সাধারণ বিজ্ঞান · পাতা ৪
৬১. The instrument used to measure electric current is- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কAmmeter
- খElectrometer
- গGalvanometer
- ঘSpectrometer
সঠিক উত্তর: ক. Ammeter
তড়িৎ প্রবাহ মাপার যন্ত্র অ্যামিটার। প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার, সেখান থেকেই যন্ত্রের নাম। অ্যামিটারকে বর্তনীতে শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয়, আর এর রোধ খুব কম রাখা হয় যাতে প্রবাহ বদলে না যায়।
গ্যালভানোমিটার এখানে ফাঁদ: এটা বর্তনীতে খুব সামান্য প্রবাহের উপস্থিতি ও দিক শনাক্ত করে। গ্যালভানোমিটারের সঙ্গে সমান্তরালে কম রোধ বা শান্ট জুড়ে অ্যামিটার বানানো হয়, কিন্তু প্রবাহ মাপার প্রচলিত যন্ত্রের নাম অ্যামিটার।
বিভব পার্থক্য মাপে ভোল্টমিটার, যা সমান্তরালে যুক্ত হয়। ইলেকট্রোমিটার মাপে স্থির আধান বা বিভব, আর স্পেকট্রোমিটার আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে।
৬২. নিচের কোনটি চার্লসের সূত্র? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কV ∝ T
- খPV = K
- গV ∝ n
- ঘP ∝ T
সঠিক উত্তর: ক. V ∝ T
প্রশ্নটি গ্যাসের সূত্রগুলো আলাদা করে চেনার দক্ষতা যাচাই করছে। চার্লসের সূত্র বলে: চাপ স্থির রাখলে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক। অর্থাৎ আয়তন সমানুপাতিক তাপমাত্রা।
কারণটা সহজ: গরম করলে গ্যাসের অণুগুলো দ্রুত চলে ও বেশি জায়গা নেয়, তাই চাপ একই রাখতে আয়তন বাড়ে। তাপমাত্রা অবশ্যই কেলভিনে ধরতে হয়, সেলসিয়াসে নয়।
বাকি সূত্রগুলোও মনে রাখুন। চাপ গুণ আয়তন ধ্রুবক হলো বয়েলের সূত্র, যেখানে তাপমাত্রা স্থির। আয়তন সমানুপাতিক মোল সংখ্যা হলো অ্যাভোগেড্রোর সূত্র। চাপ সমানুপাতিক তাপমাত্রা হলো চাপের সূত্র বা গে-লুসাকের সূত্র, যেখানে আয়তন স্থির।
ফাঁদ হলো চাপ সমানুপাতিক তাপমাত্রা বিকল্পটি, কারণ এতেও তাপমাত্রা আছে। কিন্তু চার্লসের সূত্রে চাপ স্থির, বদলায় আয়তন।
মনে রাখুন: চার্লস মানে আয়তন আর তাপমাত্রা; বয়েল মানে চাপ আর আয়তন।
৬৩. সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
- খদেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
- গসংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
- ঘসংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
সঠিক উত্তর: ক. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
প্রশ্নটি খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের কেলাস গঠন জানতে চাইছে। এর গঠন পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনক, যাকে মুখকেন্দ্রিক ঘনকও বলে।
এই গঠনে একটি ঘনকের আটটি কোণে এবং ছয়টি তলের ঠিক মাঝখানে ক্লোরাইড আয়ন বসে। সোডিয়াম আয়নগুলো এদের মাঝের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরে, ফলে দুই ধরনের আয়নই আলাদা আলাদা পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক জালি তৈরি করে।
প্রতিটি সোডিয়াম আয়নের চারপাশে ছয়টি ক্লোরাইড আয়ন, আর প্রতিটি ক্লোরাইডের চারপাশে ছয়টি সোডিয়াম থাকে। তাই এর সন্নিবেশ সংখ্যা ছয় অনুপাত ছয়। তুলনায় সিজিয়াম ক্লোরাইডে সন্নিবেশ সংখ্যা আট, যার গঠন দেহকেন্দ্রিক ধাঁচের।
ফাঁদ হলো দেহকেন্দ্রিক ঘনক, যা সিজিয়াম ক্লোরাইডের ক্ষেত্রে বলা হয়। আর সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক গঠন দেখা যায় ম্যাগনেসিয়াম বা জিঙ্কের মতো ধাতুতে।
