মানসিক দক্ষতা · পাতা ৫
৮১. P and Q are brothers, R and S are sisters. The son of P is brother of S. Q is related to R as - (রূপালী ব্যাংক: অফিসার, ২০১৯)
- কson
- খbrother
- গuncle
- ঘfather
সঠিক উত্তর: গ. uncle
প্রশ্নটা রক্তের সম্পর্ক নিয়ে। মূল তথ্য তিনটি: P ও Q ভাই, R ও S বোন, আর P এর ছেলে S এর ভাই। প্রথম কাজ হলো কে কোন প্রজন্মের তা ঠিক করা।
P এর ছেলে যদি S এর ভাই হয়, তাহলে S ও P এর সন্তান, মানে P এর মেয়ে। R হলো S এর বোন, তাই R ও P এর মেয়ে।
Q হলো P এর ভাই। বাবার ভাইকে বলে চাচা বা uncle। তাই Q হলো R এর uncle।
ফাঁদ হলো brother: P ও Q ভাই, আর R ও S বোন, এই মিল দেখে অনেকে সবাইকে এক প্রজন্মে বসিয়ে ফেলেন। কিন্তু R আর S পরের প্রজন্মের।
মনে রাখুন: সন্তানের ভাই-বোনরাও একই বাবার সন্তান: P এর ছেলে S এর ভাই মানেই S, R সবাই P এর সন্তান।
৮২. বাংলা ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’-মালায় ‘ম’ অক্ষরটির পূর্বের পঞ্চম অক্ষরটি কী? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক‘ধ’
- খ‘ন’
- গ‘প’
- ঘ‘ল’
সঠিক উত্তর: খ. ‘ন’
প্রশ্নটা ব্যঞ্জনবর্ণের ক্রম ঠিকঠাক জানা আছে কি না তা দেখছে। পূর্বের পঞ্চম অক্ষর মানে ম থেকে পেছনের দিকে পাঁচ ঘর যাওয়া।
প বর্গের পাঁচটি বর্ণ প, ফ, ব, ভ, ম। ম এই বর্গের শেষ বর্ণ, তাই পাঁচ ঘর পেছনে গেলে পৌঁছাই আগের বর্গ, অর্থাৎ ত বর্গের শেষ বর্ণে।
গুনে দেখি: ভ এক, ব দুই, ফ তিন, প চার, ন পাঁচ। তাই ম এর পূর্বের পঞ্চম অক্ষর ন।
ফাঁদ হলো ম কে নিজেই এক ধরে গোনা; তখন পাঁচে গিয়ে প পাওয়া যায়। গোনা শুরু হবে ম এর আগের অক্ষর থেকে।
মনে রাখুন: প্রতিটি বর্গে ৫টি বর্ণ; ম হলো প বর্গের শেষ, তাই ঠিক পাঁচ ঘর পেছনে আগের বর্গের শেষ বর্ণ ন।
৮৩. যদি ABC = ZYX হয়, তবে GIVV = ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কTERE
- খTEER
- গTREE
- ঘFREE
সঠিক উত্তর: গ. TREE
এটা কোডিং-ডিকোডিং প্রশ্ন। ABC থেকে ZYX দেখে বোঝা যায়, বর্ণমালার শুরুর অক্ষর শেষের দিকের অক্ষরে বদলে গেছে: A এর জায়গায় Z, B এর জায়গায় Y, C এর জায়গায় X।
এই নিয়মে প্রতিটি অক্ষর আর তার কোডের ক্রমিক সংখ্যার যোগফল সবসময় ২৭। যেমন A এক নম্বর, Z ছাব্বিশ নম্বর, যোগফল ২৭।
G সাত নম্বর, তাই তার কোড ২০ নম্বর অক্ষর T। I নয় নম্বর, কোড ১৮ নম্বর R। V বাইশ নম্বর, কোড ৫ নম্বর E। তাই GIVV হয় TREE।
