নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ৩
৪১. 'জ্ঞান হয় পুণ্য'-এই উক্তিটি কার? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কথেলিস
- খসক্রেটিস
- গএ্যারিস্টটল
- ঘপ্লেটো
সঠিক উত্তর: খ. সক্রেটিস
জ্ঞানই পুণ্য, ইংরেজিতে ভার্চু ইজ নলেজ, সক্রেটিসের নৈতিক দর্শনের মূল কথা। প্রশ্নে লেখা আছে 'জ্ঞান হয় পুণ্য', অর্থ একই।
সক্রেটিস বলতেন, কেউ জেনে-শুনে অন্যায় করে না। মানুষ মন্দ কাজ করে অজ্ঞতা থেকে, কারণ সে আসলে বোঝে না কোনটি তার জন্য সত্যিই ভালো। তাই যে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে, সে আপনা থেকেই সৎ ও ন্যায়বান হয়।
সক্রেটিস নিজে কিছু লিখে যাননি। তাঁর এই মত আমরা জানি ছাত্র প্লেটোর সংলাপ, যেমন প্রোটাগোরাস ও মেনো থেকে। এজন্য প্লেটো বিকল্পটি বড় ফাঁদ; কথাটি প্লেটোর লেখায় আছে, কিন্তু মতটি সক্রেটিসের নামে প্রচলিত।
থেলিস গ্রিক দর্শনের প্রথম দার্শনিক, তিনি বলেন সব কিছুর মূল উপাদান পানি। অ্যারিস্টটল সক্রেটিসের এই মতের সমালোচনা করে বলেন, জেনেও মানুষ দুর্বলতায় অন্যায় করতে পারে।
মনে রাখুন: জ্ঞানই পুণ্য: সক্রেটিস। নিজেকে জানো: সক্রেটিসের নামে প্রচলিত আরেক বাক্য।
৪২. নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কশুদ্ধাচার
- খমূল্যবোধ
- গমানবিকতা
- ঘসফলতা
সঠিক উত্তর: ক. শুদ্ধাচার
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে বলে শুদ্ধাচার। সংজ্ঞাটি হুবহু দুই হাজার বারো সালের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল থেকে নেওয়া।
শুদ্ধ মানে খাঁটি, আচার মানে আচরণ। কৌশলে আরও বলা হয়েছে, শুদ্ধাচার বলতে সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝায়, আর ব্যক্তি পর্যায়ে এর অর্থ কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা।
বাস্তব উদাহরণ: একজন ভূমি অফিসের কর্মচারী নামজারি করতে বাড়তি টাকা চান না, সময়মতো ফাইল ছাড়েন, আর সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। এটি শুদ্ধাচার।
মূল্যবোধ হলো ভালো-মন্দ বিচারের মানদণ্ড, আচরণের উৎকর্ষ নয়। মানবিকতা মানে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, আর সফলতা লক্ষ্য অর্জন। সংজ্ঞার শব্দগুলো মুখস্থ থাকলে এই প্রশ্নে ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।
মনে রাখুন: সংজ্ঞায় 'আচরণগত উৎকর্ষ' থাকলে উত্তর শুদ্ধাচার।
৪৩. মূল্যবোধের উৎস কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কধর্ম
- খসমাজ
- গনৈতিক চেতনা
- ঘরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর: ক. ধর্ম
এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ধর্ম। যুক্তি হলো, মানুষের বেশির ভাগ মূল্যবোধ, যেমন সত্য বলা, চুরি না করা, বড়দের সম্মান, দরিদ্রকে সাহায্য, ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে এসেছে এবং ধর্মের মাধ্যমেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়েছে।
বাংলাদেশের মতো সমাজে বেশির ভাগ মানুষ ভালো-মন্দের প্রথম পাঠ পায় ধর্মীয় শিক্ষা থেকে। তাই মূল্যবোধের উৎসের আলোচনায় ধর্মকে সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।
পার্থক্যটা খেয়াল করুন: তেতাল্লিশতম বিসিএসে প্রশ্ন ছিল নৈতিক মূল্যবোধের উৎস, আর সেখানে প্রচলিত উত্তর নৈতিক চেতনা, কারণ নৈতিক মূল্যবোধ আসে ভেতরের বিবেক থেকে। এবারের প্রশ্নে নৈতিক শব্দটি নেই, সাধারণ মূল্যবোধের কথা, তাই বাইরের বড় উৎস ধর্মকে উত্তর ধরা হয়েছে।
