বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৪১
৮০১. ’নমুনা’ শব্দটি কোন ভাষার? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭)
- কআরবি
- খফারসি
- গফরাসি
- ঘগুজরাটি
সঠিক উত্তর: খ. ফারসি
নমুনা শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। মুসলিম শাসনামলে ফারসি ছিল রাজদরবার ও প্রশাসনের ভাষা, তাই প্রশাসন, বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনের বহু ফারসি শব্দ বাংলায় ঢুকেছে।
আরও কিছু পরিচিত ফারসি শব্দ: কারখানা, চশমা, দোকান, বাগান, জবানবন্দি। আরবি থেকে এসেছে আদালত, কলম, কানুন। ফরাসি থেকে কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ। গুজরাটি থেকে খদ্দর আর হরতাল।
ফাঁদ হলো আরবি আর ফারসি গুলিয়ে ফেলা, কারণ দুটোই একই পথে বাংলায় এসেছে। আর ফারসি ও ফরাসি নাম কাছাকাছি হলেও ফারসি ইরানের ভাষা, ফরাসি ফ্রান্সের।
মনে রাখুন: ফারসি ইরানের, ফরাসি ফ্রান্সের; নমুনা ইরান থেকে এসেছে।
৮০২. 'সুখী মানুষ সূর্যোদয়ে আনন্দিত হয় এবং রাত্রির আগমনে পুলকিত হয়ে থাকে।' - কোন ধরনের বাক্য? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কযৌগিক
- খমিশ্র
- গজটিল
- ঘসরল
সঠিক উত্তর: ক. যৌগিক
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন চিনতে বলছে। গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন রকম: সরল বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া, জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য, আর যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দিয়ে জোড়া।
এখানে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া আছে: আনন্দিত হয়, আর পুলকিত হয়ে থাকে। দুটো অংশই নিজে নিজে সম্পূর্ণ অর্থ দেয়, কেউ কারও উপর নির্ভরশীল নয়। মাঝখানে বসেছে সংযোজক অব্যয় এবং।
দুটি অংশের কর্তা একই, সুখী মানুষ, তাই দ্বিতীয় অংশে কর্তা আর লেখা হয়নি। কর্তা উহ্য থাকলেও বাক্য দুটি স্বাধীন; তাই পুরো বাক্যটি যৌগিক।
ফাঁদ হলো সরল বাক্য। কর্তা একবার দেখে অনেকে সরল ধরে নেন, কিন্তু সরল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া থাকে একটাই। আর জটিল বাক্যে যে, যদি, যখন জাতীয় সাপেক্ষ শব্দ থাকে, এখানে তা নেই।
মনে রাখুন: এবং, ও, কিন্তু, অথবা, তাই দিয়ে দুটি পূর্ণ বাক্য জোড়া থাকলে যৌগিক; যে-সে, যদি-তবে, যখন-তখন থাকলে জটিল।
৮০৩. আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কভয়ংকর
- খভীরু
- গনির্ভীক
- ঘদুর্বার
সঠিক উত্তর: খ. ভীরু
প্রশ্নটা সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতা থেকে। কবিতাটি তাঁর ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থে আছে। কবি এখানে তারুণ্যকে দেখিয়েছেন সাহসী, দুরন্ত আর ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত এক বয়স হিসেবে।