অক্ষরগুলো ঠিক রেখে ক্রম বদলালে TERE বা TEER হয়ে যায়; কোডিংয়ে প্রতিটি অক্ষর নিজের জায়গাতেই বদলায়, ক্রম বদলায় না।
মনে রাখুন: উল্টো বর্ণমালার জোড়া মনে রাখুন: AZ, BY, CX ... GT, IR, VE; জোড়ার ক্রমিক যোগফল ২৭।
৮৪. যদি চ × G = ৮২ হয়, তবে J × ট = ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১২০
- খ৯২
- গ১১৫
- ঘ১১০
সঠিক উত্তর: ঘ. ১১০
এখানে অক্ষরকে সংখ্যায় রূপান্তর করা হয়েছে: ইংরেজি অক্ষর তার ইংরেজি বর্ণমালার ক্রম ধরে, আর বাংলা অক্ষর তার ব্যঞ্জনবর্ণের ক্রম ধরে।
ব্যঞ্জনবর্ণে ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, তাই চ ছয় নম্বর। ইংরেজিতে G সাত নম্বর। ছয় গুণ সাত সমান ৪২; প্রশ্নে ছাপা ৮২ আসলে ৪২ এর ছাপার ভুল বলে ধরা যায়।
একই নিয়মে J ইংরেজি বর্ণমালার দশম অক্ষর। ব্যঞ্জনবর্ণে চ এর পর ছ, জ, ঝ, ঞ, ট; তাই ট এগারো নম্বর। দশ গুণ এগারো সমান ১১০।
ট এর ক্রম গোনার সময় ঙ আর ঞ বাদ পড়ে যাওয়া খুব সাধারণ ভুল। তাই বর্গ ধরে গুনুন: ক বর্গে পাঁচটি, চ বর্গে পাঁচটি, তারপর ট বর্গের প্রথম বর্ণ ট এগারো নম্বর।
মনে রাখুন: ব্যঞ্জনবর্ণে প্রতি বর্গে ৫টি: ক-বর্গ ১ থেকে ৫, চ-বর্গ ৬ থেকে ১০, ট-বর্গ ১১ থেকে ১৫।
৮৫. একজন ব্যক্তি ভ্রমণে ৪ মাইল উত্তরে, ১২ মাইল পূর্বে , তারপর আবার ১২ মাইল উত্তরে যায় । সে শুরুর স্থান থেকে কত মাইল দূরে? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১৭
- খ২৮
- গ২১
- ঘ২০
সঠিক উত্তর: ঘ. ২০
দিক ও দূরত্বের প্রশ্নে প্রথমে একই দিকের সব হাঁটা যোগ করে নিতে হয়, তারপর শুরু আর শেষ বিন্দুর সরাসরি দূরত্ব বের হয় পিথাগোরাসের উপপাদ্যে।
উত্তরে প্রথমে ৪ মাইল, পরে আরও ১২ মাইল, মোট ১৬ মাইল উত্তরে। পূর্বে ১২ মাইল। উত্তর আর পূর্ব পরস্পর লম্ব, তাই একটি সমকোণী ত্রিভুজ তৈরি হয়, যার দুই বাহু ১৬ আর ১২।
অতিভুজ হলো ১৬ এর বর্গ আর ১২ এর বর্গের যোগফলের বর্গমূল। ২৫৬ যোগ ১৪৪ সমান ৪০০, আর ৪০০ এর বর্গমূল ২০। তাই তিনি শুরু থেকে ২০ মাইল দূরে।
ফাঁদ হলো মোট হাঁটা পথ, মানে ২৮ মাইলকে দূরত্ব ধরা। প্রশ্ন চেয়েছে সরাসরি দূরত্ব, পথের দৈর্ঘ্য নয়। ১২, ১৬, ২০ হলো ৩, ৪, ৫ ত্রয়ীর চার গুণ; এটা চিনলে হিসাব আরও দ্রুত হয়।
মনে রাখুন: ১২ : ১৬ : ২০ = ৩ : ৪ : ৫ এর ৪ গুণ; পিথাগোরীয় ত্রয়ী চিনলেই উত্তর।
