ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৯
১৬১. নিচের কোন জেলাতে প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কচাঁদপুর
- খপিরোজপুর
- গমাদারীপুর
- ঘগাজীপুর
সঠিক উত্তর: ঘ. গাজীপুর
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন জেলায় প্লাইস্টোসিন যুগের চত্বরভূমি আছে। উত্তর গাজীপুর। প্রশ্নপত্রে প্লাস্টোসিন ছাপা হয়েছে, সঠিক বানান প্লাইস্টোসিন।
প্লাইস্টোসিন যুগ প্রায় ছাব্বিশ লাখ থেকে বারো হাজার বছর আগের সময়। তখন জমা পলি পরে ভূ-আলোড়নে কিছুটা উঁচু হয়ে আশপাশের প্লাবন সমভূমির চেয়ে কয়েক মিটার উঁচু চত্বর তৈরি করে। এর মাটি লালচে ও শক্ত, কারণ পুরোনো পলিতে লোহার অক্সাইড জমেছে।
বাংলাদেশে এমন চত্বর তিনটি: উত্তর-পশ্চিমের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, আর কুমিল্লার লালমাই পাহাড়। গাজীপুর ভাওয়াল গড়ের অংশ, তাই এখানে চত্বরভূমি আছে।
চাঁদপুর, পিরোজপুর ও মাদারীপুর মেঘনা ও পদ্মার নিচু প্লাবন সমভূমি বা ব-দ্বীপ এলাকা, সাম্প্রতিক কালের পলিতে গড়া।
মনে রাখুন: লাল মাটি আর শালবন দেখলে প্লাইস্টোসিন চত্বর: বরেন্দ্র, মধুপুর-ভাওয়াল, লালমাই।
১৬২. আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসাভানা
- খতুন্দ্রা
- গপ্রেইরি
- ঘসাহেল
সঠিক উত্তর: ঘ. সাহেল
প্রশ্নটি সাহারা মরুভূমির ঠিক দক্ষিণের অঞ্চলের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর সাহেল।
আরবি শব্দ সাহেল মানে তীর বা কিনারা; মরুভূমির কিনারা বলে এই নাম। এটি পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সেনেগাল থেকে পূর্বে লোহিত সাগরের কাছে সুদান ও ইরিত্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অর্ধশুষ্ক ফালি। উত্তরে মরুভূমি, দক্ষিণে সাভানা তৃণভূমি; সাহেল এ দুইয়ের মাঝখানের সীমানা অঞ্চল।
এখানে বৃষ্টি কম ও অনিয়মিত, তাই খরা ও মরুকরণ বড় সমস্যা। অতিরিক্ত পশুচারণ ও গাছ কাটায় মরুভূমি দক্ষিণে এগিয়ে আসছে; এ কারণে সাহেল মরুকরণের আলোচনায় বারবার আসে।
খেয়াল রাখুন, সাব-সাহারান আফ্রিকা কথাটি ব্যাপক অর্থে সাহারার দক্ষিণের পুরো আফ্রিকাকে বোঝায়। কিন্তু এই বিকল্পগুলোর মধ্যে সাহারার ঠিক দক্ষিণের নির্দিষ্ট অঞ্চলের নাম সাহেল। সাভানা সাহেলের আরও দক্ষিণে।
মনে রাখুন: সাহারার কিনারা সাহেল; সাহেলের নিচে সাভানা।
১৬৩. কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কউষ্ণতা
- খআর্দ্রতা
- গসমুদ্রস্রোত
- ঘবায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর: গ. সমুদ্রস্রোত
প্রশ্নটি জলবায়ুর উপাদান আর নিয়ামকের পার্থক্য নিয়ে। সমুদ্রস্রোত জলবায়ুর উপাদান নয়, নিয়ামক।
উপাদান মানে যা দিয়ে জলবায়ু মাপা বা বর্ণনা করা হয়: উষ্ণতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও মেঘ। কোনো জায়গার জলবায়ু বলতে গেলে আমরা এগুলোর গড় মানই বলি।
নিয়ামক মানে যা এই উপাদানগুলোকে বদলে দেয়: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, পর্বতের অবস্থান ও সমুদ্রস্রোত। যেমন উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের জন্য পশ্চিম ইউরোপের শীত তুলনামূলক মৃদু থাকে; স্রোত নিজে জলবায়ু নয়, জলবায়ু বদলানোর কারণ।
সহজ পরীক্ষা: যেটা থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার বা বৃষ্টিমাপক দিয়ে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে মাপা যায় সেটা উপাদান; যেটা দূর থেকে প্রভাব ফেলে সেটা নিয়ামক।
মনে রাখুন: মাপা যায় তো উপাদান, প্রভাব ফেলে তো নিয়ামক।
