ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৩
৪১. ক্ষুদ্রতম মহাদেশ : (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅস্ট্রেলিয়া
- খইউরোপ
- গআফ্রিকা
- ঘদক্ষিণ আমেরিকা
সঠিক উত্তর: ক. অস্ট্রেলিয়া
প্রশ্নটি মহাদেশের আয়তন নিয়ে। আয়তনে সবচেয়ে ছোট মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া।
পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ। আয়তনে বড় থেকে ছোট: এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা, ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া প্রায় সাতাত্তর লাখ বর্গকিলোমিটার, যেখানে ইউরোপ প্রায় এক কোটি বর্গকিলোমিটার।
অস্ট্রেলিয়া একমাত্র মহাদেশ যা একই সঙ্গে একটি দেশ। চারদিকে সাগর থাকায় একে দ্বীপ-মহাদেশও বলে। আশপাশের দ্বীপগুলোসহ অঞ্চলটিকে ওশেনিয়াও বলা হয়।
ইউরোপ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ ইউরোপও ছোট মহাদেশ এবং ছোট ছোট অনেক দেশে ভাগ। কিন্তু আয়তনে ইউরোপ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বড়, তাই ক্ষুদ্রতম নয়।
মনে রাখুন: বৃহত্তম এশিয়া, ক্ষুদ্রতম অস্ট্রেলিয়া; ইউরোপ ছোট হলেও ষষ্ঠ।
৪২. পৃথিবীর গভীরতম স্থান : (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
- খডেড সী
- গবৈকাল হ্রদ
- ঘলোহিত সাগর
সঠিক উত্তর: ক. ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
প্রশ্নটি পৃথিবীর গভীরতম স্থান জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার সবচেয়ে গভীর বিন্দুর নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ।
চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতা প্রায় এগারো কিলোমিটার, মানে এভারেস্টকে উল্টো করে বসালেও চূড়া পানির নিচে থাকবে। এটি তৈরি হয়েছে প্যাসিফিক প্লেট মারিয়ানা প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ায়, এ রকম খাদকে বলে সমুদ্রখাত বা ট্রেঞ্চ।
বাকি বিকল্পগুলোও কোনো না কোনো রেকর্ডের, তাই বিভ্রান্তি তৈরি করে। মৃত সাগরের তীর স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠের চারশো ত্রিশ মিটারেরও বেশি নিচে। বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ, প্রায় এক হাজার ছয়শো বিয়াল্লিশ মিটার। লোহিত সাগর একটি সাগর, গভীরতায় মারিয়ানার ধারেকাছেও নয়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ মৃত সাগর। মনে রাখুন, স্থলভাগের সর্বনিম্ন মৃত সাগর, কিন্তু সব মিলিয়ে পৃথিবীর গভীরতম মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
মনে রাখুন: স্থলে নিচু মৃত সাগর, হ্রদে গভীর বৈকাল, সব মিলিয়ে গভীরতম মারিয়ানা।
৪৩. 'ভিক্টোরিয়া ডিজার্ট' কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককানাডা
- খপশ্চিম আফ্রিকা
- গনর্থ আমেরিকা
- ঘঅস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. অস্ট্রেলিয়া
প্রশ্নটি একটি মরুভূমির অবস্থান জানতে চেয়েছে। ভিক্টোরিয়া মরুভূমি, পুরো নাম গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।
এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়ার নামে এর নামকরণ। অস্ট্রেলিয়ার মাঝখানের বিশাল অংশ শুষ্ক, তাই সেখানে গ্রেট স্যান্ডি, গিবসন, সিম্পসনসহ অনেক মরুভূমি আছে।
একই নামে অনেক কিছু আছে, তাই গুলিয়ে যায়। আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ আর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত আছে, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রাজধানীর নামও ভিক্টোরিয়া। কিন্তু ভিক্টোরিয়া নামের মরুভূমি অস্ট্রেলিয়ায়।
পশ্চিম আফ্রিকা বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ সেখানে সাহারার অংশ আছে আর আফ্রিকায় ভিক্টোরিয়া হ্রদ আছে। মরুভূমি হলে মনে রাখুন অস্ট্রেলিয়া।
