নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ২
২১. বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- খমানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা
- গপ্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
- ঘউপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবকটি
প্রশ্নটি বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ, অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির এগারো অনুচ্ছেদ থেকে নেওয়া। এই অনুচ্ছেদের শিরোনাম গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, আর এখানেই বলা আছে প্রজাতন্ত্র কেমন গণতন্ত্র হবে।
এগারো অনুচ্ছেদ বলে, প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে, এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তিনটি বিকল্পই এই এক বাক্যের তিনটি অংশ।
তাই এখানে কোনো একটি অংশ আলাদা ভিত্তি নয়; মর্যাদা, অধিকার আর অংশগ্রহণ, তিনটি মিলেই প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি। বাস্তবে যেমন, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেও মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘিত হলে বা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ থাকে।
ফাঁদ হলো যেকোনো একটি অংশকে একাই সঠিক ধরে নেওয়া। মৌলিক মানবাধিকারের কথা শুনে অনেকে প্রথম বিকল্পে দাগ দেন, কিন্তু অনুচ্ছেদটি তিনটি শর্ত একসঙ্গে বলেছে, তাই উত্তর উপরের সবকটি।
মনে রাখুন: ‘প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র’ শুনলেই এগারো অনুচ্ছেদ; সেখানে অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ তিনটিই আছে।
২২. সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি প্রথম কোন খ্রিষ্টাব্দে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে
- খ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে
- গ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে
- ঘ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে
প্রশ্নটি সুশাসন ধারণার জন্মকথা নিয়ে। শাসন বা গভর্ন্যান্স শব্দটি উন্নয়নের আলোচনায় আনে বিশ্বব্যাংক, আর সেটা দুই ধাপে।
প্রথম ধাপ উনিশশো ঊননব্বই সাল: সাব-সাহারান আফ্রিকা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকার উন্নয়ন সংকটের পেছনে আছে শাসনের সংকট। এখানে ধারণাটি প্রথম আসে, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল না।
দ্বিতীয় ধাপ উনিশশো বিরানব্বই সাল: বিশ্বব্যাংক ‘গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে শাসনের সংজ্ঞা ও উপাদান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশ্নে ‘বিস্তারিতভাবে’ শব্দটিই উত্তরের চাবি।
পরে উনিশশো পঁচানব্বই সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং উনিশশো সাতানব্বই সালে ইউএনডিপি নিজেদের নীতিপত্রে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। বিকল্পে উনিশশো ঊননব্বই নেই, আর বাকি সালগুলো ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার বছর নয়।
মনে রাখুন: ‘প্রথম উল্লেখ’ চাইলে ১৯৮৯, ‘বিস্তারিত’ চাইলে ১৯৯২; দুটোই বিশ্বব্যাংক।
২৩. সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইউএনডিপি
- খবিশ্বব্যাংক
- গইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
- ঘট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
