সাধারণ বিজ্ঞান
১. যদি একটি গাড়ীর গতি দ্বিগুণ করা হয়, তবে গাড়ীটির গতিশক্তি পূর্বের গতিশক্তির কতগুণ হবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক০.৫
- খ২
- গ০.২৫
- ঘ৪
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪
প্রশ্নটি বেগ দ্বিগুণ করলে গতিশক্তি কত গুণ হয় তা জানতে চাইছে। উত্তর চার গুণ।
গতিশক্তি সমান অর্ধেক গুণ ভর গুণ বেগের বর্গ। অর্থাৎ ভর একই থাকলে গতিশক্তি বেগের বর্গের সমানুপাতিক।
বেগ দ্বিগুণ হলে বেগের বর্গ হয় দুই গুণ দুই, মানে চার গুণ; তাই গতিশক্তিও চার গুণ। একইভাবে বেগ তিন গুণ হলে গতিশক্তি নয় গুণ হতো। এ কারণেই দ্রুতগতির গাড়ির দুর্ঘটনা অনেক বেশি ভয়াবহ, আর থামাতে অনেক বেশি দূরত্ব লাগে।
ফাঁদ হলো দুই, কারণ অনেকে ভাবেন বেগ দ্বিগুণ হলে শক্তিও দ্বিগুণ। ভরবেগ দ্বিগুণ হয়, কিন্তু গতিশক্তি বর্গ অনুযায়ী বাড়ে।
মনে রাখুন: গতিশক্তি বেগের বর্গে বাড়ে: বেগ n গুণ হলে শক্তি n² গুণ।
২. একটি কঠিন ঘনক অর্ধেক পানির উপরে ও অর্ধেক পানির নিচে ভাসছে। আপনি যদি ঘনকটি পানির মধ্যে ২ সে.মি.গভীরে ঠেলে দেন এবং তারপর সেটিকে ছেড়ে দেন, তাহলে কি ঘটবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঘনকটি পানির ২ সে.মি. গভীরে থাকবে
- খঘনকটি সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাবে
- গঘনকটি আবার অর্ধেক ডুবে থাকা ও অর্ধেক ভেসে থাকা অবস্থায় ফিরে আসবে
- ঘঘনকটি প্রথমে যতটুকু ভেসে ছিল তার চেয়ে উপরে উঠবে
সঠিক উত্তর: গ. ঘনকটি আবার অর্ধেক ডুবে থাকা ও অর্ধেক ভেসে থাকা অবস্থায় ফিরে আসবে
প্রশ্নটি ভাসমান বস্তুর সাম্যাবস্থা ও প্লবতার নীতি যাচাই করছে। ঘনকটিকে কিছুটা ডুবিয়ে ছেড়ে দিলে তা কিছুক্ষণ ওঠানামা করে আবার অর্ধেক ডোবা অবস্থায় ফিরে আসবে।
ভাসার নীতি বলে, ভাসমান বস্তু ঠিক ততটুকু ডোবে যতটুকু ডুবলে অপসারিত পানির ওজন বস্তুর ওজনের সমান হয়। এই ঘনকের ক্ষেত্রে সেটা অর্ধেক ডোবা অবস্থা, অর্থাৎ ঘনকের ঘনত্ব পানির অর্ধেক।
আরও দুই সেন্টিমিটার ডোবালে বেশি পানি অপসারিত হয়, ফলে উপরের দিকে প্লবতা ওজনের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। ছেড়ে দিলে এই বাড়তি বল ঘনকটিকে উপরে ঠেলে দেয়। পানির বাধায় দোলন ধীরে থেমে যায় এবং ঘনক আগের সাম্যাবস্থায় স্থির হয়।
ফাঁদ হলো ঘনকটি যতটুকু উঠে ছিল তার চেয়ে উপরে থাকবে ভাবা। দোলনের সময় মুহূর্তের জন্য একটু উপরে উঠতে পারে, কিন্তু শেষে আবার অর্ধেক ডোবা অবস্থাতেই থামে।
মনে রাখুন: ভাসমান বস্তু বিচ্যুত হলে সবসময় নিজের সাম্যাবস্থায় ফেরে, যদি না ঘনত্ব বদলায়।
৩. একটি আয়না থেকে একটি বস্তু আয়নার পৃষ্ঠ থেকে পৃষ্ঠের লম্ব বরাবর সেকেন্ডে ১০ সে.মি. বেগে চলতে শুরু করল। ৪ সেকেন্ড পর বস্তুটি ও তার প্রতিবিম্বের মধ্যে দূরত্ব কত হবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক৪০ সে.মি.
- খ১৬০ সে.মি.
- গ৮০ সে.মি.