কবিতায় আঠারো বছরকে বলা হয়েছে দুঃসহ, স্পর্ধায় মাথা তোলার বয়স, ভয়ংকর, দুর্বার। এ বয়স বিপদের মুখে এগিয়ে যায়, রক্তদানের পুণ্য বোঝে, ঝড়ে-ঝাপটায় থামে না। অর্থাৎ নির্ভীকতা এর মূল বৈশিষ্ট্য।
কবি স্পষ্টই বলেছেন, এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়। তাই ভীরুতা আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয়; এটা কবিতার মূল ভাবের ঠিক উল্টো।
প্রশ্নে নয় শব্দটি খেয়াল করুন। ভয়ংকর শব্দটা নেতিবাচক শোনায় বলে অনেকে সেটি বেছে নেন, কিন্তু কবি নিজেই এ বয়সকে ভয়ংকর বলেছেন।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “নয়” থাকলে তিনটি মেলে এমন বিকল্প কেটে দিন; তারুণ্যের কবিতায় ভীরুতার জায়গা নেই।
৮০৪. নিচের কোন দুটি সমার্থক শব্দ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কবীচি : ওদন
- খবারিদ : সুধাকর
- গTZ: অহন
- ঘকৃশানু : পাবক
সঠিক উত্তর: ঘ. কৃশানু : পাবক
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দজোড়া চিনতে বলছে। প্রতিটি জোড়ার দুটি শব্দের অর্থ আলাদা করে বের করলেই উত্তর মেলে।
কৃশানু আর পাবক দুটোই আগুনের সংস্কৃত প্রতিশব্দ। আগুনের আরও প্রতিশব্দ হলো অনল, বহ্নি, হুতাশন, বৈশ্বানর। তাই এই জোড়াটি সমার্থক।
বাকিগুলো মেলে না। বীচি মানে ঢেউ, আর ওদন মানে ভাত বা অন্ন। বারিদ মানে মেঘ, যে বারি বা জল দেয়; আর সুধাকর মানে চাঁদ।
ফাঁদ হলো বারিদ আর সুধাকর। দুটোই আকাশের জিনিস বলে একসঙ্গে মনে হয়, কিন্তু একটি মেঘ, অন্যটি চাঁদ।
মনে রাখুন: আগুনের প্রতিশব্দ মুখস্থ রাখুন: অনল, পাবক, কৃশানু, বহ্নি, হুতাশন, বৈশ্বানর।
৮০৫. 'অর্ক' শব্দের সমার্থক শব্দ হচ্ছে - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কপ্রভাকর
- খসমুদ্র
- গবায়ু
- ঘনভোমণ্ডল
সঠিক উত্তর: ক. প্রভাকর
প্রশ্নটা অর্ক শব্দের প্রতিশব্দ জানতে চাইছে। অর্ক মানে সূর্য।
প্রভাকর শব্দটির গঠন প্রভা মানে আলো, আর কর মানে যে করে; অর্থাৎ যে আলো দেয়। তাই প্রভাকরও সূর্য। সূর্যের আরও প্রতিশব্দ: দিবাকর, ভাস্কর, রবি, তপন, মার্তণ্ড, আদিত্য।
বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা: সমুদ্রের প্রতিশব্দ জলধি, সাগর; বায়ুর প্রতিশব্দ পবন, সমীরণ; আর নভোমণ্ডল মানে আকাশ।
ফাঁদ হলো নভোমণ্ডল। সূর্য আকাশে থাকে বলে অনেকে আকাশকে বেছে নেন, কিন্তু আকাশ আর সূর্য এক জিনিস নয়।
মনে রাখুন: “কর” দিয়ে শেষ হওয়া আলোর শব্দ সূর্য: প্রভাকর, দিবাকর, ভাস্কর; কিন্তু সুধাকর, নিশাকর হলো চাঁদ।
৮০৬. কোনটি সমার্থক শব্দগুচ্ছ নয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- করূপ, আকার, আদল, আকৃতি
- খঅশ্ব, হয়, মাতঙ্গ, তুরঙ্গ
- গআয়তন, পরিসর, পরিধি, পরিমাণ
- ঘবাঘ, শার্দূল, শের, ব্যাঘ্র
সঠিক উত্তর: খ. অশ্ব, হয়, মাতঙ্গ, তুরঙ্গ
প্রশ্নটা খুঁজছে কোন শব্দগুচ্ছের চারটি শব্দ একই অর্থের নয়। প্রতিটি গুচ্ছে একটা বেমানান শব্দ আছে কি না দেখতে হবে।
অশ্ব, হয় আর তুরঙ্গ তিনটিই ঘোড়া। কিন্তু মাতঙ্গ মানে হাতি। হাতির আরও প্রতিশব্দ হলো হস্তী, করী, গজ, দ্বিপ। একটা বেমানান শব্দ থাকায় এই গুচ্ছটি সমার্থক নয়।