মনে রাখুন: ভিক্টোরিয়া, গিবসন, গ্রেট স্যান্ডি, সিম্পসন: এই মরুভূমিগুলো সব অস্ট্রেলিয়ায়।
৪৪. কোন নদীটির উৎপত্তিস্থান বাংলাদেশে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককর্ণফুলি
- খনাফ
- গমেঘনা
- ঘহালদা
সঠিক উত্তর: ঘ. হালদা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের ভেতরে। উত্তর হালদা।
হালদা উৎপন্ন হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বাদনাতলী পাহাড়শ্রেণি থেকে। এরপর ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান হয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের কাছে কর্ণফুলীতে মিশেছে। পুরো পথটাই বাংলাদেশের ভেতরে।
হালদা রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র, যেখান থেকে সরাসরি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য একে অনন্য প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র বলা হয়।
কর্ণফুলী বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ এটি চট্টগ্রামের প্রধান নদী আর হালদা এতেই মেশে। কিন্তু কর্ণফুলীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে।
মনে রাখুন: দেশের ভেতরে জন্ম, দেশের ভেতরে শেষ: হালদা।
৪৫. পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কোথায় অবস্থান করে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপানির উপরিভাগে
- খপানির মধ্যভাগে
- গপানির আন্তঃআণবিক স্থানে
- ঘপানির তলদেশে
সঠিক উত্তর: গ. পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
প্রশ্নটি পানিতে অক্সিজেন কীভাবে থাকে তা নিয়ে। দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির আন্তঃআণবিক স্থানে, মানে পানির অণুগুলোর মাঝের ফাঁকে অবস্থান করে।
বাতাসের অক্সিজেন পানির উপরিতলে মিশে যায়, আর জলজ উদ্ভিদ ও শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন ছাড়ে। এই অক্সিজেন অণু পানির অণুর সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয় না; পানির অণুগুলোর মাঝে যে ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে ছড়িয়ে থাকে। মাছ ফুলকা দিয়ে এই অক্সিজেনই নেয়।
পানি যত ঠান্ডা, তত বেশি অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে। গরম পানিতে অণুগুলো দ্রুত নড়ে, তাই অক্সিজেন বেরিয়ে যায়। এজন্য গরমকালে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতিতে মাছ ভেসে ওঠে।
উপরিভাগ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ অক্সিজেন উপরিতল দিয়েই ঢোকে। কিন্তু দ্রবীভূত হওয়ার পর তা নির্দিষ্ট কোনো স্তরে নয়, অণুর ফাঁকে ফাঁকে থাকে।
মনে রাখুন: দ্রবীভূত মানে অণুর ফাঁকে মিশে থাকা; কোনো নির্দিষ্ট স্তরে নয়।
৪৬. গ্রীন হাউস গ্যাসের কোন গ্যাস বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককার্বন ডাইঅক্সাইড
- খমিথেন
- গসিএফসি
- ঘনাইট্রাস অক্সাইড
সঠিক উত্তর: গ. সিএফসি
প্রশ্নটি গ্রিনহাউস গ্যাসের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে। যে গ্যাসের পরিমাণ এখন আর বাড়ছে না, সেটি সিএফসি বা ক্লোরোফ্লুরোকার্বন।
সিএফসি একসময় ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার ও স্প্রেতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতো। এটি ওজোনস্তর ক্ষয় করে, আবার শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাসও। উনিশশো সাতাশি সালের মন্ট্রিল প্রটোকলের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সিএফসি উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধ করা হয়।
ফলে নতুন সিএফসি বায়ুমণ্ডলে যোগ হওয়া প্রায় থেমে যায়, আর এর ঘনত্ব এখন ধীরে ধীরে কমছে। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, ধানক্ষেত, গবাদিপশু ও রাসায়নিক সারের কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড এখনো বাড়ছে।
