বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১২
২২১. নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কনূন্য = নি+উন
- খনিচেষ্ট = নি+চেষ্ট
- গনয়ন = ন+অন
- ঘতন্মধ্যে = তদ্+মধ্যে
সঠিক উত্তর: ঘ. তন্মধ্যে = তদ্+মধ্যে
সঠিক বিচ্ছেদটি তন্মধ্যে সমান তদ্ যোগ মধ্যে। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম: বর্গের প্রথম বা তৃতীয় বর্ণের পরে ন বা ম থাকলে প্রথম বর্ণটি সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণে বদলে যায়। তাই দ্ যোগ ম হয়ে ন্ম।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: জগৎ যোগ নাথ সমান জগন্নাথ, উৎ যোগ মুখ সমান উন্মুখ, চিৎ যোগ ময় সমান চিন্ময়, বাক্ যোগ ময় সমান বাঙ্ময়।
অন্য অপশনগুলো ভুল। ন্যূন শব্দের বিচ্ছেদ নি যোগ ঊন, আর ছাপা অপশনে শব্দ ও স্বর দুটোই ভুল। নিশ্চেষ্ট শব্দের বিচ্ছেদ নিঃ যোগ চেষ্ট, বিসর্গ সন্ধি; নি যোগ চেষ্ট নয়।
নয়ন শব্দের বিচ্ছেদ নে যোগ অন, ন যোগ অন নয়। এ যোগ অ মিলে অয় হয়, তাই নে যোগ অন থেকে নয়ন। এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ ন যোগ অন দেখতে সহজ লাগে।
মনে রাখুন: দ্/ৎ + ম/ন → ন্ম/ন্ন: তন্মধ্যে, উন্মুখ, জগন্নাথ, চিন্ময়।
২২২. দুটি বিশেষণ পদে পঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরন কোনটি? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কলোনা-জল
- খঘি-ভাত
- গকাঁচা-মিঠে
- ঘখাঁ-সাহেব
সঠিক উত্তর: গ. কাঁচা-মিঠে
প্রশ্নটা কর্মধারয় সমাসের একটি বিশেষ রূপ জানতে চেয়েছে, যেখানে দুটি পদই বিশেষণ। সাধারণ কর্মধারয়ে একটি বিশেষণ আর একটি বিশেষ্য মিলে, যেমন নীল যে পদ্ম, নীলপদ্ম। কিন্তু দুটি গুণ যখন একই জিনিসের উপর একসাথে বসে, তখন দুটি বিশেষণ মিলেও কর্মধারয় হয়।
কাঁচা-মিঠে মানে যা কাঁচা অথচ মিঠে, যেমন কাঁচা অবস্থাতেই মিষ্টি আম। কাঁচা আর মিঠে দুটোই গুণ বোঝায়, তাই দুটিই বিশেষণ। একই ধাঁচের আরও উদাহরণ: কাঁচা-পাকা, মানে যা কাঁচা তা-ই পাকা; চালাক-চতুর, মানে যে চালাক সে-ই চতুর।
ব্যাসবাক্যে যা, যে, যিনি দিয়ে দুটি পদকে একই জিনিসের পরিচয় হিসেবে বসানো যায় কি না দেখুন, তারপর দুটি পদের পদপরিচয় মিলিয়ে নিন। দুটোই গুণবাচক হলে উত্তর মিলবে।
লোনা-জল দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হন, কারণ এটিও কর্মধারয়। কিন্তু এখানে লোনা বিশেষণ আর জল বিশেষ্য, তাই এটি সাধারণ কর্মধারয়, দুই বিশেষণের নয়।
মনে রাখুন: দুটি পদই গুণ বোঝাচ্ছে কি না দেখুন; একটির পরে বস্তু বা প্রাণীর নাম থাকলে সেটি সাধারণ কর্মধারয়।
২২৩. 'বাঁশি বাজায়' বাক্যটিতে বাঁশি শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- ককর্মে শূন্য
- খকর্তৃতে শূন্য
- গকরণে শূন্য
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. কর্মে শূন্য