৮৬. In your bookshelf, you have five favorite books. If you decide to arrange these five books in every possible combination and moved just one book in every half a minute. How much time it will take you to arrange? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- ক3 hours
- খ1 hour
- গ2 hours
- ঘ30 hours
সঠিক উত্তর: খ. 1 hour
প্রশ্নটা বিন্যাসের। ৫টি আলাদা বই একটি সারিতে যত রকমভাবে সাজানো যায়, তার সংখ্যা ৫ ফ্যাক্টোরিয়াল, মানে ৫ গুণ ৪ গুণ ৩ গুণ ২ গুণ ১, মোট ১২০।
কেন ফ্যাক্টোরিয়াল: প্রথম জায়গায় ৫টির যেকোনোটি বসতে পারে, দ্বিতীয় জায়গায় বাকি ৪টির যেকোনোটি, এভাবে কমতে থাকে। সব গুণ করলে ১২০টি ভিন্ন সাজানো।
প্রতিটি নতুন সাজানোতে আধা মিনিট লাগলে মোট সময় ১২০ গুণ আধা, মানে ৬০ মিনিট, অর্থাৎ ১ ঘণ্টা।
এখানে বিন্যাস ও সমাবেশ গুলিয়ে ফেলার ফাঁদ আছে। প্রশ্নে combination শব্দ থাকলেও ক্রম বদলানোর কথা বলা হয়েছে, তাই বিন্যাস, মানে ১২০। ১২০ কে মিনিট ভেবে ২ ঘণ্টা বলাও আরেক ভুল।
মনে রাখুন: n! × প্রতি ধাপের সময়: ১২০ × ৩০ সেকেন্ড = ৩৬০০ সেকেন্ড = ১ ঘণ্টা।
৮৭. আগামী পরশুর পরের দিন যদি রবিবার হয় তবে, গতকালের আগের দিন কি বার ছিল? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসোমবার
- খমঙ্গলবার
- গবৃহস্পতিবার
- ঘশনিবার
সঠিক উত্তর: খ. মঙ্গলবার
দিন বিষয়ক প্রশ্নে প্রতিটি শব্দকে “আজ” থেকে কত দিন দূরে, তা সংখ্যায় বদলে নিন। আগামীকাল মানে আজ যোগ ১, আগামী পরশু মানে আজ যোগ ২, আর পরশুর পরের দিন মানে আজ যোগ ৩।
আজ যোগ ৩ দিন রবিবার হলে আজ রবিবার থেকে তিন দিন আগের বার, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার।
গতকালের আগের দিন মানে আজ বিয়োগ ২। বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিন পিছালে মঙ্গলবার।
সরাসরি হিসাবেও আসে: রবিবার থেকে মোট পাঁচ দিন পিছাতে হবে, তিন দিন আজ পর্যন্ত আর দুই দিন আরও আগে; রবিবারের পাঁচ দিন আগে মঙ্গলবার। আজকের বার বৃহস্পতিবার দেখে সেটাকেই উত্তর ভাবা এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: দুই দিনের ব্যবধান ৩ + ২ = ৫ দিন: রবিবারের ৫ দিন আগে মঙ্গলবার।
৮৮. ১৯৯৪ সালের ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হলে ১৯৯৫ সালের একই তারিখ কি বার হবে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কবৃহস্পতিবার
- খশুক্রবার
- গবুধবার
- ঘশনিবার
সঠিক উত্তর: খ. শুক্রবার