১৬৪. নিচের কোন ভৌগোলিক এলাকাটি “রামসার সাইট” হিসেবে স্বীকৃত? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করামসাগর
- খবগা লেইক (Lake)
- গটাঙ্গুয়ার হাওর
- ঘকাপ্তাই হ্রদ
সঠিক উত্তর: গ. টাঙ্গুয়ার হাওর
প্রশ্নটি রামসার সাইট চেনা নিয়ে। উত্তর টাঙ্গুয়ার হাওর।
রামসার সাইট হলো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি, যা উনিশশো একাত্তর সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত জলাভূমি সনদের তালিকায় ওঠে। বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন, উনিশশো বিরানব্বই সালে। দ্বিতীয়টি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, দুই হাজার সালের দশ জুলাই থেকে।
টাঙ্গুয়ার হাওর মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের বিশাল মিঠা পানির জলাভূমি। শীতে এখানে লাখো পরিযায়ী পাখি আসে, আর হিজল-করচের জলাবন ও নানা দেশি মাছের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
নাম শুনে রামসাগর বেছে নেওয়াই এখানে বড় ফাঁদ। রামসাগর দিনাজপুরের একটি বিশাল দিঘি, রামসার সাইট নয়। বগা লেক বান্দরবানের পাহাড়ি প্রাকৃতিক হ্রদ, আর কাপ্তাই হ্রদ কর্ণফুলীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম হ্রদ।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের রামসার সাইট দুটি: সুন্দরবন আর টাঙ্গুয়ার হাওর।
১৬৫. কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত (hydor-meteorological) দুর্যোগ নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কভূমিকম্প
- খভূমিধস
- গনদীভাঙ্গন
- ঘঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর: ক. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জলজ-আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ চেনা নিয়ে। ভূমিকম্প এমন দুর্যোগ নয়। প্রশ্নপত্রে ইংরেজি শব্দটি ভুল বানানে ছাপা হয়েছে; সঠিক বানান হাইড্রো-মিটিওরোলজিক্যাল।
হাইড্রো মানে পানি, মিটিওরোলজিক্যাল মানে আবহাওয়া সংক্রান্ত। অর্থাৎ যে দুর্যোগ বৃষ্টি, ঝড়, বাতাস বা পানির কারণে ঘটে: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, অতিবৃষ্টিতে ভূমিধস, নদীভাঙন ইত্যাদি।
ভূমিকম্প ঘটে ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ও শিলাস্তরে জমা চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে। এতে আবহাওয়া বা পানির কোনো ভূমিকা নেই, তাই এটি ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও একই দলে।
ভূমিধসকে অনেকে ভূতাত্ত্বিক ভেবে ভুল করেন। কিন্তু বাংলাদেশে ভূমিধস হয় মূলত টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ভিজে নরম হয়ে, তাই এটি জলজ-আবহাওয়াজনিত হিসেবে ধরা হয়।
মনে রাখুন: যে দুর্যোগে বৃষ্টি বা পানির ভূমিকা নেই, সেটি জলজ-আবহাওয়াজনিত নয়: ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত।
১৬৬. বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কট্রপোমন্ডল (Troposphere)
- খস্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere)
- গমেসোমন্ডল (Mesosphere)
- ঘতাপমন্ডল (Troposphere)
সঠিক উত্তর: ক. ট্রপোমন্ডল (Troposphere)
প্রশ্নটি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত হয় তা নিয়ে। উত্তর ট্রপোমণ্ডল, বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর। শেষ বিকল্পে তাপমণ্ডলের পাশে ইংরেজি নাম ভুল করে ট্রপোস্ফিয়ার ছাপা হয়েছে, আসলে তাপমণ্ডল মানে থার্মোস্ফিয়ার।
