ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ১০
১৮১. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কবরেন্দ্র অঞ্চল
- খমধুপুর গড় অঞ্চল
- গউপকূলীয় অঞ্চল
- ঘচলন বিল অঞ্চল
সঠিক উত্তর: ক. বরেন্দ্র অঞ্চল
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, সংক্ষেপে এফসিডিআই, কোন অঞ্চলের পরিবেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চল।
যুক্তিটা হলো সেচ। বরেন্দ্রে বৃষ্টি কম, তাই বোরো ধান চাষের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আশির দশক থেকে হাজার হাজার গভীর নলকূপ বসিয়েছে। এতে ফসল বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর নেমে যাচ্ছে, অনেক এলাকায় শুকনো মৌসুমে নলকূপে পানি ওঠে না।
পানির স্তর নামলে খাল-বিল শুকায়, গাছপালা ও জলজ প্রাণী কমে, খরার তীব্রতা বাড়ে। এ কারণে বরেন্দ্রকে পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিবেশগত ক্ষতির উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
সতর্ক থাকুন: বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে চলন বিলের জলাভূমি ভরাট ও মাছ কমে যাওয়ার কথাও বহুল আলোচিত, তাই কিছু গাইড চলন বিলকে উত্তর দেয়। পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর বরেন্দ্র।
মনে রাখুন: এফসিডিআই আর পরিবেশ ক্ষতি একসঙ্গে এলে প্রচলিত উত্তর বরেন্দ্র।
১৮২. বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত নিম্নের কোন স্টেশনে রেকর্ড করা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসিলেট
- খটেকনাফ
- গকক্সবাজার
- ঘসন্দ্বীপ
সঠিক উত্তর: ক. সিলেট
প্রশ্নটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া স্টেশন নিয়ে। প্রচলিত উত্তর সিলেট; বাংলাপিডিয়ার হিসাবে সিলেটে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় চার হাজার একশো আশি মিলিমিটার।
কারণ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি। সিলেটের ঠিক উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এই পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ওপরে ওঠে, ঠান্ডা হয় এবং প্রচুর বৃষ্টি ঝরায়। এ কারণেই পাহাড়ের ওপারে চেরাপুঞ্জি পৃথিবীর অন্যতম বৃষ্টিবহুল স্থান।
একক স্থান হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় সিলেটের লালাখালে, গড়ে প্রায় ছয় হাজার চারশো মিলিমিটার। আর সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয় দেশের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে, প্রায় দেড় হাজার মিলিমিটার।
সতর্কতা: টেকনাফেও খুব বেশি বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উনিশশো একাশি থেকে দুই হাজার দশ সালের গড়ে টেকনাফে প্রায় চার হাজার একশো তিরানব্বই আর সিলেটে প্রায় চার হাজার আটষট্টি মিলিমিটার, অর্থাৎ টেকনাফ সামান্য এগিয়ে। তবে বই ও পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর সিলেট।
মনে রাখুন: বৃষ্টির প্রশ্নে স্টেশন সিলেট, স্থান লালাখাল।
১৮৩. নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কঅক্ষরেখা
- খদ্রাঘিমারেখা
- গউচ্চতা
- ঘসমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর: খ. দ্রাঘিমারেখা
প্রশ্নটি জলবায়ুর নিয়ামক নিয়ে, অর্থাৎ কোন জিনিস একটি দেশের জলবায়ু ঠিক করে দেয়। অক্ষাংশ, উচ্চতা ও সমুদ্রস্রোত জলবায়ু ঠিক করে, কিন্তু দ্রাঘিমারেখা করে না।
অক্ষাংশ ঠিক করে সূর্যের কিরণ কতটা খাড়াভাবে পড়বে: বিষুবরেখার কাছে গরম, মেরুর দিকে ঠান্ডা। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে, মোটামুটি প্রতি হাজার মিটারে প্রায় সাড়ে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলের বাতাসকে গরম বা ঠান্ডা করে।
দ্রাঘিমারেখা উত্তর-দক্ষিণে টানা রেখা; এটি শুধু কোন জায়গায় কয়টা বাজে, অর্থাৎ সময় ঠিক করে। একই দ্রাঘিমারেখা মেরু থেকে বিষুবরেখা হয়ে আরেক মেরু পর্যন্ত যায়, পথে বরফ, মরুভূমি, বৃষ্টিবন সবই পড়ে। তাই দ্রাঘিমা দিয়ে জলবায়ু বোঝা যায় না।