- ঘ০ সে.মি.
সঠিক উত্তর: গ. ৮০ সে.মি.
প্রশ্নটি সমতল দর্পণে প্রতিবিম্বের অবস্থানের নিয়ম যাচাই করছে। সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে ঠিক ততটা দূরে থাকে, যতটা দূরে বস্তু দর্পণের সামনে থাকে।
বস্তুটি সেকেন্ডে দশ সেন্টিমিটার বেগে দর্পণ থেকে সরে যাচ্ছে। চার সেকেন্ডে এটি দশ গুণ চার, অর্থাৎ চল্লিশ সেন্টিমিটার দূরে যায়।
একই সময়ে প্রতিবিম্বও দর্পণের পেছনে চল্লিশ সেন্টিমিটার দূরে থাকে। তাই বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যে দূরত্ব চল্লিশ যোগ চল্লিশ, মোট আশি সেন্টিমিটার। অন্যভাবে বললে, বস্তু ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব প্রতি সেকেন্ডে কুড়ি সেন্টিমিটার করে বাড়ে, বস্তুর বেগের দ্বিগুণ হারে।
ফাঁদ হলো চল্লিশ সেন্টিমিটার, যা শুধু বস্তু থেকে দর্পণের দূরত্ব। প্রশ্ন জানতে চেয়েছে বস্তু থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব।
মনে রাখুন: সমতল দর্পণে বস্তু-প্রতিবিম্ব দূরত্ব = বস্তু-দর্পণ দূরত্বের দ্বিগুণ।
৪. ভাইরাস সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি সঠিক? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কএদের যেকোনো সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট মিডিয়ামে কালচার করা যায়
- খএদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে ডিএনএ এবং আরএনএ থাকে
- গএরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
- ঘভাইরাস হল অণুবীক্ষণিক জীবন্ত প্রাণী
সঠিক উত্তর: গ. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
প্রশ্নটি ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক বিবৃতি বেছে নিতে বলছে। সঠিক হলো: ভাইরাস অন্তঃকোষীয় পরজীবী, আরও নির্দিষ্ট করে বাধ্যতামূলক অন্তঃকোষীয় পরজীবী।
ভাইরাসের নিজের কোনো বিপাক ব্যবস্থা বা রাইবোসোম নেই। তাই জীবিত পোষক কোষে ঢুকে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে। কোষের বাইরে এটি জড় কণার মতো থাকে।
এই কারণে ভাইরাসকে কৃত্রিম পুষ্টিমাধ্যমে চাষ করা যায় না; চাষ করতে জীবিত কোষ, যেমন ডিমের ভ্রূণ বা কোষ কালচার লাগে। একটি ভাইরাসে ডিএনএ অথবা আরএনএ, যেকোনো একটি থাকে, দুটো একসঙ্গে নয়।
ভাইরাসকে জীবন্ত প্রাণী বলাও ভুল। এর কোষীয় গঠন নেই, আর জড় ও জীবের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের জন্য একে প্রাণী তো নয়ই, পূর্ণ জীবও বলা হয় না।
মনে রাখুন: ভাইরাস: জীবিত কোষ ছাড়া নিষ্ক্রিয়, এক ধরনের নিউক্লিক এসিড।
৫. লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি মিথ্যা? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কNi-Cd ব্যাটারির তুলনায় এদের শক্তির ঘনত্ব বেশি
- খএতে লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ক্যাথোড ব্যবহার করা হয়
- গ'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়
- ঘএখানে অতিরিক্ত চার্জিং-এর ফলে আগুন লাগতে পারে
সঠিক উত্তর: গ. 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়
প্রশ্নটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিটি খুঁজতে বলছে। মিথ্যা হলো: মেমরি এফেক্টের কারণে এদের মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ ডিসচার্জ করতে হয়।
মেমরি এফেক্ট হলো বারবার আংশিক ডিসচার্জের পর চার্জ দিলে ব্যাটারি যেন সেই কম ধারণক্ষমতা মনে রেখে দেয়। এটি নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারির বড় সমস্যা, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে পুরো খালি করতে হতো। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এই সমস্যা কার্যত নেই; বরং বারবার পুরো খালি করলে এর আয়ু কমে।
