সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৯
১৬১. The instrument used to measure electric current is - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কelectrometer
- খammeter
- গgalvanometer
- ঘspectrometer
সঠিক উত্তর: খ. ammeter
বৈদ্যুতিক প্রবাহ বা কারেন্ট মাপার যন্ত্র অ্যামিটার। কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার, তাই নামও অ্যাম্পিয়ার মিটার থেকে অ্যামিটার।
অ্যামিটার বর্তনীতে শ্রেণিতে বা সিরিজে যুক্ত করতে হয়, যাতে পুরো প্রবাহ এর মধ্য দিয়ে যায়। এর রোধ খুব কম রাখা হয়, যেন মাপতে গিয়ে প্রবাহ বদলে না যায়।
গ্যালভানোমিটার দিয়ে খুব ক্ষুদ্র প্রবাহের উপস্থিতি ও দিক শনাক্ত করা হয়। গ্যালভানোমিটারের সাথে সমান্তরালে কম রোধের শান্ট যোগ করেই অ্যামিটার বানানো হয়, তাই এটাই বড় ফাঁদ।
বিভব পার্থক্য মাপে ভোল্টমিটার, যা সমান্তরালে যুক্ত হয়। ইলেকট্রোমিটার মাপে স্থির আধান বা বিভব, আর স্পেকট্রোমিটার আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে।
মনে রাখুন: যন্ত্রের নামে এককের নাম খুঁজুন: অ্যাম্পিয়ার → অ্যামিটার, ভোল্ট → ভোল্টমিটার।
১৬২. The ozone layer restricts? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কvisible light
- খinfrared radiation
- গx-ray and gamma rays
- ঘultraviolet radiation
সঠিক উত্তর: ঘ. ultraviolet radiation
ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকে। এর কাজ হলো সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেওয়া।
ওজোন অণুতে তিনটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। অতিবেগুনি রশ্মি এই অণু ভেঙে দেয়, আর ভাঙা-গড়ার এই প্রক্রিয়ায় রশ্মির শক্তি শোষিত হয়। বিশেষ করে UV-C পুরোটা আর UV-B এর বেশিরভাগ আটকে যায়।
অতিবেগুনি রশ্মি বেশি এলে ত্বকের ক্যান্সার, চোখে ছানি আর ফসলের ক্ষতি বাড়ে। এ জন্যই সিএফসি গ্যাস ওজোন স্তর পাতলা করায় মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের মাধ্যমে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এক্স-রে আর গামা রশ্মি বায়ুমণ্ডলের সাধারণ গ্যাসগুলোই, মূলত উপরের দিকে, শোষণ করে নেয়; এটা ওজোন স্তরের বৈশিষ্ট্যমূলক কাজ নয়। আর দৃশ্যমান আলো বা অবলোহিত রশ্মি ওজোন স্তর তেমন আটকায় না।
মনে রাখুন: ওজোন = UV-র ছাতা।
১৬৩. The radiant energy of the sun results from - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কNuclear fission
- খNuclear fusion
- গCosmic radiation
- ঘCombustion
সঠিক উত্তর: খ. Nuclear fusion
সূর্যের আলো ও তাপের উৎস নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন বিক্রিয়া। সূর্যের কেন্দ্রে প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ আর বিপুল চাপে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে।
এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হিলিয়ামের ভর মূল হাইড্রোজেনগুলোর মোট ভরের চেয়ে সামান্য কম। হারানো ভরটুকু আইনস্টাইনের E সমান m c বর্গ সূত্র অনুযায়ী বিপুল শক্তিতে পরিণত হয়।
নিউক্লীয় ফিশন বা বিভাজন হলো উল্টো প্রক্রিয়া: ভারী নিউক্লিয়াস যেমন ইউরেনিয়াম ভেঙে শক্তি দেয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেমন রূপপুর, ফিশনে চলে; এটাই প্রধান ফাঁদ।