মনে রাখুন: খাবার লবণ মানে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনক, সন্নিবেশ ছয়-ছয়।
৬৪. নিচের কোনটি প্রাইমারি দূষক? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কSO3
- খN2O5
- গNO
- ঘHNO3
সঠিক উত্তর: গ. NO
প্রশ্নটি প্রাথমিক ও গৌণ বায়ুদূষকের পার্থক্য যাচাই করছে। যে দূষক কোনো উৎস, যেমন গাড়ির ইঞ্জিন বা কারখানার চুল্লি, থেকে সরাসরি বাতাসে আসে সেটি প্রাথমিক দূষক।
উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বালানি পোড়ালে বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয় এবং ধোঁয়ার সঙ্গে সরাসরি বের হয়। তাই নাইট্রিক অক্সাইড প্রাথমিক দূষক। সালফার ডাইঅক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডও প্রাথমিক দূষক।
বাতাসে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক দূষক আবার বিক্রিয়া করে নতুন দূষক তৈরি করে, এগুলো গৌণ দূষক। নাইট্রিক অক্সাইড জারিত হয়ে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, পরে ডাইনাইট্রোজেন পেন্টঅক্সাইড ও নাইট্রিক এসিড হয়। সালফার ডাইঅক্সাইড জারিত হয়ে সালফার ট্রাইঅক্সাইড হয়। এসিড বৃষ্টি এদেরই ফল।
ফাঁদ হলো সালফার ট্রাইঅক্সাইড; সালফার শুনেই অনেকে প্রাথমিক ভাবেন, কিন্তু চুল্লি থেকে মূলত বের হয় সালফার ডাইঅক্সাইড।
মনে রাখুন: বিকল্পে সবচেয়ে কম জারিত, সরল অক্সাইডটিই সাধারণত প্রাথমিক দূষক।
৬৫. HPLC এর পূর্ণরূপ কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কHigh pressure liquid chromatography
- খHigh power liquid chromatography
- গHigh plant liquid chromatography
- ঘHigh performance liquid chromatography
সঠিক উত্তর: ঘ. High performance liquid chromatography
প্রশ্নটি রসায়নের একটি বহুল ব্যবহৃত বিশ্লেষণ পদ্ধতির পূর্ণরূপ জানতে চাইছে। এইচপিএলসি মানে হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি, বাংলায় উচ্চ দক্ষতার তরল ক্রোমাটোগ্রাফি।
ক্রোমাটোগ্রাফি হলো মিশ্রণের উপাদানগুলোকে আলাদা করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে খুব সূক্ষ্ম দানায় ভরা একটি সরু নলের ভেতর দিয়ে উচ্চ চাপে তরল দ্রাবক ঠেলে পাঠানো হয়। প্রতিটি উপাদান ভিন্ন গতিতে বের হয়, ফলে আলাদা করে শনাক্ত ও মাপা যায়।
ওষুধের মান যাচাই, খাদ্যে ভেজাল ও কীটনাশক শনাক্ত এবং রক্তে ওষুধের মাত্রা মাপতে এটি ব্যবহৃত হয়। শুরুর দিকে উচ্চ চাপ ব্যবহারের কারণে একে হাই প্রেশার লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফিও বলা হতো, পরে পারফরম্যান্স নামটিই প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই চাপ শব্দের বিকল্পটি ইতিহাসে ছিল, কিন্তু বর্তমান প্রচলিত ও প্রত্যাশিত উত্তর পারফরম্যান্স। পাওয়ার ও প্লান্ট শব্দ দুটি এখানে বানানো বিভ্রান্তি।
মনে রাখুন: এইচপিএলসি-র পি এখন পারফরম্যান্স; প্রেশার পুরোনো নাম।
৬৬. নিচের কোনটি সিরামিক উপাদানের প্রধান কাঁচামাল? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কSiO2
- খNa2CO3
- গFe2O3
- ঘNaNO3
সঠিক উত্তর: ক. SiO2
প্রশ্নটি সিরামিকের প্রধান কাঁচামাল জানতে চাইছে। সিরামিক তৈরি হয় কাদামাটি, বালু ও ফেল্ডস্পার পুড়িয়ে, আর এদের সবার মূল উপাদান সিলিকা বা সিলিকন ডাইঅক্সাইড।
কাদামাটি হলো অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, আর বালু প্রায় খাঁটি সিলিকা। উচ্চ তাপে পোড়ালে এই সিলিকেট কণাগুলো গলে জুড়ে গিয়ে শক্ত, তাপসহ ও পানিরোধী বস্তু তৈরি করে। থালাবাসন, টাইলস, ইট ও চীনামাটির জিনিস এভাবেই তৈরি হয়।
