ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ২
২১. কনরাড বিযুক্তি ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরসমূহের মাঝে অবস্থান করে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসিয়াল ও সিমা
- খঅশ্বমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল
- গগুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল
- ঘসিমা ও অশ্বমণ্ডল
সঠিক উত্তর: ক. সিয়াল ও সিমা
প্রশ্নটি ভূ-অভ্যন্তরের স্তর ও বিযুক্তিরেখা নিয়ে। কনরাড বিযুক্তি সিয়াল ও সিমা স্তরের মাঝে অবস্থিত।
পৃথিবীর বাইরের শক্ত আবরণকে অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক বলে; প্রশ্নে ছাপা অশ্বমণ্ডল শব্দের শুদ্ধ রূপ অশ্মমণ্ডল, কারণ অশ্ম মানে পাথর। এর ওপরের অংশ সিয়াল, কারণ এতে সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি; মহাদেশগুলো এই হালকা স্তরে গড়া। নিচের অংশ সিমা, যাতে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম বেশি, তুলনায় ভারী। এই দুইয়ের মাঝের সীমানাই কনরাড বিযুক্তি।
আরও দুটি বিযুক্তি পরীক্ষায় আসে। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে মোহোরোভিসিক বা মোহো বিযুক্তি, আর গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে গুটেনবার্গ বিযুক্তি। ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতি এসব সীমানায় হঠাৎ বদলে যায়, তা থেকেই এগুলো চেনা গেছে।
অশ্মমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ সেটিও একটি বিযুক্তির জায়গা, তবে সেখানে মোহো, কনরাড নয়। ক্রম মনে রাখুন: কনরাড, মোহো, গুটেনবার্গ, ওপর থেকে নিচে।
মনে রাখুন: ওপর থেকে: কনরাড, মোহো, গুটেনবার্গ; কনরাড ভূত্বকের ভেতরেই।
২২. বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কচুনাপাথর
- খকাঁচবালি
- গকয়লা
- ঘখনিজ লবণ
সঠিক উত্তর: গ. কয়লা
প্রশ্নটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খনিজ সম্পদ নিয়ে। এই অঞ্চলের প্রধান খনিজ কয়লা।
দেশের আবিষ্কৃত প্রধান কয়লাক্ষেত্রগুলো সবই উত্তর-পশ্চিমে: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দীঘিপাড়া, জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ আর রংপুরের খালাশপীর। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া দেশের একমাত্র চালু কয়লাখনি, যার কয়লায় পাশের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র চলে।
কেন এখানে কয়লা? এই অঞ্চলের নিচে প্রাচীন ভিত্তিশিলা তুলনামূলক অগভীর, আর তার ওপরের প্রাচীন অববাহিকায় উদ্ভিদের দেহ চাপা পড়ে কোটি বছরে কয়লা হয়েছে। ভিত্তিশিলা অগভীর বলেই একই অঞ্চলে মধ্যপাড়ার কঠিন শিলাও খনি থেকে তোলা যায়।
চুনাপাথর বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ জয়পুরহাটেও চুনাপাথর পাওয়া গেছে। কিন্তু চুনাপাথরের প্রধান উৎস সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চল, আর উত্তর-পশ্চিমের প্রধান পরিচয় কয়লা।
মনে রাখুন: উত্তর-পশ্চিম মানে কয়লা আর কঠিন শিলা; উত্তর-পূর্ব মানে গ্যাস আর চুনাপাথর।
২৩. এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কশীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
- খবর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
- গগ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
- ঘঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর: খ. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
প্রশ্নটি এল নিনোর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে। এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিক, মানে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল, তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, আর পশ্চিম দিক, মানে ইন্দোনেশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার কাছে, গরম থাকে। ফলে বৃষ্টির মেঘ জমে এশিয়ার দিকে। এল নিনোর বছরে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, তাই বৃষ্টির কেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে যায়।
এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়, বর্ষা দেরিতে আসে, বৃষ্টি কম বা অনিয়মিত হয়, খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ে। এল নিনো স্প্যানিশ শব্দ, অর্থ ছোট ছেলে বা শিশু যিশু, কারণ বড়দিনের সময় পেরুর উপকূলে এই উষ্ণতা দেখা যেত। এর বিপরীত অবস্থা লা নিনা।
ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ এল নিনো বিশ্বের আবহাওয়ায় অনেক বদল আনে। কিন্তু এই অঞ্চলে এর প্রধান ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রভাব বর্ষার বৃষ্টিতে অনিয়ম।
মনে রাখুন: এল নিনো মানে এশিয়ায় কম বৃষ্টি ও খরা; লা নিনা মানে বেশি বৃষ্টি।
২৪. বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২০০৫
- খ২০০৮
- গ২০১২
- ঘ২০১৫
সঠিক উত্তর: গ. ২০১২
প্রশ্নটি বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো নিয়ে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণীত হয় দুই হাজার বারো সালে।
এর আগে দুর্যোগ মোকাবিলা চলত মূলত দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি বা প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে। দুই হাজার বারো সালের আইনে প্রথমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়। এতে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাংগঠনিক কাঠামো ও বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব নির্ধারিত হয়।
এই আইনের ভিত্তিতেই পরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা আর দুই হাজার উনিশ সালে হালনাগাদ স্থায়ী আদেশাবলি প্রণীত হয়। আইনের মূল দর্শন হলো দুর্যোগের পরে ত্রাণ নয়, আগে থেকেই ঝুঁকি কমানো।
পরের বছরগুলোতে নীতিমালা ও পরিকল্পনা আসায় অনেকে পরের সাল বেছে নেন। মনে রাখুন, আইনটি দুই হাজার বারোর, বাকিগুলো তার ভিত্তিতে তৈরি।
মনে রাখুন: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২; স্থায়ী আদেশাবলির সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৯।
২৫. বাংলাদেশে কোন নদী কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসালদা
- খহালদা
- গপদ্মা
- ঘকুমার
সঠিক উত্তর: খ. হালদা
প্রশ্নটি কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস জানতে চেয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামের হালদা নদী।
হালদা রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। চৈত্র থেকে আষাঢ়ের মধ্যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল নামলে মা মাছ ডিম ছাড়ে; ডিম ছাড়ার এই অনুকূল সময়কে স্থানীয়রা জো বলে। জেলেরা নৌকা থেকে সরাসরি এই নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে রেণু ফোটায়।
পৃথিবীতে খুব কম নদী আছে যেখান থেকে এভাবে সরাসরি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা যায়, তাই হালদা দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য ঐতিহ্য। এর বাঁকা গতিপথ, ঘোলা স্রোত আর পাহাড়ি ছড়ার পানি এই প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
সালদা নামটি হালদার সঙ্গে প্রায় মিলে যায়, তাই এটিই প্রধান ফাঁদ। পদ্মাও ভুল টানে, কারণ এটি বড় নদী; কিন্তু নিষিক্ত ডিমের প্রধান প্রাকৃতিক উৎস হালদা।
মনে রাখুন: রুই-কাতলার ডিম মানেই হালদা; ইলিশ মানেই পদ্মা-মেঘনা।
২৬. ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এ কয়টি ভৌগোলিক হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক৬
- খ৭
- গ৮
- ঘ৯
সঠিক উত্তর: ক. ৬
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ হলো পানি, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একশো বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় তৈরি এই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি অনুমোদন করে।
পরিকল্পনায় একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে একসঙ্গে ধরে মোট ৬টি হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।
হটস্পটগুলো হলো: উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নদী অঞ্চল ও মোহনা, এবং নগরাঞ্চল।