ট্রপোমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে মেরু অঞ্চলে প্রায় আট কিলোমিটার আর বিষুব অঞ্চলে প্রায় ষোলো থেকে আঠারো কিলোমিটার পর্যন্ত। বায়ুমণ্ডলের প্রায় সব জলীয় বাষ্প এখানেই থাকে, আর এখানে ওপরে উঠলে তাপমাত্রা কমে। ফলে গরম আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে মেঘ তৈরি করে।
বজ্রপাত হয় বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘে। মেঘের ভেতরে বরফকণা ও পানির কণার ঘষায় মেঘের ওপরে ধনাত্মক আর নিচে ঋণাত্মক চার্জ জমে। চার্জের পার্থক্য খুব বেশি হলে মেঘ থেকে মেঘে বা মেঘ থেকে মাটিতে বিদ্যুৎ ছুটে যায়, এটাই বজ্রপাত। মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি সব ট্রপোমণ্ডলের ঘটনা।
স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয় বাষ্প প্রায় নেই, তাই সেখানে ঝড়-মেঘ হয় না; সেখানে ওজোনস্তর। মেসোমণ্ডলে উল্কা পুড়ে যায়, আর তাপমণ্ডলে মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
মনে রাখুন: আবহাওয়ার যত ঘটনা, মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, সব ট্রপোমণ্ডলে।
১৬৭. পৃথিবীর বারি মন্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল ভূগর্ভে ধারন করে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক২.০৫%
- খ০.৬৮%
- গ০.০১%
- ঘ০.০০১%
সঠিক উত্তর: খ. ০.৬৮%
প্রশ্নটি পৃথিবীর মোট পানির কত অংশ ভূগর্ভে আছে তা নিয়ে। উত্তর শূন্য দশমিক ছয় আট শতাংশ, অর্থাৎ এক শতাংশেরও কম।
বিকল্পের সংখ্যাগুলো এসেছে পানির বণ্টনের একটি প্রচলিত সারণি থেকে। সেখানে সাগর-মহাসাগরে সাতানব্বই দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ, বরফ ও হিমবাহে দুই দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, আর ভূগর্ভে শূন্য দশমিক ছয় আট শতাংশ পানি।
বাকি অংশ খুবই সামান্য: হ্রদে শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ, মাটির আর্দ্রতায় শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ, বাতাসে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য এক, আর নদীতে আরও কম। অর্থাৎ বরফ বাদ দিলে ব্যবহারযোগ্য মিঠা পানির সবচেয়ে বড় ভান্ডার ভূগর্ভ, নদী-হ্রদ নয়। অন্য উৎসে ভূগর্ভের হিসাব একটু আলাদা হতে পারে।
দুই দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ আসলে বরফে আটকা পানির ভাগ, তাই এটিই বড় ফাঁদ। শূন্য দশমিক শূন্য এক হ্রদের আর শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য এক বাতাসের পানির ভাগ।
মনে রাখুন: সাতানব্বই সাগরে, দুই বরফে, এক শতাংশের কম ভূগর্ভে; হ্রদ আর বাতাস আরও নগণ্য।
১৬৮. বায়ুমন্ডলের যে স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কস্ট্রাটোস্ফিয়ার
- খট্রপোস্ফিয়ার
- গআয়োনোস্ফিয়ার
- ঘওজোনস্তর
সঠিক উত্তর: গ. আয়োনোস্ফিয়ার
প্রশ্নটি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে তা নিয়ে। উত্তর আয়নমণ্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার।
ভূপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি ষাট বা আশি কিলোমিটার থেকে কয়েকশো কিলোমিটার ওপরে, মূলত তাপমণ্ডলের ভেতরে, সূর্যের অতিবেগুনি ও এক্স রশ্মি বাতাসের অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে দেয়। ফলে সেখানে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়ন থাকে, তাই নাম আয়নমণ্ডল।
