বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬৯
১৩৬১. ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খফররুখ আহমদ
- গআব্দুল কাদির
- ঘবন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর: খ. ফররুখ আহমদ
সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯৪৪ সালে। আরব্য উপন্যাসের সিন্দাবাদের সমুদ্রযাত্রার রূপক ব্যবহার করে তিনি মুসলিম সমাজকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ কারণে ফররুখ আহমদকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা হয়। তাঁর অন্য রচনা সিরাজাম মুনীরা, হাতেম তায়ী, আর শিশুতোষ পাখির বাসা।
বাকি তিনজন অন্য কাব্যের কবি। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্য অগ্নিবীণা, আবদুল কাদিরের দিলরুবা, আর বন্দে আলী মিয়ার ময়নামতির চর।
নজরুল এখানে ফাঁদ, কারণ ইসলামি ঐতিহ্যের কবিতার কথা উঠলেই তাঁর নাম মনে আসে। কিন্তু সাত সাগরের মাঝি ফররুখের।
মনে রাখুন: ফররুখ মানেই সমুদ্র আর সিন্দাবাদ: সাত সাগরের মাঝি, রেনেসাঁর কবি।
১৩৬২. বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কঅগ্নিসাক্ষী
- খচিলেকোঠার সেপাই
- গআরেক ফাল্গুন
- ঘঅনেক সূর্যের আশা
সঠিক উত্তর: গ. আরেক ফাল্গুন
জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পরের বছরগুলোতে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনকে ঘিরে লেখা। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাসের প্রশ্নে এটিই সবচেয়ে পরিচিত উত্তর।
উপন্যাসের ছাত্রছাত্রীরা শহিদ দিবস পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়; জেলখানায় তাদের মুখে শোনা যায়, আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো। এই কথাটিই আন্দোলনের অদম্যতার প্রতীক।
বাকিগুলোর বিষয় আলাদা। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা। অগ্নিসাক্ষী আর সরদার জয়েনউদ্দীনের অনেক সূর্যের আশা ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়।
চিলেকোঠার সেপাই ফাঁদ, কারণ সেটিও রাজনৈতিক আন্দোলনের উপন্যাস। কিন্তু আন্দোলনটি ঊনসত্তরের, বায়ান্নর নয়।
মনে রাখুন: ফাল্গুন মানে ফেব্রুয়ারি, মানে একুশ: আরেক ফাল্গুন ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস।
১৩৬৩. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কশঙ্খনীল কারাগার
- খকাঁটাতারে প্রজাপতি
- গজাহান্নাম হইতে বিদায়
- ঘআর্তনাদ
সঠিক উত্তর: গ. জাহান্নাম হইতে বিদায়
শওকত ওসমানের জাহান্নাম হইতে বিদায় ১৯৭১ সালে লেখা, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার উপন্যাস। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনে বিপন্ন দেশ ছেড়ে এক শিক্ষকের যাত্রার কাহিনি আছে; জাহান্নাম বলতে সেই অবরুদ্ধ দেশকেই বোঝানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমানের আরও উপন্যাস আছে, যেমন নেকড়ে অরণ্য ও দুই সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি পরিচিত উপন্যাস সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড।
বাকি তিনটির বিষয় আলাদা। হুমায়ূন আহমেদের শঙ্খনীল কারাগার মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। সেলিনা হোসেনের কাঁটাতারে প্রজাপতি নাচোলের কৃষক বিদ্রোহ আর ইলা মিত্রকে নিয়ে।
আর্তনাদ ফাঁদ, কারণ এটিও শওকত ওসমানের উপন্যাস। কিন্তু এর পটভূমি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ নয়।
মনে রাখুন: শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জাহান্নাম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্য, দুই সৈনিক।
