ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৭
১২১. সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কভূমিকম্প
- খভূমিধস
- গটর্নেডো
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: ক. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে কোন দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ধরা হয়। প্রচলিত উত্তর ভূমিকম্প।
বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের কাছাকাছি: ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেট। উত্তরে ডাউকি ফল্ট আর পূর্বে চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমান্তের ফল্ট অঞ্চলে বিপুল শক্তি জমে আছে বলে ভূতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করেন।
ঝুঁকি বাড়ার মূল কারণ মানুষের তৈরি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দ্রুত ঘনবসতি বেড়েছে, অনেক ভবন বিল্ডিং কোড না মেনে বানানো, জলাশয় ভরাট করে নরম মাটির ওপর উঁচু ভবন উঠছে। তাই একই মাত্রার ভূমিকম্পে এখন ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে, আর ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি ধরা হয়।
ভূমিধসের ঝুঁকিও পাহাড়ি এলাকায় বেড়েছে, তাই এটি বিভ্রান্ত করে। কিন্তু সারা দেশের জন্য বড় আকারের যে ঝুঁকি নিয়ে বেশি আলোচনা, সেটি ভূমিকম্প।
মনে রাখুন: সাম্প্রতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রশ্নে বিসিএসের প্রচলিত উত্তর ভূমিকম্প, কারণ শহরের দুর্বল অবকাঠামো।
১২২. নিম্নের কোন দুর্যোগ ‘hydro-meteorological’ দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবন্যা
- খখরা
- গঘূর্ণিঝড়
- ঘভূমিধস
সঠিক উত্তর: ক. বন্যা
প্রশ্নটি দুর্যোগের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে। পানি ও আবহাওয়ার কারণে যে দুর্যোগ ঘটে, তাকে হাইড্রো-মেটিওরোলজিক্যাল বা জল-আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বলে। প্রচলিত গাইড-উত্তর বন্যা।
হাইড্রো মানে পানি আর মেটিওরোলজি মানে আবহাওয়াবিজ্ঞান। বন্যা এই দুইয়ের মিলনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ: ভারী বৃষ্টি, উজানের ঢল আর নদীর পানি একসঙ্গে বেড়ে গিয়ে বন্যা হয়।
তবে খেয়াল রাখুন, খরা বৃষ্টির অভাবে আর ঘূর্ণিঝড় বায়ুমণ্ডলের নিম্নচাপে হয়, তাই এরাও একই শ্রেণির। অন্যদিকে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও সুনামি হলো ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ। ভূমিধস বৃষ্টিতে হলে জল-আবহাওয়াজনিত, ভূমিকম্পে হলে ভূতাত্ত্বিক।
একাধিক বিকল্প সঠিক হওয়ায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছিল বলে একাধিক সমাধান-সূত্রে উল্লেখ আছে। তবু এ ধরনের প্রশ্নে পানি আর আবহাওয়া দুটোই সবচেয়ে সরাসরি জড়িত বলে বন্যাকেই প্রধান উদাহরণ ধরা হয়।
মনে রাখুন: হাইড্রো দেখলেই পানি: পানি আর আবহাওয়া মিললে বন্যা।
১২৩. ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কএকটি দেশের নাম
- খম্যানগ্রোভ বন
- গএকটি দ্বীপ
- ঘসাবমেরিন ক্যানিয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সাবমেরিন ক্যানিয়ন
প্রশ্নটি বঙ্গোপসাগরের একটি বিশেষ ভূ-গঠন নিয়ে। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হলো একটি সাবমেরিন ক্যানিয়ন, মানে সমুদ্রতলের গভীর খাদ।