এই চার্জযুক্ত কণার স্তর আয়নার মতো কাজ করে: মাঝারি ও উচ্চ কম্পাঙ্কের বেতার তরঙ্গ এখানে বেঁকে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। পৃথিবী গোল হলেও এভাবে বারবার প্রতিফলিত হয়ে রেডিও সংকেত বহু দূরের দেশে পৌঁছায়।
ওজোনস্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, বেতার তরঙ্গ ফেরায় না; তাই ওজোনস্তরকে বেছে নেওয়া সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: বেতার তরঙ্গ মানেই আয়নোস্ফিয়ার; অতিবেগুনি মানেই ওজোন।
১৬৯. সুন্দরবন-এর কত শতাংশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে পড়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৫০%
- খ৫৮%
- গ৬২%
- ঘ৬৬%
সঠিক উত্তর: গ. ৬২%
প্রচলিত হিসাবে সুন্দরবনের প্রায় বাষট্টি শতাংশ বাংলাদেশে, আর বাকি প্রায় আটত্রিশ শতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
সুন্দরবন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ব-দ্বীপের দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের তীরে পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ছয় হাজার সতেরো বর্গকিলোমিটার, যা খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় বিস্তৃত।
বাংলাদেশ অংশ উনিশশো সাতানব্বই সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য আর উনিশশো বিরানব্বই সালে রামসার এলাকা ঘোষিত হয়। বাঘ, চিত্রা হরিণ, কুমির আর সুন্দরী গাছের জন্য এটি বিখ্যাত।
মোট আয়তন কোন সূত্র কীভাবে মেপেছে, তার উপর এই শতাংশ বদলায়। উইকিপিডিয়ায় বাংলাদেশের ভাগ ষাট শতাংশ, আর বাংলাপিডিয়া বলে দেশভাগের সময় বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর বাষট্টি শতাংশ; অর্ধেক বা পঞ্চাশ শতাংশ বলা স্পষ্ট ভুল, কারণ বড় অংশটাই বাংলাদেশে।
মনে রাখুন: সুন্দরবনের বাষট্টি ভাগ আমাদের, আর আয়তন প্রায় ছয় হাজার সতেরো বর্গকিমি।
১৭০. বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থানের নাম কি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপুটিয়া, রাজশাহী
- খনাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- গলালপুর, নাটোর
- ঘঈশ্বরদী, পাবনা
সঠিক উত্তর: গ. লালপুর, নাটোর
পাঠ্যবই ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান নাটোর জেলার লালপুর। লালপুরকে দেশের সবচেয়ে শুষ্ক স্থান, মানে সবচেয়ে কম বৃষ্টির জায়গা হিসেবেও পড়ানো হয়।
লালপুর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে, সমুদ্র থেকে দূরে। সমুদ্রের আর্দ্র বাতাস এখানে কম পৌঁছায় বলে বৃষ্টি কম হয়, আকাশ পরিষ্কার থাকে, ফলে গ্রীষ্মে দিনের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এ ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন বলে: গ্রীষ্মে খুব গরম, শীতে বেশ ঠান্ডা।
এর উল্টো দিকে সিলেট অঞ্চল সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির এলাকা, আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলকে শীতলতম স্থান হিসেবে পড়ানো হয়।
পুঠিয়া, নাচোল আর ঈশ্বরদীও একই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গরম এলাকা, তাই বিকল্পগুলো ইচ্ছা করে কাছাকাছি রাখা হয়েছে। মনে রাখুন, উষ্ণতম ও শুষ্কতম দুটোই লালপুর।
মনে রাখুন: লালপুর: উষ্ণতম ও শুষ্কতম; শ্রীমঙ্গল: শীতলতম।
১৭১. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় Green Climate fund বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কি পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করেছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৮০ বিলিয়ন ডলার
