নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ৭
১২১. নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কমানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
- খমানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
- গসমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
- ঘসমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নীতিবিদ্যা আসলে কী নিয়ে কাজ করে। নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের স্বেচ্ছাকৃত আচরণ আলোচনা করে এবং সেই আচরণ ভালো না মন্দ, উচিত না অনুচিত, তা বিচার বা মূল্যায়ন করে।
নীতিবিদ্যার ইংরেজি নাম এথিক্স এসেছে গ্রিক শব্দ ইথোস থেকে, যার অর্থ চরিত্র, রীতি বা অভ্যাস। ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট ম্যাকেঞ্জি তাঁর পাঠ্যবই আ ম্যানুয়াল অব এথিক্সে নীতিবিদ্যাকে বলেছেন আচরণের বিজ্ঞান, যা মানুষের কাজকে ঠিক না ভুল, ভালো না মন্দ, সেই দিক থেকে বিচার করে।
এ কারণে নীতিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। মনোবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান বলে মানুষ কেমন আচরণ করে আর কেন করে; নীতিবিদ্যা বলে মানুষের কেমন আচরণ করা উচিত। শুধু ব্যাখ্যা নয়, মূল্যায়নই এর বিশেষত্ব।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ তৃতীয় বিকল্প, যেখানে শুধু আচরণ ব্যাখ্যার কথা আছে। ব্যাখ্যা তো সমাজবিজ্ঞানও করে; আলোচনার সঙ্গে মূল্যায়ন যোগ হলেই তা নীতিবিদ্যা।
মনে রাখুন: প্রশ্নে ‘মূল্যায়ন’, ‘উচিত-অনুচিত’ বা ‘ভালো-মন্দ বিচার’ থাকলে সেটাই নীতিবিদ্যা; শুধু ‘ব্যাখ্যা’ থাকলে তা অন্য শাস্ত্র।
১২২. মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঐচ্ছিক ক্রিয়া
- খঅনৈচ্ছিক ক্রিয়া
- গইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া
- ঘক ও গ নামক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ক. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মানুষের কোন ধরনের কাজের নৈতিক বিচার হয়। উত্তর ঐচ্ছিক ক্রিয়া, অর্থাৎ যে কাজ মানুষ জেনে-বুঝে, উদ্দেশ্য নিয়ে এবং স্বাধীনভাবে বেছে নিয়ে করে।
নৈতিক দায় তখনই আসে যখন মানুষ চাইলে অন্যভাবে কাজটি করতে পারত। কেউ মিথ্যা বলবে কি না, ঘুষ নেবে কি না, এগুলো সে নিজে ঠিক করে; তাই এসব কাজের জন্য তাকে প্রশংসা বা নিন্দা করা যায়।
অনৈচ্ছিক ক্রিয়া, যেমন হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, হাঁচি বা চোখের পলক পড়া, ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা হঠাৎ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মতো ইচ্ছা-নিরপেক্ষ কাজও তাই নৈতিক বিচারের বাইরে।
ফাঁদ হলো শেষ বিকল্প ‘ক ও গ’। ইচ্ছা-নিরপেক্ষ কাজে উদ্দেশ্য বা বাছাই নেই, তাই এটিকে ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় না।
মনে রাখুন: ‘ইচ্ছা’, ‘উদ্দেশ্য’, ‘স্বাধীন বাছাই’ যেখানে আছে, সেখানেই নৈতিক বিচার।
১২৩. মূল্যবোধ (Values) কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কমানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
- খশুধুমাত্র মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা
- গসমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
- ঘমানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
সঠিক উত্তর: ক. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
প্রশ্নটি মূল্যবোধের সংজ্ঞা জানতে চেয়েছে। মূল্যবোধ হলো সেই নীতি ও মানদণ্ড, যা দিয়ে মানুষ ঠিক করে কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, কোনটি করা উচিত, আর সেই অনুযায়ী তার আচরণ পরিচালিত হয়।
মূল্যবোধ মানুষের ভেতরের দিকনির্দেশক। সততা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, বড়দের সম্মান করা, এগুলো মূল্যবোধ। এগুলো আইন দিয়ে চাপানো হয় না; পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে মানুষ এগুলো শেখে।
মূল্যবোধ নানা রকম: নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক। সব রকমের মূল্যবোধের মিল একটাই, এগুলো মানুষের আচরণের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
বাকি বিকল্পগুলো মূল্যবোধের কোনো একটি ফল বা অংশ মাত্র। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বা সুখী জীবন মূল্যবোধের ফলে তৈরি হয়, কিন্তু সংজ্ঞা হলো আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
মনে রাখুন: মূল্যবোধের সংজ্ঞায় ‘আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড’ কথাটি খুঁজুন।
১২৪. সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কী? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআইনের শাসন
- খনৈতিকতা
- গসাম্য
