সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ১১
২০১. নিচের কোন উদ্ভিদ কেবল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে দেখা যায়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কখেজুর পাম
- খসাগু পাম
- গনিপা পাম
- ঘতাল পাম
সঠিক উত্তর: গ. নিপা পাম
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন পাম জাতীয় উদ্ভিদ কেবল ম্যানগ্রোভ বনে জন্মায়। উত্তর নিপা পাম, যাকে বাংলায় গোলপাতা বলে।
ম্যানগ্রোভ বন হলো সমুদ্র উপকূলের জোয়ার-ভাটার বন, যেখানে মাটি লবণাক্ত কাদায় ভরা আর দিনে দুবার পানিতে ডোবে। নিপা পাম এই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে: এর কাণ্ড কাদার নিচে শুয়ে থাকে, শুধু লম্বা পাতাগুলো ওপরে ওঠে। পাম পরিবারে ম্যানগ্রোভের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উদ্ভিদ হিসেবে একে বিশেষভাবে চেনা হয়।
সুন্দরবনে গোলপাতা প্রচুর জন্মায়। উপকূলের মানুষ এর পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি দেয়, আর রস থেকে গুড় তৈরি হয়।
বাকি তিনটি সাধারণ স্থলভূমি বা মিঠা পানির উদ্ভিদ। খেজুর আর তাল আমাদের গ্রামের শুকনো উঁচু জমিতেই দেখা যায়, তাই এদের ম্যানগ্রোভের উদ্ভিদ ভাবার কারণ নেই।
মনে রাখুন: সুন্দরবনের সঙ্গে যুক্ত পাম মানেই গোলপাতা, অর্থাৎ নিপা পাম।
২০২. বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে বলা হয় - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কপিসিকালচার
- খএপিকালচার
- গমেরিকালচার
- ঘসেরিকালচার
সঠিক উত্তর: খ. এপিকালচার
প্রশ্নটি বিভিন্ন প্রাণী চাষের পরিভাষা নিয়ে। বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে বলে এপিকালচার।
এই নামগুলো এসেছে লাতিন শব্দমূল থেকে, তাই মূলটা জানলেই উত্তর মেলে। লাতিনে এপিস মানে মৌমাছি, পিসিস মানে মাছ, সেরিকাম মানে রেশম আর মেরি মানে সমুদ্র। এর সঙ্গে কালচার মানে চাষ বা পালন যোগ করলেই পরিভাষা তৈরি।
তাই মৌমাছি পালন এপিকালচার, মাছ চাষ পিসিকালচার, রেশম পোকা পালন সেরিকালচার আর সামুদ্রিক মাছ, শৈবাল বা ঝিনুক চাষ মেরিকালচার। মৌমাছি পালন থেকে মধু ও মোম পাওয়া যায়, আবার পরাগায়নে ফসলের ফলনও বাড়ে।
সেরিকালচার আর এপিকালচার শুনতে কাছাকাছি, তাই রেশম আর মৌমাছি গুলিয়ে ফেলাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শব্দমূল মনে রাখুন: এপি মৌমাছি, পিসি মাছ, সেরি রেশম, মেরি সমুদ্র।
২০৩. মা-এর রক্তে হেপাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস থাকলে নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি হওয়া উচিত? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক৩০ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে
- খ৭ দিন ইনকিউবেটরে রাখতে হবে
- গজন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হয়
- ঘজন্মের ১ মাস পর কেবলমাত্র (HBIG) শট দিতে হয়
সঠিক উত্তর: গ. জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হয়
প্রশ্নটি মা থেকে নবজাতকে হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ ঠেকানোর নিয়ম নিয়ে। সঠিক ব্যবস্থা হলো জন্মের বারো ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে হেপাটাইটিস-বি টিকার প্রথম ডোজ এবং এইচবিআইজি, অর্থাৎ হেপাটাইটিস-বি ইমিউনোগ্লোবুলিন, দুটোই দেওয়া।