তবে প্রশ্নটি দ্ব্যর্থক। সমাজ ও রাষ্ট্রও মূল্যবোধে প্রভাব রাখে, আর কিছু প্রকাশিত সমাধানে এখানে নৈতিক চেতনাকেই উত্তর ধরা হয়েছে। পরীক্ষায় প্রশ্নের শব্দটি খেয়াল করে উত্তর দিন।
মনে রাখুন: শুধু 'মূল্যবোধের উৎস' হলে ধর্ম; 'নৈতিক মূল্যবোধের উৎস' হলে নৈতিক চেতনা।
৪৪. 'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅ্যারিস্টটল
- খবার্ট্রান্ড রাসেল
- গহার্বার্ট স্পেন্সার
- ঘইমানূয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. ইমানূয়েল কান্ট
শর্তহীন আদেশ, ইংরেজিতে ক্যাটেগরিক্যাল ইম্পারেটিভ, ধারণাটির প্রবর্তক জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। তিনি এটি দেন সতেরোশো পঁচাশি সালে প্রকাশিত গ্রাউন্ডওয়ার্ক অব দ্য মেটাফিজিক্স অব মরালস গ্রন্থে।
কান্ট দুই ধরনের আদেশের কথা বলেন। শর্তাধীন আদেশ বলে, তুমি যদি কিছু চাও তবে এটা করো; যেমন, পাস করতে চাইলে পড়ো। শর্তহীন আদেশ কোনো যদি মানে না; যেমন, মিথ্যা বলো না, তোমার লাভ হোক বা না হোক।
শর্তহীন আদেশের বিখ্যাত সূত্র: শুধু সেই নীতি মেনে কাজ করো, যেটিকে তুমি একই সঙ্গে সবার জন্য সর্বজনীন নিয়ম হিসেবে চাইতে পারো। আরেকটি সূত্র: মানুষকে কখনো শুধু উপায় হিসেবে নয়, সবসময় লক্ষ্য হিসেবে দেখো।
অ্যারিস্টটল সদ্গুণ নীতিশাস্ত্রের, স্পেন্সার বিবর্তনবাদী নীতিশাস্ত্রের, আর রাসেল বিশ্লেষণী দর্শনের মানুষ। শর্তহীন, কর্তব্য, সদিচ্ছা, এই শব্দগুলোর মালিক কান্ট।
মনে রাখুন: শর্তহীন আদেশ, সদিচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য: সবই কান্ট।
৪৫. সুশাসনের মূলভিত্তি- (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কগণতন্ত্র
- খআমলাতন্ত্র
- গআইনের শাসন
- ঘমূল্যবোধ
সঠিক উত্তর: গ. আইনের শাসন
সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন। এর অর্থ, রাষ্ট্রে ব্যক্তির ইচ্ছা নয়, আইনই সর্বোচ্চ; প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ নাগরিক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
ব্রিটিশ আইনবিদ এ ভি ডাইসি আঠারোশো পঁচাশি সালের ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য স্টাডি অব দ্য ল অব দ্য কনস্টিটিউশন গ্রন্থে আইনের শাসনের তিনটি মূল কথা বলেন: আইনের প্রাধান্য, আইনের চোখে সবাই সমান, আর আদালতের রায়ের মাধ্যমে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা।
উদাহরণ: একজন মন্ত্রী আর একজন রিকশাচালক একই অপরাধ করলে একই আইনে একই বিচার হবে। এটা নিশ্চিত হলেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার সবকিছু কার্যকর হয়।
গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ সুশাসনের সহায়ক, আর আমলাতন্ত্র প্রশাসন চালানোর যন্ত্র। ভিত্তি বা মূলভিত্তি জিজ্ঞেস করলে উত্তর আইনের শাসন।
মনে রাখুন: সুশাসনের ভিত্তি বা মূলভিত্তি জিজ্ঞেস করলে আইনের শাসন বাছুন; পূর্বশর্ত জিজ্ঞেস করলে প্রচলিত উত্তর মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
৪৬. জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ হচ্ছে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কশুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
- খসরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
- গসততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
- ঘদৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
