বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৫৯
১১৬১. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কধূমকেতু
- খবিদ্রোহী
- গপ্রলয়োল্লাস
- ঘঅগ্রপথিক
সঠিক উত্তর: গ. প্রলয়োল্লাস
অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯২২ সালে। এতে বারোটি কবিতা আছে, আর প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস।
প্রলয়োল্লাসের বিখ্যাত চরণ, তোরা সব জয়ধ্বনি কর। পুরোনোকে ভেঙে নতুনের আগমনের ঘোষণা দিয়ে বইটি শুরু হয়, আর তারপরেই আসে দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বিদ্রোহী। এটি নজরুলের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা বলে অনেকে ধরে নেন সেটিই প্রথম, কিন্তু এর অবস্থান দ্বিতীয়।
ধূমকেতু কবিতাটি অগ্নিবীণাতেই আছে, তবে পঞ্চম স্থানে। অগ্রপথিক কবিতাটি অগ্নিবীণার বারোটি কবিতার তালিকায় নেই।
মনে রাখুন: অগ্নিবীণা খোলে প্রলয়োল্লাস দিয়ে, তারপর বিদ্রোহী।
১১৬২. বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ককল্লোল
- খসবুজপত্র
- গবঙ্গদর্শন
- ঘকালিকলম
সঠিক উত্তর: খ. সবুজপত্র
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে, বাংলা সাহিত্যে চলিত বা কথ্য রীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকার ভূমিকা সবচেয়ে বড়। উত্তর সবুজপত্র, যা প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে প্রকাশ করেন।
সবুজপত্রের ঘোষিত নীতি ছিল সাধু ভাষার বদলে মুখের ভাষার কাছাকাছি চলিত রীতিতে লেখা। প্রমথ চৌধুরী নিজে বীরবল ছদ্মনামে চলিত গদ্যে প্রবন্ধ লেখেন, আর রবীন্দ্রনাথও এই পত্রিকায় চলিত রীতিতে লেখা শুরু করেন; তাঁর ঘরে বাইরে উপন্যাস এখানেই ধারাবাহিক ছাপা হয়।
তুলনার জন্য মনে রাখুন: বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের পত্রিকা, যার গদ্য ছিল সাধু রীতির। কল্লোল ১৯২৩ সালে আর কালিকলম ১৯২৬ সালে বের হয়; এরা রবীন্দ্র-পরবর্তী আধুনিকতার পত্রিকা, চলিত রীতি তখন আগেই প্রতিষ্ঠিত।
ফাঁদ হলো কল্লোল বিকল্পটি। কল্লোলের লেখকেরা চলিত ভাষায় লিখতেন বলে অনেকে এটিকেই প্রবর্তক ভাবেন, কিন্তু পথটা তৈরি করেছিল সবুজপত্র, প্রায় এক দশক আগে।
মনে রাখুন: চলিত রীতি মানেই প্রমথ চৌধুরী, বীরবল, সবুজপত্র। এই তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
১১৬৩. ‘জনৈক’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ- (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কজন + ইক
- খজন + এক
- গজনৈ + এক
- ঘজন + ঈক
সঠিক উত্তর: খ. জন + এক
প্রশ্নটি স্বরসন্ধির বৃদ্ধি নিয়ম যাচাই করছে। জনৈক মানে কোনো একজন; শব্দটি ভাঙলে পাই জন আর এক।
নিয়ম হলো, অ বা আ-এর পরে এ বা ঐ এলে দুটো মিলে ঐ হয়, আর সেই ঐ-কার আগের বর্ণে যুক্ত হয়। জন শব্দের শেষে আছে অ, এক শব্দের শুরুতে এ; তাই ন-এর সঙ্গে ঐ-কার বসে হয় জনৈক।
একই নিয়মে সদা আর এব মিলে সদৈব, মত আর ঐক্য মিলে মতৈক্য, হিত আর এষী মিলে হিতৈষী। শেষে ঐ-কার দেখলেই ভেতরে এ বা ঐ খুঁজুন।
ফাঁদ হলো জন আর ইক বিকল্পটি। অ আর ই মিললে হয় এ, ঐ নয়; সেভাবে শব্দটা হতো জনেক। ঈক দিয়ে ভাঙলেও একই কারণে ঐ আসে না।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: সদা + এব = সদৈব, মত + ঐক্য = মতৈক্য, হিত + এষী = হিতৈষী। মনে রাখুন: অ + ই = এ, কিন্তু অ + এ = ঐ।