বাকি তিনটি বিবৃতি সত্য। একই ওজনে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিকেল-ক্যাডমিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি রাখে, তাই মোবাইল ও ল্যাপটপে এর ব্যবহার। ক্যাথোড হিসেবে প্রায়ই লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত চার্জ বা আঘাতে ভেতরে তাপ বেড়ে আগুন লাগতে পারে।
ফাঁদ হলো পুরোনো ব্যাটারির অভ্যাস। অনেকে এখনো মনে করেন নতুন ফোন প্রথমে পুরো খালি করতে হয়, যা নিকেল ব্যাটারির যুগের ধারণা।
মনে রাখুন: মেমরি এফেক্ট দেখলেই নিকেল-ক্যাডমিয়াম; লিথিয়াম-আয়নে নয়।
৬. কোন্ টিস্যু পেশীকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কতরুণাস্থি
- খলিগামেন্ট
- গটেন্ডন
- ঘঅ্যারিওলার টিস্যু
সঠিক উত্তর: গ. টেন্ডন
প্রশ্নটি জানতে চাইছে কোন টিস্যু পেশিকে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। উত্তর টেন্ডন বা কণ্ডরা।
টেন্ডন ঘন, তন্তুময় যোজক টিস্যু, যার মূল উপাদান কোলাজেন তন্তু। পেশি সংকুচিত হলে টেন্ডন সেই টান হাড়ে পৌঁছে দেয়, তাই হাড় নড়ে। গোড়ালির পেছনের অ্যাকিলিস টেন্ডন দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী টেন্ডন।
লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী এক হাড়কে আরেক হাড়ের সঙ্গে জোড়ায় বেঁধে রাখে, যেমন হাঁটুর লিগামেন্ট। তরুণাস্থি হাড়ের জোড়ায় গদির মতো কাজ করে, আর নাক ও কানের কাঠামো তৈরি করে। অ্যারিওলার টিস্যু আলগা যোজক টিস্যু, যা চামড়ার নিচে ও অঙ্গের চারপাশে থাকে।
ফাঁদ হলো লিগামেন্ট, কারণ দুটোই হাড়ের সঙ্গে যুক্ত। মনে রাখুন: টেন্ডন পেশি থেকে হাড়ে, লিগামেন্ট হাড় থেকে হাড়ে।
মনে রাখুন: টেন্ডন পেশি-হাড়, লিগামেন্ট হাড়-হাড়।
৭. 'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল - (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কএটি উৎপাদন করা সস্তা
- খএতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
- গএটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ
- ঘপ্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি
সঠিক উত্তর: খ. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
প্রশ্নটি হাইড্রোজেনের রঙের নাম নিয়ে। হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে বর্ণহীন; গ্রে, ব্লু, গ্রিন নামগুলো বোঝায় এটি কোন পদ্ধতিতে তৈরি হলো এবং তাতে কতটা কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হলো।
গ্রে হাইড্রোজেন তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেনকে উচ্চ তাপে বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করিয়ে। এতে প্রতি কেজি হাইড্রোজেনের সঙ্গে প্রায় দশ থেকে তেরো কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে যায়।
গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরি হয় সৌর বা বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ করে। পানি ভেঙে শুধু হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন হয়, তাই উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য। এটাই তার আসল সুবিধা।
ফাঁদ হলো বাকি বিকল্পগুলো। গ্রিন হাইড্রোজেন এখনো গ্রে-র চেয়ে কয়েক গুণ দামি। আর দুটো একই হাইড্রোজেন অণু, তাই সংরক্ষণ, পরিবহন বা শক্তি ঘনত্বে কোনো পার্থক্য নেই; পার্থক্য শুধু তৈরির পথে।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেনের যেকোনো রঙের প্রশ্নে উত্তর খুঁজুন তৈরির পথ আর কার্বন নিঃসরণে; গ্যাসের ধর্ম সবার এক।
৮. একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে কোন্ বক্তব্যটি সঠিক? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা
- খবিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
- গঅগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন
- ঘপ্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি
সঠিক উত্তর: খ. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