সঠিক উত্তর: গ. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে শুদ্ধাচারের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে: শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
শব্দটি ভাঙলে অর্থ পরিষ্কার: শুদ্ধ মানে নির্মল বা খাঁটি, আচার মানে আচরণ। অর্থাৎ খাঁটি আচরণ। কৌশলে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে এর অর্থ কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
উদাহরণ: একজন কর্মকর্তা ফাইল দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেন না, আর কেউ না দেখলেও নিয়ম মেনে কাজ করেন। এটাই সততা ও নৈতিকতায় চালিত আচরণের উৎকর্ষ।
বাকি বিকল্পগুলো শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু সংকীর্ণ। শুদ্ধাচার শুধু কাজের কৌশল বা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড নয়; এটি পরিবার, ব্যবসা, গণমাধ্যমসহ সবার জন্য।
মনে রাখুন: শুদ্ধাচারের সংজ্ঞায় তিনটি চাবি শব্দ: নৈতিকতা, সততা, আচরণগত উৎকর্ষ।
৪৭. বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে
- খ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে
- গ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে
- ঘউপরের সবগুলোতে
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলোতে
বাংলাদেশে দুর্নীতি একাধিক আইন ও বিধিতে দণ্ডনীয়, তাই উত্তর উপরের সবগুলোতে। প্রশ্নটি দেখতে চায় আপনি জানেন কি না যে ফৌজদারি আইন, বিশেষ আইন আর চাকরির বিধি, তিন স্তরেই দুর্নীতির শাস্তি আছে।
আঠারোশো ষাট সালের দণ্ডবিধির নবম অধ্যায়ে সরকারি কর্মচারীর ঘুষ গ্রহণসহ নানা অপরাধের শাস্তি আছে, আর অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও আত্মসাতের ধারাও আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুই হাজার চার, এর তফসিলে দণ্ডবিধির এসব ধারাকে কমিশনের তদন্তযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে সম্পদের হিসাব না দেওয়া বা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন সম্পদ রাখাও আলাদা অপরাধ। আর দুই হাজার আঠারো সালের সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালায় দুর্নীতি বিভাগীয় শাস্তির কারণ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে বরখাস্ত।
যেকোনো একটি বাছাই ফাঁদ, কারণ তিনটিই সত্যি। একটিতে ফৌজদারি সাজা, একটিতে বিশেষ আইনে সাজা, আর একটিতে চাকরিগত শাস্তি।
মনে রাখুন: দুর্নীতি: দণ্ডবিধিতে ফৌজদারি সাজা, দুদক আইনে বিশেষ সাজা, চাকরিবিধিতে বিভাগীয় শাস্তি।
৪৮. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
- খদুর্নীতি দূর হয়
- গপ্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
- ঘযোগাযোগ বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর: ক. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
অর্থনৈতিক সুশাসন মানে রাষ্ট্রের আর্থিক নীতি, কর, ব্যাংক ও বাজার ব্যবস্থা স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও নিয়মভিত্তিক হওয়া। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে সবচেয়ে সরাসরি ফল হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
কারণ বিনিয়োগকারী, দেশি হোক বা বিদেশি, টাকা খাটানোর আগে তিনটি জিনিস দেখেন: চুক্তি আদালতে রক্ষা পাবে কি না, ঘুষ ছাড়া অনুমোদন মিলবে কি না, আর নীতি হঠাৎ বদলে যাবে কি না। এগুলো নিশ্চিত হলে ঝুঁকি কমে, আর বিনিয়োগ বাড়ে।
বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ে। বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকে নিয়ন্ত্রণের মান আর আইনের শাসন এই কারণেই বিনিয়োগ পরিবেশের বড় মাপকাঠি।
দুর্নীতি দূর হয় বিকল্পটি লোভনীয়, কিন্তু দুর্নীতি কমে, পুরোপুরি দূর হয় না, এবং সেটা অর্থনৈতিক সুশাসনের উপাদান, ফলাফল নয়। প্রতিষ্ঠানের সুনাম বা যোগাযোগ বাড়া খুব সংকীর্ণ বা অপ্রাসঙ্গিক।
মনে রাখুন: অর্থনৈতিক সুশাসনের ফল জিজ্ঞেস করলে বিনিয়োগ বাড়ার বিকল্প খুঁজুন।
৪৯. জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কUNCLOS
- খUNCTAD
- গUNCAC
- ঘCEDAW
সঠিক উত্তর: গ. UNCAC
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সংক্ষিপ্ত নাম ইউএনসিএসি, পুরো নাম ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন এগেইনস্ট করাপশন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এটি গ্রহণ করে দুই হাজার তিন সালের একত্রিশ অক্টোবর, আর এটি কার্যকর হয় দুই হাজার পাঁচ সালের চৌদ্দ ডিসেম্বর।
এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রথম আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি। এর চারটি মূল স্তম্ভ: প্রতিরোধ, অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ও আইন প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর পাচার হওয়া সম্পদ ফেরত আনা।
বাংলাদেশ দুই হাজার সাত সালের সাতাশে ফেব্রুয়ারি এই কনভেনশনে যোগ দেয়। কনভেনশন গ্রহণের সূত্রে প্রতি বছর নয় ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়।
বাকি সংক্ষিপ্ত নামগুলো আলাদা চুক্তি বা সংস্থার: ইউএনক্লস সমুদ্র আইন, আঙ্কটাড বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন, আর সিডও নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ। নামের শেষের সি এ মানে করাপশন বিরোধী, এটুকু মনে রাখলেই হয়।
মনে রাখুন: C A মানে Against Corruption: UNCAC।
৫০. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
- খস্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
- গশক্তিশালী রাজনৈতিক দল
- ঘপরমতসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর: ঘ. পরমতসহিষ্ণুতা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পরমতসহিষ্ণুতা, অর্থাৎ অন্যের ভিন্ন মতকে সহ্য ও সম্মান করা। গণতন্ত্র মানেই নানা মতের সহাবস্থান; ভিন্নমত সহ্য করার মানসিকতা না থাকলে নির্বাচন বা দল থাকলেও গণতন্ত্র টেকে না।
এই মনোভাবের সঙ্গে প্রায়ই যুক্ত করা হয় একটি বিখ্যাত বাক্য: তোমার কথার সঙ্গে আমি একমত নই, কিন্তু তোমার কথা বলার অধিকার রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। বাক্যটি ভলতেয়ারের নামে প্রচলিত, তবে আসলে এটি এভলিন বিয়াট্রিস হল উনিশশো ছয় সালে ভলতেয়ারের মনোভাব বোঝাতে লিখেছিলেন।
স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন আর শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান, মূল্যবোধ নয়। প্রশ্নটি মূল্যবোধ, মানে মনের অভ্যাস জানতে চেয়েছে।
নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বরং গণতন্ত্রের উল্টো, কর্তৃত্ববাদের বৈশিষ্ট্য। তাই প্রতিষ্ঠান আর মূল্যবোধের পার্থক্য ধরতে পারলেই উত্তর পরিষ্কার।
মনে রাখুন: মূল্যবোধ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দিন; মনের গুণটি বাছুন।
৫১. সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (conflict of interest)- এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