এক বছর পর একই তারিখের বার বের করতে মাঝের দিনসংখ্যা দেখতে হয়। সাধারণ বছরে ৩৬৫ দিন, মানে ৫২ সপ্তাহ আর ১ দিন বাড়তি; তাই বার এক দিন এগোয়। মাঝে ২৯ ফেব্রুয়ারি পড়লে ৩৬৬ দিন, বার দুই দিন এগোয়।
১ ডিসেম্বর ১৯৯৪ থেকে ১ ডিসেম্বর ১৯৯৫ এর মাঝে যে ফেব্রুয়ারি পড়ে, সেটা ১৯৯৫ সালের। ১৯৯৫ কে ৪ দিয়ে ভাগ যায় না, তাই এটা অধিবর্ষ নয়, ফেব্রুয়ারি ২৮ দিনের।
অতএব মাঝে ৩৬৫ দিন, বাড়তি ১ দিন। বৃহস্পতিবার থেকে এক দিন এগিয়ে শুক্রবার।
ফাঁদ হলো শনিবার, যা দুই দিন এগোলে আসে। সেটা হতো কেবল মাঝে কোনো অধিবর্ষের ফেব্রুয়ারি পড়লে।
মনে রাখুন: সাধারণ বছরে একই তারিখ ১ বার এগোয়, অধিবর্ষ পার হলে ২ বার।
৮৯. কোন সংখ্যাটি নিম্নোক্ত ধারায় অন্তর্ভুক্ত নয়? ১-২-৫-১০-১৩-২৬-২৯-৪৮ (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১
- খ১০
- গ২৯
- ঘ৪৮
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪৮
ধারা থেকে বেমানান সংখ্যা খুঁজতে আগে পাশাপাশি পদের সম্পর্ক বের করুন। এখানে একবার গুণ, একবার যোগ, পালা করে চলছে।
১ কে ২ দিয়ে গুণ করলে ২, তাতে ৩ যোগে ৫। ৫ কে ২ দিয়ে গুণে ১০, তাতে ৩ যোগে ১৩। ১৩ কে ২ দিয়ে গুণে ২৬, তাতে ৩ যোগে ২৯। নিয়মটা হলো পালা করে দুই দিয়ে গুণ আর তিন যোগ।
এরপর পালা গুণের, তাই ২৯ এর পরে আসার কথা ২৯ এর দ্বিগুণ, মানে ৫৮। কিন্তু দেওয়া আছে ৪৮, তাই ৪৮ ধারার অন্তর্ভুক্ত নয়।
অন্য বিকল্পগুলো, যেমন ১, ১০ আর ২৯, প্রত্যেকেই নিয়ম মেনে এসেছে। শুধু শেষ পদ পর্যন্ত নিয়মটা চালিয়ে দেখলেই উত্তর মেলে।
মনে রাখুন: শেষ পদ থেকে উল্টো যাচাই করুন: ২৯ × ২ = ৫৮ ≠ ৪৮।
৯০. নিচের কোনটি প্রশ্নবোধক স্থানে বসবে? JD – KF – ? – PM – TR (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কNJ
- খMI
- গNI
- ঘOJ
সঠিক উত্তর: খ. MI
অক্ষর ধারায় প্রতিটি অক্ষরকে বর্ণমালার ক্রমিক নম্বরে বদলে নিন: A এক, B দুই, এভাবে। তারপর প্রথম অক্ষরগুলো আর দ্বিতীয় অক্ষরগুলো আলাদা ধারা হিসেবে দেখুন।
প্রথম অক্ষর J, K, ফাঁকা, P, T; নম্বর ১০, ১১, ফাঁকা, ১৬, ২০। ব্যবধান এক করে বাড়ছে: যোগ ১, যোগ ২, যোগ ৩, যোগ ৪। তাই ফাঁকাটা ১১ যোগ ২, মানে ১৩, অক্ষর M।
দ্বিতীয় অক্ষর D, F, ফাঁকা, M, R; নম্বর ৪, ৬, ফাঁকা, ১৩, ১৮। ব্যবধান যোগ ২, যোগ ৩, যোগ ৪, যোগ ৫। ফাঁকাটা ৬ যোগ ৩, মানে ৯, অক্ষর I। নিখোঁজ পদ MI।
ফাঁদ হলো NI আর NJ, যেখানে প্রথম অক্ষর N। তাহলে K থেকে N এ যোগ ৩, আর N থেকে P এ যোগ ২; ব্যবধান কমে যায়, নিয়ম ভাঙে।