বাঘ, শার্দূল, শের, ব্যাঘ্র সবই বাঘ; শের ফারসি থেকে আসা শব্দ। রূপ, আকার, আদল, আকৃতি সবই চেহারা বা গড়ন বোঝায়। আয়তন, পরিসর, পরিধি, পরিমাণও বিস্তার বা মাপের ধারণা দেয়।
ফাঁদ হলো হয় শব্দটি। সাধারণ ক্রিয়া হয় দেখে অনেকে এটাকেই বেমানান ভাবেন, কিন্তু সংস্কৃতে হয় মানে ঘোড়া, যেমন হয়গ্রীব।
মনে রাখুন: হাতির প্রতিশব্দ: মাতঙ্গ, হস্তী, করী, গজ, দ্বিপ। ঘোড়ার: অশ্ব, হয়, তুরঙ্গ, ঘোটক, বাজী।
৮০৭. 'জ্ঞানপাপী' বলে - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কজ্ঞানের বড়াই করে যে
- খবাস্তবে জ্ঞানের প্রয়োগ করে না যে
- গসজ্ঞানে অন্যায় করে যে
- ঘঅনেক জ্ঞান আছে যার
সঠিক উত্তর: গ. সজ্ঞানে অন্যায় করে যে
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ বা শব্দের অর্থ জানতে চাইছে। জ্ঞানপাপী মানে যে জেনে বুঝে, সজ্ঞানে পাপ বা অন্যায় করে।
শব্দটা দুই ভাগে ভাবুন: জ্ঞান মানে জানা, আর পাপী মানে অন্যায়কারী। যে কাজটা অন্যায় তা জানা সত্ত্বেও করে, তার দোষ অজ্ঞ লোকের চেয়ে বেশি; এই কারণেই আলাদা একটা শব্দ।
জ্ঞানের বড়াই করা লোককে বলে জ্ঞানাভিমানী বা পণ্ডিতম্মন্য। অনেক জ্ঞান যার, সে জ্ঞানী বা প্রাজ্ঞ।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় বিকল্প, বাস্তবে জ্ঞান প্রয়োগ না করা। এতে অন্যায়ের কথা নেই, অথচ পাপী শব্দটাই এখানে মূল।
মনে রাখুন: শব্দের শেষ অংশ পাপী: যে বিকল্পে অন্যায় নেই সেটি বাদ।
৮০৮. সবুজপত্র সম্পাদনা করেন - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কপ্রমথ চৌধুরী
- খনজরুল
- গরবীন্দ্রনাথ
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র
সঠিক উত্তর: ক. প্রমথ চৌধুরী
প্রশ্নটা সাহিত্য পত্রিকা ও সম্পাদক নিয়ে। সবুজপত্র সম্পাদনা করেন প্রমথ চৌধুরী, ১৯১৪ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ শুরু হয়।
সবুজপত্রের বড় অবদান হলো বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রতিষ্ঠা। প্রমথ চৌধুরী ছদ্মনাম বীরবল নামে লিখতেন, আর রবীন্দ্রনাথও এ পত্রিকায় চলিত ভাষায় লেখা প্রকাশ করেন।
অন্য পত্রিকাগুলোর সম্পাদকও মনে রাখুন: বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র, ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম, আর সাধনা ও ভারতী পত্রিকার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ যুক্ত ছিলেন।
ফাঁদ হলো রবীন্দ্রনাথ। সবুজপত্রে তাঁর অনেক লেখা ছাপা হয়েছিল বলে অনেকে তাঁকে সম্পাদক ভাবেন, কিন্তু সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী।
মনে রাখুন: সবুজপত্র = প্রমথ চৌধুরী = বীরবল = চলিত ভাষা; চারটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৮০৯. 'সিকি' কোন ধরনের শব্দ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কঅংকবাচক
- খতারিখবাচক
- গপূরণবাচক
- ঘগণনাবাচক