অন্য বিকল্পগুলোর কাজ আলাদা। সোডিয়াম কার্বনেট বা সোডা অ্যাশ কাচ ও ডিটারজেন্ট তৈরিতে লাগে। ফেরিক অক্সাইড হলো লোহার মরিচা, রঞ্জক হিসেবে কিছু কাজে লাগে। সোডিয়াম নাইট্রেট বা চিলি সল্টপিটার সার ও বিস্ফোরকে ব্যবহৃত হয়।
ফাঁদ হলো সোডিয়াম কার্বনেট, কারণ কাচ তৈরির সঙ্গে এর নাম জড়িত; কিন্তু কাচেও প্রধান উপাদান সিলিকা।
মনে রাখুন: মাটি, বালু, কাচ আর সিরামিক: সবার মূলে সিলিকা।
৬৭. সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কNa2O
- খZnO
- গAl2O3
- ঘCuO
সঠিক উত্তর: খ. ZnO
প্রশ্নটি সানস্ক্রিনে ব্যবহৃত ন্যানো কণা জানতে চাইছে। উত্তর জিংক অক্সাইড। এর সঙ্গে টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইডও খুব প্রচলিত।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বক পোড়ায় ও ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। জিংক অক্সাইড অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ ও কিছুটা প্রতিফলন করে ত্বককে রক্ষা করে, এবং লম্বা ও খাটো দুই ধরনের অতিবেগুনি রশ্মিতেই কাজ করে।
সাধারণ জিংক অক্সাইড ত্বকে সাদা প্রলেপ রাখে। ন্যানো আকারের কণা দৃশ্যমান আলো তেমন ছড়ায় না, তাই লোশন স্বচ্ছ দেখায় কিন্তু সুরক্ষা থাকে। এটিই ন্যানো প্রযুক্তির সুবিধা।
সোডিয়াম অক্সাইড পানির সঙ্গে বিক্রিয়ায় ক্ষার তৈরি করে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। অ্যালুমিনিয়াম ও কপার অক্সাইড সানস্ক্রিনের মূল সক্রিয় উপাদান নয়।
মনে রাখুন: সানস্ক্রিন মানে জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড।
৬৮. মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৪৪ টি
- খ৪২ টি
- গ৪৬ টি
- ঘ৪৮ টি
সঠিক উত্তর: গ. ৪৬ টি
প্রশ্নটি মানুষের দেহকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা জানতে চাইছে। মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ ২৩ জোড়া।
এর মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি হলো অটোজোম, যারা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ১ জোড়া হলো লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম: নারীতে দুটি এক্স, পুরুষে একটি এক্স ও একটি ওয়াই।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জননকোষে থাকে অর্ধেক, ২৩টি। নিষেকের সময় দুটি জননকোষ মিলে আবার ৪৬টি হয়। এই কারণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংখ্যা ঠিক থাকে।
ফাঁদ হলো ৪৪, যা শুধু অটোজোমের সংখ্যা। আর ৪৮টি ক্রোমোজোম থাকে শিম্পাঞ্জি ও গরিলার মতো বনমানুষের।
মনে রাখুন: দেহকোষে ৪৬, জননকোষে ২৩; ৪৪ মানে শুধু অটোজোম।
৬৯. সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের অনুপাত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৪ : ১ : ১
- খ৪ : ২ : ২
- গ৪ : ২ : ৩
- ঘ৪ : ৩ : ২
সঠিক উত্তর: ক. ৪ : ১ : ১
প্রশ্নটি সুষম খাদ্যে তিনটি প্রধান শক্তিদায়ক উপাদানের প্রচলিত অনুপাত জানতে চাইছে। পাঠ্যবই ও পরীক্ষায় প্রচলিত হিসাব হলো শর্করা, আমিষ ও স্নেহ চার অনুপাত এক অনুপাত এক।
শর্করা দেহের প্রধান ও সহজ শক্তির উৎস, তাই এর ভাগ সবচেয়ে বেশি। আমিষ দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণে লাগে, আর স্নেহ ঘন শক্তি দেয় ও কিছু ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে; এই দুটি কম পরিমাণে লাগে।