নামটিই ইঙ্গিত দেয়: নো গ্রাউন্ড মানে তল নেই, অর্থাৎ আশপাশের তুলনায় হঠাৎ অনেক গভীর জায়গা। খাদটির গভীরতা গড়ে প্রায় এক হাজার দুইশো মিটার, সবচেয়ে গভীর অংশে এক হাজার তিনশো মিটারেরও বেশি, যেখানে আশপাশের মহীসোপান অনেক অগভীর।
এটি সুন্দরবনের দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশে। এখানে ডলফিন, তিমি, হাঙর ও সামুদ্রিক কচ্ছপ থাকে বলে দুই হাজার চোদ্দ সালে এটি বাংলাদেশের প্রথম মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া বা সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।
ম্যানগ্রোভ বন বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ জায়গাটি সুন্দরবনের কাছে। কিন্তু সুন্দরবন স্থলভাগের বন, আর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সমুদ্রের তলদেশের খাদ।
মনে রাখুন: নো গ্রাউন্ড মানে তলাহীন খাদ, তাই উত্তর সাবমেরিন ক্যানিয়ন।
১২৪. নিম্নের কোন উপজেলাটি সবচেয়ে নদীভাঙ্গন-প্রবণ? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবোয়ালমারী
- খনড়িয়া
- গআলমডাঙ্গা
- ঘনিকলি
সঠিক উত্তর: খ. নড়িয়া
প্রশ্নটি নদীভাঙনপ্রবণ উপজেলা চেনা নিয়ে। বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা।
নড়িয়া পদ্মার ডান তীরে। পদ্মা বিশাল পরিমাণ পানি আর পলি বহন করে এবং প্রায়ই গতিপথ বদলায়, তাই তীর ভাঙে দ্রুত। দুই হাজার আঠারো সালের বর্ষায় নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়, বাজার, হাসপাতাল ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়। এই ঘটনা তখন সারা দেশে আলোচিত ছিল।
উত্তর মনে রাখার উপায়: বড় নদীর তীরে থাকা উপজেলাই ভাঙনের শিকার হয়। বাকি তিনটি পদ্মা, যমুনা বা মেঘনার মতো বড় নদীর তীরে নয়।
নিকলি নামটি অনেকে বেছে নেন, কারণ এটি হাওরে পানিবেষ্টিত। কিন্তু হাওরের সমস্যা বন্যা ও ঢেউয়ের আঘাত, পদ্মার মতো বড় নদীর তীরভাঙন নয়।
মনে রাখুন: ভাঙনের প্রশ্নে খুঁজুন কোন উপজেলা পদ্মা, যমুনা বা মেঘনার তীরে।
১২৫. Which is the tributary of the river Padma? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কKopotaksha
- খTangon
- গKorotoa
- ঘPunarvaba
সঠিক উত্তর: ঘ. Punarvaba
প্রশ্নটা পদ্মার উপনদী নিয়ে। উপনদী হলো যে নদী এসে বড় নদীতে পানি ঢালে; আর শাখানদী হলো যে নদী বড় নদী থেকে বেরিয়ে যায়।
উত্তর-পশ্চিমের মহানন্দা গোদাগাড়ীর কাছে গঙ্গা-পদ্মায় এসে মেশে। পুনর্ভবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহনপুরের কাছে মহানন্দায় মিলে এই পদ্মা-ব্যবস্থার অংশ হয়েছে। তাই প্রচলিত তালিকায় পুনর্ভবাকে পদ্মার উপনদী ধরা হয়।
টাঙ্গন আবার পুনর্ভবার উপনদী, পদ্মা থেকে আরও এক ধাপ দূরে। কপোতাক্ষ পদ্মা-ব্যবস্থার শাখানদী, পানি বয়ে নেয় দক্ষিণে, সুন্দরবনের দিকে। করতোয়া যমুনা-ব্যবস্থার নদী।
ফাঁদ হলো কপোতাক্ষ: পদ্মা অঞ্চলের নদী বলে উপনদী মনে হয়, কিন্তু এটি শাখানদী। উপনদী পানি আনে, শাখানদী পানি নিয়ে যায়।
মনে রাখুন: পদ্মার উপনদী: মহানন্দা, পুনর্ভবা। পদ্মার শাখানদী: গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মাথাভাঙ্গা, কপোতাক্ষ।
১২৬. What is the capital of Hebei province? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২০)
- কWuhan
- খShijiazhuang
- গGuiyang
- ঘNanning
সঠিক উত্তর: খ. Shijiazhuang
প্রশ্নটা চীনের প্রদেশ আর তাদের রাজধানী নিয়ে। হেবেই উত্তর চীনের একটি প্রদেশ, যা রাজধানী বেইজিং আর তিয়ানজিনকে ঘিরে আছে। এর রাজধানী শিজিয়াজুয়াং।