দহন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া, যার জন্য অক্সিজেন লাগে; এত বিপুল শক্তি দহন থেকে কোটি বছর ধরে আসা সম্ভব নয়। মহাজাগতিক রশ্মি সূর্যের শক্তির উৎস নয়।
মনে রাখুন: সূর্য ও হাইড্রোজেন বোমা = ফিউশন; পারমাণবিক চুল্লি ও পরমাণু বোমা = ফিশন।
১৬৪. For seeing objects at the surface of water from a submarine underwater the instrument used is? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কKaleidoscope
- খSpectroscope
- গTelescope
- ঘPeriscope
সঠিক উত্তর: ঘ. Periscope
ডুবোজাহাজ পানির নিচে থেকেও পানির উপরের জিনিস দেখতে ব্যবহার করে পেরিস্কোপ। এটি একটি লম্বা নল, যার দুই মাথায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে দুটি সমান্তরাল আয়না বা প্রিজম বসানো থাকে।
উপরের আয়নায় আলো পড়ে নিচের দিকে প্রতিফলিত হয়, নিচের আয়না আবার তা চোখের দিকে পাঠায়। এভাবে আলোর পথ দুবার ৯০ ডিগ্রি বাঁক নেয়, ফলে নিচে থেকেও উপরের দৃশ্য দেখা যায়। এর মূলনীতি আলোর প্রতিফলন।
ক্যালিডোস্কোপে কোণ করে রাখা আয়নায় রঙিন কাচের টুকরোর বহু প্রতিবিম্ব তৈরি হয়, এটি খেলনা। স্পেকট্রোস্কোপ আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে, আর টেলিস্কোপ দিয়ে দূরের বস্তু বড় করে দেখা হয়।
টেলিস্কোপ দেখার যন্ত্র বলে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করে, কিন্তু এটি আলোর পথ উপরের দিকে বাঁকাতে পারে না।
মনে রাখুন: পেরি মানে চারপাশ, স্কোপ মানে দেখা: আড়াল থেকে চারপাশ দেখা।
১৬৫. Name the instrument used to measure relative humidity - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কHygrometer
- খHydrometer
- গBarometer
- ঘNone of these
সঠিক উত্তর: ক. Hygrometer
প্রশ্নটি আপেক্ষিক আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম জানতে চাইছে। বাতাসে কতটা জলীয় বাষ্প আছে, তা সেই তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ যতটা থাকতে পারত তার শতকরা কত, এটাই আপেক্ষিক আর্দ্রতা। এটি মাপা হয় hygrometer দিয়ে।
হাইগ্রোমিটারের একটি সাধারণ রূপ হলো শুষ্ক ও আর্দ্র বাল্ব থার্মোমিটার। ভেজা বাল্ব থেকে পানি বাষ্প হয়ে তাপ কমায়; দুই থার্মোমিটারের পাঠের পার্থক্য দেখে আর্দ্রতা বের করা হয়।
Hydrometer নামটা প্রায় একই শোনালেও এর কাজ তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপা, যেমন দুধে পানি মেশানো আছে কি না দেখা। Barometer মাপে বায়ুর চাপ।
ফাঁদ হলো hygro আর hydro গুলিয়ে ফেলা। Hygro মানে আর্দ্রতা, hydro মানে পানি বা তরল।
মনে রাখুন: Hygro = আর্দ্রতা, Hydro = পানি/তরল, Baro = চাপ।
১৬৬. The branch of science that studies cells is called. (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কentomology
- খcytology
- গhomoplasty
- ঘhormonology
সঠিক উত্তর: খ. cytology
প্রশ্নটি জীববিজ্ঞানের শাখার নাম জানতে চাইছে। কোষ নিয়ে গবেষণার শাখাকে বলে cytology, বাংলায় কোষবিদ্যা। গ্রিক শব্দ kytos মানে আধার বা কোষ, আর logy মানে বিদ্যা।
কোষবিদ্যায় কোষের গঠন, কোষের অঙ্গাণু, কোষ বিভাজন আর কোষের কাজ পড়া হয়। আজকাল একে cell biology নামেও ডাকা হয়।