মিথেন বিকল্পটি অনেকে বেছে নেন, কারণ এর পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের চেয়ে কম। কিন্তু পরিমাণ কম হলেও এর ঘনত্ব প্রতিবছর বাড়ছে।
মনে রাখুন: যে গ্যাস আইন করে বন্ধ করা হয়েছে, সেটিই আর বাড়ছে না: সিএফসি।
৪৭. বাংলাদেশে সিডর কখন আঘাত হানে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৫ নভেম্বর ২০০৭
- খ১৬ নভেম্বর ২০০৭
- গ১৭ নভেম্বর ২০০৭
- ঘ১৮ নভেম্বর ২০০৭
সঠিক উত্তর: ক. ১৫ নভেম্বর ২০০৭
প্রশ্নটি ঘূর্ণিঝড় সিডরের তারিখ জানতে চেয়েছে। সিডর বাংলাদেশে আঘাত হানে দুই হাজার সাত সালের পনেরো নভেম্বর।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় পনেরো নভেম্বর রাতে উপকূলে আঘাত হানে এবং রাতভর দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়, কয়েক হাজার মানুষ মারা যায়।
সুন্দরবন ঝড়ের গতি অনেকটা কমিয়ে দিয়ে উপকূলকে রক্ষা করে, তবে বনেরও বিপুল ক্ষতি হয়। এর পর থেকে সুন্দরবনকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল বলা হয়।
ঝড়টি রাত পেরিয়ে পরদিন পর্যন্ত চলেছিল বলে অনেকে ষোলো নভেম্বর বেছে নেন। কিন্তু আঘাত হানার, মানে স্থলভাগে ওঠার তারিখ পনেরো নভেম্বর।
মনে রাখুন: সিডর ২০০৭, আইলা ২০০৯: নভেম্বরের ১৫ তারিখ সিডর।
৪৮. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত নটিক্যাল মাইল? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৫০ নটিক্যাল মাইল
- খ২০০ নটিক্যাল মাইল
- গ২৫০ নটিক্যাল মাইল
- ঘ৩০০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর: খ. ২০০ নটিক্যাল মাইল
প্রশ্নটি সমুদ্র আইনের অঞ্চলভাগ নিয়ে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল উপকূলের ভিত্তিরেখা থেকে দুইশো নটিক্যাল মাইল।
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী উপকূলীয় দেশের সমুদ্র কয়েকটি ধাপে ভাগ হয়। ভিত্তিরেখা থেকে বারো নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সমুদ্রসীমা, যেখানে দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব। চব্বিশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল, যেখানে শুল্ক ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা যায়।
আর দুইশো নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে মাছ, তেল-গ্যাসসহ পানি ও তলদেশের সব সম্পদ আহরণের একচ্ছত্র অধিকার ওই দেশের। মহীসোপান প্রমাণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিনশো পঞ্চাশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দাবি করা যায়। দুই হাজার বারো সালে মিয়ানমার ও দুই হাজার চোদ্দ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ এই অধিকার নিশ্চিত করে।
সাড়ে তিনশো আর দুইশো গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল। মনে রাখুন, অর্থনৈতিক অঞ্চল দুইশো, মহীসোপান সর্বোচ্চ সাড়ে তিনশো।
মনে রাখুন: সংখ্যাগুলো ক্রমে: ১২, ২৪, ২০০, সর্বোচ্চ ৩৫০।
৪৯. ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে- (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কফোকাস
- খএপিসেন্টার
- গফ্রাকচার
- ঘফল্ট
সঠিক উত্তর: খ. এপিসেন্টার
প্রশ্নটি ভূমিকম্পের পরিভাষা নিয়ে। ভূগর্ভে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, তার ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে বলে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র।
ভূমিকম্প শুরু হয় মাটির নিচে, যেখানে শিলায় জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়। সেই উৎপত্তিস্থলের নাম ফোকাস বা কেন্দ্র, যাকে হাইপোসেন্টারও বলে। ফোকাস থেকে সোজা ওপরে উঠে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দু পাওয়া যায়, সেটিই এপিসেন্টার। এপি মানে ওপরে।
এপিসেন্টারে কম্পন প্রথমে ও সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তাই খবরে ভূমিকম্পের উৎস বলতে এপিসেন্টারের অবস্থানই বলা হয়।
