নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ৪
৬১. মূল্যবোধ দৃঢ় হয়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কশিক্ষার মাধ্যমে
- খসুশাসনের মাধ্যমে
- গধর্মের মাধ্যমে
- ঘগণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: ক. শিক্ষার মাধ্যমে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন উপায়ে মূল্যবোধ সবচেয়ে দৃঢ় বা স্থায়ী হয়। প্রচলিত উত্তর শিক্ষা, কারণ শিক্ষা মানুষকে শুধু নিয়ম মানতে নয়, নিয়মের পেছনের কারণ বুঝতে শেখায়।
পরিবার মূল্যবোধের প্রথম বীজ বোনে, কিন্তু শিক্ষা সেটাকে যুক্তি দিয়ে পাকা করে। যে শিশু বুঝে নেয় কেন মিথ্যা বলা ক্ষতিকর, তার সততা কেবল ভয়ে শেখা সততার চেয়ে টেকসই হয়।
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নৈতিকতা চর্চার একটি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়েছে। পাঠ্যক্রম, শিক্ষকের আচরণ আর সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা, সব মিলিয়েই মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
ধর্ম, সুশাসন ও গণতন্ত্র চর্চাও মূল্যবোধে প্রভাব রাখে, তাই এগুলো ভুল মনে হয় না। কিন্তু এগুলো মূল্যবোধের উৎস বা ফলাফল হিসেবে বেশি আসে; দৃঢ় করার সাধারণ ও সর্বজনীন মাধ্যম হলো শিক্ষা।
মনে রাখুন: মূল্যবোধ গড়ে ওঠে পরিবারে, দৃঢ় হয় শিক্ষায়।
৬২. কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসামাজিক মূল্যবোধ
- খইতিবাচক মূল্যবোধ
- গগণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- ঘনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর: গ. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
প্রশ্নটি বাংলাদেশের নৈতিকতা পাঠ্যবইয়ের সংজ্ঞা থেকে নেওয়া। সেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বলা হয় সেসব রীতি, বিশ্বাস ও আচরণ যা রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত এবং যা গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উদাহরণ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মেনে নেওয়া, সংখ্যালঘুর মতকে সম্মান করা, পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এগুলো সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়, রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীও চর্চা করে।
সামাজিক মূল্যবোধ মূলত সমাজ ও তার প্রথা থেকে আসে, রাষ্ট্রের স্বীকৃতি তার শর্ত নয়। নৈতিক মূল্যবোধ আসে মানুষের বিবেক থেকে। ইতিবাচক মূল্যবোধ কোনো আলাদা শ্রেণির নাম নয়, একটি সাধারণ বিশেষণ।
তাই 'রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী' এই তিনটি শব্দ একসঙ্গে দেখলে উত্তর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
মনে রাখুন: রাষ্ট্র, সরকার, গোষ্ঠী: তিনে মিলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
৬৩. কে ‘কর্তব্যের নৈতিকতা’র ধারণা প্রবর্তন করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কহ্যারল্ড উইলসন
- খএডওয়ার্ড ওসবর্ন উইলসন
- গজন স্টুয়ার্ট মিল
- ঘইমানুয়েল কান্ট
সঠিক উত্তর: ঘ. ইমানুয়েল কান্ট
কর্তব্যের নৈতিকতা, ইংরেজিতে ডিওন্টোলজি, এমন এক নৈতিক মতবাদ যেখানে কাজের ফল নয়, কাজটি কর্তব্য অনুযায়ী হলো কি না, সেটাই ভালো-মন্দের মাপকাঠি। এর প্রধান প্রবর্তক জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