কেন দুটো একসঙ্গে? প্রসবের সময় মায়ের রক্তের সংস্পর্শে শিশুর দেহে ভাইরাস ঢোকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এইচবিআইজি হলো তৈরি অ্যান্টিবডি, যা সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসকে আটকায়; একে বলে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ। টিকা শিশুর দেহকে নিজের অ্যান্টিবডি বানাতে শেখায়, কিন্তু তাতে কয়েক সপ্তাহ লাগে।
তাই তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেয় এইচবিআইজি, আর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয় টিকা। এরপর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টিকার বাকি ডোজ শেষ করতে হয়। সময়মতো দুটো দিলে বেশিরভাগ শিশুকে সংক্রমণ থেকে বাঁচানো যায়।
ত্রিশ দিন বা এক মাস অপেক্ষা করা বিপজ্জনক, কারণ ততদিনে ভাইরাস শিশুর লিভারে বাসা বাঁধতে পারে। ইনকিউবেটর তাপমাত্রা ঠিক রাখে, ভাইরাস ঠেকায় না।
মনে রাখুন: আক্রান্ত মায়ের নবজাতক: ১২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা ও এইচবিআইজি, দুটোই।
২০৪. ডেঙ্গু রোগ ছড়ায় - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কAedes aegypti মশা
- খHouse flies
- গAnopheles মশা
- ঘইঁদুর ও কাঠবেড়ালী
সঠিক উত্তর: ক. Aedes aegypti মশা
প্রশ্নটি রোগ আর তার বাহক মেলানোর। ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় স্ত্রী এডিস মশা, প্রধানত এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতি।
ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ানোর পর মশার দেহে ভাইরাস বাড়ে, পরে সেই মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগ ছড়ায়। এডিস মশার গায়ে সাদা-কালো ডোরা থাকে, সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
একই এডিস মশা চিকুনগুনিয়া, জিকা ও পীতজ্বরও ছড়ায়। অন্যদিকে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ছড়ায় ম্যালেরিয়ার পরজীবী, আর কিউলেক্স মশা ছড়ায় ফাইলেরিয়া।
অ্যানোফিলিস দেখে অনেকে ভুল করেন, কারণ দুটোই মশা। মনে রাখবেন, ম্যালেরিয়া অ্যানোফিলিসের, ডেঙ্গু এডিসের।
মনে রাখুন: জমা পরিষ্কার পানি আর দিনের কামড় মানেই এডিস, আর এডিস মানেই ডেঙ্গু।
২০৫. স্টিফেন হকিন্স একজন - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কদার্শনিক
- খপদার্থবিদ
- গরসায়নিকবিদ
- ঘকবি
সঠিক উত্তর: খ. পদার্থবিদ
প্রশ্নে নামটি হকিন্স ছাপা হয়েছে, আসলে তিনি স্টিফেন হকিং। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও বিশ্বতত্ত্ববিদ।
হকিংয়ের সবচেয়ে বড় অবদান কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে। উনিশশো চুয়াত্তর সালে তিনি দেখান, কোয়ান্টাম প্রভাবে কৃষ্ণগহ্বর থেকেও বিকিরণ বের হতে পারে; একে বলে হকিং বিকিরণ। মহাবিশ্বের শুরু বা মহাবিস্ফোরণ নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।
সাধারণ পাঠকের জন্য লেখা তাঁর বই আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম উনিশশো অষ্টাশি সালে প্রকাশিত হয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়। মোটর নিউরন রোগে প্রায় পুরো শরীর অচল হলেও তিনি কম্পিউটারের কণ্ঠ দিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন। দুই হাজার আঠারো সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি বিজ্ঞানের দর্শন নিয়েও লিখেছেন, তাই কেউ কেউ দার্শনিক বেছে নেন; কিন্তু তাঁর পেশা ও পরিচয় পদার্থবিদ।
মনে রাখুন: হকিং মানেই কৃষ্ণগহ্বর আর আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম, অর্থাৎ পদার্থবিদ।