- খপ্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে
- গসরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে
- ঘউর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে
সঠিক উত্তর: ক. সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয় যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার নিজের বা তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত স্বার্থ সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। তখন জনস্বার্থে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব আর ব্যক্তিগত লাভের টান, দুটি পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
উদাহরণ: কেনাকাটা কমিটির এক সদস্যের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। সদস্যটি সৎ হলেও তাঁর সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট মনে হবে। নিয়ম হলো স্বার্থ প্রকাশ করা এবং ওই সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন এবং জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, দুটিতেই স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ ও এড়ানোকে দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ ধরা হয়েছে।
প্রভাবশালী বা ঊর্ধ্বতন কারও চাপ হলো অনুচিত প্রভাব, স্বার্থের সংঘাত নয়, কারণ সেখানে সিদ্ধান্তদাতার নিজের লাভ নেই। আর সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকা তো স্বাভাবিক; সরকারি সিদ্ধান্ত সরকারের স্বার্থেই হয়।
মনে রাখুন: স্বার্থের সংঘাতে স্বার্থটা সিদ্ধান্তদাতার নিজের বা পরিবারের।
৫২. রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআইনের প্রয়োগের অভাব
- খনৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
- গদুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
- ঘঅসৎ নেতৃত্ব
সঠিক উত্তর: খ. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
প্রশ্নটি দুর্নীতির মূল কারণ জানতে চেয়েছে। নৈতিকতার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় কারণ নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব, কারণ দুর্নীতি শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সুযোগ পেলে সে অন্যায় করবে কি না।
আইন প্রয়োগের ঘাটতি, দুর্বল নজরদারি আর অসৎ নেতৃত্ব দুর্নীতির সুযোগ বাড়ায়। কিন্তু যার ভেতরে সততা আছে, সুযোগ থাকলেও সে ঘুষ নেয় না। উল্টো দিকে, নৈতিকতা না থাকলে কঠোর আইন থাকলেও মানুষ ফাঁকির পথ খুঁজে নেয়।
এজন্যই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের নাম শুদ্ধাচার, মানে নৈতিক আচরণ। আইন ও শাস্তির পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে নৈতিকতা চর্চার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অসৎ নেতৃত্ব বিকল্পটি জোরালো মনে হয়, কিন্তু নেতা অসৎ হন সেই একই কারণে, নৈতিকতার অভাবে। তাই অন্য তিনটি বিকল্প মূল কারণের ফল বা সহায়ক কারণ।
মনে রাখুন: নৈতিকতার পরীক্ষায় 'সবচেয়ে বেশি দায়ী' প্রশ্নে সাধারণত নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই উত্তর।
৫৩. প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মুল্যবোধের বিকাশ ঘটে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসমাজে বসবাসের মাধ্যমে
- খবিদ্যালয়ে
- গপরিবারে
