নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ৫
৮১. ‘বিপরীত বৈষম্য’ এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কনারীদের ক্ষেত্রে
- খসংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
- গপ্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
- ঘপিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর: ঘ. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বিপরীত বৈষম্যের নীতি কাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়। উত্তর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে।
বিপরীত বৈষম্য মানে সমাজে যারা ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে আছে, তাদের সমান অবস্থানে আনতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়তি সুবিধা দেওয়া। একে ইতিবাচক বৈষম্য বা অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনও বলা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি সমতার নীতির বিপরীত মনে হয়, কিন্তু লক্ষ্য হলো প্রকৃত সমতা।
বাংলাদেশের সংবিধানের আঠাশ অনুচ্ছেদের চতুর্থ দফা নারী, শিশু বা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান করার অনুমতি দেয়। ঊনত্রিশ অনুচ্ছেদের তৃতীয় দফা অনগ্রসর অংশের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সুযোগ রাখে। কোটা পদ্ধতি এর পরিচিত উদাহরণ।
নারী, সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী, তিনটিই আসলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উদাহরণ। তাই এদের যেকোনো একটি বেছে নেওয়া ফাঁদ; বৃহত্তর ও পূর্ণ উত্তর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।
মনে রাখুন: উপদলগুলো আলাদা বিকল্পে থাকলে, সবাইকে ধারণ করে এমন বৃহত্তর বিকল্পটি উত্তর।
৮২. মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কউন্নয়ন
- খগণতন্ত্র
- গসংস্কৃতি
- ঘসুশাসন
সঠিক উত্তর: গ. সংস্কৃতি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কী। পরীক্ষার স্বীকৃত উত্তর সংস্কৃতি।
মূল্যবোধ জন্ম নেয় এবং বেড়ে ওঠে সমাজের সংস্কৃতির ভেতরে। মানুষ কী খায়, কীভাবে বড়দের সম্মান করে, অতিথিকে কীভাবে আপ্যায়ন করে, ভিন্নমতকে কতটা সহ্য করে, এসবই সংস্কৃতি শেখায়। এজন্য এক সমাজে যা ভালো আচরণ, অন্য সমাজে তা ভিন্ন হতে পারে।
পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনায় বলা হয়, মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ মূল্যবোধ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, আর সংস্কৃতিই মানুষকে কাঙ্ক্ষিত আচরণ শেখায়। তাই সংস্কৃতিকে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি বলা হয়।
গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়ন মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে বা মূল্যবোধ থেকে উপকৃত হয়, এটাই ফাঁদ। এগুলো মূল্যবোধের ফল বা ক্ষেত্র, মূল্যবোধকে চালায় না।
মনে রাখুন: মূল্যবোধের ‘চালিকাশক্তি’ = সংস্কৃতি; মূল্যবোধের ‘ভিত্তি’ প্রশ্নে আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য।
৮৩. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে- (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কদুর্নীতি দূর হয়
- খবিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
- গআইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়। উত্তর বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক সুশাসন মানে নিয়মকানুন স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল, চুক্তি মানা হয়, সম্পত্তির নিরাপত্তা থাকে আর ঘুষ ছাড়াই অনুমোদন মেলে। এমন পরিবেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কম দেখেন, ফলে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপন বাড়ে, কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
দুর্নীতি দূর হয় বিকল্পটি বড় ফাঁদ। সুশাসন দুর্নীতি কমায় ঠিকই, কিন্তু দুর্নীতি দমন সুশাসনের সাধারণ ফল, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের নয়; আর পুরোপুরি দূর হয় বলাও অতিরঞ্জন। প্রশ্নটি নির্দিষ্টভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের কথা জিজ্ঞেস করেছে, যার সরাসরি ফল বিনিয়োগ।
