নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · পাতা ৬
১০১. নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের- (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কনৈতিক শক্তি
- খনৈতিক বিধি
- গনৈতিক আদর্শ
- ঘসবগুলোই
সঠিক উত্তর: গ. নৈতিক আদর্শ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নৈতিকতাকে মানবজীবনের কী বলা হয়। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর নৈতিক আদর্শ।
নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের সেই মানদণ্ড, যার দিকে তাকিয়ে মানুষ নিজের জীবন গড়তে চায়। আদর্শ মানে লক্ষ্য বা মাপকাঠি, যার সঙ্গে মিলিয়ে মানুষ নিজের আচরণ বিচার করে। তাই নৈতিকতা মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
নৈতিক শক্তি ও নৈতিক বিধি নৈতিকতা থেকে জন্ম নেয়। নৈতিকতা মনে লালন করলে মানুষ ভেতরে যে দৃঢ়তা পায়, তা নৈতিক শক্তি; আর এই আদর্শকে নির্দিষ্ট নিয়মে লিখে ফেললে তা হয় নৈতিক বিধি বা আচরণবিধি।
ফাঁদ হলো ‘সবগুলোই’। নৈতিকতার সঙ্গে তিনটিরই সম্পর্ক আছে, কিন্তু নৈতিকতাকে সংজ্ঞা হিসেবে বলা হয় নৈতিক আদর্শ; বাকি দুটি এর ফল।
মনে রাখুন: নৈতিকতা = আদর্শ; সততা ও নিষ্ঠা = নৈতিক শক্তির উপাদান; লিখিত নিয়ম = বিধি।
১০২. ‘Power : A New Social Analysis’ গ্রন্থটি কার লেখা? (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কম্যাকিয়াভেলি
- খহবস
- গলক
- ঘরাসেল
সঠিক উত্তর: ঘ. রাসেল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ‘পাওয়ার: আ নিউ সোশ্যাল অ্যানালিসিস’ বইটি কার লেখা। উত্তর ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। বইটি উনিশশো আটত্রিশ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে রাসেল বলেন, পদার্থবিজ্ঞানে যেমন শক্তি মূল ধারণা, সমাজবিজ্ঞানে তেমনি মূল ধারণা হলো ক্ষমতা। তিনি ক্ষমতাকে দেখেছেন উদ্দেশ্যমূলক ফল তৈরি করার সামর্থ্য হিসেবে, এবং দেখিয়েছেন সম্পদ, সামরিক শক্তি বা মতামতের ওপর প্রভাবের মতো নানা রূপের ক্ষমতা কীভাবে একটি থেকে আরেকটিতে রূপ নেয়।
বাকি তিনজনও ক্ষমতা ও রাষ্ট্র নিয়ে লিখেছেন, তাই এরা ফাঁদ। ম্যাকিয়াভেলির বিখ্যাত বই দ্য প্রিন্স, লেখা পনেরোশো তেরো সালে। টমাস হবসের লেভিয়াথান ষোলোশো একান্ন সালে প্রকাশিত। জন লকের টু ট্রিটিজেস অব গভর্নমেন্ট প্রকাশিত ষোলোশো ঊননব্বই সালে।
মনে রাখার সহজ উপায়: শিরোনামে ‘নিউ সোশ্যাল অ্যানালিসিস’ মানে আধুনিক কালের লেখা; বিকল্পের মধ্যে একমাত্র বিশ শতকের লেখক রাসেল।
মনে রাখুন: ‘নিউ’ শব্দ দেখে আধুনিক লেখক খুঁজুন: বিকল্পের মধ্যে শুধু রাসেলই বিশ শতকের।
১০৩. ‘সুবর্ণ মধ্যক’ হলো – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কগাণিতিক মধ্যমান
- খদুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
- গসম্ভাব্য সব ধরনের কাজের মধ্যমান
- ঘএকটি দার্শনিক সম্প্রদায়ের নাম
সঠিক উত্তর: খ. দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
প্রশ্নটি সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন ধারণাটি জানতে চেয়েছে। এর অর্থ দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা। ধারণাটি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁর নিকোমেকিয়ান এথিক্স গ্রন্থে।
