সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৬
১০১. Which blood group is called universal donor? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কAB Positive
- খA Positive
- গB Negative
- ঘO Negative
সঠিক উত্তর: ঘ. O Negative
রক্তের গ্রুপ ঠিক হয় লোহিত কণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন দিয়ে: এ, বি আর আরএইচ বা ডি অ্যান্টিজেন। গ্রহীতার শরীর যে অ্যান্টিজেন চেনে না, সেটি পেলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।
ও নেগেটিভ রক্তের লোহিত কণিকায় এ, বি বা আরএইচ, কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না। তাই এটি প্রায় যেকোনো গ্রহীতাকে দেওয়া যায়; এজন্য ও নেগেটিভকে সর্বজনীন দাতা বলে। জরুরি অবস্থায় গ্রুপ জানার আগেই এই রক্ত দেওয়া হয়।
উল্টো দিকে এবি পজিটিভের গায়ে সব অ্যান্টিজেন থাকে এবং প্লাজমায় কোনো এ বা বি অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই এটি সর্বজনীন গ্রহীতা। দাতা আর গ্রহীতা গুলিয়ে ফেলাই এখানে সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: অ্যান্টিজেন শূন্য, তাই দানে পূর্ণ: O নেগেটিভ দাতা; সব অ্যান্টিজেন, তাই গ্রহণে পূর্ণ: AB পজিটিভ গ্রহীতা।
১০২. The smallest bone in the human body is found in the - (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কEars
- খFeet
- গFingers
- ঘKnees
সঠিক উত্তর: ক. Ears
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস, বাংলায় একে রেকাব অস্থিও বলে। এটি থাকে কানের মধ্যকর্ণে, লম্বায় মাত্র প্রায় ৩ মিলিমিটার।
মধ্যকর্ণে তিনটি ছোট হাড় পরপর যুক্ত থাকে: ম্যালিয়াস বা মুগুর, ইনকাস বা নেহাই, আর স্টেপিস বা রেকাব। কানের পর্দার কম্পন এই তিন হাড় হয়ে অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়, তাই আমরা শুনতে পাই।
উল্টো প্রশ্নও আসে: সবচেয়ে বড় ও লম্বা হাড় ফিমার, যা উরুতে থাকে। আঙুল আর পায়ের হাড়গুলো ছোট হলেও স্টেপিসের চেয়ে অনেক বড়, আর হাঁটুর মালাইচাকি বেশ বড় হাড়।
মনে রাখুন: সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস (কানে), সবচেয়ে বড় ফিমার (উরুতে)।
১০৩. ______can suppress the inflammatory Cytokine storm and plays a role in patient management. (সমন্বিত ৭ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কPotassium
- খVitamin - D
- গSodium
- ঘVitamin-C
সঠিক উত্তর: খ. Vitamin - D
সাইটোকাইন হলো রোগ প্রতিরোধ কোষ থেকে নিঃসৃত ছোট প্রোটিন, যা প্রদাহের সংকেত দেয়। কোভিড উনিশের মতো সংক্রমণে কখনো এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসৃত হয়, তখন শরীরের নিজের কোষ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে বলে সাইটোকাইন স্টর্ম বা সাইটোকাইন ঝড়।
ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি প্রদাহ বাড়ানো সাইটোকাইনের নিঃসরণ কমাতে এবং প্রদাহ কমানো সাইটোকাইন বাড়াতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাই কোভিড রোগীর ব্যবস্থাপনায় ভিটামিন ডির ভূমিকা নিয়ে তখন অনেক আলোচনা হয়েছিল।
ভিটামিন ডি সূর্যালোকের সাহায্যে ত্বকে তৈরি হয়, আর হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণেও এটি দরকার। এর অভাবে শিশুদের রিকেটস হয়।