কারক ঠিক করার সহজ উপায় হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা। কে বাজায়? উত্তর: সে, অর্থাৎ কর্তা বাক্যে উহ্য। কী বাজায়? উত্তর: বাঁশি। ক্রিয়ার কাজ যার উপর পড়ে, সে-ই কর্ম; তাই বাঁশি কর্মকারক।
এবার বিভক্তি দেখি। বাঁশি শব্দের সাথে কে, রে, এ, তে বা কোনো চিহ্ন যুক্ত হয়নি। বিভক্তির কোনো চিহ্ন না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বলে। তাই উত্তর কর্মে শূন্য।
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক কর্মে সাধারণত শূন্য বিভক্তি হয়, যেমন বই পড়ে, ভাত খায়, গান গায়। প্রাণীবাচক কর্মে প্রায়ই কে যুক্ত হয়, যেমন শিশুকে ডাকো।
অনেকে বাঁশিকে বাদ্যযন্ত্র ভেবে করণ কারক ধরে নেন। কিন্তু করণ হয় যখন কিছু দিয়ে কাজ করা হয়, যেমন বাঁশিতে সুর তোলে। এখানে বাঁশি নিজেই বাজানোর বিষয়, তাই কর্ম।
মনে রাখুন: কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তর হলে কর্ম; শব্দে কোনো চিহ্ন না থাকলে শূন্য বিভক্তি।
২২৪. নিচের কোনটি বন্দে আলি মিয়া কর্তৃক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- ককুঁচবরন কন্যা
- খকামাল আতাতুর্ক
- গমেঘকুমারী
- ঘসবকটি
সঠিক উত্তর: ঘ. সবকটি
বন্দে আলী মিয়া পাবনার কবি ও শিশুসাহিত্যিক। গ্রামীণ জীবন নিয়ে লেখা কাব্য ময়নামতির চর তাঁর সবচেয়ে পরিচিত বই, তবে ছোটদের জন্য তিনি অনেক বই লিখেছেন।
তাঁর শিশুতোষ বইয়ের মধ্যে আছে মেঘকুমারী; কামাল আতাতুর্ক, ছোটদের জন্য লেখা জীবনী; আর কুঁচবরণ কন্যা, একটি রূপকথা। তিনটিই তাঁর লেখা, তাই সঠিক উত্তর সবকটি।
আরও কয়েকটি শিশুতোষ বই পরীক্ষায় আসে: চোর জামাই, বোকা জামাই, ডাইনী বউ, শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা।
কামাল আতাতুর্ক নাম দেখে অনেকে একে বড়দের জীবনী বা অন্য লেখকের বই ভেবে বাদ দেন। কিন্তু এটিও বন্দে আলী মিয়ার ছোটদের জন্য লেখা বই।
মনে রাখুন: শিশুতোষ বইয়ের তালিকায় সব অপশন একই লেখকের হলে সবকটি বেছে নিন; বন্দে আলী মিয়ার তিনটিই পরিচিত বই।
২২৫. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কস্পন্দন
- খদন্ড
- গলুণ্ঠন
- ঘকন্টক
সঠিক উত্তর: ক. স্পন্দন
প্রশ্নটা ণত্ব বিধানের একটি নিয়ম যাচাই করছে: যুক্তবর্ণে কোন ন বসবে। নিয়ম হলো, ট-বর্গের বর্ণ, মানে ট ঠ ড ঢ, এর আগে যুক্ত হলে মূর্ধন্য ণ বসে; আর ত-বর্গের বর্ণ, মানে ত থ দ ধ, এর আগে দন্ত্য ন বসে।
স্পন্দন শব্দে ন যুক্ত হয়েছে দ এর সাথে, আর দ ত-বর্গের বর্ণ। তাই দন্ত্য ন দিয়ে ন্দ লেখা ঠিক; বানানটি শুদ্ধ।
দন্ড আর কন্টক দুটিতেই ন বসেছে ড আর ট এর আগে, যারা ট-বর্গের। তাই শুদ্ধ রূপ দণ্ড আর কণ্টক, মূর্ধন্য ণ দিয়ে। একই নিয়মে কণ্ঠ, ঘণ্টা, লুণ্ঠন লেখা হয়।
লক্ষ করুন, লুণ্ঠন বানানটিও এখানে শুদ্ধভাবে লেখা আছে, কারণ ঠ এর আগে ণ। মূল প্রশ্নপত্রে সম্ভবত এটি দন্ত্য ন দিয়ে ছাপা ছিল। প্রচলিত উত্তর স্পন্দন।
মনে রাখুন: ণ্ট, ণ্ঠ, ণ্ড, ণ্ঢ; কিন্তু ন্ত, ন্থ, ন্দ, ন্ধ। যুক্তবর্ণের দ্বিতীয় অক্ষর কোন বর্গের, দেখলেই ন-ণ ঠিক হয়।