১১৬৪. বাক্যের তিনটি গুণ কি কি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কআকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও বিধেয়
- খআকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
- গযোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও বিধেয়
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
প্রশ্নটি সার্থক বাক্যের গুণ জানতে চেয়েছে। কিছু শব্দ পাশাপাশি বসালেই বাক্য হয় না; ভাষাবিদেরা তিনটি গুণ দরকার বলেন: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্য শেষ হলে শ্রোতার আর কিছু শোনার আগ্রহ বাকি না থাকা; শুধু আমি ভাত বললে মন জানতে চায় কী হলো। আসত্তি মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে কাছাকাছি বসা। যোগ্যতা মানে অর্থের দিক থেকে সংগতি; সূর্য পশ্চিমে ওঠে বাক্যে যোগ্যতা নেই।
উদ্দেশ্য আর বিধেয় হলো বাক্যের দুটি অংশ, গুণ নয়। যার সম্পর্কে বলা হয় সেটি উদ্দেশ্য, আর যা বলা হয় সেটি বিধেয়। গুণ আর অংশ গুলিয়ে ফেললেই ভুল বিকল্পে চোখ যায়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও বিধেয় বিকল্পটি। আসক্তি মানে মোহ বা টান, আর ব্যাকরণের শব্দটি আসত্তি, মানে নৈকট্য। বানানের এক অক্ষরের তফাতেই উত্তর বদলে যায়।
মনে রাখুন: তিন গুণের আদ্যক্ষর: আ-আ-যো (আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা)।
১১৬৫. ‘একাত্তরের চিঠি’ কোন জাতীয় রচনা? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কমুক্তিযুদ্ধের বিবরণ
- খমুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- গমুক্তিযোদ্ধাদের পত্র সংকলন
- ঘভিন্নধর্মী ডায়েরি
সঠিক উত্তর: গ. মুক্তিযোদ্ধাদের পত্র সংকলন
প্রশ্নটি বইয়ের ধরন জানতে চেয়েছে। একাত্তরের চিঠি হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা চিঠির সংকলন, ২০০৯ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে বের হয়।
প্রথম আলো আর গ্রামীণফোনের উদ্যোগে সারা দেশ থেকে যুদ্ধদিনের আসল চিঠি সংগ্রহ করা হয়। কেউ মাকে, কেউ স্ত্রীকে বা বন্ধুকে লিখেছেন; অনেক লেখক আর ফিরে আসেননি। তাই এটি কারও বানানো কাহিনি নয়, বাস্তব দলিল।
একই ধরনের নাম গুলিয়ে যায়। জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি হলো দিনলিপি বা ডায়েরি, আর নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরাঙ্গনা বলছি হলো বীরাঙ্গনাদের জবানবন্দি।
ফাঁদ হলো ভিন্নধর্মী ডায়েরি বিকল্পটি, যা আসলে একাত্তরের দিনগুলির সঙ্গে মেলে। নামে চিঠি শব্দটা থাকলে পত্র সংকলন বিকল্পটিই বেছে নিন।
মনে রাখুন: নামে চিঠি থাকলে পত্র সংকলন, দিনগুলি থাকলে দিনলিপি।
১১৬৬. বাংলা একাডেমী কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক১৯৫৫ খ্রিঃ
- খ১৩৫৫ বঙ্গাব্দ
- গ১৯৫২ খ্রিঃ
- ঘ১৩৫২ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৫৫ খ্রিঃ
প্রশ্নটি বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, ঢাকার বর্ধমান হাউসে।
পটভূমি মনে রাখলে বছরটা ভোলা যায় না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের একুশ দফায় বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণাকেন্দ্র করার দাবি ছিল। সেই দাবিরই ফল ১৯৫৫ সালের বাংলা একাডেমি।
বঙ্গাব্দের বিকল্পগুলো যাচাই করতে খ্রিষ্টাব্দ থেকে মোটামুটি পাঁচশো তিরানব্বই বাদ দিন। ১৯৫৫ সালের ডিসেম্বর তাই প্রায় ১৩৬২ বঙ্গাব্দ। ১৩৫৫ বঙ্গাব্দ হলো ১৯৪৮ সালের দিকে, আর ১৩৫২ বঙ্গাব্দ ১৯৪৫ সালের দিকে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ১৯৫২ বিকল্পটি। ভাষা আন্দোলনের বছর বলে অনেকে এটাই বেছে নেন, কিন্তু আন্দোলন থেকে একাডেমি হতে আরও তিন বছর লেগেছিল।
