বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ১৫
২৮১. 'মনীষা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কমন + ইষা
- খমন + ঈষা
- গমনস + ইষা
- ঘমনস + ঈষা
সঠিক উত্তর: ঘ. মনস + ঈষা
প্রশ্নটা বিসর্গ সন্ধি নিয়ে। মনীষা শব্দের বিচ্ছেদ মনস্ যোগ ঈষা। তৎসম শব্দ মনঃ আসলে মনস্, যার শেষে লুকানো স্ আছে।
নিয়ম: অ-কারের পর স্ বা র্ জাতীয় বিসর্গ থাকলে, আর পরে স্বরধ্বনি এলে, কিছু শব্দে বিসর্গ লোপ পায় এবং দুই অংশ জুড়ে যায়। মনস্ যোগ ঈষা থেকে স্ লোপ পেয়ে, ন-এর অ আর ঈ মিলে হয় নী, ফলে মনীষা।
ঈষা মানে ইচ্ছা বা অভিপ্রায়; মনীষা মানে মনের শক্তি, প্রজ্ঞা। তাই ঈ দীর্ঘ, ই হ্রস্ব নয়।
ফাঁদ হলো মন যোগ ঈষা: দেখতে সহজ মনে হয়, কিন্তু অ আর ঈ মিললে স্বরসন্ধিতে হতো এ, মানে মনেষা। মনীষা পেতে হলে মূল শব্দ মনস্ ধরতেই হবে।
মনে রাখুন: মনস্ দিয়ে আরও কয়েকটি: মনস্ + তাপ = মনস্তাপ, মনস্ + কামনা = মনস্কামনা, মনস্ + অন্তর = মনান্তর।
২৮২. "তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি" - (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কপূরবী
- খআকাশপ্রদীপ
- গসেঁজুতি
- ঘশেষ লেখা
সঠিক উত্তর: ঘ. শেষ লেখা
উদ্ধৃত চরণ “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতার প্রথম লাইন। কবিতাটি সংকলিত হয়েছে তাঁর শেষ লেখা কাব্যগ্রন্থে।
১৯৪১ সালের ৩০ জুলাই, অস্ত্রোপচারের আগে, শয্যাশায়ী রবীন্দ্রনাথ কবিতাটি মুখে মুখে বলে যান, অন্যরা লিখে নেন। এর কয়েক দিন পর ৭ আগস্ট তিনি মারা যান। শেষ লেখা প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর পরে।
এই কবিতায় কবি বলেন, সৃষ্টিকর্তা ছলনার জাল বিছিয়ে রেখেছেন, আর যে সহজ বিশ্বাসে তা সহ্য করে, সে-ই শান্তির অক্ষয় অধিকার পায়।
ফাঁদ হলো আকাশপ্রদীপ ও সেঁজুতি: এগুলোও রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্য, তাই নাম শুনে গুলিয়ে যায়। কিন্তু একেবারে শেষ কবিতাটি শেষ লেখা-তে।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের শেষ কবিতা = তোমার সৃষ্টির পথ = শেষ লেখা।
২৮৩. চণ্ডীদাস বলেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” এটি কোন কালের বাক্য? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কসাধারণ অতীত
- খসাধারণ বর্তমান
- গপুরাঘটিত বর্তমান
- ঘপুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর: খ. সাধারণ বর্তমান
প্রশ্নটা ক্রিয়ার কাল নির্ণয় নিয়ে। বাক্যের মূল ক্রিয়া “বলেন”। বলেন মানে তিনি বলেন: কাজটি সাধারণভাবে বর্তমানে ঘটে, কোনো চলমানতা বা সম্পন্নতা বোঝায় না। তাই এটি সাধারণ বর্তমান কাল।
উদ্ধৃত অংশেও “মানুষ সত্য” আর “উপরে নাই”, দুটোই চিরন্তন সত্য প্রকাশ করছে। চিরন্তন সত্য, অভ্যাস বা ঐতিহাসিক বর্তমান বোঝাতে সাধারণ বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