- খ১০০ বিলিয়ন ডলার
- গ১৫০ বিলিয়ন ডলার
- ঘ২০০ বিলিয়ন ডলার
সঠিক উত্তর: খ. ১০০ বিলিয়ন ডলার
প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর একশো বিলিয়ন ডলার। তবে সঠিকভাবে বললে, এটি গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মঞ্জুর করা অর্থ নয়; এটি উন্নত দেশগুলোর একটি অঙ্গীকার।
দুই হাজার নয় সালের কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অঙ্গীকার করে যে দুই হাজার বিশ সালের মধ্যে তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু কর্মকাণ্ডের জন্য বছরে একশো বিলিয়ন ডলার জোগাড় করবে। পরের বছর মেক্সিকোর কানকুন সম্মেলনে এই অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিক হয় আর গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হয়।
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এই অর্থ পৌঁছানোর একটি প্রধান মাধ্যম, যার সদর দপ্তর দক্ষিণ কোরিয়ার সংডোতে। এর অর্থ যায় দুই কাজে: প্রশমন, মানে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো, আর অভিযোজন, মানে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।
আশি, একশো পঞ্চাশ বা দুইশো বিলিয়ন কোনো অঙ্গীকারের সঙ্গে মেলে না। পরীক্ষার পরে দুই হাজার চব্বিশ সালের সম্মেলনে নতুন লক্ষ্য ঠিক হয়েছে, তবে পরীক্ষার সময়ের উত্তর একশো বিলিয়ন।
মনে রাখুন: জলবায়ু অর্থায়নের পুরোনো লক্ষ্য: বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার, ২০২০ সালের মধ্যে।
১৭২. সুন্দরবনে বাঘ গণনায় ব্যবহৃত হয় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপাগ-মার্ক
- খফুটমার্ক
- গGIS
- ঘকোয়ার্ডবেট
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: পাগ-মার্ক। এখন: ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতি (২০১৫ থেকে)।
সুন্দরবনে বাঘ গণনায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত পদ্ধতি পাগমার্ক। পাগমার্ক মানে বাঘের পায়ের ছাপ।
কাদা বা বালুতে বাঘের পায়ের ছাপের আকার, গঠন আর আঙুলের বিন্যাস প্রতিটি বাঘে কিছুটা আলাদা। গবেষকেরা ছাপের মাপ নিয়ে, প্লাস্টার দিয়ে ছাঁচ তুলে বা ছবি তুলে আলাদা বাঘ শনাক্ত করে মোট সংখ্যা অনুমান করতেন। দুই হাজার চার সালের বাঘশুমারি এই পদ্ধতিতে হয়েছিল।
সুন্দরবনের কাদামাটিতে পায়ের ছাপ স্পষ্ট পড়ে, তাই পদ্ধতিটি জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু জোয়ারে ছাপ মুছে যায়, আর একই বাঘের ছাপ দুবার গোনার ঝুঁকি থাকে। তাই দুই হাজার পনেরো সালের জরিপে ক্যামেরা ট্র্যাপ ব্যবহার শুরু হয়, যেখানে প্রতিটি বাঘ গায়ের ডোরা দেখে চেনা যায়।
ফুটমার্ক শব্দটি পাগমার্কের মতো শোনালেও প্রাণী গণনার কোনো স্বীকৃত পরিভাষা নয়। শেষ বিকল্পটি সম্ভবত কোয়াড্র্যাট পদ্ধতি বোঝায়, যা দিয়ে সাধারণত উদ্ভিদ বা ছোট এলাকার জীব গণনা করা হয়।
মনে রাখুন: পাগমার্ক = পায়ের ছাপে বাঘ গোনা; ক্যামেরা ট্র্যাপ = ডোরায় বাঘ চেনা।
১৭৩. ২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘন্টায় - - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১০০-২০০ কি.মি
- খ৩০০-৪০০ কি.মি
- গ৭০০-৮০০ কি.মি
- ঘ৯০০-১০০০ কি.মি
সঠিক উত্তর: গ. ৭০০-৮০০ কি.মি
দুই হাজার চার সালের ছাব্বিশ ডিসেম্বর সুমাত্রার উপকূলে সমুদ্রতলের ভয়াবহ ভূমিকম্প থেকে যে সুনামি হয়, গভীর সমুদ্রে তার ঢেউয়ের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাতশো থেকে আটশো কিলোমিটার। এটি প্রায় জেট বিমানের গতি।