Entomology হলো কীটপতঙ্গ নিয়ে বিদ্যা, গ্রিক entomon মানে পোকা। Homoplasty হলো একই প্রজাতির এক দেহ থেকে অন্য দেহে টিস্যু প্রতিস্থাপন। Hormonology হরমোন সংক্রান্ত, যার প্রচলিত নাম endocrinology।
শাখার নাম মনে রাখতে মূল শব্দটা চিনুন: cyto কোষ, entomo পোকা, histo কলা বা টিস্যু।
মনে রাখুন: মূল শব্দ চিনুন: cyto = কোষ; histology = টিস্যু, ornithology = পাখি।
১৬৭. The acid name of Vitamin B is - (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: এক্সিকিউটিভ অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কnicotinamide
- খriboflavin
- গthiamine
- ঘascorbic acid
সঠিক উত্তর: গ. thiamine
প্রশ্নটি ভিটামিন বি এর রাসায়নিক নাম জানতে চাইছে। এখানে acid name বলতে রাসায়নিক নাম বোঝানো হয়েছে। নম্বর ছাড়া শুধু ভিটামিন বি বললে বোঝায় ভিটামিন বি ওয়ান, যার রাসায়নিক নাম thiamine বা থায়ামিন।
ইতিহাসেও তাই: বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধকারী যে উপাদানটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তাকেই প্রথমে ভিটামিন বি বলা হতো। পরে দেখা গেল এটি আসলে কয়েকটি ভিটামিনের একটি দল; তখন প্রথমটির নাম হয় বি ওয়ান বা থায়ামিন।
Riboflavin হলো ভিটামিন বি টু, nicotinamide হলো ভিটামিন বি থ্রি বা নিয়াসিনের একটি রূপ, আর ascorbic acid হলো ভিটামিন সি। অপশনের মধ্যে একমাত্র অ্যাসিড ascorbic acid, কিন্তু সেটি ভিটামিন বি নয়।
ভিটামিন বি টু যেহেতু বি-এর আরেক সদস্য, তাই riboflavin দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন। প্রশ্নে নম্বর নেই বলে প্রথম ও মূল ভিটামিন বি, অর্থাৎ থায়ামিনই সবচেয়ে উপযুক্ত।
মনে রাখুন: B1 থায়ামিন, B2 রাইবোফ্লাভিন, B3 নিয়াসিন, C অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
১৬৮. AC কে DC করার যন্ত্র- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করেকটিফায়ার
- খঅ্যামপ্লিফায়ার
- গট্রানজিস্টর
- ঘডায়োড
সঠিক উত্তর: ক. রেকটিফায়ার
প্রশ্নটি পর্যায়বৃত্ত প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তরের যন্ত্রের নাম জানতে চেয়েছে। সেই যন্ত্র রেকটিফায়ার, বাংলায় একমুখীকারক।
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা এসি-তে প্রবাহের দিক বারবার উল্টে যায়; বাংলাদেশের বিদ্যুৎ লাইনে এটি সেকেন্ডে পঞ্চাশ বার পূর্ণ চক্র ঘোরে। কিন্তু মোবাইল, ল্যাপটপ বা ব্যাটারি চার্জ করতে লাগে একমুখী প্রবাহ বা ডিসি। রেকটিফায়ার এই কাজটা করে।
রেকটিফায়ারের ভেতরে মূল উপাদান হলো ডায়োড, যা প্রবাহকে শুধু এক দিকে যেতে দেয়। চারটি ডায়োড সাজিয়ে ব্রিজ রেকটিফায়ার বানানো হয়। উল্টো কাজ, অর্থাৎ একমুখী থেকে পর্যায়বৃত্ত করে ইনভার্টার, যেমন আইপিএস।
ডায়োড বিকল্পটি এখানে ফাঁদ। ডায়োড হলো একটি উপাদান, আর তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ রূপান্তর যন্ত্রের নাম রেকটিফায়ার।
মনে রাখুন: এসি থেকে ডিসি রেকটিফায়ার, ডিসি থেকে এসি ইনভার্টার।
১৬৯. বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কলাউড স্পিকার
- খঅ্যামপ্লিফায়ার
- গজেনারেটর
- ঘমাল্টিমিটার
সঠিক উত্তর: ক. লাউড স্পিকার
প্রশ্নটি শক্তির রূপান্তর নিয়ে। বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে লাউডস্পিকার।