প্রশ্নটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসের মূল কারণ জানতে চেয়েছে। টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি অটো-ইমিউন রোগ: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষগুলোকে শত্রু ভেবে ধ্বংস করে ফেলে।
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সে দুই রকম কোষ গুরুত্বপূর্ণ। বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে, যা রক্তের গ্লুকোজ কমায়; আলফা কোষ গ্লুকাগন তৈরি করে, যা গ্লুকোজ বাড়ায়। বিটা কোষ নষ্ট হলে ইনসুলিন প্রায় তৈরিই হয় না, তাই রোগীকে বাইরে থেকে ইনসুলিন নিতে হয়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে কিন্তু ইনসুলিন তৈরি হয়, সমস্যা হলো দেহকোষ তাতে ঠিকমতো সাড়া দেয় না; একে বলে ইনসুলিন প্রতিরোধিতা। তাই টাইপ-১ মানে ইনসুলিনের ঘাটতি, টাইপ-২ মানে ইনসুলিনে সাড়ার ঘাটতি।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ প্রথম বিকল্প: ইনসুলিন প্রতিরোধিতা শুনে অনেকে ডায়াবেটিস ভেবে টিক দেন, কিন্তু সেটা টাইপ-২ এর বৈশিষ্ট্য।
মনে রাখুন: টাইপ-১ মানে ইনসুলিন নেই, টাইপ-২ মানে ইনসুলিন কাজ করে না।
৯. জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) মূলতঃ তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালীর কোন্ অংশে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅবলোহিত অঞ্চল
- খদৃশ্যমান এবং নিকট-অবলোহিত অঞ্চল
- গঅতিবেগুনী এবং দৃশ্যমান অঞ্চল
- ঘএক্স-রে এবং গামা-রে অঞ্চল
সঠিক উত্তর: ক. অবলোহিত অঞ্চল
প্রশ্নটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ কোন আলোয় আকাশ দেখে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর অবলোহিত বা ইনফ্রারেড অঞ্চল। এটি প্রায় শূন্য দশমিক ছয় থেকে সাড়ে আটাশ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কাজ করে, মানে দৃশ্যমান আলোর কমলা-লাল প্রান্ত থেকে মধ্য-অবলোহিত পর্যন্ত।
কেন অবলোহিত? মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, তাই বহু দূরের প্রথম দিকের ছায়াপথের আলো আসতে আসতে প্রসারিত হয়ে লম্বা তরঙ্গে সরে যায়; একে বলে লোহিত সরণ। তাছাড়া অবলোহিত আলো ধুলার মেঘ ভেদ করতে পারে, তাই নক্ষত্র জন্মের জায়গাও দেখা যায়।
অবলোহিত মানে তাপ, তাই টেলিস্কোপকে খুব ঠান্ডা রাখতে হয়। এজন্য এর বিশাল সানশিল্ড আছে এবং এটি পৃথিবী থেকে প্রায় পনেরো লাখ কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় লাগ্রাঞ্জ বিন্দুতে আছে।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় বিকল্প। জেমস ওয়েব নিকট-অবলোহিতে খুব শক্তিশালী ঠিকই, কিন্তু দৃশ্যমান আলোর কেবল লাল প্রান্তটুকু ছোঁয়, আর মধ্য-অবলোহিত পর্যন্ত যায়। দৃশ্যমান আর নিকট-অবলোহিত মিলিয়ে কাজ করে মূলত হাবল; জেমস ওয়েবের পুরো ক্ষেত্রটা এক কথায় অবলোহিত অঞ্চল।
মনে রাখুন: জেমস ওয়েব মানে অবলোহিত, হাবল মানে দৃশ্যমান ও অতিবেগুনি, চন্দ্র মানে এক্স-রে।
১০. পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো: (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
- খচুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
- গদ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
- ঘক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
সঠিক উত্তর: গ. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
প্রশ্নটি পারমাণবিক চুল্লির মডারেটরের কাজ জানতে চেয়েছে। মডারেটর দ্রুতগতির নিউট্রনকে ধীর করে, যাতে সেগুলো ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াসে ধরা পড়ে আরও ফিশন ঘটাতে পারে।
ফিশনে যে নিউট্রন বের হয় তা খুব দ্রুত চলে। এত দ্রুত নিউট্রন ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ধীর বা তাপীয় নিউট্রন সহজে শোষিত হয়ে নতুন ফিশন ঘটায়, ফলে শৃঙ্খল বিক্রিয়া টিকে থাকে।