১৩৬৪. শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবনী আদম
- খজননী
- গচৌরসন্ধি
- ঘক্রীতদাসের হাসি
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রীতদাসের হাসি
শওকত ওসমান ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার পান। উপন্যাসে খলিফা হারুনুর রশীদ তাঁর ক্রীতদাস তাতারীর প্রাণখোলা হাসি কিনতে চান, কিন্তু দাসত্বে বন্দি তাতারী আর হাসে না।
এর মূল কথা, হাসি বা মুক্ত মন টাকা বা ক্ষমতা দিয়ে কেনা যায় না। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় লেখা উপন্যাসটিকে স্বৈরশাসনের প্রতীকী সমালোচনা বলে ধরা হয়।
জননী, বনী আদম, চৌরসন্ধিও শওকত ওসমানের উপন্যাস, তাই এগুলোই ফাঁদ। কিন্তু আদমজী পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত নাম ক্রীতদাসের হাসি।
জননী তাঁর সবচেয়ে পরিচিত সামাজিক উপন্যাস, গ্রামীণ এক মায়ের সংগ্রামের কাহিনি। নামডাক বেশি বলে অনেকে জননী বেছে নেন।
মনে রাখুন: শওকত ওসমান আর আদমজী জুড়ে দিন: ক্রীতদাসের হাসি।
১৩৬৫. ‘উপরোধ’ শব্দের অর্থ কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কপ্রতিরোধ
- খউপস্থাপন
- গঅনুরোধ
- ঘউপযোগী
সঠিক উত্তর: গ. অনুরোধ
উপরোধ শব্দের অর্থ অনুরোধ, বিশেষ করে বারবার পীড়াপীড়ি করে অনুরোধ। প্রবাদেও শব্দটি আছে: উপরোধে ঢেঁকি গেলা, মানে অন্যের অনুরোধে না চাইলেও কঠিন কাজ মেনে নেওয়া।
শব্দটি গঠিত উপ উপসর্গ আর রোধ দিয়ে, কিন্তু অর্থ দাঁড়িয়েছে কাউকে আটকে ধরে অনুরোধ করা। তাই রোধ অংশ দেখে বাধা অর্থ ভাবলে ভুল হবে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ প্রতিরোধ। দুটো শব্দেই রোধ আছে, কিন্তু প্রতিরোধ মানে বাধা দেওয়া বা ঠেকানো।
উপস্থাপন মানে সামনে হাজির করা, আর উপযোগী মানে উপযুক্ত। দুটোতেই উপ উপসর্গের মিল আছে, অর্থের নয়।
মনে রাখুন: উপরোধে ঢেঁকি গেলা মনে থাকলে উপরোধের অর্থ আর ভুল হবে না।
১৩৬৬. কোনটি উপন্যাস? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কনতুন চাঁদ
- খকন্যাকুমারী
- গগড্ডলিকা
- ঘনেমেসিস
সঠিক উত্তর: খ. কন্যাকুমারী
প্রশ্নটা সাহিত্যের রূপভেদ চিনতে চেয়েছে: চারটি বইয়ের মধ্যে কোনটি উপন্যাস। এ ধরনের প্রশ্নে নিরাপদ কৌশল হলো যে বইগুলো নিশ্চিতভাবে চেনা, সেগুলোর ধরন মিলিয়ে বাদ দেওয়া।
নতুন চাঁদ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ। গড্ডলিকা রাজশেখর বসুর প্রথম গল্পগ্রন্থ; তিনি পরশুরাম ছদ্মনামে ব্যঙ্গরসের গল্প লিখতেন।
নেমেসিস নুরুল মোমেনের নাটক, যেখানে মঞ্চে একটিমাত্র চরিত্র কথা বলে। তিনটি বই কাব্য, গল্প আর নাটক; তাই বাকি থাকা কন্যাকুমারীই উপন্যাস; এটি আবদুর রাজ্জাকের লেখা।
ফাঁদ হলো নেমেসিস নামটি। বিদেশি শোনায় বলে অনেকে একে অনুবাদ উপন্যাস ভাবেন, কিন্তু এটি বাংলা নাটক।
মনে রাখুন: অচেনা বই থাকলে চেনা তিনটির ধরন মিলিয়ে বাদ দিন; বাকিটাই উত্তর।
১৩৬৭. লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কআলাওল
- খকোরেশী মগন
- গদৌলত কাজী
- ঘসৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. দৌলত কাজী
মধ্যযুগের বাংলা কাব্যের বেশির ভাগ ছিল দেবদেবী বা ধর্মকেন্দ্রিক। আরাকান রাজসভার কবি দৌলত কাজী প্রথম দেবতার বদলে মানুষের প্রেম আর লোকজীবনের কাহিনি নিয়ে কাব্য লেখেন, তাই তাঁকে লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা বলা হয়।
তাঁর কাব্যের নাম সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী। তিনি কাব্যটি শেষ করে যেতে পারেননি; পরে আলাওল এর বাকি অংশ লিখে কাব্যটি সম্পূর্ণ করেন।
এখানেই ফাঁদ। একই কাব্যের সঙ্গে আলাওলের নাম যুক্ত বলে অনেকে আলাওল বেছে নেন, কিন্তু তিনি সমাপ্তকারী, প্রথম রচয়িতা নন।