অ্যারিস্টটলের মতে প্রতিটি সদ্গুণ দুটি দোষের মাঝখানে থাকে: একটি অভাবের দোষ, আরেকটি আধিক্যের দোষ। যেমন সাহস হলো ভীরুতা আর হঠকারিতার মাঝামাঝি; উদারতা হলো কৃপণতা আর অপব্যয়ের মাঝামাঝি।
এই মধ্যপন্থা গাণিতিক গড় নয়। অ্যারিস্টটল নিজেই বলেছেন, মধ্যক ঠিক হয় ব্যক্তি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী, যুক্তি দিয়ে। আর ‘সোনালি’ বিশেষণটি এসেছে পরে, রোমান কবি হোরেসের ‘সোনালি মধ্যপন্থা’ কথাটি থেকে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ‘গাণিতিক মধ্যমান’, কারণ ‘মধ্যক’ শব্দটি গণিতেও আছে। কিন্তু নীতিবিদ্যায় এটি আচরণের মধ্যপন্থা, সংখ্যার গড় নয়।
মনে রাখুন: সুবর্ণ মধ্যক = অ্যারিস্টটল = দুই চরমপন্থার মাঝের পথ।
১০৪. নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কমৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে
- খবাস্তবতার নিরিখে নির্দিষ্ট আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত আচরণবিধি
- গদৈনন্দিন কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করণে প্রণীত নৈতিক নিয়ম, মানদণ্ড বা আচরণবিধি
- ঘউপরের তিনটিই সঠিক
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের তিনটিই সঠিক
প্রশ্নটি নৈতিক আচরণবিধি বা কোড অব এথিক্সের অর্থ জানতে চেয়েছে। উত্তর উপরের তিনটিই সঠিক, কারণ তিনটি বিকল্প আচরণবিধির তিনটি দিক বলেছে।
প্রথমত, আচরণবিধিতে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক মূল্যবোধ, যেমন সততা, নিরপেক্ষতা ও জনসেবার কথা সাধারণভাবে বলা থাকে; এটি বলে দেয় পেশাজীবীর ভূমিকা কী। দ্বিতীয়ত, বাস্তব পরিস্থিতিতে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য, তার মানদণ্ড ঠিক করে দেয়।
তৃতীয়ত, দৈনন্দিন কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে চালাতে নির্দিষ্ট নিয়ম দেয়, যাতে প্রতিবার নতুন করে ভাবতে না হয়। যেমন সরকারি কর্মচারীদের জন্য উপহার গ্রহণ, ব্যবসায় জড়ানো বা গোপন তথ্য প্রকাশ নিয়ে আচরণ বিধিমালা আছে।
কোনো একটি বিকল্প বেছে নিলে আচরণবিধির অর্থ অসম্পূর্ণ থাকে। তাই এখানে ‘তিনটিই সঠিক’ বিকল্পটিই পূর্ণ উত্তর।
মনে রাখুন: সংজ্ঞার প্রশ্নে প্রতিটি বিকল্প যদি ধারণাটির আলাদা একটি দিক বলে, তবে ‘তিনটিই’ বেছে নিন।
১০৫. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসামাজিক মূল্যবোধকে
- খগণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে
- গব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
- ঘস্বাধীনতার মূল্যবোধকে
সঠিক উত্তর: ক. সামাজিক মূল্যবোধকে
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কাকে লালন করে। উত্তর সামাজিক মূল্যবোধ।
সমাজ গড়ে ওঠে ব্যক্তিদের নিয়ে। প্রত্যেক মানুষ যদি সৎ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল হয়, তবে সেই সমাজে সততা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ সামাজিক মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সমষ্টিই সামাজিক মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখে ও পুষ্ট করে।
উল্টো দিকও সত্য: পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ থেকেই মানুষ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ শেখে। তাই দুটি পরস্পরকে শক্তিশালী করে, তবে প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ব্যক্তি থেকে সমাজের দিকে প্রভাব।