ফাঁদ ভিটামিন সি। এটিও রোগ প্রতিরোধে পরিচিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কিন্তু সাইটোকাইন ঝড় দমন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রশ্নের আলোচনাটা ভিটামিন ডি নিয়ে।
মনে রাখুন: ‘Cytokine storm’ আর ‘immune modulation’ দেখলে ভিটামিন ডি।
১০৪. Den-3 is variant of- (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২১)
- কCOVID-19
- খDengue
- গMalaria
- ঘChikungunya
সঠিক উত্তর: খ. Dengue
Den-3 বা DENV-3 হলো ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি সেরোটাইপ বা ধরন। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ আছে: ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪।
এক ধরনে আক্রান্ত হলে শুধু সেই ধরনের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ তৈরি হয়। পরে অন্য ধরনে আক্রান্ত হলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন মারাত্মক ডেঙ্গু, যেমন হেমোরেজিক ডেঙ্গু বা শক সিনড্রোম হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
২০২১ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ডেন-৩ ধরনটি প্রধান হিসেবে পাওয়া যায়, তাই পরীক্ষার সময় এটি খবরে ছিল। ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা।
কোভিড-১৯ এর ধরনগুলোর নাম গ্রিক অক্ষরে, যেমন ডেল্টা, ওমিক্রন। ম্যালেরিয়া ভাইরাস নয়, প্লাজমোডিয়াম পরজীবী। চিকুনগুনিয়া ভাইরাস হলেও এর ধরন ডেন নামে ডাকা হয় না।
মনে রাখুন: DEN শব্দটাই DENgue-এর প্রথম তিন অক্ষর।
১০৫. The planet that moves round the Sun at the highest speed is- (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কVenus
- খMercury
- গJupiter
- ঘNeptune
সঠিক উত্তর: খ. Mercury
প্রশ্নটা সূর্যের চারদিকে কোন গ্রহ সবচেয়ে দ্রুত ঘোরে তা নিয়ে। উত্তর বুধ, ইংরেজিতে Mercury।
কারণ কেপলারের নিয়ম আর মহাকর্ষ: সূর্যের যত কাছে, মহাকর্ষের টান তত বেশি, তাই কক্ষপথে টিকে থাকতে গ্রহকে তত দ্রুত চলতে হয়। বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ, তার গড় কক্ষীয় বেগ প্রায় সেকেন্ডে ৪৭ কিলোমিটার, আর এক বছর মাত্র ৮৮ দিনে।
দূরে গেলে বেগ কমে: শুক্র সেকেন্ডে প্রায় ৩৫, পৃথিবী প্রায় ৩০, বৃহস্পতি প্রায় ১৩, আর নেপচুন মাত্র প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার।
ফাঁদ হলো বৃহস্পতি: সবচেয়ে বড় গ্রহ আর নিজ অক্ষে সবচেয়ে দ্রুত ঘোরে, তাই দিন সবচেয়ে ছোট। কিন্তু প্রশ্ন সূর্যের চারদিকে ঘোরার গতি নিয়ে, নিজ অক্ষে ঘোরা নয়।
মনে রাখুন: কক্ষপথে দ্রুততম বুধ, ধীরতম নেপচুন; নিজ অক্ষে দ্রুততম বৃহস্পতি।
১০৬. Who discovered the blood circulation process of the human body? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২১)
- কKarl Landsteiner
- খJan Swammerdam
- গGiulio Bizzozero
- ঘWilliam Harvey
সঠিক উত্তর: ঘ. William Harvey
মানবদেহে রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে। তিনি ১৬২৮ সালে প্রকাশিত বইয়ে দেখান যে হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো কাজ করে আর রক্ত দেহে বৃত্তাকারে বারবার ঘোরে।
এর আগে মনে করা হতো রক্ত যকৃতে তৈরি হয়ে দেহে খরচ হয়ে যায়। হার্ভে হিসাব করে দেখান, হৃৎপিণ্ড যত রক্ত পাম্প করে তা প্রতিবার নতুন করে তৈরি হওয়া অসম্ভব, তাই একই রক্ত ঘুরে ফিরে আসে।
