আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ১৫
২৮১. Which is the largest Muslim ethnic group in China? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কHui
- খUyghur
- গKazak
- ঘKirgiz
সঠিক উত্তর: খ. Uyghur
চীনে সরকারিভাবে স্বীকৃত ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধানত মুসলিম গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি হলো উইঘুর আর হুই, আর দুটোর জনসংখ্যা খুব কাছাকাছি।
২০১০ সালের আদমশুমারিতে হুই ছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৮৬ হাজার, আর উইঘুর প্রায় ১ কোটি ৬৯ হাজার। তাই পুরোনো বইয়ে সবচেয়ে বড় মুসলিম জাতিগোষ্ঠী হিসেবে হুই লেখা আছে।
কিন্তু ২০২০ সালের নভেম্বরে হওয়া সপ্তম আদমশুমারিতে উইঘুর দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার, আর হুই প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার। এই শুমারি পরীক্ষার আগেই হয়েছিল, তাই সর্বশেষ হিসাবে উইঘুরই বড়।
উইঘুরদের প্রায় সবাই শিনজিয়াংয়ে থাকে, আর হুইরা চীনের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে আছে। কাজাখ ও কিরগিজরাও মুসলিম, তবে সংখ্যায় অনেক ছোট। পুরোনো তথ্য মনে থাকলে হুই বেছে নেওয়াই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: চীনের বৃহত্তম মুসলিম জাতিগোষ্ঠী: ২০১০ পর্যন্ত হুই, ২০২০ শুমারি থেকে উইঘুর; প্রশ্নের সাল দেখে উত্তর দিন।
২৮২. Which country will host the 'World Cup U-19' in 2022? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কEngland
- খPakistan
- গNew Zealand
- ঘNone of these
সঠিক উত্তর: ঘ. None of these
২০২২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টটি ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ক্যারিবিয়ানে হয়।
অপশনে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান বা নিউজিল্যান্ড আছে, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেই। তাই সঠিক উত্তর None of these।
ওই আসরে ভারত শিরোপা জেতে, এটি তাদের পঞ্চম যুব বিশ্বকাপ। তার আগের, ২০২০ সালের আসর হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানে বাংলাদেশ প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে।
ফাঁদ: ক্রিকেটের বড় দেশ দেখে ইংল্যান্ড বেছে নেওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো একক দেশ নয়, ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর সম্মিলিত দল, তাই অপশনে না থাকাটাই প্রশ্নের কৌশল।
মনে রাখুন: ২০২০ দক্ষিণ আফ্রিকা (বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন), ২০২২ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ভারত চ্যাম্পিয়ন)।
২৮৩. Which ethnic people constitute the world's largest population? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কHan
- খMongol
- গSlav
- ঘTurk
সঠিক উত্তর: ক. Han
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠী হান। চীনের জনসংখ্যার প্রায় ৯১ শতাংশ হান, আর প্রবাসী হানসহ এদের সংখ্যা ১৩০ কোটিরও বেশি।
অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় প্রতি ছয়জনের একজন হান জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। চীনের সরকারি ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বাকি ৫৫টিকে বলা হয় সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী।
স্লাভ ও তুর্কি আসলে একক জাতিগোষ্ঠী নয়, ভাষাভিত্তিক বড় পরিবার; তাতে রুশ, পোলিশ, তুর্কি, উজবেকসহ অনেক জাতি পড়ে, তবু তারা হানের ধারেকাছেও নয়।
মঙ্গোলরা মূলত মঙ্গোলিয়া ও চীনের অন্তর্মঙ্গোলিয়ায় থাকে; ইতিহাসে সাম্রাজ্য বড় ছিল বলে নাম বড় মনে হলেও সংখ্যায় তারা অনেক কম। এটিই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: চীনের প্রায় ৯১ শতাংশই হান, তাই বিশ্বের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠীও হান।