মডারেটর হিসেবে হালকা পরমাণুর পদার্থ লাগে, যেমন সাধারণ পানি, ভারী পানি ও গ্রাফাইট। নিউট্রন এদের সঙ্গে বারবার ধাক্কা খেয়ে গতি হারায়, কিন্তু খুব বেশি শোষিত হয় না।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ প্রথম বিকল্প। নিউট্রন শোষণ করে বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কন্ট্রোল রড, যা বোরন বা ক্যাডমিয়াম দিয়ে তৈরি। তাপ সরায় কুল্যান্ট, আর বিকিরণ ঠেকায় কংক্রিট ও সীসার শিল্ড।
মনে রাখুন: মডারেটর ধীর করে, কন্ট্রোল রড শুষে নেয়; দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
১১. কোনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কার্যনীতিকে সর্বোত্তমভাবে বর্ণনা করতে পারে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কউচ্চ তাপ বিকিরণ এবং খাদ্য কণাগুলিতে পরিবহন
- খখাদ্য কণাগুলিতে ইনফ্রা-রেড বিকিরণ এবং শোষণ
- গপানির অণুগুলির ইন্ডাকশন হিটিং
- ঘঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
সঠিক উত্তর: ঘ. ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
প্রশ্নটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন কীভাবে খাবার গরম করে, তা জানতে চেয়েছে। এর নাম ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং: অণুগুলোর ঘূর্ণন থেকে তাপ তৈরি হয়।
ওভেনের ম্যাগনেট্রন প্রায় দুই দশমিক চার পাঁচ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের মাইক্রোওয়েভ তৈরি করে, মানে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র সেকেন্ডে প্রায় দুইশো পঁয়তাল্লিশ কোটি বার আন্দোলিত হয়। পানির অণু একটি ডাইপোল, এর এক প্রান্ত সামান্য ধনাত্মক আর অন্য প্রান্ত সামান্য ঋণাত্মক।
ক্ষেত্র যতবার দিক বদলায়, পানির অণু ততবার ঘুরে তার সঙ্গে সারিবদ্ধ হতে চায়। এই অবিরাম ঘূর্ণন ও পাশের অণুর সঙ্গে ঘর্ষণে শক্তি তাপে পরিণত হয়। তাই খাবারের ভেতরের পানি, চর্বি আর চিনি সরাসরি গরম হয়।
ফাঁদ হলো ইন্ডাকশন হিটিং। ইন্ডাকশন চুলা ধাতুর পাত্রে ঘূর্ণি বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে গরম করে, পানির অণু ঘুরিয়ে নয়। আর ইনফ্রারেড বা পরিবহন হলো সাধারণ ওভেন ও গ্রিলের পদ্ধতি।
মনে রাখুন: মাইক্রোওয়েভ মানে ডাইপোল ঘোরে; ইন্ডাকশন মানে ধাতুর পাত্রে বিদ্যুৎ প্রবাহ।
১২. 'কোভিড-১৯'-এর জন্য তৈরি টিকা কীভাবে কাজ করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার জন্য দুর্বল ভাইরাসের একটি রূপ প্রবর্তন করে
- খপরিশোধিত ভাইরাল প্রোটিনের সাবইউনিট প্রবিষ্ট করানোর মাধ্যমে
- গহোস্ট কোষে জেনেটিক উপাদান বহন করার জন্য একটি ভাইরাস ঘটিত বাহক ব্যবহার করে
- ঘmRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়
সঠিক উত্তর: ঘ. mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়
প্রশ্নটির নির্ধারিত উত্তর এম-আরএনএ টিকা। ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা কোষে বার্তাবাহক আরএনএ পাঠায়; কোষ সেই নির্দেশ পড়ে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে, আর শরীর সেই প্রোটিন চিনে অ্যান্টিবডি ও স্মৃতি কোষ তৈরি করে রাখে।
এম-আরএনএ কোষের নিউক্লিয়াসে ঢোকে না এবং আমাদের ডিএনএ বদলায় না; কাজ শেষে কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে যায়। কোভিড-উনিশ মহামারিতেই প্রথম এই প্রযুক্তির টিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাই কোভিড টিকা বললে এটিকেই সবচেয়ে নতুন ও আলোচিত পদ্ধতি ধরা হয়।
তবে মনে রাখুন, কোভিডের জন্য আরও কয়েক ধরনের টিকা তৈরি হয়েছিল। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও স্পুটনিক ভি ভাইরাস বাহক ব্যবহার করে, নোভাভ্যাক্স প্রোটিন সাবইউনিট টিকা, আর সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক নিষ্ক্রিয় করা পুরো ভাইরাস ব্যবহার করে।