অর্থাৎ ছয় ভাগ খাবারের চার ভাগ শর্করা, এক ভাগ আমিষ, এক ভাগ স্নেহ। এর সঙ্গে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানিও সুষম খাদ্যের অপরিহার্য অংশ।
ফাঁদ হলো চার অনুপাত দুই অনুপাত দুই বা অন্য বিকল্প, যেগুলো আমিষ ও স্নেহের ভাগ বেশি দেখায়। শর্করার ভাগ বাকি দুটির যোগফলের দ্বিগুণ, এভাবে মনে রাখলেই চার, এক, এক।
মনে রাখুন: শর্করা বাকি দুটির যোগফলের দ্বিগুণ: চার, এক, এক।
৭০. মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কচারটি
- খপাঁচটি
- গতিনটি
- ঘদুইটি
সঠিক উত্তর: ক. চারটি
প্রশ্নটি মানুষের রক্তের গ্রুপ সংখ্যা জানতে চাইছে। প্রধান এবিও পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ চারটি: এ, বি, এবি ও ও।
লোহিত কণিকার গায়ে কোন অ্যান্টিজেন আছে তা দেখে গ্রুপ ঠিক হয়। এ গ্রুপে এ অ্যান্টিজেন, বি গ্রুপে বি অ্যান্টিজেন, এবি গ্রুপে দুটোই, আর ও গ্রুপে কোনোটিই নেই। তাই ও গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা এবং এবি গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
অস্ট্রীয় বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে এবিও পদ্ধতির ভিত্তি আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান। পরে তিনি আরএইচ ফ্যাক্টরও আবিষ্কারে ভূমিকা রাখেন; আরএইচ যোগ করলে গ্রুপগুলো পজিটিভ ও নেগেটিভে ভাগ হয়।
ফাঁদ হলো আরএইচ ফ্যাক্টর মিলিয়ে বেশি সংখ্যা ভাবা। প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর এবিও পদ্ধতির চারটি গ্রুপ।
মনে রাখুন: এবিও পদ্ধতিতে চারটি গ্রুপ; আরএইচ আলাদা পদ্ধতি।
৭১. আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৩৩
- খ৩৮
- গ৩৬
- ঘ৪৪
সঠিক উত্তর: ক. ৩৩
প্রশ্নটি আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা জানতে চাইছে। পারমাণবিক সংখ্যা মানে নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা, আর নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যাও তাই। আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩।
আর্সেনিকের ইলেকট্রন বিন্যাস খোলস অনুযায়ী দুই, আট, আঠারো ও পাঁচ; যোগ করলে ৩৩। বাইরের খোলসে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকায় এটি নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো গ্রুপ ১৫-এ, চতুর্থ পর্যায়ে বসে।
আর্সেনিক একটি অর্ধধাতু বা ধাতুকল্প। বাংলাদেশের অনেক এলাকার নলকূপের ভূগর্ভস্থ পানিতে এর বিষাক্ত মাত্রা পাওয়া যায়, যা চামড়ায় ক্ষত ও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে; তাই প্রশ্নটি দেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য সংখ্যাগুলো আলাদা মৌলের: ৩৬ ক্রিপ্টন, ৩৮ স্ট্রনশিয়াম, ৪৪ রুথেনিয়াম।
মনে রাখুন: আর্সেনিক ৩৩, ঠিক ফসফরাসের নিচে গ্রুপ ১৫-এ।
৭২. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কট্যাকোমিটার
- খঅ্যালটিমিটার
- গওডোমিটার
- ঘঅডিওমিটার
সঠিক উত্তর: ক. ট্যাকোমিটার
প্রশ্নটি বিভিন্ন মাপযন্ত্রের নাম ও কাজ মেলানোর দক্ষতা যাচাই করছে। প্রচলিত উত্তরমালায় উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র হিসেবে ট্যাকোমিটার ধরা হয়।
ট্যাকোমিটার মূলত ঘূর্ণন গতি মাপে, অর্থাৎ ইঞ্জিন বা প্রপেলার মিনিটে কতবার ঘুরছে। উড়োজাহাজের ককপিটেও ইঞ্জিনের ঘূর্ণন দেখাতে ট্যাকোমিটার থাকে। এই কারণেই বইয়ে গতির সঙ্গে ট্যাকোমিটারের নাম যুক্ত হয়েছে।
অন্য তিনটি যন্ত্রের কাজ একেবারে আলাদা। অল্টিমিটার উচ্চতা মাপে, ওডোমিটার গাড়ি কত দূরত্ব পার হলো তা মাপে, আর অডিওমিটার মানুষের শ্রবণক্ষমতা পরীক্ষা করে।