মিলিয়ে নিন: সাধারণ বর্তমানে করে বা করেন, পুরাঘটিত বর্তমানে করেছে বা করেছেন, সাধারণ অতীতে করল বা করলেন, পুরাঘটিত অতীতে করেছিল বা করেছিলেন।
ফাঁদ হলো সাধারণ অতীত: বক্তা অনেক আগের কবি, তাই অতীত মনে হয়। কিন্তু কাল ঠিক হয় ক্রিয়ার রূপ দিয়ে, বক্তার সময় দিয়ে নয়; অতীতের মানুষের কথা বর্তমান কালে বলাকে ঐতিহাসিক বর্তমান বলে।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার শেষে শুধু -এ/-এন থাকলে সাধারণ বর্তমান; -এছে পুরাঘটিত বর্তমান; -লেন সাধারণ অতীত; -এছিলেন পুরাঘটিত অতীত।
২৮৪. 'অংশু' শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কঝটিকা
- খশিখা
- গকর
- ঘপ্রভা
সঠিক উত্তর: ক. ঝটিকা
প্রশ্নটা প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নিয়ে। অংশু মানে কিরণ বা রশ্মি, অর্থাৎ আলোর রেখা। তাই অংশুর প্রতিশব্দ হলো আলো সংক্রান্ত শব্দ।
কর শব্দের একটি অর্থ কিরণ, যেমন সূর্যের কর, আর সূর্যের আরেক নাম দিবাকর বা প্রভাকর। প্রভা মানে দীপ্তি বা আলো। শিখা মূলত আগুনের জ্বলন্ত অংশ, তবে জ্যোতি বা আলোর রেখা অর্থেও চলে, তাই এটিও আলোর দলের শব্দ।
ঝটিকা মানে ঝড়, প্রবল বাতাস। আলোর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এটিই অংশুর প্রতিশব্দ নয়।
ফাঁদ হলো কর: অনেকে কর মানে শুধু হাত বা খাজনা জানেন বলে এটাকে বেমানান ভাবেন। কিন্তু কর শব্দের একটি অর্থ কিরণ।
মনে রাখুন: কিরণের প্রতিশব্দ এক নিঃশ্বাসে: অংশু, রশ্মি, কর, প্রভা, ময়ূখ, মরীচি, দীপ্তি।
২৮৫. ‘গোড়া' ও 'গোঁড়া' শব্দের অর্থ যথাক্রমে- (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কআদি ও অন্ত
- খমূল অংশ এবং রক্ষণশীল
- গরক্ষণশীল ও মূল অংশ
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. মূল অংশ এবং রক্ষণশীল
প্রশ্নটা দেখতে প্রায় একই কিন্তু অর্থে আলাদা দুটি শব্দ নিয়ে। চন্দ্রবিন্দু ছাড়া গোড়া মানে মূল বা গোড়ার অংশ, যেমন গাছের গোড়া। চন্দ্রবিন্দুসহ গোঁড়া মানে রক্ষণশীল, অন্ধভাবে মতবাদ আঁকড়ে থাকা মানুষ।
এ ধরনের জোড়াকে প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ বলে। একটি চন্দ্রবিন্দু পুরো অর্থ বদলে দেয়, তাই বানানে সাবধান থাকতে হয়।
আরও উদাহরণ: কাটা মানে ছেদন করা, কাঁটা মানে গাছের কণ্টক; বাধা মানে বাধা দেওয়া, বাঁধা মানে বন্ধন; কাদা মানে কর্দম, কাঁদা মানে ক্রন্দন।
ফাঁদ হলো ক্রম উল্টে দেওয়া বিকল্প: প্রশ্নে বলা আছে “যথাক্রমে”, তাই প্রথমটির অর্থ আগে আসবে।
মনে রাখুন: চন্দ্রবিন্দুর শব্দজোড়ে আগে চন্দ্রবিন্দুহীন শব্দের সহজ অর্থটা ঠিক করুন, বাকিটা নিজেই মিলে যায়।
২৮৬. নিচের কোন বাগধারাটির সঙ্গে 'বালির বাঁধ' বাগধারাটির মিল রয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কহাঁড়ি ঠেলা
- খসাপে-নেউলে
- গতাসের ঘর
- ঘঅমাবস্যার চাঁদ
সঠিক উত্তর: গ. তাসের ঘর
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ মেলানো নিয়ে। বালির বাঁধ মানে ক্ষণস্থায়ী বস্তু বা ব্যবস্থা। বালির তৈরি বাঁধ পানির ধাক্কায় সহজেই ভেঙে যায়।