অক্ষরেখা আর দ্রাঘিমারেখা নাম কাছাকাছি হওয়ায় অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখুন: অক্ষাংশ তাপ ঠিক করে, দ্রাঘিমা সময়।
মনে রাখুন: অক্ষাংশ = তাপ, দ্রাঘিমা = সময়।
১৮৪. নিম্নের কোন আপদটি (Hazard) পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কসড়ক দুর্ঘটনা
- খতামাক ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ
- গবায়ু দূষণ
- ঘক্যান্সার
সঠিক উত্তর: গ. বায়ু দূষণ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন আপদ পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ। উত্তর বায়ু দূষণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই হাজার চোদ্দ সালে জানায়, ঘরের ভেতর ও বাইরের বায়ু দূষণে বছরে প্রায় সত্তর লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, অর্থাৎ বিশ্বের প্রতি আটটি মৃত্যুর একটি।
আপদ বা হ্যাজার্ড মানে এমন কিছু যা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। দূষিত বাতাসের সূক্ষ্ম কণা ফুসফুস ও রক্তে ঢুকে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের রোগ ও ক্যান্সার ঘটায়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে একক বৃহত্তম পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বলেছে।
অন্য বিকল্পগুলোও বড় ঝুঁকি, কিন্তু তখনকার হিসাবে কম: তামাকে বছরে প্রায় ষাট লাখ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাড়ে বারো লাখ মানুষ মারা যেত।
ক্যান্সার একটি রোগ, আপদ নয়; বরং বায়ু দূষণ নিজেই ক্যান্সারের একটি কারণ। কারণ আর ফল গুলিয়ে ক্যান্সার বেছে নেওয়াই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: বায়ু দূষণ একক বৃহত্তম পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি, বছরে প্রায় ৭০ লাখ মৃত্যু।
১৮৫. সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত ছিলো? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কনতুন দিল্লি
- খকলম্বো
- গঢাকা
- ঘকাঠমান্ডু
সঠিক উত্তর: ক. নতুন দিল্লি
প্রশ্নটি সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে। পরীক্ষার সময় এর ঠিকানা ছিল ভারতের নতুন দিল্লি।
দুই হাজার পাঁচ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রস্তাবে এই কেন্দ্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দুই হাজার ছয় সালের দশ অক্টোবর নতুন দিল্লিতে এটি উদ্বোধন করা হয়। এর কাজ সদস্য দেশগুলোর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে নীতি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময়।
সার্কের বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্র বিভিন্ন দেশে। সার্ক সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে, সার্ক কৃষি কেন্দ্র বাংলাদেশের ঢাকায়। তাই কাঠমান্ডু আর ঢাকা দুটোই চেনা নাম বলে ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
দুই হাজার ষোলো সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রটির অন্তর্বর্তী ইউনিট গুজরাটের গান্ধীনগরে গুজরাট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসে চলছে, তাই প্রশ্নে ‘অবস্থিত ছিলো’ বলা হয়েছে।
মনে রাখুন: সার্ক সচিবালয় কাঠমান্ডু, কৃষি কেন্দ্র ঢাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নতুন দিল্লি।
১৮৬. কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কউদ্ধার পর্যায়ে
- খপ্রভাব পর্যায়ে
- গসতর্কতা পর্যায়ে
- ঘপুনর্বাসন পর্যায়ে
সঠিক উত্তর: ঘ. পুনর্বাসন পর্যায়ে
প্রশ্নটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন হয় তা নিয়ে। প্রচলিত উত্তর পুনর্বাসন পর্যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপগুলো মোটামুটি এমন: আগে সতর্কতা ও প্রস্তুতি, তারপর দুর্যোগ আঘাত হানার প্রভাব পর্যায়, এরপর জীবন বাঁচানোর উদ্ধার ও ত্রাণ, আর শেষে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন।