আইনের শাসন সুশাসনের উপাদান বা পূর্বশর্ত, অর্থনৈতিক সুশাসনের ফল নয়। তাই উত্তর বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
মনে রাখুন: ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে’ শব্দটি থাকলে অর্থনীতির নির্দিষ্ট ফলটি, অর্থাৎ বিনিয়োগ, বেছে নিন।
৮৪. মূল্যবোধ হলো – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কমানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
- খমানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
- গসমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
- ঘমানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
সঠিক উত্তর: খ. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
প্রশ্নটি মূল্যবোধের সংজ্ঞা চেয়েছে। উত্তর মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। পঁয়ত্রিশতম বিসিএসেও একই প্রশ্ন একই উত্তরে এসেছিল।
মূল্যবোধ মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও আচরণকে দিক দেখায়। কোনো কাজ করার আগে মানুষ ভেতরে ভেতরে বিচার করে কাজটি ঠিক কি না; এই বিচারের মাপকাঠিই মূল্যবোধ। যেমন রাস্তায় হারানো মানিব্যাগ পেয়ে কেউ মালিককে ফেরত দিলে তার সততার মূল্যবোধ আচরণটি পরিচালনা করেছে।
বাকি বিকল্পগুলো মূল্যবোধের ফলাফল বা প্রয়োগক্ষেত্র। পারস্পরিক সম্পর্ক, সুখী সমাজজীবন বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের দিকনির্দেশনা মূল্যবোধ থেকে আসে, কিন্তু কোনোটিই পুরো সংজ্ঞা নয়।
মনে রাখার সূত্র: সংজ্ঞায় তিনটি শব্দ খুঁজুন, আচরণ, নীতি আর মানদণ্ড।
মনে রাখুন: মূল্যবোধের সংজ্ঞা = আচরণ + নীতি + মানদণ্ড।
৮৫. জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কদারিদ্র বিমোচন
- খমৌলিক অধিকার রক্ষা
- গমৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
- ঘনারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
সঠিক উত্তর: গ. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের মতে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী। পরীক্ষার স্বীকৃত উত্তর মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
জাতিসংঘের চিন্তায় সুশাসন আর মানবাধিকার একে অপরের সঙ্গে জড়িত। জাতিসংঘ সনদের প্রথম অনুচ্ছেদেই সংস্থার একটি উদ্দেশ্য হিসেবে সবার মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানোর কথা আছে। সুশাসনকে জাতিসংঘ দেখে এই স্বাধীনতাগুলো বাস্তবে নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে।
মৌলিক স্বাধীনতা, যেমন মত প্রকাশ, সংগঠন, চলাফেরা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, বিকশিত হলে মানুষ নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারে, নারী ও দুর্বল গোষ্ঠী সুরক্ষা পায়, আর উন্নয়নের ফল সবার কাছে পৌঁছায়। তাই এটিকে অন্য বিকল্পগুলোর মূল হিসেবে ধরা হয়।
দারিদ্র্য বিমোচন, মৌলিক অধিকার রক্ষা ও নারীর সুরক্ষা সুশাসনের সুফল, তাই এরা ফাঁদ। কিন্তু প্রচলিত উত্তরে এগুলো মৌলিক স্বাধীনতা উন্নয়নের ফল হিসেবে দেখানো হয়।
মনে রাখুন: জাতিসংঘ + সুশাসনের লক্ষ্য = মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
৮৬. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো – (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কসরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
- খনিজের অধিকার ভোগ করা
- গসৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
- ঘনিয়মিত কর প্রদান করা
সঠিক উত্তর: ঘ. নিয়মিত কর প্রদান করা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কী। উত্তর নিয়মিত কর প্রদান করা।
সরকার রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থা চালায় মূলত করের টাকায়। নাগরিক নিয়মিত কর দিলে সরকারের সম্পদ বাড়ে, আর করদাতা হিসেবে নাগরিক জানতে চাইতে পারেন টাকাটা কোথায় খরচ হলো। এভাবে কর দেওয়া জবাবদিহিতাও শক্ত করে।