লাউডস্পিকারের ভেতরে একটি স্থায়ী চুম্বকের ক্ষেত্রে একটি তারের কুণ্ডলী থাকে, যা একটি পাতলা পর্দা বা কোণের সঙ্গে যুক্ত। কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ সংকেত গেলে চুম্বক বল তাকে সামনে-পেছনে কাঁপায়। পর্দাও কাঁপে, বাতাসে চাপের তরঙ্গ তৈরি হয়, আর সেটাই আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।
মাইক্রোফোন ঠিক উল্টো কাজ করে: শব্দের কম্পনকে বিদ্যুৎ সংকেতে বদলায়। জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে আর মোটর বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
অ্যামপ্লিফায়ারকে অনেকে বেছে নেন, কারণ শব্দযন্ত্রে এটা থাকে। কিন্তু অ্যামপ্লিফায়ার শুধু বিদ্যুৎ সংকেতকে বড় করে, শব্দ তৈরি করে লাউডস্পিকার।
মনে রাখুন: মাইক্রোফোন শোনে, লাউডস্পিকার শোনায়।
১৭০. বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমাইকোমিটার
- খহাইগ্রোমিটার
- গব্যারোমিটার
- ঘগ্রাভিমিটার
সঠিক উত্তর: খ. হাইগ্রোমিটার
প্রশ্নটি পরিমাপক যন্ত্রের নাম নিয়ে। বাতাসের আর্দ্রতা, অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ মাপা হয় হাইগ্রোমিটার দিয়ে।
নামের শব্দমূল থেকেই কাজ বোঝা যায়। গ্রিক হাইগ্রোস মানে ভেজা বা আর্দ্র, আর মিটার মানে মাপক। একইভাবে ব্যারো মানে ভার বা চাপ, তাই ব্যারোমিটার বায়ুচাপ মাপে; গ্রাভি এসেছে অভিকর্ষ থেকে, তাই গ্রাভিমিটার অভিকর্ষ মাপে।
আবহাওয়া অফিসে আর্দ্রতা মাপার একটি প্রচলিত হাইগ্রোমিটার হলো ভেজা ও শুকনো বাল্বের থার্মোমিটার। ভেজা বাল্ব থেকে পানি বাষ্প হয়ে তাপ কমায়; বাতাস যত শুকনো, দুই থার্মোমিটারের পাঠে পার্থক্য তত বেশি।
মূল প্রশ্নপত্রেই বিকল্পটি মাইকোমিটার ছাপা হয়েছিল; এ নামে কোনো যন্ত্র নেই, সম্ভবত মাইক্রোমিটার বোঝানো হয়েছে, যা দিয়ে তারের ব্যাস বা পাতের পুরুত্বের মতো খুব ছোট দৈর্ঘ্য মাপা হয়।
মনে রাখুন: হাইগ্রো আর্দ্রতা, ব্যারো চাপ, থার্মো তাপ।
১৭১. একটি বাল্বে ”60 W- 220 V” লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম ( Ohm) ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক16.36
- খ160
- গ280
- ঘ806.67
সঠিক উত্তর: ঘ. 806.67
প্রশ্নটি বাল্বের গায়ের লেখা থেকে রোধ বের করতে বলেছে। ষাট ওয়াট দুইশো বিশ ভোল্ট মানে, দুইশো বিশ ভোল্টে চালালে বাল্বটি ষাট ওয়াট ক্ষমতা খরচ করে।
ক্ষমতা, ভোল্টেজ আর রোধের সম্পর্ক হলো: ক্ষমতা সমান ভোল্টেজের বর্গ ভাগ রোধ। তাই রোধ সমান ভোল্টেজের বর্গ ভাগ ক্ষমতা।
দুইশো বিশের বর্গ ৪৮৪০০। একে ষাট দিয়ে ভাগ করলে পাই প্রায় ৮০৬ দশমিক ৬৭ ওহম। এই সূত্রটা আসে দুটো সূত্র মিলিয়ে: ক্ষমতা সমান ভোল্টেজ গুণ প্রবাহ, আর ওহমের সূত্রে প্রবাহ সমান ভোল্টেজ ভাগ রোধ।
ভোল্টেজ আর ক্ষমতা জায়গা বদল করে ফেললে, মানে ষাটের বর্গকে দুইশো বিশ দিয়ে ভাগ করলে আসে ১৬ দশমিক ৩৬; এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: বাল্বের রোধ = (ভোল্ট)² ÷ ওয়াট। ২২০ ভোল্টের বাল্বে ৪৮৪০০ কে ওয়াট দিয়ে ভাগ করলেই হয়।
১৭২. নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎস- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কতেল
- খগ্যাস
- গকয়লা
- ঘবায়োগ্যাস
সঠিক উত্তর: ঘ. বায়োগ্যাস
প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি চিনতে বলেছে। উত্তর বায়োগ্যাস।
বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট বা পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে। বায়ুরোধী ডাইজেস্টারের ভেতরে অক্সিজেন ছাড়া ব্যাকটেরিয়া এসব ভেঙে মিথেন-প্রধান গ্যাস তৈরি করে, সঙ্গে থাকে কার্বন ডাই-অক্সাইড। যতদিন গবাদিপশু ও জৈব বর্জ্য আছে, ততদিন নতুন করে বায়োগ্যাস বানানো যায়; তাই এটি নবায়নযোগ্য।
ডাইজেস্টার থেকে যে তলানি বের হয়, তা ভালো জৈব সার। তাই গ্রামে বায়োগ্যাস একসঙ্গে রান্নার জ্বালানি আর জমির সার দুটোই দেয়।
তেল, গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, লক্ষ লক্ষ বছরে তৈরি, তাই অনবায়নযোগ্য। প্রাকৃতিক গ্যাস আর বায়োগ্যাস দুটোরই মূল উপাদান মিথেন, তবু উৎসের কারণে একটি অনবায়নযোগ্য, অন্যটি নবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন: জ্বালানির নামের আগে ‘বায়ো’ থাকলে বুঝবেন উৎস জীবন্ত, তাই নবায়নযোগ্য।
১৭৩. কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O- এর অনুপাত কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক১: ১ : ২
- খ১ : ২ : ১
- গ১ : ৩ : ২
- ঘ১ : ৩ : ১
সঠিক উত্তর: খ. ১ : ২ : ১
প্রশ্নটি কার্বোহাইড্রেটের অণুতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর অনুপাত জানতে চেয়েছে। উত্তর এক অনুপাত দুই অনুপাত এক।
কার্বোহাইড্রেট নামটাই সূত্র বলে দেয়: কার্বনের হাইড্রেট, অর্থাৎ প্রতিটি কার্বনের সঙ্গে যেন এক অণু পানি। পানিতে হাইড্রোজেন দুটি, অক্সিজেন একটি; তাই প্রতি একটি কার্বনে দুটি হাইড্রোজেন আর একটি অক্সিজেন।
উদাহরণ গ্লুকোজ: এতে ছয়টি কার্বন, বারোটি হাইড্রোজেন আর ছয়টি অক্সিজেন। ছয় দিয়ে ভাগ করলে অনুপাত দাঁড়ায় এক, দুই, এক।
এক, এক, দুই বিকল্পে সংখ্যাগুলো ঠিক আছে কিন্তু ক্রম উল্টো; অনুপাতের প্রশ্নে ক্রমটা খেয়াল না করাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের অনুপাত সবসময় পানির মতো ২ : ১; কার্বন অক্সিজেনের সমান।
১৭৪. সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কCH2COONa
- খ(CH3COO)2Ca
- গCH3COONa
- ঘCHCOONa
সঠিক উত্তর: গ. CH3COONa
প্রশ্নটি সোডিয়াম অ্যাসিটেটের সংকেত জানতে চেয়েছে। সঠিক সংকেত, পড়লে দাঁড়ায় সি এইচ থ্রি সি ও ও এন এ।
সোডিয়াম অ্যাসিটেট হলো অ্যাসিটিক এসিড বা ভিনেগারের এসিডের সোডিয়াম লবণ। অ্যাসিটিক এসিডে একটি মিথাইল গ্রুপ, যাতে এক কার্বনে তিনটি হাইড্রোজেন, আর একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। কার্বক্সিল গ্রুপের প্রতিস্থাপনযোগ্য হাইড্রোজেনটির জায়গায় সোডিয়াম বসলেই সোডিয়াম অ্যাসিটেট।
যেমন অ্যাসিটিক এসিড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে তৈরি হয় সোডিয়াম অ্যাসিটেট ও পানি। এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া।
সোডিয়াম একযোজী, তাই একটি অ্যাসিটেট আয়নের সঙ্গে একটি সোডিয়াম যুক্ত হয়। দুটি অ্যাসিটেটের সঙ্গে একটি ক্যালসিয়াম থাকা বিকল্পটি আসলে ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট; ক্যালসিয়াম দ্বিযোজী বলে সেখানে দুটি অ্যাসিটেট লাগে।
মনে রাখুন: অ্যাসিটেট আয়ন = CH₃COO⁻; যে ধাতু বসবে তার যোজনী অনুযায়ী অ্যাসিটেটের সংখ্যা।
১৭৫. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কআইসোটোন
- খআইসোটোপ
- গআইসোবার
- ঘআইসোমার
সঠিক উত্তর: খ. আইসোটোপ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসার গামা রশ্মি কোথা থেকে আসে। উত্তর তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, বিশেষ করে কোবাল্ট-ষাট।