২২৬. গুরুচণ্ডালী দোষে বাক্য কী হারায়? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কযোগ্যতা
- খআসত্তি
- গআকাঙ্ক্ষা
- ঘপ্রসাদগুণ
সঠিক উত্তর: ক. যোগ্যতা
সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্য শেষে আর কিছু শোনার ইচ্ছা না থাকা, আসত্তি মানে পদগুলো ঠিক ক্রমে সাজানো, আর যোগ্যতা মানে পদগুলোর অর্থ ও ভাবের মিল থাকা।
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো সাধু আর চলিত রীতির শব্দ এক বাক্যে মিশিয়ে ফেলা, যেমন শবদাহ না বলে মড়াদাহ, বা গরুর গাড়ি না বলে গরুর শকট। এতে শব্দগুলোর মধ্যে ভাবের মিল নষ্ট হয়।
ব্যাকরণ বইয়ে যোগ্যতার আলোচনায় বলা হয়েছে, গুরুচণ্ডালী দোষ, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্য দোষ, দুর্বোধ্য শব্দ বা বাগধারার শব্দ বদলে ফেললে বাক্য যোগ্যতা হারায়।
প্রসাদগুণ রচনার একটি গুণ, মানে লেখার সহজবোধ্যতা; এটি বাক্যের তিন শর্তের অংশ নয়। আসত্তি নষ্ট হয় পদক্রম ভুল হলে, আর আকাঙ্ক্ষা নষ্ট হয় বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে।
মনে রাখুন: ভাব বা অর্থের গোলমাল মানেই যোগ্যতার অভাব; ক্রমের গোলমাল আসত্তির, অসম্পূর্ণতা আকাঙ্ক্ষার।
২২৭. ‘আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ’— বাক্যে ‘পাঠেতে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- ককর্মকারকে তৃতীয়া
- খকরণ কারকে পঞ্চমী
- গঅধিকরণ কারকে সপ্তমী
- ঘঅপাদান কারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর: গ. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
প্রশ্নটা কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের। ‘আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ’ মানে নিজের পড়ায় মন দাও। এখানে ‘পাঠেতে’ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
অধিকরণ কারক হলো ক্রিয়ার আধার, মানে কোথায়, কখন বা কোন বিষয়ে কাজটি ঘটে। মন নিবেশ করার কাজটা কোথায় হচ্ছে? পাঠে। এখানে পাঠ হলো মন দেওয়ার বিষয়, তাই এটি বিষয়ের আধার বোঝাচ্ছে।
‘পাঠ’ শব্দের সঙ্গে ‘এতে’ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। এ, য়, তে, এতে বিভক্তিগুলো সপ্তমী বিভক্তি; পুরোনো কাব্যভাষায় ‘এতে’ বেশি দেখা যায়, যেমন ‘ঘরেতে ভ্রমর এলো’।
ফাঁদ হলো অপাদান কারকে সপ্তমী: অপাদানে কোথা থেকে বিচ্যুতি বোঝায়, যেমন ‘গাছ থেকে পাতা পড়ে’। এখানে কোনো কিছু থেকে সরে যাওয়ার ভাব নেই, বরং কিছুর মধ্যে মন রাখার ভাব।
মনে রাখুন: ‘কোথায়, কখন, কোন বিষয়ে’ প্রশ্নের উত্তর হলে অধিকরণ। আরও উদাহরণ: তিলে তৈল আছে, সে অঙ্কে কাঁচা, প্রভাতে সূর্য ওঠে।
২২৮. কোনটি অস্তিবাচক বাক্য- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কসে কিছুতেই সন্তুষ্ট নয়
- খদুবারের বেশী ফোন করিনি
- গআমি অন্য কোথাও যাব না
- ঘআপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন
সঠিক উত্তর: ঘ. আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন
প্রশ্নটা অর্থ অনুযায়ী বাক্যের ধরন নিয়ে। অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বাচক বাক্যে কোনো না-বাচক শব্দ থাকে না; ক্রিয়া কোনো কিছু হওয়া বা করাকে স্বীকার করে।
‘আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন’ বাক্যটি অর্থে নেতিবাচক মনে হলেও গঠনে অস্তিবাচক। কারণ এখানে না, নি, নয় জাতীয় কোনো নঞর্থক শব্দ নেই; ‘অবিশ্বাস’ শব্দের ‘অ’ উপসর্গটি শুধু শব্দের অর্থ উল্টেছে, বাক্যের ক্রিয়াকে নয়। ক্রিয়া ‘করেছেন’ হ্যাঁ-বাচক।
বাকি তিনটিতে ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ আছে: ‘সন্তুষ্ট নয়’, ‘ফোন করিনি’, ‘যাব না’। তাই এগুলো নেতিবাচক বাক্য।
ফাঁদ হলো অর্থ দেখে বিচার করা। বাক্যের অস্তিবাচক-নেতিবাচক রূপ ঠিক হয় ক্রিয়ার সঙ্গে না, নি, নয় আছে কি না তা দিয়ে, শব্দের ভেতরের ‘অ’ বা ‘নি’ উপসর্গ দিয়ে নয়।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার পাশে না, নি, নয় নেই মানেই অস্তিবাচক; অর্থ নেতিবাচক হলেও। যেমন: সে অসৎ, তিনি অনুপস্থিত।
২২৯. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কউত্তরসুরী
- খউত্তরসূরি
- গউত্তরসুরি
- ঘউত্তরসূরী
সঠিক উত্তর: খ. উত্তরসূরি
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান নিয়ে। বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী শুদ্ধ বানান ‘উত্তরসূরি’: সূ-তে দীর্ঘ ঊ-কার, আর শেষে রি-তে হ্রস্ব ই-কার।
শব্দটি তৎসম: উত্তর আর সূরি মিলে উত্তরসূরি। সংস্কৃত ‘সূরি’ মানে জ্ঞানী বা পণ্ডিত; মূল শব্দেই সূ দীর্ঘ এবং রি হ্রস্ব। তৎসম শব্দের বানান মূল সংস্কৃত অনুযায়ী থাকে, তাই এখানে বদলানো যায় না।
একই নিয়মে বানান হয় ‘পূর্বসূরি’। অনেকে ‘উত্তরসুরী’ বা ‘উত্তরসূরী’ লেখেন, কারণ ‘ঈ’ দিয়ে শেষ হওয়া বহু শব্দের প্রভাব থাকে, যেমন অধিকারী, প্রার্থী। কিন্তু সেগুলো ইন্ প্রত্যয়ের শব্দ, সূরি তা নয়।
ফাঁদ হলো ‘উত্তরসুরি’: শেষের হ্রস্ব ই ঠিক রেখে প্রথম অংশে হ্রস্ব উ দেওয়া। মনে রাখুন দুটো জায়গাই উল্টো: সূ দীর্ঘ, রি হ্রস্ব।
মনে রাখুন: সূরি = পণ্ডিত; লম্বা সূ, ছোট রি। জোড়া শব্দ: পূর্বসূরি, উত্তরসূরি।
২৩০. উপসর্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কঅব্যয়সূচক শব্দাংশ
- খস্বাধীন পদ হিসাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
- গনতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরী করে
- ঘশব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে
সঠিক উত্তর: খ. স্বাধীন পদ হিসাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
প্রশ্নটা উপসর্গের বৈশিষ্ট্য নিয়ে, আর জানতে চাইছে কোন কথাটি সঠিক নয়। উপসর্গ কখনো স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে বসে না; তাই এই বক্তব্যটিই ভুল।