ফোকাস বিকল্পটি প্রধান ফাঁদ। ফোকাস মাটির নিচে, এপিসেন্টার মাটির ওপরে। ফল্ট মানে শিলার চ্যুতি বা ফাটল বরাবর সরে যাওয়া তল, আর ফ্র্যাকচার মানে সাধারণ ফাটল; এরা কোনো বিন্দু নয়।
মনে রাখুন: এপি মানে ওপরে: ফোকাসের ওপরে এপিসেন্টার।
৫০. বিশ্বব্যাপী নিচের কোন অর্থনৈতিক খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপরিবহন
- খবিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
- গভবন নির্মাণ
- ঘশিল্প
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বিশ্বে কোন অর্থনৈতিক খাত সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস ছাড়ে। উত্তর বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন খাত।
পৃথিবীর বেশিরভাগ বিদ্যুৎ এখনো কয়লা, গ্যাস ও তেল পুড়িয়ে তৈরি হয়। এক টন কয়লা পোড়ালেই বিপুল কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়, আর বিদ্যুৎ লাগে ঘর, কারখানা, অফিস সব জায়গায়। তাই ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের হিসাবে বিশ্বের মোট নির্গমনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে শুধু এই খাত থেকে।
এরপর আসে পরিবহন, শিল্পকারখানার জ্বালানি ব্যবহার, কৃষি ও ভবন। পরিবহন বড় খাত, কিন্তু এর নির্গমন বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম।
পরিবহন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ গাড়ির ধোঁয়া চোখে পড়ে বেশি। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস বের হয়, তা পরিবহনের চেয়ে অনেক বেশি।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি যেখানে পোড়ে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি নির্গমন: বিদ্যুৎকেন্দ্র।
৫১. উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু প্রবাহিত হয়- (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঘড়ির কাটার দিকে
- খঘড়ির কাটার বিপরীতে
- গসোজা
- ঘকোনটাই সঠিক নয়
সঠিক উত্তর: খ. ঘড়ির কাটার বিপরীতে
প্রশ্নটি ঘূর্ণিঝড়ের বায়ুর ঘূর্ণনের দিক নিয়ে। উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে থাকে নিম্নচাপ, তাই চারপাশ থেকে বাতাস কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। কিন্তু পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে বলে চলন্ত বাতাস সোজা পথে যেতে পারে না, বেঁকে যায়। একে বলে কোরিওলিস প্রভাব; এই বেঁকে যাওয়ার নিয়মটিকে ফেরেলের সূত্র বলা হয়।
উত্তর গোলার্ধে এই প্রভাবে বাতাস ডান দিকে বেঁকে যায়। চারদিক থেকে আসা বাতাস ডানে বাঁকতে বাঁকতে কেন্দ্রের চারপাশে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরতে থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে বাতাস বাঁ দিকে বাঁকে, তাই সেখানে ঘোরে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
দুই গোলার্ধের দিক গুলিয়ে ফেলাই প্রধান ফাঁদ। বঙ্গোপসাগর উত্তর গোলার্ধে, তাই আমাদের সব ঘূর্ণিঝড় ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে।
মনে রাখুন: উত্তরে উল্টো, দক্ষিণে সোজা: উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে।
৫২. মকরক্রান্তি রেখা কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
- খ২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ
- গ২৩°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
- ঘ২৩°৩০′ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর: ক. ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
প্রশ্নটি পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা নিয়ে। মকরক্রান্তি রেখা হলো তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট দক্ষিণ অক্ষাংশ।
