বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ৯
১৬১. বাংলাদেশে মোট কতটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৬ (ছয়) টি
- খ৭ (সাত) টি
- গ৮ (আট) টি
- ঘ৯ (নয়) টি
সঠিক উত্তর: গ. ৮ (আট) টি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে কতটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময় পর্যন্ত মোট ৮টি নেওয়া হয়েছিল, আর অষ্টমটি তখন চলমান ছিল।
প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত একটি দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত, আর পঞ্চমটি ১৯৯৭ থেকে ২০০২।
২০০২ এর পর কয়েক বছর দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র দিয়ে কাজ চলে। এরপর ষষ্ঠ পরিকল্পনা ২০১১ থেকে ২০১৫, সপ্তম ২০১৬ থেকে ২০২০, আর অষ্টম ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত।
মাঝে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা আর কৌশলপত্রের বছরগুলো থাকায় অনেকে সাল গুনে বেশি বা কম পরিকল্পনা ধরে নেন। নম্বর ধরে গুনলেই হিসাব মেলে: অষ্টম পর্যন্ত, মানে ৮টি।
মনে রাখুন: পরীক্ষার সময় চলমান পরিকল্পনার নম্বরই মোট সংখ্যা: অষ্টম, তাই ৮টি।
১৬২. মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন্ সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২ (দুই) নম্বর
- খ৩ (তিন) নম্বর
- গ৪ (চার) নম্বর
- ঘ৫ (পাঁচ) নম্বর
সঠিক উত্তর: ক. ২ (দুই) নম্বর
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর বিভাজন থেকে। ঢাকা শহর ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।
২ নম্বর সেক্টরে ছিল ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালীর একাংশ। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এ টি এম হায়দার।
এই সেক্টরের গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালও এই সেক্টরের যোদ্ধা ছিলেন।
ঢাকা দেশের মাঝখানে বলে অনেকে ভাবেন এটি আলাদা কোনো সেক্টর বা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলের ১১ নম্বরে। কিন্তু ঢাকা শহর ছিল খালেদ মোশাররফের ২ নম্বর সেক্টরে।
মনে রাখুন: ঢাকা মানেই খালেদ মোশাররফের ২ নম্বর সেক্টর আর ক্র্যাক প্লাটুন।
১৬৩. 'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায় কত তারিখে অনুমোদন করা হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২ মার্চ, ২০২২
- খ৩ মার্চ, ২০২২
- গ৪ মার্চ, ২০২২
- ঘ৫ মার্চ, ২০২২
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ২ মার্চ, ২০২২। এখন: "জয় বাংলা" এখন আর জাতীয় স্লোগান নয়: ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে।
প্রশ্নটা জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতির তারিখ জানতে চেয়েছে। বিকল্পগুলোর মধ্যে সঠিক ধরা হয়েছে ২ মার্চ ২০২২।
এখানে দুটি তারিখ আলাদা করে জানা দরকার। মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, আর ২ মার্চ ২০২২ এ সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রশ্নে অনুমোদন শব্দ থাকলেও বিকল্পে ২০ ফেব্রুয়ারি নেই; প্রজ্ঞাপনের তারিখটিই উত্তর।
এর পটভূমি ছিল হাইকোর্টের একটি রায়। ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে রায় দেয়, যার ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নেয়।
প্রশ্নে অনুমোদন শব্দ থাকায় অনেকে বিভ্রান্ত হন, কারণ মন্ত্রিসভার বৈঠকের তারিখ বিকল্পে নেই। বিকল্পের চারটি তারিখের মধ্যে কেবল ২ মার্চের সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের যোগ আছে।
মনে রাখুন: বিকল্পে চারটিই মার্চের প্রথম সপ্তাহ; প্রজ্ঞাপনের তারিখ মাসের দ্বিতীয় দিন।
১৬৪. বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কবে গঠিত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৬ এপ্রিল ১৯৭২
- খ৭ এপ্রিল ১৯৭২
- গ৮ এপ্রিল ১৯৭২
- ঘ৯ এপ্রিল ১৯৭২
সঠিক উত্তর: গ. ৮ এপ্রিল ১৯৭২
প্রশ্নটা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের তারিখ জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ৮ এপ্রিল ১৯৭২।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৩৪ এর মাধ্যমে কর্ম কমিশন গঠনের বিধান করা হয়, আর প্রচলিত উত্তরে গঠনের তারিখ ধরা হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২। বাংলাপিডিয়া অবশ্য বলছে, এই আদেশের অধীনে দুটি কমিশন ১৯৭২ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরে ১৯৭৭ সালে দুটি কমিশন একীভূত করে একক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন করা হয়, যা ২২ ডিসেম্বর ১৯৭৭ থেকে কাজ শুরু করে। সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদে কমিশনের গঠন ও দায়িত্বের বিধান আছে।