সঠিক উত্তর: খ. বিশ্বব্যাংক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সুশাসনের ধারণা প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজেদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। উত্তর বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংক উনিশশো ঊননব্বই সালে আফ্রিকা-বিষয়ক প্রতিবেদনে প্রথম শাসনের সংকটের কথা বলে, আর উনিশশো বিরানব্বই সালে ‘গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিবেদনে ধারণাটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে। আফ্রিকায় ঋণ ও সাহায্যের আশানুরূপ ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই সংস্থাটি বলেছিল, উন্নয়ন সমস্যার গভীরে আছে শাসনের সংকট।
ইউএনডিপি এসেছে পরে: উনিশশো সাতানব্বই সালে ‘গভর্ন্যান্স ফর সাসটেইনেবল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ নীতিপত্রে তারা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য তালিকা দেয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয় উনিশশো তিরানব্বই সালে, আর তাদের কাজ মূলত দুর্নীতি পরিমাপ ও প্রতিরোধ।
ফাঁদ হলো ইউএনডিপি। সুশাসনের বৈশিষ্ট্যের তালিকা মুখস্থ করতে গিয়ে ইউএনডিপির নাম বেশি শোনা যায়, কিন্তু প্রথম বিস্তারিত প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের।
মনে রাখুন: সুশাসনের ‘প্রথম’ যেকোনো প্রশ্নে আগে বিশ্বব্যাংক ভাবুন; বৈশিষ্ট্যের তালিকা হলে ইউএনডিপি।
২৪. জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনটি গৃহীত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক৩১ জানুয়ারি ২০০৩
- খ৩১ অক্টোবর ২০০৬
- গ৩১ অক্টোবর ২০০৩
- ঘ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
সঠিক উত্তর: গ. ৩১ অক্টোবর ২০০৩
প্রশ্নটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন, সংক্ষেপে ইউএনক্যাক, কবে গৃহীত হয় তা জানতে চেয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দুই হাজার তিন সালের একত্রিশ অক্টোবর আটান্ন বাই চার নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে কনভেনশনটি গ্রহণ করে। একই বছরের নয় থেকে এগারো ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডা শহরে এটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়, তাই একে মেরিডা কনভেনশনও বলা হয়।
কনভেনশনটি কার্যকর হয় দুই হাজার পাঁচ সালের চোদ্দো ডিসেম্বর। বাংলাদেশ দুই হাজার সাত সালে এতে যোগ দেয়। মেরিডায় স্বাক্ষর শুরুর স্মরণে নয় ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়।
ফাঁদ হলো তারিখের অংশ মিলিয়ে দেওয়া বিকল্প। একত্রিশ জানুয়ারি দুই হাজার তিনে মাস ভুল, আর একত্রিশ অক্টোবর দুই হাজার ছয়ে বছর ভুল। মনে রাখুন: গ্রহণ দুই হাজার তিন, কার্যকর দুই হাজার পাঁচ।
মনে রাখুন: ইউএনক্যাক: গ্রহণ ৩১ অক্টোবর ২০০৩, কার্যকর ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫, দিবস ৯ ডিসেম্বর।
২৫. ৭ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক১৯২টি
- খ১০৯টি
- গ১৯০টি
- ঘ১৯১টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৯১টি
প্রশ্নটি দুই হাজার চব্বিশ সালের সাত আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের পক্ষসংখ্যা জানতে চেয়েছে। প্রশ্ন সময়-নির্দিষ্ট, তাই উত্তরও সেই তারিখের হিসাবে।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের হিসাবে দুই হাজার তেইশ সালের দশ অক্টোবর পক্ষ ছিল একশো নব্বই। এরপর দুই হাজার চব্বিশ সালের সাত আগস্ট সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস কনভেনশনে যোগ দেয়, ফলে পক্ষ হয় একশো একানব্বই। প্রশ্নের তারিখটি আসলে এই যোগদানের দিন।