কোরেশী মাগন ঠাকুর চন্দ্রাবতী কাব্যের কবি এবং দৌলত কাজীর পরের যুগের। সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ ধর্মীয় কাহিনিকাব্য, লৌকিক প্রেমকাহিনি নয়।
মনে রাখুন: আরাকান রাজসভার প্রশ্নে মনে রাখুন: শুরু দৌলত কাজী, শেষ করেন আলাওল।
১৩৬৮. সাপ্তাহিক ‘সুধাকর’ এর সম্পাদক কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমুন্সি মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন আহমদ
- খমুন্সি মোহাম্মদ মেহের উল্লা
- গশেখ আব্দুর রহিম
- ঘইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর: গ. শেখ আব্দুর রহিম
সাপ্তাহিক সুধাকর ১৮৮৯ সালে কলকাতা থেকে বের হয়। উনিশ শতকের শেষে মুসলমান লেখকদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর তৈরি আর তাঁদের বিরুদ্ধে লেখা আক্রমণের জবাব দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য; এর লেখকদের বলা হতো সুধাকর গোষ্ঠী।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন শেখ আবদুর রহিম ও রিয়াজউদ্দিন আহমদ। বেশির ভাগ সূত্র ও প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী এর প্রথম সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম।
মুন্সি মোহাম্মদ মেহেরউল্লাহ ছিলেন সুধাকর গোষ্ঠীর নিয়মিত লেখক ও প্রচারক, সম্পাদক নন। ইসমাইল হোসেন সিরাজী পরের প্রজন্মের কবি, অনল প্রবাহের জন্য বেশি পরিচিত।
ফাঁদ হলো রিয়াজউদ্দিন আহমদের নাম। প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা থাকায় কোনো কোনো বিবরণে তাঁকেও সম্পাদক বলা হয়, তবে পরীক্ষার উত্তর শেখ আবদুর রহিম।
মনে রাখুন: সুধাকর মানেই শেখ আবদুর রহিম; মেহেরউল্লাহ লেখক, সম্পাদক নন।
১৩৬৯. মাসিক মোহাম্মদী কোন সালে প্রকাশিত হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৯২৬
- খ১৯২৭
- গ১৯২৮
- ঘ১৯২৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২৭
মাসিক মোহাম্মদী মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর পত্রিকা, যা ১৯২৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এর আগে একই নামে সাপ্তাহিক পত্রিকাও বের হতো, তাই মাসিক কথাটিই এখানে আসল সূত্র।
সাল মনে রাখার সহজ উপায় হলো ১৯২৭ সালের অন্য পত্রিকাগুলোর সঙ্গে জুড়ে রাখা। একই বছর ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা আর বুদ্ধদেব বসুর প্রগতিও বের হয়।
আকরম খাঁ পরে ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদ প্রকাশ করেন। মোহাম্মদী, আজাদ আর আকরম খাঁ একসঙ্গে মনে রাখলে প্রশ্নের নানা রূপ সামলানো যায়।
১৯২৬ সালটি ফাঁদ; সে বছর বের হয় কালিকলম। কাছাকাছি সালের বিকল্প দিয়ে বিভ্রান্ত করাই এ প্রশ্নের কৌশল।
মনে রাখুন: ১৯২৭ সালের ত্রয়ী: মাসিক মোহাম্মদী, শিখা, প্রগতি।
১৩৭০. কোন পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ককালিকলম
- খপ্রগতি
- গকল্লোল
- ঘসবুজপত্র
সঠিক উত্তর: গ. কল্লোল
প্রশ্নটা বিশ শতকের সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশসাল জানতে চেয়েছে। দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগের সম্পাদনায় কল্লোল প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে।
কল্লোল ঘিরে রবীন্দ্রপ্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার যে আধুনিক সাহিত্য আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে বলা হয় কল্লোল যুগ। এ গোষ্ঠীর লেখকদের মধ্যে ছিলেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু।