গণতান্ত্রিক বা স্বাধীনতার মূল্যবোধ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মূল্যবোধ; এগুলো সামাজিক মূল্যবোধের অংশমাত্র। আর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিজেকে লালন করে বলাটা অর্থহীন পুনরাবৃত্তি। কিছু উত্তরমালায় স্বাধীনতার মূল্যবোধকে উত্তর ধরা হয়েছে; তবে ব্যক্তি থেকে সমাজে মূল্যবোধ গড়ে ওঠার যুক্তিতে সামাজিক মূল্যবোধই বেশি মানানসই।
মনে রাখুন: ব্যক্তি থেকে সমাজ: ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সমষ্টিই সামাজিক মূল্যবোধ।
১০৬. মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদুর্নীতি রোধ করা
- খসামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- গরাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
- ঘসাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ করা
সঠিক উত্তর: খ. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
প্রশ্নটি মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য জানতে চেয়েছে। উত্তর সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা শেখায়। এগুলোর অভাবে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, পারিবারিক ভাঙন, বড়দের অসম্মান, অপরাধ বাড়ে; এটাই সামাজিক অবক্ষয়। মূল্যবোধ শিক্ষা এই ক্ষয় ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।
দুর্নীতি রোধ বা রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধও মূল্যবোধ শিক্ষার সুফল, কিন্তু এগুলো একেকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র। সামাজিক অবক্ষয় কথাটি বৃহত্তর, যার ভেতরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অসততাও পড়ে।
শেষ বিকল্পটি ফাঁদ: ‘সাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ’ কথাটির কোনো ইতিবাচক অর্থ নেই; অবরোধ রক্ষা করা কোনো শিক্ষার লক্ষ্য হতে পারে না।
মনে রাখুন: ‘অন্যতম লক্ষ্য’ প্রশ্নে সবচেয়ে ব্যাপক ইতিবাচক বিকল্পটি বেছে নিন।
১০৭. সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসুসম্পর্ক গড়ে তোলে
- খআস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
- গশান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
প্রশ্নটি বলছে, সুশাসন শাসক ও শাসিতের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। উত্তর আস্থার সম্পর্ক।
সুশাসনে সরকার স্বচ্ছভাবে কাজ করে, জনগণের কাছে জবাবদিহি করে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করে এবং সিদ্ধান্তে জনগণকে অংশ নিতে দেয়। ফলে মানুষ বিশ্বাস করতে শেখে যে সরকার তাদের স্বার্থে কাজ করছে। এই বিশ্বাস বা আস্থাই সুশাসনের মূল ফল।
আস্থা থাকলে মানুষ স্বেচ্ছায় কর দেয়, আইন মানে, সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। আস্থা না থাকলে সরকার যত ভালো কাজই করুক, মানুষ সন্দেহ করে।
সুসম্পর্ক বা শান্তির সম্পর্ক শুনতে কাছাকাছি, তাই এগুলো ফাঁদ। কিন্তু এগুলো ভাসা-ভাসা কথা; প্রচলিত সংজ্ঞায় নির্দিষ্টভাবে আস্থার সম্পর্কের কথাই বলা হয়।
মনে রাখুন: সুশাসন ও শাসক-শাসিত একসঙ্গে দেখলে উত্তর ‘আস্থা’।
১০৮. সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঅর্থনৈতিক উন্নয়ন
- খঅর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
- গসামাজিক উন্নয়ন
- ঘসবগুলোই