বিকল্পের চারটি তারিখই একই সপ্তাহের, তাই এখানে অনুমানে কাজ হয় না। আদেশের তারিখ ৮ এপ্রিল মনে রাখতে হবে।
মনে রাখুন: পিএসসি: বাহাত্তরের আট এপ্রিল, রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর চৌত্রিশ।
১৬৫. 'e-TIN' চালু করা হয় কত সালে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২০১৩ সালে
- খ২০১৪ সালে
- গ২০১৫ সালে
- ঘ২০১৬ সালে
সঠিক উত্তর: ক. ২০১৩ সালে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ই-টিন কবে চালু হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১৩ সালে অনলাইনে ই-টিন নিবন্ধন চালু করে।
টিন মানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর। আগে কাগজে আবেদন করে দশ অঙ্কের টিন নিতে হতো; ২০১৩ সালের ৩০ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইন পোর্টাল চালুর পর ঘরে বসেই বারো অঙ্কের ই-টিন পাওয়া যায়, আর পুরোনো টিনধারীদেরও ই-টিনে নতুন করে নিবন্ধন করতে হয়।
ই-টিন কর ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার প্রথম বড় ধাপ। পরে অনলাইনে রিটার্ন জমা বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থাও চালু হয়।
পরের বছরগুলোর বিকল্প দেখে অনেকে অনলাইন রিটার্নের সময়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ই-টিন এসেছে তারও আগে, ২০১৩ সালে।
মনে রাখুন: ই-টিন মানে তেরো: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন যাত্রার শুরু।
১৬৬. কত সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক২০১১ সালে
- খ২০১২ সালে
- গ২০১৩ সালে
- ঘ২০১৪ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ২০১২ সালে
প্রশ্নটা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সাল জানতে চেয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রণীত হয় ২০১২ সালে।
বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রথম আইন হয় ২০০২ সালে। পরে ২০০৯ সালে নতুন আইন হয়, আর আন্তর্জাতিক মান আরও ভালোভাবে মানতে ২০১২ সালে আগের আইন বাতিল করে বর্তমান আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
মানি লন্ডারিং মানে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করে তাকে বৈধ অর্থের মতো দেখানো। এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে।
একই সময়ের আরেকটি আইন সন্ত্রাসবিরোধী আইন, যা ২০০৯ সালে প্রণীত হয়ে ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এই দুই আইনের সাল গুলিয়ে যাওয়াই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: মানি লন্ডারিং আইন: দুই, নয়, বারো।
১৬৭. দেশের কোন জেলায় সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচট্টগ্রাম
- খফেনী
- গনরসিংদী
- ঘময়মনসিংহ
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ময়মনসিংহ। এখন: গাইবান্ধা (তিস্তা সোলার, ২০০ মেগাওয়াট, ২০২৩)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ের দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেলা জানতে চেয়েছে। উত্তর ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২০ সালের শেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় এবং তখন দেশের সবচেয়ে বড় সৌরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বিকল্পের অন্য তিন জেলায় এর চেয়ে বড় কোনো চালু কেন্দ্র তখন ছিল না।
একটি সূক্ষ্ম বিষয় জেনে রাখা ভালো: পরীক্ষার আগেই, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর চরে ২০০ মেগাওয়াটের তিস্তা সোলার পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছিল; আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় পরীক্ষার পরে, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট। গাইবান্ধা বিকল্পে না থাকায় এই প্রশ্নে ময়মনসিংহই সঠিক।
এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই কোন সময়ের তথ্য চাওয়া হচ্ছে তা খেয়াল রাখুন। অনেকে চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের নাম দেখে সেটি বেছে নেন, কিন্তু সৌরকেন্দ্রের আকার শহরের আকারের উপর নির্ভর করে না।
মনে রাখুন: বিকল্পে গাইবান্ধা না থাকলে বড় সৌরকেন্দ্র মানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর।
১৬৮. বাংলাদেশে বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাজশাহী
- খকুমিল্লা
- গচট্টগ্রাম