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় সাড়ে তেইশ ডিগ্রি হেলে আছে। তাই বছরে সূর্য সর্বোচ্চ তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট উত্তর আর তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট দক্ষিণ পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তরের সীমা কর্কটক্রান্তি, দক্ষিণের সীমা মকরক্রান্তি। বাইশে ডিসেম্বরের দিকে সূর্য মকরক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে গেছে, তাই দুটো গুলিয়ে ফেলা সহজ। মনে রাখুন, মকর দক্ষিণে, কর্কট উত্তরে।
দ্রাঘিমাংশের বিকল্প দুটো সহজেই বাদ যায়, কারণ ক্রান্তি রেখা পূর্ব-পশ্চিমে টানা অক্ষরেখা; পূর্ব বা পশ্চিম শব্দ থাকে দ্রাঘিমার সঙ্গে।
মনে রাখুন: ক্রান্তি মানে অক্ষাংশ; মকর দক্ষিণে, কর্কট উত্তরে।
৫৩. কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআগ্নেয় শিলা
- খরূপান্তরিত শিলা
- গপাললিক শিলা
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. পাললিক শিলা
প্রশ্নটি শিলার প্রকারভেদ নিয়ে। জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাললিক শিলায়।
পাললিক শিলা তৈরি হয় নদী, হ্রদ বা সাগরের তলায় পলি, বালি ও কাদা স্তরে স্তরে জমে, চাপে শক্ত হয়ে। মরে যাওয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ বা ছাপ সেই পলির নিচে চাপা পড়ে, আর শিলা তৈরির সময় কম তাপে তা নষ্ট হয় না। তাই এখানে জীবাশ্ম সংরক্ষিত থাকে। চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা পাললিক শিলার উদাহরণ।
আগ্নেয় শিলা গলিত ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়, ওই প্রচণ্ড তাপে কোনো জীবদেহ টেকে না। রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয় তীব্র তাপ ও চাপে পুরোনো শিলা বদলে গিয়ে, তাতে জীবাশ্ম থাকলেও সাধারণত বিকৃত বা নষ্ট হয়ে যায়।
রূপান্তরিত শিলা বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ এটি পাললিক শিলা থেকেও তৈরি হতে পারে। কিন্তু রূপান্তরের সময়ই জীবাশ্ম মুছে যায়।
মনে রাখুন: জীবাশ্ম, স্তর, কয়লা, চুনাপাথর: এই শব্দগুলো দেখলেই পাললিক শিলা।
৫৪. নিচের কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবন্যা
- খভূমিকম্প
- গঘূর্ণিঝড়
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: খ. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। উত্তর ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প হয় ভূগর্ভের শিলায় ধীরে ধীরে জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে। কোন দিন, কোন সময়ে, কত মাত্রায় চাপ মুক্ত হবে, তা বিজ্ঞানীরা এখনো আগে থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে বলতে পারেন না। শুধু কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, সেই দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বলা যায়।
বাকি তিনটির পূর্বাভাস সম্ভব। ঘূর্ণিঝড় উপগ্রহ ও রাডারে কয়েক দিন আগে থেকেই দেখা যায় বলে সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। বন্যার পূর্বাভাস দেয় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, উজানের বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা দেখে। খরা ধীরে আসে, বৃষ্টির ঘাটতি দেখে আগেই বোঝা যায়।
ভূমিকম্প হঠাৎ আসে বলেই একে আকস্মিক দুর্যোগ বলা হয়, আর এর প্রস্তুতি মানে মূলত ভবন মজবুত করা ও মহড়া।
মনে রাখুন: যে দুর্যোগ হঠাৎ মাটির নিচ থেকে আসে, তার পূর্বাভাস নেই: ভূমিকম্প।
৫৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপূর্বপ্রস্তুতি
- খসাড়াদান
- গপ্রশমন
- ঘপুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর: গ. প্রশমন