অন্য বিকল্পগুলোর অবদান আলাদা: কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার রক্তের গ্রুপ, মানে এ বি ও পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ইয়ান সোয়ামারড্যাম লোহিত রক্তকণিকা প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন, আর জুলিও বিজোজেরো অণুচক্রিকা শনাক্ত করেন।
মনে রাখুন: হার্ভে = হার্ট: হৃৎপিণ্ড থেকে রক্তের চক্র।
১০৭. Celsius and Fahrenheit scale show same reading at........ temperature. (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- ক-40
- খ40
- গ32
- ঘ-32
সঠিক উত্তর: ক. -40
সেলসিয়াস আর ফারেনহাইটের সম্পর্ক হলো C ভাগ ৫ সমান F বিয়োগ ৩২, ভাগ ৯। দুই স্কেলে একই পাঠ মানে C আর F সমান, তাই দুটোকেই x ধরি।
তাহলে x ভাগ ৫ সমান x বিয়োগ ৩২, ভাগ ৯। আড়াআড়ি গুণ করলে ৯x সমান ৫x বিয়োগ ১৬০, অর্থাৎ ৪x সমান মাইনাস ১৬০, তাই x সমান মাইনাস ৪০।
যাচাই: মাইনাস ৪০ সেলসিয়াসকে ৯ ভাগ ৫ দিয়ে গুণ করে ৩২ যোগ করলে মাইনাস ৭২ যোগ ৩২, মানে মাইনাস ৪০ ফারেনহাইট।
ফাঁদ হলো ধনাত্মক ৪০ বেছে নেওয়া; ৪০ সেলসিয়াস আসলে ১০৪ ফারেনহাইট। আবার ৩২ হলো পানির হিমাঙ্ক ফারেনহাইটে, যা সেলসিয়াসে শূন্য।
মনে রাখুন: −৪০ মুখস্থ রাখুন: সেলসিয়াস আর ফারেনহাইট মেলে একমাত্র −৪০ ডিগ্রিতে।
১০৮. The word "Mycology' is related to- (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: সিনিয়র অফিসার, ২০২১)
- কmitochondria
- খmushroom
- গmutation
- ঘmeteorology
সঠিক উত্তর: খ. mushroom
Mycology শব্দটি গ্রিক mykes, মানে ছত্রাক বা মাশরুম, আর logy, মানে বিদ্যা, থেকে এসেছে। তাই মাইকোলজি হলো ছত্রাকবিদ্যা।
মাশরুম, ইস্ট, ছাতা পড়া বা মোল্ড, সবই ছত্রাক। মাইকোলজিতে এদের গঠন, প্রজনন, রোগ সৃষ্টি আর খাদ্য ও ওষুধে ব্যবহার পড়ানো হয়; যেমন পেনিসিলিন ছত্রাক থেকে পাওয়া।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন বিদ্যার বিষয়: মাইটোকন্ড্রিয়া কোষবিদ্যার, মিউটেশন জেনেটিক্সের, আর আবহাওয়া বিষয়ক বিদ্যা হলো মিটিওরোলজি।
সবগুলো বিকল্প m দিয়ে শুরু, এটাই ফাঁদ; শব্দমূল myco মানে ছত্রাক, এটা মনে রাখলেই হয়।
মনে রাখুন: Myco = ছত্রাক; Phyco = শৈবাল; Bryo = মস; Ptero = ফার্ন।
১০৯. গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ককার্বন
- খকার্বন ও অক্সিজেন
- গকার্বন ও হাইড্রোজেন
- ঘকার্বন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর: ক. কার্বন
প্রশ্নটি রূপভেদ বা বহুরূপতা নিয়ে। গ্রাফিন কার্বনের একটি রূপভেদ।
একই মৌলের পরমাণু ভিন্নভাবে সাজিয়ে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ তৈরি হলে তাকে রূপভেদ বলে। কার্বনের পরিচিত রূপভেদ হলো হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন ও গ্রাফিন। এদের সবকটিতে শুধু কার্বন পরমাণু আছে, পার্থক্য কেবল সাজানোর ধরনে।
গ্রাফিন হলো কার্বন পরমাণুর মাত্র এক পরমাণু পুরু একটি স্তর, যেখানে পরমাণুগুলো মৌচাকের মতো ষড়ভুজে সাজানো। গ্রাফাইট আসলে অসংখ্য গ্রাফিন স্তর একটার ওপর আরেকটা জমে তৈরি। দুই হাজার চার সালে আন্দ্রে গেইম ও কনস্তানতিন নভোসেলভ গ্রাফিন আলাদা করেন এবং দুই হাজার দশ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
রূপভেদ সবসময় একটি মাত্র মৌলের হয়। তাই কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন বা নাইট্রোজেন থাকা বিকল্পগুলো যৌগ বোঝায়, রূপভেদ নয়।