দুটি সূক্ষ্ম বিষয় মনে রাখুন। এই গণনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও একটি পক্ষ, যদিও এটি দেশ নয়। আর প্রশ্নে ‘স্বাক্ষরকারী’ লেখা হলেও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরকারী মাত্র একশো চল্লিশটি; অনেক দেশ স্বাক্ষর না করে সরাসরি যোগদান করেছে। পরীক্ষায় মোট পক্ষসংখ্যাই উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে।
ফাঁদ হলো একশো নব্বই আর একশো বিরানব্বই। একশো নব্বই ছিল সাত আগস্টের আগের সংখ্যা, আর একশো বিরানব্বই হয় পরে, দুই হাজার পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বরে সান মারিনো যোগ দেওয়ার পর।
মনে রাখুন: ইউএনক্যাক পক্ষসংখ্যা: অক্টোবর ২০২৩-এ ১৯০, ৭ আগস্ট ২০২৪-এ ১৯১, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ১৯২; স্বাক্ষরকারী ১৪০।
২৬. 'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কহেগেল
- খকান্ট
- গবেন্থাম
- ঘপিটার সিঙ্গার
সঠিক উত্তর: ঘ. পিটার সিঙ্গার
অ্যানিমেল লিবারেশন গ্রন্থের রচয়িতা অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গার। বইটি উনিশশো পঁচাত্তর সালে প্রকাশিত হয় এবং আধুনিক প্রাণী অধিকার আন্দোলনের ভিত্তিগ্রন্থ হিসেবে ধরা হয়।
উপযোগবাদী সিঙ্গারের যুক্তি, কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতা যার আছে, তার স্বার্থও সমান বিবেচনার দাবিদার। শুধু প্রজাতি আলাদা বলে প্রাণীর কষ্টকে উপেক্ষা করাকে তিনি বলেন প্রজাতিবাদ, ঠিক যেমন বর্ণবাদ বা লিঙ্গবৈষম্য। শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন রিচার্ড রাইডার, সিঙ্গার একে জনপ্রিয় করেন।
ফাঁদ হলো বেন্থাম। সতেরোশো উননব্বই সালের গ্রন্থে তিনি লেখেন, প্রশ্ন এটা নয় যে তারা যুক্তি দিতে পারে কি না বা কথা বলতে পারে কি না, প্রশ্ন হলো তারা কষ্ট পায় কি না। সিঙ্গার এই চিন্তা থেকেই অনুপ্রাণিত, কিন্তু বইটি সিঙ্গারের।
হেগেল আর কান্ট প্রাণী অধিকার নিয়ে এমন কোনো বই লেখেননি; কান্ট বরং মনে করতেন প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা মানুষের চরিত্র নষ্ট করে বলেই অন্যায়।
মনে রাখুন: প্রাণী মুক্তি বা প্রজাতিবাদ শব্দ দেখলে পিটার সিঙ্গার।
২৭. কোন শ্রেণির ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কনৈতিকতা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া
- খসামাজিক ক্রিয়া
- গঐচ্ছিক ক্রিয়া
- ঘইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: গ. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। ঐচ্ছিক ক্রিয়া মানে যে কাজ মানুষ জেনে-বুঝে, ইচ্ছা করে এবং বেছে নিয়ে করে। শুধু এমন কাজের জন্যই মানুষকে প্রশংসা বা দোষ দেওয়া যায়।
ইচ্ছা-নিরপেক্ষ বা অনৈচ্ছিক ক্রিয়া যেমন হৃৎস্পন্দন, হাঁচি, ঘুমের মধ্যে হাত নড়া, এগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই এগুলো ভালো বা মন্দ বলা যায় না, নীতিবিদ্যার আলোচনার বাইরে।
নৈতিকতা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া হলো এমন কাজ, যার সঙ্গে ভালো-মন্দের প্রশ্ন জড়িত নয়, যেমন চা খাব না কফি। আর সামাজিক ক্রিয়া সমাজবিজ্ঞানের বিষয়।
উদাহরণ: কেউ ইচ্ছা করে ধাক্কা দিলে তা অন্যায়, কিন্তু হোঁচট খেয়ে কারও গায়ে পড়লে তাকে দোষ দেওয়া যায় না। এই পার্থক্যটাই ঐচ্ছিক ক্রিয়ার গুরুত্ব।
মনে রাখুন: দায় আছে যেখানে, নীতিবিদ্যা সেখানে: ঐচ্ছিক ক্রিয়া।
২৮. বাংলাদেশের 'নব্য-নৈতিকতার' প্রবর্তক হলেন- (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
