ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৮
১৪১. সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআইসোথার্ম
- খআইসোবার
- গআইসোহাইট
- ঘআইসোহেলাইন
সঠিক উত্তর: গ. আইসোহাইট
প্রশ্নটি সমান বৃষ্টিপাতের স্থানগুলো যোগ করা রেখার নাম নিয়ে। উত্তর আইসোহাইট।
আইসো মানে সমান। এর সঙ্গে যে শব্দমূল যোগ হয়, সেটাই বলে দেয় কোন জিনিস সমান। হাইট এসেছে গ্রিক হুয়েটোস থেকে, যার অর্থ বৃষ্টি; তাই আইসোহাইট মানে সমবৃষ্টিপাত রেখা।
একইভাবে থার্ম মানে তাপ, তাই আইসোথার্ম সমতাপ রেখা। বার মানে চাপ, তাই আইসোবার সমচাপ রেখা, আবহাওয়ার মানচিত্রে ঘূর্ণিঝড় বোঝাতে কাজে লাগে। হ্যালাইন মানে লবণ, তাই আইসোহ্যালাইন সমলবণাক্ততা রেখা, সমুদ্রের মানচিত্রে ব্যবহার হয়।
শব্দমূল মনে না থাকলে চারটি নাম গুলিয়ে যায়; শব্দমূল দিয়ে মনে রাখলে এ ধরনের সব প্রশ্ন সহজ।
মনে রাখুন: আইসো মানে সমান; শেষের অংশ দেখুন: থার্ম তাপ, বার চাপ, হাইট বৃষ্টি, হ্যালাইন লবণ।
১৪২. নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কবায়ু দূষণ
- খদুর্ভিক্ষ
- গমহামারী
- ঘকালবৈশাখী
সঠিক উত্তর: ঘ. কালবৈশাখী
প্রশ্নটি মানবসৃষ্ট আর প্রাকৃতিক আপদের পার্থক্য নিয়ে। কালবৈশাখী মানবসৃষ্ট আপদ নয়।
কালবৈশাখী চৈত্র-বৈশাখে, মানে মার্চ থেকে মে মাসে, বিকেলের দিকে হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা তীব্র বজ্রঝড়। গ্রীষ্মে ভূপৃষ্ঠ খুব গরম হলে নিচের আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি করে, আর ওপরের শুকনো ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে ঝড় হয়। এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা।
অন্যদিকে বায়ু দূষণ আসে কলকারখানা, যানবাহন ও ইটভাটার ধোঁয়া থেকে। দুর্ভিক্ষ শুধু ফসলহানিতে হয় না, খাদ্য বণ্টন, মজুতদারি ও ভুল নীতির মতো মানুষের কারণেই তীব্র হয়। মহামারি ছড়ায় অপরিচ্ছন্নতা, ঘনবসতি ও মানুষের চলাচলে। তাই এগুলোকে মানবসৃষ্ট আপদ হিসেবে ধরা হয়েছে।
মহামারি জীবাণু থেকে হয় বলে কেউ একে প্রাকৃতিক ভাবতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নে একমাত্র নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক আপদ কালবৈশাখী।
মনে রাখুন: আবহাওয়ার ঝড়, যেমন কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, সবই প্রাকৃতিক আপদ।
১৪৩. বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরণের বনভূমি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
- খক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
- গপত্র পতনশীল জাতীয়
- ঘম্যানগ্রোভ জাতীয়
সঠিক উত্তর: ক. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
প্রশ্নটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনের ধরন নিয়ে। উত্তর ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন।
লাউয়াছড়া মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়, উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত, আয়তন প্রায় বারোশো পঞ্চাশ হেক্টর। সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনগুলো প্রচুর বৃষ্টির জন্য সারা বছর সবুজ থাকে; এদেরই বলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন। আধা-চিরহরিৎ মানে কিছু গাছ শুকনো মৌসুমে পাতা ঝরায়, কিন্তু বন কখনো পুরো ন্যাড়া হয় না।
লাউয়াছড়া বিখ্যাত উল্লুক বা পশ্চিমা হুলক গিবনের জন্য, যা বাংলাদেশের একমাত্র বনমানুষ। চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানরও এখানে আছে।
পত্রপতনশীল বন হলো মধুপুর-ভাওয়ালের শালবন, যেখানে শীতে গাছ পাতা ঝরায়। ম্যানগ্রোভ হলো সুন্দরবনের মতো লবণাক্ত জোয়ার-ভাটার বন।
মনে রাখুন: পাহাড়ি বন চিরহরিৎ, গড়ের বন পত্রপতনশীল, উপকূলের বন ম্যানগ্রোভ।