মনে রাখুন: রূপভেদের প্রশ্নে দুই মৌলের নাম থাকলে সেটা বাদ, কারণ রূপভেদ এক মৌলের।
১১০. আইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পান- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
- খমহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
- গকৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
- ঘআলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
সঠিক উত্তর: ঘ. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
প্রশ্নটি আইনস্টাইনের নোবেল পুরস্কারের কারণ জানতে চেয়েছে। তিনি নোবেল পান আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার সূত্র আবিষ্কারের জন্য, আপেক্ষিক তত্ত্বের জন্য নয়।
আলোক তড়িৎ ক্রিয়া হলো ধাতুর ওপর আলো পড়লে ইলেকট্রন বেরিয়ে আসার ঘটনা। উনিশশো পাঁচ সালে আইনস্টাইন ব্যাখ্যা দেন, আলো ছোট ছোট শক্তির কণা বা ফোটন হিসেবে আসে, আর প্রতিটি ফোটনের শক্তি আলোর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। তাই নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের নিচে আলো যত তীব্রই হোক, ইলেকট্রন বের হয় না।
এই কাজের জন্য তাঁকে উনিশশো একুশ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়, যা প্রদান করা হয় পরের বছর। এই ধারণা পরে কোয়ান্টাম তত্ত্বের অন্যতম ভিত্তি হয়, আর আলোক তড়িৎ কোষ বা ফটোসেল এই নীতিতে কাজ করে।
আপেক্ষিক তত্ত্ব তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ, তাই সেটাই বেছে নেওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভুল। ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক থাকায় নোবেলের উদ্ধৃতিতে সেটি রাখা হয়নি।
মনে রাখুন: আইনস্টাইনের নোবেল = ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট, সাল ১৯২১।
১১১. কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কপুকুরের পানিতে
- খলেকের পানিতে
- গনদীর পানিতে
- ঘসাগরের পানিতে
সঠিক উত্তর: গ. নদীর পানিতে
প্রশ্নটি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন নিয়ে। দেওয়া চারটির মধ্যে নদীর পানিতে অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে।
পানিতে অক্সিজেন ঢোকে মূলত বাতাস থেকে, পানির উপরিতল দিয়ে। নদীর পানি সবসময় বয়ে চলে, স্রোত ও ঘূর্ণিতে পানি ওলটপালট হয়, নতুন পানি বারবার বাতাসের সংস্পর্শে আসে। ফলে নদীর পানি বাতাস থেকে বেশি অক্সিজেন টেনে নিতে পারে।
পুকুর ও লেকের পানি প্রায় স্থির, মেশামেশি কম। তার ওপর পচা পাতা ও জৈব পদার্থ ভাঙতে জীবাণু অক্সিজেন খরচ করে, তাই নিচের স্তরে অক্সিজেন কমে যায়। সাগরের পানিতে লবণ বেশি; লবণ যত বেশি, পানিতে অক্সিজেন তত কম দ্রবীভূত হতে পারে।
সাগরের ঢেউ দেখে অনেকে সেটা বেছে নেন। কিন্তু লবণাক্ততার কারণে একই তাপমাত্রায় সমুদ্রের পানি মিঠা পানির চেয়ে কম অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।
মনে রাখুন: পানি যত চলমান ও মিঠা, অক্সিজেন তত বেশি।
১১২. হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভেইন
- খআর্টারি
- গক্যাপিলারি
- ঘনার্ভ
সঠিক উত্তর: খ. আর্টারি
প্রশ্নটি রক্তনালির ধরন নিয়ে। হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহে নিয়ে যায় আর্টারি বা ধমনি।
হৃৎপিণ্ডের নিলয় সংকুচিত হলে প্রবল চাপে রক্ত ধমনিতে ঢোকে। তাই ধমনির প্রাচীর পুরু, পেশিবহুল ও স্থিতিস্থাপক, যাতে এই চাপ সহ্য করতে পারে। কবজিতে যে নাড়ির স্পন্দন পাওয়া যায়, সেটাও ধমনির।