প্রতিটি হটস্পটের সমস্যা আলাদা; যেমন উপকূলে লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাস, বরেন্দ্রে খরা, হাওরে আকস্মিক বন্যা। এভাবে ভৌগোলিক ছবিটা মনে রাখলে সংখ্যা ৬ ভুলবেন না।
মনে রাখুন: উপকূল, বরেন্দ্র, হাওর, পাহাড়, নদী, নগর: ছয় শব্দে ছয় হটস্পট।
২৭. বাংলাদেশের নবীনতম নদী কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কপদ্মা
- খযমুনা
- গজিঞ্জিরাম
- ঘমেঘনা
সঠিক উত্তর: খ. যমুনা
প্রশ্নটি বাংলাদেশের নবীনতম নদী জানতে চেয়েছে। উত্তর যমুনা।
যমুনা আসলে ব্রহ্মপুত্রেরই নতুন খাত। আগে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারা জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে পূর্বে মেঘনায় পড়ত। সতেরোশো বিরাশি থেকে সতেরোশো সাতাশি সালের মধ্যে ভূমিকম্প ও প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর মূল প্রবাহ দক্ষিণে সরে নতুন পথে বইতে শুরু করে। সেই নতুন পথটিই যমুনা, বয়স মাত্র আড়াইশো বছরের মতো।
যমুনা বাহাদুরাবাদের কাছ থেকে দক্ষিণে বয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলেছে। নবীন বলে এর খাত এখনো স্থির নয়; চর জাগে, ভাঙে, তাই একে বিনুনি আকৃতির নদী বলে।
পদ্মা ও মেঘনা হাজার হাজার বছরের পুরোনো নদী, তাই নবীনতম হতে পারে না। জিঞ্জিরাম অচেনা নাম বলে কেউ কেউ বেছে নেন, কিন্তু নবীনতম নদী হিসেবে পরিচিত যমুনাই।
মনে রাখুন: নবীনতম নদী যমুনা, কারণ এটি ব্রহ্মপুত্রের মাত্র আড়াইশো বছরের পুরোনো নতুন পথ।
২৮. জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক (Biosafety to the Convention on Biological Diversity) হচ্ছে- (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ককার্টাগেনা প্রটোকল
- খমন্ট্রিল প্রটোকল
- গকিয়াটো প্রটোকল
- ঘপ্যারিস চুক্তি
সঠিক উত্তর: ক. কার্টাগেনা প্রটোকল
প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি নিয়ে। জীববৈচিত্র্য সনদের অধীনে জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি হলো কার্টাগেনা প্রটোকল।
উনিশশো বিরানব্বই সালের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে জীববৈচিত্র্য সনদ স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর অধীনে দুই হাজার সালে কার্টাগেনা প্রটোকল গৃহীত হয় এবং দুই হাজার তিন সালে কার্যকর হয়। এর বিষয় জীবপ্রযুক্তিতে জিন পরিবর্তন করা জীব এক দেশ থেকে আরেক দেশে নেওয়ার সময় মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নামটি এসেছে কলম্বিয়ার কার্টাগেনা শহর থেকে, যেখানে এর আলোচনা চলেছিল। অন্য চুক্তিগুলোর বিষয় আলাদা: মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর রক্ষা, কিয়োটো প্রটোকল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, আর প্যারিস চুক্তি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখা।
কিয়োটো ও প্যারিস দুটোই জলবায়ু সনদের অধীনে, আর মন্ট্রিল ওজোন রক্ষার ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে। বিকল্পগুলোর মধ্যে জীববৈচিত্র্য সনদের অধীনের চুক্তি শুধু কার্টাগেনা।
মনে রাখুন: জৈব নিরাপত্তা মানেই কার্টাগেনা; ওজোন মানে মন্ট্রিল; গ্যাস নির্গমন মানে কিয়োটো।
২৯. 'Friday For Future' কোন ধরনের আন্দোলন? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কধর্মীয় আন্দোলন
- খপরিবেশবাদী আন্দোলন
- গশান্তিবাদী আন্দোলন
- ঘগণতান্ত্রিক আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. পরিবেশবাদী আন্দোলন
প্রশ্নটি একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলনের ধরন জানতে চেয়েছে। প্রশ্নে লেখা ফ্রাইডে ফর ফিউচার, যার সঠিক নাম ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার। এটি একটি পরিবেশবাদী আন্দোলন।
দুই হাজার আঠারো সালের আগস্টে সুইডেনের পনেরো বছরের কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে একা বসে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপের দাবি জানান। পরে তিনি প্রতি শুক্রবার এই স্কুল ধর্মঘট চালিয়ে যান।
সেখান থেকেই নাম এসেছে ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার, মানে ভবিষ্যতের জন্য শুক্রবার। দ্রুত এটি বিশ্বজুড়ে লাখো শিক্ষার্থীর জলবায়ু ধর্মঘটে পরিণত হয়। এর দাবি: জীবাশ্ম জ্বালানি কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে সরকারগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ।