২৮৪. স্টিভ চেন ও চাড হারলির সাথে যৌথভাবে কোন বাংলাদেশী ইউটিউব (YouTube) প্রতিষ্ঠা করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজাবেদ করিম
- খফজলুল করিম
- গজাওয়াদুল করিম
- ঘমঞ্জুরুল করিম
সঠিক উত্তর: ক. জাবেদ করিম
প্রশ্নটা ইউটিউবের তিন প্রতিষ্ঠাতার একজনকে চিনতে বলছে। ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন তিনজন: চ্যাড হার্লি, স্টিভ চেন এবং জাভেদ করিম। তিনজনই আগে অনলাইন লেনদেন প্রতিষ্ঠান পেপ্যালে কাজ করতেন।
জাভেদ করিমের জন্ম তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে। জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৮ অক্টোবর। তাঁর বাবা বাংলাদেশি, মা জার্মান; এই কারণেই তাঁকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলা হয়। প্রশ্নে নামটি জাবেদ বানানে লেখা, বাংলায় সাধারণত লেখা হয় জাভেদ।
ইউটিউব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছরের ২৩ এপ্রিল জাভেদ করিম নিজেই ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোড করেন, চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে তোলা মি অ্যাট দ্য জু। ২০০৬ সালে গুগল ইউটিউব কিনে নেয়।
বাকি তিনটি নাম শুধু করিম পদবি মিলিয়ে বসানো। বিশেষ করে জাওয়াদুল করিম শুনতে জাভেদের কাছাকাছি, তাই তাড়াহুড়োয় এটিতে ভুল হতে পারে।
মনে রাখুন: ইউটিউবের প্রথম ভিডিওর মানুষটিই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সহপ্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম।
২৮৫. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কোন দেশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুইডেন
- খমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- গযুক্তরাজ্য
- ঘজার্মানি
সঠিক উত্তর: ঘ. জার্মানি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ঘাঁটি কোন দেশে। সংস্থাটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যার সদর দপ্তর জার্মানির রাজধানী বার্লিনে।
সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা জার্মান নাগরিক পিটার আইগেন। তাই জন্ম ও সদর দপ্তর দুটোই জার্মানিতে।
সংস্থাটি প্রতি বছর দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে, যেখানে সরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের ধারণার ভিত্তিতে দেশগুলোকে সাজানো হয়। বাংলাদেশে এর জাতীয় শাখা টিআইবি নামে পরিচিত।
ইংরেজি নাম দেখে অনেকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেন, বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর লন্ডনে বলে। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সির ঠিকানা বার্লিন।
মনে রাখুন: দুর্নীতির সূচক মানেই বার্লিন: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।
২৮৬. সামরিক ভাষায় ‘WMD’ অর্থ কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কWeapons of Mass Destruction
- খWorldwide Mass Destruction
- গWeapons of Missile Defence
- ঘWeapons for Massive Destruction
সঠিক উত্তর: ক. Weapons of Mass Destruction
প্রশ্নটা একটি বহুল ব্যবহৃত সামরিক সংক্ষিপ্ত রূপের পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। ডব্লিউএমডি মানে ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন, বাংলায় গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
গণবিধ্বংসী অস্ত্র বলতে এমন অস্ত্র বোঝায় যা একবারে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারতে বা বিশাল এলাকা ধ্বংস করতে পারে। প্রধান তিন ধরন হলো পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র; অনেক সময় তেজস্ক্রিয় অস্ত্রকেও এর মধ্যে ধরা হয়।