তাই পরীক্ষায় একটি উত্তর বাছতে হলে নির্ধারিত উত্তর এম-আরএনএ, কারণ এটাই কোভিড টিকার স্বাক্ষর প্রযুক্তি। প্রথম বিকল্পের দুর্বল জীবন্ত ভাইরাস পদ্ধতি হাম বা পোলিওর মুখে খাওয়ার টিকায় চলে, কোভিডে প্রধান পদ্ধতি নয়।
মনে রাখুন: কোভিড টিকা নিয়ে প্রশ্নে এম-আরএনএ বিকল্প থাকলে সাধারণত সেটাই প্রত্যাশিত উত্তর।
১৩. MRI কোন্ নীতিতে কাজ করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কশরীরের ত্রি-মাত্রিক চিত্র তৈরি করতে এক্স-রে ব্যবহার করে
- খতেজস্ক্রিয় ট্রেসার দ্বারা নির্গত গামা-রে সনাক্তের মাধ্যমে
- গশক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
- ঘউচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: গ. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
প্রশ্নটি এমআরআই, অর্থাৎ ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং, কোন নীতিতে কাজ করে তা জানতে চেয়েছে। এমআরআই শক্তিশালী চুম্বক আর রেডিও তরঙ্গ দিয়ে দেহের ভেতরের ছবি তৈরি করে।
আমাদের দেহের বেশিরভাগই পানি ও চর্বি, যাতে প্রচুর হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস বা প্রোটন আছে। শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে এই প্রোটনগুলো একদিকে সারিবদ্ধ হয়। এরপর রেডিও তরঙ্গের স্পন্দন দিলে এরা দিক বদলায়, আর তরঙ্গ থামলে আগের অবস্থায় ফেরার সময় রেডিও সংকেত ছাড়ে।
বিভিন্ন টিস্যুতে এই ফিরে আসার সময় আলাদা, তাই কম্পিউটার সংকেত থেকে নরম টিস্যুর খুব স্পষ্ট ছবি বানায়, যেমন মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও অস্থিসন্ধি। এতে আয়নায়নকারী বিকিরণ নেই।
ফাঁদ হলো ত্রিমাত্রিক ছবি শব্দটি। এমআরআই-ও ত্রিমাত্রিক ছবি দিতে পারে, কিন্তু এক্স-রে দিয়ে নয়; এক্স-রে দিয়ে ত্রিমাত্রিক ছবি বানায় সিটি স্ক্যান। তেজস্ক্রিয় ট্রেসারের গামা রশ্মি ধরে পিইটি স্ক্যান, আর শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি।
মনে রাখুন: এমআরআই নামের এম মানে ম্যাগনেটিক, অর্থাৎ চুম্বক; সঙ্গে রেডিও তরঙ্গ।
১৪. কোন্ বাঙালি বিজ্ঞানী কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষনা করেছেন? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কড. কুদরত-ই-খুদা
- খকাজী মোতাহার হোসেন
- গজামাল নজরুল ইসলাম
- ঘঅতীশ দীপংকর
সঠিক উত্তর: গ. জামাল নজরুল ইসলাম
প্রশ্নটি কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করা বাঙালি বিজ্ঞানীর নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম, যিনি ছিলেন গণিতবিদ, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও বিশ্বতত্ত্ববিদ।
তিনি ঝিনাইদহে জন্ম নেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল আপেক্ষিকতা, মহাকর্ষ ও মহাবিশ্বের বিবর্তন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে প্রকাশিত তাঁর বই দ্য আলটিমেট ফেট অব দ্য ইউনিভার্স বিশ্বজুড়ে পরিচিত, আর বাংলা একাডেমি থেকে কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে তাঁর বাংলা বই কৃষ্ণ বিবরও প্রকাশিত হয়েছে।
দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং দুই হাজার তেরো সালে চট্টগ্রামেই মারা যান।
বাকি তিনজনও বিখ্যাত, তবে অন্য ক্ষেত্রে। কুদরত-ই-খুদা রসায়নবিদ, কাজী মোতাহার হোসেন পরিসংখ্যানবিদ ও সাহিত্যিক, আর অতীশ দীপংকর হাজার বছর আগের বৌদ্ধ পণ্ডিত। প্রশ্নে গবেষনা বানানটি পরীক্ষায় যেমন ছাপা হয়েছে তেমন রাখা হয়েছে; শুদ্ধ বানান গবেষণা, মূর্ধন্য ণ দিয়ে।
মনে রাখুন: কৃষ্ণগহ্বর বা মহাবিশ্বের পরিণতি দেখলেই জামাল নজরুল ইসলাম।
১৫. কোনটির দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কশৈবাল
- খছত্রাক
- গভাইরাস
- ঘব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর: গ. ভাইরাস
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কার দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম দুটোই নেই। উত্তর ভাইরাস, কারণ ভাইরাস কোনো কোষই নয়; এটি অকোষীয়।
