ্নটা জুম চাষের এলাকা জানতে চেয়েছে। জুম চাষ হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে, বিকল্পের মধ্যে বান্দরবানে।
জুম হলো পাহাড়ের ঢালে স্থানান্তরিত চাষ। শুকনো মৌসুমে জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে জমি পরিষ্কার করা হয়, বর্ষার শুরুতে গর্ত করে একসঙ্গে ধান, ভুট্টা, তিল, মরিচসহ নানা বীজ বোনা হয়। কয়েক বছর পর জমির উর্বরতা কমলে অন্য পাহাড়ে সরে যাওয়া হয়।
এ চাষের জন্য পাহাড়ি ঢাল দরকার, তাই এটি হয় বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী জুম চাষ করে।
বাকি তিনটি জেলা সমতল বা উঁচু বরেন্দ্রভূমির, পাহাড়ি ঢাল নেই। উত্তরবঙ্গে নৃগোষ্ঠী থাকায় দিনাজপুর বা রাজশাহী বেছে নেওয়াটা ফাঁদ।
মনে রাখুন: জুম মানে পাহাড়; পাহাড় মানে পার্বত্য চট্টগ্রাম।
১৩৩. বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কচট্টগ্রাম
- খসিলেট
- গপঞ্চগড়
- ঘমৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর: ঘ. মৌলভীবাজার
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান। উত্তর মৌলভীবাজার।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক চা বাগান দেড়শো ষাটটির বেশি, আর এর অর্ধেকের বেশি, নব্বইটির মতো, মৌলভীবাজার জেলায়। এই জেলার শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়; সেখানে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চায়ের নিলামকেন্দ্র আছে।
চা চাষের জন্য দরকার প্রচুর বৃষ্টি আর ঢালু জমি, যেখানে পানি জমে থাকে না। বৃহত্তর সিলেটের টিলাময় এলাকা এর জন্য আদর্শ; মৌলভীবাজারের পর হবিগঞ্জেও অনেক বাগান আছে।
সিলেট শব্দটা চায়ের সঙ্গে এত জড়িত যে অনেকে সিলেট জেলাই বেছে নেন। কিন্তু চা বাগানের সংখ্যায় বৃহত্তর সিলেটের মধ্যেও মৌলভীবাজার জেলা সবার আগে।
মনে রাখুন: চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারে: তাই সবচেয়ে বেশি বাগানও মৌলভীবাজারে।
১৩৪. ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅনুচ্ছেদ ৩৮
- খঅনুচ্ছেদ ৫০
- গঅনুচ্ছেদ ৪১
- ঘঅনুচ্ছেদ ১০০
সঠিক উত্তর: গ. অনুচ্ছেদ ৪১
প্রশ্নটা সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের একটি অনুচ্ছেদ জানতে চেয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে অনুচ্ছেদ ৪১ এ।
অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের অধিকার আছে। প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে নিজ ধর্মের নয় এমন ধর্মীয় শিক্ষা নিতে বাধ্য করা যাবে না।
স্বাধীনতাগুলো ক্রমে আসে: ৩৬ চলাফেরা, ৩৭ সমাবেশ, ৩৮ সংগঠন, ৩৯ চিন্তা ও বাক্স্বাধীনতা, ৪০ পেশা, ৪১ ধর্ম। এই ক্রম মনে রাখলে প্রশ্নটা সহজ।
অনুচ্ছেদ ৩৮ ও ৪১ কাছাকাছি এবং দুটিই স্বাধীনতার কথা বলে, তাই ৩৮ বড় ফাঁদ। ৩৮ সংগঠনের স্বাধীনতা, ধর্মের নয়।
মনে রাখুন: চলা, সমাবেশ, সংগঠন, বাক্, পেশা, ধর্ম: ছত্রিশ থেকে একচল্লিশ।
১৩৫. বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি (জনগণনা) কবে অনুষ্ঠিত হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৯৭২ সালে
- খ১৯৭৩ সালে
- গ১৯৭৪ সালে
- ঘ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৭৪ সালে
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনশুমারির বছর জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৭৪ সাল।
স্বাধীনতার পর প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর দশ বছরের ব্যবধানে শুমারি হয় ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে। পরীক্ষার পরে, ২০২২ সালের জুনে, করোনার কারণে পিছিয়ে যাওয়া ষষ্ঠ শুমারি হয়, যা দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি।
১৯৭৪ এর পর পরেরটা ১৯৮১ সালে এনে দশকের প্রথম বছরের নিয়মে ফেরানো হয়েছিল। তাই এই বছরগুলো একটা ছক ধরে মনে রাখা যায়: চুয়াত্তর, তারপর প্রতিটি দশকের এক সাল।
স্বাধীনতার ঠিক পরের বছর হিসেবে অনেকে ১৯৭২ বা ১৯৭৩ ধরে নেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের নির্ধারিত শুমারি যুদ্ধের কারণে হয়নি, আর স্বাধীন দেশে প্রথম শুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।
মনে রাখুন: জনশুমারি: চুয়াত্তর, একাশি, একানব্বই, এক, এগারো, বাইশ।
১৩৬. বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককৃষি
- খশিল্প
- গবাণিজ্য
- ঘসেবা
সঠিক উত্তর: ঘ. সেবা
প্রশ্নটা জিডিপিতে খাতভিত্তিক অবদান জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল সেবা খাতের, যা অর্ধেকের বেশি।
জিডিপিকে তিনটি বড় খাতে ভাগ করা হয়: কৃষি, শিল্প ও সেবা। সেবা খাতে আছে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন, ব্যাংক-বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লোক প্রশাসন ইত্যাদি। এতগুলো উপখাত থাকায় এর মোট অবদান সবচেয়ে বড়।
অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কৃষির ভাগ কমে আর শিল্প ও সেবার ভাগ বাড়ে। বাংলাদেশে এখন অবদানের ক্রম সেবা, তারপর শিল্প, আর সবচেয়ে কম কৃষি; যদিও কর্মসংস্থানে কৃষি এখনো বড় খাত।
বাণিজ্য বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ বাণিজ্য আলাদা বড় খাত নয়, এটি সেবা খাতেরই একটি উপখাত। আর কৃষিপ্রধান দেশ শুনে কৃষি বেছে নেওয়াও সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: তিন খাতের ক্রম: সেবা, শিল্প, কৃষি। বাণিজ্য সেবার ভেতরে।