পুনর্বাসনের কাজ হলো মানুষকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। কী পরিমাণ ঘরবাড়ি, রাস্তা, ফসল ও জীবিকা নষ্ট হলো, তার পূর্ণ হিসাব না করলে কোথায় কত বরাদ্দ লাগবে তা ঠিক করা যায় না। তাই বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ পুনর্বাসন পর্যায়ের মূল কাজ।
উদ্ধার পর্যায়েও তাৎক্ষণিক একটি দ্রুত চাহিদা নিরূপণ হয়, তাই অনেকে উদ্ধার বেছে নেন। কিন্তু সেখানে লক্ষ্য জীবন বাঁচানো; পূর্ণ মূল্যায়ন হয় পুনর্বাসনের জন্য।
মনে রাখুন: ক্ষতির হিসাব মানে পুনর্গঠনের প্রস্তুতি, তাই পুনর্বাসন পর্যায়।
১৮৭. নিম্নের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কভূমিকম্প
- খসমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি
- গঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
- ঘখরা ও বন্যা
সঠিক উত্তর: খ. সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন দুর্যোগ মানুষের জীবিকায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। উত্তর সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরা হঠাৎ আসে এবং কয়েক দিন বা কয়েক মাস পরে চলে যায়; মানুষ আবার আগের পেশায় ফিরতে পারে। কিন্তু সমুদ্রের পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং আর কমে না, তাই এর ক্ষতি স্থায়ী।
পানির স্তর বাড়লে উপকূলের নিচু জমি স্থায়ীভাবে ডুবে যায়, নদী ও মাটিতে লবণাক্ততা ঢোকে, ধানচাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন কৃষককে চিংড়ি বা কাঁকড়া চাষে যেতে হয়, অথবা শহরে গিয়ে অন্য কাজ খুঁজতে হয়; এদেরই বলে জলবায়ু উদ্বাস্তু।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সবচেয়ে ভয়াবহ শোনায় বলে অনেকে সেটাই বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্নের মূল শব্দ দীর্ঘস্থায়ী আর জীবিকা পরিবর্তন।
মনে রাখুন: দীর্ঘস্থায়ী আর জীবিকা পরিবর্তন শব্দ দুটি দেখলেই সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি।
১৮৮. অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে কত ভাগে ভাগ করা হয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- ক২ ভাগে
- খ৪ ভাগে
- গ৫ ভাগে
- ঘ৮ ভাগে
সঠিক উত্তর: ক. ২ ভাগে
প্রশ্নটি বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলো অবস্থান অনুসারে কয় ভাগে ভাগ করা হয় তা নিয়ে। উত্তর দুই ভাগে।
টারশিয়ারি যুগে হিমালয় গড়ে ওঠার সময় ভূ-আলোড়নে ভাঁজ খেয়ে এই পাহাড়গুলো তৈরি হয়; এগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ভূমিরূপ। অবস্থান অনুযায়ী এদের দুটি দল।
প্রথম দল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়। এখানে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো আছে। দ্বিতীয় দল উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার উত্তরাংশ এবং সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের টিলা।
আট ভাগ বা পাঁচ ভাগ এসেছে অন্য শ্রেণিবিভাগ থেকে বিভ্রান্ত করতে; যেমন বাংলাদেশের পুরো ভূপ্রকৃতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: টারশিয়ারি পাহাড়, প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।
মনে রাখুন: টারশিয়ারি পাহাড় = দক্ষিণ-পূর্ব + উত্তর-পূর্ব, দুই ভাগ।
১৮৯. নিম্নের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়? (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কনাইট্রাস অক্সাইড
- খকার্বন-ডাই-অক্সাইড
- গঅক্সিজেন
- ঘমিথেন
সঠিক উত্তর: গ. অক্সিজেন
প্রশ্নটি গ্রিনহাউস গ্যাস চেনা নিয়ে। অক্সিজেন গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