পৌরনীতির আলোচনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হিসেবে সাধারণত আসে: নিয়মিত কর দেওয়া, আইন মানা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা, সংবিধান মেনে চলা, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া। সংবিধানের একুশ অনুচ্ছেদেও আইন মানা ও জাতীয় সম্পত্তি রক্ষাকে নাগরিকের কর্তব্য বলা হয়েছে।
নিজের অধিকার ভোগ করা কর্তব্য নয়, অধিকার; এটাই বড় ফাঁদ। সরকার পরিচালনা সরকারের কাজ, আর সৎভাবে ব্যবসা করা শুধু ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব নাগরিকের সাধারণ কর্তব্য নয়।
মনে রাখুন: অধিকার আর কর্তব্য আলাদা করুন: ভোগ করা অধিকার, দেওয়া ও মানা কর্তব্য।
৮৭. সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর যে অংশ সরকার বা কর্পোরেট গ্রুপে থাকে না, কিন্তু সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে - - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করাজনৈতিক দল
- খসুশীল সমাজ
- গবিচার বিভাগ
- ঘপ্রশাসন বিভাগ
সঠিক উত্তর: খ. সুশীল সমাজ
প্রশ্নটি বলছে, সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির যে অংশ সরকারে বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে নেই, কিন্তু সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উত্তর সুশীল সমাজ।
সুশীল সমাজ বলতে রাষ্ট্র ও বাজারের বাইরে থাকা সংগঠিত নাগরিক গোষ্ঠী বোঝায়: শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক, বেসরকারি সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ইত্যাদি। তারা ক্ষমতায় না থেকেও মতামত, গবেষণা ও আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ও সমাজকে প্রভাবিত করে।
সুশাসনে সুশীল সমাজ সরকারের ওপর নজরদারি করে, নীতি নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দেয়, আর জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যেতে চায়, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগ সরাসরি সরকারের অংশ। প্রশ্নের শর্ত ‘সরকারে থাকে না’, তাই এরা বাদ।
মনে রাখুন: ‘সরকারে নেই, ব্যবসায়ও নেই, কিন্তু প্রভাবশালী’ = সুশীল সমাজ।
৮৮. নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- করাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
- খশিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া
- গদক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
- ঘরাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া
সঠিক উত্তর: ক. রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব। উত্তর রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা।
নাগরিকের প্রধান কর্তব্যগুলোর একটি হলো রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা। বাংলাদেশের সংবিধানের একুশ অনুচ্ছেদের প্রথম দফায় বলা আছে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। ট্রাফিক আইন মানা এই আইন মান্য করারই দৈনন্দিন উদাহরণ।
অন্য বিকল্পগুলো ভালো কাজ হলেও প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব নয়। বেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া শিল্পমালিকের সিদ্ধান্ত, দক্ষ জনশক্তি তৈরি মূলত রাষ্ট্রের কাজ, আর রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া নাগরিকের অধিকার, বাধ্যবাধকতা নয়।
ফাঁদ হলো রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়া। সংগঠন করার স্বাধীনতা সংবিধানের আটত্রিশ অনুচ্ছেদে অধিকার হিসেবে আছে; অধিকার আর দায়িত্ব আলাদা।
মনে রাখুন: নাগরিকের কর্তব্য: আইন মানা, কর দেওয়া, ভোট দেওয়া, জাতীয় সম্পদ রক্ষা; সংগঠন করা অধিকার।
৮৯. প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয় : (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কথমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
- খম্যাগনা কার্টা থেকে
- গগ্রিক, খ্রিস্টান ও মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্ব থেকে
- ঘকনফুসিয়ানিজম থেকে
সঠিক উত্তর: ক. থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