- খজি. সি. দেব
- গআরজ আলী মাতুব্বর
- ঘআব্দুল মতীন
সঠিক উত্তর: গ. আরজ আলী মাতুব্বর
প্রকাশিত প্রায় সব সমাধানে বাংলাদেশে নব্য-নৈতিকতার প্রবর্তক হিসেবে আরজ আলী মাতুব্বরকে ধরা হয়েছে। তিনি বরিশালের লামচরি গ্রামের স্বশিক্ষিত দার্শনিক, জন্ম উনিশশো সালে, মৃত্যু উনিশশো পঁচাশি সালে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রায় না থাকলেও তিনি নিজে পড়ে যুক্তিবাদী চিন্তা গড়ে তোলেন। উনিশশো তিয়াত্তর সালে প্রকাশিত সত্যের সন্ধান গ্রন্থে তিনি প্রচলিত বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করেন এবং মানবতা ও যুক্তিভিত্তিক নৈতিকতার কথা বলেন। এই নতুন ধারার নৈতিক চিন্তার জন্যই তাঁকে এই অভিধা দেওয়া হয়, যদিও নব্য-নৈতিকতা পরিভাষাটি কোনো প্রামাণিক সূত্রে পাওয়া যায় না।
গোবিন্দচন্দ্র দেব, যিনি জি সি দেব নামে পরিচিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন এবং মানবতাবাদী ও সমন্বয়ী দর্শনের জন্য পরিচিত। উনিশশো একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চের কালরাতে তিনি শহিদ হন।
জি সি দেবও মানবতাবাদী নৈতিক চিন্তার জন্য বিখ্যাত বলে একটি প্রকাশিত সমাধানে তাঁকে উত্তর ধরা হয়েছে; এটাই প্রধান ফাঁদ। অধিকাংশ সমাধানের উত্তর আরজ আলী মাতুব্বর।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের দর্শনে 'নব্য-নৈতিকতা' প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর আরজ আলী মাতুব্বর; 'সমন্বয়ী দর্শন' মানে জি সি দেব।
২৯. নিচের কোনটি সুশাসনের মূলনীতি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
- খকর্তৃত্ববাদী শাসন
- গকেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
- ঘস্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
সঠিক উত্তর: ক. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুশাসনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা মানে সরকারের সিদ্ধান্ত, বাজেট ও কাজের তথ্য জনগণের জন্য খোলা থাকা; জবাবদিহি মানে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিকে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিতে ও দায় নিতে হওয়া।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন, দুই হাজার নয়, স্বচ্ছতার একটি বড় হাতিয়ার: নাগরিক আবেদন করে সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য চাইতে পারে। আর সংসদীয় কমিটি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও দুর্নীতি দমন কমিশন জবাবদিহির প্রতিষ্ঠান।
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, সবার সুশাসনের তালিকাতেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আছে।
বাকি তিনটি বিকল্প আসলে সুশাসনের বিপরীত: কর্তৃত্ববাদী শাসন অংশগ্রহণ কেড়ে নেয়, কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত বিকেন্দ্রীকরণের উল্টো, আর স্বজনপ্রীতি ন্যায্যতা ও সমতা নষ্ট করে।
মনে রাখুন: চার বিকল্পের তিনটি নেতিবাচক হলে ইতিবাচকটিই উত্তর।
৩০. "মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।" – এটি কার উক্তি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপ্লেটো
- খহেগেল
- গজি. ই. ম্যূর
- ঘরাসেল
সঠিক উত্তর: খ. হেগেল
উত্তর হেগেল। নীতিবিদ্যার পাঠ্যবইয়ে আত্মোপলব্ধিবাদ বা সেলফ রিয়ালাইজেশন মতবাদ আলোচনায় জার্মান দার্শনিক হেগেলের নামে দুটি নীতিবাক্য দেওয়া হয়: ব্যক্তি হও, আর মরে বাঁচো। প্রশ্নের উক্তিটি এই দুটির মিলিত রূপ।