গ্রিনহাউস গ্যাস হলো যে গ্যাস ভূপৃষ্ঠ থেকে ফিরে যাওয়া তাপ, মানে অবলোহিত রশ্মি, শোষণ করে আবার চারদিকে ছড়িয়ে দেয়, ফলে পৃথিবী উষ্ণ থাকে। তিন বা তার বেশি পরমাণুর অণু, যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প, কম্পনের মাধ্যমে এই তাপ শোষণ করতে পারে।
অক্সিজেন আর নাইট্রোজেন দুই পরমাণুর একই রকম অণু; এরা অবলোহিত রশ্মি প্রায় শোষণ করে না। তাই বাতাসের নিরানব্বই শতাংশ এই দুই গ্যাস হলেও তারা তাপ আটকায় না।
নাইট্রাস অক্সাইডের নামে অক্সাইড আছে বলে কেউ কেউ অক্সিজেনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন; কিন্তু এটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, সার ব্যবহার থেকে বেশি আসে।
মনে রাখুন: বাতাসের দুই বড় গ্যাস, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন, কোনোটিই গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
১৯০. জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP) ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা (WMO) এর মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে – (৩৭তম বিসিএস, ২০১৬)
- কIPCC
- খCOP 21
- গGreen Peace
- ঘSierra Club
সঠিক উত্তর: ক. IPCC
প্রশ্নটি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগ নিয়ে। উত্তর আইপিসিসি, অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল।
উনিশশো অষ্টাশি সালে এই দুই সংস্থা মিলে আইপিসিসি গঠন করে। এর কাজ নিজে গবেষণা করা নয়; বিশ্বের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত গবেষণা পর্যালোচনা করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব ও সমাধান নিয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেওয়া। এর সচিবালয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
দুই হাজার সাত সালে আইপিসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায়।
কপ একুশ কোনো সংস্থা নয়, জলবায়ু সনদের একুশতম সম্মেলন, যেখানে প্যারিস চুক্তি হয়। গ্রিনপিস ও সিয়েরা ক্লাব বেসরকারি পরিবেশবাদী সংগঠন, জাতিসংঘের সৃষ্টি নয়। প্রশ্নে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাকে জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বলা হয়েছে, আসলে এটি আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের দুই সংস্থার যৌথ সন্তান আইপিসিসি, উনিশশো অষ্টাশি।
১৯১. ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কোথায় অবস্থিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কযমুনা নদীতে
- খমেঘনার মোহনায়
- গবঙ্গোপসাগরে
- ঘসন্দ্বীপ চ্যানেল
সঠিক উত্তর: গ. বঙ্গোপসাগরে
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হলো বঙ্গোপসাগরের তলদেশে একটি বিশাল খাদ বা সাবমেরিন ক্যানিয়ন। এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের দক্ষিণে, সুন্দরবনের দক্ষিণের সমুদ্রে অবস্থিত।
নামের অর্থ যেখানে তল পাওয়া যায় না। পুরোনো দিনে নাবিকেরা দড়িতে ভার বেঁধে সমুদ্রের গভীরতা মাপতেন। এই জায়গায় এসে আশপাশের অগভীর মহীসোপানের তুলনায় হঠাৎ এত গভীর পানি পেতেন যে তল ছুঁতে পারতেন না, তাই এমন নাম।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী খাদটির তলা পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার চওড়া, আর মহীসোপানের কিনারায় গভীরতা প্রায় এক হাজার দুইশো মিটার। ডলফিন, তিমি আর হাঙরের সমৃদ্ধ আবাস হওয়ায় দুই হাজার চৌদ্দ সালে একে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।
মেঘনার মোহনা আর সন্দ্বীপ চ্যানেল কাছাকাছি উপকূলীয় নাম বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে, কিন্তু খাদটি নদী বা চ্যানেলে নয়, খোলা বঙ্গোপসাগরে।
মনে রাখুন: নামেই অর্থ: যেখানে তল মেলে না, সেটা সমুদ্রেই, বঙ্গোপসাগরে।
১৯২. ‘অলিভ টারটল’ বাংলাদেশের কোন দ্বীপে পাওয়া যায়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসেন্টমার্টিন