সমস্যাটা নামের মিলে: হেবেই আর হুবেই। হুবেই মধ্য চীনের প্রদেশ, যার রাজধানী উহান। ২০১৯ সালের শেষে কোভিড-১৯ প্রথম ধরা পড়ে উহানে, তাই ২০২০ সালে উহান নামটা সবার মুখে ছিল।
হে মানে নদী, বেই মানে উত্তর: হেবেই হলো হলুদ নদীর উত্তরের প্রদেশ। হু মানে হ্রদ: হুবেই হলো হ্রদের উত্তরের প্রদেশ। বাকি দুটি অপশন: গুইয়াং গুইঝৌ প্রদেশের, আর নাননিং গুয়াংশির রাজধানী।
ফাঁদ হলো উহান: পরীক্ষাটা ২০২০ সালের, তখন উহান খবরের শিরোনামে; হুবেই আর হেবেই গুলিয়ে গেলেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: Hu-bei = হ্রদ = উহান; He-bei = নদী = শিজিয়াজুয়াং।
১২৭. The civilian Airport of highest altitude is in - (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, টেলার) (২০১৯)
- কTibet
- খChina
- গNepal
- ঘIndia
সঠিক উত্তর: খ. China
পরীক্ষার সময়, ২০১৯ সালে, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বেসামরিক বিমানবন্দর ছিল চীনের দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দর। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪১১ মিটার উঁচুতে।
বিমানবন্দরটি চালু হয় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের গারজে তিব্বতি স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারে অবস্থিত, তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে নয়।
এর আগে রেকর্ডটি ছিল তিব্বতের কামদো বামদা বিমানবন্দরের, যার উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৩৩৪ মিটার। এ কারণেই অনেক পুরোনো বইতে উত্তর তিব্বত লেখা থাকে।
ফাঁদ হলো তিব্বত অপশনটি। তিব্বত আলাদা দেশ নয়, চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল; আর বর্তমান রেকর্ডধারী বিমানবন্দরটি তিব্বতের বাইরে, সিচুয়ানে। তাই দেশ হিসেবে উত্তর চীন।
মনে রাখুন: সর্বোচ্চ বিমানবন্দরের প্রশ্নে দেশ চীন; তিব্বত দেশ নয়, চীনের অঞ্চল।
১২৮. The smallest sea of the World is - (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কBaltic Sea
- খDead Sea
- গRed Sea
- ঘNone
সঠিক উত্তর: ঘ. None
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সাগর হলো তুরস্কের মারমারা সাগর, আয়তন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার। এটা বসফরাস প্রণালি দিয়ে কৃষ্ণসাগরের সাথে আর দার্দানেলিস প্রণালি দিয়ে ঈজিয়ান সাগরের সাথে যুক্ত।
অপশনে মারমারা নেই। ডেড সি নামে সাগর হলেও আসলে চারদিকে স্থলবেষ্টিত একটি লবণাক্ত হ্রদ, যা সমুদ্রের সাথে যুক্ত নয়; তাই একে ক্ষুদ্রতম সাগর ধরা যায় না।
বাল্টিক সাগর ও লোহিত সাগর দুটোই কয়েক লাখ বর্গকিলোমিটারের বড় সাগর। তাই সঠিক উত্তর None। ডেড সি নামের সি শব্দটাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
১২৯. Which country is called "Land of thousand islands"? (সমন্বিত ২ ব্যাংক, জনতা ও রূপালী): অফিসার (২০১৯)
- কMalaysia
- খIreland
- গIndonesia
- ঘFinland
সঠিক উত্তর: গ. Indonesia
সহস্র দ্বীপের দেশ বলা হয় ইন্দোনেশিয়াকে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র, যেখানে ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ আছে।
ফিনল্যান্ডকে বলা হয় হাজার হ্রদের দেশ, কারণ সেখানে অসংখ্য হ্রদ ছড়িয়ে আছে। দ্বীপ আর হ্রদ গুলিয়ে ফেলাই এই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