ধমনি ভাগ হতে হতে সূক্ষ্ম কৈশিকনালিতে পরিণত হয়, যেখানে কোষের সঙ্গে অক্সিজেন, খাদ্য ও বর্জ্যের বিনিময় হয়। এরপর শিরা বা ভেইন রক্ত আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে; শিরায় চাপ কম, তাই উল্টো প্রবাহ ঠেকাতে কপাটিকা থাকে।
মনে রাখুন, ধমনি মানে সবসময় বিশুদ্ধ রক্ত নয়, বরং হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে যাওয়া রক্ত। যেমন ফুসফুসীয় ধমনি দূষিত রক্ত ফুসফুসে নেয়। নার্ভ বা স্নায়ু রক্তনালিই নয়।
মনে রাখুন: ধমনি দূরে নেয়, শিরা ফিরিয়ে আনে; রক্ত বিশুদ্ধ কি না সেটা মাপকাঠি নয়।
১১৩. প্রোটিন তৈরি হয়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
- খনিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
- গঅ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে
প্রশ্নটি প্রোটিনের গঠন একক জানতে চেয়েছে। প্রোটিন তৈরি হয় অ্যামিনো এসিড দিয়ে।
অ্যামিনো এসিডের অণুতে একটি অ্যামিনো গ্রুপ আর একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। একটির অ্যামিনো গ্রুপ পাশেরটির কার্বক্সিল গ্রুপের সঙ্গে এক অণু পানি বের করে জোড়া লাগে; এই সংযোগকে বলে পেপটাইড বন্ধন। এভাবে শত শত অ্যামিনো এসিড শিকলের মতো জুড়ে পলিপেপটাইড তৈরি হয়, যা ভাঁজ হয়ে প্রোটিনের আকার নেয়।
মানবদেহের প্রোটিনে মূলত বিশ ধরনের অ্যামিনো এসিড থাকে। এদের ক্রম ভিন্ন হলেই প্রোটিন ভিন্ন হয়, যেমন হিমোগ্লোবিন, ইনসুলিন বা চুলের কেরাটিন।
নিউক্লিক এসিড বিকল্পটি ফাঁদ। ডিএনএ প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে, কিন্তু প্রোটিনের ইট হলো অ্যামিনো এসিড। ফ্যাটি এসিড দিয়ে তৈরি হয় চর্বি।
মনে রাখুন: বড় অণু আর তার একক: প্রোটিন-অ্যামিনো এসিড, শ্বেতসার-গ্লুকোজ, চর্বি-ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল।
১১৪. কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কগ্লিসারিন
- খফিটকিরি
- গসোডিয়াম ক্লোরাইড
- ঘক্যালসিয়াম কার্বোনেট
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
প্রশ্নটি দ্রাব্যতা নিয়ে। দেওয়া চারটির মধ্যে পানিতে দ্রবীভূত হয় না ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট হলো চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক, ঝিনুক ও ডিমের খোসার মূল উপাদান। এর আয়নগুলো এত শক্তভাবে কেলাসে আটকে থাকে যে পানির অণু তাদের আলাদা করতে পারে না, তাই সাধারণ পানিতে এটি প্রায় অদ্রবণীয়। এজন্যই মার্বেলের মেঝে বা ঝিনুক পানিতে গলে যায় না।
তবে কার্বন ডাই-অক্সাইড মেশানো পানিতে এটি ধীরে ধীরে দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেটে পরিণত হয়। এভাবেই চুনাপাথরের গুহা তৈরি হয়, আর পানিতে অস্থায়ী খরতা আসে।
বাকি তিনটি পানিতে ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়। গ্লিসারিন যেকোনো অনুপাতে পানির সঙ্গে মেশে, ফিটকিরি পানি পরিষ্কারে ব্যবহার হয় দ্রবীভূত হয়েই, আর খাবার লবণ তো প্রতিদিনই আমরা পানিতে গলাই।
মনে রাখুন: পাথর আর খোসার উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বোনেট; পানিতে গললে তো পাথর টিকত না।
১১৫. মানবদেহে লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৭ দিন
- খ৩০ দিন
- গ১৮০ দিন
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের কোনটিই নয়