- খরাঙ্গাবালি
- গচর আলেকজান্ডার
- ঘছেড়াদ্বীপ
সঠিক উত্তর: ক. সেন্টমার্টিন
অলিভ টারটল বা অলিভ রিডলে হলো জলপাই রঙের, তুলনামূলক ছোট আকারের সামুদ্রিক কচ্ছপ। বাংলাদেশে এদের ডিম পাড়ার জন্য সবচেয়ে পরিচিত জায়গা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
সামুদ্রিক কচ্ছপ সারা জীবন সাগরে কাটায়, শুধু ডিম পাড়তে মা কচ্ছপ নির্জন বালুময় সৈকতে উঠে আসে। শীতের মৌসুমে রাতে সৈকতে গর্ত খুঁড়ে ডিম পেড়ে আবার সাগরে ফিরে যায়।
সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, এর বালুময় সৈকত কচ্ছপের প্রজননের উপযোগী। কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল আর সোনাদিয়াতেও এরা ডিম পাড়ে। আলো, কোলাহল আর মানুষের ভিড় এদের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ছেঁড়া দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ প্রান্তের ছোট বিচ্ছিন্ন অংশ, তাই আলাদা উত্তর হিসেবে এটা বিভ্রান্তিকর। প্রশ্নে যে দ্বীপ চাওয়া হয়েছে, তার প্রচলিত উত্তর সেন্ট মার্টিন।
মনে রাখুন: প্রবাল, নারিকেল আর সামুদ্রিক কচ্ছপ: সব সেন্ট মার্টিনে।
১৯৩. প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- করাঙামাটি
- খখাগড়াছড়ি
- গবান্দরবান
- ঘসিলেট
সঠিক উত্তর: গ. বান্দরবান
প্রান্তিক হ্রদ বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। এটি জেলা সদর থেকে প্রায় চৌদ্দ কিলোমিটার দূরে, টংকাবতী ইউনিয়নের হলুদিয়া এলাকায়।
এটি একটি কৃত্রিম হ্রদ, প্রায় পঁচিশ একর জায়গা জুড়ে, চারপাশে পাহাড় আর বাগান। পর্যটন ও পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত।
বান্দরবানেই আছে বগা লেক, যা পাহাড়ের চূড়ার কাছে প্রাকৃতিক হ্রদ। তাই বান্দরবানের দুই হ্রদ একসঙ্গে মনে রাখুন: প্রান্তিক ও বগা।
পার্বত্য অঞ্চলের হ্রদ শুনে অনেকে রাঙামাটি বেছে নেন, কারণ সেখানে দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই। কিন্তু প্রান্তিক হ্রদ বান্দরবানে।
মনে রাখুন: বান্দরবানের দুই হ্রদ: বগা ও প্রান্তিক; রাঙামাটির কাপ্তাই।
১৯৪. যশোর জেলায় অবস্থিত বিল – (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কহাইল
- খপাথরচাওলি
- গভবদহ
- ঘআড়িয়াল
সঠিক উত্তর: গ. ভবদহ
যশোর জেলার বিল হলো ভবদহ। যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলার কিছু অংশ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল, যা একটি বিস্তৃত বিলাঞ্চল।
ভবদহ এলাকা জলাবদ্ধতার জন্য বহুল আলোচিত। আশপাশের নদীগুলোতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সহজে বের হতে পারে না, তাই বছরের দীর্ঘ সময় গ্রাম আর ফসলি জমি পানির নিচে থাকে।
অন্য বিকল্পগুলো অন্য অঞ্চলের। হাইল হাওর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায়, আর আড়িয়াল বিল পদ্মা ও ধলেশ্বরীর মাঝে ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলায়।
হাইল নামটা অনেকে বিল ভেবে বেছে নেন, কিন্তু এটি আসলে হাওর, আর হাওর সাধারণত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের। যশোর বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিলের প্রশ্নে ভবদহ নামটি সবার আগে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: যশোর মানে ভবদহ, আর ভবদহ মানে জলাবদ্ধতা।
১৯৫. গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন কত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৯১ বর্গ কিলোমিটার
- খ৯ বর্গ কিলোমিটার
- গ৭ বর্গ কিলোমিটার
- ঘ৮ বর্গ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর: খ. ৯ বর্গ কিলোমিটার
সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন প্রায় নয় বর্গকিলোমিটার। দ্বীপটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায়, কক্সবাজার শহরের উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