সঠিক উত্তর: ঘ. গণনাবাচক
প্রশ্নটা সংখ্যাবাচক শব্দের প্রকারভেদ নিয়ে। বাংলা ব্যাকরণে সংখ্যাবাচক শব্দ চার রকম: অঙ্কবাচক, পরিমাণ বা গণনাবাচক, ক্রম বা পূরণবাচক, আর তারিখবাচক।
অঙ্কবাচক হলো সংখ্যার চিহ্ন, যেমন ১, ২, ৩। গণনাবাচক দিয়ে গোনা বা পরিমাণ বোঝায়, যেমন এক, দুই, দশ। পূরণবাচক বোঝায় ক্রম, যেমন প্রথম, দ্বিতীয়। তারিখবাচক মাসের দিন বোঝায়, যেমন পয়লা, দোসরা।
সিকি মানে চার ভাগের এক ভাগ। এটি একটি পরিমাণ বা গণনা বোঝায়, ক্রম বা তারিখ নয়। তাই সিকি, আধা, পোয়া, দেড়, আড়াই জাতীয় ভগ্নাংশ শব্দ গণনাবাচক।
ফাঁদ হলো পূরণবাচক। ভগ্নাংশ শুনে অনেকে ভাবেন এটা কোনো স্থান বা অংশ পূরণ করছে, কিন্তু পূরণবাচক মানে শুধু ক্রম: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।
মনে রাখুন: প্রশ্ন করুন: কত? উত্তর হলে গণনাবাচক; কততম? উত্তর হলে পূরণবাচক; কত তারিখ? হলে তারিখবাচক।
৮১০. কোনটি রবীন্দ্রনাথের লেখা - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- ক
- খ
- গ
- ঘ
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটা জানতে চাইছে কোন রচনাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এ ধরনের প্রশ্নে সাধারণত একটি রবীন্দ্র-রচনার পাশে সমসাময়িক অন্য লেখকের বিখ্যাত বই রাখা হয়।
রবীন্দ্রনাথের প্রধান রচনা মনে রাখুন। কাব্যে গীতাঞ্জলি, সোনার তরী, বলাকা, মানসী; উপন্যাসে গোরা, চোখের বালি, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা; নাটকে রক্তকরবী, ডাকঘর, বিসর্জন।
ফাঁদ সাধারণত কাছাকাছি নামের বই: যেমন দেবদাস ও শ্রীকান্ত শরৎচন্দ্রের, কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের, আর অগ্নিবীণা নজরুলের।
এই প্রশ্নের মূল অপশনগুলো পাওয়া যায়নি, তাই এখানে নির্দিষ্ট উত্তর দেখানো হয়নি।
৮১১. কোন শব্দটি বিশেষ্য বিশেষণ উভয় রূপে ব্যবহৃত হতে পারে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কদেশ
- খব্যাথা
- গসুন্দর
- ঘবন্দর
সঠিক উত্তর: গ. সুন্দর
প্রশ্নটা পদ প্রকরণ নিয়ে: কোন শব্দ বাক্যে কখনো বিশেষ্য, কখনো বিশেষণ হয়ে বসতে পারে। পদ চেনা হয় বাক্যে শব্দটির কাজ দেখে।
সুন্দর সাধারণত বিশেষণ, যেমন সুন্দর ফুল। কিন্তু সুন্দরের পূজারি বা সত্য ও সুন্দরের সাধনা বললে সুন্দর মানে সৌন্দর্য বা সুন্দর বস্তু; তখন এটি বিশেষ্য। তাই সুন্দর দুই রূপেই চলে।
দেশ আর বন্দর সাধারণত বিশেষ্য; এদের বিশেষণ রূপ আলাদা, যেমন দেশি বা দেশীয়। ব্যথাও বিশেষ্য, এর বিশেষণ ব্যথিত। বানানটি প্রশ্নে ব্যাথা ছাপা, কিন্তু শুদ্ধ বানান ব্যথা।
ফাঁদ হলো দেশ। দেশ গান বা দেশ ভ্রমণের মতো সমাসে দেশ অন্য শব্দের আগে বসে বলে বিশেষণ মনে হয়, কিন্তু সেখানে সেটি সমাসের পূর্বপদ, বিশেষণ নয়।
মনে রাখুন: বিশেষণের পরে -এর বা -কে বসিয়ে দেখুন অর্থ টেকে কি না: সুন্দরের, ভালোর, মন্দের; টিকলে শব্দটি বিশেষ্য রূপেও চলে।
৮১২. 'বন্দুক-বারুদ' শব্দ দুটি (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কতুর্কি