মনে রাখুন: EJOTY মনে রাখুন: E ৫, J ১০, O ১৫, T ২০, Y ২৫; এর পাশ থেকে যেকোনো অক্ষরের নম্বর দ্রুত বের হয়।
৯১. “RAPIS” অক্ষরগুলোকে নতুন করে সাজালে নিচের কোনটি পাওয়া যাবে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কএকটি মহাসাগর
- খএকটি শহর
- গএকটি দেশ
- ঘএকটি প্রাণী
সঠিক উত্তর: খ. একটি শহর
এটা বর্ণ পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন, যাকে অ্যানাগ্রাম বলে। দেওয়া প্রতিটি অক্ষর ঠিক একবার ব্যবহার করে একটি পরিচিত শব্দ বানাতে হয়, তারপর দেখতে হয় শব্দটা কোন শ্রেণির।
RAPIS এ আছে R, A, P, I, S এই পাঁচটি অক্ষর। P দিয়ে শুরু করে সাজালে হয় PARIS, অর্থাৎ প্যারিস, যা ফ্রান্সের রাজধানী শহর।
কৌশল হলো বিকল্পের শ্রেণি ধরে ভাবা: পাঁচ অক্ষরের কোনো শহর, দেশ, মহাসাগর বা প্রাণীর নাম মাথায় এনে অক্ষর মিলিয়ে দেখা। শেষে যাচাই করুন, প্রতিটি অক্ষর ঠিক একবার ব্যবহার হয়েছে কি না।
প্যারিস নামটা ফ্রান্স দেশের সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে দেশ বেছে নেন; কিন্তু প্যারিস নিজে একটি শহর, দেশ নয়।
মনে রাখুন: অ্যানাগ্রামে প্রথম অক্ষর বদলে বদলে চেষ্টা করুন; P দিয়ে শুরু করলেই PARIS চোখে পড়ে।
৯২. নিম্নের চারটির মধ্যে কোনটি ভিন্ন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপিতল
- খতামা
- গলোহা
- ঘটিন
সঠিক উত্তর: ক. পিতল
এটা ভিন্নটি খোঁজার প্রশ্ন: চারটির মধ্যে তিনটি একটি নিয়মে মেলে, একটি মেলে না। এখানে নিয়মটা হলো মৌলিক ধাতু বনাম সংকর ধাতু।
তামা, লোহা আর টিন প্রত্যেকে একটি মৌলিক পদার্থ; পর্যায় সারণিতে এদের প্রত্যেকের আলাদা ঘর আছে।
পিতল কোনো মৌলিক পদার্থ নয়; এটা তামা আর দস্তা মিশিয়ে তৈরি সংকর ধাতু। তাই পিতল বাকি তিনটি থেকে ভিন্ন।
টিন শব্দটা ঢেউটিন বা টিনের কৌটার কারণে অনেকের কাছে মিশ্র জিনিস মনে হয়, কিন্তু রসায়নে টিন একটি মৌলিক ধাতু। ঢেউটিন আসলে দস্তার প্রলেপ দেওয়া লোহার পাত।
মনে রাখুন: ‘কোনটি ভিন্ন’ প্রশ্নে আগে খুঁজুন কোনটি সংকর: পিতল, কাঁসা, ব্রোঞ্জ, ইস্পাত সবই সংকর ধাতু।
৯৩. যদি, ৫ + ৩ = ২৮, ৯ + ১ = ৮১০, ২ + ১ = ১৩ হয় তবে, ৫ + ৪ = ? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক১৮
- খ১৯
- গ২০
- ঘ২১
সঠিক উত্তর: খ. ১৯
এটা প্রতীকের লুকানো নিয়ম ধরার প্রশ্ন। যোগ চিহ্নটা এখানে সাধারণ যোগ নয়; উদাহরণগুলো থেকে নিয়মটা বের করতে হবে।