ব্যক্তি হও কথাটি হেগেলের নিজের লেখায় আছে: আঠারোশো বিশ সালে প্রকাশিত এলিমেন্টস অব দ্য ফিলোসফি অব রাইট গ্রন্থের ছত্রিশ অনুচ্ছেদে তিনি বলেন, ব্যক্তি হও এবং অন্যকে ব্যক্তি হিসেবে সম্মান করো। মরে বাঁচো কথাটি হেগেলের মতের পাঠ্যবইয়ের সারকথা, হুবহু তাঁর বাক্য হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায় না।
মরে বাঁচো মানে নিম্নতর আত্মা, অর্থাৎ স্বার্থপর কামনা-বাসনাকে মেরে উচ্চতর আত্মা, অর্থাৎ বিবেক ও যুক্তিকে বাঁচিয়ে তোলা। এভাবেই মানুষ নিজের পূর্ণতা অর্জন করে।
জি ই মুর 'প্রিন্সিপিয়া এথিকা' গ্রন্থে বলেন, ভালো একটি অসংজ্ঞায়িত সরল গুণ। প্লেটো চার সদ্গুণ আর রাসেল বিশ্লেষণী দর্শনের মানুষ। আত্মোপলব্ধি শুনলেই হেগেল।
মনে রাখুন: আত্মোপলব্ধিবাদ, ব্যক্তি হও, মরে বাঁচো: হেগেল।
৩১. জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নীতিমালা কত সালে পাশ হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক২০১০
- খ২০১১
- গ২০১২
- ঘ২০১৮
সঠিক উত্তর: গ. ২০১২
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল পাস বা অনুমোদন হয় দুই হাজার বারো সালে। মন্ত্রিসভা এটি অনুমোদন দেয় দুই হাজার বারো সালের আঠারো অক্টোবর, আর এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রশ্নে নীতিমালা শব্দটি থাকলেও দলিলটির আনুষ্ঠানিক নাম 'সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল'। এটি আইন নয়, সরকারের একটি কৌশলপত্র।
কৌশলটির আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর প্রতি বছর শুদ্ধাচার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে, নৈতিকতা কমিটি গঠন করে, এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়।
দুই হাজার আঠারো সাল ফাঁদ, কারণ ওই বছর সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা আসে। দুই হাজার দশ ও এগারো কাছাকাছি সাল বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: শুদ্ধাচার = ২০১২; শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা = ২০১৮।
৩২. "দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।" – উক্তিটি কে করেছেন? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআর. বি. পেরি
- খপ্লেটো
- গসি. ডি. ব্রড
- ঘবার্ট্রান্ড রাসেল
সঠিক উত্তর: ঘ. বার্ট্রান্ড রাসেল
উক্তিটি বার্ট্রান্ড রাসেলের, তাঁর হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি গ্রন্থের ভূমিকা থেকে, যা উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালে প্রকাশিত। মূল ইংরেজিতে তিনি বলেন, দর্শন ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের মাঝামাঝি কিছু; এই দুইয়ের মাঝে আছে এক নো ম্যানস ল্যান্ড, দুই দিক থেকেই আক্রমণের মুখে, আর সেই অনধিকৃত অঞ্চলই দর্শন।
রাসেলের ব্যাখ্যা: ধর্মতত্ত্বের মতো দর্শনও এমন প্রশ্ন নিয়ে ভাবে যার নিশ্চিত উত্তর জ্ঞান দিয়ে এখনো মেলেনি। আবার বিজ্ঞানের মতো দর্শন কর্তৃত্ব বা প্রথার উপর নয়, মানুষের যুক্তির উপর নির্ভর করে।
একটা বিষয় খেয়াল করুন: রাসেল লিখেছিলেন থিওলজি, যার সঠিক অনুবাদ ধর্মতত্ত্ব; বাংলায় প্রশ্নে সহজ করে ধর্ম লেখা হয়েছে।
সি ডি ব্রড দর্শনকে সমালোচনামূলক ও কল্পনামূলক, এই দুই ভাগে দেখার জন্য পরিচিত। আর বি পেরি মার্কিন নব্য-বাস্তববাদী দার্শনিক। প্লেটো প্রাচীন যুগের, তখন বিজ্ঞান আলাদা বিষয়ই ছিল না।
মনে রাখুন: ধর্ম আর বিজ্ঞানের মাঝে দর্শন, নো ম্যানস ল্যান্ড: রাসেল।
৩৩. 'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজাতিসংঘ
- খজাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি
- গবিশ্বব্যাংক
- ঘএশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর: গ. বিশ্বব্যাংক
একচল্লিশতম বিসিএসের এই প্রশ্ন আবার এসেছে। উত্তর বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক উনিশশো বিরানব্বই সালের গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে সুশাসনের চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে, যেগুলো স্তম্ভ নামে পরিচিত।
চার স্তম্ভ: সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি, উন্নয়নের জন্য আইনি কাঠামো, আর তথ্য ও স্বচ্ছতা। ছাদ সুশাসন, আর এই চারটি খুঁটি না থাকলে ছাদ দাঁড়ায় না।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উনিশশো পঁচানব্বই সালে চারটি মৌলিক উপাদান বলে: জবাবদিহি, অংশগ্রহণ, পূর্বানুমেয়তা ও স্বচ্ছতা; এডিবির পরের দলিলে এগুলোকে স্তম্ভই বলা হয়েছে। তাই এই বিকল্পটিও যুক্তিসংগত, তবে প্রকাশিত সব সমাধানে উত্তর বিশ্বব্যাংক।
চার আর ছয় আলাদা রাখুন: স্তম্ভ চারটি, উনিশশো বিরানব্বই; সুশাসন সূচকের উপাদান ছয়টি, উনিশশো ছিয়ানব্বই থেকে।
মনে রাখুন: চার স্তম্ভ = বিশ্বব্যাংক ১৯৯২; একই প্রশ্ন ৪১তম ও ৪৬তম বিসিএসে।
৩৪. নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কSmart Democracy
- খSmart Politics
- গSmart Society
- ঘSmart Parliament
সঠিক উত্তর: গ. Smart Society
পরীক্ষার সময় সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দুই হাজার একচল্লিশ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া, যা দুই হাজার বাইশ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয়। এর চারটি স্তম্ভ ছিল: স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট ইকোনমি এবং স্মার্ট সোসাইটি।
বিকল্পগুলোর মধ্যে শুধু স্মার্ট সোসাইটি এই চার স্তম্ভের একটি। স্মার্ট সোসাইটি বলতে বোঝানো হয়েছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তি-সক্ষম ও সমতাভিত্তিক সমাজ।
স্মার্ট ডেমোক্রেসি, স্মার্ট পলিটিক্স বা স্মার্ট পার্লামেন্ট শুনতে মানানসই, কিন্তু ঘোষিত চার স্তম্ভে এগুলো ছিল না। এ ধরনের প্রশ্নে তালিকাটি হুবহু মনে রাখাই কৌশল।
স্মার্ট বাংলাদেশ ছিল 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কর্মসূচির পরের ধাপ; ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষিত হয়েছিল দুই হাজার আট সালে।
মনে রাখুন: স্মার্ট বাংলাদেশের চার স্তম্ভ: সিটিজেন, গভর্নমেন্ট, ইকোনমি, সোসাইটি।
৩৫. 'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবার্কলে
- খজন লক
- গডেকার্ট
- ঘপ্লেটো
সঠিক উত্তর: ঘ. প্লেটো
রিপাবলিক গ্রন্থের রচয়িতা প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো। এটি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে, আনুমানিক তিনশো পঁচাত্তর খ্রিস্টপূর্বাব্দে লেখা একটি সংলাপগ্রন্থ, যেখানে প্রধান বক্তা সক্রেটিস।
বইটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন: ন্যায় কী? প্লেটো এখানে আদর্শ রাষ্ট্রের ছবি আঁকেন, যেখানে শাসন করবেন দার্শনিক রাজা। এখানেই আছে বিখ্যাত গুহার রূপক এবং চার সদ্গুণ: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
বাকি তিনজন আধুনিক যুগের দার্শনিক। ডেকার্ট ষোলোশো একচল্লিশ সালে মেডিটেশনস লেখেন, জন লক ষোলোশো উননব্বই সালের দিকে মানব বোধ বিষয়ক গ্রন্থ ও শাসন বিষয়ক দুটি প্রবন্ধ লেখেন, আর বার্কলে সতেরোশো দশ সালে মানবজ্ঞানের মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থ লেখেন।