শুক্রবার শব্দটি দেখে অনেকে ধর্মীয় আন্দোলন ভাবেন। কিন্তু শুক্রবার বেছে নেওয়া হয়েছিল শুধু স্কুল ধর্মঘটের দিন হিসেবে।
মনে রাখুন: গ্রেটা থুনবার্গ, স্কুল ধর্মঘট, শুক্রবার: সব মিলিয়ে জলবায়ু আন্দোলন।
৩০. ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে- (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কসকাল ০৯:০০ টা
- খবিকাল ০৩:০০ টা
- গসন্ধ্যা ০৬:০০ টা
- ঘরাত ০৯:০০ টা
সঠিক উত্তর: খ. বিকাল ০৩:০০ টা
প্রশ্নটি দ্রাঘিমা থেকে স্থানীয় সময় বের করার অঙ্ক। উত্তর বিকাল তিনটা।
নিয়মটা হলো, পৃথিবী চব্বিশ ঘণ্টায় তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘোরে। তাই এক ডিগ্রি ঘুরতে লাগে চার মিনিট। দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যকে চার দিয়ে গুণ করলেই সময়ের পার্থক্য মিনিটে পাওয়া যায়।
এখানে পার্থক্য পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি। পঁয়তাল্লিশ গুণ চার হলো একশো আশি মিনিট, মানে তিন ঘণ্টা। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে বলে পূর্বের স্থানে সূর্য আগে ওঠে, তাই সেখানে সময় এগিয়ে থাকে। ঢাকায় দুপুর বারোটা হলে পূর্বের স্থানটিতে বারোটার সঙ্গে তিন ঘণ্টা যোগ করে বিকাল তিনটা।
সকাল নয়টা বিকল্পটি ফাঁদ: এটি আসে তিন ঘণ্টা বিয়োগ করলে, যা পশ্চিমের স্থানের জন্য প্রযোজ্য। মনে রাখুন, পূর্বে যোগ, পশ্চিমে বিয়োগ।
মনে রাখুন: পূর্বে যোগ, পশ্চিমে বিয়োগ; প্রতি ডিগ্রিতে ৪ মিনিট।
৩১. কোন দুটি প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
- খইন্ডিয়ান ও বার্মিজ
- গইন্ডিয়ান ও আফ্রিকান
- ঘবার্মিজ ও ইউরেশিয়ান
সঠিক উত্তর: ক. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
প্রশ্নটি প্লেট টেকটোনিক্স নিয়ে। মাউন্ট এভারেস্ট ইন্ডিয়ান বা ভারতীয় প্লেট আর ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর অবস্থিত।
প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে উত্তর দিকে সরতে থাকা ভারতীয় প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুটোই মহাদেশীয় প্লেট, হালকা বলে কেউ পুরোপুরি নিচে ডুবে যায়নি। ফলে মাঝের সমুদ্রের পলিস্তর ভাঁজ খেয়ে ওপরে উঠে তৈরি হয় হিমালয়, যার সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট।
এভাবে ভাঁজ খেয়ে তৈরি পর্বতকে বলে ভঙ্গিল পর্বত। ভারতীয় প্লেট এখনো উত্তরে ঠেলছে, তাই হিমালয় এখনো একটু একটু করে উঁচু হচ্ছে, আর এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। এভারেস্টের চূড়ায় সামুদ্রিক জীবের জীবাশ্মযুক্ত চুনাপাথর পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে এটি একসময় সমুদ্রের তলায় ছিল।
বার্মিজ প্লেট বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ বাংলাদেশের পূর্ব দিকে ভারতীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগ আছে। কিন্তু সেই সংযোগে তৈরি হয়েছে আরাকান-চট্টগ্রামের পাহাড়, হিমালয় নয়।
মনে রাখুন: হিমালয় বা এভারেস্ট মানেই ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষ।
৩২. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ক্রমহ্রাসমান তাপমাত্রা হল – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক৫.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- খ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- গ৭.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- ঘ৮.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
সঠিক উত্তর: খ. ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
প্রশ্নটি ট্রপোমণ্ডলে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা কমার হার জানতে চেয়েছে। এই হার প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ছয় দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একে স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার বা নরমাল ল্যাপস রেট বলে।