৫ আর ৩ থেকে ২৮: ৫ বিয়োগ ৩ সমান ২, আর ৫ যোগ ৩ সমান ৮; পাশাপাশি লিখলে ২৮। ৯ আর ১ থেকে: বিয়োগফল ৮, যোগফল ১০, পাশাপাশি ৮১০। ২ আর ১ থেকে: ১ আর ৩, মানে ১৩।
তাই নিয়ম: আগে বিয়োগফল, তারপর যোগফল পাশাপাশি লেখা। ৫ আর ৪ এ বিয়োগফল ১, যোগফল ৯; উত্তর ১৯।
তিনটা উদাহরণেই নিয়মটা মিলিয়ে নিন, তাহলে ভুলের সুযোগ থাকে না। উল্টো ক্রমে লিখলে আসে ৯১, যা বিকল্পে নেই।
মনে রাখুন: ফলের শেষ অংশ সবসময় সাধারণ যোগফল (৮, ১০, ৩); তাই উত্তর ৯ দিয়ে শেষ হবে: ১৯।
৯৪. ইংরেজি বর্ণমালার ধারাবাহিকভাবে ১৮তম অক্ষরের বামদিকে ১০ম অক্ষর কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কH
- খS
- গF
- ঘJ
সঠিক উত্তর: ক. H
বর্ণমালার অবস্থানের প্রশ্নে আগে প্রতিটা বর্ণের ক্রমিক সংখ্যা মনে রাখা দরকার। ইংরেজি বর্ণমালায় ১৮তম বর্ণ R।
R এর বাম দিকে ১০ম বর্ণ মানে R থেকে ১০ ঘর পেছনে যাওয়া। তাই অবস্থান ১৮ বিয়োগ ১০, মানে ৮।
৮ম বর্ণ H। গুনে দেখুন: R এর বামে প্রথম Q, তারপর P, O, N, M, L, K, J, I, আর দশম H।
বামে মানে বর্ণমালার শুরুর দিকে। ভুল করে ডানে গেলে ২৮ আসে, যা বর্ণমালার বাইরে; আর শুরু থেকে ১০ম বর্ণ J, সেটাও ফাঁদ।
মনে রাখুন: বামে n তম = অবস্থান − n; ডানে n তম = অবস্থান + n।
৯৫. ৩, ৭, ৪, ১৪, ৫, ২১, ৬ ধারার অষ্টম সংখ্যাটি কত হবে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬
- খ৭
- গ২৮
- ঘ২৯
সঠিক উত্তর: গ. ২৮
এটা দুটো ধারা মিশিয়ে বানানো একটা ধারা। এমন প্রশ্নে বিজোড় স্থানের আর জোড় স্থানের পদগুলো আলাদা করে দেখুন।
বিজোড় স্থানে, মানে প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম পদে আছে ৩, ৪, ৫, ৬; প্রতিবার ১ বাড়ে।
জোড় স্থানে, মানে দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ পদে আছে ৭, ১৪, ২১; এরা ৭ এর গুণিতক। অষ্টম পদ জোড় স্থানে, তাই পরের গুণিতক ২৮।
ফাঁদ হলো ৭, যা বিজোড় ধারার পরের পদ, মানে নবম পদ। প্রশ্ন চেয়েছে অষ্টম পদ, যা জোড় ধারায় পড়ে।
মনে রাখুন: মিশ্র ধারায় পদগুলো একটা বাদ দিয়ে দিয়ে পড়ুন।
৯৬. প্রশ্নবোধক স্থানে কোনটি বসবে? ৩, ১০, ৯, ৮, ২৭, ৬, ৮১, ৪, ২৪৩, (?) (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২
- খ৪
- গ১৫
- ঘ১২
সঠিক উত্তর: ক. ২
এটা মিশ্র ধারা: একটা ধারার ভেতরে আসলে দুটি আলাদা ধারা পালা করে বসানো। পাশাপাশি সংখ্যার মধ্যে কোনো নিয়ম না পেলে একটা করে বাদ দিয়ে দেখা উচিত।
বিজোড় স্থানের সংখ্যাগুলো নিন: ৩, ৯, ২৭, ৮১, ২৪৩। প্রতিটি আগেরটার তিন গুণ।