১৪৪. বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসিলেটের বনভূমি
- খপার্বত্য চট্রগ্রামের বনভূমি
- গভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
- ঘখুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি
সঠিক উত্তর: গ. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
প্রশ্নটি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত বনভূমি নিয়ে। উত্তর ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি।
ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জুড়ে বিস্তৃত ভাওয়াল-মধুপুর গড় প্লাইস্টোসিন যুগের উঁচু লাল মাটির চত্বরভূমি। এই শুকনো, পানি সরে যাওয়া মাটি শাল বা গজারি গাছের জন্য আদর্শ। শীতে গাছ পাতা ঝরায় বলে একে ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্রপতনশীল বন বলে। দিনাজপুর ও রংপুরের দিকেও শালবন আছে।
শাল কাঠ খুব শক্ত ও টেকসই, তাই ঘরের খুঁটি, রেলের স্লিপার ও আসবাবে ব্যবহার হয়েছে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও মধুপুর জাতীয় উদ্যান এই শালবন রক্ষার জন্য গঠিত।
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বন পাহাড়ি চিরহরিৎ বন, গর্জন, চাপালিশ, সেগুনের জন্য পরিচিত। খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালীর বন ম্যানগ্রোভ, সুন্দরী ও গেওয়ার জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখুন: শাল মানেই গড়: ভাওয়াল, মধুপুর।
১৪৫. ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় দিনের সময়কালকে অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হয়, কেন? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘুরছে বলে
- খপৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
- গএক্ষেত্রে এসব ঘূর্ণনের কোন প্রভাব নেই
- ঘঅন্য কোন কারণ আছে
সঠিক উত্তর: ঘ. অন্য কোন কারণ আছে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ঢাকা থেকে হংকং হয়ে নিউইয়র্কে উড়ে গেলে দিন ছোট মনে হয় কেন। দেওয়া উত্তর অন্য কোনো কারণ আছে, কারণ বিকল্পগুলোর কোনোটিই আসল কারণ ঠিকভাবে বলেনি।
আসল কারণ দুটি জিনিস মিলিয়ে। পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই পূর্ব দিকের জায়গায় আগে সকাল হয়। আর এই পথে বিমান ঢাকা থেকে পূর্বে হংকং, তারপর প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আরও পূর্বে চলে, অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণনের দিকেই এগিয়ে সূর্যের দিকে ছুটে যায়।
ফলে যাত্রীর জন্য সূর্য স্বাভাবিকের চেয়ে তাড়াতাড়ি ডোবে; প্রতি পনেরো ডিগ্রি দ্রাঘিমা পূর্বে গেলে ঘড়ি এক ঘণ্টা এগিয়ে যায়। তাই দিনের দৈর্ঘ্য কম মনে হয়। উল্টো দিকে, পশ্চিমে উড়লে সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যায় এবং দিন লম্বা মনে হয়।
প্রথম বিকল্পে পৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘোরে বলা হয়েছে, যা ভুল তথ্য; তাই অনেক গাইড সেটি দিলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর বার্ষিক গতি দিয়ে কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় দিনের এই পরিবর্তন ব্যাখ্যা হয় না।
মনে রাখুন: পূর্বে উড়লে দিন ছোট, পশ্চিমে উড়লে দিন লম্বা।
১৪৬. The longest rail line of the world, Trans-Siberian line, is in - (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০১৯)
- কChina
- খUSA
- গRussia
- ঘIndia
সঠিক উত্তর: গ. Russia
ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ রাশিয়ায়। এটি পশ্চিমে মস্কো থেকে পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত বিস্তৃত, দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।
এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম রেলপথ। পুরো পথ পার হতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগে এবং রেলপথটি আটটি সময় অঞ্চল অতিক্রম করে।
এর নির্মাণ শুরু হয় ১৮৯১ সালে রুশ সম্রাটের আমলে। নাম থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়: সাইবেরিয়া রাশিয়ার বিশাল পূর্বাঞ্চল, আর ট্রান্স মানে আড়াআড়ি পার হওয়া।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতেরও বড় রেলব্যবস্থা আছে, কিন্তু সাইবেরিয়া এদের কোনোটির অংশ নয়।
১৪৭. Which one of the following is an example of non -renewable resources? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কWind
- খWater
- গCoal and minerals
- ঘAll of these
সঠিক উত্তর: গ. Coal and minerals
যে সম্পদ প্রকৃতিতে নিজে নিজে আবার তৈরি হয় বা ফুরায় না, তা নবায়নযোগ্য সম্পদ। যেমন সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, প্রবাহমান পানি।
অন্যদিকে যে সম্পদ তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে আর একবার খরচ করলে মানুষের সময়সীমায় আর ফেরত আসে না, তা অনবায়নযোগ্য। কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস আর বিভিন্ন খনিজ পদার্থ এর উদাহরণ।
তাই বিকল্পের মধ্যে কয়লা ও খনিজই অনবায়নযোগ্য। বায়ু আর পানি নবায়নযোগ্য, তাই “সবগুলো” বিকল্পটিও ভুল।
মনে রাখুন: মাটির নিচ থেকে তুলে আনা জ্বালানি ও খনিজ মানেই অনবায়নযোগ্য।
১৪৮. Where is Lake Superior, the largest fresh water lake in the world located? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কUSA
- খBrazil
- গCanada
- ঘRussia
সঠিক উত্তর: ক. USA
লেক সুপিরিয়র উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের সবচেয়ে বড়টি, আর পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে পৃথিবীর বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ; ক্ষেত্রফল প্রায় ৮২ হাজার ১০০ বর্গকিলোমিটার।
হ্রদটি যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার সীমান্তে। উত্তর ও পূর্ব পাড়ে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ, আর দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, উইসকনসিন ও মিশিগান। সীমান্তরেখা হ্রদের মাঝ দিয়ে গেছে, আর হ্রদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভাগে পড়ে।
তাই বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বেশি উপযুক্ত, যদিও কানাডাও আংশিক সঠিক। পরীক্ষায় যদি “যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা” বা “উত্তর আমেরিকা” বিকল্প থাকে, সেটাই সবচেয়ে ভালো উত্তর।
রাশিয়া বাছাই করা বড় ফাঁদ। রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ পানির আয়তনে আর গভীরতায় পৃথিবীর বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ; কিন্তু পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে বৃহত্তম হলো সুপিরিয়র।
মনে রাখুন: ক্ষেত্রফলে সুপিরিয়র (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা), আয়তনে বৈকাল (রাশিয়া), লোনা হলে কাস্পিয়ান।
১৪৯. The humidity of air measured in percentage is called - (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কAbsolute humidity
- খRelative humidity
- গSpecific humidity
- ঘAll of these
সঠিক উত্তর: খ. Relative humidity
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে আর্দ্রতা বলে। একে তিনভাবে মাপা হয়, আর শতাংশে যেটা প্রকাশ হয় সেটা আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাতাসে যত জলীয় বাষ্প আছে, আর ওই তাপমাত্রায় বাতাস সর্বোচ্চ যত ধরে রাখতে পারত, তার অনুপাত শতাংশে। বাতাস পুরো সম্পৃক্ত হলে এটি ১০০ শতাংশ।