সঠিক উত্তর: খ. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
প্রশ্নটি সুশাসনের পূর্বশর্ত জানতে চেয়েছে, আর এই প্রশ্নের উত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন।
যে দেশে মানুষ দরিদ্র, অশিক্ষিত ও নিরাপত্তাহীন, সেখানে মানুষ নিজের অধিকার জানে না, সরকারের কাছে জবাব চাইতে পারে না, আর সহজেই ঘুষ বা ভয়ের শিকার হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানুষকে স্বাবলম্বী করে, সামাজিক উন্নয়ন, যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, মানুষকে সচেতন করে।
দুটি একসঙ্গে থাকলেই সচেতন ও সক্ষম নাগরিক তৈরি হয়, যারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করতে পারে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে বৈষম্য বাড়তে পারে, আর শুধু সামাজিক উন্নয়ন টেকসই হয় না অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া।
‘সবগুলোই’ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ তা আলাদা করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকেও একক পূর্বশর্ত হিসেবে মেনে নেয়। মনে রাখবেন, পঁয়ত্রিশতম বিসিএসে একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতা; বিকল্প দেখে মেলাতে হবে।
মনে রাখুন: ‘অর্থনৈতিক’ আর ‘সামাজিক’ আলাদা বিকল্পের পাশে দুটির সমন্বিত বিকল্প থাকলে সেটিই সাধারণত উত্তর।
১০৯. একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কস্বাধীনতা
- খক্ষমতা
- গকর্মদক্ষতা
- ঘজনকল্যাণ
সঠিক উত্তর: ঘ. জনকল্যাণ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ কী। উত্তর জনকল্যাণ।
জনপ্রশাসক মানে সরকারি কর্মচারী, যিনি জনগণের করের টাকায় বেতন পান এবং জনগণের সেবা দেওয়ার জন্যই নিয়োগ পান। তাই তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, এতে জনগণের কল্যাণ হবে কি না।
বাংলাদেশের সংবিধানের একুশ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় বলা আছে, সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। জনকল্যাণই তাই সরকারি চাকরির মূল দর্শন।
কর্মদক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, এটাই বড় ফাঁদ; কিন্তু দক্ষতা জনকল্যাণের হাতিয়ার মাত্র। আর ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রশাসকের মূল্যবোধ নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার সুশাসনের শত্রু।
মনে রাখুন: জনপ্রশাসক, সরকারি কর্মচারী বা জনসেবকের মূল্যবোধ জিজ্ঞাসা করলে ‘জনকল্যাণ’ বা ‘জনসেবা’ খুঁজুন।
১১০. সুশাসনের পথে অন্তরায় – (৩৬তম বিসিএস, ২০১৬)
- কআইনের শাসন
- খজবাবদিহিতা
- গস্বজনপ্রীতি
- ঘন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর: গ. স্বজনপ্রীতি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি সুশাসনের পথে অন্তরায়। উত্তর স্বজনপ্রীতি।
স্বজনপ্রীতি মানে যোগ্যতা না দেখে আত্মীয়, বন্ধু বা নিজের দলের লোককে চাকরি, সুবিধা বা কাজ দেওয়া। এতে যোগ্য মানুষ বঞ্চিত হয়, প্রশাসনের দক্ষতা কমে, আর মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারায়। সুশাসনের সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা নীতি সরাসরি লঙ্ঘিত হয়।
বাকি তিনটি বিকল্প, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা, সুশাসনের উপাদান, অন্তরায় নয়। প্রশ্নটি আসলে ‘কোনটি আলাদা’ ধরনের।