প্রশ্নটি প্রাকৃতিক আইনের উৎস জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার স্বীকৃত উত্তর প্রথম বিকল্প: টমাস হবস, হুগো গ্রোশিয়াস ও জন লকের লেখা থেকে। প্রশ্নে ‘হবসন’ ছাপা হয়েছে, আসলে নামটি হবস; আর ‘হুগো’ বলতে ডাচ আইনবিদ হুগো গ্রোশিয়াসকে বোঝানো হয়েছে।
প্রাকৃতিক আইন মানে এমন নৈতিক নিয়ম, যা মানুষের তৈরি নয়, মানুষের প্রকৃতি ও যুক্তি থেকেই আসে, এবং সব রাষ্ট্রের আইনের ওপরে। আধুনিক প্রাকৃতিক আইন ও প্রাকৃতিক অধিকারের তত্ত্ব গড়ে তোলেন গ্রোশিয়াস, ষোলোশো পঁচিশ সালে তাঁর যুদ্ধ ও শান্তির আইন বইয়ে; হবস, ষোলোশো একান্ন সালের লেভিয়াথানে; আর লক, ষোলোশো ঊননব্বই সালের টু ট্রিটিজেস অব গভর্নমেন্টে। সামাজিক চুক্তি মতবাদ এই ধারণার ওপরেই দাঁড়িয়ে।
তবে জানা দরকার, ধারণাটির শিকড় আরও পুরোনো। প্রাচীন গ্রিসের স্টোয়িক দার্শনিকরা, রোমের সিসেরো এবং মধ্যযুগে খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক টমাস অ্যাকুইনাস প্রাকৃতিক আইনের কথা বলেছিলেন। এজন্য তৃতীয় বিকল্পটিকেও অনেকে সঠিক মনে করেন; প্রশ্নটি তাই বিতর্কিত।
ম্যাগনা কার্টা বারোশো পনেরো সালের ইংল্যান্ডের সনদ, যা রাজার ক্ষমতা সীমিত করে; এটি লিখিত আইন, প্রাকৃতিক আইনের উৎস নয়। কনফুসিয়ানিজম চীনা নৈতিক দর্শন, পশ্চিমা প্রাকৃতিক আইনের উৎস নয়।
মনে রাখুন: এই প্রশ্নে বিসিএসের স্বীকৃত উত্তর হবস, গ্রোশিয়াস ও লক; সামাজিক চুক্তির নামগুলো দেখলেই সেটি বেছে নিন।
৯০. গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো– (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
- খদুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
- গত্রিভুজের দুটি বাহন বূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
- ঘএকটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
সঠিক উত্তর: খ. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
প্রশ্নটি গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যকের অর্থ জানতে চেয়েছে। উত্তর দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। এটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের নীতিদর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা, যা তিনি নিকোমেকিয়ান এথিক্স গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন।
অ্যারিস্টটলের মতে সদ্গুণ হলো অভাব আর আধিক্য, দুই দোষের মাঝখানের পথ। আত্মসংযম হলো ভোগে ডুবে থাকা আর সব আনন্দ বর্জনের মাঝামাঝি; সত্যবাদিতা হলো বড়াই আর অতিবিনয়ের মাঝামাঝি।
এই মাঝামাঝি অঙ্কের গড় নয়। অ্যারিস্টটলের নিজের উদাহরণে, একজন পাকা কুস্তিগির আর সদ্য অনুশীলন শুরু করা কারও জন্য খাবারের ঠিক পরিমাণ যেমন আলাদা, তেমনি সদ্গুণের মধ্যকও ব্যক্তি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তি দিয়ে ঠিক করতে হয়। ‘সোনালি’ বিশেষণটি এসেছে রোমান কবি হোরেসের কবিতা থেকে।
ফাঁদ হলো ‘সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়’ এবং ‘প্রাচীন দার্শনিক ধারা’। গোল্ডেন মিন কোনো গড় হিসাব নয়, আবার স্টোয়িক বা এপিকিউরীয়দের মতো কোনো দার্শনিক সম্প্রদায়ের নামও নয়।
মনে রাখুন: গোল্ডেন মিন = সুবর্ণ মধ্যক = অ্যারিস্টটল = দুই চরমের মাঝে।
৯১. কোন বছর ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- ক১৯৯৫
- খ১৯৯৭
- গ১৯৯৮
- ঘ১৯৯৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯৭
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ইউএনডিপি কোন বছর সুশাসনের সংজ্ঞা দেয়। উত্তর উনিশশো সাতানব্বই।
সেই বছর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি গভর্ন্যান্স ফর সাসটেইনেবল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট নামে একটি নীতিপত্র প্রকাশ করে। সেখানে শাসনকে বলা হয় দেশের সব স্তরে কাজ পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ, আর সুশাসনের নয়টি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়।
ইউএনডিপির সংজ্ঞার বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু সরকার নয়, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজকেও শাসনের অংশ ধরেছে, আর সুশাসনকে মানব উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ফাঁদ হলো বিশ্বব্যাংকের তারিখগুলো। বিশ্বব্যাংক প্রথম ধারণাটি আনে উনিশশো ঊননব্বই সালে এবং সংজ্ঞা দেয় উনিশশো বিরানব্বই সালে। পঁচানব্বই, আটানব্বই বা নিরানব্বই সালের সঙ্গে ইউএনডিপির এই নীতিপত্রের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংক ৮৯ ও ৯২, ইউএনডিপি ৯৭।