উপসর্গ হলো কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা শব্দ বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থের শব্দ তৈরি করে। এদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অর্থ বা আলাদা ব্যবহার নেই, অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলেই অর্থ প্রকাশ পায়।
যেমন ‘হার’ শব্দের আগে উপসর্গ বসিয়ে পাই আহার, প্রহার, বিহার, উপহার, পরিহার। প্রতিটির অর্থ আলাদা। কখনো উপসর্গ অর্থকে পূর্ণ করে, কখনো সম্প্রসারিত বা সংকুচিত করে, কখনো একেবারে বদলে দেয়।
বাংলায় উপসর্গ তিন রকম: খাঁটি বাংলা, তৎসম বা সংস্কৃত, এবং বিদেশি। তৎসম উপসর্গ ২০টি, যেমন প্র, পরা, অপ, সম। প্রশ্নের অন্য তিনটি বক্তব্য উপসর্গের সঠিক বৈশিষ্ট্য, তাই সেগুলো উত্তর নয়।
মনে রাখুন: উপসর্গ বসে শব্দের আগে, প্রত্যয় বসে পরে, বিভক্তি বসে পদ গঠনে; কোনোটিই স্বাধীন পদ নয়।
২৩১. 'বিবর' শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কগহ্বর
- খচূড়া
- গবরহীনা
- ঘবরহীন
সঠিক উত্তর: ক. গহ্বর
প্রশ্নটা শব্দের অর্থ নিয়ে। ‘বিবর’ শব্দের অর্থ গর্ত, ছিদ্র বা গহ্বর।
শব্দটি তৎসম। সাহিত্যে ‘গিরিবিবর’ মানে পাহাড়ের গুহা, আর ‘সাপের বিবর’ মানে সাপের গর্ত। গহ্বর শব্দেরও অর্থ গভীর গর্ত বা গুহা, তাই দুটো সমার্থক।
ফাঁদ হলো শব্দটিকে ‘বি’ উপসর্গ আর ‘বর’ ভেঙে ‘বরহীন’ বা ‘বরহীনা’ ভাবা। কিন্তু বিবর একটি অখণ্ড শব্দ, এর সঙ্গে বর বা স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই।
চূড়া মানে শিখর, যা গর্তের ঠিক বিপরীত ধারণা। শব্দ মনে রাখতে প্রয়োগ শিখুন: ‘ইঁদুর বিবরে লুকাল।’
মনে রাখুন: বিবর, গহ্বর, কন্দর, গুহা: সবই গর্ত পরিবারের শব্দ।
২৩২. সাদাটে হলুদ বর্ণকে কী বলা হয়? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কহলদেটে
- খফিকে
- গপান্ডুর
- ঘবাসন্তি
সঠিক উত্তর: গ. পান্ডুর
প্রশ্নটা একটি রঙের এক কথায় প্রকাশ চায়। সাদাটে হলুদ বা ফ্যাকাশে হলুদ রংকে বলা হয় পাণ্ডুর; প্রশ্নপত্রে এটি ‘পান্ডুর’ বানানে ছাপা।
পাণ্ডু শব্দের অর্থই হলুদাভ সাদা বা ফ্যাকাশে। অসুস্থ মানুষের রক্তশূন্য মুখকে তাই বলা হয় পাণ্ডুর মুখ, আর পাণ্ডু রোগ মানে জন্ডিস জাতীয় রোগ। শুদ্ধ বানানে মূর্ধন্য ণ: পাণ্ডুর, কারণ ড-এর আগে ণ বসে।
হলদেটে মানে হলুদ ঘেঁষা, এতে সাদাটে ভাবটা নেই। ফিকে মানে যেকোনো রং হালকা হয়ে যাওয়া, নির্দিষ্টভাবে হলুদ নয়। বাসন্তী মানে বসন্তকালের উজ্জ্বল হলুদ রং।
ফাঁদ হলো হলদেটে: শব্দে হলুদ আছে বলে ঠিক মনে হয়। কিন্তু প্রশ্নের চাবি সাদাটে, আর সাদা মেশানো হলুদের নামই পাণ্ডুর।
মনে রাখুন: পাণ্ডুর = ফ্যাকাশে হলুদ; রক্তশূন্য মুখের বর্ণনায় এই শব্দই আসে।
২৩৩. কোনটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কধান শালিকের দেশ
- খলাঙ্গল
- গবার্তা
- ঘউত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর: ঘ. উত্তরাধিকার
প্রশ্নটা বাংলা একাডেমির প্রকাশনা নিয়ে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত সৃজনশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা হলো ‘উত্তরাধিকার’, যার যাত্রা শুরু ১৯৭৩ সালে।
বাংলা একাডেমি আরও কয়েকটি সাময়িকী প্রকাশ করে। ‘ধান শালিকের দেশ’ কিশোরদের জন্য ত্রৈমাসিক পত্রিকা, ‘বাংলা একাডেমি পত্রিকা’ গবেষণাধর্মী, আর ‘বাংলা একাডেমি বার্তা’ একাডেমির খবর জানানোর মুখপত্র।
‘লাঙল’ বাংলা একাডেমির পত্রিকা নয়। এটি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯২৫ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা, শ্রমিক-কৃষকের কথা বলত।
ফাঁদ হলো ‘ধান শালিকের দেশ’ ও ‘বার্তা’: দুটোই বাংলা একাডেমির প্রকাশনা, কিন্তু দুটোই ত্রৈমাসিক, মাসিক নয়। প্রশ্নের চাবিশব্দ মাসিক, আর সেটা মেলে শুধু উত্তরাধিকারের সঙ্গে।
মনে রাখুন: বাংলা একাডেমি: মাসিক উত্তরাধিকার, কিশোরদের ধান শালিকের দেশ।
২৩৪. 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কপারাবার
- খমহিধর
- গAged
- ঘঅর্ণব
সঠিক উত্তর: খ. মহিধর
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ নিয়ে, আর জানতে চাইছে কোনটি সমুদ্রের প্রতিশব্দ নয়। উত্তর ‘মহিধর’, শুদ্ধ বানানে মহীধর, যার অর্থ পর্বত।
মহী মানে পৃথিবী, আর ধর মানে যে ধারণ করে। যে পৃথিবীকে ধরে রাখে, সে-ই মহীধর, অর্থাৎ পাহাড়। একই অর্থে পর্বতের আরও প্রতিশব্দ ভূধর, গিরি, অচল, শৈল।
সমুদ্রের প্রতিশব্দ পারাবার, অর্ণব, সাগর, জলধি, সিন্ধু, রত্নাকর। ‘পারাবার’ শব্দটি এসেছে পার আর অবার থেকে, মানে এপার-ওপার দুই কূল; আর অর্ণব মানে জলরাশি।
ফাঁদ হলো ‘ধর’ ও ‘ধি’-র মিল: জলধি মানে সমুদ্র, কারণ জল ধারণ করে; কিন্তু মহীধর পৃথিবী ধারণ করে, তাই পর্বত। কী ধারণ করছে তা দেখলেই উত্তর মেলে।
মনে রাখুন: ‘ধর’ দিয়ে শেষ হলে দেখুন কী ধরে: মহীধর, ভূধর = পর্বত; জলধর = মেঘ; জলধি = সমুদ্র।
২৩৫. 'জীবন আমার বোন' কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কনাটক
- খপ্রবন্ধ
- গউপন্যাস
- ঘকবিতা
সঠিক উত্তর: গ. উপন্যাস
প্রশ্নটা সাহিত্যকর্মের ধরন নিয়ে। ‘জীবন আমার বোন’ মাহমুদুল হকের উপন্যাস।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৭১ সালের মার্চের উত্তাল ঢাকা। প্রধান চরিত্র খোকা রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাওয়া এক তরুণ, আর তার ছোট বোন রঞ্জু। সময়ের অস্থিরতা ব্যক্তিজীবনে কীভাবে ঢুকে পড়ে, উপন্যাসটি সেই গল্প বলে।
মাহমুদুল হকের আরও বিখ্যাত উপন্যাস ‘অনুর পাঠশালা’, ‘নিরাপদ তন্দ্রা’, ‘খেলাঘর’ ও ‘কালো বরফ’। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
শিরোনামটি কাব্যিক শোনায় বলে অনেকে কবিতা ভেবে ভুল করেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের তালিকায় এটি বারবার আসে, তাই নামটি মনে রাখুন।
মনে রাখুন: মাহমুদুল হক = জীবন আমার বোন, খেলাঘর, কালো বরফ, অনুর পাঠশালা; সবই উপন্যাস।
২৩৬. ঈশ্বরচন্দ্রকে কোন প্রতিষ্ঠান 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কসংস্কৃত কলেজ
- খপ্রেসিডেন্সি কলেজ
- গকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘবিদ্যাসাগর কলেজ
সঠিক উত্তর: ক. সংস্কৃত কলেজ
প্রশ্নটা ঈশ্বরচন্দ্রের ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি নিয়ে। কলকাতার সংস্কৃত কলেজ, যেখানে তিনি পড়াশোনা করেছেন, তাঁকে এই উপাধি দেয়।
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণ, কাব্য, অলংকার, স্মৃতি, ন্যায়সহ নানা শাস্ত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখান। ১৮৩৯ সালে তিনি সংস্কৃত আইনের পরীক্ষাতেও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বিদ্যার এই সাগরতুল্য গভীরতার জন্যই উপাধি বিদ্যাসাগর।
পরে তিনি এই সংস্কৃত কলেজেরই অধ্যক্ষ হন। তাঁকে বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক শিল্পী বলা হয়; তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার করেন, আর বিধবা বিবাহ প্রচলনে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়।
ফাঁদ হলো ‘বিদ্যাসাগর কলেজ’: নাম মিলে যাওয়ায় সঠিক মনে হয়। কিন্তু কলেজটি তাঁর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন, যা পরে তাঁর নামে নামকরণ হয়; উপাধি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
মনে রাখুন: যে কলেজে পড়েছেন, সেই সংস্কৃত কলেজই দিয়েছে উপাধি; যে কলেজ তাঁর নামে, সে উপাধি দেয়নি।
২৩৭. 'লেটো' কী? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কনজরুল সঙ্গীত
- খরবীন্দ্র সঙ্গীত
- গসারিগান
- ঘলোকগান
সঠিক উত্তর: ঘ. লোকগান
প্রশ্নটা বাংলার লোকসংগীত নিয়ে। ‘লেটো’ পশ্চিমবঙ্গের, বিশেষ করে বর্ধমান অঞ্চলের একটি লোকগান ও লোকনাট্যের ধারা।
লেটো দল গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান, অভিনয় আর কবিগানের মতো তাৎক্ষণিক পাল্লা পরিবেশন করত। এতে পৌরাণিক ও সামাজিক কাহিনি গান আর সংলাপে উপস্থাপিত হতো।
লেটোর সঙ্গে নজরুলের নাম জড়িত, কারণ কৈশোরে কাজী নজরুল ইসলাম লেটো দলে যোগ দেন এবং দলের জন্য গান ও পালা রচনা করেন। এখান থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি।
ফাঁদ হলো নজরুল সংগীত: নজরুলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে অনেকে এটাই বেছে নেন। কিন্তু লেটো নজরুলের নিজের সৃষ্টি নয়, আগে থেকেই প্রচলিত লোকগান। আর সারিগান হলো নৌকাবাইচ বা দলবদ্ধ কাজের সময়ের লোকগান।
মনে রাখুন: লেটো, সারি, ভাটিয়ালি, জারি, গম্ভীরা: সব লোকগান। নজরুল লেটো দলে ছিলেন, কিন্তু লেটোর স্রষ্টা নন।
২৩৮. 'আবির্ভাব' শব্দটি গঠিত হয়েছে- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কপ্রত্যয় দ্বারা
- খউপসর্গ দ্বারা
- গসন্ধি দ্বারা
- ঘবিভক্তি দ্বারা
সঠিক উত্তর: গ. সন্ধি দ্বারা
প্রশ্নটা শব্দ গঠনের উপায় নিয়ে। ‘আবির্ভাব’ শব্দটি সন্ধির মাধ্যমে গঠিত: আবিঃ যোগ ভাব।
এটি বিসর্গ সন্ধি। নিয়ম হলো: অ বা আ ছাড়া অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং পরে বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ বা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ র হয়ে যায়। এখানে বিসর্গের আগে ই, আর পরে ভ, যা প বর্গের চতুর্থ বর্ণ। তাই আবিঃ যোগ ভাব হয়ে যায় আবির্ভাব।
একই নিয়মে নিঃ যোগ ধন হয় নির্ধন, দুঃ যোগ যোগ হয় দুর্যোগ, আর আবিঃ যোগ ভূত হয় আবির্ভূত।
ফাঁদ হলো উপসর্গ: মনে হতে পারে ‘আবিঃ’ একটি উপসর্গ। কিন্তু বাংলা ব্যাকরণের তৎসম উপসর্গের তালিকার ২০টির মধ্যে আবিঃ নেই, আর এখানে দুটি ধ্বনি মিলে রূপ বদলেছে, তাই এটি সন্ধি।
মনে রাখুন: ই বা উ-এর পর বিসর্গ আর পরে কোমল ধ্বনি থাকলে বিসর্গ র: নির্ধন, দুর্যোগ, আবির্ভূত, নিরাশা।
২৩৯. ‘হাসি দিয়ে ঘরটাকে ভরিয়ে রাখতো’— বাক্যে ‘দিয়ে’ কী? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কঅব্যয়
- খপ্রত্যয়
- গঅনুসর্গ
- ঘউপসর্গ
সঠিক উত্তর: গ. অনুসর্গ
প্রশ্নটি সম্ভবত জানতে চেয়েছে, ‘হাসি দিয়ে ঘরটাকে ভরিয়ে রাখতো’ বাক্যে ‘দিয়ে’ কোন ধরনের শব্দ। উত্তর অনুসর্গ।
অনুসর্গ হলো সেই অব্যয় শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে আলাদাভাবে বসে কারকের সম্পর্ক বোঝায়, বিভক্তির মতো কাজ করে। যেমন দিয়ে, দ্বারা, কর্তৃক, থেকে, চেয়ে, জন্য।
এখানে ঘর ভরানোর উপায় হলো হাসি। ‘দিয়ে’ শব্দটি ‘হাসি’ শব্দের পরে বসে সেই উপায় বা করণ বোঝাচ্ছে। তাই এটি করণ কারকের অনুসর্গ।
ফাঁদ হলো প্রত্যয় ও উপসর্গ: প্রত্যয় শব্দের শেষে জুড়ে নতুন শব্দ বানায়, আর উপসর্গ শব্দের আগে জুড়ে বসে। ‘দিয়ে’ কোনোটির মতো জুড়ে বসেনি, আলাদা শব্দ হিসেবে পরে বসেছে।
মনে রাখুন: পদের পরে আলাদা বসলে অনুসর্গ, আগে জুড়লে উপসর্গ, পরে জুড়লে প্রত্যয়।
২৪০. জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত- (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৪)
- কসমাজ
- খপানি
- গমিছিল
- ঘনদী
সঠিক উত্তর: ঘ. নদী
প্রশ্নটা বিশেষ্যের প্রকারভেদ নিয়ে। জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত ‘নদী’।
জাতিবাচক বিশেষ্য একই জাতের সব প্রাণী বা বস্তুকে একসাথে বোঝায়, কোনো নির্দিষ্ট একটিকে নয়। ‘নদী’ বললে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা সবই বোঝায়; আবার ‘পদ্মা’ বললে একটি নির্দিষ্ট নদী, যা নামবাচক।
সমাজ ও মিছিল সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, কারণ এগুলো অনেক ব্যক্তির একটি দলকে বোঝায়। পানি বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি এমন উপাদান যা গোনা যায় না, মাপা যায়।
ফাঁদ হলো সমষ্টি ও জাতি গুলিয়ে ফেলা। সমষ্টিবাচক মানে অনেকে মিলে একটি দল, যেমন সভা, জনতা। জাতিবাচক মানে একই ধরনের প্রতিটি সদস্যের সাধারণ নাম, যেমন মানুষ, গরু, পর্বত।
মনে রাখুন: জাতিবাচক: মানুষ, গরু, নদী, পর্বত। সমষ্টিবাচক: সভা, জনতা, মিছিল, সমিতি। বস্তুবাচক: পানি, সোনা, চাল।