বাকি পত্রিকাগুলো সাল ধরে সাজালে পরিষ্কার হয়: প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র ১৯১৪, কল্লোল ১৯২৩, কালিকলম ১৯২৬, আর ঢাকার প্রগতি ১৯২৭।
কালিকলম আর প্রগতিও কল্লোলের ধারার পত্রিকা, তাই অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটিই কল্লোলের কয়েক বছর পরে বের হয়েছে।
মনে রাখুন: ক্রম মনে রাখুন: সবুজপত্র, কল্লোল, কালিকলম, প্রগতি; সাল ১৪, ২৩, ২৬, ২৭।
১৩৭১. ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কঅরণি
- খপরিচয়
- গনবশক্তি
- ঘক্রান্তি
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রান্তি
প্রশ্নটা পত্রিকার প্রকাশস্থান জানতে চেয়েছে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য পত্রিকার কেন্দ্র ছিল কলকাতা, তাই ঢাকার পত্রিকা আলাদা করে চিনে রাখতে হয়।
পরিচয় সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় ১৯৩১ সালে কলকাতা থেকে বের হয়। অরণি আর নবশক্তিও কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো।
এ তিনটি বাদ দিলে থাকে ক্রান্তি, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ঢাকার আরও দুটি পরিচিত পত্রিকা হলো বুদ্ধদেব বসুর প্রগতি আর মুসলিম সাহিত্য সমাজের শিখা।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ পরিচয়। নামটা খুব পরিচিত বলে অনেকে ভাবেন এটা ঢাকার, কিন্তু এটি কলকাতার পত্রিকা।
মনে রাখুন: ঢাকার পত্রিকা মনে রাখুন: প্রগতি, শিখা, ক্রান্তি; বাকিগুলো সাধারণত কলকাতার।
১৩৭২. গ্রিক শব্দ কোনটি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কতুফান
- খলুঙ্গী
- গকুশন
- ঘদাম
সঠিক উত্তর: ঘ. দাম
প্রশ্নটা বাংলা শব্দভান্ডারের বিদেশি উৎস নিয়ে। বাংলায় হাতে গোনা কয়েকটি শব্দ গ্রিক থেকে এসেছে, আর পরীক্ষায় সেগুলোই বারবার আসে।
দাম শব্দটি এসেছে গ্রিক দ্রাখমে থেকে, যা ছিল একটি মুদ্রার নাম। মুদ্রার নাম থেকে মূল্য অর্থে শব্দটি নানা ভাষা ঘুরে বাংলায় এসেছে। বাংলায় আরও দুটি পরিচিত গ্রিক শব্দ হলো সুড়ঙ্গ আর কেন্দ্র।
অন্য তিনটির উৎস আলাদা। তুফান আরবি থেকে আসা শব্দ, লুঙ্গি বর্মি শব্দ, আর কুশন সরাসরি ইংরেজি শব্দ।
লুঙ্গি নিয়ে ভুল সবচেয়ে বেশি হয়। একে অনেকে দেশি বা ফারসি ভাবেন, কিন্তু এটি বর্মি ভাষা থেকে এসেছে।
মনে রাখুন: গ্রিক শব্দের ছোট তালিকা: দাম, সুড়ঙ্গ, কেন্দ্র। বর্মি শব্দ: লুঙ্গি, ফুঙ্গি।
১৩৭৩. বাংলা ভাষায় কয়টি খাঁটি বাংলা উপসর্গ আছে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কউনিশ
- খকুড়ি
- গএকুশ
- ঘবাইশ
সঠিক উত্তর: গ. একুশ
উপসর্গ হলো শব্দের আগে বসে অর্থ বদলে দেওয়া অব্যয়। বাংলায় উপসর্গ তিন রকম: তৎসম বা সংস্কৃত, খাঁটি বাংলা, আর বিদেশি।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। যেমন অজপাড়াগাঁ, অনাবৃষ্টি, হাভাতে।
তৎসম উপসর্গ ২০টি, যেমন প্র, পরা, অপ, সম। বিদেশি উপসর্গের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, যেমন বে, বদ, না, ফি।
ফাঁদ হলো কুড়ি বিকল্প। এটা তৎসম উপসর্গের সংখ্যা; দুটো সংখ্যা কাছাকাছি বলে গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: তৎসম ২০, খাঁটি বাংলা তার এক বেশি, ২১।
১৩৭৪. ‘শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের সংলাপ? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কএকরাত্রি
- খশুভা
- গসমাপ্তি
- ঘপোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর: গ. সমাপ্তি
উদ্ধৃতিতে একটি দুরন্ত মেয়েকে শিশুদের রাজ্যে বর্গির উপদ্রবের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গল্পে এমন চঞ্চল, গাছে চড়া, ছুটে বেড়ানো মেয়ে হলো সমাপ্তি গল্পের মৃন্ময়ী।