সুশাসনের অন্য অন্তরায়ের মধ্যে আছে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দলীয়করণ, স্বাধীন গণমাধ্যমের অভাব আর আইনের শাসনের অনুপস্থিতি।
মনে রাখুন: চারটি বিকল্পের তিনটি ইতিবাচক, একটি নেতিবাচক হলে অন্তরায়ের প্রশ্নে নেতিবাচকটিই উত্তর।
১১১. একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কদায়িত্বশীলতা
- খনৈতিকতা
- গদক্ষতা
- ঘসরলতা
সঠিক উত্তর: খ. নৈতিকতা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের সবচেয়ে বড় গুণ কোনটি। উত্তর নৈতিকতা।
দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সরলতা সবই ভালো গুণ। কিন্তু নৈতিকতা না থাকলে এই গুণগুলো ভুল কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। একজন দক্ষ কিন্তু অসৎ কর্মকর্তা তাঁর দক্ষতা দিয়েই বড় দুর্নীতি করতে পারেন।
নৈতিকতা বাকি গুণগুলোকে সঠিক দিকে চালায়। নৈতিক প্রশাসক দায়িত্ব এড়ান না, দক্ষতা জনকল্যাণে লাগান, আর স্বার্থের সংঘাতে ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য নৈতিকতাকে বলা হয় সব গুণের ভিত্তি।
ফাঁদ হলো দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতা, কারণ ব্যবস্থাপনার আলোচনায় এগুলো বেশি শোনা যায়। কিন্তু ‘শ্রেষ্ঠ গুণ’ চাইলে নীতিবিদ্যার দৃষ্টিতে উত্তর নৈতিকতা। প্রশ্নে ছাপা ‘অত্যাবশকীয়’ শব্দের শুদ্ধ ও প্রমিত রূপ ‘অত্যাবশ্যক’; ‘আবশ্যক’ নিজেই বিশেষণ, তাই এর সঙ্গে ‘ঈয়’ যোগ করা বাহুল্য।
মনে রাখুন: প্রশাসকের ‘শ্রেষ্ঠ’ বা ‘মৌলিক’ গুণ চাইলে নৈতিকতা বা সততা জাতীয় বিকল্প বেছে নিন।
১১২. আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসত্য ও ন্যায়
- খসার্থকতা
- গশঠতা
- ঘঅসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর: ক. সত্য ও ন্যায়
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি। উত্তর সত্য ও ন্যায়।
চিরন্তন মূল্যবোধ মানে যে মূল্যবোধ কাল, দেশ, ধর্ম বা সংস্কৃতি বদলালেও বদলায় না। পোশাক, খাদ্যাভ্যাস বা উৎসবের রীতি যুগে যুগে বদলায়, কিন্তু সত্য বলা আর ন্যায় করা সব সমাজে, সব যুগেই ভালো বলে গণ্য।
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ন্যায়ভাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম ও দর্শনে সত্য ও ন্যায়কে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হয়েছে। এজন্য এদের বলা হয় সর্বজনীন ও চিরন্তন মূল্যবোধ।
শঠতা আর অসহিষ্ণুতা নেতিবাচক গুণ, তাই এগুলো মূল্যবোধই নয়। ‘সার্থকতা’ শব্দটি সাফল্য বোঝায়, যা ব্যক্তিভেদে ও সময়ভেদে বদলায়; একে চিরন্তন মূল্যবোধ বলা যায় না।
মনে রাখুন: ‘চিরন্তন’ বা ‘সর্বজনীন’ মূল্যবোধ চাইলে সত্য, ন্যায়, সততা জাতীয় বিকল্প খুঁজুন।
১১৩. রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কাকে বলা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- করাজনীতি
- খবুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়
- গসংবাদ মাধ্যম
- ঘযুবশক্তি
সঠিক উত্তর: গ. সংবাদ মাধ্যম
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কাকে বলা হয়। উত্তর সংবাদ মাধ্যম বা গণমাধ্যম। রাষ্ট্রের প্রথম তিন স্তম্ভ হলো আইনসভা, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ; এদের ওপর নজর রাখে বলে সংবাদমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