ট্রপোমণ্ডলের বাতাস সূর্য থেকে সরাসরি নয়, প্রধানত নিচের গরম ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ পায়। তাই ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, তাপের উৎস তত দূরে সরে, আর বাতাস পাতলা হয়ে তাপ ধরে রাখতে পারে না। ফলে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে।
উদাহরণ: ভূপৃষ্ঠে তিরিশ ডিগ্রি হলে দশ কিলোমিটার ওপরে তাপমাত্রা হবে তিরিশ থেকে পঁয়ষট্টি বাদ, মানে শূন্যের নিচে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি। এ কারণেই উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বরফ জমে থাকে। ট্রপোমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমা ট্রপোপজ, যেখানে এই কমা থেমে যায়।
সাড়ে পাঁচ ও সাড়ে সাত কাছাকাছি সংখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করা। সংখ্যাটা মনে রাখুন ছয় দশমিক পাঁচ, মোটামুটি প্রতি হাজার মিটারে সাড়ে ছয় ডিগ্রি।
মনে রাখুন: স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার: প্রতি ১ কিমিতে ৬.৫° সে., বা প্রতি ১০০০ ফুটে প্রায় ২° সে.।
৩৩. দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৮) মূল ফোকাস ছিল – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাসকরণ
- খজীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক
- গওজোনস্তর ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক
- ঘমরুকরণ প্রক্রিয়া হ্রাসকরণ
সঠিক উত্তর: ক. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাসকরণ
প্রশ্নটি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ আটাশের মূল বিষয় নিয়ে। মূল ফোকাস ছিল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমানো।
কপ আটাশ হয় দুই হাজার তেইশ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। প্যারিস চুক্তির পর প্রথম গ্লোবাল স্টকটেক বা বৈশ্বিক অগ্রগতি মূল্যায়ন এখানে শেষ হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জ্বালানি ব্যবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়, যা জলবায়ু সম্মেলনের ইতিহাসে প্রথম।
একই সম্মেলনের প্রথম দিনেই লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিল চালু করা হয়, যার সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগের বছর মিশরের শার্ম আল শেখে কপ সাতাশে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা দুই হাজার তিরিশ সালের মধ্যে তিনগুণ করার লক্ষ্যও এখানে আসে।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য চুক্তির বিষয়। জীববৈচিত্র্য দেখে জীববৈচিত্র্য সনদ, ওজোনস্তর দেখে মন্ট্রিল প্রটোকল, আর মরুকরণ দেখে মরুকরণ প্রতিরোধ সনদের কথা ভাবুন।
মনে রাখুন: জলবায়ু সম্মেলনের মূল বিষয় সবসময় নির্গমন ও জ্বালানি; জীববৈচিত্র্য, ওজোন, মরুকরণের আলাদা সনদ।
৩৪. নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ কত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১৮০°
- খ৩৬০°
- গ৯০°
- ঘ০°
সঠিক উত্তর: গ. ৯০°
প্রশ্নটি অক্ষাংশের ধারণা নিয়ে। নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব নব্বই ডিগ্রি।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ হলো পৃথিবীর কেন্দ্রে নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে ওই স্থান যে কোণ তৈরি করে। নিরক্ষরেখার ওপর এই কোণ শূন্য, তাই নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ শূন্য ডিগ্রি।
উত্তর মেরু নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে ঠিক খাড়া, মানে সমকোণে অবস্থিত। তাই কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ নব্বই ডিগ্রি, আর উত্তর মেরুর অক্ষাংশ নব্বই ডিগ্রি উত্তর। একইভাবে দক্ষিণ মেরু নব্বই ডিগ্রি দক্ষিণ।
একশো আশি আর তিনশো ষাট দ্রাঘিমার সংখ্যা, অক্ষাংশের নয়। অক্ষাংশ কখনো নব্বইয়ের বেশি হয় না, কারণ নিরক্ষরেখা থেকে মেরু পর্যন্ত পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ ঘোরা।
মনে রাখুন: অক্ষাংশ ০° থেকে ৯০°, দ্রাঘিমাংশ ০° থেকে ১৮০°।
৩৫. জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিশালাকৃতির ঢেউ
- খসামুদ্রিক ঢেউ
- গজলোচ্ছ্বাস
- ঘপোতাশ্রয়ের ঢেউ