ফাঁদ হলো অল্টিমিটার, কারণ এটিও উড়োজাহাজের পরিচিত যন্ত্র। কিন্তু অল্টিমিটার উচ্চতা মাপে, গতি নয়। কড়া অর্থে বাতাসের সাপেক্ষে বিমানের বেগ মাপে এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর, যা বিকল্পে নেই।
মনে রাখুন: ট্যাকো গতি, অল্টি উচ্চতা, ওডো দূরত্ব, অডিও শব্দ বা শ্রবণ।
৭৩. টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করেডিও ওয়েভ
- খঅবলোহিত রশ্মি
- গআলট্রা ভায়োলেট
- ঘদৃশ্যমান রশ্মি
সঠিক উত্তর: ক. রেডিও ওয়েভ
প্রশ্নটি টেলিভিশন সম্প্রচারে কোন ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় তা জানতে চাইছে। উত্তর রেডিও তরঙ্গ।
টেলিভিশন কেন্দ্র ছবি ও শব্দের সংকেত রেডিও তরঙ্গের ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ও আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সি অংশে পাঠায়। রেডিও তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দীর্ঘ, তাই এটি দেয়াল ও বাতাস পেরিয়ে অনেক দূরের অ্যান্টেনায় পৌঁছাতে পারে।
তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিতে দীর্ঘ থেকে খাটো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম হলো রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্সরে ও গামা রশ্মি। সম্প্রচারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী দীর্ঘ তরঙ্গের রেডিও অংশ।
ফাঁদ হলো অবলোহিত রশ্মি, কারণ টিভির রিমোট কন্ট্রোলে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রিমোট শুধু কয়েক মিটার দূরের টিভিকে নির্দেশ দেয়; সম্প্রচার আসে রেডিও তরঙ্গে।
মনে রাখুন: সম্প্রচার মানেই রেডিও তরঙ্গ; রিমোট মানে অবলোহিত।
৭৪. অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করবার্ট কক্
- খলুইস পাস্তুর
- গএডওয়ার্ড জেনার
- ঘএন্টনি ভন লিউয়েনহুক
সঠিক উত্তর: ঘ. এন্টনি ভন লিউয়েনহুক
প্রশ্নটি অণুজীববিজ্ঞানের জনক জানতে চাইছে। প্রচলিত উত্তর অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক, কারণ তিনিই প্রথম অণুজীব নিজ চোখে দেখে বর্ণনা করেন।
সপ্তদশ শতকে এই ওলন্দাজ বস্ত্রব্যবসায়ী নিজের হাতে লেন্স ঘষে শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন। ১৬৭০ থেকে ১৬৮০-র দশকে তিনি পানি, দাঁতের ময়লা ইত্যাদিতে ক্ষুদ্র জীব দেখে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে চিঠি পাঠান, যাদের তিনি বলেছিলেন অ্যানিম্যালকিউল বা ক্ষুদ্র প্রাণী।
বাকিদের অবদানও বড়, কিন্তু অন্য শিরোনামে। এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করে প্রতিরক্ষাবিদ্যার জনক হন। লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও পাস্তুরাইজেশনের জন্য বিখ্যাত। রবার্ট কখ রোগের জন্য নির্দিষ্ট জীবাণু শনাক্ত করে ব্যাকটেরিওলজির জনক হন।
ফাঁদ হলো লুই পাস্তুর; কিছু বইয়ে তাঁকেও অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তবে প্রথম অণুজীব দেখার কৃতিত্ব লিউয়েনহুকের, তাই এই প্রশ্নে তিনিই প্রত্যাশিত উত্তর।
মনে রাখুন: প্রথম দেখেছেন যিনি, জনক তিনি: লিউয়েনহুক।
৭৫. বাতাস একটি – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
- খপ্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
- গফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
- ঘঅ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর: খ. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