- খফারসি
- গআরবি
- ঘহিন্দি
সঠিক উত্তর: ক. তুর্কি
প্রশ্নটা বিদেশি শব্দের উৎস নিয়ে। বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত তালিকায় বন্দুক আর বারুদ দুটোকেই তুর্কি শব্দ হিসেবে ধরা হয়; পরীক্ষায় এ উত্তরটিই প্রত্যাশিত।
তুর্কিরা মধ্যযুগে বাংলা শাসন করেছে, তাদের সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ, অস্ত্র আর রাজকাজের অনেক শব্দ বাংলায় এসেছে। বারুদ, বন্দুক, তোপ এসব যুদ্ধাস্ত্রের শব্দ সেই সূত্রেই।
আরও তুর্কি শব্দ: চাকর, চাকু, কাঁচি, দারোগা, বাবুর্চি, বেগম, খাতুন, কুলি, লাশ। ফারসি শব্দের উদাহরণ: খোদা, নামাজ, রোজা, দরবার, কাগজ। আরবি শব্দের উদাহরণ: কলম, কিতাব, ইসলাম, উকিল।
ফাঁদ হলো ফারসি। মুসলিম শাসনামলের প্রায় সব শব্দকে অনেকে ফারসি ভেবে নেন, কিন্তু যুদ্ধাস্ত্র আর গৃহকর্মের কিছু শব্দ আলাদা করে তুর্কি।
মনে রাখুন: তুর্কি শব্দ মনে রাখুন এক বাক্যে: বেগম সাহেবার বাবুর্চি চাকু-কাঁচি নিয়ে, দারোগা বন্দুক-বারুদ নিয়ে।
৮১৩. 'পদ্মাবতী' - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কমৌলিক রচনা
- খঅনুবাদ গ্রন্থ
- গ
- ঘ
সঠিক উত্তর: খ. অনুবাদ গ্রন্থ
প্রশ্নটা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য নিয়ে। পদ্মাবতী কাব্যটি লিখেছেন সপ্তদশ শতকের কবি আলাওল, আরাকান রাজসভায় বসে। এটি একটি অনুবাদ কাব্য।
আলাওল পদ্মাবতী রচনা করেন হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে। তিনি হুবহু অনুবাদ না করে নিজের মতো ভাব যোগ করেছেন, তবু সাহিত্যের ইতিহাসে এটি অনুবাদ কাব্য হিসেবেই পরিচিত।
আলাওলের আরও কাজ: সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সপ্তপয়কর, তোহফা, সেকান্দারনামা; এগুলোও মূলত ফারসি থেকে অনুবাদ বা ভাবানুবাদ।
ফাঁদ হলো মৌলিক রচনা। আলাওল কাহিনিতে নিজস্বতা এনেছেন বলে কেউ কেউ এটিকে মৌলিক ভাবেন, কিন্তু মূল কাহিনি জায়সীর।
মনে রাখুন: আলাওলের প্রায় সব কাব্যই অনুবাদ বা ভাবানুবাদ: পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সপ্তপয়কর, সেকান্দারনামা।
৮১৪. 'মান্ধাতার আমল' এখানে 'মান্ধাতা' হলো: (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কপ্রাচীনকাল
- খবহু পুরোনো কিছু
- গঅন্ধকারময়
- ঘএক রাজার নাম
সঠিক উত্তর: ঘ. এক রাজার নাম
মান্ধাতার আমল একটি বাগ্ধারা, এর অর্থ অতি প্রাচীন কাল। তবে প্রশ্নটা পুরো বাগ্ধারার অর্থ চায়নি, চেয়েছে মান্ধাতা শব্দটি আসলে কী।
মান্ধাতা ছিলেন পুরাণে বর্ণিত সূর্যবংশের এক প্রাচীন রাজা। তিনি এত আগের মানুষ যে তাঁর সময়কে বলা হয় মান্ধাতার আমল; সেখান থেকেই বাগ্ধারাটির অর্থ দাঁড়িয়েছে বহু পুরোনো সময়।