একটি ভাইরাস মূলত দুটি অংশে তৈরি: ভেতরে নিউক্লিক অ্যাসিড, অর্থাৎ ডিএনএ অথবা আরএনএ, আর বাইরে প্রোটিনের আবরণ, যার নাম ক্যাপসিড। এর কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম বা নিউক্লিয়াস কিছুই নেই। তাই জীবকোষের বাইরে ভাইরাস নিজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী: এর সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে, কিন্তু সাইটোপ্লাজম ঠিকই আছে। শৈবাল ও ছত্রাক প্রকৃতকোষী, এদের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম দুটোই আছে।
ফাঁদ হলো ব্যাকটেরিয়া। নিউক্লিয়াস নেই শুনে অনেকে ব্যাকটেরিয়া বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্নে দুটোই নেই বলা হয়েছে; ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজম আছে।
মনে রাখুন: কোষই নেই মানে কোষের কোনো অংশও নেই: ভাইরাস।
১৬. পরমাণু চুল্লীতে সচরাচর কোন্ জ্বালানী ব্যবহার করা হয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কইউরেনিয়াম-২৩৫
- খইউরেনিয়াম-২৩৮
- গথোরিয়াম-১৩২
- ঘপ্লুটোনিয়াম-২৪০
সঠিক উত্তর: ক. ইউরেনিয়াম-২৩৫
প্রশ্নটি পারমাণবিক চুল্লির সাধারণ জ্বালানি জানতে চেয়েছে। উত্তর ইউরেনিয়াম-২৩৫, কারণ প্রকৃতিতে পাওয়া আইসোটোপের মধ্যে এটিই ধীর নিউট্রনের আঘাতে সহজে ভেঙে ফিশন ঘটায় এবং নতুন নিউট্রন ছেড়ে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চালু রাখে।
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের প্রায় নিরানব্বই শতাংশের বেশি ইউরেনিয়াম-২৩৮, আর ইউরেনিয়াম-২৩৫ মাত্র শূন্য দশমিক সাত শতাংশের মতো। তাই বেশিরভাগ চুল্লিতে ইউরেনিয়ামকে সমৃদ্ধ করে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর ভাগ তিন থেকে পাঁচ শতাংশে তোলা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের জ্বালানি ব্যবহার করে।
ইউরেনিয়াম-২৩৮ ও থোরিয়াম-২৩২ নিজেরা শৃঙ্খল বিক্রিয়া চালায় না; নিউট্রন শোষণ করে এরা যথাক্রমে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ ও ইউরেনিয়াম-২৩৩ এ পরিণত হয়, তাই এদের বলে উর্বর পদার্থ। প্লুটোনিয়ামের জ্বালানি আইসোটোপ হলো প্লুটোনিয়াম-২৩৯, প্লুটোনিয়াম-২৪০ নয়।
প্রশ্নে থোরিয়াম-১৩২ ছাপা হয়েছে, যা পরীক্ষাতেই এভাবে এসেছে; প্রকৃতিতে থোরিয়ামের প্রধান আইসোটোপ আসলে থোরিয়াম-২৩২। ফাঁদ হলো ইউরেনিয়াম-২৩৮: খনির ইউরেনিয়ামের প্রায় সবটাই এটি, কিন্তু চুল্লি চলে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর জোরে।
মনে রাখুন: চুল্লির জ্বালানি ২৩৫, খনির বেশিরভাগ ২৩৮।
১৭. কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কলিগনিন
- খরেজিন
- গহেমি সেলুলোজ
- ঘসেলুলোজ
সঠিক উত্তর: ঘ. সেলুলোজ
প্রশ্নটি কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান জানতে চেয়েছে। উত্তর সেলুলোজ, যা গ্লুকোজ অণু দিয়ে তৈরি একটি লম্বা শিকলের পলিস্যাকারাইড এবং উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মূল উপাদান।
কাঠে মোটামুটি চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ সেলুলোজ, কুড়ি থেকে পঁয়ত্রিশ শতাংশ হেমিসেলুলোজ আর পনেরো থেকে পঁয়ত্রিশ শতাংশ লিগনিন থাকে। কাগজ বানাতে কাঠ, বাঁশ বা আখের ছোবড়া থেকে মণ্ড তৈরি করা হয়, আর ভালো মানের কাগজে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ লিগনিন সরিয়ে ফেলা হয়।
লিগনিন সরানো হয় কারণ এটি আলো ও বাতাসে বিক্রিয়া করে কাগজকে হলুদ আর ভঙ্গুর করে; সস্তা খবরের কাগজে লিগনিন থেকে যায় বলেই পুরোনো হলে তা হলুদ হয়। শেষে যে আঁশগুলো জাল বুনে কাগজ বানায়, সেগুলো মূলত সেলুলোজ।
ফাঁদ হলো লিগনিন আর হেমিসেলুলোজ। দুটোই কাঠে থাকে, তাই চেনা লাগে, কিন্তু কাগজে এরা গৌণ বা অবাঞ্ছিত। রেজিন বা রজন শুধু কালি যাতে ছড়িয়ে না যায় সেজন্য সামান্য মেশানো হয়।
মনে রাখুন: কাগজ, তুলা, পাট সবই মূলত সেলুলোজ।