কান্ট সতেরোশো পঁচাশি সালে প্রকাশিত গ্রাউন্ডওয়ার্ক অব দ্য মেটাফিজিক্স অব মরালস এবং সতেরোশো অষ্টাশির ক্রিটিক অব প্র্যাকটিক্যাল রিজন গ্রন্থে এই মত দেন। তাঁর কথায়, কাজ নৈতিক হয় তখনই, যখন তা কর্তব্যের খাতিরে করা হয়।
উদাহরণ: একজন দোকানদার সৎ, কারণ ধরা পড়লে ব্যবসা নষ্ট হবে। কান্টের মতে এটা কর্তব্যের সঙ্গে মেলে, কিন্তু কর্তব্যের জন্য নয়; তাই এর নৈতিক মূল্য নেই। যে সততাকে কর্তব্য বলে মানে, তার কাজই নৈতিক।
ফাঁদ হলো জন স্টুয়ার্ট মিল। তিনি উপযোগবাদী, কাজের ফল দিয়ে বিচার করেন, যা কান্টের ঠিক উল্টো। আর দুই উইলসনের একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, অন্যজন জীববিজ্ঞানী।
মনে রাখুন: কর্তব্য, সদিচ্ছা, শর্তহীন আদেশ: এই তিন শব্দ দেখলেই কান্ট।
৬৪. সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুশাসন
- খরাষ্ট্র
- গনৈতিকতা
- ঘসমাজ
সঠিক উত্তর: ঘ. সমাজ
সভ্যতা মানে মানুষের জ্ঞান, শিল্প, আইন, রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে অর্জিত উন্নত জীবনধারা। এই সব কিছু তৈরি হয় এবং টিকে থাকে মানুষ যখন একসঙ্গে সমাজ গড়ে বাস করে।
তাই কোনো জাতির সভ্যতা কতটা এগিয়েছে, তা বোঝা যায় তার সমাজ দেখে: মানুষ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করে, নারী, শিশু ও দুর্বলের প্রতি কেমন ব্যবহার করে, বিরোধ কীভাবে মেটায়। এজন্য সমাজকে সভ্যতার প্রতিচ্ছবি বা আয়না বলা হয়।
রাষ্ট্র সমাজের একটি রাজনৈতিক সংগঠন, আর সুশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুণ। দুটোই সমাজের পরের ধাপ। নৈতিকতা সমাজের ভেতরের একটি দিক মাত্র।
সুশাসন আর নৈতিকতা শুনতে ভালো লাগে বলে অনেকে এগুলো বাছেন, কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে সভ্যতার পুরো ছবিটা কোথায় দেখা যায়; উত্তর সমাজ।
মনে রাখুন: সভ্যতা মাপতে সমাজ দেখুন; বাকিগুলো সমাজের অংশ।
৬৫. “সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল”। – এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজাতিসংঘ
- খজাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
- গবিশ্বব্যাংক
- ঘএশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর: গ. বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক উনিশশো বিরানব্বই সালে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ বা ক্ষেত্র চিহ্নিত করে, এবং উনিশশো চুরানব্বই সালের প্রতিবেদনে তা আবার তুলে ধরে। এ কারণে প্রচলিত উত্তর বিশ্বব্যাংক।
চারটি স্তম্ভ হলো সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি, উন্নয়নের জন্য আইনি কাঠামো, এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বচ্ছতা। সহজ কথায়, সরকার দক্ষ হবে, জবাব দেবে, আইন মেনে চলবে এবং খোলামেলা থাকবে।
সাবধান থাকুন: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও উনিশশো পঁচানব্বই সালের সুশাসন নীতিতে চারটি মৌলিক উপাদান দেয়: জবাবদিহি, অংশগ্রহণ, পূর্বানুমেয়তা ও স্বচ্ছতা; এডিবির পরের দলিলে এগুলোকে স্তম্ভই বলা হয়েছে। তাই এই বিকল্পটিও যুক্তিসংগত। আর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি উনিশশো সাতানব্বই সালে নয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলে।
তবু প্রকাশিত সব সমাধানে উত্তর বিশ্বব্যাংক, কারণ চার ক্ষেত্রের ধারণাটি বিশ্বব্যাংক আগে, উনিশশো বিরানব্বই সালে দেয়। পরে বিশ্বব্যাংকের মতে উপাদান কয়টি, এই প্রশ্নে উত্তর আসে ছয়টি, যা ওয়ার্ল্ডওয়াইড গভর্ন্যান্স ইন্ডিকেটরস থেকে; চার আর ছয় গুলিয়ে ফেলবেন না।