২০৬. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কনাইট্রোজেন গ্যাস
- খমিথেন গ্যাস
- গহাইড্রোজেন গ্যাস
- ঘকার্বন মনোক্সাইড
সঠিক উত্তর: খ. মিথেন গ্যাস
প্রশ্নটি প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান জানতে চেয়েছে। উত্তর মিথেন।
মিথেন সবচেয়ে সরল হাইড্রোকার্বন: একটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত। লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নিচে চাপা পড়া জৈব পদার্থ তাপ ও চাপে ভেঙে এই গ্যাস তৈরি হয়েছে।
বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে গড়ে প্রায় ৯৭ দশমিক ৩৩ শতাংশই মিথেন, বাকিটা সামান্য ইথেন, প্রোপেন ও ভারী হাইড্রোকার্বন। তাই আমাদের গ্যাস খুব বিশুদ্ধ এবং সরাসরি রান্না, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় ব্যবহার করা যায়।
নাইট্রোজেন বাতাসের প্রধান উপাদান, প্রাকৃতিক গ্যাসের নয়; এখানে বাতাস আর গ্যাস গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: সিএনজি আর প্রাকৃতিক গ্যাস দুটোরই মূল উপাদান মিথেন।
২০৭. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কতেল
- খসমুদ্রের ঢেউ
- গগ্যাস
- ঘকয়লা
সঠিক উত্তর: খ. সমুদ্রের ঢেউ
প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য আর অনবায়নযোগ্য শক্তির পার্থক্য নিয়ে। উত্তর সমুদ্রের ঢেউ।
নবায়নযোগ্য শক্তি হলো যার উৎস প্রকৃতিতে নিজে নিজেই বারবার ফিরে আসে এবং ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না, যেমন সূর্যের আলো, বায়ু, পানির স্রোত ও ঢেউ। সমুদ্রের ঢেউ তৈরি হয় বাতাসের ধাক্কায়, আর বাতাস চলে সূর্যের তাপে; তাই যতদিন সূর্য আছে, ঢেউও থাকবে।
অন্যদিকে তেল, গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে এরা তৈরি। একবার পুড়িয়ে ফেললে মানুষের জীবদ্দশায় আর ফিরে আসে না, তাই এগুলো অনবায়নযোগ্য।
চারটির মধ্যে তিনটিই জীবাশ্ম জ্বালানি, তাই জীবাশ্ম জ্বালানি চিনতে পারলেই উত্তর বের হয়ে আসে।
মনে রাখুন: অপশনে জীবাশ্ম জ্বালানি বাদ দিন; যেটা বাকি থাকে, সেটাই নবায়নযোগ্য।
২০৮. যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপ্যাথজেনিক
- খইনফেকশন
- গটক্সিন
- ঘজীবাণু
সঠিক উত্তর: ক. প্যাথজেনিক
প্রশ্নটা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের পরিভাষা জানতে চেয়েছে। রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন অণুজীবকে প্যাথোজেন বলে, আর এদের প্যাথোজেনিক অণুজীব বলা হয়।
প্যাথোজেন শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে: প্যাথোস মানে কষ্ট বা রোগ, আর জেন মানে যা জন্ম দেয়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা প্রোটোজোয়া, যে কেউ রোগ ঘটালে প্যাথোজেন; যেমন যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া বা ডেঙ্গুর ভাইরাস।
সব অণুজীব রোগ ঘটায় না। দই তৈরির ব্যাকটেরিয়া বা অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে না।
ইনফেকশন হলো দেহে জীবাণু ঢুকে বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া, আর টক্সিন হলো জীবাণুর তৈরি বিষ; এগুলো অণুজীবের নাম নয়। সাধারণ কথায় জীবাণু বলতে ক্ষতিকর অণুজীব বোঝালেও এটি সাধারণ নাম, প্রশ্ন চেয়েছে নির্দিষ্ট পরিভাষা।
মনে রাখুন: প্যাথো মানে রোগ, জেন মানে জন্মদাতা।