গ্রামের লোকে তাকে পাগলি বলে ডাকে। শিক্ষিত যুবক অপূর্ব তাকে বিয়ে করে, আর গল্পের শেষে দুরন্ত বালিকা থেকে মৃন্ময়ীর নারী হয়ে ওঠাই এর মূল বিষয়।
অন্য গল্পগুলোর মেয়ে চরিত্র একদম আলাদা। পোস্টমাস্টারের রতন শান্ত, সেবাপরায়ণ অনাথ বালিকা; সুভা গল্পের সুভা কথা বলতে পারে না; একরাত্রির সুরবালা স্মৃতিতে থাকা বাল্যসঙ্গিনী।
চরিত্রের স্বভাব মিলিয়ে নিলেই উত্তর পাওয়া যায়: উপদ্রব শব্দটা কেবল মৃন্ময়ীর সঙ্গেই মানায়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রগল্পের প্রশ্নে নায়িকার স্বভাব ধরুন: দুরন্ত মানেই মৃন্ময়ী।
১৩৭৫. বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
- খবঙ্গভাষা ও সাহিত্য
- গবাংলা সাহিত্যের কথা
- ঘবাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
সঠিক উত্তর: খ. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ কোনটি। প্রচলিত উত্তর দীনেশচন্দ্র সেনের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, প্রকাশিত ১৮৯৬ সালে।
দীনেশচন্দ্র সেন পুরোনো পুঁথি ঘেঁটে প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যকে প্রথম ধারাবাহিক ইতিহাসে সাজান। তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের জন্যও বিখ্যাত।
অন্য তিনটি বই পরে লেখা। বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস সুকুমার সেনের, বাংলা সাহিত্যের কথা মুহম্মদ শহীদুল্লাহর, আর বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা গোপাল হালদারের।
জেনে রাখা ভালো, রামগতি ন্যায়রত্নের একটি প্রস্তাব-গ্রন্থ এর আগে বের হয়েছিল, তবে তা বিকল্পে নেই। ফাঁদ হলো সুকুমার সেনের বইটি; নামে ইতিহাস শব্দ থাকায় অনেকে এটিকেই প্রথম ভাবেন।
মনে রাখুন: ইতিহাস বইয়ের প্রশ্নে লেখক জোড়া মনে রাখুন: দীনেশ, সুকুমার, শহীদুল্লাহ, গোপাল।
১৩৭৬. কত খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ পদক লাভ করেন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৯১৬
- খ১৯২৩
- গ১৯৩৩
- ঘ১৯০৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২৩
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী স্বর্ণপদক সাহিত্যে বড় অবদানের জন্য দেওয়া হয়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই পদক পান ১৯২৩ সালে।
সাল মনে রাখতে শরৎচন্দ্রের জীবনের কয়েকটি মাইলফলক জুড়ে নিন। তিনি ১৯০৩ সালে বর্মায়, মানে রেঙ্গুনে চাকরি নিয়ে যান, আর ১৯১৬ সালে ফিরে আসেন।
১৯২৩ সালে জগত্তারিণী পদক, আর ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি লিট উপাধি দেয়।
১৯০৩ আর ১৯১৬ তাঁর জীবনের সত্যিকারের সাল, কিন্তু পদকের নয়; তাই এগুলো ফাঁদ।
মনে রাখুন: শরৎচন্দ্রের সম্মান: ১৯২৩ কলকাতার পদক, ১৯৩৬ ঢাকার ডি লিট।
১৩৭৭. রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমাগধীয় ব্যাকরণ
- খগৌড়ীয় ব্যাকরণ
- গমাতৃভাষা ব্যাকরণ
- ঘভাষা ও ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: খ. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
রাজা রামমোহন রায় বাংলা ভাষায় যে ব্যাকরণ লেখেন তার নাম গৌড়ীয় ব্যাকরণ, প্রকাশিত ১৮৩৩ সালে। গৌড় ছিল বাংলার প্রাচীন নাম, তাই গৌড়ীয় মানে বাংলার।
এর আগে বাংলার ব্যাকরণ লিখেছিলেন বিদেশিরা, নিজেদের ভাষায়। পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায়, আর হ্যালহেড ইংরেজিতে। তাই বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
মাগধীয় নামটা বিভ্রান্ত করে, কারণ বাংলা ভাষার জন্ম মাগধী প্রাকৃত থেকে। কিন্তু মাগধীয় ব্যাকরণ নামে রামমোহনের কোনো বই নেই।