মনে রাখুন: চার স্তম্ভ: বিশ্বব্যাংক, ১৯৯২। উপাদান ছয়টি: বিশ্বব্যাংকের সূচক।
৬৬. নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসমাজ
- খনৈতিক চেতনা
- গরাষ্ট্র
- ঘধর্ম
সঠিক উত্তর: খ. নৈতিক চেতনা
প্রশ্নটি নৈতিক মূল্যবোধের উৎস জানতে চেয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধ মানে সত্য, ন্যায়, সততার মতো সেই মানদণ্ড, যা দিয়ে মানুষ নিজের ও অন্যের কাজকে উচিত বা অনুচিত বলে বিচার করে। এর মূল উৎস মানুষের নৈতিক চেতনা বা বিবেক।
নৈতিক চেতনা হলো মানুষের ভেতরের সেই ক্ষমতা, যা ভালো আর মন্দের পার্থক্য অনুভব করে। কেউ না দেখলেও মিথ্যা বললে যে অস্বস্তি হয়, সেটাই নৈতিক চেতনার কাজ।
সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রও মূল্যবোধে প্রভাব রাখে। কিন্তু সমাজের প্রথা বা রাষ্ট্রের আইন বাইরে থেকে চাপানো নিয়ম; সেগুলো মানুষ মানে বিবেক সায় দেয় বলে। তাই 'নৈতিক' মূল্যবোধের মূল উৎস ভেতরের চেতনা।
সতর্কতা: পঁয়তাল্লিশতম বিসিএসে প্রশ্ন ছিল শুধু মূল্যবোধের উৎস, আর সেখানে প্রচলিত উত্তর ধর্ম। পার্থক্যটা নৈতিক শব্দে: নৈতিক মূল্যবোধের ভেতরের উৎস বিবেক বা নৈতিক চেতনা, আর সাধারণ মূল্যবোধের বড় বাইরের উৎস হিসেবে ধর্মকে ধরা হয়। তবে প্রকাশিত সমাধানগুলো দুই প্রশ্নেই একমত নয়; কিছু সমাধানে এখানে ধর্মকে উত্তর ধরা হয়েছে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে 'নৈতিক মূল্যবোধ' থাকলে উৎস নৈতিক চেতনা।
৬৭. ‘On Liberty’ গ্রন্থের লেখক কে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কইমানুয়েল কান্ট
- খটমাস হবস্
- গজন স্টুয়ার্ট মিল
- ঘজেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর: গ. জন স্টুয়ার্ট মিল
অন লিবার্টি গ্রন্থের লেখক ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল। বইটি প্রকাশিত হয় আঠারোশো উনষাট সালে, এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে এটি সবচেয়ে বিখ্যাত লেখাগুলোর একটি।
বইটির মূল কথা 'ক্ষতির নীতি': সমাজ বা রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে শুধু অন্যের ক্ষতি ঠেকাতে। নিজের ব্যাপারে ব্যক্তি সার্বভৌম। মিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেও জোরালো যুক্তি দেন।
মিল উপযোগবাদেরও প্রধান প্রবক্তা; তাঁর ইউটিলিটেরিয়ানিজম প্রথমে 'ফ্রেজার্স ম্যাগাজিনে' আঠারোশো একষট্টি সালে, বই আকারে আঠারোশো তেষট্টি সালে প্রকাশিত হয়।
ফাঁদ হলো জেরেমি বেন্থাম, কারণ তিনিও উপযোগবাদী এবং মিলের গুরু। কিন্তু অন লিবার্টি মিলের। হবসের বিখ্যাত বই লেভিয়াথান, আর কান্টের ক্রিটিক সিরিজ।
মনে রাখুন: স্বাধীনতা আর উপযোগবাদ দুটোই মিলের বই: On Liberty, Utilitarianism।
৬৮. উৎপত্তিগত অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কল্যাটিন
- খগ্রিক
- গহিব্রু
- ঘফারসি
সঠিক উত্তর: খ. গ্রিক
গভর্ন্যান্স শব্দটির মূল গ্রিক ক্রিয়া কুবেরনান, যার অর্থ জাহাজের হাল ধরা বা পথ দেখানো। সেখান থেকে লাতিনে আসে গুবেরনারে, তারপর পুরোনো ফরাসি হয়ে ইংরেজিতে গভর্ন ও গভর্ন্যান্স।
অর্থের দিক থেকে খুব সুন্দর মিল: জাহাজের নাবিক যেমন হাল ধরে ঠিক পথে চালান, শাসনও তেমনি সমাজকে ঠিক পথে পরিচালনা করা। একই মূল থেকে এসেছে সাইবারনেটিকস শব্দটিও।
উৎপত্তিগত অর্থ মানে একেবারে শুরুর উৎস। তাই সরাসরি উৎস লাতিন হলেও মূল উৎপত্তি গ্রিক, এবং প্রশ্নের উত্তর গ্রিক।