- ঘগাজীপুর
সঠিক উত্তর: গ. চট্টগ্রাম
প্রশ্নটা বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এটি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহরে অবস্থিত।
দেশের প্রাকৃতিক বনের বড় অংশ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে, তাই বন গবেষণার কেন্দ্রও সেখানে। প্রতিষ্ঠানটি বনজ সম্পদ, কাঠ, বাঁশ, বেত, বনজ উদ্ভিদের চাষ ও সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা ধরে মনে রাখা সুবিধা। গাজীপুরে কৃষি ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুমিল্লার কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রাজশাহীতে রেশম গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর চট্টগ্রামে বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
গাজীপুরে অনেক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকায় অনেকে বন গবেষণাও সেখানেই ধরে নেন; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: বন যেখানে বেশি, বন গবেষণাও সেখানে: চট্টগ্রাম।
১৬৯. বাংলাদেশের মৎস্য প্রজাতি গবেষণাগার কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচাঁদপুর
- খফরিদপুর
- গময়মনসিংহ
- ঘভোলা
সঠিক উত্তর: গ. ময়মনসিংহ
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে দেশের মাছ নিয়ে গবেষণার মূল কেন্দ্র কোথায়। এ কাজের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, আর এর সদর দপ্তর ময়মনসিংহে।
ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। সদর দপ্তরের সাথেই আছে স্বাদুপানি কেন্দ্র, যেখানে দেশি মাছের প্রজনন, পোনা উৎপাদন আর বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষার গবেষণা হয়। ২০২০ সালে ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরে দেশি মাছের একটি জিন ব্যাংকও চালু হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের অন্য কেন্দ্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের মাছ নিয়ে কাজ করে। চাঁদপুরে নদী কেন্দ্র, যেখানে মূলত ইলিশ নিয়ে গবেষণা হয়; খুলনায় লোনাপানি কেন্দ্র; আর কক্সবাজারে সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ চাঁদপুর, কারণ ইলিশ গবেষণার জন্য নামটি খুব পরিচিত। কিন্তু সেটি একটি বিশেষায়িত নদী কেন্দ্র; সদর দপ্তর ও প্রজাতি নিয়ে মূল গবেষণা ময়মনসিংহে।
মনে রাখুন: মাছ গবেষণার প্রশ্নে আগে ময়মনসিংহ ভাবুন; শুধু ইলিশের কথা থাকলে তবেই চাঁদপুর।
১৭০. বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককয়লা
- খপ্রাকৃতিক গ্যাস
- গচুনাপাথর
- ঘচীনামাটি
সঠিক উত্তর: খ. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রশ্নটা দেশের খনিজ সম্পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস, কারণ মজুদ ও ব্যবহারের দিক থেকে অন্য কোনো খনিজ এর ধারেকাছে নেই।
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এরপর তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, বিবিয়ানাসহ বহু ক্ষেত্র পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প, বাসাবাড়ি ও যানবাহন, সবখানেই এই গ্যাস জ্বালানি।
অন্য খনিজগুলোও দেশে আছে, তবে সীমিত। কয়লা তোলা হয় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে, চুনাপাথর পাওয়া যায় সুনামগঞ্জের টাকেরঘাট ও জয়পুরহাটে, আর সাদামাটি বা চীনামাটি নেত্রকোনার বিজয়পুরে।
ফাঁদ হলো কয়লা, কারণ বিশ্বের অনেক দেশে কয়লাই প্রধান খনিজ। বাংলাদেশে কয়লা খনি মাত্র কয়েকটি এবং উৎপাদন কম, তাই এখানে প্রধান সম্পদ গ্যাস।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের প্রধান খনিজ, প্রধান বাণিজ্যিক জ্বালানি, ইউরিয়া সারের কাঁচামাল: তিন প্রশ্নেরই উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
১৭১. ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপ্রাকৃতিক গ্যাস
- খচুনাপাথর
- গমিথেন গ্যাস
- ঘইলমেনাইট
সঠিক উত্তর: ক. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রশ্নটা ইউরিয়া সার কোন কাঁচামাল থেকে তৈরি হয় তা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের ইউরিয়া সার কারখানাগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে চলে, তাই উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
ইউরিয়াতে আছে কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন। কারখানায় প্রথমে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বাষ্প থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করে বাতাসের নাইট্রোজেনের সাথে মিলিয়ে অ্যামোনিয়া বানানো হয়। এরপর অ্যামোনিয়ার সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশিয়ে ইউরিয়া তৈরি হয়, আর এই কার্বন ডাই অক্সাইডও আসে গ্যাস থেকেই।