পূর্ণরূপ মনে রাখার উপায় হলো প্রতিটি অক্ষর মেলানো: ডব্লিউ মানে ওয়েপনস, এম মানে মাস, ডি মানে ডেস্ট্রাকশন। মাঝে সংযোগ শব্দটি অব, ফর নয়।
সবচেয়ে কাছের ফাঁদ হলো ওয়েপনস ফর ম্যাসিভ ডেস্ট্রাকশন। শুনতে প্রায় একই হলেও প্রচলিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রূপটি হলো ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন।
মনে রাখুন: স্বীকৃত রূপটিতে সংযোগ শব্দ of এবং বিশেষণ Mass; for বা Massive থাকলে বাদ।
২৮৭. ২০২০ সালে প্রকাশিত “আইনের শাসন” সূচকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী দেশের নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কডেনমার্ক
- খনরওয়ে
- গজার্মানি
- ঘসিঙ্গাপুর
সঠিক উত্তর: ক. ডেনমার্ক
প্রশ্নটা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের আইনের শাসন সূচকের কথা বলছে। এটি একটি স্বাধীন সংস্থার বার্ষিক সূচক, যা প্রতিটি দেশে আইনের শাসন কতটা কার্যকর তা মাপে।
সূচকটি আটটি দিক দেখে: সরকারের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
২০২০ সালের সূচকে মোট ১২৮টি দেশ ছিল। শীর্ষে ছিল ডেনমার্ক, এরপর নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। অর্থাৎ শীর্ষ তিনটি স্থানই নর্ডিক দেশগুলোর দখলে।
ফাঁদ হলো নরওয়ে, কারণ দেশটি তালিকার একেবারে ওপরের দিকে, দ্বিতীয় স্থানে। জার্মানি ও সিঙ্গাপুরও ভালো অবস্থানে থাকলেও শীর্ষ তিনে ছিল না।
মনে রাখুন: আইনের শাসন বা দুর্নীতিমুক্ততার সূচকে নর্ডিক দেশ, বিশেষ করে ডেনমার্ক, প্রায়ই শীর্ষে থাকে।
২৮৮. জাতিসংঘের কোন সংস্থা বার্ষিক বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কWTO
- খMIGA
- গWorld Bank
- ঘUNCTAD
সঠিক উত্তর: ঘ. UNCTAD
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন কোন সংস্থা প্রকাশ করে। উত্তর আঙ্কটাড, মানে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন, যার সদর দপ্তর জেনেভায়।
আঙ্কটাড ১৯৬৪ সালে গঠিত হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে সহায়তা দিতে। বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ, কোন দেশে কত বিনিয়োগ এল আর গেল, তার হিসাব থাকে।
মনে রাখার কৌশল হলো প্রতিবেদনের নাম আর সংস্থাকে জোড়ায় শেখা। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের, বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিবেদন ডব্লিউটিওর, বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস আইএমএফের, আর বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন আঙ্কটাডের।
সাধারণ ফাঁদ হলো বিশ্বব্যাংক, কারণ এর নামের প্রতিবেদন বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন শুনতে একই রকম। আরেক ফাঁদ বিনিয়োগ শব্দ দেখে বিনিয়োগ নিশ্চয়তা সংস্থা মিগাকে বেছে নেওয়া।
মনে রাখুন: প্রতিবেদনের নামের মাঝের শব্দটি ধরুন: Investment আঙ্কটাড, Development বিশ্বব্যাংক, Trade ডব্লিউটিও।
২৮৯. আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মামলা করে কোন দেশ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কনাইজেরিয়া
- খগাম্বিয়া
- গবাংলাদেশ
- ঘআলজেরিয়া
সঠিক উত্তর: খ. গাম্বিয়া
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বাদী কে। উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সামরিক অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলার ভিত্তি ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ। এই সনদের সদস্য যেকোনো দেশ অন্য সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সনদ ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারে, তাই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও গাম্বিয়া বাদী হতে পেরেছে। আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে অনেকে ধরে নেন মামলাটিও বাংলাদেশ করেছে, কিন্তু বাদী গাম্বিয়া।