জোড় স্থানের সংখ্যাগুলো: ১০, ৮, ৬, ৪। প্রতিবার ২ করে কমছে। প্রশ্নবোধক স্থানটা দশম, মানে জোড় স্থান, তাই সেখানে বসবে ৪ থেকে ২ কম, অর্থাৎ ২।
ফাঁদ হলো ১২। জোড় ধারার শেষ পদ ৪ কে বিজোড় ধারার নিয়মে তিন দিয়ে গুণ করলে ১২ আসে; কিন্তু প্রতিটি ধারা নিজের নিয়মেই চলে।
মনে রাখুন: দশটি পদের ধারায় প্রশ্নবোধক জোড় স্থানে থাকলে শুধু জোড় স্থানের পদগুলো দেখুন।
৯৭. আয়নায় প্রতিফলিত হলে নিচের কোন শব্দটির কোন পরিবর্তন হবে না? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কOPT
- খNOON
- গSOS
- ঘOTTO
সঠিক উত্তর: ঘ. OTTO
আয়নার সামনে রাখলে প্রতিবিম্বে বাম আর ডান অদলবদল হয়। ফলে দুটি জিনিস একসাথে ঘটে: শব্দের অক্ষরগুলোর ক্রম উল্টে যায়, আর প্রতিটি অক্ষরও নিজে উল্টে যায়।
তাই আয়নায় কোনো শব্দ অপরিবর্তিত থাকতে দুটি শর্ত লাগে। শব্দটা পেছন থেকে পড়লেও একই হতে হবে, আর প্রতিটি অক্ষর খাড়া মাঝরেখা বরাবর প্রতিসম হতে হবে, যেমন A, H, I, M, O, T, U, V, W, X, Y।
OTTO দুটি শর্তই মানে: O আর T দুটোই প্রতিসম, আর শব্দটা পেছন থেকেও OTTO। তাই আয়নায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
ফাঁদ হলো NOON আর SOS। এরা পেছন থেকে একই পড়ায় মনে হয় ঠিক আছে, কিন্তু N আর S আয়নায় উল্টো আকার নেয়, তাই প্রতিবিম্ব বদলে যায়।
মনে রাখুন: আগে অপ্রতিসম অক্ষর (N, S, P, B, C, D, E, F, G, J, K, L, Q, R, Z) আছে এমন শব্দ বাদ দিন, তারপর দেখুন পেছন থেকে একই কি না।
৯৮. If LOYAL is coded as ‘JOWAJ’, then PRONE is coded as - - (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কQRPNF
- খNRMND
- গORNMG
- ঘNRMNC
সঠিক উত্তর: ঘ. NRMNC
কোডিং প্রশ্নে মূল শব্দ আর কোডের অক্ষরগুলো পাশাপাশি রেখে দেখতে হয়, বর্ণমালায় প্রতিটি অক্ষর কত ঘর সরেছে। এখানে LOYAL থেকে হয়েছে JOWAJ।
প্রথম অক্ষর L থেকে J, দুই ঘর পিছিয়েছে। দ্বিতীয় অক্ষর O বদলায়নি। তৃতীয় Y থেকে W, আবার দুই ঘর পেছনে। চতুর্থ A বদলায়নি, আর পঞ্চম L থেকে J। অর্থাৎ বিজোড় স্থানের অক্ষর দুই ঘর পেছায়, জোড় স্থানের অক্ষর একই থাকে।
একই নিয়ম PRONE এ খাটাই: P থেকে N, R একই থাকে, O থেকে M, N একই থাকে, আর E থেকে C। কোড দাঁড়ায় NRMNC।
সবচেয়ে কাছের ফাঁদ NRMND, যেখানে প্রথম চারটি অক্ষর ঠিক কিন্তু শেষে E থেকে মাত্র এক ঘর পিছিয়ে D করা হয়েছে। শেষ অক্ষর পর্যন্ত নিয়মটা মিলিয়ে নিন।