পরম আর্দ্রতা হলো প্রতি ঘনমিটার বাতাসে জলীয় বাষ্পের ভর, গ্রাম প্রতি ঘনমিটারে। আর বিশেষ বা নির্দিষ্ট আর্দ্রতা হলো প্রতি কেজি বাতাসে জলীয় বাষ্পের ভর, গ্রাম প্রতি কেজিতে। এদের কোনোটি শতাংশে নয়।
আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র হাইগ্রোমিটার; আবহাওয়ার খবরে যে আর্দ্রতা শতাংশে বলা হয়, সেটা আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
মনে রাখুন: আবহাওয়ার খবরে আর্দ্রতা ৮০% মানে আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
১৫০. The part of Equatorial region which has well developed rubber plantations is - (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কAmazon basin
- খCongo basin
- গZaire basin
- ঘMalaysia
সঠিক উত্তর: ঘ. Malaysia
নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু রাবার গাছের জন্য আদর্শ। তবে রাবার গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকায়, আর পরিকল্পিত বাগান হিসেবে চাষ সবচেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
উনিশ শতকের শেষে আমাজন থেকে রাবারের বীজ নিয়ে ব্রিটিশরা মালয় উপদ্বীপে বাগান শুরু করে। এরপর মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর থাইল্যান্ডে বিশাল সুসংগঠিত রাবার বাগান গড়ে ওঠে, আর দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া ছিল বিশ্বের প্রধান রাবার উৎপাদক।
আমাজন অববাহিকায় রাবার গাছ বনে ছড়ানো অবস্থায় জন্মায়, পরিকল্পিত বাগান হিসেবে নয়; তাছাড়া পাতার রোগের কারণে সেখানে বাগান টেকেনি। কঙ্গো অববাহিকা আর জায়ার অববাহিকা আসলে একই অঞ্চল, জায়ার হলো কঙ্গোর পুরোনো নাম; সেখানেও রাবার বাগান মালয়েশিয়ার মতো উন্নত হয়নি।
প্রশ্নের বিকল্পে আমাজন আর জায়ারের বানান ভুলভাবে লেখা হয়েছিল; এখানে ঠিক করে দেখানো হয়েছে।
মনে রাখুন: রাবারের জন্ম আমাজনে, বাগান মালয়েশিয়ায়।
১৫১. The study of population is known as - (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কDemography
- খClimatology
- গPetrology
- ঘHydrology
সঠিক উত্তর: ক. Demography
জনসংখ্যার আকার, গঠন, জন্ম-মৃত্যু, অভিবাসন আর বণ্টন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, তাকে বলে ডেমোগ্রাফি বা জনমিতি।
শব্দটি এসেছে গ্রিক “demos” মানে মানুষ, আর “graphy” মানে বর্ণনা থেকে। আদমশুমারি, জন্মহার, মৃত্যুহার এসবের বিশ্লেষণ জনমিতির কাজ।
অন্য বিকল্পগুলোও বিজ্ঞানের শাখা, কিন্তু অন্য বিষয়ের: ক্লাইমেটোলজি জলবায়ু, পেট্রোলজি শিলা, আর হাইড্রোলজি পানি নিয়ে আলোচনা করে।
মনে রাখুন: শব্দের গ্রিক মূল ধরুন: demos মানুষ, petra শিলা, hydor পানি, klima জলবায়ু।
১৫২. The longest mountain range in the world- (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কThe Alps
- খThe Himalayas
- গThe Rockies
- ঘThe Andes
সঠিক উত্তর: ঘ. The Andes
পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলভাগের পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ। এটি মহাদেশের পশ্চিম প্রান্ত ধরে উত্তরে ভেনেজুয়েলা থেকে দক্ষিণে চিলি-আর্জেন্টিনা পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার লম্বা।
আন্দিজের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আর্জেন্টিনার অ্যাকোনকাগুয়া, যা এশিয়ার বাইরে সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ। নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ায় এই ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয়েছে।
এখানে দুটো তথ্য গুলিয়ে যায়: সবচেয়ে উঁচু পর্বতমালা হিমালয়, কিন্তু সবচেয়ে দীর্ঘ আন্দিজ। হিমালয় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার, রকি প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার।