আয়ারল্যান্ডকে বলা হয় পান্নার দ্বীপ বা Emerald Isle, এর সবুজ প্রকৃতির জন্য। মালয়েশিয়ার এমন কোনো প্রচলিত ডাকনাম পরীক্ষায় আসে না।
১৩০. The largest waterfalls system in the world is - (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কAngel Falls
- খHavasupai Falls
- গVictoria
- ঘNiagara Falls
সঠিক উত্তর: গ. Victoria
এখানে “বৃহত্তম” কথাটা বুঝতে হবে। জলপ্রপাত মাপা হয় তিনভাবে: উচ্চতা, প্রস্থ আর পানির পরিমাণ। সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত ভেনেজুয়েলার অ্যাঞ্জেল ফলস, কিন্তু সেটা সরু।
আফ্রিকার জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে সীমান্তে জাম্বেজি নদীর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত প্রায় ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার চওড়া আর প্রায় ১০৮ মিটার উঁচু। এ দুটো মিলিয়ে এটি পতনশীল পানির বৃহত্তম একক পর্দা, তাই একে সাধারণত বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত বলা হয়।
একটা সূক্ষ্ম কথা মনে রাখুন: বহু ছোট প্রপাত মিলিয়ে বৃহত্তম জলপ্রপাত ব্যবস্থা হলো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সীমান্তের ইগুয়াসু, যা অপশনে নেই। তাই দেওয়া অপশনের মধ্যে ভিক্টোরিয়াই সঠিক।
ফাঁদ হলো অ্যাঞ্জেল ফলস: সবচেয়ে উঁচু মানেই সবচেয়ে বড় নয়। আর নায়াগ্রা বিখ্যাত হলেও আকারে ভিক্টোরিয়ার চেয়ে ছোট।
মনে রাখুন: উঁচু = অ্যাঞ্জেল, চওড়া পর্দা = ভিক্টোরিয়া, প্রপাতগুচ্ছ = ইগুয়াসু।
১৩১. What is the time zone of Bangladesh UTC? (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কUTC + 5
- খUTC + 4
- গUTC + 6
- ঘUTC + 3
সঠিক উত্তর: গ. UTC + 6
সময় অঞ্চল মাপা হয় গ্রিনিচের সময়, মানে ইউটিসি থেকে কত ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে, তা দিয়ে। পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরে, তাই প্রতি ১৫ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় ১ ঘণ্টা পার্থক্য।
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় নির্ধারিত হয় ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ধরে। ৯০ ভাগ ১৫ সমান ৬, তাই বাংলাদেশের সময় ইউটিসি যোগ ৬ ঘণ্টা।
পাশের দেশগুলোর সাথে গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ফাঁদ: ভারতের সময় ইউটিসি যোগ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, পাকিস্তানের যোগ ৫। তাই বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে আধা ঘণ্টা এগিয়ে।
মনে রাখুন: প্রমাণ দ্রাঘিমা ÷ ১৫ = ইউটিসি থেকে ঘণ্টার পার্থক্য। ৯০° ÷ ১৫ = ৬।
১৩২. The key factor in determining the weather is the quantity of ____ in the atmosphere. (জনতা ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৯)
- কWater vapor
- খOxygen
- গCarbon Dioxide
- ঘHydrogen
সঠিক উত্তর: ক. Water vapor
আবহাওয়া মানে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আর্দ্রতা, ঝড়ের মতো স্বল্পমেয়াদি অবস্থা। এগুলোর প্রায় সবই ঘটে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের কারণে।
জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি হয়, আর ঘনীভবনের সময় সুপ্ত তাপ ছেড়ে ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি জোগায়। বায়ুতে এর পরিমাণ জায়গা ও সময় ভেদে প্রায় ০ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বদলায়, তাই আবহাওয়াও বদলায়।