জন লকের রাজনৈতিক লেখা থাকায় তাঁকে রিপাবলিকের লেখক ভাবার ঝুঁকি আছে। কিন্তু রিপাবলিক মানেই প্লেটো।
মনে রাখুন: Republic, Laws, Statesman, Symposium: সব প্লেটোর সংলাপ।
৩৬. ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কনৈতিক
- খঅর্থনৈতিক
- গরাজনৈতিক
- ঘসামাজিক
সঠিক উত্তর: ক. নৈতিক
ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় বিচার করে যে মূল্যবোধ, তার নাম নৈতিক মূল্যবোধ। নীতিশাস্ত্রের মূল আলোচনাই হলো মানুষের আচরণ ভালো না মন্দ।
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস মানুষের বিবেক বা নৈতিক চেতনা। সত্য বলা ভালো, চুরি করা মন্দ, এ বিচার কোনো লাভ-ক্ষতির হিসাবে নয়, নৈতিক বিচারে হয়।
অর্থনৈতিক মূল্যবোধ দেখে লাভ-ক্ষতি, সঞ্চয় ও শ্রমের মর্যাদা। রাজনৈতিক মূল্যবোধ দেখে ক্ষমতা, অধিকার ও অংশগ্রহণ। সামাজিক মূল্যবোধ দেখে সমাজের প্রথা, সহযোগিতা ও শিষ্টাচার।
সামাজিক মূল্যবোধও ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িত বলে ফাঁদ হয়। কিন্তু সামাজিক মানে প্রথা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য; আর ভালো-মন্দের মৌলিক বিচার নৈতিক।
মনে রাখুন: ভালো-মন্দ মানেই নৈতিক; লাভ-ক্ষতি অর্থনৈতিক।
৩৭. সুশাসনের পূর্বশর্ত কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কনিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
- খনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
- গপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা
- ঘমত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর: ঘ. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
প্রকাশিত সব সমাধান অনুযায়ী সুশাসনের পূর্বশর্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা। যুক্তিটি হলো, মানুষ যদি নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে, সমালোচনা করতে ও তথ্য জানাতে না পারে, তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরিই হয় না।
গণমাধ্যম দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে, নাগরিক অভিযোগ জানায়, বিরোধী দল ভুল ধরিয়ে দেয়। এ সবই মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকের প্রথম মাত্রাও মত প্রকাশ ও জবাবদিহি।
বাংলাদেশের সংবিধানের উনচল্লিশ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক্স্বাধীনতা এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরপেক্ষ আইন, নিরপেক্ষ বিচার ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতাও সুশাসনের জন্য জরুরি, তাই প্রশ্নটি কিছুটা দ্ব্যর্থক মনে হতে পারে। তবে এগুলো সুশাসনের উপাদান হিসেবে বেশি আসে; সব কটির আগে যে শর্ত, অর্থাৎ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ, সেটাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
মনে রাখুন: পূর্বশর্ত মানে সবার আগে লাগবে এমন জিনিস: কথা বলার অধিকার।
৩৮. 'Utilitarianism'-গ্রন্থের লেখক কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কজন স্টুয়ার্ট মিল
- খইমানূয়েল কান্ট
- গবার্ট্রান্ড রাসেল
- ঘজেরেমি বেন্থাম
সঠিক উত্তর: ক. জন স্টুয়ার্ট মিল
ইউটিলিটেরিয়ানিজম গ্রন্থের লেখক জন স্টুয়ার্ট মিল। লেখাটি প্রথমে আঠারোশো একষট্টি সালে ফ্রেজার্স ম্যাগাজিনে তিন কিস্তিতে ছাপা হয়, আর বই আকারে প্রকাশ পায় আঠারোশো তেষট্টি সালে।
উপযোগবাদের মূল সূত্র: যে কাজ সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ আনে, সেটাই ঠিক। মিল এতে যোগ করেন যে সুখের মধ্যে উচ্চতর ও নিম্নতর পার্থক্য আছে; তাঁর বিখ্যাত কথা, তৃপ্ত শূকর হওয়ার চেয়ে অতৃপ্ত মানুষ হওয়া ভালো।