মনে রাখুন: বিকল্পে প্রথম অক্ষর দেখেই ছাঁটাই করুন: P থেকে ২ ঘর পেছনে N; তারপর শুধু শেষ অক্ষর মিলিয়ে NRMNC বাছুন।
৯৯. ভোর বেলায় আপনি বেড়াতে বের হয়েছেন। বের হওয়ার সময় সূর্য আপনার সামনে ছিল। কিছুক্ষণ পরে আপনি বামদিকে ঘুরলেন, কয়েক মিনিট পরে আপনি ডানদিকে ঘুরলেন। এখন আপনার মুখ কোনদিকে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপূর্ব
- খপশ্চিম
- গউত্তর
- ঘদক্ষিণ
সঠিক উত্তর: ক. পূর্ব
দিক নির্ণয়ের প্রশ্নে আগে শুরুর দিকটা নিশ্চিত করতে হয়। সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, তাই ভোরে সূর্য সামনে থাকলে আপনার মুখ পূর্ব দিকে।
পূর্বমুখী অবস্থায় বামে ঘুরলে মুখ হয় উত্তর দিকে। এরপর উত্তরমুখী অবস্থায় ডানে ঘুরলে মুখ আবার পূর্ব দিকে ফেরে।
সাধারণ নিয়ম: একবার বামে আর একবার ডানে ঘুরলে দুটো ঘোরা একে অপরকে কাটাকাটি করে, তাই শেষে শুরুর দিকেই থাকেন।
ফাঁদ হলো উত্তর, যা শুধু প্রথম ঘোরার পরের দিক। দ্বিতীয় ঘোরাটা হিসাবে আনতে ভুলবেন না।
মনে রাখুন: একবার বাম আর একবার ডান ঘোরা কাটাকাটি হয়; শেষে মুখ শুরুর দিকেই, মানে পূর্বে।
১০০. একটি মোটা ও একটি চিকন হাতলওয়ালা স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে একই মাপের দুটি স্ক্রু-কে কাঠবোর্ডের ভিতরে সমান গভীরতায় প্রবেশ করাতে চাইলে কোনটি ঘটবে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমোটা হাতলের ড্রাইভারকে বেশিবার ঘুরাতে হবে
- খচিকন হাতলের ড্রাইভারকে বেশিবার ঘুরাতে হবে
- গদু’টিকে একই সংখ্যকবার ঘুরাতে হবে
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. দু’টিকে একই সংখ্যকবার ঘুরাতে হবে
স্ক্রু ঢোকে তার প্যাঁচ বরাবর। এক পূর্ণ পাক ঘোরালে স্ক্রু ঠিক এক প্যাঁচের দূরত্ব ভেতরে যায়, যাকে পিচ বলে। তাই কতবার ঘোরাতে হবে তা ঠিক করে স্ক্রুর পিচ আর কতটা গভীরে নিতে চাই।
এখানে স্ক্রু দুটি একই মাপের, মানে পিচ একই, আর গভীরতাও সমান। তাই দুটি স্ক্রু ড্রাইভারকেই সমান সংখ্যকবার ঘোরাতে হবে।
হাতলের মোটা চিকন পার্থক্য প্রভাব ফেলে বলের উপর, পাকের সংখ্যার উপর নয়। মোটা হাতলে লিভারের বাহু বড়, তাই একই হাতের বলে বেশি টর্ক পাওয়া যায় এবং ঘোরানো সহজ লাগে।
ফাঁদ হলো ভাবা যে চিকন হাতল কম জোর দেয় বলে বেশিবার ঘোরাতে হবে। চিকন হাতলে কষ্ট বেশি হয় ঠিকই, কিন্তু পাকের সংখ্যা একই।
মনে রাখুন: পাকের সংখ্যা = গভীরতা ÷ পিচ; হাতল এই সূত্রে নেই।