তাসের ঘর মানেও ক্ষণস্থায়ী বা ভঙ্গুর জিনিস। তাস দিয়ে বানানো ঘর হালকা বাতাসেই ভেঙে পড়ে। তাই দুটির অর্থ এক।
অন্যগুলো মিলিয়ে নিন: হাঁড়ি ঠেলা মানে রান্নাবান্না বা কষ্টের গৃহকাজ, সাপে-নেউলে মানে চিরশত্রুতা, অমাবস্যার চাঁদ মানে দুর্লভ বস্তু বা কালেভদ্রে দেখা পাওয়া।
পরীক্ষায় একই অর্থের বাগ্ধারা দলে দলে আসে, তাই ক্ষণস্থায়ী অর্থের আরেকটি মনে রাখুন: পদ্মপত্রে জল। পদ্মপাতায় পানি টেকে না, তাই এর অর্থও ক্ষণস্থায়ী।
মনে রাখুন: ভেঙে পড়ার ছবি যে বাগ্ধারায়, তার অর্থ ক্ষণস্থায়ী।
২৮৭. বিরাম চিহ্ন কেন ব্যবহৃত হয়? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কবাক্য সংকোচনের জন্য
- খবাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
- গবাক্যের সৌন্দর্যের জন্য
- ঘবাক্যকে অলংকৃত করার জন্য
সঠিক উত্তর: খ. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
প্রশ্নটা বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্নের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে। বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয় বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে, আর পড়ার সময় কোথায় কতক্ষণ থামতে হবে তা বোঝাতে।
একটি কমার জায়গা বদলালেই অর্থ উল্টে যেতে পারে। যেমন “এখানে প্রস্রাব করবেন না, করলে জরিমানা” মানে কাজটি নিষেধ; আর “এখানে প্রস্রাব করবেন, না করলে জরিমানা” মানে কাজটি করতেই হবে। শব্দ একই, শুধু কমার জায়গা আলাদা।
লেখায় কণ্ঠস্বরের ওঠানামা থাকে না; সেই কাজটাই করে দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক, বিস্ময়সূচক চিহ্ন। এতে বাক্যের ভাব ও অর্থ পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়।
ফাঁদ হলো সৌন্দর্য বা অলংকার: সঠিক যতিচিহ্নে লেখা সুন্দরও দেখায়, কিন্তু সেটা মূল উদ্দেশ্য নয়।
মনে রাখুন: বিরামচিহ্নের উদ্দেশ্যের প্রশ্নে “অর্থ স্পষ্ট করা” শব্দ দুটি খুঁজুন।
২৮৮. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গল্প নয়? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কএকরাত্রি
- খনষ্টনীড়
- গসমাপ্তি
- ঘঅনির্বাণ
সঠিক উত্তর: ঘ. অনির্বাণ
প্রশ্নটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প চেনা নিয়ে। একরাত্রি, নষ্টনীড় আর সমাপ্তি তিনটিই রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ছোটগল্প, গল্পগুচ্ছে সংকলিত। অনির্বাণ তাঁর গল্প নয়।
একরাত্রি এক স্কুলশিক্ষকের বাল্যপ্রেমের স্মৃতি নিয়ে। নষ্টনীড়ে চারু ও অমলের সম্পর্ক, এটি থেকে সত্যজিৎ রায় চারুলতা চলচ্চিত্র বানান। সমাপ্তির কেন্দ্রে চঞ্চল মেয়ে মৃন্ময়ী।
রবীন্দ্রনাথকে বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয়; তাঁর প্রথম সার্থক ছোটগল্প দেনাপাওনা। আরও বিখ্যাত গল্প: পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, ছুটি, হৈমন্তী, শাস্তি।