বড় ফাঁদ জেরেমি বেন্থাম। উপযোগবাদের প্রতিষ্ঠাতা তিনিই, সতেরোশো উননব্বই সালের ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য প্রিন্সিপলস অব মরালস অ্যান্ড লেজিসলেশন গ্রন্থে। কিন্তু 'ইউটিলিটেরিয়ানিজম' নামের বইটি মিলের।
কান্ট উপযোগবাদের বিরোধী কর্তব্যবাদী, আর রাসেল বিশ শতকের দার্শনিক।
মনে রাখুন: উপযোগবাদের জনক বেন্থাম, কিন্তু Utilitarianism বইটি মিলের।
৩৯. সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কইউরোপীয় ইউনিয়ন
- খআই, এল, ও
- গবিশ্বব্যাংক
- ঘজাতিসংঘ
সঠিক উত্তর: গ. বিশ্বব্যাংক
সুশাসন প্রত্যয়টিকে উন্নয়ন আলোচনায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব দেওয়া হয় বিশ্বব্যাংককে। উনিশশো উননব্বই সালে আফ্রিকা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের উন্নয়ন সমস্যার পেছনে আছে শাসনের সংকট।
এরপর বিশ্বব্যাংক উনিশশো বিরানব্বই সালে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে সুশাসনের চারটি ক্ষেত্র ঠিক করে, আর উনিশশো ছিয়ানব্বই সাল থেকে ছয় মাত্রার বিশ্বব্যাপী সুশাসন সূচক প্রকাশ শুরু করে।
মনে রাখবেন, গভর্ন্যান্স শব্দটি অনেক পুরোনো, গ্রিক ও লাতিন থেকে আসা। বিশ্বব্যাংক শব্দ উদ্ভাবন করেনি; সুশাসনকে উন্নয়নের একটি প্রত্যয় হিসেবে প্রথম জোরালোভাবে সামনে এনেছে। প্রশ্নে 'উদ্ভাবক' মানে এটাই।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি পরে উনিশশো সাতানব্বই সালে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য তালিকা দেয়, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আইএলও এর উদ্ভাবক নয়।
মনে রাখুন: সুশাসন প্রত্যয়, চার স্তম্ভ, ছয় উপাদান: তিন প্রশ্নেই বিশ্বব্যাংক।
৪০. সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসামাজিক দিক
- খঅর্থনৈতিক দিক
- গমূল্যবোধের দিক
- ঘগণতান্ত্রিক দিক
সঠিক উত্তর: খ. অর্থনৈতিক দিক
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের ভিত্তি দুই হাজার সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ সম্মেলনে গৃহীত সহস্রাব্দ ঘোষণা, দুই হাজার পনেরো সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে। আটটি লক্ষ্যের প্রথমটিই চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা।
প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সুশাসনের অর্থনৈতিক দিকের উপর জোর দেওয়া হয়েছে: সরকারি সম্পদের দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবহার, আর্থিক জবাবদিহি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং দরিদ্রমুখী বাজেট। অষ্টম লক্ষ্য, উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, সরাসরি বাণিজ্য, ঋণ ও সাহায্যের কথা বলে।
যুক্তিটা সহজ: দারিদ্র্য কমানো, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো সবই টাকার ব্যাপার। সেই টাকা দুর্নীতি ও অপচয়ে হারিয়ে গেলে কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয় না। তাই অর্থনৈতিক সুশাসন ছিল কেন্দ্রে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন সামাজিক দিক, তাই সামাজিক দিক বিকল্পটিও যুক্তিসংগত মনে হয়; কিছু প্রকাশিত সমাধানে তা উত্তরও ধরা হয়েছে। তবে অধিকাংশ সমাধানের উত্তর অর্থনৈতিক দিক।
মনে রাখুন: সহস্রাব্দ লক্ষ্যের এক নম্বর দারিদ্র্য দূরীকরণ; তাই সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক।