বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৪
২৬১. “কি হেতু এসেছ তুমি কহ বিস্তারিয়া” - “হেতু” অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কনিমিত্ত
- খপ্রার্থনা
- গব্যাপার
- ঘপ্রসঙ্গ
সঠিক উত্তর: ক. নিমিত্ত
অনুসর্গ হলো সেই অব্যয় শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে এবং বাক্যের অন্য অংশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। যেমন: দ্বারা, দিয়ে, জন্য, হেতু, নিমিত্ত, কারণে।
হেতু শব্দের অর্থ কারণ। বাক্যে কি হেতু এসেছ মানে কী কারণে বা কী জন্য এসেছ। তাই এখানে হেতু অনুসর্গটি নিমিত্ত বা কারণ অর্থ প্রকাশ করেছে।
নিমিত্ত, হেতু, জন্য, কারণে, তরে: এই অনুসর্গগুলো সবই কারণ বা উদ্দেশ্য বোঝায়। যেমন: দেশের তরে প্রাণ দিল, কী নিমিত্ত এই আয়োজন।
প্রার্থনা, ব্যাপার বা প্রসঙ্গ অর্থে হেতু ব্যবহৃত হয় না। কহ বিস্তারিয়া, মানে বিস্তারিত বলো, অংশটি দেখে প্রসঙ্গ বা ব্যাপার মনে হতে পারে, কিন্তু অনুসর্গটির নিজের অর্থ কারণ।
মনে রাখুন: হেতু, নিমিত্ত, জন্য, কারণে, তরে: সবই কারণ বা উদ্দেশ্যের অনুসর্গ।
২৬২. 'মহাজ্ঞান' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কমহান যে জ্ঞান
- খমহা যে জ্ঞান
- গমহৎ যে জ্ঞান
- ঘমহতী যে জ্ঞান
সঠিক উত্তর: গ. মহৎ যে জ্ঞান
মহাজ্ঞান একটি কর্মধারয় সমাস, যেখানে বিশেষণ ও বিশেষ্য মিলে সমাস হয় এবং বিশেষ্য পদের অর্থ প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে যে বা যিনি দিয়ে দুটি পদকে জোড়া হয়।
কর্মধারয় সমাসের একটি নিয়ম হলো, পূর্বপদে মহৎ বা মহান থাকলে সমস্ত পদে তা মহা হয়ে যায়। ব্যাকরণ বইয়ের প্রচলিত উদাহরণ: মহৎ যে জ্ঞান, মহাজ্ঞান। তেমনি মহান যে নবি, মহানবি।
ব্যাসবাক্যে সমাসের আগের মূল শব্দটি লিখতে হয়। মহা শব্দটি সমাসে তৈরি হওয়া রূপ, তাই মহা যে জ্ঞান ঠিক ব্যাসবাক্য নয়। আর মহতী হলো মহৎ শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ, যেমন মহতী সভা; জ্ঞান শব্দের সঙ্গে এটি খাটে না।
ফাঁদ হলো মহান যে জ্ঞান। মহান শব্দটিও মহা হয়, তাই একে ঠিক মনে হয়; কিন্তু মহাজ্ঞান শব্দের প্রচলিত ও প্রত্যাশিত ব্যাসবাক্য মহৎ যে জ্ঞান।
মনে রাখুন: মহা দিয়ে শুরু কর্মধারয়ের ব্যাসবাক্যে মহৎ বা মহান ফিরিয়ে আনুন: মহৎ যে জ্ঞান, মহান যে নবি, মহৎ যে কাব্য।
২৬৩. ‘সপ্তাহ’ কোন ধরনের শব্দ? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কঅঙ্কবাচক
- খতারিখবাচক
- গপরিমাণবাচক
- ঘপূরণবাচক
সঠিক উত্তর: গ. পরিমাণবাচক
প্রশ্নটা সংখ্যাবাচক শব্দের শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। বাংলা ব্যাকরণে সংখ্যাবাচক শব্দকে সাধারণত চার ভাগে দেখানো হয়: অঙ্কবাচক, পরিমাণবাচক, ক্রমবাচক বা পূরণবাচক, আর তারিখবাচক।
অঙ্কবাচক শব্দ হলো অঙ্কে লেখা সংখ্যা, যেমন ১, ২, ১০। পরিমাণবাচক বা গণনাবাচক শব্দ গণনা বা পরিমাণ বোঝায়, যেমন এক, দুই, দশ; কয়েকটি এককের সমষ্টি বোঝানো শব্দ, যেমন জোড়া, হালি, ডজন, এগুলোও পরিমাণ বোঝায়। পূরণবাচক বা ক্রমবাচক শব্দ ক্রম বোঝায়, যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, সপ্তম। তারিখবাচক শব্দ মাসের দিন বোঝায়, যেমন পয়লা, দোসরা, তেসরা।
সপ্তাহ মানে সাত দিনের একটা সমষ্টি। এটা কোনো ক্রম বা তারিখ বোঝায় না, বোঝায় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়, ঠিক যেমন ডজন মানে বারোটি বা হালি মানে চারটি। তাই একে পরিমাণবাচক শব্দ ধরা হয়।
ফাঁদ হলো সাত সংখ্যাটা মাথায় এনে অঙ্কবাচক ধরে নেওয়া; অঙ্কবাচক বলতে বোঝায় অঙ্কে লেখা সাত, সপ্তাহ শব্দ নয়। আবার সপ্তম শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে পূরণবাচক ভাবাও ভুল: সপ্তম ক্রম বোঝায়, কিন্তু সপ্তাহ বোঝায় পরিমাণ।
মনে রাখুন: প্রশ্নের শব্দটা যদি কয়েকটি এককের সমষ্টি বোঝায় (সপ্তাহ, পক্ষ, ডজন, হালি, শতক), সেটা পরিমাণবাচক।
২৬৪. ‘ইতর বিশেষ’ বাগধারাটির অর্থ কী? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কপার্থক্য
- খপক্ষপাতিত্ব
- গভালো-মন্দ
- ঘগুরুত্বহীন
সঠিক উত্তর: ক. পার্থক্য
প্রশ্নটা একটি বাগধারার অর্থ জানতে চেয়েছে। ইতর বিশেষ মানে পার্থক্য বা তারতম্য, অর্থাৎ দুটি জিনিসের মধ্যে কমবেশি বা ভিন্নতা।
এখানে ইতর শব্দের মানে অন্য বা ভিন্ন, নিচু অর্থে নয়। তাই ইতর বিশেষ মানে একটার থেকে অন্যটার বিশেষ ভিন্নতা। যেমন বলা হয়, দুই ভাইয়ের স্বভাবে কোনো ইতর বিশেষ নেই, মানে কোনো পার্থক্য নেই।
ফাঁদ হলো ইতর শব্দের চলতি মানে নিচু বা খারাপ ধরে নিয়ে ভালো-মন্দ বা গুরুত্বহীন বেছে নেওয়া। বাগধারায় শব্দের আক্ষরিক বা চলতি মানে নয়, প্রচলিত বিশেষ অর্থ ধরতে হয়।
মনে রাখুন: ইতর বিশেষ আর উনিশ-বিশ প্রায় একই ধাঁচের: দুটোই পার্থক্য বোঝায়।
২৬৫. কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কদুধের মাছি
- খশরতের শিশির
- গসুখের পায়রা
- ঘলক্ষ্মীর বরযাত্রী
সঠিক উত্তর: খ. শরতের শিশির
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে চারটি বাগধারার মধ্যে কোনটির অর্থ বাকিগুলোর থেকে আলাদা। দুধের মাছি, সুখের পায়রা আর লক্ষ্মীর বরযাত্রী তিনটিরই অর্থ সুসময়ের বন্ধু, অর্থাৎ যে শুধু ভালো সময়ে পাশে থাকে।
দুধের মাছি দুধ থাকলে ভিড় করে, সুখের পায়রা সুখের দিনে উড়ে আসে, লক্ষ্মীর বরযাত্রী আসে ধনসম্পদের উৎসবে। তিনটিতেই ছবিটা একই: সুবিধা থাকলে আছে, না থাকলে নেই।
শরতের শিশিরের প্রধান অর্থ ক্ষণস্থায়ী। শরতের ভোরের শিশির রোদ উঠলেই শুকিয়ে যায়, তাই যা অল্প সময় টেকে তাকে শরতের শিশির বলা হয়।
এই ধরনের প্রশ্নে বসন্তের কোকিলও সুসময়ের বন্ধু দলে পড়ে। প্রকৃতির ছবি দেখে শরতের শিশিরকে বসন্তের কোকিলের মতো ভেবে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: সুসময়ের বন্ধুর দল মনে রাখুন: দুধের মাছি, সুখের পায়রা, বসন্তের কোকিল, লক্ষ্মীর বরযাত্রী। এর বাইরে যেটা, সেটাই উত্তর।
২৬৬. “সূর্য” শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কফণী
- খশৈল
- গভুজ
- ঘসবিতা
সঠিক উত্তর: ঘ. সবিতা
প্রশ্নটা সূর্য শব্দের সমার্থক শব্দ জানতে চেয়েছে। সবিতা সূর্যের একটি তৎসম প্রতিশব্দ; সূর্যের আরও প্রতিশব্দ হলো রবি, তপন, ভানু, দিবাকর, ভাস্কর, অর্ক, আদিত্য, মার্তণ্ড।
বাকি তিনটিও তৎসম শব্দ, তাই চেহারায় কঠিন লাগে, কিন্তু অর্থ আলাদা। ফণী মানে সাপ, কারণ সাপের ফণা থাকে। শৈল মানে পাহাড়, শিলা থেকে শৈল। ভুজ মানে বাহু বা হাত।
সাবধান: সবিতা নামটি মেয়েদের নাম হিসেবেও শোনা যায়, তাই অনেকে নিশ্চিত হতে পারেন না। কিন্তু অভিধানে সবিতা মানে সূর্য, আর সাবিত্রী শব্দও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
মনে রাখুন: সূর্যের প্রতিশব্দ একসঙ্গে মুখস্থ রাখুন: রবি, তপন, ভানু, সবিতা, অর্ক, আদিত্য, মিহির, দিবাকর।
২৬৭. 'পথের শেষ কোথায়' গ্রন্থটি কার লেখা? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কবুদ্ধদেব বসু
- খআবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- গআবু সায়ীদ আইয়ুব
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: গ. আবু সায়ীদ আইয়ুব
পথের শেষ কোথায় আবু সয়ীদ আইয়ুবের লেখা একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। এতে মূলত রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা আছে।
আবু সয়ীদ আইয়ুব ছিলেন বিশ শতকের একজন প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক চিন্তক। তাঁর অন্য পরিচিত বই আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ এবং পান্থজনের সখা; আধুনিক বাংলা কবিতা সংকলনটি তিনি হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পাদনা করেন।
ফাঁদ হলো নামের মিল: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর পরিচিত বই নিষ্ফলা মাঠের কৃষক। নামের আবু সায়ীদ অংশ দেখে দুজনকে গুলিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: আইয়ুব মানেই রবীন্দ্রচর্চা: পথের শেষ কোথায়, আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ, পান্থজনের সখা।
২৬৮. বিপরীত শব্দ গঠনে কোন উপসর্গগুলো ব্যবহৃত হয়? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কউপ, বর
- খঅপ, অনা
- গনিম, ভর
- ঘদর, উৎ
সঠিক উত্তর: খ. অপ, অনা
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন উপসর্গ শব্দের আগে বসে বিপরীত বা নেতিবাচক অর্থ তৈরি করে। অপ আর অনা দুটোই এমন উপসর্গ।
অপ তৎসম উপসর্গ; এটি বসলে মূল অর্থের উল্টো বা মন্দ অর্থ আসে: মান থেকে অপমান, যশ থেকে অপযশ, কর্ম থেকে অপকর্ম। অনা বাংলা উপসর্গ; এটি অভাব বা না-বোধক অর্থ দেয়: অনাদর, অনাবৃষ্টি, অনাহার।
অন্য অপশনের উপসর্গগুলো এমন কাজ করে না। উপ মানে কাছে বা ছোট (উপকূল, উপমন্ত্রী), নিম মানে প্রায় বা অল্প (নিমরাজি), ভর মানে পূর্ণ (ভরপেট), উৎ মানে ঊর্ধ্ব (উৎক্ষেপ)।
ফাঁদ হলো উপ ও অপ গুলিয়ে ফেলা। উপকার আর অপকার জোড়ায় উপ নয়, অপ-ই বিপরীত অর্থ এনেছে।
মনে রাখুন: বিপরীত অর্থের উপসর্গ: অ (অসুখ), অনা (অনাদর), অপ (অপমান), নি (নিখুঁত), বি (বিফল)।
২৬৯. ‘অনু’ এবং ‘অণু’ - এই শব্দ দুটির মধ্যে তফাত কোন ক্ষেত্রে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কবানানে
- খউচ্চারণে
- গঅর্থে
- ঘবানানে ও অর্থে
সঠিক উত্তর: ঘ. বানানে ও অর্থে
অনু আর অণু সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ। মুখে দুটোই একইভাবে উচ্চারিত হয়, কিন্তু লেখায় ন আর ণ আলাদা, আর অর্থও আলাদা।
অনু একটি উপসর্গ ও অব্যয়, মানে পশ্চাৎ বা পরে, অনুরূপ বা সদৃশ; যেমন অনুকরণ, অনুগামী, অনুবাদ। অণু মানে অতি ক্ষুদ্র কণা; যেমন পরমাণু, অণুজীব, অণুবীক্ষণ।
বাংলায় ন আর ণ-এর উচ্চারণে আজ আর কোনো পার্থক্য নেই, তাই উচ্চারণে তফাত খোঁজা ভুল। আবার শুধু বানানে বা শুধু অর্থে বললেও অর্ধেক উত্তর হয়। দুটো ক্ষেত্রেই পার্থক্য আছে বলে সঠিক উত্তর বানানে ও অর্থে।
মনে রাখুন: সমোচ্চারিত শব্দজোড়ায় (অনু-অণু, শব-সব, দিন-দীন) উচ্চারণ এক, পার্থক্য বানানে ও অর্থে।
২৭০. ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে বলা হয় - (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কবিবর্তিত ভাষা
- খউপভাষা
- গভাষা লিপি
- ঘশাখাভাষা
সঠিক উত্তর: খ. উপভাষা
একই ভাষা বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চারণ, শব্দ আর বাক্যগঠনে খানিকটা আলাদা রূপ নেয়। ভাষার এই অঞ্চলভিত্তিক রূপকে বলে উপভাষা, ইংরেজিতে dialect। একে আঞ্চলিক ভাষাও বলা হয়।
যেমন বাংলা ভাষার চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল অঞ্চলের রূপ আলাদা আলাদা উপভাষা। সবগুলো মিলেই বাংলা ভাষা, আর সবার বোঝার জন্য সাধারণ মানরূপ হলো প্রমিত বাংলা।
শাখাভাষা শব্দটা শুনতে কাছাকাছি লাগে, কিন্তু ব্যাকরণে এটি পরিভাষা নয়; একটি ভাষাপরিবারের সদস্য ভাষাকে শাখা বলা হয়, কোনো ভাষার আঞ্চলিক রূপকে নয়। এটাই এখানে মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: অঞ্চলভেদে ভাষার রূপ = উপভাষা (dialect); একজন মানুষের নিজস্ব বলার ধরন = ব্যক্তিভাষা (idiolect)।
২৭১. “রতন” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের একটি চরিত্র? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কঅতিথি
- খরবিবার
- গছুটি
- ঘপোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর: ঘ. পোস্টমাস্টার
রতন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প পোস্টমাস্টারের চরিত্র। সে উলাপুর গ্রামের এক অনাথ বালিকা, যে কলকাতা থেকে আসা পোস্টমাস্টারের ঘরের কাজ করে।
গল্পের শেষে পোস্টমাস্টার বদলি নিয়ে চলে যান, আর রতন তাঁর ফেরার আশায় ডাকঘরের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। এই নিঃসঙ্গতা আর না-বলা ভালোবাসার জন্য গল্পটি খুব পরিচিত; গল্পটি গল্পগুচ্ছে আছে।
অন্য গল্পগুলোর মূল চরিত্র আলাদা: অতিথি গল্পে তারাপদ, ছুটি গল্পে ফটিক, রবিবার গল্পে অভীক ও বিভা। চরিত্র আর গল্পের এই জোড়গুলো একসঙ্গে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রগল্পের জোড়া: রতন-পোস্টমাস্টার, ফটিক-ছুটি, তারাপদ-অতিথি, মিনি-কাবুলিওয়ালা, মৃন্ময়ী-সমাপ্তি।
২৭২. কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কআত্মচরিত
- খআত্মকথা
- গআত্মজিজ্ঞাসা
- ঘআমার কথা
সঠিক উত্তর: ক. আত্মচরিত
প্রশ্নটা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী জানতে চেয়েছে। বিদ্যাসাগর নিজের জীবনকথা লিখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর বছর, ১৮৯১ সালে, ছেলে নারায়ণচন্দ্র সেই অসমাপ্ত লেখাটি বিদ্যাসাগর চরিত, স্বরচিত নামে প্রকাশ করেন।
অর্থাৎ এটি বিদ্যাসাগরের নিজের লেখা চরিত, মানে আত্মচরিত। অপশনগুলোর মধ্যে এই অর্থের সঙ্গে মেলে কেবল আত্মচরিত, তাই প্রশ্নকর্তা এটাকেই উত্তর ধরেছেন।
খেয়াল রাখুন, হুবহু আত্মচরিত নামে বিখ্যাত বইটি ব্রাহ্মনেতা শিবনাথ শাস্ত্রীর। তাই অন্য পরীক্ষায় শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মজীবনী জানতে চাইলে উত্তর আত্মচরিত, আর বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে পুরো নাম বিদ্যাসাগর চরিত।
মনে রাখুন: স্বরচিত শব্দটাই চাবি: বিদ্যাসাগর চরিত (স্বরচিত) মানে বিদ্যাসাগরের আত্মচরিত।
২৭৩. ‘অয়ন’ শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কসাপ
- খচাঁদ
- গপথ
- ঘতরঙ্গ
সঠিক উত্তর: গ. পথ
অয়ন একটি তৎসম শব্দ, মানে পথ বা গমন, অর্থাৎ চলার রাস্তা বা চলা।
এই অর্থটা চেনা শব্দেই লুকিয়ে আছে। উত্তরায়ণ মানে সূর্যের উত্তর দিকে চলা, দক্ষিণায়ন মানে দক্ষিণ দিকে চলা। রামায়ণ মানে রামের চলার পথ বা রামের জীবনকাহিনি। সব জায়গায় অয়ন অংশটি পথ বা গমন বোঝায়।
ফাঁদ হলো শব্দের ধ্বনি দেখে অনুমান করা। সাপের প্রতিশব্দ ফণী বা ভুজঙ্গ, চাঁদের প্রতিশব্দ শশী বা ইন্দু, তরঙ্গের প্রতিশব্দ ঊর্মি বা লহরী; এদের কোনোটিই অয়ন নয়।
মনে রাখুন: অয়ন অর্থ মনে না পড়লে উত্তরায়ণ বা রামায়ণ ভাঙুন: অয়ন অংশটাই পথ।
২৭৪. ‘সদ্যোজাত’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কসৎ + জাত
- খসদ্যো + জাত
- গসদ্যঃ + জাত
- ঘসদ্য + জাত
সঠিক উত্তর: গ. সদ্যঃ + জাত
সদ্যোজাত বিসর্গসন্ধির উদাহরণ: সদ্যঃ যোগ জাত। সদ্যঃ মানে এইমাত্র, তাই সদ্যোজাত মানে এইমাত্র জন্মেছে এমন।
নিয়মটা হলো: অ-কারের পরে বিসর্গ, আর তার পরে বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম বর্ণ কিংবা য, র, ল, ব, হ থাকলে অ-কার আর বিসর্গ মিলে ও-কার হয়। এখানে য-এর পরে অ আর বিসর্গ, পরের শব্দ শুরু হয়েছে জ দিয়ে, যা চ বর্গের তৃতীয় বর্ণ। তাই যঃ হয়ে গেল যো।
একই নিয়মে মনঃ আর যোগ মিলে হয় মনোযোগ, তপঃ আর বন মিলে তপোবন, যশঃ আর দা মিলে যশোদা।
ফাঁদ হলো সদ্যো যোগ জাত বা সদ্য যোগ জাত ধরে নেওয়া। সদ্যো আলাদা কোনো শব্দ নয়, আর সদ্য যোগ জাত করলে হতো সদ্যজাত; ও-কার আসত না।
মনে রাখুন: শব্দের মাঝে ও-কার দেখলে বিসর্গসন্ধি ভাবুন: মনোযোগ, তপোবন, যশোদা, সদ্যোজাত, সবগুলোতে অঃ থেকে ও।
২৭৫. কোন শব্দটি উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কআষাঢ়
- খআঘাটা
- গআয়না
- ঘআনন
সঠিক উত্তর: খ. আঘাটা
উপসর্গ হলো শব্দের আগে বসা কিছু অব্যয়, যা নিজে আলাদা অর্থ বহন করে না কিন্তু শব্দের অর্থ বদলে দেয়। প্রশ্নে চারটি শব্দই আ দিয়ে শুরু, তাই দেখতে হবে কোথায় আ আলাদা উপসর্গ।
আঘাটা শব্দে আ হলো বাংলা উপসর্গ, যা অভাব বা নিন্দা বোঝায়। ঘাটা মানে ঘাট; আঘাটা মানে খারাপ বা অনুপযুক্ত ঘাট। একই উপসর্গে গঠিত আরও শব্দ: আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি।