২০৯. আয়না থেকে ২ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে, আয়নাতে আপনার প্রতিবিম্ব কতদূর দেখা যাবে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৫ ফুট
- খ৪ ফুট
- গ৩ ফুট
- ঘ২ফুট
সঠিক উত্তর: ঘ. ২ফুট
প্রশ্নটা সমতল আয়নায় প্রতিবিম্বের অবস্থান জানতে চেয়েছে। নিয়ম হলো: বস্তু আয়নার সামনে যত দূরে থাকে, প্রতিবিম্ব আয়নার পেছনে ঠিক তত দূরে তৈরি হয়।
আপনি আয়না থেকে দুই ফুট দূরে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব তৈরি হবে আয়নার পেছনে দুই ফুট দূরে। প্রচলিত গাইডগুলো আয়না থেকে এই দূরত্বকেই উত্তর ধরে, তাই উত্তর দুই ফুট।
তবে আপনার চোখ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব হবে দুই আর দুই মিলে চার ফুট। প্রশ্নের ভাষা অস্পষ্ট বলে এ নিয়ে মতভেদ আছে; পরীক্ষায় দূরত্বটি আয়না থেকে চাওয়া হয়েছে না দর্শক থেকে, তা খেয়াল করুন।
পাঁচ বা তিন ফুটের কোনো হিসাব নিয়ম থেকে আসে না। আর মনে রাখুন, সমতল আয়নার প্রতিবিম্ব অবাস্তব, বস্তুর সমান আকারের এবং ডান-বাম উল্টো।
মনে রাখুন: সমতল আয়না: যত সামনে, তত পেছনে।
২১০. নিচের কোনটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কট্রিপসিন
- খলাইপেজ
- গটায়ালিন
- ঘঅ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর: ক. ট্রিপসিন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন এনজাইম আমিষ হজম করে। উত্তর ট্রিপসিন, যা অগ্ন্যাশয় রসে থাকে এবং আমিষকে ভেঙে ছোট পেপটাইডে পরিণত করে।
অগ্ন্যাশয় থেকে এটি নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন হিসেবে বের হয়, পরে ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে এন্টারোকাইনেজ নামের এনজাইম একে সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত করে। নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বের হয় বলে অগ্ন্যাশয় নিজে হজম হয়ে যায় না।
পাকস্থলীর পেপসিনও আমিষ হজম করে। অন্যদিকে লাইপেজ চর্বি বা স্নেহ পদার্থ ভাঙে, আর টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ শ্বেতসার বা শর্করা ভাঙে।
ফাঁদ হলো টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ: দুটিই হজমের পরিচিত এনজাইম, কিন্তু এরা শর্করার এনজাইম। টায়ালিন আসলে লালার অ্যামাইলেজেরই নাম।
মনে রাখুন: ট্রিপসিন ও পেপসিন আমিষ, লাইপেজ চর্বি, অ্যামাইলেজ শর্করা।
২১১. বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ আর্গন বিদ্যমান? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৭৮.০
- খ০.৮
- গ০.৪১
- ঘ০.৩
সঠিক উত্তর: খ. ০.৮
প্রশ্নটা বায়ুমণ্ডলে আর্গনের শতকরা পরিমাণ জানতে চেয়েছে। শুষ্ক বায়ুতে আর্গন প্রায় শূন্য দশমিক নয় তিন শতাংশ, যা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের পর তৃতীয় সর্বাধিক গ্যাস।
নাইট্রোজেন প্রায় আটাত্তর শতাংশ, অক্সিজেন প্রায় একুশ শতাংশ, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
সঠিক মান শূন্য দশমিক নয় তিন বিকল্পে নেই। বিকল্পগুলোর মধ্যে এর সবচেয়ে কাছের মান শূন্য দশমিক আট, আর প্রচলিত গাইডগুলোও এটিকেই উত্তর ধরে।
আটাত্তর হলো নাইট্রোজেনের ভাগ, এটিই বড় ফাঁদ। শূন্য দশমিক চার এক বা শূন্য দশমিক তিন আর্গনের প্রকৃত মান থেকে অনেক দূরে।
মনে রাখুন: বায়ুর ক্রম: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড।
২১২. মানুষের রক্তে লোহিত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কহৃদযন্ত্রে
- খবৃক্কে
- গফুসফুসে
- ঘপ্লীহাতে