মনে রাখুন: আশ্রয়দাতা বাংলাদেশ, কিন্তু বাদী গাম্বিয়া: এই পার্থক্যটাই প্রশ্নের প্রাণ।
২৯০. কোন বিদেশি রাষ্ট্র বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করুয়ান্ডা
- খসিয়েরা লিয়ন
- গসুদান
- ঘলাইবেরিয়া
সঠিক উত্তর: খ. সিয়েরা লিয়ন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন বিদেশি দেশ বাংলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রচলিত উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন।
সিয়েরা লিওনে ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ চলে। সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনাদের বড় অবদান ছিল; সেই কৃতজ্ঞতায় ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট আহমদ তেজান কাব্বা বাংলাকে সম্মানসূচক দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
তবে জেনে রাখা দরকার, সিয়েরা লিওনের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি, আর বাংলা সেখানে ব্যবহৃত হয় না। একাধিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এমন কোনো ঘোষণার নথি বা প্রমাণ খুঁজে পায়নি। তাই এটিকে পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর হিসেবে মনে রাখুন, প্রতিষ্ঠিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়।
বিকল্পের বাকি তিনটি দেশও আফ্রিকার, তাই মহাদেশ দেখে বাছাই করা যাবে না। মূল সূত্র হলো শান্তিরক্ষী আর গৃহযুদ্ধ: সিয়েরা লিওন।
মনে রাখুন: আফ্রিকার কোনো দেশে বাংলা ভাষার মর্যাদার প্রশ্ন এলে উত্তর সিয়েরা লিওন, শান্তিরক্ষীদের কারণে।
২৯১. জাতিসংঘ নামকরণ করেন- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করুজভেল্ট
- খস্টালিন
- গচার্চিল
- ঘদ্যা গল
সঠিক উত্তর: ক. রুজভেল্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ নামটি কে দেন। নামটি প্রস্তাব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইরত ২৬টি দেশ জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে সই করে। এই ঘোষণাপত্রেই রুজভেল্টের প্রস্তাবিত ইউনাইটেড নেশনস নামটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
পরে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সানফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সনদ সই হয় এবং ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সনদ কার্যকর হয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণেই ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস।
ফাঁদ হলো চার্চিল। তিনি ১৯৪১ সালে রুজভেল্টের সঙ্গে যৌথভাবে আটলান্টিক সনদ ঘোষণা করেছিলেন এবং নামটিতে সম্মতি দেন, কিন্তু নামটির প্রস্তাবক রুজভেল্ট।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের নাম, আটলান্টিক সনদ, দুটোতেই রুজভেল্ট; নামের প্রস্তাবক একা তিনিই।
২৯২. কোন মুসলিম দেশ সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসৌদি আরব
- খমালয়েশিয়া
- গপাকিস্তান
- ঘতুরস্ক
সঠিক উত্তর: ঘ. তুরস্ক
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মুসলিমপ্রধান কোন দেশ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা ন্যাটোর সদস্য। বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর তুরস্ক।
তুরস্ক ১৯৫২ সালে গ্রিসের সঙ্গে একই সময়ে ন্যাটোতে যোগ দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে অবস্থান আর কৃষ্ণসাগরের প্রণালী নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশটি জোটের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জানা থাকা ভালো, তুরস্ক একমাত্র মুসলিমপ্রধান সদস্য নয়; ২০০৯ সাল থেকে আলবেনিয়াও ন্যাটোর সদস্য। তবে আলবেনিয়া বিকল্পে নেই, তাই এখানে উত্তর তুরস্ক।