সুনামির গতি নির্ভর করে সমুদ্রের গভীরতার উপর। গতি সমান অভিকর্ষজ ত্বরণ আর গভীরতার গুণফলের বর্গমূল। ভারত মহাসাগরের গভীরতা প্রায় চার হাজার মিটার ধরলে গতি দাঁড়ায় সেকেন্ডে প্রায় দুইশো মিটার, মানে ঘণ্টায় প্রায় সাতশো তেরো কিলোমিটার। পাঁচ হাজার মিটার গভীরতায় তা প্রায় আটশো কিলোমিটার।
এত দ্রুত চলায় ঢেউ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার কিলোমিটার দূরের শ্রীলঙ্কা, ভারত, এমনকি আফ্রিকার উপকূলেও পৌঁছে যায়। উপকূলের অগভীর পানিতে এসে গতি কমে, কিন্তু উচ্চতা বেড়ে যায়।
একশো থেকে দুইশো বা তিনশো থেকে চারশো কিলোমিটার উপকূলের কাছের অগভীর পানির গতির সঙ্গে মিলতে পারে, গভীর সমুদ্রের নয়। আর নয়শো থেকে হাজার কিলোমিটার বাস্তব হিসাবের চেয়ে বেশি।
মনে রাখুন: গভীর সমুদ্রে সুনামি ≈ জেট বিমান, ঘণ্টায় ৭০০-৮০০ কিমি।
১৭৪. সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫ সে.মি বৃদ্ধি পেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে climate refugee হবে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৩ কোটি
- খ৩.৫ কোটি
- গ৪ কোটি
- ঘ৪.৫ কোটি
সঠিক উত্তর: খ. ৩.৫ কোটি
প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর সাড়ে তিন কোটি। অর্থাৎ পরীক্ষার সময়ের প্রচলিত প্রাক্কলনে ধরা হতো, সমুদ্রপৃষ্ঠ পঁয়তাল্লিশ সেন্টিমিটার বাড়লে দুই হাজার পঞ্চাশ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে।
জলবায়ু উদ্বাস্তু মানে যারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে, যেমন ভূমি তলিয়ে যাওয়া, লবণাক্ততা বা নদীভাঙনে, নিজের বসতি ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা নিচু আর ঘনবসতিপূর্ণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ সামান্য বাড়লেও বিস্তীর্ণ ভূমি স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাবে বা লবণাক্ত হয়ে চাষের অযোগ্য হবে। তাই বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকির শীর্ষ দেশগুলোর একটি ধরা হয়।
তিন, চার আর সাড়ে চার কোটি কাছাকাছি সংখ্যা, তাই ভুলের সম্ভাবনা বেশি। এ ধরনের প্রাক্কলন সূত্র আর অনুমানভেদে অনেক আলাদা হয়, তবে পরীক্ষার জন্য প্রচলিত উত্তর সাড়ে তিন কোটি।
মনে রাখুন: ৪৫ সেমি, ২০৫০, সাড়ে তিন কোটি: তিনটি সংখ্যা একসঙ্গে মনে রাখুন।
১৭৫. বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৯০ শতাংশ
- খ৯৪ শতাংশ
- গ৯৮ শতাংশ
- ঘ৯৯.৯৭ শতাংশ
সঠিক উত্তর: ঘ. ৯৯.৯৭ শতাংশ
বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠের মোট শক্তির প্রায় নিরানব্বই দশমিক নয় সাত শতাংশ আসে সূর্য থেকে। বাকি শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশের মতো আসে পৃথিবীর ভেতরের তাপ থেকে।
সূর্য থেকে শক্তি আসে বিকিরণ হিসেবে, মানে আলো ও তাপ। এই শক্তিতেই বায়ু গরম হয়, বাতাস বয়, সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি হয়, আর গাছ সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে।
পৃথিবীর ভেতরের তাপ আসে কেন্দ্রের উত্তাপ আর তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয় থেকে। আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ এই তাপের প্রকাশ, কিন্তু সূর্যের তুলনায় এর পরিমাণ নগণ্য।
নব্বই, চুরানব্বই বা আটানব্বই শতাংশও সূর্যের প্রাধান্য বোঝায়, তাই আকর্ষণীয় মনে হয়। কিন্তু সূর্যের অংশ এর চেয়েও বেশি, প্রায় পুরোটাই।
মনে রাখুন: সূর্য প্রায় সব: ৯৯.৯৭%; ভূ-অভ্যন্তর মাত্র ০.০৩%।
১৭৬. বিশ্বব্যাংক অনুযায়ী ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের কত শতাংশ বাংলাদেশকে প্রদান করবে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৩০%
- খ৪০%
- গ৫০%
- ঘ৬০%
সঠিক উত্তর: ক. ৩০%
প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ত্রিশ শতাংশ। প্রশ্নটি বিশ্বব্যাংকের একটি প্রাক্কলনের কথা বলছে, যার প্রচলিত পাঠ হলো: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বিশ্ব সাহায্যের প্রায় ত্রিশ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।
এর পেছনের যুক্তি হলো বাংলাদেশের বিশেষ ঝুঁকি। নিচু ব-দ্বীপ, ঘনবসতি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা আর নদীভাঙন মিলে বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বানিয়েছে, তাই অভিযোজন অর্থায়নে বাংলাদেশ বড় দাবিদার।
পরীক্ষার সময়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিজেও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে নিজস্ব বাজেট থেকে অর্থ দিয়েছিল।
চল্লিশ, পঞ্চাশ বা ষাট শতাংশ একটি দেশের জন্য অস্বাভাবিক বড় ভাগ। এই প্রশ্নে গাইডগুলোর প্রচলিত উত্তর ত্রিশ শতাংশই মনে রাখুন।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংক-জলবায়ু সাহায্য-বাংলাদেশ: প্রচলিত উত্তর ৩০%।
১৭৭. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ কবে জারি হয়েছে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১ জানুয়ারি
- খ১১ জানুয়ারি
- গ১৯ জানুয়ারি
- ঘ২১ মার্চ
সঠিক উত্তর: গ. ১৯ জানুয়ারি
প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা দুই হাজার পনেরো জারি হয় সেই বছরের উনিশ জানুয়ারি।
এর আগে দুই হাজার বারো সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন পাস হয়। আইন আইনি কাঠামো দেয়, আর নীতিমালা ঠিক করে দেশ কীভাবে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাবে, প্রস্তুতি নেবে, সাড়া দেবে ও পুনর্বাসন করবে।
নীতিমালাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের। সেন্দাই কাঠামো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনাতেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা দুই হাজার পনেরো হালনাগাদ করার কাজ রাখা হয়েছে।
এক ও এগারো জানুয়ারি কাছাকাছি তারিখ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, আর একুশ মার্চ সম্পূর্ণ আলাদা মাস। উত্তর মনে রাখুন উনিশ জানুয়ারি।
মনে রাখুন: আইন ২০১২, নীতিমালা ১৯ জানুয়ারি ২০১৫।
১৭৮. সুনামির কারণ হলো – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঘূর্ণিঝড়
- খচন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
- গসমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
- ঘআগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর: গ. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
সুনামির কারণ নিয়ে প্রশ্নটি ত্রিশ, চৌত্রিশ আর ছত্রিশতম বিসিএসে বারবার এসেছে। উত্তর সবসময় একই: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প।
সমুদ্রতলে যেখানে একটি ভূত্বকীয় প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে যাচ্ছে, সেখানে বছরের পর বছর চাপ জমে। হঠাৎ সেই চাপ মুক্ত হলে তলদেশ কয়েক মিটার লাফিয়ে ওঠে, আর উপরের কয়েক কিলোমিটার গভীর পানির পুরো স্তম্ভ উঁচু হয়ে যায়। সেই পানি সমান হতে গিয়েই সুনামির ঢেউ ছড়ায়।