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সামাজিক মূল্যবোধ কিসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। উত্তর উপরের সবগুলো: আইনের শাসন, নৈতিকতা এবং সাম্য, তিনটিই সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি।
নৈতিকতা মানুষকে ভেতর থেকে ভালো-মন্দ চিনতে শেখায়, যেমন সততা ও পরোপকার। আইনের শাসন বাইরে থেকে নিশ্চয়তা দেয় যে নিয়ম সবার জন্য সমান এবং অন্যায় করলে শাস্তি হবে। এ দুয়ের ফলে সমাজে ন্যায়বোধ টিকে থাকে।
সাম্য মানে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান মর্যাদা ও সুযোগ। সাম্য না থাকলে মানুষ মানুষকে সম্মান করে না, তখন সহমর্মিতা বা সহযোগিতার মতো সামাজিক মূল্যবোধও টেকে না।
সামাজিক মূল্যবোধের আলোচনায় ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, শৃঙ্খলাবোধ, সহমর্মিতার মতো আরও কিছু উপাদানের কথাও আসে। এখানে দেওয়া তিনটিই ভিত্তি, তাই যেকোনো একটি বেছে নেওয়া ফাঁদ।
মনে রাখুন: ভিত্তি, উপাদান বা পূর্বশর্ত জাতীয় প্রশ্নে তিনটি বিকল্পই ইতিবাচক হলে ‘সবগুলো’ উত্তর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
১২৫. সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে - (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কমত প্রকাশের স্বাধীনতা
- খপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা
- গনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
- ঘনিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: ক. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
প্রশ্নটি সুশাসনের পূর্বশর্ত জানতে চেয়েছে, আর পরীক্ষার উত্তর মত প্রকাশের স্বাধীনতা। মানুষ যদি নির্ভয়ে সরকারের ভুল ধরতে না পারে, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বা অংশগ্রহণ, সুশাসনের কোনো উপাদানই কাজ করে না।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সংবাদমাধ্যম দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে পারে, নাগরিকরা দাবি জানাতে পারে, বিরোধী মত শোনা যায়। এভাবেই সরকারকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ঊনচল্লিশ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিও বলেছে, অংশগ্রহণ গড়ে ওঠে সংগঠনের স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতার ওপর।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষ বিচার বা আইন ব্যবস্থাও সুশাসনের জন্য জরুরি, তাই এগুলো ফাঁদ। কিন্তু এগুলো নিরপেক্ষ আছে কি না, তা জানা ও বলা সম্ভব হয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেই; তাই এটিকেই মূল পূর্বশর্ত ধরা হয়।
মনে রাখুন: এই প্রশ্নটি দুইভাবে আসে: পঁয়ত্রিশতম বিসিএসে উত্তর ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’, ছত্রিশতম বিসিএসে ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন’; বিকল্প দেখে মেলান।
১২৬. সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals) অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসুশাসনের সামাজিক দিক
- খসুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
- গসুশাসনের মূল্যবোধের দিক
- ঘসুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক
সঠিক উত্তর: ক. সুশাসনের সামাজিক দিক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের কোন দিকে জোর দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর সুশাসনের সামাজিক দিক।
দুই হাজার সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ ঘোষণা থেকে আটটি লক্ষ্য আসে, যা দুই হাজার পনেরো সালের মধ্যে অর্জনের কথা ছিল। লক্ষ্যগুলোর বেশির ভাগই সামাজিক: চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা, নারী-পুরুষ সমতা, শিশুমৃত্যু কমানো, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং এইচআইভি-এইডস, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধ।
এই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুর মতো সামাজিক খাতে সেবা ঠিকমতো মানুষের কাছে পৌঁছাতে হয়। সেজন্যই এখানে সুশাসনের সামাজিক দিকটিকে মূল ধরা হয়।
ফাঁদ হলো অর্থনৈতিক দিক, কারণ প্রথম লক্ষ্যটি দারিদ্র্য নিয়ে। কিছু উত্তরমালা অর্থনৈতিক দিককেই উত্তর দিয়েছে; তবে বেশির ভাগ লক্ষ্য সামাজিক খাতের হওয়ায় প্রচলিত উত্তর সামাজিক দিক।
মনে রাখুন: এমডিজির আটটি লক্ষ্যের বেশির ভাগই শিক্ষা-স্বাস্থ্য-নারী-শিশু; তাই ‘সামাজিক দিক’।
১২৭. আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। - -বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কধারা ০৭
- খধারা ২৭
- গধারা ৩৭
- ঘধারা ৪৭
সঠিক উত্তর: খ. ধারা ২৭
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তা সংবিধানের কোথায় আছে। উত্তর সাতাশ। বাংলাদেশের সংবিধানের সাতাশ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