ফাঁদ হলো লাতিন। ইংরেজির বেশির ভাগ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শব্দ লাতিন থেকে এসেছে বলে অনেকে লাতিন বাছেন। কিন্তু লাতিন এখানে মধ্যবর্তী ধাপ মাত্র।
মনে রাখুন: গভর্ন্যান্স আর সাইবারনেটিকস একই গ্রিক শিকড়: হাল ধরা।
৬৯. ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক কে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কইমানুয়েল কান্ট
- খহার্বার্ট স্পেন্সার
- গবার্ট্রান্ড রাসেল
- ঘঅ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর: ক. ইমানুয়েল কান্ট
কর্তব্যের জন্য কর্তব্য, ইংরেজিতে ডিউটি ফর ডিউটিস সেক, ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক দর্শনের কেন্দ্রীয় কথা। কান্ট বলেন, কোনো কাজের নৈতিক মূল্য আসে তখনই, যখন কাজটি লাভ, ভয় বা ভালো লাগার জন্য নয়, শুধু কর্তব্য বলেই করা হয়।
কান্ট সতেরোশো পঁচাশি সালের গ্রাউন্ডওয়ার্ক অব দ্য মেটাফিজিক্স অব মরালস গ্রন্থে এই মত দেন। একই গ্রন্থে তিনি সদিচ্ছা আর শর্তহীন আদেশের ধারণা দেন; তিনটি ধারণা একসঙ্গে মনে রাখুন।
উদাহরণ: পরীক্ষার হলে কেউ না দেখলেও যে নকল করে না কারণ সেটা অন্যায়, সে কর্তব্যের জন্য কর্তব্য পালন করছে। যে শুধু ধরা পড়ার ভয়ে নকল করে না, তার কাজ বাইরে থেকে ঠিক হলেও কান্টের মতে তাতে নৈতিক মূল্য নেই।
স্পেন্সার বিবর্তনবাদী নীতিশাস্ত্রের, রাসেল বিশ্লেষণী দর্শনের, আর অ্যারিস্টটল সদ্গুণ নীতিশাস্ত্রের মানুষ। কর্তব্য শব্দটি দেখলেই কান্ট।
মনে রাখুন: কর্তব্য, সদিচ্ছা, শর্তহীন আদেশ: তিনটিই কান্ট।
৭০. ‘Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের লেখক কে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপ্লেটো
- খরুসো
- গবার্ট্রান্ড রাসেল
- ঘজন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর: গ. বার্ট্রান্ড রাসেল
হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিকস অ্যান্ড পলিটিকস গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। বইটি প্রকাশিত হয় উনিশশো চুয়ান্ন সালে, তাঁর নোবেল পাওয়ার চার বছর পরে।
বইটির প্রথম ভাগ নীতিশাস্ত্র, দ্বিতীয় ভাগ রাজনীতি ও মানুষের আবেগ। রাসেল দেখান, নৈতিক নিয়ম মানুষের ইচ্ছা ও আবেগ থেকে আসে, আর রাজনীতির কাজ হলো মানুষের সেই ইচ্ছাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা।
রাসেলের বই চেনার সূত্র: ইংরেজি নামের আধুনিক বই, যেখানে এথিকস, পলিটিক্স, সোসাইটি, আইডিয়ালস শব্দ আছে। যেমন পলিটিক্যাল আইডিয়ালস উনিশশো সতেরো, হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি উনিশশো পঁয়তাল্লিশ।
রুসোর বিখ্যাত বই দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট, সতেরোশো বাষট্টি; সোসাইটি শব্দ দেখে রুসো ভাবা ফাঁদ। প্লেটো প্রাচীন যুগের, আর মিলের বই অন লিবার্টি ও ইউটিলিটেরিয়ানিজম।
মনে রাখুন: আধুনিক ইংরেজি নামে এথিকস ও পলিটিক্স একসঙ্গে থাকলে রাসেল।
৭১. ‘শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর’-এটি কে বলেছেন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কসক্রেটিস
- খপ্লেটো
- গঅ্যারিস্টটল
- ঘবেনথাম
সঠিক উত্তর: খ. প্লেটো
উক্তিটি বাংলাদেশের নৈতিকতা ও সুশাসন বিষয়ক পাঠ্যবইয়ে প্লেটোর নামে প্রচলিত। এটি তাঁর কোনো গ্রন্থের হুবহু বাক্য নয়; বরং রিপাবলিক গ্রন্থের দার্শনিক রাজার ধারণার সারকথা।
প্লেটো রিপাবলিক গ্রন্থে বলেন, রাষ্ট্র চালাবেন জ্ঞানী ও সৎ দার্শনিক রাজা। এমন শাসক নিজের প্রজ্ঞা দিয়েই ন্যায় করবেন, তাঁকে আইনের বাঁধনে বাঁধার দরকার নেই। আর শাসক অসৎ হলে আইন থাকলেও তিনি তা মানবেন না, তাই আইন অকার্যকর।
মজার ব্যাপার, শেষ জীবনে প্লেটো লজ গ্রন্থে মত বদলান। বাস্তবে আদর্শ শাসক পাওয়া কঠিন বলে তিনি আইনের শাসনকে দ্বিতীয় সেরা পথ হিসেবে মেনে নেন।
অ্যারিস্টটল ঠিক উল্টো কথা বলেন: মানুষের শাসনের চেয়ে আইনের শাসন ভালো। তাই আইনকে অপ্রয়োজনীয় বলা উক্তিতে অ্যারিস্টটল বাছা বড় ভুল। সক্রেটিস নিজে কিছু লেখেননি, আর বেন্থাম আইন সংস্কারের পক্ষের মানুষ।
মনে রাখুন: শাসকের গুণকে আইনের উপরে রাখলে প্লেটো, আইনকে উপরে রাখলে অ্যারিস্টটল।
৭২. সুশাসনের মূল ভিত্তি কী? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কমূল্যবোধ
- খআইনের শাসন
- গগণতন্ত্র
- ঘআমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর: খ. আইনের শাসন
সুশাসনের মূল ভিত্তি আইনের শাসন। আইনের শাসন মানে দেশে আইনই সর্বোচ্চ, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আর সবাই আইনের চোখে সমান।
ধারণাটি জনপ্রিয় করেন ব্রিটিশ আইনবিদ এ ভি ডাইসি, আঠারোশো পঁচাশি সালে প্রকাশিত তাঁর সংবিধান বিষয়ক গ্রন্থে। তাঁর তিন সূত্র: আইনের প্রাধান্য, আইনের চোখে সমতা, আর আদালতের রায়ে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা।
কেন এটি ভিত্তি? স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, নিরপেক্ষ বিচার, সবই টেকে তখনই যখন আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয়। বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকেও আইনের শাসন ছয় মাত্রার একটি।
মূল্যবোধ আর গণতন্ত্রও সুশাসনের সহায়ক, তাই কিছু বইয়ে মূল্যবোধকে ভিত্তি বলা হয়। কিন্তু প্রচলিত ও পরীক্ষার উত্তর আইনের শাসন। আমলাতন্ত্র শুধু প্রশাসনিক যন্ত্র, ভিত্তি নয়।
মনে রাখুন: সুশাসনের ভিত্তি বা মূলভিত্তি প্রশ্নে উত্তর আইনের শাসন।
৭৩. কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কআত্মস্বার্থবাদ
- খপরার্থবাদ
- গপূর্ণতাবাদ
- ঘউপযোগবাদ
সঠিক উত্তর: ঘ. উপযোগবাদ
যে নৈতিক মানদণ্ড সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখকে কাজের ভালো-মন্দের মাপকাঠি বলে, তার নাম উপযোগবাদ। এর প্রধান দুই প্রবক্তা জেরেমি বেন্থাম ও জন স্টুয়ার্ট মিল।
বেন্থাম সতেরোশো উননব্বই সালে প্রকাশিত ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য প্রিন্সিপলস অব মরালস অ্যান্ড লেজিসলেশন গ্রন্থে সুখকে পরিমাণ দিয়ে মাপার কথা বলেন। মিল তাঁর 'ইউটিলিটেরিয়ানিজম' গ্রন্থে যোগ করেন, সুখের গুণগত পার্থক্যও আছে।
উদাহরণ: সরকার যদি এমন সেতু বানায় যাতে লাখো মানুষের উপকার হয় আর অল্প কয়েকজনের ক্ষতি হয়, উপযোগবাদ এটিকে নৈতিক বলবে, কারণ মোট সুখ বাড়ে।
আত্মস্বার্থবাদ শুধু নিজের সুখ দেখে, পরার্থবাদ শুধু অন্যের কল্যাণ দেখে, আর পূর্ণতাবাদ সুখের বদলে আত্মার পূর্ণ বিকাশ চায়। 'সর্বোচ্চ সুখ' শব্দটিই উপযোগবাদের পরিচয়।
মনে রাখুন: সর্বোচ্চ সুখ মানেই উপযোগবাদ; বেন্থাম পরিমাণে, মিল গুণে।
৭৪. বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২০১০
- খ২০১১
- গ২০১২
- ঘ২০১৩
সঠিক উত্তর: গ. ২০১২
বাংলাদেশে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয় দুই হাজার বারো সালে। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নামের এই দলিলটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় দুই হাজার বারো সালের আঠারো অক্টোবর।
কৌশলটির লক্ষ্য শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এতে ষোলোটি প্রতিষ্ঠানকে ধরা হয়েছে: নির্বাহী বিভাগ, সংসদ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দশটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ ছয়টি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
সময়রেখায় সাজালে মনে রাখা সহজ: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন দুই হাজার চার, তথ্য অধিকার আইন দুই হাজার নয়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ সুরক্ষা আইন দুই হাজার এগারো, তারপর জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দুই হাজার বারো।
দুই হাজার দশ, এগারো আর তেরো কাছাকাছি সাল বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে; বিশেষ করে দুই হাজার এগারো সালে তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা আইন হওয়ায় অনেকে সেটি বাছেন। শুদ্ধাচার কৌশলের অনুমোদন দুই হাজার বারো।
মনে রাখুন: শুদ্ধাচার কৌশল মানেই ২০১২; তথ্য অধিকার আইন ২০০৯; দুদক আইন ২০০৪।
৭৫. বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৩টি
- খ৫টি
- গ৪টি
- ঘ৬টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ৬টি
বিশ্বব্যাংক ওয়ার্ল্ডওয়াইড গভর্ন্যান্স ইন্ডিকেটরস নামে একটি সূচক প্রকাশ করে, যেখানে সুশাসনকে ছয়টি মাত্রায় মাপা হয়। উনিশশো ছিয়ানব্বই সাল থেকে দুইশোর বেশি দেশের জন্য এই সূচক তৈরি হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ছয়টি।
ছয়টি উপাদান হলো মত প্রকাশ ও জবাবদিহি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি, সরকারের কার্যকারিতা, নিয়ন্ত্রণের মান, আইনের শাসন, এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ।
সহজে মনে রাখতে তিন জোড়া করুন: ক্ষমতা কীভাবে বাছাই ও বদল হয়, এর জন্য প্রথম দুটি; সরকার নীতি কতটা ভালো করে বানায় ও চালায়, এর জন্য পরের দুটি; আর নাগরিক ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা সম্মান করে, এর জন্য শেষ দুটি।
ফাঁদ হলো চার। উনিশশো বিরানব্বই সালের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চার ক্ষেত্র বা স্তম্ভের কথা বলেছিল, এবং সেটিও বিসিএসে এসেছে। 'স্তম্ভ' শব্দ এলে চার, 'উপাদান' বা সূচকের কথা এলে ছয়।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংক: স্তম্ভ চারটি (১৯৯২), সূচকের উপাদান ছয়টি।
৭৬. Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বিভক্ত করেছেন- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক৩ ভাগে
- খ৪ ভাগে
- গ৫ ভাগে
- ঘ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর: খ. ৪ ভাগে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড ও বিংহাম পাওয়েল চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন। উত্তর চার ভাগে। তাঁদের উনিশশো ছেষট্টি সালের বই কম্পারেটিভ পলিটিক্স: আ ডেভেলপমেন্টাল অ্যাপ্রোচে এই শ্রেণিবিভাগ আছে। প্রশ্নে নামটির ইংরেজি বানান একটি এল দিয়ে ছাপা হয়েছে; শুদ্ধ বানানে এল দুটি।
চাপ সৃষ্টিকারী বা স্বার্থগোষ্ঠী হলো এমন সংগঠিত মানুষের দল, যারা নিজেরা ক্ষমতায় না গিয়ে সরকারের নীতিকে নিজেদের স্বার্থের পক্ষে প্রভাবিত করতে চায়।
চার ভাগ হলো: প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠী, যেমন সেনাবাহিনী বা আমলাতন্ত্রের ভেতরের গোষ্ঠী। দ্বিতীয়ত, সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী, যেমন ট্রেড ইউনিয়ন বা ব্যবসায়ী সমিতি। তৃতীয়ত, অসংঘবদ্ধ গোষ্ঠী, যারা আত্মীয়তা, ধর্ম, জাতি বা অঞ্চলের ভিত্তিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত। চতুর্থত, আকস্মিক বা নৈরাজ্যমূলক গোষ্ঠী, যারা হঠাৎ দাঙ্গা, বিক্ষোভ বা মিছিলের মাধ্যমে চাপ দেয়।
তিন বা পাঁচ ভাগ ফাঁদ; চারটি নাম মনে রাখলেই সংখ্যা ভুল হয় না।
মনে রাখুন: আলমন্ড-পাওয়েল = চার: প্রাতিষ্ঠানিক, সংঘবদ্ধ, অসংঘবদ্ধ, আকস্মিক।
৭৭. তথ্য পাওয়া মানুষের কী ধরনের অধিকার ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- করাজনৈতিক অধিকার
- খঅর্থনৈতিক অধিকার
- গমৌলিক অধিকার
- ঘসামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর: গ. মৌলিক অধিকার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে তথ্য পাওয়া মানুষের কী ধরনের অধিকার। উত্তর মৌলিক অধিকার।
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন, দুই হাজার নয়, যা ওই বছরের বিশ নম্বর আইন, তার প্রস্তাবনায় বলা আছে: সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতা নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার এই স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অর্থাৎ তথ্য অধিকার সংবিধানের ঊনচল্লিশ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত।
এই আইনের লক্ষ্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, দুর্নীতি কমানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আইনটি কার্যকর করার জন্য দুই হাজার নয় সালেই তথ্য কমিশন গঠিত হয়।
রাজনৈতিক অধিকার বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ কিছু বইয়ে তথ্য অধিকারকে রাজনৈতিক অধিকারের তালিকায় রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের আইনের ভাষায় এটি মৌলিক অধিকারের অংশ, তাই পরীক্ষার উত্তর মৌলিক অধিকার।
মনে রাখুন: তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ = ২০ নং আইন; প্রস্তাবনায় তথ্য অধিকারকে বাক্স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়েছে।
৭৮. বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’র প্রবর্তক হলেন- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
- খজি.সি দেব
- গআরজ আলী মাতুব্বর
- ঘআবদুল মতীন
সঠিক উত্তর: গ. আরজ আলী মাতুব্বর
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে নব-নৈতিকতার প্রবর্তক কে। পরীক্ষার স্বীকৃত উত্তর আরজ আলী মাতুব্বর।
আরজ আলী মাতুব্বর উনিশশো সালে বরিশালের লামচরি গ্রামে জন্ম নেন এবং উনিশশো পঁচাশি সালে মারা যান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রায় ছাড়াই তিনি নিজে পড়ে দার্শনিক হয়ে ওঠেন। বাংলাপিডিয়া তাঁকে যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী বলে বর্ণনা করে, যিনি অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লিখেছেন।
তাঁর প্রধান বইগুলো হলো সত্যের সন্ধান, প্রকাশিত উনিশশো তিয়াত্তর সালে; সৃষ্টিরহস্য, উনিশশো সাতাত্তর; অনুমান, উনিশশো তিরাশি; এবং মৃত্যুর পর মুক্তমন। তিনি অন্ধ বিশ্বাসের বদলে যুক্তি ও মানবকল্যাণের ওপর দাঁড়ানো নৈতিকতার কথা বলেছেন, তাই গাইড বইগুলো তাঁকে নব-নৈতিকতার প্রবর্তক বলে।