তাই উচ্চতা আর দৈর্ঘ্য আলাদা করে মনে রাখুন। প্রশ্নে longest থাকলে আন্দিজ, highest থাকলে হিমালয়।
মনে রাখুন: Longest = Andes, Highest = Himalayas।
১৫৩. Which of the following is the largest and the deepest ocean of the world? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কArctic
- খAtlantic
- গPacific
- ঘIndian
সঠিক উত্তর: গ. Pacific
প্রশান্ত মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম আর গভীরতায়ও সবচেয়ে গভীর মহাসাগর। এটি পৃথিবীর মোট উপরিভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে আছে, যা সব স্থলভাগ মিলিয়েও বেশি।
পৃথিবীর গভীরতম বিন্দু চ্যালেঞ্জার ডিপ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতে। এর গভীরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার, মানে এভারেস্টকে ডুবিয়ে দিলেও উপরে দুই কিলোমিটারের বেশি পানি থাকবে।
আকারের ক্রম মনে রাখুন: প্রশান্ত, আটলান্টিক, ভারত, দক্ষিণ মহাসাগর, আর সবচেয়ে ছোট ও অগভীর উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক।
আটলান্টিক দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বাণিজ্যপথে সবচেয়ে ব্যস্ত বলে অনেকে ভুল করে বেছে নেন।
মনে রাখুন: বড় আর গভীর, দুটোতেই প্রশান্ত; ছোট আর অগভীর, দুটোতেই আর্কটিক।
১৫৪. Which country stands second in the world according to most roads? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কChina
- খIndia
- গAfghanistan
- ঘSouth Korea
সঠিক উত্তর: খ. India
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে, মোট সড়কপথের দৈর্ঘ্যে বিশ্বে দ্বিতীয় কোন দেশ। পরীক্ষার সময় সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকের তালিকায় প্রথম ছিল যুক্তরাষ্ট্র, প্রায় ৬৬ লাখ কিলোমিটার; দ্বিতীয় ভারত, প্রায় ৪৭ লাখ কিলোমিটার; আর তৃতীয় চীন, প্রায় ৪৬ লাখ কিলোমিটার।
ভারতের সড়কের বড় অংশ গ্রামীণ সড়ক; প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মতো কর্মসূচিতে এই নেটওয়ার্ক দ্রুত বেড়েছে। জাতীয় মহাসড়ক মোট দৈর্ঘ্যের ছোট একটি অংশ মাত্র।
চীন তখন ভারতের খুব কাছাকাছি, তৃতীয় ছিল। চীনের এক্সপ্রেসওয়ে বা দ্রুতগতির মহাসড়ক বিশ্বে সবচেয়ে লম্বা, তাই অনেকে মোট সড়কেও চীনকে এগিয়ে ভাবেন; এটাই ফাঁদ।
অপশনে যুক্তরাষ্ট্র নেই, তাই প্রথম কে তা জানলেও দ্বিতীয় কে, এটা আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন: সড়কে ক্রম: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন।
১৫৫. ‘পলল পাখা’ জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপাহাড়ের পাদদেশে
- খনদীর নিম্ন অববাহিকায়
- গনদীর উৎপত্তিস্থলে
- ঘনদী মোহনায়
সঠিক উত্তর: ক. পাহাড়ের পাদদেশে
প্রশ্নটি পলল পাখা বা অ্যালুভিয়াল ফ্যান কোথায় গড়ে ওঠে তা নিয়ে। উত্তর পাহাড়ের পাদদেশে।
পাহাড়ি নদী খাড়া ঢাল বেয়ে দ্রুত নামে, তাই সঙ্গে প্রচুর নুড়ি, বালি ও পলি বয়ে আনে। পাহাড় থেকে সমভূমিতে নামার মুখে ঢাল হঠাৎ কমে যায়, স্রোতের গতি ও বহন ক্ষমতাও কমে যায়। তখন নদী বোঝা ফেলে দিতে থাকে।
এই জমা পলি পাহাড়ের মুখ থেকে হাতপাখার মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে; মাথার দিকটা সরু ও উঁচু, নিচের দিকটা চওড়া। এ আকৃতির জন্যই নাম পলল পাখা। বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নামা তিস্তার পলিতে এমন পাদদেশীয় সমভূমি গড়ে উঠেছে।
নদীর মোহনায় পলি জমে যে ত্রিভুজাকার ভূমি গড়ে, তা ব-দ্বীপ, পলল পাখা নয়। দুটোই পলি জমার ফল বলে গুলিয়ে যায়; পার্থক্য হলো পাখা পাহাড়ের গোড়ায়, ব-দ্বীপ সাগরের মুখে।