গ্যাস এখানে দুই কাজ করে: কাঁচামাল হিসেবে হাইড্রোজেন ও কার্বন জোগায়, আবার কারখানা চালানোর জ্বালানিও দেয়। তাই গ্যাসের সরবরাহ কমলে সার উৎপাদনও কমে যায়।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, তাই মিথেন গ্যাস বিকল্পটি বিভ্রান্তিকর। কিন্তু কারখানায় পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসই কাঁচামাল হিসেবে ঢোকে, আলাদা করে মিথেন নয়; তাই প্রত্যাশিত উত্তর প্রাকৃতিক গ্যাস।
মনে রাখুন: ইউরিয়া কারখানার নাম শুনলেই গ্যাস মনে করুন: অ্যামোনিয়ার হাইড্রোজেন আর ইউরিয়ার কার্বন দুটোই আসে গ্যাস থেকে।
১৭২. কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কআইনের প্রয়োগ
- খআইনের ব্যাখ্যা
- গসংবিধানের ব্যাখ্যা
- ঘসংবিধান প্রণয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সংবিধান প্রণয়ন
প্রশ্নটা রাষ্ট্রের তিন বিভাগের কাজের পার্থক্য পরীক্ষা করছে। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে, নির্বাহী বিভাগ আইন বাস্তবায়ন করে, আর বিচার বিভাগ বিরোধ মীমাংসায় আইন ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করে বিচার করে।
বিচার বিভাগের মূল কাজ কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক আইন কী বলে তা ব্যাখ্যা করা এবং সেই আইন ঘটনার উপর প্রয়োগ করে রায় দেওয়া। বাংলাদেশে সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী সুপ্রিম কোর্ট; কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আদালত তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণ করেছিল নির্বাচিত গণপরিষদ; এটি গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ এবং কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২। পরে সংশোধনের ক্ষমতা পেয়েছে জাতীয় সংসদ।
ফাঁদ হলো আইনের প্রয়োগ বিকল্পটি। প্রশাসনিকভাবে আইন বাস্তবায়ন নির্বাহী বিভাগের কাজ ঠিকই, কিন্তু আদালতও মামলার ঘটনায় আইন প্রয়োগ করেই বিচার করে; তাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বিচার বিভাগের বাইরের কাজ হলো সংবিধান প্রণয়ন।
মনে রাখুন: প্রণয়ন শব্দ দেখলেই আইনসভা বা গণপরিষদ; ব্যাখ্যা শব্দ দেখলেই আদালত।
১৭৩. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ কত সালে জারি হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৯৮০ সালে
- খ১৯৮১ সালে
- গ১৯৮৫ সালে
- ঘ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৮৫ সালে
প্রশ্নটা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিশেষ আদালত গঠনের আইনটির সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৮৫, যখন অধ্যাদেশ আকারে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ জারি হয়।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী পাঁচ ধরনের মামলা পারিবারিক আদালতে চলে: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত। উদ্দেশ্য ছিল এসব মামলা সাধারণ দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রতা থেকে আলাদা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
পরীক্ষার সময় এই অধ্যাদেশই চালু ছিল। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পারিবারিক আদালত আইন পাস হয়, যা ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের জায়গা নিয়েছে।
কাছাকাছি সালগুলো বিভ্রান্তি তৈরি করে। ১৯৮০ সালে হয়েছিল যৌতুক নিরোধ আইন, তাই নারী ও পরিবার বিষয়ক আইন মনে করে অনেকে ১৯৮০ বেছে নেন; পারিবারিক আদালত এসেছে তার পাঁচ বছর পরে।
মনে রাখুন: পারিবারিক আইনের ক্রম: একষট্টিতে মুসলিম পারিবারিক আইন, আশিতে যৌতুক, পঁচাশিতে পারিবারিক আদালত।
১৭৪. 'গণহত্যা যাদুঘর' কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঢাকা
- খচট্টগ্রাম
- গকুমিল্লা
- ঘখুলনা
সঠিক উত্তর: ঘ. খুলনা
প্রশ্নটা একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে গড়ে ওঠা বিশেষ জাদুঘরের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এর পুরো নাম ১৯৭১ গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর, আর এটি খুলনায় অবস্থিত।
জাদুঘরটি ২০১৪ সালে খুলনায় যাত্রা শুরু করে, শুরুতে শেরেবাংলা রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে। প্রধান উদ্যোক্তা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। ২০১৫ সালে সরকার খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোডে এর জন্য বাড়ি ও জমি বরাদ্দ দেয়।
এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের গণহত্যা ও নির্যাতনের দলিল, ছবি ও স্মারক সংরক্ষণ করা হয়। দেশে গণহত্যা বিষয়ক একমাত্র জাদুঘর হিসেবে এটি পরিচিত।
ফাঁদ হলো ঢাকা। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অনেক বেশি পরিচিত, কিন্তু সেটি পুরো মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর; গণহত্যা বিষয়ক বিশেষ জাদুঘরটি খুলনায়।
মনে রাখুন: গণহত্যা জাদুঘর মানে খুলনা; মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মানে ঢাকা।
১৭৫. নভেরা আহমেদের পরিচয় কী হিসাবে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককবি
- খনাট্যকার
- গকণ্ঠশিল্পী
- ঘভাস্কর
সঠিক উত্তর: ঘ. ভাস্কর
প্রশ্নটা একজন শিল্পীর পরিচয় জানতে চেয়েছে। নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ, অর্থাৎ তিনি ছিলেন ভাস্কর।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশা তৈরিতে তিনি শিল্পী হামিদুর রহমানের সাথে যুক্তভাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ভাস্কর্যের প্রদর্শনী হয়।
১৯৯৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। জীবনের দীর্ঘ সময় ফ্রান্সে কাটিয়ে ২০১৫ সালে প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
নামটি শুনে কবি বা গায়িকা মনে হতে পারে বলে অনেকে ভুল বিকল্প বেছে নেন। মনে রাখার সহজ সূত্র: শহীদ মিনারের নকশার দুই শিল্পী, চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও ভাস্কর নভেরা আহমেদ।
মনে রাখুন: শহীদ মিনারের প্রশ্নে দুই নাম: হামিদুর রহমান চিত্রশিল্পী, নভেরা আহমেদ ভাস্কর।
১৭৬. আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাঙ্গামাটি
- খবরিশাল
- গচট্টগ্রাম
- ঘময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর: ক. রাঙ্গামাটি
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটি, প্রায় ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার একটি।
পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় আর বন বেশি, জনবসতি তুলনামূলক কম; জেলাটির বিশাল আয়তনের বড় অংশই এই পাহাড়ি এলাকা। রাঙ্গামাটিতেই আছে দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ।
দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা চট্টগ্রাম, প্রায় ৫ হাজার ২৮৩ বর্গকিলোমিটার, আর সবচেয়ে ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জ।
ফাঁদ হলো চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিভাগ আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ, আর জেলা হিসেবেও চট্টগ্রাম দ্বিতীয়; তাই অনেকে বিভাগ আর জেলা গুলিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: বড় জেলা: রাঙ্গামাটি; বড় বিভাগ: চট্টগ্রাম; ছোট জেলা: নারায়ণগঞ্জ; ছোট বিভাগ: ময়মনসিংহ।
১৭৭. বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য কয়টি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৯ (নয়) টি
- খ১০ (দশ) টি
- গ১১ (এগার) টি
- ঘ১২ (বার) টি
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১১ (এগার) টি। এখন: ৬৪টি (সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। জিআই হলো এমন পণ্যের স্বীকৃতি, যার গুণ বা খ্যাতি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মাটি, আবহাওয়া বা ঐতিহ্যের সাথে জড়িত।
বাংলাদেশে এই নিবন্ধন দেয় পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। প্রথম জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, ২০১৬ সালে; দ্বিতীয় ইলিশ, ২০১৭ সালে। এরপর যুক্ত হয় ক্ষীরশাপাতি আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, কালিজিরা চাল, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল ও নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি।
এর পর বাগদা চিংড়ি ২০২২ সালে এবং রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম যুক্ত হয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় এগারো। ২০২৩ সালের এপ্রিলের হিসাবেও সংখ্যাটি এগারো ছিল, তাই পরীক্ষার সময় সঠিক উত্তর এগারোটি।
নয়টি ছিল বাগদা চিংড়ি ও ফজলি আম যুক্ত হওয়ার আগের হিসাব, আর দশটি এর মাঝের হিসাব। পুরোনো সংখ্যা মনে রাখলেই এই ভুল হয়। পরীক্ষার পরে আরও বহু পণ্য তালিকায় এসেছে।
মনে রাখুন: পরীক্ষার তারিখ দেখে সংখ্যা ঠিক করুন: ২০২৩ সালের মাঝামাঝির আগে এগারো, এরপর দ্রুত বেড়েছে।