প্রশ্নটি পদার্থের চৌম্বক ধর্মের শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। যে পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে দুর্বলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাকে প্যারাচুম্বকীয় বলে। বাতাস এমনই একটি পদার্থ।
এর কারণ বাতাসের অক্সিজেন। অক্সিজেন অণুতে দুটি অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে, যাদের ছোট ছোট চৌম্বক ভ্রামক বাইরের চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে সারিবদ্ধ হয়। বাতাসের নাইট্রোজেন নিজে ডায়াচুম্বকীয়, কিন্তু অক্সিজেনের প্রভাব বেশি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাতাস প্যারাচুম্বকীয়।
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ চুম্বক থেকে দুর্বলভাবে বিকর্ষিত হয়, যেমন পানি, তামা ও বিসমাথ। ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয় ও নিজেও চুম্বক হতে পারে, যেমন লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট। অ্যান্টিফেরোচুম্বকে পাশাপাশি পরমাণুর চৌম্বক ভ্রামক উল্টো দিকে থাকে, যেমন ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড।
ফাঁদ হলো ডায়াচুম্বকীয়, কারণ বাতাসের বেশির ভাগই নাইট্রোজেন। কিন্তু অক্সিজেনের প্যারাচুম্বকত্ব নাইট্রোজেনের দুর্বল ডায়াচুম্বকত্বকে ছাপিয়ে যায়।
মনে রাখুন: অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকলে প্যারা; অক্সিজেনের কারণে বাতাস প্যারাচুম্বকীয়।
৭৬. বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হল – (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅক্সিজেন
- খকার্বন-ডাইঅক্সাইড
- গনাইট্রোজেন
- ঘহাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর: ঘ. হাইড্রোজেন
প্রশ্নটি মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্যাস বা মৌল জানতে চাইছে। উত্তর হাইড্রোজেন।
মহাবিস্ফোরণের পর প্রথম কয়েক মিনিটে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম তৈরি হয়েছিল। তাই আজও সাধারণ পদার্থের ভরের প্রায় ৭৪ শতাংশ হাইড্রোজেন, প্রায় ২৪ শতাংশ হিলিয়াম, আর বাকি সব মৌল মিলে মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।
সূর্যসহ সব নক্ষত্রের প্রধান জ্বালানিও হাইড্রোজেন; কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়াম হয়ে আলো ও তাপ দেয়। কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনের মতো ভারী মৌল পরে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হয়েছে।
ফাঁদ হলো নাইট্রোজেন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ, কিন্তু প্রশ্নটি পৃথিবীর নয়, পুরো মহাবিশ্বের।
মনে রাখুন: মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন, পৃথিবীর বাতাসে নাইট্রোজেন, ভূত্বকে অক্সিজেন।
৭৭. Martin Cooper is known for his invention of- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কDigital Camera
- খX-ray
- গSolar Energy
- ঘMobile Phone
সঠিক উত্তর: ঘ. Mobile Phone
মার্টিন কুপার একজন মার্কিন প্রকৌশলী, যিনি মটোরোলা কোম্পানিতে কাজ করার সময় প্রথম হাতে বহনযোগ্য মোবাইল ফোন তৈরির দলের নেতৃত্ব দেন। তাঁকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়।
১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল নিউইয়র্কের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি এই হাতে ধরা ফোন থেকে প্রথম মোবাইল কল করেন। ফোনটি ছিল ইটের মতো বড় আর ভারী।