সব সমুদ্রতলের ভূমিকম্পে সুনামি হয় না। সাধারণত বড় মাত্রার, অগভীর কেন্দ্রের, আর তলদেশ খাড়াভাবে সরিয়ে দেওয়া ভূমিকম্পেই বড় সুনামি হয়। দুই হাজার চার সালে সুমাত্রার কাছে নয় মাত্রার বেশি ভূমিকম্প এমনই ছিল।
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা, আর ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাস হয়; এগুলোও সমুদ্রের পানি ফুলিয়ে তোলে বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: সুনামির প্রশ্নে ভূমিকম্প শব্দটা খুঁজুন; ঘূর্ণিঝড় আর চাঁদ-সূর্য ফাঁদ।
১৭৯. ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআফ্রিকার জোহানেসবার্গে
- খব্রাজিলের রিও-ডিজেনিরোতে
- গইতালির রোমে
- ঘযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে
সঠিক উত্তর: খ. ব্রাজিলের রিও-ডিজেনিরোতে
প্রশ্নটি ধরিত্রী সম্মেলন বা আর্থ সামিটের স্থান জানতে চেয়েছে। উনিশশো বিরানব্বই সালের জুন মাসে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলন হয়; এটিই ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।
এই সম্মেলনের গুরুত্ব অনেক। এখানে টেকসই উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা এজেন্ডা একুশ এবং রিও ঘোষণা গৃহীত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের কাঠামো সনদ আর জীববৈচিত্র্য সনদ এখানেই স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়।
পরে এর ধারাবাহিক সম্মেলন হয়েছে। দুই হাজার দুই সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন হয়, আর দুই হাজার বারো সালে আবার রিওতে হয় রিও প্লাস কুড়ি।
ফাঁদ হলো জোহানেসবার্গ। সেটি ধরিত্রী সম্মেলনের দশ বছর পরের অনুসরণ সম্মেলন, মূল ধরিত্রী সম্মেলন নয়।
মনে রাখুন: ধরিত্রী সম্মেলন মানেই রিও, উনিশশো বিরানব্বই।
১৮০. বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বেশি খরাপ্রবণ? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কউত্তর-পূর্ব অঞ্চল
- খউত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
- গদক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
- ঘদক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল
সঠিক উত্তর: খ. উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
প্রশ্নটি বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নিয়ে। সবচেয়ে বেশি খরাপ্রবণ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও দিনাজপুরের বরেন্দ্র এলাকা।
খরা হয় যখন বৃষ্টি কম আর তাপ ও বাষ্পীভবন বেশি। মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা নিয়ে আসে; উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সাগর থেকে সবচেয়ে দূরে, তাই এখানে বৃষ্টি দেশের মধ্যে কম। গ্রীষ্মে তাপমাত্রাও এখানে সবচেয়ে বেশি ওঠে।
বরেন্দ্রের লাল-ধূসর পুরোনো মাটি পানি ধরে রাখতে পারে না, আর জমি উঁচু হওয়ায় বন্যার পানিও পৌঁছায় না। ফলে শুকনো মৌসুমে মাটিতে আর্দ্রতা দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
উল্টো দিকের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মানে সিলেট, দেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকা, তাই সেখানে খরার প্রশ্নই কম। দক্ষিণের উপকূলের মূল সমস্যা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা।
মনে রাখুন: খরা মানেই বরেন্দ্র, অর্থাৎ রাজশাহী অঞ্চল বা উত্তর-পশ্চিম।