বাকি তিনটি শব্দে আ শব্দেরই অংশ। আষাঢ় একটি মাসের নাম, আনন মানে মুখ, আর আয়না ফারসি থেকে আসা শব্দ। এদের থেকে আ সরালে কোনো অর্থপূর্ণ মূল শব্দ পাওয়া যায় না।
সহজ পরীক্ষা: আ সরিয়ে দেখুন বাকিটা অর্থপূর্ণ শব্দ কি না। ঘাটা থাকে, কিন্তু ষাঢ়, য়না বা নন কোনো শব্দ নয়।
মনে রাখুন: উপসর্গ চেনার পরীক্ষা: উপসর্গ সরালে বাকিটা অর্থপূর্ণ শব্দ থাকবে।
২৭৬. কে বাংলা ভাষার কবি নন? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কজ্ঞানদাস
- খজয়দেব
- গমুকুন্দরাম
- ঘচণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর: খ. জয়দেব
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কে বাংলা ভাষায় লেখেননি। জয়দেব বারো শতকে রাজা লক্ষ্মণসেনের সভাকবি ছিলেন, আর তাঁর বিখ্যাত কাব্য গীতগোবিন্দ লেখা হয়েছিল সংস্কৃত ভাষায়।
বাকি তিনজন মধ্যযুগের বাংলা কবি। চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলির কবি, জ্ঞানদাস চৈতন্য-পরবর্তী বৈষ্ণব পদকর্তা, আর মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি; তাঁকে কবিকঙ্কণ বলা হয়।
ফাঁদ হলো জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রভাব দেখে বাংলা কবি ভাবা। রাধাকৃষ্ণ নিয়ে লেখায় তিনি বাংলা পদাবলির পথ দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু লিখেছেন সংস্কৃতে।
মনে রাখুন: লক্ষ্মণসেনের সভার কবিরা (জয়দেব, ধোয়ী, উমাপতিধর, শরণ, গোবর্ধন) সংস্কৃতে লিখতেন; এঁদের কেউ বাংলা কবি নন।
২৭৭. The famous book titled 'Jaddapi Amar Guru' was written by - (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, ২০২৩)
- কRangalal Sen
- খHumayun Ahmed
- গAbdur Razzaq
- ঘAhmed Sofa
সঠিক উত্তর: ঘ. Ahmed Sofa
‘যদ্যপি আমার গুরু’ আহমদ ছফার লেখা একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ। এতে তিনি তাঁর শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা তুলে ধরেছেন।
এখানেই ফাঁদ: বইটি আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে, তাঁর লেখা নয়। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক নিজে খুব কম লিখেছেন; তাঁর জ্ঞান ও চিন্তা পাঠকের কাছে পৌঁছেছে মূলত এই বইয়ের মাধ্যমে।
আহমদ ছফার অন্য পরিচিত রচনা: উপন্যাস ‘ওঙ্কার’, ‘গাভী বিত্তান্ত’, ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’, আর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’।
২৭৮. বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ প্রথম কোন বাঙালি রচনা করেন? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- করামরাম বসু
- খরামনারায়ন তর্করত্ন
- গঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘরাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজা রামমোহন রায়