১৩৭. ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক৫.৬৮%
- খ৯.৯৪%
- গ৭.৬৬%
- ঘ৬.৯৪%
সঠিক উত্তর: ঘ. ৬.৯৪%
প্রশ্নটা ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে এটি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রথমে একটি সাময়িক হিসাব দেয়, পরে পূর্ণ তথ্য পেয়ে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আর ২০২২ সালের শুরুতে প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে তা দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে।
এই অর্থবছরটি ছিল করোনা মহামারির ধাক্কা সামলানোর বছর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে যাওয়ার পর ২০২০-২১ এ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়।
সংখ্যার প্রশ্নে সাময়িক আর চূড়ান্ত হিসাব আলাদা করে মনে রাখা জরুরি। পরীক্ষায় সাধারণত চূড়ান্ত হিসাবটিই সঠিক ধরা হয়।
মনে রাখুন: করোনার পরের বছর, ২০২০-২১: চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক নয় চার।
১৩৮. বিশ্বব্যাংক কবে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১ জুন ২০১৪
- খ১ জুন ২০১৫
- গ১ জুলাই ২০১৫
- ঘ১ জুলাই ২০১৬
সঠিক উত্তর: গ. ১ জুলাই ২০১৫
প্রশ্নটা বিশ্বব্যাংকের আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে বাংলাদেশের উত্তরণের তারিখ জানতে চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর ১ জুলাই, অর্থাৎ তার নতুন অর্থবছরের শুরুতে, মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোর আয়শ্রেণি হালনাগাদ করে। এই নিয়ম জানা থাকলে জুন মাসের বিকল্পগুলো সহজেই বাদ পড়ে।
এটি জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয় থেকে আলাদা। এলডিসি থেকে উত্তরণের সব মানদণ্ড বাংলাদেশ প্রথম পূরণ করে ২০১৮ সালে, আর উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায় ২০২১ সালে।
জুলাই না জুন, আর ২০১৫ না ২০১৬: এই দুই জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। নিয়মটা মনে রাখুন, বিশ্বব্যাংকের তালিকা বদলায় ১ জুলাই।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংকের শ্রেণি বদলায় ১ জুলাই; বাংলাদেশের বছর ২০১৫।
১৩৯. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ কী ধরণের স্যাটেলাইট হবে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককমিউনিকেশন স্যাটেলাইট
- খওয়েদার স্যাটেলাইট
- গআর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
- ঘন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট
সঠিক উত্তর: গ. আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
প্রশ্নটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের ধরন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ হবে আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট।
প্রথম স্যাটেলাইটটি, যা ২০১৮ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়, একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট। এটি টেলিভিশন সম্প্রচার ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ সেবা দেয়। পরীক্ষার পরে, ২০২৫ সালের মার্চে, এর নাম বদলে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ রাখা হয়।
দ্বিতীয়টির কাজ আলাদা: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ। এর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
প্রথম স্যাটেলাইটের ধরন মনে রেখে দ্বিতীয়টিকেও যোগাযোগ স্যাটেলাইট ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রথমটি কথা বলায়, দ্বিতীয়টি দেখায়: যোগাযোগ, তারপর পর্যবেক্ষণ।
১৪০. বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (Perspective Plan) সময়সীমা কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২০২১-২০৩০
- খ২০২৪-২০৩২
- গ২০২১-২০৪১
- ঘ২০২২-২০৫০
সঠিক উত্তর: গ. ২০২১-২০৪১
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় চলমান ছিল দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, যার মেয়াদ ২০২১ থেকে ২০৪১।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হলো দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা, যার ভিত্তিতে পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলো সাজানো হয়। প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ছিল ২০১০ থেকে ২০২১, যা রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য।
দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের রূপরেখা। এর লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পৌঁছানো। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল এর প্রথম ধাপ।
দুই হাজার তিরিশ সাল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শেষ বছর বলে ২০২১-২০৩০ বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে। আর শতবর্ষী দীর্ঘ পরিকল্পনা হলো ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নয়।
মনে রাখুন: প্রেক্ষিত পরিকল্পনার শেষ বছর আর রূপকল্পের বছর একই: ২০২১ ও ২০৪১।