সঠিক উত্তর: ঘ. প্লীহাতে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে লোহিত রক্তকণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে। প্রচলিত উত্তর প্লীহা, যাকে দেহের রক্তভাণ্ডার বলা হয়।
লোহিত কণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায় এবং প্রায় একশো বিশ দিন বাঁচে। প্লীহা রক্ত ছেঁকে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত কণিকা ভেঙে ফেলে, তাই একে লোহিত কণিকার কবরস্থানও বলা হয়; পাশাপাশি এখানে কিছু রক্ত মজুত থাকে।
প্লীহা পেটের ওপরের বাঁ দিকে থাকে এবং লসিকাতন্ত্রেরও অংশ, রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করে, বৃক্ক রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে, আর ফুসফুসে গ্যাসের আদান-প্রদান হয়। এদের কোনোটিই লোহিত কণিকার ভাণ্ডার নয়।
মনে রাখুন: তৈরি অস্থিমজ্জায়, মজুত ও বিনাশ প্লীহায়।
২১৩. কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কট্রান্সফরমার
- খডায়নামো
- গবৈদ্যুতিক মটর
- ঘহুইল
সঠিক উত্তর: খ. ডায়নামো
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন যন্ত্র যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। উত্তর ডায়নামো বা বিদ্যুৎ জেনারেটর।
ডায়নামো চলে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের নীতিতে, যা ১৮৩১ সালে মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন। চুম্বকক্ষেত্রের মধ্যে তারের কুণ্ডলী ঘোরালে কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়; ঘোরানোর জন্য যে যান্ত্রিক শক্তি লাগে, সেটাই বিদ্যুতে রূপ নেয়।
সাইকেলের চাকার সঙ্গে লাগানো ডায়নামো দিয়ে বাতি জ্বালানো এর পরিচিত উদাহরণ। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রেও টারবাইন দিয়ে জেনারেটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
ফাঁদ হলো বৈদ্যুতিক মোটর: এর কাঠামো প্রায় একই, কিন্তু কাজ ঠিক উল্টো, বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর। ট্রান্সফরমার শুধু পরিবর্তী প্রবাহের ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়।
মনে রাখুন: ডায়নামো দেয় বিদ্যুৎ, মোটর নেয় বিদ্যুৎ।
২১৪. মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অঙ্গ? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কস্নায়ুতন্ত্রের
- খরেচনতন্ত্রের
- গপরিপাকতন্ত্রের
- ঘশ্বাসতন্ত্রের
সঠিক উত্তর: ক. স্নায়ুতন্ত্রের
প্রশ্নটা মস্তিষ্ক কোন অঙ্গতন্ত্রের অংশ তা জানতে চেয়েছে। মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
স্নায়ুতন্ত্রের দুটি ভাগ: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, আর সারা দেহে ছড়ানো স্নায়ু নিয়ে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র। মস্তিষ্ক চিন্তা, স্মৃতি, অনুভূতি ও দেহের সব কাজের সমন্বয় করে।
মস্তিষ্ক করোটির ভেতরে সুরক্ষিত থাকে; এর প্রধান অংশ গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মস্তিষ্ককাণ্ড।
রেচনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ বৃক্ক, পরিপাকতন্ত্রের পাকস্থলী ও অন্ত্র, আর শ্বাসতন্ত্রের ফুসফুস। শ্বাস নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র মস্তিষ্কে থাকলেও মস্তিষ্ক নিজে শ্বাসতন্ত্রের অঙ্গ নয়।
মনে রাখুন: মস্তিষ্ক আর সুষুম্নাকাণ্ড মিলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র।
২১৫. ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কজন্ডিস
- খএইডস
- গনিউমোনিয়া
- ঘচোখ ওঠা
সঠিক উত্তর: গ. নিউমোনিয়া
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন রোগটি ভাইরাসজনিত নয়। উত্তর নিউমোনিয়া, কারণ এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি।
এইডস হয় এইচআইভি ভাইরাসে। জন্ডিস আসলে একটি লক্ষণ, ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া; এর একটি প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ভাইরাস, তাই একে ভাইরাসজনিত রোগের তালিকায় রাখা হয়। চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিসও অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসে হয়।
মনে রাখবেন, নিউমোনিয়া ভাইরাসেও হতে পারে, আর চোখ ওঠা ব্যাকটেরিয়াতেও হতে পারে। তবে প্রচলিত শ্রেণিবিভাগে নিউমোনিয়াকে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ধরা হয়, তাই চারটির মধ্যে এটিই উত্তর।
ফাঁদ হলো জন্ডিস: অনেকে একে যকৃতের সাধারণ সমস্যা ভেবে বেছে নেন, অথচ এর একটি প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ভাইরাস।
মনে রাখুন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, কলেরা: ব্যাকটেরিয়ার চার পরিচিত রোগ।
২১৬. প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বংশসম্মন্ধীয় বিদ্যাকে বলে - - (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবায়োলজী
- খজুওলজী
- গজেনেটিক
- ঘইভোলিউশন
সঠিক উত্তর: গ. জেনেটিক
প্রশ্নটা জীববিজ্ঞানের একটি শাখার নাম জানতে চেয়েছে। প্রচলিত গাইড-উত্তর জেনেটিক্স বা বংশগতিবিদ্যা, যা জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় এবং কেন প্রকরণ দেখা দেয় তা নিয়ে আলোচনা করে।
জেনেটিক্স শব্দের মূলে আছে গ্রিক জেনেসিস, যার অর্থ উৎপত্তি। গ্রেগর মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়; তিনি মটরশুঁটি নিয়ে পরীক্ষা করে বংশগতির সূত্র দেন।
তবে প্রশ্নের উৎপত্তি শব্দটি বিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত করে, কারণ প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিবর্তনবিদ্যার বিষয়। তবু প্রশ্নের মূল ঝোঁক বংশ বা বংশগতির দিকে, আর একই প্রশ্ন একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় এসেছে; সব জায়গায় প্রচলিত উত্তর জেনেটিক।
বায়োলজি হলো পুরো জীববিজ্ঞান, আর জুওলজি হলো প্রাণিবিদ্যা; দুটোই খুব বিস্তৃত, নির্দিষ্টভাবে বংশ নিয়ে নয়।
মনে রাখুন: বংশ বা উত্তরাধিকার দেখলে জেনেটিক্স, প্রজাতির ক্রমবিকাশ দেখলে বিবর্তন।
২১৭. কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কডিজেল
- খপেট্রোল
- গঅকটেন
- ঘসিএনজি
সঠিক উত্তর: ক. ডিজেল
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জ্বালানি পোড়ালে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড আসে। জ্বালানিতে সালফার থাকলে পোড়ানোর সময় তা অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
খনিজ তেলের ভারী অংশ ডিজেলে সালফারের পরিমাণ পেট্রোল বা অকটেনের তুলনায় সাধারণত বেশি থাকে। তাই প্রচলিত উত্তর ডিজেল; ডিজেলচালিত বাস-ট্রাকের ধোঁয়া শহরের বায়ুদূষণের বড় উৎস।
বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক এসিড তৈরি করে, যা এসিড বৃষ্টির অন্যতম কারণ।
সিএনজি মূলত মিথেন, আর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে সালফার প্রায় নেই, তাই এটি সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বিকল্প। পেট্রোল ও অকটেনেও সামান্য সালফার থাকতে পারে, তবে ডিজেলের তুলনায় কম।