১৭৮. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 'মনিপুরী' বাংলাদেশের কোন জেলায় বেশি বসবাস করে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসিলেট
- খমৌলভীবাজার
- গহবিগঞ্জ
- ঘসুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর: খ. মৌলভীবাজার
প্রশ্নটা মণিপুরী জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি এলাকা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশে মণিপুরীরা মূলত বৃহত্তর সিলেটে থাকেন, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৌলভীবাজার জেলায়, বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলায়।
মণিপুরীদের আদি বাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। আঠারো ও উনিশ শতকে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁদের একটি অংশ সিলেট অঞ্চলে চলে আসে এবং টিলা ও চা বাগানের এই এলাকায় বসতি গড়ে।
মণিপুরী নৃত্য তাঁদের সবচেয়ে পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিচয়, আর তাঁতে বোনা মণিপুরী শাড়ি ও চাদরও বিখ্যাত। কমলগঞ্জে প্রতিবছর রাস উৎসব বড় আয়োজনে পালিত হয়।
ফাঁদ হলো সিলেট, কারণ সিলেট শহরেও মণিপুরী পাড়া আছে এবং পুরো অঞ্চলকে বৃহত্তর সিলেট বলা হয়। কিন্তু জেলা হিসেবে সংখ্যায় এগিয়ে মৌলভীবাজার।
মনে রাখুন: মণিপুরী নৃত্য আর রাস উৎসবের ঠিকানা কমলগঞ্জ, মানে মৌলভীবাজার।
১৭৯. বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় জনশুমারি ও গৃহ গণনা কোন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১০ জুন থেকে ১৬ জুন, ২০২২
- খ১৫ জুন থেকে ২১ জুন, ২০২২
- গ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই, ২০২২
- ঘ২০ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই, ২০২২
সঠিক উত্তর: খ. ১৫ জুন থেকে ২১ জুন, ২০২২
প্রশ্নটা দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার সময়কাল জানতে চেয়েছে। এটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন, আর এটি ছিল দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি, যেখানে কাগজের বদলে ট্যাবলেটে তথ্য নেওয়া হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে জনশুমারি হয়েছে ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে; তাই ২০২২ সালেরটি ষষ্ঠ। সাধারণত দশ বছর পর পর হলেও করোনা মহামারির কারণে এবার তা পিছিয়ে ২০২২ সালে হয়।
আয়োজক ছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে জনসংখ্যা পাওয়া যায় ষোলো কোটি একান্ন লাখের কিছু বেশি।
বিকল্পগুলোর তারিখ খুব কাছাকাছি, তাই মনে রাখার কৌশল জরুরি: মাস জুন, শুরু পনেরো তারিখে, চলে সাত দিন।
মনে রাখুন: ষষ্ঠ শুমারি বছরের ষষ্ঠ মাসে: জুন, পনেরো থেকে একুশ।
১৮০. কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গত ২০২০ সালে প্রবর্তিত পুরস্কারের নাম কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
- খবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড
- গবাংলাদেশ ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
- ঘবঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড
সঠিক উত্তর: ক. বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স
প্রশ্নটা কূটনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে চালু হওয়া পুরস্কারের সঠিক নাম জানতে চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ইংরেজি নাম দেয় বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ডিপ্লোম্যাটিক এক্সিলেন্স, আর বাংলা বিকল্পগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স এর সবচেয়ে কাছাকাছি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক এবং বাংলাদেশে কাজ করা একজন বিদেশি কূটনীতিককে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের জন্য মনোনীত হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রবিষয়ক ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত।
নামটির তিনটি অংশ মনে রাখলেই হয়: শুরুতে বঙ্গবন্ধু, মাঝে ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড, শেষে ফর এক্সিলেন্স। বিষয় কূটনীতি, আর স্বীকৃতি শ্রেষ্ঠত্বের।
বিকল্পগুলো একই শব্দ ঘুরিয়ে বানানো। এক্সিলেন্স বাদ পড়লে নাম অসম্পূর্ণ, আর বঙ্গবন্ধুর বদলে বাংলাদেশ এলে সেটি ভুল নাম।
মনে রাখুন: তিনটি অংশ মিলিয়ে নিন: বঙ্গবন্ধু, ডিপ্লোমেটিক অ্যাওয়ার্ড, ফর এক্সিলেন্স; যে বিকল্পে তিনটিই আছে সেটিই উত্তর।