১৮. একটি NPN ট্রানজিস্টরে, প্রধান চার্জ বাহক হলো- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কহোল
- খইলেকট্রন
- গপ্রোটন
- ঘআয়ন
সঠিক উত্তর: খ. ইলেকট্রন
প্রশ্নটি এনপিএন ট্রানজিস্টরের প্রধান চার্জ বাহক জানতে চেয়েছে। উত্তর ইলেকট্রন।
ট্রানজিস্টরে তিনটি স্তর থাকে: ইমিটার, বেস ও কালেক্টর। এনপিএন মানে দুই পাশে দুটি এন-টাইপ স্তর আর মাঝে একটি পাতলা পি-টাইপ বেস। এন-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য মেশানো হয়, তাই এতে বাড়তি মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
ইমিটার থেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে পাতলা বেস পেরিয়ে কালেক্টরে পৌঁছায়; এই ইলেকট্রন প্রবাহই এনপিএন ট্রানজিস্টরের মূল বিদ্যুৎ প্রবাহ। পিএনপি ট্রানজিস্টরে উল্টো, সেখানে প্রধান চার্জ বাহক হোল।
ফাঁদ হলো হোল। মাঝের পি স্তরে হোল থাকে বলে অনেকে বিভ্রান্ত হন, কিন্তু প্রধান বাহক ঠিক হয় ইমিটার ও কালেক্টরের ধরন দিয়ে। প্রোটন নিউক্লিয়াসে আটকে থাকে, আর কঠিন অর্ধপরিবাহীতে আয়ন বিদ্যুৎ বহন করে না।
মনে রাখুন: নামের প্রথম অক্ষর দেখুন: এনপিএন মানে ইলেকট্রন, পিএনপি মানে হোল।
১৯. ‘এপিকালচার’ কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কগুটিপোকা এবং রেশম
- খমৌমাছি এবং মধু
- গমৎস চাষ
- ঘতামাক চাষ
সঠিক উত্তর: খ. মৌমাছি এবং মধু
প্রশ্নটি এপিকালচার শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। এপিকালচার মানে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন।
শব্দটি লাতিন এপিস থেকে এসেছে, যার মানে মৌমাছি; আর কালচার মানে চাষ বা পালন। মৌমাছি পালন থেকে মধু ও মোম পাওয়া যায়, আবার ফুলে ফুলে ঘোরার ফলে পরাগায়ন বাড়ে, তাই সরিষা ও ফলের ফলনও বাড়ে।
একই নিয়মে সেরিকাম বা রেশম থেকে সেরিকালচার, মানে রেশম পোকা পালন; পিসিস বা মাছ থেকে পিসিকালচার, মানে মাছ চাষ। তামাক চাষের জন্য এমন কোনো প্রচলিত কালচার-পরিভাষা নেই।
ফাঁদ হলো সেরিকালচার, কারণ নামের শেষাংশ একই। প্রশ্নের বিকল্পে মৎস বানানটি পরীক্ষায় যেমন ছাপা হয়েছে তেমন রাখা হয়েছে; শুদ্ধ বানান মৎস্য।
মনে রাখুন: শব্দমূল মনে রাখুন: এপি মৌমাছি, সেরি রেশম, পিসি মাছ।
২০. তরঙ্গের বেলায় কোন্টি সত্য? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কতড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
- খশব্দতরঙ্গ একধরনের তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ
- গসকল তরঙ্গেই প্রতিফলন-প্রতিসরণ হয় না
- ঘতরঙ্গবেগ হলো এর কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অনুপাত
সঠিক উত্তর: ক. তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
প্রশ্নটি তরঙ্গ সম্পর্কে চারটি বিবৃতির মধ্যে সত্যটি বেছে নিতে বলছে। সত্য হলো: তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ আলোর বেগে চলে।
আলো নিজেই একটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ। রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, অতিবেগুনি, এক্সরে, গামা সব তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গই শূন্য মাধ্যমে একই বেগে চলে, সেকেন্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার। এরা মাধ্যম ছাড়াও চলতে পারে।
শব্দ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ নয়, এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ; চলতে বাতাস, পানি বা কঠিনের মতো মাধ্যম লাগে, তাই মহাশূন্যে শব্দ যায় না। সব তরঙ্গেরই প্রতিফলন ও প্রতিসরণ হয়, যেমন শব্দের প্রতিধ্বনি। আর তরঙ্গবেগ সমান কম্পাঙ্ক গুণ তরঙ্গদৈর্ঘ্য, অনুপাত নয়।
ফাঁদ হলো শেষ বিকল্পটি; কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য দুটোই আছে বলে ঠিক মনে হয়, কিন্তু সম্পর্কটা গুণফল।
মনে রাখুন: তরঙ্গবেগ সবসময় কম্পাঙ্ক গুণ তরঙ্গদৈর্ঘ্য।