৯২. শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভুত তার অর্থ - (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসব
- খকিছুই না
- গসর্বজনীন
- ঘকিছু
সঠিক উত্তর: খ. কিছুই না
প্রশ্নটি শূন্যবাদ শব্দের মূল জানতে চেয়েছে। শূন্যবাদের ইংরেজি নাম নিহিলিজম, যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ নিহিল থেকে। নিহিল অর্থ কিছুই না।
শূন্যবাদ এমন এক মতবাদ, যা বলে জীবনের কোনো নিজস্ব অর্থ, উদ্দেশ্য বা চিরন্তন নৈতিক মূল্য নেই, আর প্রচলিত সব মূল্যবোধ ভিত্তিহীন। নীতিবিদ্যায় এটি মূল্যবোধের সম্পূর্ণ অস্বীকার হিসেবে আলোচিত হয়।
রুশ লেখক ইভান তুর্গেনেভ আঠারোশো বাষট্টি সালের উপন্যাস পিতা ও পুত্রে বাজারভ চরিত্রের মাধ্যমে শব্দটিকে জনপ্রিয় করেন। পরে জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিৎশে শূন্যবাদ নিয়ে বিস্তারিত লেখেন।
বাংলা নামেও উত্তর লুকিয়ে আছে: শূন্য মানে কিছুই না। ‘সব’ বা ‘সর্বজনীন’ উল্টো অর্থ, আর ‘কিছু’ শব্দটি কাছাকাছি শোনায় বলে ফাঁদ। প্রশ্নে ছাপা ‘উদ্ভুত’ শব্দের শুদ্ধ রূপ ‘উদ্ভূত’।
মনে রাখুন: বাংলা নামেই উত্তর: শূন্য = কিছুই না।
৯৩. ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে- (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কসুশাসনের শিক্ষা থেকে
- খআইনের শিক্ষা থেকে
- গমূল্যবোধের শিক্ষা থেকে
- ঘকর্তব্যরোধ থেকে
সঠিক উত্তর: গ. মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে একজন মানুষ সহনশীলতা শেখে কোথা থেকে। উত্তর মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে।
সহনশীলতা মানে ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি বা ভিন্ন জীবনধারার মানুষকে সম্মান করা এবং তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে থাকা। এটি আইন দিয়ে জোর করে শেখানো যায় না; পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মনে গড়ে ওঠে।
সহনশীলতা নিজেই একটি সামাজিক মূল্যবোধ। শিশু যখন দেখে বাবা-মা অন্যের মতকে সম্মান করছেন, শিক্ষক সব ধর্মের ছাত্রকে সমান চোখে দেখছেন, তখন সে সহনশীল হতে শেখে।
আইনের শিক্ষা মানুষকে নিয়ম মানতে বাধ্য করে, কিন্তু মন থেকে সহনশীল করে না। সুশাসন সহনশীল সমাজ থেকে উপকৃত হয়, কিন্তু সহনশীলতার উৎস নয়। কর্তব্যবোধ দায়িত্ব পালনের গুণ, আর প্রশ্নে ছাপা ‘কর্তব্যরোধ’ কথাটি সম্ভবত ‘কর্তব্যবোধ’ বোঝাতে লেখা।
মনে রাখুন: সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধের উৎস জিজ্ঞাসা করলে উত্তর মূল্যবোধ।
৯৪. সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কঅংশগ্রহণ
- খজবাবদিহিতা
- গস্বচ্ছতা
- ঘসাম্য ও সমতা
সঠিক উত্তর: ক. অংশগ্রহণ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। উত্তর অংশগ্রহণ।
ইউএনডিপির উনিশশো সাতানব্বই সালের নীতিপত্রে অংশগ্রহণের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সব নারী-পুরুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি বা বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর থাকা উচিত, আর এই ব্যাপক অংশগ্রহণ গড়ে ওঠে সংগঠনের স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতার ওপর।
সহজ কথায়, মানুষ যদি দল, সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন বা নাগরিক সংগঠন করতে না পারে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে মত দিতে বা দাবি তুলতে পারে না। তাই অংশগ্রহণের নীতি মানলেই সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হয়।
স্বচ্ছতা তথ্যের অবাধ প্রবাহের ওপর দাঁড়িয়ে, জবাবদিহিতা সিদ্ধান্তগ্রহীতাদের জবাব দেওয়ার দায়, আর সাম্য ও সমতা সবার সমান সুযোগের কথা বলে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সংগঠনের স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অংশগ্রহণ। কিছু উত্তরমালায় স্বচ্ছতাকে উত্তর ধরা হয়েছে, কিন্তু ইউএনডিপির নিজের ব্যাখ্যায় সংগঠনের স্বাধীনতা যুক্ত অংশগ্রহণের সঙ্গে।