এটি সংবিধানের তৃতীয় ভাগের প্রথম মৌলিক অধিকার। এই ভাগ ছাব্বিশ থেকে সাতচল্লিশ-ক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত, আর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যেতে পারেন।
মনে রাখবেন, প্রশ্নে ‘ধারা’ লেখা থাকলেও সংবিধানের অংশকে ঠিকভাবে বলা হয় ‘অনুচ্ছেদ’; ‘ধারা’ শব্দটি সাধারণ আইনের জন্য।
বাকি বিকল্পগুলোও পরিচিত অনুচ্ছেদ। সাত অনুচ্ছেদ বলে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান সর্বোচ্চ আইন। সাঁইত্রিশ অনুচ্ছেদ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়। সাতচল্লিশ অনুচ্ছেদ কিছু আইনকে মৌলিক অধিকারের আওতা থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন: মৌলিক অধিকার শুরু ২৬ থেকে; ২৭ = আইনের চোখে সমতা, ২৮ = বৈষম্যহীনতা, ২৯ = সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ।
১২৮. Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে নিচের কোন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কটেকসই উন্নয়ন
- খসাংস্কৃতিক উন্নয়ন
- গধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
- ঘউপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. টেকসই উন্নয়ন
প্রশ্নটি জোহানেসবার্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে। এটি দুই হাজার দুই সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের মূল দলিল। তাই এটি সুশাসনকে যুক্ত করেছে টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে।
এই পরিকল্পনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুশাসন টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। কারণ দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা আর দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকলে পরিবেশ রক্ষা ও দারিদ্র্য দূরের পরিকল্পনা কাগজেই থেকে যায়।
সম্মেলনটি হয়েছিল উনিশশো বিরানব্বই সালের রিও ধরিত্রী সম্মেলনের দশ বছর পর, তাই একে রিও প্লাস টেনও বলা হয়। রিওর এজেন্ডা একুশ কতটা বাস্তবায়ন হলো, তা পর্যালোচনা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
নামেই ‘টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন’ মনে রাখলে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় উন্নয়নের ফাঁদে পড়ার সুযোগ থাকে না।
মনে রাখুন: জোহানেসবার্গ সম্মেলনের পুরো নাম ‘টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন’; উত্তর নামেই আছে।
১২৯. ‘সুশাসন’ শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কজাতিসংঘ
- খইউ.এন.ডি.পি
- গবিশ্বব্যাংক
- ঘআই.এম.এফ
সঠিক উত্তর: গ. বিশ্বব্যাংক
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন সংস্থা প্রথম গভর্ন্যান্স বা সুশাসন ধারণাটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে। উত্তর বিশ্বব্যাংক।
উনিশশো ঊননব্বই সালে বিশ্বব্যাংক সাব-সাহারান আফ্রিকা নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলে, আফ্রিকার উন্নয়ন সংকটের মূলে আছে শাসনের সংকট। এই প্রতিবেদন থেকেই সুশাসন শব্দটি উন্নয়ন আলোচনায় জনপ্রিয় হয়।
এরপর উনিশশো বিরানব্বই সালে বিশ্বব্যাংক গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের প্রতিবেদনে সংজ্ঞা দেয়: উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়, সেটাই শাসন।
ফাঁদ হলো ইউএনডিপি। ইউএনডিপি সুশাসনের সবচেয়ে পরিচিত নয়টি বৈশিষ্ট্য দেয়, তবে তা উনিশশো সাতানব্বই সালে, বিশ্বব্যাংকের অনেক পরে।
মনে রাখুন: সুশাসন ধারণার ‘প্রথম’ = বিশ্বব্যাংক, ১৯৮৯; সংজ্ঞাসহ প্রতিবেদন ১৯৯২; ইউএনডিপি ১৯৯৭।
১৩০. নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসামাজিক অবক্ষয়ের
- খমূল্যবোধ অবক্ষয়ের
- গসুশাসনের
- ঘশিক্ষার গুণগতমানের
সঠিক উত্তর: গ. সুশাসনের
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম না থাকলে কিসের পথে বাধা তৈরি হয়। উত্তর সুশাসন।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সরকারের কাজের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর অনিয়ম প্রকাশ করে। এতে সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হয় এবং শাসন স্বচ্ছ থাকে।
গণমাধ্যম দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট হলে মানুষ সঠিক তথ্য পায় না, অনিয়ম চাপা পড়ে যায়, আর ক্ষমতাসীনরা জবাবদিহির বাইরে চলে যায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের মূল উপাদান, তাই এটি সরাসরি সুশাসনের অন্তরায়।
সামাজিক বা মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সঙ্গেও গণমাধ্যমের সম্পর্ক আছে, এটাই ফাঁদ। কিন্তু সুশাসনের আলোচনায় নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের অভাবকে সাধারণত সুশাসনের অন্তরায়ের তালিকাতেই রাখা হয়।
মনে রাখুন: স্বাধীন গণমাধ্যম, স্বাধীন বিচার বিভাগ বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব দেখলে উত্তর সাধারণত ‘সুশাসনের অন্তরায়’।