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় স্থির, তাই এরা আবহাওয়া ঠিক করে না। কার্বন ডাই-অক্সাইড দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু আর গ্রিনহাউস প্রভাবের সাথে যুক্ত, দৈনিক আবহাওয়ার মূল নিয়ামক নয়; এটাই প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: আবহাওয়া = জলীয় বাষ্প, জলবায়ু পরিবর্তন = কার্বন ডাই-অক্সাইড।
১৩৩. The longest rail line of the world. Trans - Siberian line, is in - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কChina
- খRussia
- গUSA
- ঘSaudi Arabia
সঠিক উত্তর: খ. Russia
প্রশ্নটি বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথ কোন দেশে, তা জানতে চাইছে। এটি রাশিয়ায়, রাজধানী মস্কো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরের ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত বিস্তৃত।
মূল লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার, যা ইউরোপ থেকে এশিয়ার পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত গোটা সাইবেরিয়া পাড়ি দেয়। এর নির্মাণ শুরু হয় ১৮৯১ সালে, জার শাসনামলে।
পথটি বৈকাল হ্রদের তীর ঘেঁষে যায় এবং অনেকগুলো সময় অঞ্চল পার হয়। নামের সাইবেরিয়া অংশটিই মনে করিয়ে দেয় দেশটি রাশিয়া।
চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রেল নেটওয়ার্ক থাকলেও একক দীর্ঘতম লাইন হিসেবে ট্রান্স-সাইবেরিয়ানই বিখ্যাত।
মনে রাখুন: নামে সাইবেরিয়া থাকলেই দেশ রাশিয়া।
১৩৪. The lower limit of perpetual snow in mountains such as the Himalayas is termed as the - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কtree line
- খtimber line
- গboundary line
- ঘsnow line
সঠিক উত্তর: ঘ. snow line
প্রশ্নটি পার্বত্য ভূগোলের একটি পরিভাষা জানতে চাইছে। উঁচু পর্বতে একটা নির্দিষ্ট উচ্চতার উপরে সারা বছর বরফ থাকে, গ্রীষ্মেও গলে শেষ হয় না। এই চিরস্থায়ী তুষারের নিচের সীমারেখাকে বলে snow line বা হিমরেখা।
হিমরেখার উচ্চতা সব জায়গায় সমান নয়। নিরক্ষরেখার কাছে এটি অনেক উঁচুতে, আর মেরুর দিকে গেলে নামতে নামতে মেরু অঞ্চলে প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠে চলে আসে। হিমালয়ে এটি সাধারণত ৪ থেকে ৬ হাজার মিটারের মধ্যে।
Tree line বা timber line হলো সেই উচ্চতা, যার উপরে ঠান্ডা ও বাতাসের জন্য গাছ জন্মাতে পারে না। এটি হিমরেখার নিচে থাকে, আর দুটো শব্দ প্রায় সমার্থক।
ফাঁদ হলো tree line আর snow line গুলিয়ে ফেলা। মনে রাখুন, প্রশ্নে perpetual snow বা চিরস্থায়ী তুষার আছে, তাই উত্তর snow line।
মনে রাখুন: perpetual snow দেখলেই snow line; গাছের শেষ সীমা হলে tree line।
১৩৫. নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ককরচ
- খহিজল
- গডুমুর
- ঘগজারী
সঠিক উত্তর: ঘ. গজারী
প্রশ্নটি জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ চেনা নিয়ে। গজারি জলজ উদ্ভিদ নয়।
গজারি হলো শাল গাছের স্থানীয় নাম। এটি উঁচু, শুকনো, লালচে মাটির পত্রপতনশীল বনের গাছ; মধুপুর, ভাওয়াল ও দিনাজপুরের শালবনে জন্মায়। দাঁড়িয়ে থাকা পানি এটি সহ্য করতে পারে না।