ফাঁদ হলো পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৪ সালে পাকিস্তানকে ন্যাটো বহির্ভূত প্রধান মিত্র ঘোষণা করে, কিন্তু এর মানে ন্যাটোর সদস্যপদ নয়।
মনে রাখুন: ন্যাটো উত্তর আটলান্টিকের জোট; বিকল্পে ইউরোপের অংশ আছে এমন মুসলিম দেশ খুঁজুন: তুরস্ক।
২৯৩. নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯৪৫ সালে
- খ১৯৪৯ সালে
- গ১৯৪৮ সালে
- ঘ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৪৯ সালে
প্রশ্নটা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সই হয়, এর মাধ্যমেই ন্যাটো গঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ১২টি দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অন্যতম। জোটের মূল নীতি চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদে: একটি সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ। সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে।
কাছাকাছি সালগুলো আলাদা করে মনে রাখলে ভুল হয় না। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ, ১৯৪৮ সালে পশ্চিম ইউরোপের পাঁচ দেশের ব্রাসেলস চুক্তি, ১৯৪৯ সালে ন্যাটো, আর ১৯৫১ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা চুক্তি আনজুস।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ১৯৪৮। ব্রাসেলস চুক্তিকে ন্যাটোর পূর্বসূরি বলা যায়, কিন্তু ন্যাটো নিজে গঠিত হয় পরের বছর।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের চার বছর পর ন্যাটো: পঁয়তাল্লিশ যোগ চার, ঊনপঞ্চাশ।
২৯৪. জার্মানীর প্রথম নারী চ্যান্সেলর কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅ্যানেগরেট ক্রাম্প
- খলিনা হেডরিচ
- গঅ্যাঞ্জেলা মারকেল
- ঘপেট্রা কেলি
সঠিক উত্তর: গ. অ্যাঞ্জেলা মারকেল
প্রশ্নটা জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলরের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর অ্যাঞ্জেলা মারকেল। চ্যান্সেলর হলেন জার্মানির সরকারপ্রধান, অনেকটা প্রধানমন্ত্রীর মতো।
মারকেল খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলের নেতা হিসেবে ২০০৫ সালে চ্যান্সেলর হন, আর পরীক্ষার সময়ও তিনিই দায়িত্বে ছিলেন; টানা ১৬ বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিদায় নেন। তিনি বড় হয়েছেন তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে।
বাকি নামগুলোও জার্মান রাজনীতি বা ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত, তাই চিনে রাখা ভালো। অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প কারেনবাওয়ার মারকেলের পর দলের সভাপতি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন, পেত্রা কেলি জার্মান গ্রিন পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
ফাঁদ হলো অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প কারেনবাওয়ার। তাঁকে মারকেলের উত্তরসূরি ভাবা হলেও তিনি কখনো চ্যান্সেলর হননি।
মনে রাখুন: জার্মানির এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী চ্যান্সেলর মারকেল, তাই প্রথম নারী চ্যান্সেলরও তিনিই।
২৯৫. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে কয়টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৩টি
- খ২টি
- গ৫টি
- ঘ৪টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪টি
প্রশ্নটা গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ নিয়ে। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত সর্বসম্মতভাবে মিয়ানমারকে চারটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলে।
প্রথম, রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে বর্ণিত সব ধরনের কাজ ঠেকাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া। দ্বিতীয়, সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনিয়মিত বাহিনী যেন এমন কাজ না করে বা উসকানি না দেয়, তা নিশ্চিত করা।