মনে রাখুন: খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৫৯৩ বাদ দিলে মোটামুটি বঙ্গাব্দ পাওয়া যায়: ১৯৫৫ − ৫৯৩ = ১৩৬২।
১১৬৭. সনেট কবিতার প্রবর্তক কে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কদ্বিজেন্দ্র লাল রায়
- খরজনীকান্ত সেন
- গমাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘঅতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
প্রশ্নটি বাংলা সনেটের প্রবর্তকের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর মাইকেল মধুসূদন দত্ত; তাঁর চতুর্দশপদী কবিতাবলী ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
সনেট হলো চৌদ্দ চরণের কবিতা, তাই বাংলায় একে চতুর্দশপদী বলে। ইতালির পেত্রার্ক এ রূপের জনক; মধুসূদন ফ্রান্সে থাকার সময় পেত্রার্কের আদলে বাংলায় সনেট লেখেন। তাঁর বিখ্যাত সনেট কপোতাক্ষ নদ।
মধুসূদনের আরও দুটি প্রথম আছে: বাংলা অমিত্রাক্ষর ছন্দ আর বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। প্রবর্তক শব্দ দেখলে আগে তাঁর নাম ভাবুন।
বাকি তিন বিকল্পের দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন আর অতুলপ্রসাদ সেন মূলত গীতিকার ও কবি; পঞ্চকবির তালিকায় তাঁদের নাম থাকায় পরীক্ষায় একসঙ্গে আসে, কিন্তু সনেটের সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই।
মনে রাখুন: মধুসূদনের তিন প্রথম: সনেট, অমিত্রাক্ষর ছন্দ, সার্থক মহাকাব্য।
১১৬৮. সমাস ভাষাকে কি করে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসংক্ষেপ করে
- খবিস্তৃত করে
- গঅর্থপূর্ণ করে
- ঘঅর্থের রূপান্তর ঘটায়
সঠিক উত্তর: ক. সংক্ষেপ করে
প্রশ্নটি সমাসের মূল কাজ জানতে চেয়েছে। সমাস মানে সংক্ষেপ: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ মিলে একটি পদ হয়।
যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন তিনটি পদ, সমাস হলে হয় সিংহাসন। বিদ্যা রূপ ধন হয় বিদ্যাধন। যে বাক্য ভেঙে সমাসের অর্থ বোঝানো হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে; সমস্ত পদ তার চেয়ে সবসময় ছোট।
সংক্ষেপের সঙ্গে ভাষা শ্রুতিমধুর ও গাঢ় হয়, কিন্তু মূল লক্ষ্য কম শব্দে বেশি বলা। এ কারণেই সমাসকে বাক্য সংকোচনের ভিত্তি বলা হয়।
ফাঁদ হলো অর্থের রূপান্তর ঘটায় বিকল্পটি। বহুব্রীহি সমাসে নতুন অর্থ আসে ঠিকই, যেমন দশানন মানে রাবণ, কিন্তু সব সমাসে তা হয় না; সব সমাসের সাধারণ কাজ সংক্ষেপ।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: পথের রাজা থেকে রাজপথ, ঘি মাখা ভাত থেকে ঘিভাত, দশ আনন যার সে দশানন।
১১৬৯. চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
- খআরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
- গনেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
- ঘসুদূর চীন দেশ থেকে
সঠিক উত্তর: গ. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে তিনি পুঁথিটি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে প্রকাশ করেন। পরে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ খুঁজে পান, যা চীন নয়, তিব্বতের।
বাঁকুড়ার গোয়ালঘরের বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ। সেখান থেকে ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি পান, চর্যাপদ নয়।