মাতৃভাষা ব্যাকরণ বা ভাষা ও ব্যাকরণ নামগুলো শুনতে স্বাভাবিক, কিন্তু রামমোহনের রচনা নয়।
মনে রাখুন: গৌড় মানে বাংলা: বাংলার প্রথম বাঙালি ব্যাকরণের নামও গৌড়ীয়।
১৩৭৮. ‘মেছো’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমাছ + ও
- খমেছ + ও
- গমাছি + উয়া> ও
- ঘমাছ + উয়া> ও
সঠিক উত্তর: ঘ. মাছ + উয়া> ও
প্রশ্নটা প্রকৃতি ও প্রত্যয় আলাদা করতে বলেছে। মেছো মানে মাছসংক্রান্ত, যেমন মেছো বাজার; তাই প্রকৃতি বা মূল শব্দ হলো মাছ।
মাছের সঙ্গে উয়া প্রত্যয় যোগ হয়ে প্রথমে হয় মেছুয়া। উয়া প্রত্যয় যোগ হলে শব্দের প্রথম আ-কার অনেক সময় এ-কার হয়ে যায়, তাই মাছ থেকে মেছ।
পরে উচ্চারণে উয়া সংক্ষিপ্ত হয়ে ও হয়ে যায়: মেছুয়া থেকে মেছো। একই নিয়মে মাঠ থেকে মেঠো, জল থেকে জলো।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ মাছ যোগ ও। শেষের ও দেখে অনেকে ও প্রত্যয় ধরেন, কিন্তু ও হলো উয়া প্রত্যয়ের পরিবর্তিত রূপ।
মনে রাখুন: শব্দের শেষে ও থাকলে আর অর্থ হয় সংক্রান্ত, তবে প্রত্যয় সাধারণত উয়া: মেঠো, জলো, মেছো।
১৩৭৯. কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবাক্ + দান = বাগদান
- খউৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
- গপর + পর = পরস্পর
- ঘসম্ + সার = সংসার
সঠিক উত্তর: গ. পর + পর = পরস্পর
যে সন্ধি ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে হয় না, প্রচলিত ব্যবহারের জোরে সিদ্ধ, তাকে বলে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। এদের নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, মুখস্থ রাখতে হয়।
পর আর পর মিললে নিয়ম অনুযায়ী মাঝে স আসার কোনো কারণ নেই, তবু হয় পরস্পর। তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ। একই ধরনের আরও উদাহরণ: আ আর চর্য মিলে আশ্চর্য, বৃহৎ আর পতি মিলে বৃহস্পতি।
বাকি তিনটি নিয়মমাফিক ব্যঞ্জনসন্ধি। বাক্ আর দান মিলে বাগ্দান: ক্ এর পর ঘোষ ধ্বনি দ এলে ক্ বদলে গ্ হয়। উৎ আর ছেদ মিলে উচ্ছেদ: ত্ এর পর ছ এলে হয় চ্ছ।
সম্ আর সার মিলে সংসার: ম্ এর পর স এলে ম্ অনুস্বার হয়। তিনটির নিয়ম আছে, শুধু পরস্পরের নেই।
মনে রাখুন: নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির তালিকা ছোট: পরস্পর, আশ্চর্য, বৃহস্পতি, বনস্পতি, গোষ্পদ, একাদশ, পতঞ্জলি।
১৩৮০. বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয় কোন নাট্যকারের হাতে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমধুসূদন দত্ত
- খদীনবন্ধু মিত্র
- গজ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘতারাচরণ শিকদার
সঠিক উত্তর: ঘ. তারাচরণ শিকদার
মৌলিক নাটক মানে অনুবাদ বা রূপান্তর নয়, নিজের লেখা কাহিনির নাটক। বাংলায় প্রথম মৌলিক নাটক তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন, প্রকাশিত ১৮৫২ সালে।
একই বছর যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের কীর্তিবিলাস বের হয়, যাকে প্রথম বাংলা ট্র্যাজেডি বলা হয়। তাই ১৮৫২ সালকে বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রার বছর ধরা হয়।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা ১৮৫৯ সালে বের হয়; এটি প্রথম সার্থক বাংলা নাটক, প্রথম মৌলিক নাটক নয়। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ ১৮৬০ সালের।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ মধুসূদন। প্রথম আর প্রথম সার্থক, এ দুটো আলাদা করে মনে রাখলেই ভুল হয় না।
মনে রাখুন: প্রথম মৌলিক: ভদ্রার্জুন; প্রথম সার্থক: শর্মিষ্ঠা; প্রথম ট্র্যাজেডি: কীর্তিবিলাস।