জি সি দেব বা গোবিন্দচন্দ্র দেবও মানবতাবাদী দার্শনিক ছিলেন, এটাই বড় ফাঁদ; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক, উনিশশো একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চের রাতে শহিদ হন। মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধকার ও দার্শনিক লেখক, পারস্য প্রতিভা বইয়ের লেখক।
মনে রাখুন: যুক্তিবাদ, কুসংস্কারবিরোধিতা, ‘সত্যের সন্ধান’, নব-নৈতিকতা: সবই আরজ আলী মাতুব্বর।
৭৯. আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি। এটি – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনৈতিক অনুশাসন
- খরাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
- গআইনের শাসন
- ঘআইনের অধ্যাদেশ
সঠিক উত্তর: খ. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
প্রশ্নটি বলছে, আমরা যে সমাজেই থাকি, সবাই ভালো নাগরিক হতে চাই; এই প্রত্যাশাটি কী। উত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন।
ভালো নাগরিক হওয়ার মানে রাষ্ট্রের আইন মানা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখানো, ভোট দেওয়া ও রাজনৈতিক কাজে অংশ নেওয়া, আর সমাজে অন্যের অধিকার ও রীতিনীতি মেনে চলা। প্রথম অংশ রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, দ্বিতীয় অংশ সামাজিক শৃঙ্খলা।
পৌরনীতির আলোচনায় আইন মানা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আর রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধকে সাধারণত রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়, যা মানুষকে ভালো নাগরিক হতে অনুপ্রাণিত করে। সমাজের রীতিনীতি মেনে চলা যোগ হলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন।
নৈতিক অনুশাসন শুধু ব্যক্তির ভেতরের ভালো-মন্দের বোধ, এটাই বড় ফাঁদ; নাগরিকত্বের প্রশ্ন রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে জড়িত। আইনের শাসন রাষ্ট্রের একটি নীতি, আর অধ্যাদেশ হলো সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না চললে রাষ্ট্রপতির জারি করা আইন; কোনোটিই নাগরিকের প্রত্যাশা নয়।
মনে রাখুন: ‘নাগরিক’ শব্দটি রাষ্ট্র ও সমাজ দুটোকেই বোঝায়; তাই দুটি একসঙ্গে থাকা বিকল্পটি বেছে নিন।
৮০. সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কগণতন্ত্র
- খবিচার ব্যবস্থা
- গসংবিধান
- ঘআইনের শাসন
সঠিক উত্তর: ঘ. আইনের শাসন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী। উত্তর আইনের শাসন।
আইনের শাসন মানে রাষ্ট্রে আইনই সর্বোচ্চ, কোনো ব্যক্তি নয়; ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত সবাই একই আইনের অধীন। ব্রিটিশ আইনবিদ এ ভি ডাইসি আঠারোশো পঁচাশি সালে তাঁর সংবিধান-বিষয়ক বইয়ে আইনের শাসনের তিনটি দিক ব্যাখ্যা করেন: আইনের প্রাধান্য, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, এবং আদালতের রায়ে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা।
যেখানে আইনের শাসন নেই, সেখানে শক্তিশালীর ইচ্ছাই আইন; একে বলা হয় জোর যার মুলুক তার। এজন্য আইনের শাসনকে সভ্যতার মাপকাঠি ধরা হয়। আইনের শাসন থাকলে গণতন্ত্র, বিচার ব্যবস্থা ও সংবিধান সবই কার্যকর থাকে।
গণতন্ত্র, সংবিধান বা বিচার ব্যবস্থা থাকলেই সমাজ সভ্য হয় না, এটাই ফাঁদ। অনেক দেশে লিখিত সংবিধান ও আদালত থাকলেও আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় না।
মনে রাখুন: ‘সভ্য সমাজের মানদণ্ড’ বা ‘সুশাসনের মূল ভিত্তি’ প্রশ্নে আইনের শাসন সবচেয়ে নিরাপদ উত্তর।