কথাটির মূল ইংরেজি রূপ ‘ফোর্থ এস্টেট’। পুরোনো ব্রিটেনে তিন এস্টেট ছিল যাজক, অভিজাত এবং সাধারণ মানুষ; সংসদের সাংবাদিক গ্যালারিকে বলা হতো চতুর্থ এস্টেট।
কে প্রথম কথাটি বলেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে। ব্রিটিশ লেখক টমাস কার্লাইল আঠারোশো চল্লিশ সালের বক্তৃতামালা অন হিরোজে এর কৃতিত্ব দেন রাষ্ট্রচিন্তক এডমান্ড বার্ককে, কিন্তু বার্কের কোনো লেখায় এর প্রমাণ মেলেনি। এর আগেই আঠারোশো একুশ সালে উইলিয়াম হ্যাজলিট এবং আঠারোশো আটাশ সালে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে কথাটি ব্যবহার করেছিলেন।
পরীক্ষায় সাধারণত এডমান্ড বার্কের নামই আসে, কিন্তু মনে রাখবেন এটি বিতর্কিত। রাজনীতি, বুদ্ধিজীবী বা যুবশক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এদের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় না।
মনে রাখুন: চতুর্থ স্তম্ভ = সংবাদমাধ্যম; প্রচলিত কৃতিত্ব এডমান্ড বার্ক, তবে তা প্রমাণিত নয়।
১১৪. সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবিশ্বস্ততা
- খসৃজনশীলতা
- গনিরপেক্ষতা
- ঘজবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর: খ. সৃজনশীলতা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। উত্তর সৃজনশীলতা।
সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণের অধিকার ও সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলে, তাই তা নিতে হয় আইন ও বিধি মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং পরে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রেখে। এজন্য বিশ্বস্ততা, নিরপেক্ষতা আর জবাবদিহিতা সরকারি সিদ্ধান্তের মূল মূল্যবোধ।
বিশ্বস্ততা মানে রাষ্ট্র, সংবিধান ও জনগণের প্রতি আনুগত্য। নিরপেক্ষতা মানে দল, আত্মীয় বা ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে সিদ্ধান্ত। জবাবদিহিতা মানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত থাকা।
সৃজনশীলতা খারাপ নয়, নতুন সমস্যার সমাধানে এটি কাজে লাগে। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত চলে নিয়মে; নিয়মের বাইরে গিয়ে ‘সৃজনশীল’ সিদ্ধান্ত অনেক সময় স্বেচ্ছাচারিতার পথ খোলে। তাই এটি মূল নৈতিক মূল্যবোধের তালিকায় পড়ে না।
মনে রাখুন: চারটির মধ্যে তিনটি নৈতিক মূল্যবোধ আর একটি দক্ষতা বা ব্যক্তিগত গুণ হলে, সেটিই ‘গুরুত্বপূর্ণ নয়’।
১১৫. UNDP সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক৬ টি
- খ৭টি
- গ৮টি
- ঘ৯টি
সঠিক উত্তর: ঘ. ৯টি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ইউএনডিপি সুশাসনের কয়টি উপাদান বা বৈশিষ্ট্য বলেছে। উত্তর নয়টি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি উনিশশো সাতানব্বই সালে গভর্ন্যান্স ফর সাসটেইনেবল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট নামের নীতিপত্রে এগুলো তুলে ধরে।
নয়টি বৈশিষ্ট্য হলো: অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সংবেদনশীলতা বা সাড়াদান, ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, সমতা, কার্যকারিতা ও দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত দূরদৃষ্টি।
ফাঁদ হলো আটটি। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, সংক্ষেপে ইউএনএসক্যাপ, সুশাসনের আটটি বৈশিষ্ট্য বলে; সেখানে কৌশলগত দূরদৃষ্টি নেই। তাই কিছু বইয়ে আটটি লেখা থাকে।