প্রশ্নটা বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস নিয়ে, তবে শর্ত হলো লেখককে বাঙালি হতে হবে। প্রথম বাঙালি ব্যাকরণ-লেখক রাজা রামমোহন রায়।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ লিখেছিলেন পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও, ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত। এরপর ১৭৭৮ সালে ইংরেজ ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। দুজনেই বিদেশি।
রামমোহন রায় ১৮২৬ সালে ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন, আর ১৮৩৩ সালে বাংলায় প্রকাশিত হয় তাঁর গৌড়ীয় ব্যাকরণ। তাই বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের কৃতিত্ব তাঁর।
ফাঁদ হলো বিদ্যাসাগর: তিনি ব্যাকরণ কৌমুদী ও উপক্রমণিকা লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলো সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং রামমোহনের পরে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “বাঙালি” শব্দ থাকলে রামমোহন, না থাকলে মানোএল দা আসসুম্পসাঁও।
২৭৯. ‘আচার’ ও ‘বোতাম’ শব্দ দুটি কোন ভাষা হতে বাংলায় গৃহীত হয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কফরাসী ভাষা
- খপর্তুগিজ ভাষা
- গওলন্দাজ
- ঘফার্সি ভাষা
সঠিক উত্তর: খ. পর্তুগিজ ভাষা
প্রশ্নটা বাংলা শব্দভান্ডারের বিদেশি উৎস নিয়ে। আচার ও বোতাম, দুটোই পর্তুগিজ ভাষা থেকে আসা শব্দ।
ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগিজ বণিক ও পাদ্রিরা বাংলায় ব্যবসা করেছেন। তাদের সঙ্গে আসা জিনিসের নামও বাংলায় ঢুকে গেছে, যেমন আনারস, আলমারি, আলপিন, চাবি, গির্জা, বালতি, পাউরুটি, পেঁপে।
বোতাম এসেছে পর্তুগিজ botão থেকে। ব্যাকরণ বইয়ে আচারকেও পর্তুগিজ শব্দের তালিকায় রাখা হয়।
ফাঁদ হলো ফারসি: বাংলায় ফারসি শব্দ সবচেয়ে বেশি, তাই অনেকে সেটাই বেছে নেন। কিন্তু দৈনন্দিন ঘরোয়া জিনিসের অনেক নাম পর্তুগিজ।
মনে রাখুন: ঘরের জিনিস আর ফল (আনারস, পেঁপে, চাবি, বালতি, বোতাম) দেখলে পর্তুগিজ ভাবুন; তাসের নাম ওলন্দাজ।
২৮০. দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজ করে কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কড্যাশ
- খকমা
- গদাঁড়ি
- ঘকোলন
সঠিক উত্তর: ক. ড্যাশ
প্রশ্নটা বিরামচিহ্নের একটি বিশেষ কাজ নিয়ে: আলাদা দুটি বাক্যকে জুড়ে এক বাক্যে পরিণত করা। ব্যাকরণ বইয়ের নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ করে ড্যাশ চিহ্ন।
যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবের দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাশ বসে। যেমন: “তোমরা দরিদ্রের উপকার করো — এতে তোমাদের সম্মান যাবে না — বাড়বে।” এখানে আলাদা ভাবের অংশগুলো ড্যাশ দিয়ে জুড়ে একটি বাক্য হয়েছে।
ড্যাশ আরও বসে কোনো কথার বিস্তার বা উদাহরণ দেওয়ার আগে। বিরতির মান এক সেকেন্ড।
ফাঁদ হলো কোলন: কোলন একটি অপূর্ণ বাক্যের পর উদাহরণ বা তালিকা আনতে বসে, দুটি বাক্য জোড়ে না। কমা বাক্যের ভেতরে অল্প বিরতি দেয়, আর দাঁড়ি বাক্য শেষ করে।
মনে রাখুন: বাক্য জোড়া লাগাতে ড্যাশ, শব্দ জোড়া লাগাতে হাইফেন।