তৃতীয়, গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ ধ্বংস হওয়া ঠেকানো ও সংরক্ষণ করা। চতুর্থ, আদেশ কার্যকরের বিষয়ে চার মাসের মধ্যে এবং এরপর প্রতি ছয় মাস পরপর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া।
অন্তর্বর্তী আদেশ মানে চূড়ান্ত রায়ের আগে সাময়িক সুরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনকে আলাদা ব্যবস্থা হিসেবে না গুনলে উত্তর তিন মনে হয়, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: চার ব্যবস্থা মনে রাখুন চার শব্দে: প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, প্রমাণ, প্রতিবেদন।
২৯৬. কোন দুটি দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২০১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কক্যামেরুন এবং ইথিওপিয়া
- খপেরু এবং ভেনেজুয়েলা
- গইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়া
- ঘমালি এবং সেনেগাল
সঠিক উত্তর: গ. ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়া
প্রশ্নটা ২০১৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রেক্ষাপট জানতে চেয়েছে। পুরস্কার পান ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগের জন্য।
ইরিত্রিয়া একসময় ইথিওপিয়ার অংশ ছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়, এরপর প্রায় দুই দশক যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়, এমন অচলাবস্থা চলে।
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েই আবি আহমেদ সীমান্ত কমিশনের রায় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন, আর সে বছরের জুলাইয়ে দুই দেশ শান্তি ঘোষণায় সই করে। এর স্বীকৃতিতেই ২০১৯ সালের পুরস্কার; পুরস্কারটি তিনি একাই পান।
বিকল্পের অন্য জোড়াগুলোর অনেকগুলোর মধ্যে সীমান্তই নেই, যেমন পেরু ও ভেনেজুয়েলা, কিংবা ক্যামেরুন ও ইথিওপিয়া। ইথিওপিয়া নাম দেখে প্রথম বিকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়াই ফাঁদ।
মনে রাখুন: বিকল্পের জোড়া দুটি দেশের মধ্যে আদৌ সীমান্ত আছে কি না আগে দেখুন; ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়াই প্রকৃত প্রতিবেশী।
২৯৭. ইনকা সভ্যতা কোন অঞ্চলে বিরাজমান ছিল? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদক্ষিণ আমেরিকা
- খআফ্রিকা
- গমধ্যপ্রাচ্য
- ঘইউরোপ
সঠিক উত্তর: ক. দক্ষিণ আমেরিকা
প্রশ্নটা ইনকা সভ্যতার অবস্থান জানতে চেয়েছে। ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চলে, যার কেন্দ্র ছিল বর্তমান পেরু।
ইনকাদের রাজধানী ছিল কুসকো। পাহাড়ের গায়ে ধাপ কেটে চাষাবাদ, পাথরের নিখুঁত স্থাপত্য আর দীর্ঘ সড়কব্যবস্থা ছিল এই সভ্যতার বৈশিষ্ট্য। পাহাড়চূড়ার নগর মাচু পিচু এর সবচেয়ে বিখ্যাত নিদর্শন।
ষোড়শ শতকে স্পেনীয় অভিযাত্রী ফ্রান্সিসকো পিসারোর আক্রমণে ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
আমেরিকার তিন প্রাচীন সভ্যতা গুলিয়ে ফেলাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। মায়া মধ্য আমেরিকায়, অ্যাজটেক মেক্সিকোতে, আর ইনকা দক্ষিণ আমেরিকায়।
মনে রাখুন: ইনকা মানেই আন্দিজ, পেরু, মাচু পিচু: দক্ষিণ আমেরিকা।
২৯৮. নিচের কোন দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সুবিধা বিদ্যমান? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককিউবা
- খভিয়েতনাম
- গউজবেকিস্তান
- ঘসোমালিয়া
সঠিক উত্তর: খ. ভিয়েতনাম