প্রশ্নটি লোহিত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল জানতে চেয়েছে। এর গড় আয়ু প্রায় একশো বিশ দিন, যা কোনো বিকল্পে নেই; তাই উত্তর উপরের কোনটিই নয়।
লোহিত কণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায়। পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এরা নিজেদের মেরামত বা বিভাজন করতে পারে না। সরু কৈশিকনালি দিয়ে বারবার চাপাচাপি করে যেতে যেতে প্রায় চার মাসে এরা দুর্বল হয়ে পড়ে।
পুরোনো কণিকাগুলো প্রধানত প্লীহায় ধ্বংস হয়, তাই প্লীহাকে লোহিত কণিকার কবরস্থান বলা হয়। এদের হিমোগ্লোবিনের লোহা আবার নতুন কণিকা তৈরিতে কাজে লাগে।
সাত দিন বিকল্পটি ফাঁদ হতে পারে, কারণ অণুচক্রিকার আয়ু মোটামুটি সাত থেকে দশ দিন। তিনটি বিকল্পই ভুল হলে উপরের কোনটিই নয় বেছে নিতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখুন: লোহিত কণিকা ১২০ দিন, অণুচক্রিকা ৭ থেকে ১০ দিন।
১১৬. নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কCOD > BOD
- খCOD < BOD
- গCOD = BOD
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. COD > BOD
প্রশ্নটি পানি দূষণের দুটি মাপকাঠি নিয়ে। নদীর পানিসহ প্রায় সব প্রাকৃতিক পানিতে সিওডি বিওডির চেয়ে বেশি হয়।
বিওডি মানে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা: পানির জৈব পদার্থ ভাঙতে জীবাণুরা কতটা অক্সিজেন খরচ করে, সাধারণত বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পাঁচ দিন রেখে মাপা হয়। জীবাণু শুধু সেই অংশই ভাঙতে পারে যা জৈবভাবে ভাঙনযোগ্য।
সিওডি মানে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা: পটাশিয়াম ডাইক্রোমেটের মতো শক্তিশালী জারক দিয়ে জারণযোগ্য প্রায় সব পদার্থকেই জারিত করা হয়, জীবাণু ভাঙতে পারুক বা না পারুক। ফলে সিওডি মোট জারণযোগ্য অংশ মাপে, আর বিওডি তার একটা অংশ মাত্র।
অংশ সাধারণত পুরোটার চেয়ে বড় হতে পারে না, তাই নদীর পানিতে সিওডি সমান বিওডি বা সিওডি বিওডির চেয়ে কম, কোনোটাই প্রত্যাশিত নয়।
মনে রাখুন: বিওডি সিওডির ভেতরের অংশ, তাই সিওডি বড়।
১১৭. পাথফাইন্ডার-এর মঙ্গলে অবতরণ সাল- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯৫
- গ১৯৯৭
- ঘ২০০০
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯৭
প্রশ্নটি মঙ্গল অভিযানের সাল নিয়ে। নাসার মার্স পাথফাইন্ডার মঙ্গলে অবতরণ করে উনিশশো সাতানব্বই সালের চার জুলাই।
পাথফাইন্ডার উৎক্ষেপণ করা হয় উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের ডিসেম্বরে, প্রায় সাত মাস পর মঙ্গলে পৌঁছায়। এটি বিশাল বায়ুভর্তি বেলুনের আবরণে মুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে মাটিতে নামে, যা ছিল নতুন ধরনের অবতরণ কৌশল।
এর সঙ্গে ছিল সোজার্নার নামের ছোট রোভার, যা মঙ্গলের মাটিতে সফলভাবে চলা প্রথম রোভার। এর আগে উনিশশো ছিয়াত্তর সালে ভাইকিং-এক মঙ্গলে নেমেছিল, তবে সেটি স্থির ছিল। পরে দুই হাজার চার সালে স্পিরিট ও অপরচুনিটি, দুই হাজার বারো সালে কিউরিওসিটি নামে।
উৎক্ষেপণের সাল আর অবতরণের সাল আলাদা, তাই প্রশ্নে অবতরণ চাওয়া হয়েছে কি না খেয়াল রাখুন।
মনে রাখুন: মঙ্গলের প্রথম রোভার সোজার্নার, এসেছিল পাথফাইন্ডারে, ১৯৯৭ সালে।
১১৮. কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কক্লোরোপিক্রিন
- খমিথেন
- গনাইট্রোজেন
- ঘইথেন