সঠিক উত্তর: ঘ. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
প্রশ্নটি সুনামি শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। জাপানি ভাষায় সুনামি মানে পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
শব্দটি দুই অংশে গঠিত: সু মানে পোতাশ্রয় বা বন্দর, আর নামি মানে ঢেউ। জাপানের জেলেরা গভীর সমুদ্রে কোনো বড় ঢেউ টের পেতেন না, কিন্তু ফিরে এসে দেখতেন বন্দর ধ্বংস হয়ে গেছে। কারণ গভীর সমুদ্রে সুনামির ঢেউ নিচু কিন্তু খুব দ্রুতগামী; উপকূলের অগভীর পানিতে এসে তা হঠাৎ বিশাল উঁচু হয়ে যায়।
সুনামির প্রধান কারণ সমুদ্রতলের ভূমিকম্প, এ ছাড়া সমুদ্রের নিচের ভূমিধস বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতেও হতে পারে। দুই হাজার চার সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণগুলোর একটি।
বিশালাকৃতির ঢেউ বা জলোচ্ছ্বাস সুনামির বৈশিষ্ট্য বোঝায়, শব্দের অর্থ নয়, তাই এগুলো ফাঁদ। জলোচ্ছ্বাস আসলে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসে তৈরি আলাদা ঘটনা।
মনে রাখুন: সু মানে বন্দর, নামি মানে ঢেউ: বন্দরে এসে ঢেউটি ভয়ংকর হয়।
৩৬. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমরুকরণ
- খবন্যা
- গসমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
- ঘভূমিকম্প
সঠিক উত্তর: ঘ. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি নয়। উত্তর ভূমিকম্প।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো গ্রিনহাউস গ্যাস বেড়ে বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। এর প্রভাব পড়ে আবহাওয়া, পানিচক্র ও বরফের ওপর: হিমবাহ ও মেরুর বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে, বৃষ্টির ধরন বদলে কোথাও বন্যা আর কোথাও খরা ও মরুকরণ বাড়ে।
ভূমিকম্প হয় পৃথিবীর ভেতরের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায়, ভূগর্ভের শিলায় চাপ জমে হঠাৎ মুক্ত হলে। এর উৎস কয়েক কিলোমিটার থেকে শত কিলোমিটার গভীরে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
মরুকরণ অনেকে উষ্ণায়নের সঙ্গে মেলান না, তাই এটি বিভ্রান্ত করে। কিন্তু তাপ বাড়লে মাটির পানি বাষ্প হয়ে যায় আর খরা দীর্ঘ হয়, তাই মরুকরণও উষ্ণায়নের ঝুঁকি।
মনে রাখুন: আকাশ ও পানির দুর্যোগ উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত; মাটির নিচের দুর্যোগ নয়।
৩৭. বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কনদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
- খনদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
- গনদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
- ঘবন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা
সঠিক উত্তর: ক. নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
প্রশ্নটা বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলোর শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে। সাধারণত দুই ভাগ: কাঠামোগত ব্যবস্থা, যেমন বাঁধ, নদী খনন, নদী শাসন; আর অকাঠামোগত ব্যবস্থা, যেমন পূর্বাভাস, সতর্কীকরণ, বনায়ন।
প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী নদী খনন বড় আকারের ব্যয়বহুল প্রকৌশল প্রকল্প, যা নিয়মিত ব্যবস্থাপনার অংশ নয়; তাই একে সাধারণ ব্যবস্থাপনার বাইরে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে নদী শাসন, দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি, আর পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়মিত ব্যবস্থাপনার কাজ হিসেবে ধরা হয়। বনাঞ্চল পানির প্রবাহ ধীর করে ও ভাঙন কমায়, আর পূর্বাভাস মানুষকে আগেই সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
সতর্ক থাকুন: প্রশ্নটি বিতর্কিত, কারণ নদী খননকেও সাধারণত বন্যা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচলিত ব্যবস্থা হিসেবেই ধরা হয়। পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর নদী খনন, তাই সেটাই মনে রাখুন।
৩৮. নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভূমিকম্প
- খভূমিধস
- গসুনামি
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: ঘ. খরা