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বিকল্পের কোন দেশে রাশিয়া সামরিক সুবিধা পায়। প্রচলিত উত্তর ভিয়েতনাম, যেখানে কাম রানহ উপসাগরে রুশ বাহিনীর দীর্ঘ উপস্থিতি ছিল।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে কাম রানহ ছিল সোভিয়েত ও পরে রুশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের বড় ঘাঁটি। ২০০২ সালের মে মাসে রাশিয়া ঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিয়েতনামকে ফিরিয়ে দেয়। তবে পরেও রুশ সামরিক বিমান ও জাহাজ সেখানে জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা পেয়েছে; ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে ভিয়েতনামের কাছে আপত্তি জানায়।
অন্য বিকল্পগুলো কেন বাদ: কিউবার লুর্দেসে রুশ গোয়েন্দা শোনার কেন্দ্র ছিল, ২০০১ সালে রাশিয়া তা বন্ধের ঘোষণা দেয়। সোমালিয়ার বারবেরায় সোভিয়েত ঘাঁটি ছিল, কিন্তু ১৯৭৭ সালে সোমালিয়া সোভিয়েতদের বের করে দেয়। উজবেকিস্তানে কোনো রুশ সামরিক ঘাঁটি নেই।
সাবধান থাকা দরকার: মধ্য এশিয়ায় রাশিয়ার ঘাঁটি আছে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানে, উজবেকিস্তানে নয়। মধ্য এশিয়া শুনেই উজবেকিস্তান বেছে নেওয়া এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: পুরোনো সোভিয়েত ঘাঁটির মধ্যে যেখানে পরে আবার রুশ ব্যবহারের সুবিধা ফিরেছে, সেটিই এখানে উত্তর: কাম রানহ।
২৯৯. ফিনল্যান্ড কোন দেশের উপনিবেশ ছিল? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করাশিয়া
- খডেনমার্ক
- গসুইডেন
- ঘইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর: গ. সুইডেন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ফিনল্যান্ড কার অধীনে ছিল। প্রচলিত উত্তর সুইডেন, কারণ মধ্যযুগ থেকে ১৮০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ছয় শতক ফিনল্যান্ড সুইডিশ রাজ্যের অংশ ছিল।
১৮০৮ থেকে ১৮০৯ সালের যুদ্ধে সুইডেন হেরে গেলে ফিনল্যান্ড রুশ সাম্রাজ্যের হাতে চলে যায় এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত গ্র্যান্ড ডাচি হিসেবে রুশ জারের অধীনে থাকে। রুশ বিপ্লবের সুযোগে ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফিনল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
দীর্ঘ সুইডিশ শাসনের ছাপ আজও স্পষ্ট: সুইডিশ ভাষা এখনো ফিনল্যান্ডের দুটি জাতীয় ভাষার একটি। এ কারণেই প্রশ্নকর্তা দীর্ঘতম শাসনকারী হিসেবে সুইডেনকে উত্তর ধরেছেন।
ফাঁদ হলো রাশিয়া। ফিনল্যান্ড রাশিয়া থেকেই স্বাধীন হয়েছিল, তাই অনেকে রাশিয়া বেছে নেন। কিন্তু রুশ শাসন ছিল একশো বছরের মতো, আর সুইডিশ শাসন প্রায় ছয়শো বছর।
মনে রাখুন: কোন দেশ কার অধীনে ছিল প্রশ্নে সাধারণত দীর্ঘতম শাসককে ধরা হয়: ফিনল্যান্ডের বেলায় সুইডেন।
৩০০. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কোন সালে গঠিত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯৪৪ সালে
- খ১৯৪৫ সালে
- গ১৯৪৮ সালে
- ঘ১৯৪৯ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৪৫ সালে
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ গঠনের বছর জানতে চেয়েছে। গৃহীত উত্তর ১৯৪৫, কারণ ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনে আইএমএফের চুক্তি কার্যকর হয় এবং সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়।
এর পটভূমি ১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেটন উডসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মুদ্রা ও অর্থ সম্মেলন। সেখানে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গঠনের চুক্তি তৈরি হয়, তাই দুটিকে ব্রেটন উডস যমজ বলা হয়। আইএমএফ কাজ শুরু করে ১৯৪৭ সালের মার্চে, সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি।
সিদ্ধান্তের বছর আর গঠনের বছর আলাদা করা এই প্রশ্নের মূল কৌশল। চুক্তির খসড়া ১৯৪৪ সালে, কার্যকর ও গঠন ১৯৪৫ সালে।
তাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ ১৯৪৪। ব্রেটন উডস সম্মেলনের সাল বেশি পরিচিত বলে অনেকে সেটিই বেছে নেন।
মনে রাখুন: ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নে সম্মেলনের সাল ১৯৪৪, আর গঠনের সাল ১৯৪৫।