করচ ও হিজল হাওর-বিলের জলাবনের প্রধান গাছ। বর্ষায় এদের কাণ্ড কয়েক মাস পানির নিচে থাকে, তবু বেঁচে থাকে। সিলেটের রাতারগুল জলাবন ও টাঙ্গুয়ার হাওরে এদের দেখা যায়। ডুমুর গোত্রের কিছু গাছও জলাবনে জন্মায়; রাতারগুল জলাবনের গাছের তালিকায় কাকডুমুরও আছে।
জলজ উদ্ভিদ বলতে অনেকে শুধু শাপলা, কচুরিপানা ভাবেন, তাই গাছগুলো দেখে বিভ্রান্ত হন। এখানে জলজ মানে জলাবদ্ধতা সহ্য করা জলাভূমির গাছ; সেই বিচারে শুকনো মাটির গজারি আলাদা।
মনে রাখুন: গজারি মানেই শাল, আর শাল মানেই শুকনো লাল মাটির বন।
১৩৬. বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৯৭৪
- খ১৯৮৮
- গ১৯৯৮
- ঘ২০০৭
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯৮
প্রশ্নটি উনিশশো একাত্তর থেকে দুই হাজার সাত পর্যন্ত কোন বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ডুবেছিল তা নিয়ে। উত্তর উনিশশো আটানব্বই।
উনিশশো আটানব্বইয়ের বন্যায় দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এটি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসেরও বেশি স্থায়ী ছিল, তাই অনেকে একে শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা বলেন। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার উজানে টানা ভারী বৃষ্টিতে তিন অববাহিকাতেই একসঙ্গে পানি বেড়ে যাওয়া ছিল এর মূল কারণ।
এর আগে উনিশশো অষ্টাশির বন্যায় প্রায় অর্ধেক থেকে ষাট শতাংশ এলাকা ডুবেছিল, ঢাকা শহরের বড় অংশও তলিয়ে যায়। উনিশশো চুয়াত্তরের বন্যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডোবে, আর দুই হাজার সাতের বন্যাও বড় ছিল কিন্তু এলাকার হিসাবে আটানব্বইয়ের চেয়ে কম।
উনিশশো অষ্টাশির বন্যা খুব পরিচিত বলে অনেকে সেটাই বেছে নেন। মনে রাখুন, বিস্তার ও স্থায়িত্ব দুই দিক থেকেই আটানব্বই সবার ওপরে।
মনে রাখুন: বন্যার বিস্তারে রেকর্ড উনিশশো আটানব্বই।
১৩৭. সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনয়াদিল্লি
- খকলম্বো
- গঢাকা
- ঘকাঠমাণ্ডু
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: নয়াদিল্লি। এখন: গান্ধীনগর, গুজরাট (অন্তর্বর্তী ইউনিট, ২০১৬ থেকে)।
প্রশ্নটি সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে। পরীক্ষার সময়কার প্রচলিত উত্তর ভারতের নয়াদিল্লি।
দুই হাজার পাঁচ সালে ঢাকায় ত্রয়োদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রস্তাবে কেন্দ্রটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়, আর দুই হাজার ছয় সালের দশ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে উদ্বোধন হয়। এর কাজ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নীতি সহায়তা দেওয়া।
দুই হাজার ষোলো সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রের অন্তর্বর্তী ইউনিট গুজরাটের গান্ধীনগরে চলছে। তবু দেশ হিসেবে ভারতই এর আয়োজক, আর বিকল্পে গান্ধীনগর না থাকায় উত্তর নয়াদিল্লি।
কাঠমাণ্ডুতে সার্ক সচিবালয় আর ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্র; এ দুটি নাম চেনা বলে ভুল বেছে নেওয়া হয়।
মনে রাখুন: সার্ক সচিবালয় কাঠমাণ্ডু, কৃষি কেন্দ্র ঢাকা, দুর্যোগ কেন্দ্র নয়াদিল্লি।
১৩৮. বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরণের বন্যা কবলিত হয় তার নাম- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনদীজ বন্যা
- খআকস্মিক বন্যা
- গবৃষ্টিজনিত বন্যা
- ঘজলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
সঠিক উত্তর: ঘ. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