ব্যক্তির নাম দিয়ে তৈরি এমন আরও বাগ্ধারা আছে: ধৃতরাষ্ট্রের আলিঙ্গন মানে কপট স্নেহে সর্বনাশ, ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা মানে কঠিন প্রতিজ্ঞা, কুম্ভকর্ণের ঘুম মানে গভীর ঘুম। প্রতিটিতে নামটি একজন পৌরাণিক চরিত্র, আর পুরো বাগ্ধারার অর্থ তার স্বভাব থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো প্রাচীনকাল আর বহু পুরোনো কিছু। এগুলো পুরো বাগ্ধারার অর্থ, মান্ধাতা শব্দের নয়। প্রশ্নে এখানে মান্ধাতা হলো কথাটি খেয়াল করলেই ফাঁদ এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: প্রশ্ন পুরো বাগ্ধারা চাইছে, নাকি তার একটি শব্দ, আগে দেখে নিন।
৮১৫. 'Morphology' এর বঙ্গানুবাদ হল - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- করূপতত্ত্ব
- খঅর্থতত্ত্ব
- গধ্বনিতত্ত্ব
- ঘবাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: ক. রূপতত্ত্ব
প্রশ্নটা ব্যাকরণের শাখার ইংরেজি পরিভাষা নিয়ে। Morphology মানে রূপতত্ত্ব, যেখানে শব্দ ও পদের গঠন আলোচনা করা হয়।
ইংরেজি morph মানে রূপ বা আকার, তাই morphology হলো রূপের বিদ্যা। বাংলা ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বে আলোচনা হয় শব্দ, পদ, বিভক্তি, প্রত্যয়, সমাস, লিঙ্গ, বচন ইত্যাদি।
অন্য শাখাগুলো: Phonology হলো ধ্বনিতত্ত্ব, Syntax হলো বাক্যতত্ত্ব, আর Semantics হলো অর্থতত্ত্ব।
ফাঁদ হলো ধ্বনিতত্ত্ব। শব্দ আর ধ্বনি গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল; ধ্বনিতত্ত্বে সন্ধি, ধ্বনির উচ্চারণ ও পরিবর্তন আলোচিত হয়, শব্দের গঠন নয়।
মনে রাখুন: Phono = ধ্বনি, Morph = রূপ, Syntax = বাক্যের গঠন, Seman = অর্থ।
৮১৬. 'ঐকতান' বলতে বোঝায়- (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কসমস্বর
- খঐক্য
- গসমবেদনা
- ঘবংশীধ্বনি
সঠিক উত্তর: ক. সমস্বর
প্রশ্নটা ঐকতান শব্দের অর্থ চাইছে। ঐকতান মানে নানা বাদ্যযন্ত্র বা কণ্ঠের মিলিত একটি সুর, অর্থাৎ সমস্বর।
শব্দটির গঠন ঐক্য বা এক আর তান মানে সুর। অনেকগুলো স্বর মিলে একটি তানে বাজলে তাকে বলে ঐকতান; ইংরেজিতে এর কাছাকাছি শব্দ concert বা harmony।
রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ঐকতানেও এই ভাব: কবি চেয়েছেন সব মানুষের জীবনের সুর তাঁর কবিতায় মিলে যাক।
ফাঁদ হলো ঐক্য। শব্দের শুরুতে ঐ দেখে অনেকে শুধু একতা ভাবেন, কিন্তু তান অংশটি সুরের কথা বলে; তাই অর্থ সমস্বর।
মনে রাখুন: শব্দের শেষ অংশ তান থাকলে অর্থে সুর থাকবেই।
৮১৭. কোনটি শুদ্ধ - (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কমরু + উদ্যান = মরুদ্যান
- খপরি + ইক্ষা =পরীক্ষা
- গপ্রতি + উষ = প্রত্যুষ
- ঘগঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
সঠিক উত্তর: গ. প্রতি + উষ = প্রত্যুষ
প্রশ্নটা স্বরসন্ধির শুদ্ধ রূপ চাইছে। চারটির মধ্যে শুধু প্রতি যোগ উষ সমান প্রত্যুষ সব দিক থেকে ঠিক।
নিয়মটি হলো: ই বা ঈ-এর পর ই ও ঈ ছাড়া অন্য স্বর এলে ই বা ঈ বদলে য-ফলা হয়, আর পরের স্বর য-ফলার সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই প্রতি আর উষ মিলে প্রত্যুষ। একই নিয়মে অতি যোগ অন্ত সমান অত্যন্ত, ইতি যোগ আদি সমান ইত্যাদি।