আইসোটোপ হলো একই মৌলের এমন পরমাণু, যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, ফলে ভরসংখ্যাও আলাদা। কোবাল্টের স্থিতিশীল রূপ কোবাল্ট-ঊনষাট; নিউক্লিয়াসে আরেকটি নিউট্রন বেশি থাকা কোবাল্ট-ষাট অস্থিতিশীল, ভেঙে যাওয়ার সময় শক্তিশালী গামা রশ্মি ছাড়ে।
এই গামা রশ্মি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ ভেঙে দেয়, ফলে কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না; একে বলে রেডিওথেরাপি। কোবাল্ট-ষাটের অর্ধায়ু প্রায় সোয়া পাঁচ বছর। একইভাবে থাইরয়েড রোগে আয়োডিন-একশো একত্রিশ আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
আইসোটোন, আইসোবার, আইসোমার নামগুলো শুনতে কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন: আইসোটোপে প্রোটন সমান, আইসোবারে ভরসংখ্যা সমান, আইসোটোনে নিউট্রন সমান।
মনে রাখুন: চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয়তার প্রশ্ন এলে উত্তর প্রায় সবসময় আইসোটোপ: ক্যান্সারে কোবাল্ট-৬০, থাইরয়েডে আয়োডিন-১৩১।
১৭৬. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঅক্সিজেন
- খকার্বন ডাই-অক্সাইড
- গনাইট্রোজেন
- ঘজলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর: খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
প্রশ্নটি সালোকসংশ্লেষণ নিয়ে। খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে নেয় কার্বন ডাই-অক্সাইড।
সালোকসংশ্লেষণে পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে, আর মূল দিয়ে আসে মাটির পানি। ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে সেই শক্তিতে এ দুটি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়।
হিসাবটি এমন: ছয় অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড আর ছয় অণু পানি মিলে তৈরি হয় এক অণু গ্লুকোজ আর ছয় অণু অক্সিজেন। গ্লুকোজের কার্বন পুরোটাই আসে বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে।
অক্সিজেন বিকল্পটি ফাঁদ। উদ্ভিদ শ্বসনের জন্য অক্সিজেন নেয় ঠিকই, কিন্তু খাদ্য তৈরির সময় অক্সিজেন তৈরি করে ছেড়ে দেয়। বাতাসের নাইট্রোজেন উদ্ভিদ সরাসরি নিতে পারে না।
মনে রাখুন: খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ নেয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, দেয় অক্সিজেন; শ্বসনে ঠিক উল্টো।
১৭৭. ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক17
- খ18
- গ35
- ঘ70
সঠিক উত্তর: খ. 18
প্রশ্নটি ক্লোরিন-পঁয়ত্রিশ পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা জানতে চেয়েছে। উত্তর আঠারো।
মৌলের প্রতীকের ওপরে লেখা থাকে ভরসংখ্যা, নিচে পারমাণবিক সংখ্যা। ভরসংখ্যা হলো নিউক্লিয়াসের প্রোটন আর নিউট্রনের মোট সংখ্যা, আর পারমাণবিক সংখ্যা হলো শুধু প্রোটনের সংখ্যা।
তাই নিউট্রন সংখ্যা সমান ভরসংখ্যা বিয়োগ পারমাণবিক সংখ্যা। এখানে পঁয়ত্রিশ বিয়োগ সতেরো, অর্থাৎ আঠারো। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রনও প্রোটনের সমান, সতেরোটি, যা দুই, আট, সাত করে কক্ষপথে সাজানো।
সতেরো বেছে নিলে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা বলা হয়, আর পঁয়ত্রিশ বেছে নিলে ভরসংখ্যা। প্রশ্ন কোন কণার সংখ্যা চেয়েছে, সেটা খেয়াল রাখুন।