মনে রাখুন: পাখা পাহাড়ের গোড়ায়, ব-দ্বীপ নদীর মোহনায়।
১৫৬. ‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০’ হচ্ছে একটি- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কজাপানের উন্নয়ন কৌশল
- খসুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
- গদুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
- ঘভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
সঠিক উত্তর: গ. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
প্রশ্নটি সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক কী তা নিয়ে। এটি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৌশল, পুরো নাম দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য সেন্দাই কাঠামো, দুই হাজার পনেরো থেকে দুই হাজার ত্রিশ।
দুই হাজার পনেরো সালের মার্চে জাপানের সেন্দাই শহরে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক তৃতীয় জাতিসংঘ বিশ্ব সম্মেলনে এটি গৃহীত হয়। এতে সাতটি বৈশ্বিক লক্ষ্য ও চারটি অগ্রাধিকার আছে, যেমন দুর্যোগে মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা বাড়ানো।
এটি আগের হিয়োগো কর্মকাঠামোর, যা দুই হাজার পাঁচ থেকে দুই হাজার পনেরো পর্যন্ত চলেছিল, উত্তরসূরি। দুটোই জাপানে গৃহীত: হিয়োগো কাঠামো কোবে শহরে, সেন্দাই কাঠামো সেন্দাই শহরে।
সেন্দাই অঞ্চলে দুই হাজার এগারো সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি হয়েছিল, তাই অনেকে একে শুধু সুনামি বা ভূমিকম্পের কৌশল ভাবেন। কিন্তু এটি সব ধরনের দুর্যোগের জন্য।
মনে রাখুন: হিয়োগো তারপর সেন্দাই, দুটোই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বৈশ্বিক কাঠামো।
১৫৭. ক্রমহ্রাসমান হারে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপদান বিলীনের বিষয়টি কোন চুক্তিতে বলা হয়েছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কমন্ট্রিল প্রটোকল
- খক্লোরোফ্লোরো কার্বন চুক্তি
- গIPCC চুক্তি
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. মন্ট্রিল প্রটোকল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন চুক্তিতে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান ধাপে ধাপে কমিয়ে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। উত্তর মন্ট্রিল প্রটোকল। প্রশ্নে ছাপা উপদান শব্দটির সঠিক বানান উপাদান।
উনিশশো পঁচাশি সালের ভিয়েনা কনভেনশন ছিল ওজোনস্তর রক্ষার কাঠামো চুক্তি, কিন্তু সেখানে নির্দিষ্ট সময়সূচি ছিল না। উনিশশো সাতাশি সালে কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত প্রটোকলে প্রথমবার ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ও হ্যালনের মতো পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়সূচি ধরে কমানোর বাধ্যবাধকতা আসে।
এটিকে সবচেয়ে সফল পরিবেশ চুক্তি ধরা হয়; জাতিসংঘের সব সদস্য দেশ এটি অনুমোদন করেছে, আর ওজোনস্তর ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। দুই হাজার ষোলো সালের কিগালি সংশোধনীতে হাইড্রোফ্লোরোকার্বনও কমানোর তালিকায় আসে।
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন চুক্তি নামে আলাদা কোনো চুক্তি নেই; এটি মন্ট্রিল প্রটোকলের নিয়ন্ত্রিত পদার্থের নাম দিয়ে বানানো ফাঁদ। আইপিসিসি একটি বিজ্ঞানী প্যানেল, চুক্তি নয়।
মনে রাখুন: ওজোন রক্ষায় ভিয়েনা কাঠামো, মন্ট্রিল বাস্তবায়ন।
১৫৮. ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয়: (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কটারশিয়ারী যুগে
- খপ্লািইস্টোসিন যুগে
- গকোয়াটারনারী যুগে
- ঘসাম্প্রতিক কালে
সঠিক উত্তর: ক. টারশিয়ারী যুগে