আবার বিশ্বব্যাংকের বিশ্বব্যাপী শাসন সূচক সুশাসন মাপে ছয়টি মাত্রায়। তাই সংস্থার নাম দেখে সংখ্যা মেলাতে হবে।
মনে রাখুন: ইউএনডিপি ৯, ইউএনএসক্যাপ ৮, বিশ্বব্যাংক সূচক ৬।
১১৬. কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কপুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
- খআইনের শাসন
- গসুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
- ঘঅধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
সঠিক উত্তর: গ. সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়। উত্তর সুশাসনের জন্য উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ।
ন্যায়পরায়ণতার মূল কথা হলো সবার প্রতি সমান ও নিরপেক্ষ আচরণ। তাই পুরস্কার ও শাস্তিতে সমতা, আইনের শাসন এবং অধিকার ও সুযোগে সমতা, তিনটিই ন্যায়পরায়ণতার নীতি। এগুলো মানুষের প্রতি আচরণ কেমন হবে তা বলে।
উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর একটি ব্যবস্থাপনাগত উপায়, নৈতিক মূলনীতি নয়। উচ্চশিক্ষা থাকলেই কেউ ন্যায়পরায়ণ হন না, আবার শুধু শিক্ষার ভিত্তিতে বাছাই কখনো কখনো সুযোগের সমতাকেও ক্ষুণ্ন করতে পারে।
অন্য তিনটি বিকল্পে ‘সমতা’ বা ‘আইন’ শব্দ আছে, যা ন্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যেটিতে নেই, সেটিই আলাদা।
মনে রাখুন: ‘কোনটি নয়’ প্রশ্নে সমতা বা আইনের কথা নেই এমন বিকল্পটি খুঁজুন।
১১৭. সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কযথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
- খদাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
- গনির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
- ঘঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা
সঠিক উত্তর: গ. নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কী। উত্তর নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা।
সরকারি চাকরিতে সততা শুধু ঘুষ না খাওয়া নয়। নির্মোহ মানে ব্যক্তিগত লোভ বা আকর্ষণ ছাড়া, নিরপেক্ষ মানে কারও পক্ষ না নিয়ে, আর যথাবিধি মানে আইন ও নিয়ম মেনে। এই তিনটি মিলে দায়িত্ব পালন করলে তবেই একজন কর্মচারীকে পূর্ণ সৎ বলা যায়।
অবৈধ সুবিধা না নেওয়া সততার একটি অংশ, এটাই বড় ফাঁদ। কেউ ঘুষ না নিয়েও আত্মীয়কে সুবিধা দিতে পারেন বা কাজ ফেলে রাখতে পারেন; সেটাও অসততা। তৃতীয় বিকল্পটি এসব দিক ঢেকে দেয়, তাই এটি বেশি পূর্ণ।
সময়মতো অফিসে আসা নিয়মানুবর্তিতা, সততার পূর্ণ মাপকাঠি নয়। আর ঊর্ধ্বতনের যেকোনো নির্দেশ মানা সততা নয়, কারণ অবৈধ নির্দেশ মানাও অন্যায়। প্রশ্নে ছাপা ‘ঊর্ধবতন’ শব্দের শুদ্ধ রূপ ‘ঊর্ধ্বতন’।
মনে রাখুন: দুটি বিকল্পই ঠিক মনে হলে যেটি বেশি ব্যাপক ও অন্যটিকে ধারণ করে, সেটি বেছে নিন।
১১৮. নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কি? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসততা ও নিষ্ঠা
- খকর্তব্যপরায়ণতা
- গমায়া ও মমতা
- ঘউদারতা
সঠিক উত্তর: ক. সততা ও নিষ্ঠা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কী। উত্তর সততা ও নিষ্ঠা।
নৈতিক শক্তি হলো সেই মানসিক দৃঢ়তা, যার জোরে মানুষ লোভ, ভয় বা চাপের মুখেও ঠিক কাজটি করে। এই শক্তি আসে দুটি জায়গা থেকে: সততা, অর্থাৎ মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকা, আর নিষ্ঠা, অর্থাৎ নিজের নীতি ও দায়িত্বে অটল থাকা।
একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা ঘুষের প্রস্তাব বা ক্ষমতাধরের চাপেও নিয়মের বাইরে যান না। এটাই নৈতিক শক্তির প্রকাশ।
কর্তব্যপরায়ণতা, উদারতা বা মায়া-মমতা ভালো গুণ, তাই এগুলো ফাঁদ। কিন্তু এগুলো নৈতিক শক্তির ফল বা সহায়ক গুণ; মূল ভিত্তি সততা ও নিষ্ঠা। মায়া-মমতা আবেগ, যা কখনো কখনো নিরপেক্ষতাকে দুর্বলও করতে পারে।
মনে রাখুন: নৈতিক শক্তি = সততা + নিষ্ঠা; নৈতিকতা = নৈতিক আদর্শ।
১১৯. সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায় -উক্তিটি কার? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কএরিস্টটল
- খজন স্টুয়ার্ট মিল
- গম্যাককরনী
- ঘমেকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর: গ. ম্যাককরনী
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে, সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের এবং শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়, কথাটি কার। উত্তর ম্যাককার্নি, যাঁর নাম পরীক্ষায় ‘ম্যাককরনী’ বানানে ছাপা হয়েছে।
তিনি হলেন নগর-শাসন গবেষক প্যাট্রিশিয়া ম্যাককার্নি, যিনি নব্বইয়ের দশকে উন্নয়নশীল দেশের শহরের শাসন নিয়ে লিখেছেন। শাসনকে সরকার থেকে আলাদা করে রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজ, শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক হিসেবে দেখার এই সংজ্ঞাটি প্রস্তুতি বইগুলোতে তাঁর নামেই উল্লেখ করা হয়।
এই সংজ্ঞার গুরুত্ব হলো, সুশাসন শুধু সরকারের কাজ নয়; সরকার আর জনগণ ও সুশীল সমাজের মধ্যে সম্পর্কটা কতটা ভালো, তার ওপর সুশাসন নির্ভর করে।
বাকি তিনজন অনেক আগের চিন্তাবিদ; তাঁদের সময়ে সুশাসন ধারণাটি এভাবে আলোচিত হয়নি, এটা আশির দশকের পরের ধারণা। এরিস্টটল রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান বলেছেন, মিল ব্যক্তিস্বাধীনতার পক্ষে লিখেছেন, ম্যাকিয়াভেলি ক্ষমতা রক্ষার কৌশল নিয়ে লিখেছেন।
মনে রাখুন: সুশাসনের আধুনিক সংজ্ঞায় পুরোনো দার্শনিকদের নাম সাধারণত ফাঁদ; আধুনিক গবেষকের নামটি খুঁজুন।
১২০. জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসুশাসন
- খআইনের শাসন
- গরাজনীতি
- ঘমানবাধিকার
সঠিক উত্তর: ক. সুশাসন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসন, তিনটির সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ ধারণা কোনটি। উত্তর সুশাসন।
সুশাসন মানে রাষ্ট্র তার প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণকে কীভাবে শাসন করছে এবং সেবা দিচ্ছে। এতে রাষ্ট্র নীতি তৈরি করে, প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করে, আর জনগণ অংশ নেয় ও জবাব চায়। তিনটি পক্ষ একসঙ্গে না থাকলে সুশাসনের ধারণাই অসম্পূর্ণ।
আইনের শাসন মূলত আইন ও বিচারের বিষয়, মানবাধিকার মূলত ব্যক্তির অধিকারের বিষয়, আর রাজনীতি ক্ষমতা অর্জন ও প্রয়োগের প্রক্রিয়া। এগুলো সুশাসনের অংশ বা সহায়ক, কিন্তু তিন পক্ষকে একসঙ্গে বাঁধে না।
আইনের শাসনই সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ এটি সুশাসনের একটি উপাদান। মনে রাখুন, উপাদান কখনো পুরো ধারণার বিকল্প হতে পারে না।
মনে রাখুন: জনগণ-রাষ্ট্র-প্রশাসন তিনটি একসঙ্গে এলে উত্তর সুশাসন।