অন্য আবিষ্কারগুলোর আবিষ্কারক আলাদা: এক্স-রে আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেলম রন্টগেন, আর ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করেন কোডাকের প্রকৌশলী স্টিভেন স্যাসন।
সৌরশক্তি কোনো একক ব্যক্তির আবিষ্কার নয়; ব্যবহারযোগ্য সিলিকন সোলার সেল তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের বেল ল্যাবে। তাই কুপারের নাম মিলবে শুধু মোবাইল ফোনের সাথে।
মনে রাখুন: কুপার = মোবাইল ফোন; রন্টগেন = এক্স-রে; স্যাসন = ডিজিটাল ক্যামেরা।
৭৮. A Chronometer is used to measure. (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কTime
- খVelocity
- গCurrent
- ঘTemperature
সঠিক উত্তর: ক. Time
প্রশ্নটা পরিমাপক যন্ত্র চেনার। ক্রোনোমিটার হলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সময় মাপার যন্ত্র। গ্রিক শব্দ ক্রোনোস মানে সময়, মিটার মানে মাপক।
সমুদ্রে জাহাজের দ্রাঘিমা নির্ণয়ে নির্ভুল সময় জানা জরুরি ছিল। অষ্টাদশ শতকে জন হ্যারিসন সামুদ্রিক ক্রোনোমিটার তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান করেন।
অন্য রাশির যন্ত্র আলাদা: বেগ মাপে স্পিডোমিটার, বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপে অ্যামিটার, আর তাপমাত্রা মাপে থার্মোমিটার।
নামের গোড়া ভাঙলেই উত্তর মেলে; মিটার শব্দ দেখে বিভ্রান্ত হয়ে বেগ বা তাপমাত্রা বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: Chrono = সময় (chronology, chronic একই মূল থেকে)।
৭৯. 1 Kilogram is equal in (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- ক2.21 lbs
- খ2.32 lbs
- গ2.00 lbs
- ঘ1.89 lbs
সঠিক উত্তর: ক. 2.21 lbs
প্রশ্নটি ভরের একক রূপান্তরের। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ পাউন্ড ঠিক শূন্য দশমিক চার পাঁচ তিন পাঁচ নয় দুই তিন সাত কিলোগ্রাম।
তাই ১ কিলোগ্রাম সমান ১ ভাগ শূন্য দশমিক চার পাঁচ তিন ছয়, মানে প্রায় ২ দশমিক ২ শূন্য চার ছয় পাউন্ড। সাধারণত বলা হয় ১ কেজি প্রায় ২ দশমিক ২ পাউন্ড।
অপশনগুলোর মধ্যে এই মানের সবচেয়ে কাছে ২ দশমিক ২১ পাউন্ড, তাই এটিই উত্তর। নিখুঁত মান অবশ্য ২ দশমিক ২০।
ফাঁদ হলো ২ পাউন্ড: এটি সহজ গোল সংখ্যা, কিন্তু প্রায় ১০ শতাংশ কম। মনে রাখুন, আধা কেজি প্রায় ১ দশমিক ১ পাউন্ড।
মনে রাখুন: ১ কেজি ≈ ২.২ পাউন্ড; ১ পাউন্ড ≈ ৪৫৪ গ্রাম।
৮০. Which of the following is the hardest rock? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কGranite
- খCoal
- গChalk
- ঘDiamond
সঠিক উত্তর: ঘ. Diamond
প্রশ্নের উদ্দেশ্য হলো কোনটি সবচেয়ে শক্ত। প্রাকৃতিক পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো হীরা; মোস স্কেলে এর কাঠিন্য ১০, যা সর্বোচ্চ।
হীরা বিশুদ্ধ কার্বন। এর প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি পরমাণুর সাথে শক্ত সমযোজী বন্ধনে ত্রিমাত্রিক জালিতে আটকানো, তাই একে আঁচড় কাটা প্রায় অসম্ভব।
সূক্ষ্মভাবে বললে হীরা একটি খনিজ, শিলা নয়; শিলা হলো এক বা একাধিক খনিজের মিশ্রণ। গ্রানাইট আগ্নেয় শিলা, বেশ শক্ত, কিন্তু হীরার চেয়ে অনেক নরম।
কয়লা ও চক পাললিক শিলা এবং নরম; চক তো নখের আঁচড়েও দাগ পড়ে। পরীক্ষায় হীরাই প্রত্যাশিত উত্তর।
মনে রাখুন: সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ হীরা, সবচেয়ে নরম খনিজ ট্যালক।