সঠিক উত্তর: ক. ক্লোরোপিক্রিন
প্রশ্নটি কাঁদুনে গ্যাস নিয়ে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে কাঁদুনে গ্যাস হিসেবে পরিচিত ক্লোরোপিক্রিন।
ক্লোরোপিক্রিন হলো ট্রাইক্লোরোনাইট্রোমিথেন, একটি কার্বনের সঙ্গে তিনটি ক্লোরিন ও একটি নাইট্রো গ্রুপ যুক্ত যৌগ। এটি চোখ ও নাকের সংবেদী স্নায়ুকে তীব্রভাবে উত্তেজিত করে, ফলে চোখ জ্বলে আর অনবরত পানি পড়ে; এ ধরনের পদার্থকে অশ্রু উদ্রেককারী বলে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্লোরোপিক্রিন কাঁদুনে ও বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এখন এটি প্রধানত মাটি শোধনের কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়। আধুনিক পুলিশ সাধারণত সিএস গ্যাস ব্যবহার করে, তবে পাঠ্যবইয়ে কাঁদুনে গ্যাসের উদাহরণ হিসেবে ক্লোরোপিক্রিনই আসে।
মিথেন, নাইট্রোজেন ও ইথেন চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে না; এগুলো বর্ণহীন, প্রায় গন্ধহীন গ্যাস।
মনে রাখুন: কাঁদুনে গ্যাস ক্লোরোপিক্রিন, হাসির গ্যাস নাইট্রাস অক্সাইড।
১১৯. আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কদূরত্ব
- খসময়
- গভর
- ঘওজন
সঠিক উত্তর: ক. দূরত্ব
প্রশ্নটি আলোকবর্ষের মানে জানতে চেয়েছে। আলোকবর্ষ দূরত্বের একক, সময়ের নয়।
আলোকবর্ষ হলো আলো শূন্য মাধ্যমে এক বছরে যতটা পথ যায়। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার চলে, আর এক বছরে প্রায় তিন কোটি পনেরো লক্ষ সেকেন্ড। দুটো গুণ করলে এক আলোকবর্ষ দাঁড়ায় প্রায় ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি কিলোমিটার।
নক্ষত্র আর ছায়াপথের দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটারে লিখলে সংখ্যা অসম্ভব বড় হয়ে যায়; তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানে আলোকবর্ষ ব্যবহার হয়। যেমন সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টাউরি প্রায় চার দশমিক দুই আলোকবর্ষ দূরে। আরও বড় একক পারসেক, যা প্রায় তিন দশমিক দুই ছয় আলোকবর্ষ।
নামে বর্ষ শব্দটা থাকায় অনেকে একে সময় ভেবে ফেলেন; এটাই এই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: বেগ গুণ সময় = দূরত্ব; আলোর বেগ গুণ এক বছর, তাই দূরত্ব।
১২০. সূর্যের নিকটতম নক্ষত্রের নাম- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কভেলা
- খপ্রক্সিমা সেন্টাউরি
- গআলফা সেন্টাউরি A
- ঘআলফা সেন্টাউরি B
সঠিক উত্তর: খ. প্রক্সিমা সেন্টাউরি
প্রশ্নটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রক্সিমা সেন্টাউরি।
প্রক্সিমা সেন্টাউরি আমাদের থেকে প্রায় চার দশমিক দুই আলোকবর্ষ দূরে। এটি একটি ছোট, অনুজ্জ্বল লাল বামন নক্ষত্র, খালি চোখে দেখা যায় না। লাতিন প্রক্সিমা শব্দের অর্থই নিকটতম।
এটি আলফা সেন্টাউরি নামের তিন নক্ষত্রের ব্যবস্থার সদস্য। বাকি দুটি, আলফা সেন্টাউরি এ ও বি, একে অপরকে ঘিরে ঘোরে এবং প্রায় চার দশমিক তিন আলোকবর্ষ দূরে, অর্থাৎ প্রক্সিমার চেয়ে একটু বেশি দূরে। খালি চোখে এরা একসঙ্গে একটি উজ্জ্বল তারা হিসেবে দেখা যায়।
আলফা সেন্টাউরি এ বা বি অনেকে বেছে নেন, কারণ এরা একই ব্যবস্থার এবং অনেক উজ্জ্বল। কিন্তু সবচেয়ে কাছের সদস্য প্রক্সিমা। আর পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র জানতে চাইলে উত্তর হবে সূর্য।
মনে রাখুন: প্রক্সিমা মানে নিকটতম; নামের মধ্যেই উত্তর।