বাকিগুলোতে বানানের ভুল। উ আর উ মিলে হয় ঊ, তাই মরু যোগ উদ্যান সমান মরূদ্যান, দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে। পরীক্ষা শব্দের বিচ্ছেদ পরি যোগ ঈক্ষা, দীর্ঘ ঈ দিয়ে। আর ঢেউ অর্থে শুদ্ধ বানান ঊর্মি, তাই গঙ্গা যোগ ঊর্মি সমান গঙ্গোর্মি।
ফাঁদ হলো গঙ্গোর্মি। ফলাফলটা ঠিক দেখায় বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু বিচ্ছেদে উর্মি বানানটি ভুল।
মনে রাখুন: সন্ধির প্রশ্নে ফলাফলের সঙ্গে বিচ্ছেদের বানানও মিলিয়ে দেখুন; ঊর্মি, ঈক্ষা, ঊষা দীর্ঘ স্বরের শব্দ।
৮১৮. আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরালকে এক কথায় বলে: (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কক্রন্দসী
- খঅতলস্পর্শী
- গআমশি
- ঘরোদসী
সঠিক উত্তর: ক. ক্রন্দসী
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ। আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল বা মধ্যবর্তী জায়গাকে এক কথায় বলে ক্রন্দসী।
ক্রন্দসী সংস্কৃত শব্দ, এর মূল অর্থ আকাশ ও পৃথিবী, অর্থাৎ স্বর্গ আর মর্ত্য একসঙ্গে। বাংলা ব্যাকরণের এক কথায় প্রকাশের তালিকায় আকাশ ও পৃথিবীর অন্তরাল বোঝাতে এই শব্দটিই দেওয়া হয়।
রোদসী শব্দটিও অভিধানে আকাশ ও পৃথিবী অর্থে আছে। তাই কিছু সূত্র রোদসীকে উত্তর ধরে। তবে প্রচলিত ব্যাকরণ বইয়ের তালিকায় ক্রন্দসী-ই বেশি স্বীকৃত।
অতলস্পর্শী মানে যার তল পাওয়া যায় না, যেমন গভীর সমুদ্র। আমশি মানে শুকানো আমের ফালি। এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা অর্থের।
মনে রাখুন: আকাশ-পৃথিবীর অন্তরাল = ক্রন্দসী; পরীক্ষায় এই জোড়াটাই বারবার আসে।
৮১৯. প্রবোধকুমার কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৬)
- কতারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
- খমানিক বন্দোপাধ্যায়
- গবিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
- ঘবুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর: খ. মানিক বন্দোপাধ্যায়
প্রশ্নটা লেখকের প্রকৃত নাম নিয়ে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; মানিক ছিল তাঁর ডাকনাম, যা পরে লেখক নাম হয়ে যায়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য। তাঁর লেখায় নিম্নবর্গের মানুষের জীবন ও মনস্তত্ত্ব প্রধান।
তিন বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুলিয়ে ফেলবেন না: তারাশঙ্করের বিখ্যাত বই হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ও গণদেবতা, বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী ও আরণ্যক। বুদ্ধদেব বসু কবিতা পত্রিকার সম্পাদক, কল্লোল যুগের লেখক।
ফাঁদ হলো বাকি দুই বন্দ্যোপাধ্যায়। পদবি এক বলে অনেকে তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণ বেছে নেন, কিন্তু তাঁদের ব্যবহৃত নামই আসল নাম।
মনে রাখুন: মানিক = প্রবোধ; ছদ্মনাম নয়, ডাকনাম থেকে লেখক নাম।