মনে রাখুন: স্বাধীনতা বা কণ্ঠস্বর = অংশগ্রহণ; তথ্য = স্বচ্ছতা; জবাব দেওয়া = জবাবদিহিতা।
৯৫. নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কশাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
- খশাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
- গশাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
- ঘশাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
সঠিক উত্তর: ঘ. শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংক কোন প্রতিবেদনে সুশাসনের সংজ্ঞা দেয়। উত্তর শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন, ইংরেজিতে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। এটি প্রকাশিত হয় উনিশশো বিরানব্বই সালে।
এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলে, শাসন হলো উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি। সুশাসনকে এখানে দেখা হয়েছে সুষ্ঠু উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার সমার্থক হিসেবে।
এর আগে উনিশশো ঊননব্বই সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা নিয়ে প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক প্রথম শাসনের সংকটের কথা বলেছিল। আর উনিশশো সাতানব্বই সালে ইউএনডিপির নীতিপত্রের নাম ছিল টেকসই মানব উন্নয়নের জন্য শাসন।
শিরোনামে ‘মানব উন্নয়ন’ শব্দ থাকায় প্রথম বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ; মানব উন্নয়ন ইউএনডিপির ভাষা। বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিষ্ঠান, তাই তার শিরোনামে শুধু ‘উন্নয়ন’।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংক = ‘শাসন ও উন্নয়ন’ (১৯৯২); ‘মানব উন্নয়ন’ শব্দ থাকলে তা ইউএনডিপির।
৯৬. নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কঅংশগ্রহণ
- খস্বচ্ছতা
- গনৈতিক শাসন
- ঘজবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর: গ. নৈতিক শাসন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়। উত্তর নৈতিক শাসন।
ইউএনডিপির উনিশশো সাতানব্বই সালের তালিকায় সুশাসনের নয়টি বৈশিষ্ট্য আছে: অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সাড়াদান, ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, সমতা, কার্যকারিতা ও দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত দূরদৃষ্টি। অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এই তালিকায় আছে।
‘নৈতিক শাসন’ কোনো স্বীকৃত উপাদানের নাম নয়। নৈতিকতা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে আলোচিত হয়, কিন্তু আলাদা উপাদান হিসেবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার তালিকায় নেই।
ফাঁদ এখানে শব্দের মিল: ‘নৈতিক’ শব্দটি ইতিবাচক বলে মনে হয় এটিও উপাদান। কিন্তু তালিকা মুখস্থ থাকলে সহজেই ধরা যায় এটি বাইরের।
মনে রাখুন: অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সাড়াদান, ঐকমত্য, সমতা, দক্ষতা, জবাবদিহিতা, দূরদৃষ্টি: এর বাইরে যা, তা ‘উপাদান নয়’।
৯৭. নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কআইন
- খপ্রতীক
- গভাষা
- ঘমূল্যবোধ
সঠিক উত্তর: ক. আইন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়। পরীক্ষার উত্তর আইন।
সমাজবিজ্ঞানে সংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদান হিসেবে সাধারণত প্রতীক, ভাষা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও রীতিনীতির কথা বলা হয়। প্রতীক, যেমন পতাকা বা শহীদ মিনার, অর্থ বহন করে; ভাষা সংস্কৃতিকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে দেয়; মূল্যবোধ ঠিক করে কোনটি ভালো।
আইন রাষ্ট্রের তৈরি লিখিত ও বাধ্যতামূলক নিয়ম, যা ভাঙলে শাস্তি হয়। সংস্কৃতি সমাজের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেখে ও চর্চা করে। তাই প্রচলিত বিচারে আইন রাষ্ট্রের উপাদান, সংস্কৃতির নয়।
তবে মনে রাখবেন, কিছু সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে আইনকে আনুষ্ঠানিক রীতি হিসেবে সংস্কৃতির অংশ ধরা হয়। এই প্রশ্নে বাকি তিনটি নিশ্চিতভাবে সংস্কৃতির উপাদান, তাই বাদ দেওয়ার নিয়মে উত্তর আইন।