আরাকান রাজসভা মধ্যযুগে দৌলত কাজী ও আলাওলের মতো কবিদের পৃষ্ঠপোষক ছিল; চর্যাপদের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: দুই আবিষ্কার আলাদা রাখুন: চর্যা নেপালে, হরপ্রসাদ; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাঁকুড়ায়, বসন্তরঞ্জন।
১১৭০. মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবির নাম কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবিজয়গুপ্ত
- খভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- গমুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- ঘকানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর: খ. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের দেবদেবীর মাহাত্ম্যকীর্তনের কাব্যধারা, কয়েক শতক ধরে চলেছে। এ ধারার শেষ বড় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
ভারতচন্দ্র কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন; রাজা তাঁকে রায়গুণাকর উপাধি দেন। তাঁর অন্নদামঙ্গল ১৭৫২ সালে রচিত, আর ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুকে মধ্যযুগের সমাপ্তি ধরা হয়।
বাকি তিনজন এ ধারার আগের কবি। কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি, বিজয়গুপ্ত পনেরো শতকে মনসামঙ্গল লেখেন, আর মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ষোলো শতকে চণ্ডীমঙ্গল লেখেন।
মুকুন্দরাম ফাঁদ হতে পারেন, কারণ তিনি মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। কিন্তু শ্রেষ্ঠ আর সর্বশেষ এক কথা নয়।
মনে রাখুন: মঙ্গলকাব্যে প্রথম কানাহরি দত্ত, শেষ ভারতচন্দ্র; ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ১৭৬০ মানেই মধ্যযুগের শেষ।
১১৭১. বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনবদ্বীপের
- খমিথিলার
- গবৃন্দাবনের
- ঘবর্ধমানের
সঠিক উত্তর: খ. মিথিলার
বিদ্যাপতি মিথিলার কবি, যা এখন ভারতের বিহার রাজ্যে। তিনি মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁর উপাধি মৈথিল কোকিল।
তিনি বাংলায় লেখেননি, লিখেছেন ব্রজবুলিতে, যা মৈথিলি আর বাংলার মিশ্রণে তৈরি এক কৃত্রিম সাহিত্যভাষা। তাঁর রাধাকৃষ্ণের পদ বাংলার বৈষ্ণবসমাজে এত জনপ্রিয় হয় যে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি স্থান পান।
নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্যের জন্মস্থান, বৃন্দাবন রাধাকৃষ্ণের লীলাভূমি, আর বর্ধমানের দামুন্যা গ্রাম মুকুন্দরামের জন্মস্থান। বৈষ্ণব প্রসঙ্গের জায়গা বলে এগুলো দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
মনে রাখার সূত্র তাঁর উপাধিতেই: মৈথিল মানে মিথিলার।
মনে রাখুন: উপাধিতেই উত্তর: মৈথিল কোকিল মানে মিথিলার কবি; ভাষা ব্রজবুলি।
১১৭২. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কি ধরনের চরিত্র? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কশ্রী রাধার ননদিনী
- খশ্রী রাধার শাশুড়ি
- গরাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
- ঘজনৈক গোপবালা
সঠিক উত্তর: গ. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম বাংলা কাব্য। এর মূল চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা আর বড়াই।
বড়াই এক বয়স্কা নারী, রাধার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন। কাহিনিতে তিনি কৃষ্ণ আর রাধার মধ্যে যোগাযোগ ঘটান, তাই তাঁকে প্রেমের দূতী বলা হয়।
কাব্যে কাহিনি এগোয় সংলাপের মতো করে, আর বড়াই সেই সংলাপের মধ্যস্থ। এ কারণে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে নাট্যগুণ আছে বলে সমালোচকেরা মনে করেন।
ননদিনী বা শাশুড়ি আত্মীয় সম্পর্ক, কিন্তু বড়াইয়ের ভূমিকা আত্মীয়ের নয়, দূতীর। আর তিনি কিশোরী গোপবালাও নন, বয়স্কা নারী।
মনে রাখুন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের চরিত্র মাত্র তিনটি; তৃতীয়জন বড়াই, দূতী।
১১৭৩. লোকসাহিত্য কাকে বলে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কগ্রামীণ নরনারীর প্রণয় সংবলিত উপাখ্যানকে
- খলোক সাধারণের কল্যাণে দেবতার স্তুতিমূলক রচনাকে
- গলোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
- ঘগ্রামীণ অশিক্ষিত ও অখ্যাত লোকের সৃষ্ট রচনাকে
সঠিক উত্তর: গ. লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
লোকসাহিত্য হলো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি, গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, যা লিখিত রূপ ছাড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।
এর মূল বৈশিষ্ট্য মৌখিকতা। রচয়িতা সাধারণত অজ্ঞাত, আর মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে রূপ বদলায়, তাই একে সমষ্টির সৃষ্টি বলা হয়। মৈমনসিংহ গীতিকা, রূপকথা, লোকগীতি এর উদাহরণ।
অন্য সংজ্ঞাগুলো অসম্পূর্ণ বা ভুল। গ্রামীণ প্রণয়কাহিনি লোকসাহিত্যের একটি অংশ মাত্র, পুরোটা নয়। দেবতার স্তুতিমূলক রচনা মঙ্গলকাব্যের মতো লিখিত ধারার বৈশিষ্ট্য।
অশিক্ষিত ও অখ্যাত লোকের রচনা বিকল্পটি ফাঁদ। লোকসাহিত্যের পরিচয় রচয়িতার শিক্ষা দিয়ে নয়, মুখে মুখে প্রচলন দিয়ে।
মনে রাখুন: লোকসাহিত্যের চাবিকাঠি শব্দ: মুখে মুখে প্রচলিত।
১১৭৪. বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনবম শতকে
- খত্রয়োদশ শতকে
- গষোড়শ শতকে
- ঘউনিশ শতকে
সঠিক উত্তর: ঘ. উনিশ শতকে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলা সাহিত্যে গদ্যের সূচনা কখন। প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য প্রায় পুরোটাই পদ্যে লেখা; সাহিত্যিক গদ্যের প্রকৃত সূচনা উনিশ শতকে।
১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পর উইলিয়াম কেরি ও তাঁর পণ্ডিতেরা পাঠ্যপুস্তক হিসেবে বাংলা গদ্যগ্রন্থ লেখেন। রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র তার উদাহরণ। পরে রামমোহন, বিদ্যাসাগর ও বঙ্কিমের হাতে গদ্য পরিণত হয়।
ফাঁদ হলো ষোড়শ শতক। ১৫৫৫ সালের কোচবিহারের রাজার একটি চিঠিকে বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন বলা হয়, কিন্তু সেটি চিঠি, সাহিত্য নয়।
নবম শতক চর্যাপদের যুগ, যা পদ্যে লেখা। আর ত্রয়োদশ শতকের বড় অংশ সাহিত্যের অন্ধকার যুগ, তখনকার উল্লেখযোগ্য সাহিত্য নিদর্শনই প্রায় নেই।
মনে রাখুন: গদ্যের নিদর্শন ষোড়শ শতকে, কিন্তু গদ্য সাহিত্যের সূচনা উনিশ শতকে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে।
১১৭৫. বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কদিকদর্শন
- খসংবাদ প্রভাকর
- গতত্ত্ববোধিনী
- ঘবঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: ক. দিকদর্শন
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র মাসিক দিগ্দর্শন। ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়।
একই বছর, কিছুদিন পরে, শ্রীরামপুর থেকেই বের হয় সমাচার দর্পণ, যা প্রথম বাংলা সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত। সাময়িকপত্র আর সংবাদপত্র আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
বাকিগুলো অনেক পরের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর ১৮৩১, অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী ১৮৪৩, আর বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে।
বঙ্গদর্শন নামটা দিগ্দর্শনের মতো শোনায় বলে ফাঁদ হয়। বিকল্পে বানানটি দিকদর্শন লেখা হলেও পত্রিকার প্রচলিত নাম দিগ্দর্শন।
মনে রাখুন: প্রথম সাময়িকপত্র দিগ্দর্শন, প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ; দুটোই ১৮১৮, শ্রীরামপুর।
১১৭৬. ইয়ং বেঙ্গল কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবাংলাভাষা শিক্ষার্থী ইংরেজ
- খইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
- গএকটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর নাম
- ঘএকটি সাময়িক পত্রের নাম
সঠিক উত্তর: খ. ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
উনিশ শতকের প্রথম দিকে কলকাতার হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছাত্রদের যুক্তি, প্রশ্ন আর মুক্তচিন্তা শেখান। তাঁর অনুসারী পাশ্চাত্য ভাবধারায় প্রভাবিত বাঙালি তরুণদের বলা হয় ইয়ং বেঙ্গল।
তাঁরা কুসংস্কার আর গোঁড়ামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেন, বিতর্কসভা চালাতেন আর পত্রিকা বের করতেন। প্যারীচাঁদ মিত্র, রামগোপাল ঘোষ, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এ দলের পরিচিত নাম।
অর্থাৎ ইয়ং বেঙ্গল কোনো পত্রিকা বা নিছক সাহিত্যগোষ্ঠী নয়, একদল তরুণ ও তাঁদের চিন্তার আন্দোলন। তাঁরা পত্রিকা চালিয়েছেন, কিন্তু নিজেরা পত্রিকা নন।
সাহিত্যিক গোষ্ঠী বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ সদস্যদের কেউ কেউ লেখক ছিলেন। কিন্তু তাঁদের মূল পরিচয় সমাজসংস্কারের চিন্তায়, সাহিত্যে নয়।
মনে রাখুন: ইয়ং বেঙ্গল শুনলেই তিনটি শব্দ: ডিরোজিও, হিন্দু কলেজ, মুক্তচিন্তা।
১১৭৭. দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
- খবিয়ে পাগলা বুড়ো
- গকিঞ্চিত জলযোগ
- ঘকল্কি অবতার
সঠিক উত্তর: খ. বিয়ে পাগলা বুড়ো
প্রহসন হলো সমাজের দোষত্রুটি নিয়ে হাসির ছোট নাটক। দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন বিয়ে পাগলা বুড়ো, যেখানে বুড়ো বয়সে বিয়ের জন্য পাগল এক লোককে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
দীনবন্ধুর অন্য দুটি পরিচিত প্রহসন সধবার একাদশী ও জামাই বারিক। তবে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা নীলকরদের অত্যাচার নিয়ে লেখা নাটক নীলদর্পণ।
বাকি প্রহসনগুলোর লেখক ভিন্ন। বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ মাইকেল মধুসূদন দত্তের, কিঞ্চিৎ জলযোগ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের, আর কল্কি অবতার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ। এতেও বুড়ো শব্দ আর বুড়োর লালসা নিয়ে ব্যঙ্গ আছে, কিন্তু এটি মধুসূদনের।
মনে রাখুন: দুই বুড়ো আলাদা রাখুন: বিয়ে পাগলা বুড়ো দীনবন্ধুর, বুড়ো শালিক মধুসূদনের।
১১৭৮. মীর মশাররফ হোসেনের নাটক কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনটির পূজা
- খবেহুলা গীতাভিনয়
- গনবীন তপস্বিনী
- ঘকৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর: খ. বেহুলা গীতাভিনয়
মীর মশাররফ হোসেন বিষাদ-সিন্ধুর জন্য বেশি পরিচিত হলেও তিনি কয়েকটি নাটকও লিখেছেন। বেহুলা গীতাভিনয় তাঁর নাটক, যেখানে মনসামঙ্গলের বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি গানে গানে মঞ্চের উপযোগী করা হয়েছে।
তাঁর অন্য দুটি পরিচিত নাটক বসন্তকুমারী আর জমীদার দর্পণ। জমীদার দর্পণে প্রজার ওপর জমিদারের অত্যাচার দেখানো হয়েছে।
বাকি নাটকগুলোর লেখক আলাদা। নটীর পূজা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, নবীন তপস্বিনী দীনবন্ধু মিত্রের, আর কৃষ্ণকুমারী মাইকেল মধুসূদন দত্তের ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি।
মনে রাখার সহজ সূত্র হলো জমীদার দর্পণ আর দীনবন্ধুর নীলদর্পণের মিল: দুটোই অত্যাচারের দর্পণ, তবে লেখক আলাদা।
মনে রাখুন: মশাররফের তিন নাটক: বসন্তকুমারী, জমীদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়।
১১৭৯. কলকাতায় প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয় কত সালে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১৮১৭ সালে
- খ১৮৩২ সালে
- গ১৮৫২ সালে
- ঘ১৭৫৩ সালে
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৭৫৩ সালে
কলকাতায় প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি করে ইংরেজরা, ১৭৫৩ সালে; এটি প্লে হাউস নামে পরিচিত। এখানে ইংরেজি নাটক মঞ্চস্থ হতো, ইংরেজ দর্শকদের জন্য।
বাংলা নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৭৯৫ সালে, রুশ নাগরিক গেরাসিম লেবেদেফের বেঙ্গলি থিয়েটারে। পরে ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর বাঙালির উদ্যোগে হিন্দু থিয়েটার গড়েন।
অন্য সালগুলো অন্য ঘটনার। ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন, প্রথম মৌলিক বাংলা নাটক।
প্রশ্নে প্রথম রঙ্গমঞ্চ বলা আছে, প্রথম বাংলা নাটক নয়। এই পার্থক্য ধরতে পারলেই ১৮৫২ সালের ফাঁদ এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: রঙ্গমঞ্চ ১৭৫৩, বাংলা মঞ্চায়ন ১৭৯৫, মৌলিক নাটক ১৮৫২: তিনটি প্রথম আলাদা।
১১৮০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কএকরাত্রি
- খনষ্টনীড়
- গক্ষুধিত পাষাণ
- ঘমধ্যবর্তিনী
সঠিক উত্তর: গ. ক্ষুধিত পাষাণ
অতিপ্রাকৃত গল্পে বাস্তবের বাইরের, ব্যাখ্যাতীত ঘটনা থাকে, যেমন ভূত, অশরীরী উপস্থিতি বা অতীতের জীবন্ত হয়ে ওঠা। রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণ এ ধারার সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প।
গল্পে এক তুলা মাশুলের কর্মচারী পুরোনো এক প্রাসাদে থাকতে গিয়ে রাতে সেখানকার অতীত জীবনের অশরীরী উপস্থিতি অনুভব করেন। প্রাসাদটাই যেন ক্ষুধার্ত পাথর, যে মানুষকে গ্রাস করে।
রবীন্দ্রনাথের অন্য অতিপ্রাকৃত গল্প মণিহারা, নিশীথে, কঙ্কাল। কিন্তু বিকল্পের বাকি তিনটি বাস্তব সংসারজীবনের গল্প।
একরাত্রি হারানো প্রেমের স্মৃতির গল্প, নষ্টনীড় চারু আর অমলের সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্যের গল্প, আর মধ্যবর্তিনী স্বামী, স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর টানাপোড়েনের গল্প।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃত গল্প: ক্ষুধিত পাষাণ, মণিহারা, নিশীথে, কঙ্কাল।