মনে রাখুন: সালফার ডাই-অক্সাইড ও এসিড বৃষ্টি দেখলে ডিজেল বা কয়লার কথা ভাবুন।
২১৮. মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কশব্দশক্তি
- খতড়িৎশক্তি
- গআলোকশক্তি
- ঘচৌম্বকশক্তি
সঠিক উত্তর: গ. আলোকশক্তি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মোবাইল টেলিফোনের লাইনে কোন শক্তি প্রবাহিত হয়। এখানে দেওয়া উত্তর আলোকশক্তি, তবে উত্তরটি নিয়ে গাইডগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে।
আলোকশক্তির পক্ষে যুক্তি হলো, মোবাইল ফোন থেকে টাওয়ার পর্যন্ত সংকেত যায় বেতার তরঙ্গে, যা আলোর মতোই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। আর টাওয়ার ও এক্সচেঞ্জের মধ্যকার মূল লাইনে অনেক ক্ষেত্রে সংকেত অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে আলো হিসেবে চলে।
অন্যদিকে প্রথাগত তারের টেলিফোন লাইনে কথা যায় বিদ্যুৎ সংকেত হিসেবে, তাই অনেক গাইড তড়িৎশক্তিকে উত্তর দেয়।
শব্দশক্তি ভুল, কারণ মাইক্রোফোন শব্দকে আগেই বিদ্যুৎ সংকেতে বদলে দেয়; লাইনে শব্দ নিজে চলে না। চৌম্বকশক্তিও আলাদাভাবে প্রবাহিত হয় না।
মনে রাখুন: এ প্রশ্নে গাইডভেদে উত্তর আলাদা; ফাইবার অপটিক্স ধরলে আলো, সাধারণ তার ধরলে বিদ্যুৎ।
২১৯. জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআলফা রশ্মি
- খবিটা রশ্মি
- গগামা রশ্মি
- ঘআলট্রাভায়োলেট রশ্মি
সঠিক উত্তর: গ. গামা রশ্মি
প্রশ্নটা জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর গামা রশ্মি, কারণ বিকল্পগুলোর মধ্যে এর শক্তি ও ভেদনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এটি শরীরের গভীরে ঢুকে কোষের ডিএনএ ভেঙে দিতে পারে, ফলে ক্যান্সার ও জিনগত ক্ষতি হতে পারে; থামাতে পুরু সিসা বা কংক্রিট লাগে।
আলফা কণা কাগজ বা ত্বকের বাইরের স্তরেই আটকে যায়, আর বিটা কণা পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের পাতে থামে। অতিবেগুনি রশ্মি ত্বক পোড়ায় ও ত্বকের ক্যান্সার ঘটাতে পারে, কিন্তু এর শক্তি গামার চেয়ে অনেক কম এবং গভীরে যায় না।
ফাঁদ হলো অতিবেগুনি রশ্মি: রোদের ক্ষতির কারণে এটি বেশি পরিচিত। আলফা কণা খাবার বা শ্বাসের সঙ্গে দেহে ঢুকলে খুব ক্ষতিকর, তবে বাইরে থেকে সহজেই আটকে যায়।
মনে রাখুন: ভেদনক্ষমতা: আলফা সবচেয়ে কম, গামা সবচেয়ে বেশি।
২২০. কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসাদা
- খকালো
- গহলুদ
- ঘলাল
সঠিক উত্তর: ঘ. লাল
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন রং সবচেয়ে দূর থেকে দেখা যায়। উত্তর লাল, কারণ দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
বাতাসের অণু ও ধূলিকণায় আলো বিক্ষিপ্ত হয়, আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, বিক্ষেপণ তত বেশি। লাল আলো সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয় বলে কুয়াশা বা ধোঁয়ার ভেতর দিয়েও অনেক দূর যেতে পারে।
এজন্যই বিপদসংকেত, ট্রাফিক সিগন্যালের থামার বাতি ও উঁচু টাওয়ারের সতর্কবাতি লাল হয়।
সাদা কোনো একক রং নয়, সব রঙের মিশ্রণ; কালো বস্তু প্রায় সব আলো শোষণ করে। হলুদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য লালের চেয়ে কম, তাই এটি লালের চেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়।
মনে রাখুন: বিপদসংকেত কেন লাল, সেই কারণটাই এখানে উত্তর।