মনে রাখুন: সংস্কৃতির উপাদান: প্রতীক, ভাষা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, রীতিনীতি; রাষ্ট্রের উপাদান: আইন, সরকার, সার্বভৌমত্ব।
৯৮. জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন? (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কজার্মানি
- খফ্রান্স
- গমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- ঘযুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর: ঘ. যুক্তরাজ্য
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের মানুষ। উত্তর যুক্তরাজ্য। তিনি সতেরোশো আটচল্লিশ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আঠারোশো বত্রিশ সালে লন্ডনেই মারা যান।
বেন্থাম ছিলেন ইংরেজ দার্শনিক, আইনবিদ ও সমাজ সংস্কারক, আধুনিক উপযোগবাদের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে কোনো কাজ ভালো কি না, তা বোঝা যায় কাজটি কতটা সুখ বাড়ায় আর দুঃখ কমায় তা দিয়ে। তাঁর প্রধান গ্রন্থ অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য প্রিন্সিপলস অব মরালস অ্যান্ড লেজিসলেশন, প্রকাশিত সতেরোশো ঊননব্বই সালে।
সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ কথাটি বেন্থামের নামে বেশি প্রচলিত, তবে এর আগেও ফ্রান্সিস হাচিসনসহ অন্যরা প্রায় একই কথা বলেছিলেন। পরে তাঁর অনুসারী জন স্টুয়ার্ট মিল উপযোগবাদকে আরও বিকশিত করেন।
ফাঁদ হলো জার্মানি, কারণ নীতিবিদ্যার আরেক বড় নাম ইমানুয়েল কান্ট জার্মান। ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেন্থামের জন্মসূত্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: উপযোগবাদের দুই নাম বেন্থাম ও মিল, দুজনই ইংরেজ।
৯৯. মূল্যবোধ পরীক্ষা করে– (৩৮তম বিসিএস, ২০১৭)
- কভাল ও মন্দ
- খন্যায় ও অন্যায়
- গনৈতিকতা ও অনৈতিকতা
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মূল্যবোধ কী পরীক্ষা বা বিচার করে। উত্তর উপরের সবগুলো: ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা।
মূল্যবোধ হলো আচরণের মানদণ্ড। মানদণ্ডের কাজই হলো কোনো কিছুকে মাপা: আচরণটি ভালো না মন্দ, ন্যায্য না অন্যায্য, নৈতিক না অনৈতিক। তিনটি জোড়াই একই বিচারের ভিন্ন ভিন্ন দিক।
যেমন কেউ পরীক্ষায় নকল করলে মূল্যবোধ বলে কাজটি মন্দ, অন্য পরীক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় এবং সততার দিক থেকে অনৈতিক। একটি আচরণই তিন দিক থেকে বিচার হলো।
তাই যেকোনো একটি জোড়া বেছে নিলে উত্তর আংশিক হয়; তিনটিই সঠিক বলে ‘উপরের সবগুলো’ উত্তর।
মনে রাখুন: মূল্যবোধ ‘কী বিচার করে’ প্রশ্নে সব ইতিবাচক-নেতিবাচক জোড়া থাকলে ‘সবগুলো’।
১০০. শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে নিচের কোনটি জরুরি? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কস্বীকৃতি
- খস্নেহ
- গসাফল্য
- ঘউল্লেখিত সবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. উল্লেখিত সবকটি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে কী জরুরি। উত্তর উল্লিখিত সবকটি: স্বীকৃতি, স্নেহ এবং সাফল্য, তিনটিই।
খাদ্য, বস্ত্র, ঘুমের মতো চাহিদা শারীরিক। কিন্তু শিশুর মনের চাহিদাও আছে: সে চায় কেউ তাকে ভালোবাসুক, তার কাজের প্রশংসা হোক, আর সে নিজে কিছু করতে পারছে এই অনুভূতি পাক। এগুলো না পেলে শিশু হীনম্মন্য বা আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে ওঠে।
মার্কিন মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো উনিশশো তেতাল্লিশ সালে চাহিদার স্তরবিন্যাস তত্ত্ব দেন। এতে নিচ থেকে ওপরে আছে শারীরিক চাহিদা, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সম্পর্ক, সম্মান ও স্বীকৃতি, আর সবার ওপরে আত্মোপলব্ধি। স্নেহ পড়ে ভালোবাসার স্তরে, স্বীকৃতি ও সাফল্য পড়ে সম্মানের স্তরে।
তাই কোনো একটি বেছে নেওয়া ভুল হবে; তিনটিই শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য দরকার। প্রশ্নে লেখা ‘উল্লেখিত’ শব্দটির শুদ্ধ রূপ ‘উল্লিখিত’।
মনে রাখুন: তিনটি বিকল্পই ইতিবাচক মানসিক চাহিদা হলে ‘সবকটি’ বেছে নিন।