- ঘরাষ্ট্রের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: গ. পরিবারে
মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রথম বিকাশ ঘটে পরিবারে। সমাজবিজ্ঞানে পরিবারকে বলা হয় প্রাথমিক সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম।
শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর সে প্রায় পুরোটাই পরিবারে কাটায়। সত্য বলা, বড়দের সম্মান করা, ভাগ করে খাওয়া, অন্যের কষ্টে সহানুভূতি, এসব সে প্রথমে শেখে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের দেখে।
এরপর আসে বিদ্যালয়, সমবয়সী দল, গণমাধ্যম ও সমাজ, যাদের বলা হয় মাধ্যমিক মাধ্যম। এরা পরিবারের শেখানো মূল্যবোধকে বাড়ায় বা বদলায়। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলেও পরিবারকে অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রশ্নের চাবি শব্দ প্রাথমিকভাবে। বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটা দ্বিতীয় ধাপ; প্রথম পাঠশালা পরিবার।
মনে রাখুন: 'প্রাথমিকভাবে' বা 'প্রথম' শব্দ থাকলে উত্তর পরিবার।
৫৪. ‘সততার জন্য সদিচ্ছা’র কথা বলেছেন- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কডেকার্ট
- খডেভিড হিউম
- গইমানুয়েল কান্ট
- ঘজন লক
সঠিক উত্তর: গ. ইমানুয়েল কান্ট
সদিচ্ছা, ইংরেজিতে গুড উইল, ইমানুয়েল কান্টের নীতিদর্শনের প্রথম কথা। সতেরোশো পঁচাশি সালের গ্রাউন্ডওয়ার্ক অব দ্য মেটাফিজিক্স অব মরালস গ্রন্থের শুরুতে তিনি বলেন, পৃথিবীতে বা তার বাইরে একমাত্র সদিচ্ছা ছাড়া আর কিছুকেই শর্তহীনভাবে ভালো বলা যায় না।
কান্টের মতে বুদ্ধি, সাহস, সম্পদ, এমনকি সুখও খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে। শুধু কর্তব্য পালনের ইচ্ছাই নিজে থেকে ভালো। তাই সৎ কাজের মূল্য ফলাফলে নয়, ভেতরের সদিচ্ছায়।
উদাহরণ: হারানো মানিব্যাগ ফেরত দিয়েছেন কেউ পুরস্কারের আশায়, আর কেউ কারণ সেটাই উচিত। কান্টের মতে দ্বিতীয়জনের কাজেই আসল নৈতিক মূল্য, কারণ সেখানে সততার জন্য সদিচ্ছা কাজ করেছে।
ডেকার্টের বিখ্যাত কথা আমি চিন্তা করি তাই আমি আছি, হিউম বলেন যুক্তি আবেগের দাস, আর লক বলেন মন জন্মের সময় শূন্য ফলকের মতো। সদিচ্ছা আর কর্তব্য মানেই কান্ট।
মনে রাখুন: সদিচ্ছা, কর্তব্য, শর্তহীন আদেশ: তিনটিই কান্টের ঘরে।
৫৫. যে গুণের মাধ্যমে মানুষ ‘ভুল’ ও ‘শুদ্ধ’-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তা হচ্ছে- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসততা
- খসদাচার
- গকর্তব্যবোধ
- ঘমূল্যবোধ
সঠিক উত্তর: ঘ. মূল্যবোধ
মূল্যবোধ হলো সেই মানদণ্ড বা মাপকাঠি, যা দিয়ে মানুষ কোনটি ভুল আর কোনটি শুদ্ধ, কোনটি কাম্য আর কোনটি অকাম্য, তা নির্ধারণ করে। প্রশ্নে 'পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে' কথাটি মানেই বিচারের মানদণ্ড, আর সেটাই মূল্যবোধ।
সততা, সদাচার আর কর্তব্যবোধ হলো ভালো গুণ বা আচরণ, অর্থাৎ মূল্যবোধ অনুযায়ী আচরণের ফল। আগে মানদণ্ড থাকতে হয়, তারপর মানুষ সৎ বা কর্তব্যপরায়ণ হয়।
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী ভাবছে পরীক্ষায় নকল করবে কি না। মূল্যবোধ তাকে বলে দেয় এটা অন্যায়। সে নকল না করলে তার আচরণকে বলা হবে সততা।
সততা বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ সৎ মানুষ ভুল-শুদ্ধ চেনে। কিন্তু সততা হলো সত্য মেনে চলার গুণ; ভুল-শুদ্ধ মাপার মানদণ্ড হলো মূল্যবোধ।
মনে রাখুন: বিচারের মানদণ্ড জিজ্ঞেস করলে মূল্যবোধ; আচরণের গুণ জিজ্ঞেস করলে সততা বা সদাচার।
৫৬. “রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক।” কে এই উক্তি করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কএইচ. ডি, স্টেইন
- খজন স্মিথ
- গমিশেল ক্যামডেসাস
- ঘএম, ডব্লিউ, পামফ্রে
সঠিক উত্তর: গ. মিশেল ক্যামডেসাস
প্রশ্নটি সুশাসন নিয়ে একটি বিখ্যাত উক্তির বক্তা জানতে চেয়েছে। উক্তিটি মিশেল ক্যামডেসাসের, যিনি উনিশশো সাতাশি থেকে দুই হাজার সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
উনিশশো আটানব্বই সালের একুশে জানুয়ারি প্যারিসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সের এক সভায় তিনি বলেন, উন্নয়নের সব পর্যায়ের দেশের জন্যই সুশাসন অপরিহার্য। প্রশ্নের বাক্যটি এই কথারই প্রচলিত বাংলা রূপ, হুবহু অনুবাদ নয়।
এর পেছনের যুক্তি হলো, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা আর জবাবদিহিহীনতা থাকলে ঋণ বা সাহায্য যত আসুক, উন্নয়ন টেকে না। তাই নব্বইয়ের দশকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক তাদের কাজে সুশাসনের উপর জোর দিতে শুরু করে।
বাকি নামগুলো যেমন এইচ ডি স্টেইন বা এম ডব্লিউ পামফ্রে সমাজকর্ম ও মূল্যবোধ নিয়ে লেখার সূত্রে নৈতিকতার বইয়ে আসেন, এই উক্তির সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই। আইএমএফ আর সুশাসন একসঙ্গে মনে রাখলেই উত্তর ক্যামডেসাস।
মনে রাখুন: সুশাসন আর উন্নয়নের উক্তিতে আইএমএফ প্রধানের নাম এলে উত্তর মিশেল ক্যামডেসাস।
৫৭. ‘Political Ideals’ গ্রন্থের লেখক কে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমেকিয়াভেলি
- খরাসেল
- গপ্লেটো
- ঘএরিস্টটল
সঠিক উত্তর: খ. রাসেল
প্রশ্নটি পলিটিক্যাল আইডিয়ালস বইয়ের লেখক জানতে চেয়েছে। বইটি ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা, প্রকাশিত হয় উনিশশো সতেরো সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়।
বইটিতে রাসেল বলেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীল প্রবৃত্তিকে বাড়ানো আর দখলদারি প্রবৃত্তিকে কমানো। তাই রাষ্ট্র ও সম্পত্তির অতিরিক্ত ক্ষমতার বিরুদ্ধে তিনি ব্যক্তির স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তি দেন।
রাসেল 'নৈতিকতা' অংশে বারবার আসেন। তাঁর অন্য পরিচিত বই হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি, উনিশশো পঁয়তাল্লিশ, আর হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিকস অ্যান্ড পলিটিকস, উনিশশো চুয়ান্ন। উনিশশো পঞ্চাশ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পান।
ফাঁদ হলো নামের মিল। পলিটিক্যাল শব্দ দেখে অনেকে অ্যারিস্টটলের পলিটিকস বা মেকিয়াভেলির দ্য প্রিন্স মনে করেন। কিন্তু 'আইডিয়ালস' যুক্ত বইটি আধুনিক যুগের, রাসেলের।
মনে রাখুন: ইংরেজি নামের আধুনিক নৈতিকতা বা রাজনীতির বই দেখলে আগে রাসেলের কথা ভাবুন।
৫৮. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কঅনুচ্ছেদ ১৩
- খঅনুচ্ছেদ ১৮
- গঅনুচ্ছেদ ২০
- ঘঅনুচ্ছেদ ২৫
সঠিক উত্তর: খ. অনুচ্ছেদ ১৮
প্রশ্নটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ, অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে। আঠারো অনুচ্ছেদের শিরোনামই হলো জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
আঠারো অনুচ্ছেদের প্রথম দফায় বলা আছে, পুষ্টির মান ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি রাষ্ট্রের প্রাথমিক কর্তব্য, আর চিকিৎসা বা আইনে নির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া মদ ও মাদক নিষিদ্ধ করতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। দ্বিতীয় দফায় বলা আছে, গণিকাবৃত্তি ও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। শেষ দুটি বিষয়ই নৈতিকতার অংশ।
পাশের অনুচ্ছেদগুলো আলাদা করে মনে রাখুন। তেরো অনুচ্ছেদ মালিকানার নীতি, বিশ অনুচ্ছেদ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম, আর পঁচিশ অনুচ্ছেদ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতি।
আঠারোর পরে আঠারো ক অনুচ্ছেদ আছে, যেটি 'পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ'; দুই হাজার এগারো সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে যোগ হয়। আঠারো আর আঠারো ক গুলিয়ে ফেলবেন না।
মনে রাখুন: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা মানেই অনুচ্ছেদ আঠারো।
৫৯. মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কবিভিন্নতা
- খপরিবর্তনশীলতা
- গআপেক্ষিকতা
- ঘউপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলোই
মূল্যবোধ হলো সেই বিশ্বাস ও মানদণ্ড, যা দিয়ে মানুষ ভালো-মন্দ, কাম্য-অকাম্য বিচার করে। প্রশ্নটি এর বৈশিষ্ট্য জানতে চেয়েছে, আর তিনটি বিকল্পই সত্যি বৈশিষ্ট্য।
বিভিন্নতা মানে সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ আলাদা। পরিবর্তনশীলতা মানে সময়ের সঙ্গে তা বদলায়; যেমন একসময় মেয়েদের চাকরি করা অনেক সমাজে অকাম্য ছিল, এখন তা স্বাভাবিক।
আপেক্ষিকতা মানে একটি আচরণ এক প্রেক্ষাপটে ভালো, অন্য প্রেক্ষাপটে মন্দ হতে পারে। মূল্যবোধ তাই কোনো স্থির, সর্বজনীন সূত্র নয়, পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ ধরনের প্রশ্নে যখন প্রতিটি বিকল্পই আলাদাভাবে সত্যি, তখন একটিকে বেছে নেওয়া ফাঁদ। উত্তর উপরের সবগুলোই।
মনে রাখুন: মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য প্রশ্নে বিকল্পগুলো সবই সত্যি হলে 'সবগুলোই' বাছুন।
৬০. প্লেটো “সদগুণ” বলতে বুঝিয়েছেন- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপ্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়।
- খআত্মপ্রত্যয়, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ
- গসুখ, ভালোত্ব ও প্রেম।
- ঘপ্রজ্ঞা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সুখ ও ন্যায়।
সঠিক উত্তর: ক. প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়।
প্রশ্নের শব্দটি সদ্গুণ, ইংরেজিতে ভার্চু। প্লেটো তাঁর রিপাবলিক গ্রন্থে চারটি মৌলিক সদ্গুণের কথা বলেন: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার, আর ন্যায়। এদের বলা হয় কার্ডিনাল ভার্চু।
প্লেটো মানুষের আত্মাকে তিন ভাগে দেখেন। বুদ্ধি বা যুক্তির অংশের গুণ প্রজ্ঞা, তেজ বা উদ্যমের অংশের গুণ সাহস, আর কামনা বা ক্ষুধার অংশের গুণ আত্মনিয়ন্ত্রণ।
চতুর্থ গুণ ন্যায় আলাদা কোনো অংশের নয়। তিন অংশ যখন নিজ নিজ কাজ করে এবং যুক্তির নেতৃত্বে সামঞ্জস্যে চলে, সেই ভারসাম্যই ন্যায়। রাষ্ট্রেও একই কথা: শাসক, যোদ্ধা ও উৎপাদক যার যার কাজ করলে রাষ্ট্র ন্যায়ভিত্তিক।
ফাঁদ হলো চতুর্থ বিকল্প, যেখানে সাহসের জায়গায় সুখ বসানো হয়েছে। সুখ প্লেটোর চার সদ্গুণের একটি নয়; তালিকায় সাহস অবশ্যই থাকবে।
মনে রাখুন: প্লেটোর চার সদ্গুণ: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়। তালিকায় সুখ থাকলে বাদ।