প্রশ্নটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ধাপ নিয়ে। প্রচলিত গাইড-উত্তর অনুযায়ী সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপ প্রশমন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ধাপগুলো হলো দুর্যোগের আগে প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় সাড়াদান, আর দুর্যোগের পরে পুনরুদ্ধার। প্রশমন মানে দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশমনের কাজগুলো বড় অবকাঠামোর: বেড়িবাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, নদীশাসন, ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী। এগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিপুল বিনিয়োগ লাগে, তাই একে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধরা হয়। অন্যদিকে পূর্বপ্রস্তুতি মানে মহড়া, সতর্কবার্তা, ত্রাণ মজুদ; এতে খরচ তুলনামূলক কম।
পুনরুদ্ধার বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ বড় দুর্যোগের পর পুনর্গঠনেও অনেক টাকা লাগে। তবে প্রচলিত উত্তর প্রশমন, কারণ এটি পরিকল্পিত স্থায়ী কাঠামোগত বিনিয়োগ।
মনে রাখুন: যে ধাপে কংক্রিটের বড় কাঠামো বানাতে হয়, সেটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল: প্রশমন।
৫৬. কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপ্রাকৃতিক গ্যাস
- খচুনাপাথর
- গবায়ু
- ঘকয়লা
সঠিক উত্তর: গ. বায়ু
প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য আর অনবায়নযোগ্য সম্পদের পার্থক্য নিয়ে। নবায়নযোগ্য সম্পদ বায়ু।
নবায়নযোগ্য সম্পদ হলো যা ব্যবহার করলেও প্রকৃতিতে আবার নিজে থেকে তৈরি হয় বা শেষ হয় না, যেমন সূর্যালোক, বায়ুপ্রবাহ, পানিপ্রবাহ, জৈববস্তু। সূর্যের তাপে বাতাস চলতেই থাকে, তাই বায়ুকল দিয়ে যত বিদ্যুৎই বানাই, বায়ু ফুরায় না।
অনবায়নযোগ্য সম্পদ তৈরি হতে লাখ লাখ বা কোটি বছর লাগে, তাই মানুষের সময়ের হিসাবে একবার তুললে শেষ। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, আর চুনাপাথর পাললিক শিলা।
চুনাপাথর বিকল্পটি অনেককে বিভ্রান্ত করে, কারণ এটি জ্বালানি নয়। কিন্তু খনিজ হিসেবে এটিও খনি থেকে তুললে শেষ হয়ে যায়।
মনে রাখুন: যা খনি থেকে তুলতে হয় তা অনবায়নযোগ্য; যা প্রকৃতিতে বয়ে চলে তা নবায়নযোগ্য।
৫৭. নিচের কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবাখরাবাদ
- খহরিপুর
- গতিতাস
- ঘহবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর: গ. তিতাস
প্রশ্নটি বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে। মজুদের দিক থেকে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস।
তিতাস উনিশশো বাষট্টি সালে আবিষ্কৃত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের সবচেয়ে বেশি মজুদের গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ হয়।
অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর আলাদা পরিচয় আছে, যেগুলোও পরীক্ষায় আসে। সিলেটের হরিপুর দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, উনিশশো পঞ্চান্ন সালে। কুমিল্লার বাখরাবাদ আর হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রও বড়, আর এখন সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় হবিগঞ্জের বিবিয়ানা থেকে।
হরিপুর বিকল্পটি ফাঁদ: এটি প্রথম, বৃহত্তম নয়। প্রথম, বৃহত্তম আর সর্বোচ্চ উৎপাদন, এই তিনটি আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: প্রথম হরিপুর, বৃহত্তম তিতাস, সর্বোচ্চ উৎপাদন বিবিয়ানা।
৫৮. বাংলাদেশে জি-কে প্রকল্প একটি- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজলবিদ্যুৎ প্রকল্প
- খনদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
- গজল পরিবহন প্রকল্প
- ঘসেচ প্রকল্প
সঠিক উত্তর: ঘ. সেচ প্রকল্প
প্রশ্নটি জি-কে প্রকল্পের ধরন জানতে চেয়েছে। জি-কে প্রকল্প একটি সেচ প্রকল্প।