মনে রাখুন: নিউট্রন = উপরের সংখ্যা − নিচের সংখ্যা।
১৭৮. কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কঘনীভবন
- খবাষ্পীভবন
- গগলনাংক
- ঘস্ফুটনাংক
সঠিক উত্তর: গ. গলনাংক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা কোন ধর্ম দিয়ে যাচাই করা হয়। উত্তর গলনাঙ্ক।
প্রতিটি বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ, তীক্ষ্ণভাবে গলে যায়। কিন্তু তাতে অপদ্রব্য মিশে থাকলে কেলাসের নিয়মিত সাজানো গঠন বিঘ্নিত হয়, ফলে পদার্থটি তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং একটি তাপমাত্রার পরিসর জুড়ে ধীরে গলে।
তাই পরীক্ষাগারে নমুনার গলনাঙ্ক মেপে বইয়ে দেওয়া মানের সঙ্গে মেলানো হয়। মিললে আর তীক্ষ্ণ হলে পদার্থ বিশুদ্ধ, কম বা ছড়ানো হলে অবিশুদ্ধ।
স্ফুটনাঙ্ক দিয়েও বিশুদ্ধতা যাচাই হয়, তবে সেটা তরলের ক্ষেত্রে; প্রশ্নে কঠিন পদার্থ বলা হয়েছে বলে স্ফুটনাঙ্ক ফাঁদ। ঘনীভবন ও বাষ্পীভবন অবস্থার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নয়।
মনে রাখুন: কঠিনের বিশুদ্ধতা গলনাঙ্কে, তরলের বিশুদ্ধতা স্ফুটনাঙ্কে।
১৭৯. অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কজারণ
- খবিজারণ
- গপ্রশমন
- ঘপানি যোজন
সঠিক উত্তর: ক. জারণ
প্রশ্নটি তড়িৎদ্বারে কোন বিক্রিয়া ঘটে তা নিয়ে। অ্যানোডে ঘটে জারণ।
জারণ মানে ইলেকট্রন ত্যাগ, বিজারণ মানে ইলেকট্রন গ্রহণ। তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যানোড হলো ধনাত্মক তড়িৎদ্বার; ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন সেখানে গিয়ে নিজের বাড়তি ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, তাই অ্যানোডে জারণ হয়।
উদাহরণ: গলিত সোডিয়াম ক্লোরাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্লোরাইড আয়ন অ্যানোডে ইলেকট্রন ছেড়ে ক্লোরিন গ্যাস হয়, এটি জারণ। একই সময় ক্যাথোডে সোডিয়াম আয়ন ইলেকট্রন নিয়ে সোডিয়াম ধাতু হয়, এটি বিজারণ।
বিজারণ বিকল্পটি ক্যাথোডের বিক্রিয়া, অ্যানোডের নয়। প্রশমন ও পানি যোজন তড়িৎদ্বারের বিক্রিয়াই নয়।
মনে রাখুন: অ্যানোডে জারণ, ক্যাথোডে বিজারণ; ইংরেজিতে মনে রাখার ছড়া AN OX, RED CAT।
১৮০. কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কপুকুরে
- খখালে
- গনদীতে
- ঘসাগরে
সঠিক উত্তর: ঘ. সাগরে
প্রশ্নটি প্লবতা নিয়ে। সাঁতার কাটা সবচেয়ে সহজ সাগরে।
আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী, কোনো বস্তু তরলে ডুবলে তার ওপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে, যা বস্তুটি যতটুকু তরল সরায় তার ওজনের সমান। একে প্লবতা বলে। তরলের ঘনত্ব যত বেশি, একই আয়তনের তরলের ওজন তত বেশি, তাই প্লবতাও তত বেশি।
সাগরের পানিতে প্রচুর লবণ দ্রবীভূত থাকে, তাই এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১০২৫ কিলোগ্রাম, যেখানে মিঠা পানির ঘনত্ব প্রায় ১০০০ কিলোগ্রাম। বেশি প্লবতা শরীরকে ভাসিয়ে রাখে, ফলে সাঁতারে কম পরিশ্রম লাগে। মৃত সাগরের পানি এত লবণাক্ত যে মানুষ সেখানে না সাঁতরেই ভেসে থাকতে পারে।
পুকুর, খাল আর নদীর পানি তিনটিই মিঠা পানি, ঘনত্ব প্রায় সমান। নদীতে স্রোত থাকায় সাঁতার আরও কঠিন হতে পারে।
মনে রাখুন: যে পানিতে লবণ বেশি, সেখানে ভাসা সহজ।