প্রশ্নটি উপকূলের মানুষ কোন ধরনের বন্যার শিকার হয় তা নিয়ে। উত্তর জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বায়ুচাপ খুব কম থাকে আর প্রচণ্ড বাতাস সাগরের পানি উপকূলের দিকে ঠেলে দেয়। এতে সমুদ্রের পানি কয়েক মিটার ফুলে উঠে স্থলভাগে ঢুকে পড়ে; একেই জলোচ্ছ্বাস বলে। জোয়ারের সময় এলে উচ্চতা আরও বাড়ে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহীসোপান আর ফানেলের মতো উপকূলের গড়নের জন্য বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাস খুব উঁচু হয়।
উনিশশো সত্তর ও উনিশশো একানব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ে বেশিরভাগ মানুষ মারা গিয়েছিলেন এই জলোচ্ছ্বাসের পানিতেই। লবণাক্ত পানি ঢুকে ফসল ও মিঠা পানির উৎসও নষ্ট করে দেয়।
অন্য বন্যাগুলোর এলাকা আলাদা: আকস্মিক বন্যা উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে, নদীজ বন্যা বড় নদীর অববাহিকায়, আর বৃষ্টিজনিত বন্যা টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানি জমে।
মনে রাখুন: উপকূল মানেই জলোচ্ছ্বাস, হাওর মানেই আকস্মিক বন্যা।
১৩৯. নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমার্বেল
- খকয়লা
- গগ্রানাইট
- ঘনিস
সঠিক উত্তর: খ. কয়লা
প্রশ্নটি পাললিক শিলা চেনা নিয়ে। উত্তর কয়লা।
শিলা তিন ধরনের। আগ্নেয় শিলা তৈরি হয় গলিত ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে জমে, যেমন গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট। পাললিক শিলা তৈরি হয় পলি, বালি বা জৈব পদার্থ স্তরে স্তরে জমে চাপে শক্ত হয়ে, যেমন বেলেপাথর, চুনাপাথর, কয়লা। রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয় আগের কোনো শিলা প্রচণ্ড তাপ ও চাপে বদলে গিয়ে, যেমন মার্বেল, নিস, স্লেট।
কয়লা তৈরি হয়েছে কোটি কোটি বছর আগের জলাভূমির গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে, স্তরে স্তরে জমে এবং চাপ ও তাপে কার্বনসমৃদ্ধ হয়ে। তাই এটি জৈব পাললিক শিলা। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা এর উদাহরণ।
মার্বেল আর নিস দুটোই রূপান্তরিত শিলা: চুনাপাথর থেকে মার্বেল, গ্রানাইট থেকে নিস। আর গ্রানাইট আগ্নেয় শিলা।
মনে রাখুন: স্তর দেখলে পাললিক: বেলেপাথর, চুনাপাথর, কয়লা।
১৪০. নিম্নের কোনটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১ : ১০,০০০
- খ১ : ১০০,০০০
- গ১ : ১০০০,০০০
- ঘ১ : ২৫,০০০
সঠিক উত্তর: ক. ১ : ১০,০০০
প্রশ্নটি বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র চেনা নিয়ে। উত্তর এক অনুপাত দশ হাজার।
স্কেল মানে মানচিত্রের এক একক দূরত্ব বাস্তবে কত একক। এক অনুপাত দশ হাজার মানে মানচিত্রের এক সেন্টিমিটার বাস্তবে দশ হাজার সেন্টিমিটার, মানে একশো মিটার। স্কেলকে ভগ্নাংশ ধরলে, এক ভাগ দশ হাজার একটি বড় ভগ্নাংশ, আর এক ভাগ দশ লাখ খুব ছোট ভগ্নাংশ।
যে স্কেলের ভগ্নাংশের মান বড়, অর্থাৎ হর ছোট, সেটিই বৃহৎ স্কেল। বৃহৎ স্কেলে ছোট এলাকা অনেক বিস্তারিতভাবে দেখা যায়, যেমন মৌজা বা শহরের নকশা। ক্ষুদ্র স্কেলে বড় এলাকা অল্প বিস্তারিতভাবে দেখা যায়, যেমন বিশ্বের মানচিত্র।
সাধারণ ভুল হলো বড় সংখ্যা দেখে বড় স্কেল ভাবা। আসলে এক অনুপাত দশ লাখ ক্ষুদ্র স্কেল, কারণ সেখানে মানচিত্রের প্রতিটি সেন্টিমিটারে অনেক বেশি এলাকা ঠাসা।
মনে রাখুন: স্কেলের ডান পাশের সংখ্যা যত ছোট, মানচিত্র তত বৃহৎ স্কেলের।