প্রশ্নটা প্রাকৃতিক আপদের শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। আপদকে উৎস অনুযায়ী ভাগ করা হয়: পৃথিবীর ভিতরের শক্তি থেকে ভূতাত্ত্বিক আপদ, আর আবহাওয়া ও জলবায়ু থেকে আবহাওয়াজনিত আপদ।
খরা হয় দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি আর বেশি তাপমাত্রার কারণে। এর সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে ফসল ও কৃষির উপর, তাই খরাকে কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ বলা হয়।
ভূমিকম্প আর সুনামির উৎস ভূত্বকের নড়াচড়া, তাই এগুলো ভূতাত্ত্বিক আপদ। ভূমিধস হয় ঢালের মাটি ও পাথর ধসে পড়ে; ভারী বৃষ্টি একে উসকে দিলেও এটি মূলত ভূমিরূপ ও মাটির অবস্থাজনিত আপদ।
ফাঁদ হলো ভূমিধস, কারণ বর্ষায় বেশি হয় বলে একে আবহাওয়ার আপদ মনে হয়। কিন্তু বৃষ্টি এখানে কেবল ট্রিগার; কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আবহাওয়াজনিত আপদ হলো খরা।
মনে রাখুন: ‘কৃষি’ আর ‘আবহাওয়া’ দুটো শব্দ একসাথে দেখলেই বৃষ্টির অভাবের আপদ, মানে খরা।
৩৯. বাংলাদেশের কয়টি জেলার সাথে 'সুন্দরবন' সংযুক্ত আছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৪ (চার) টি
- খ৫ (পাঁচ) টি
- গ৬ (ছয়) টি
- ঘ৭ (সাত) টি
সঠিক উত্তর: খ. ৫ (পাঁচ) টি
প্রশ্নটি সুন্দরবনের বিস্তার নিয়ে। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার সঙ্গে সুন্দরবন যুক্ত।
সুন্দরবনের মূল বনভূমি খুলনা বিভাগের তিন জেলায়: পশ্চিমে সাতক্ষীরা, মাঝে খুলনা আর পূর্বে বাগেরহাট। এর পূর্ব দিকে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় দুটি জেলাও সুন্দরবনের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা হয়, তাই মোট সংখ্যা পাঁচ।
এই দুটি জেলার নাম নিয়ে সূত্রে একটু ভিন্নতা আছে। গাইড বইগুলো সাধারণত বরগুনা ও পটুয়াখালী লেখে, আর সুন্দরবন দিবসের প্রতিবেদনে প্রভাব-এলাকা হিসেবে বরগুনা ও পিরোজপুরের নাম আসে। তবে দুই হিসাবেই মোট জেলা পাঁচটি।
সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন, যার প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। উনিশশো সাতানব্বই সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
চার বিকল্পটি ফাঁদ হতে পারে, কারণ অনেকে শুধু খুলনা বিভাগের জেলাগুলো গোনেন। কিন্তু বরিশাল বিভাগের উপকূলের জেলাগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত।
মনে রাখুন: তিনটি খুলনা বিভাগের আর দুটি বরিশাল বিভাগের: মোট পাঁচ।
৪০. কোন এলাকাকে 'Marine Protected Area (MPA)' ঘোষণা করা হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসেন্টমার্টিন
- খসেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
- গপটুয়াখালী ও বরগুনা
- ঘহিরন পয়েন্ট
সঠিক উত্তর: খ. সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
প্রশ্নটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা নিয়ে। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং এর আশেপাশের এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়।
মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া মানে সমুদ্রের এমন এলাকা, যেখানে মাছ ধরা, খনন বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হয়। সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও নানা মাছ বাঁচাতে শুধু দ্বীপ নয়, এর চারপাশের প্রায় এক হাজার সাতশো তেতাল্লিশ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা সুরক্ষার আওতায় আনা হয়।
এর আগে, দুই হাজার চোদ্দ সালে, দেশের প্রথম সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত হয় সুন্দরবনের দক্ষিণের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। তাই প্রথম আর দ্বিতীয়টি আলাদা করে মনে রাখুন।
শুধু সেন্টমার্টিন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ঘোষণাটি দ্বীপের সঙ্গে চারপাশের সমুদ্রকেও ধরেছে, তাই সম্পূর্ণ উত্তর হলো সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা।
মনে রাখুন: সেন্ট মার্টিনের ঘোষণায় দ্বীপের সঙ্গে চারপাশের সমুদ্রও আছে; শুধু দ্বীপ বললে উত্তর অসম্পূর্ণ।