পরীক্ষার সময় সোনাদিয়াকে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রস্তাবিত স্থান হিসেবে আলোচনা হচ্ছিল, কারণ এর আশপাশে পানির গভীরতা বড় জাহাজ ভেড়ার উপযোগী। পরে গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ মহেশখালীরই মাতারবাড়ীতে সরে যায়।
সোনাদিয়া পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, পরিযায়ী পাখি, বিশেষ করে বিপন্ন চামচঠুঁটো বাটান, আর সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার সৈকত আছে।
একানব্বই বর্গকিলোমিটার বিকল্পটি নয়ের পেছনে একটি অঙ্ক বসিয়ে বানানো ফাঁদ। সাত বা আট বর্গকিলোমিটারও কাছাকাছি সংখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
মনে রাখুন: সোনাদিয়া = মহেশখালী = ৯ বর্গকিমি।
১৯৬. ম্যানগ্রোভ কি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককেওড়া বন
- খশালবন
- গউপকূলীয় বন
- ঘচিরহরিৎ বন
সঠিক উত্তর: গ. উপকূলীয় বন
ম্যানগ্রোভ হলো উপকূলীয় বন, অর্থাৎ সমুদ্র উপকূলের জোয়ার-ভাটা প্লাবিত লবণাক্ত কাদামাটিতে জন্মানো বন।
এই বনের গাছ লবণাক্ত পানি আর অক্সিজেনহীন কাদায় টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে খাপ খেয়েছে। যেমন শ্বাসমূল কাদা ফুঁড়ে উপরে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়, আর কিছু গাছে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়, মানে বীজ গাছে থাকতেই চারা গজায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা এখানকার পরিচিত গাছ।
কেওড়া নিজে একটি ম্যানগ্রোভ গাছ, পুরো বনের পরিচয় নয়, তাই কেওড়া বন বিকল্পটি ফাঁদ। শালবন মধুপুর-গাজীপুরের মতো অভ্যন্তরীণ উঁচু জমির পাতাঝরা বন, আর চিরহরিৎ বন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি বন।
মনে রাখুন: ম্যানগ্রোভ = উপকূলীয় লবণাক্ত জোয়ার-ভাটার বন; সুন্দরবন বৃহত্তম।
১৯৭. জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির ব্যাপকতা তুলে ধরার জন্য কোন দেশটি সমুদ্রের গভীরে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কফিজি
- খপাপুয়া নিউগিনি
- গগোয়াম
- ঘমালদ্বীপ
সঠিক উত্তর: ঘ. মালদ্বীপ
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি বিশ্বকে দেখাতে সমুদ্রের নিচে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিল মালদ্বীপ। দুই হাজার নয় সালের সতেরো অক্টোবর রাজধানী মালের উত্তরে গিরিফুশি দ্বীপের কাছে প্রায় ছয় মিটার পানির নিচে বৈঠকটি হয়।
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা ডুবুরির পোশাক পরে বৈঠকে বসেন, ইশারায় কথা বলেন আর কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানিয়ে একটি ঘোষণায় সই করেন। সেই বছরের ডিসেম্বরে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের আগে এটি ছিল প্রতীকী বার্তা।
কারণ মালদ্বীপ পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু দেশগুলোর একটি, বেশিরভাগ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক-দুই মিটার উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়লে পুরো দেশটাই তলিয়ে যেতে পারে।
একই বার্তা দিতে কয়েক সপ্তাহ পরে নেপাল এভারেস্টের কাছে কালাপাত্থরে মন্ত্রিসভার বৈঠক করে। তাই পাহাড়ে নেপাল আর সাগরের নিচে মালদ্বীপ, দুটো জোড়া করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: সাগরের নিচে মালদ্বীপ, পর্বতচূড়ায় নেপাল: দুটোই দুই হাজার নয়ে, জলবায়ুর বার্তা।
১৯৮. কার্টাগেনা প্রটোকল হচ্ছে - - (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কজাতিসংঘের যুদ্ধ মোকাবেলা সংক্রান্ত চুক্তি
- খজাতিসংঘের শিশু অধিকার বিষয়ক চুক্তি
- গজাতিসংঘের নারী অধিকার বিষয়ক প্রটোকল
- ঘজাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি
সঠিক উত্তর: ঘ. জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি
কার্টাগেনা প্রটোকল হলো জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি। এর পুরো নাম কার্টাগেনা প্রটোকল অন বায়োসেফটি।
জিনগত পরিবর্তন করা জীব, যেমন জিএম ফসলের বীজ, এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়ার সময় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটাই এই প্রটোকলের লক্ষ্য। আমদানিকারক দেশকে আগে জানিয়ে তার সম্মতি নিতে হয়।
এটি 'জীববৈচিত্র্য সনদ'-এর একটি সম্পূরক চুক্তি। উনিশশো নিরানব্বই সালে কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহরে এর চূড়ান্ত দফার বিশেষ সম্মেলন বসেছিল বলে এই নাম। সেখানে কাজ শেষ না হওয়ায় দুই হাজার সালের জানুয়ারিতে মন্ট্রিলে প্রটোকলটি গৃহীত হয়, আর দুই হাজার তিন সালে কার্যকর হয়।
পরিবেশ চুক্তিগুলো জোড়া করে মনে রাখুন: মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর, কিয়োটো প্রটোকল গ্রিনহাউস গ্যাস, কার্টাগেনা জৈব নিরাপত্তা, আর নাগোয়া প্রটোকল জিনগত সম্পদের সুফল বণ্টন। শিশু বা নারী অধিকারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: কার্টাগেনা = বায়োসেফটি; শহরের নামের প্রটোকল মনে রাখুন বিষয় দিয়ে।
১৯৯. ১৯৮৯ থেকে ওজনস্তর বিষয়ক মন্ট্রিল প্রটোকল কতবার সংশোধন করা হয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৫
- খ৪
- গ৮
- ঘ৭
সঠিক উত্তর: গ. ৮
মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ, যেমন সিএফসি, ধাপে ধাপে বন্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তি। এটি উনিশশো সাতাশি সালে স্বাক্ষরিত হয় আর উনিশশো ঊননব্বই সালে কার্যকর হয়।
কার্যকর হওয়ার পর বিজ্ঞানের নতুন তথ্য অনুযায়ী নিয়ম কড়া করতে পক্ষগুলোর বৈঠকে প্রটোকলটি বারবার হালনাগাদ করা হয়েছে। বহুল প্রচলিত তালিকায় পরীক্ষার সময় পর্যন্ত এমন হালনাগাদ ধরা হয় আটবার: লন্ডন, নাইরোবি, কোপেনহেগেন, ব্যাংকক, ভিয়েনা, মন্ট্রিল, অস্ট্রেলিয়া ও বেইজিং, উনিশশো নব্বই থেকে উনিশশো নিরানব্বইয়ের মধ্যে। প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর এই আট।
তবে জাতিসংঘের ওজোন সচিবালয়ের হিসাব আলাদা। সেখানে আনুষ্ঠানিক সংশোধনী পরীক্ষার সময় ছিল চারটি: লন্ডন, কোপেনহেগেন, মন্ট্রিল ও বেইজিং। নিয়মের সমন্বয়গুলো আলাদা তালিকায় থাকে। তাই চার বিকল্পটিও যুক্তিসংগত, আর এখানেই প্রশ্নটির বড় ফাঁদ।
পরীক্ষার পরে দুই হাজার ষোলো সালে রুয়ান্ডার কিগালিতে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সংশোধনী হয়, যাতে হাইড্রোফ্লুরোকার্বন কমানোর লক্ষ্য যোগ হয়। প্রচলিত তালিকায় এটিকে নবম ধরা হয়।
মনে রাখুন: প্রচলিত তালিকায় নব্বইয়ের দশকে আটবার: নব্বই, একানব্বই, বিরানব্বই, তিরানব্বই, পঁচানব্বই, সাতানব্বই, আটানব্বই, নিরানব্বই।
২০০. বিশ্ব প্রাণী দিবস হচ্ছে- (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৪ অক্টোবর
- খ২৩ অক্টোবর
- গ২৯ জুন
- ঘ১১ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর: ক. ৪ অক্টোবর
বিশ্ব প্রাণী দিবস পালিত হয় প্রতি বছর চার অক্টোবর।
তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে প্রাণীপ্রেমী খ্রিস্টান সাধু ফ্রান্সিস অব আসিসির স্মরণ দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে। তিনি প্রাণী ও প্রকৃতির রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত।
দিবসটির উদ্দেশ্য প্রাণীর কল্যাণ, অধিকার আর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো। পোষা প্রাণী থেকে বন্যপ্রাণী, সব প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের কথা এদিন বলা হয়।
বিকল্পের অন্য তারিখগুলো অন্য দিবসের। যেমন এগারো ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞানে নারী ও কন্যাশিশুর আন্তর্জাতিক দিবস, আর ঊনত্রিশ জুন আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমণ্ডল দিবস।
মনে রাখুন: অক্টোবরের চারে প্রাণী, জুনের পাঁচে পরিবেশ।