জি-কে মানে গঙ্গা-কপোতাক্ষ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাম্প হাউস দিয়ে গঙ্গা বা পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে খালের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার জমিতে সেচ দেওয়া হয়। উনিশশো চুয়ান্ন-পঞ্চান্ন অর্থবছরে এর কাজ শুরু হয়, আর এটি দেশের অন্যতম বড় ভূ-উপরিস্থ পানির সেচ ব্যবস্থা।
সেচ প্রকল্প মানে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছে দেওয়া। দেশের আরেকটি বড় সেচ প্রকল্প হলো লালমনিরহাট-নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। আর জলবিদ্যুৎ বলতে কাপ্তাই, যা একেবারে আলাদা জিনিস।
নদী থেকে পানি তোলে বলে অনেকে নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ভাবেন। কিন্তু উদ্দেশ্য নদীকে শাসন করা নয়, ফসলের জন্য পানি দেওয়া।
মনে রাখুন: জি-কে আর তিস্তা ব্যারেজ মানে সেচ, কাপ্তাই মানে জলবিদ্যুৎ।
৫৯. COP 26-এ COP মানে কী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককনফারেন্স অব প্যারিস
- খকনফারেন্স অব দ্য পাওয়ার
- গকনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
- ঘকনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল
সঠিক উত্তর: গ. কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
প্রশ্নটি জলবায়ু সম্মেলনের পরিভাষা নিয়ে। কপ মানে কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস, অর্থাৎ পক্ষগুলোর সম্মেলন।
উনিশশো বিরানব্বই সালে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো সনদ গৃহীত হয় এবং রিও ডি জেনিরোর ধরিত্রী সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। যেসব দেশ এই সনদে যোগ দিয়েছে, তাদের বলা হয় পার্টি বা পক্ষ। এই পক্ষগুলো প্রতিবছর যে সম্মেলনে বসে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই কপ। প্রথম কপ হয় উনিশশো পঁচানব্বই সালে বার্লিনে।
কপ ছাব্বিশ হয়েছিল দুই হাজার একুশ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে। কপের পরের সংখ্যাটি শুধু কততম সম্মেলন তা বোঝায়।
কনফারেন্স অব প্যারিস বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ দুই হাজার পনেরো সালের প্যারিস চুক্তি কপ একুশে হয়েছিল। কিন্তু প্যারিস একটি সম্মেলনের স্থান মাত্র, কপ শব্দের অংশ নয়।
মনে রাখুন: কপ মানে পার্টিস: সনদের সদস্য দেশগুলো।
৬০. বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঘন ঘন বন্যা
- খসমুদ্র দূষণ
- গত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ঘন ঘন বন্যা
প্রশ্নটি ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে, আর জানতে চেয়েছে কোনটি চ্যালেঞ্জ নয়। প্রচলিত উত্তর ঘন ঘন বন্যা।
ব্লু-ইকোনমি মানে সমুদ্র ও সমুদ্রসম্পদ টেকসইভাবে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন: সামুদ্রিক মাছ, বন্দর ও জাহাজ চলাচল, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, পর্যটন। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের সামনে এই খাত বড় সুযোগ হিসেবে এসেছে।
এর চ্যালেঞ্জ সমুদ্রকেন্দ্রিক। সমুদ্র দূষণ মাছ ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে। ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন মানে নজরদারি, আইন প্রয়োগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি, যাতে অবৈধ মাছ ধরা ও সম্পদ নষ্ট হয়। এ দুটো সরাসরি সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের পথে বাধা।
ঘন ঘন বন্যা মূলত দেশের ভেতরের নদী ও প্লাবনভূমির দুর্যোগ, সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের সরাসরি সমস্যা নয়। তাই এটিই চ্যালেঞ্জের তালিকার বাইরে। উপরের কোনটিই নয় বেছে নিলে মেনে নিতে হয় যে তিনটিই চ্যালেঞ্জ, যা ঠিক নয়।
মনে রাখুন: যে সমস্যা সমুদ্রে নয়, ডাঙায়, সেটি ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয়।