প্রশ্নটি ভূতাত্ত্বিক বয়স অনুযায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ভূমিরূপ নিয়ে। উত্তর টারশিয়ারি যুগের পাহাড়। প্রশ্নপত্রে দ্বিতীয় বিকল্পের বানান প্লািইস্টোসিন ছাপা হয়েছে, সঠিক বানান প্লাইস্টোসিন।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিকে বয়স অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে পুরোনো টারশিয়ারি পাহাড়, যা প্রায় ছয় কোটি ষাট লাখ থেকে ছাব্বিশ লাখ বছর আগের টারশিয়ারি যুগে হিমালয় গড়ে ওঠার সময় ভাঁজ খেয়ে তৈরি। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় এই দলে।
এরপর প্লাইস্টোসিন যুগের চত্বরভূমি, যেমন বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। আর সবচেয়ে নবীন সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি, যা দেশের সবচেয়ে বড় অংশ।
কোয়াটারনারি যুগ টারশিয়ারির পরের যুগ; প্লাইস্টোসিন আর সাম্প্রতিক কাল দুটোই এর ভেতরে পড়ে। তাই কোয়াটারনারি কখনো টারশিয়ারির চেয়ে পুরোনো হতে পারে না।
মনে রাখুন: বয়সের ক্রম: টারশিয়ারি, তারপর প্লাইস্টোসিন, তারপর সাম্প্রতিক।
১৫৯. বাংলাদেশের এফ. সি. ডি. আই প্রকল্পের উদ্দেশ্য: (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবন্যা নিয়ন্ত্রণ
- খপানি নিষ্কাশন
- গপানি সেচ
- ঘউপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
প্রশ্নটি এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে। উত্তর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও পানি সেচ, তিনটিই।
নামটাই উত্তর বলে দেয়। ইংরেজি পূর্ণরূপ ফ্লাড কন্ট্রোল, ড্রেনেজ অ্যান্ড ইরিগেশন। ফ্লাড কন্ট্রোল মানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ড্রেনেজ মানে পানি নিষ্কাশন, ইরিগেশন মানে সেচ।
পঞ্চাশ-ষাটের দশক থেকে দেশে এ ধরনের প্রকল্প হচ্ছে, এখন এগুলো দেখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর পাড়ে বাঁধ দিয়ে বর্ষায় জমিকে বন্যা থেকে রক্ষা, স্লুইস গেট দিয়ে জমা পানি বের করা, আর শুকনো মৌসুমে খাল দিয়ে সেচের পানি দেওয়া, এই তিন কাজ একসঙ্গে করা হয়। যেমন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বা ডিএনডি প্রকল্প।
যেকোনো একটি বিকল্প বেছে নিলে অর্ধেক উত্তর হয়। নামের প্রতিটি অক্ষর একটি করে কাজ বোঝায়, তাই সবগুলো মিলিয়েই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন: সংক্ষিপ্ত নামের প্রতিটি অক্ষর একেকটি উদ্দেশ্য।
১৬০. বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
- খক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
- গউপক্রান্তীয় জলবায়ু
- ঘআর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর: খ. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
প্রশ্নটি বাংলাদেশের জলবায়ুর ধরন নিয়ে। উত্তর ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু।
ক্রান্তীয় কারণ কর্কটক্রান্তি রেখা দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে গেছে, তাই সারা বছর তাপমাত্রা বেশ উষ্ণ। মৌসুমি কারণ বছরের দুই ভাগে বাতাসের দিক উল্টে যায়: গ্রীষ্মে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাগর থেকে আর্দ্রতা এনে প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়, আর শীতে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুকনো ঠান্ডা বাতাস আসে।
এই উল্টো বাতাসের জন্যই বাংলাদেশের বৃষ্টির বড় অংশ, সত্তর থেকে পঁচাশি শতাংশ, বর্ষাকালে হয় আর শীতকাল প্রায় শুকনো থাকে। মৌসুমি বায়ুর এই প্রভাবই আমাদের জলবায়ুর মূল পরিচয়।
আর্দ্র ক্রান্তীয় বা ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু তাতে মৌসুমি বায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের জলবায়ু বললেই দুই শব্দ: ক্রান্তীয়, মৌসুমি।