কৌশল: চেনা তিনটি গল্প নিশ্চিত হলে বাকিটাই উত্তর। “অনির্বাণ” শব্দটা কাব্যিক বলে রবীন্দ্রনাথের মনে হতে পারে, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের গল্পের নাম ছোট আর ঘরোয়া: ছুটি, শাস্তি, দেনাপাওনা, সমাপ্তি।
২৮৯. কোন বাক্যে ‘কথা' শব্দটি তুলনা অর্থে ব্যবহৃত? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কসেঁজুতির সাথে আমার কথা নাই।
- খলোকটির যেই কথা সেই কাজ।
- গআমাদের পাড়ায় একটি স্কুল খোলার কথা চলছে।
- ঘতুমি ধনীর ছেলে, তোমার সাথে কার কথা।
সঠিক উত্তর: ঘ. তুমি ধনীর ছেলে, তোমার সাথে কার কথা।
প্রশ্নটা একই শব্দের ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ নিয়ে। “তুমি ধনীর ছেলে, তোমার সাথে কার কথা” মানে তোমার সঙ্গে কার তুলনা হয়, কেউ তোমার সমান নয়। এখানে কথা শব্দটি তুলনা অর্থে।
অন্য বাক্যগুলোতে কথার অর্থ আলাদা। সেঁজুতির সাথে আমার কথা নাই মানে বাক্যালাপ বা সম্পর্ক নেই। যেই কথা সেই কাজ মানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ। স্কুল খোলার কথা চলছে মানে প্রস্তাব বা আলোচনা চলছে।
এমন প্রশ্নে প্রতিটি বাক্যে কথা শব্দের জায়গায় একটি সমার্থক শব্দ বসিয়ে দেখুন। যেটিতে “তুলনা” বসালে অর্থ ঠিক থাকে, সেটিই উত্তর।
ফাঁদ হলো প্রথম বাক্য: সেখানেও দুজনের সম্পর্ক বোঝায় বলে তুলনা মনে হতে পারে, কিন্তু অর্থ আসলে বাক্যালাপ।
মনে রাখুন: শব্দের অর্থ-প্রয়োগের প্রশ্নে বিকল্পের অর্থটা বাক্যে বসিয়ে পড়ুন; যেটায় মানে ঠিক থাকে সেটাই।
২৯০. মূলত কিসের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কশ্বাস ত্যাগ
- খশ্বাস গ্রহণ
- গচিৎকার করা
- ঘগান গাওয়া
সঠিক উত্তর: ক. শ্বাস ত্যাগ
প্রশ্নটা ধ্বনি উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে। ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস, অর্থাৎ শ্বাস ত্যাগের সময়, বাগ্যন্ত্রের নানা জায়গায় বাধা পেয়ে ধ্বনি তৈরি হয়।
বাতাস কণ্ঠনালি, মুখগহ্বর, জিহ্বা, দাঁত, ঠোঁট বা নাকের কোথাও বাধা পায়। কোথায় ও কতটা বাধা পেল, তার উপর নির্ভর করে কোন ধ্বনি তৈরি হবে। স্বরধ্বনিতে বাধা প্রায় থাকে না, ব্যঞ্জনধ্বনিতে বাধা থাকে।
এই বাতাস বেরোনোর প্রক্রিয়াই শ্বাস ত্যাগ। শ্বাস নেওয়ার সময় আমরা সাধারণত কথা বলি না।
ফাঁদ হলো চিৎকার বা গান গাওয়া: এগুলো ধ্বনি ব্যবহারের উদাহরণ, ধ্বনি তৈরির মূল প্রক্রিয়া নয়।
মনে রাখুন: ধ্বনি উৎপাদনের প্রশ্নে মূল শব্দ: ফুসফুস-তাড়িত বাতাস, অর্থাৎ শ্বাস ত্যাগ।
২৯১. কোনটি হতভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কআট কপালে
- খGoat
- গছা-পোষা
- ঘগোঁফ খেজুরে
সঠিক উত্তর: ক. আট কপালে
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ নিয়ে। আট কপালে মানে হতভাগ্য বা মন্দভাগ্য মানুষ। কপাল বলতে ভাগ্য বোঝায়; যার কপালে একের পর এক দুর্ভাগ্য, তাকে আট কপালে বলা হয়।
অন্যগুলো দেখুন। ছা-পোষা মানে অনেক সন্তানের ভরণপোষণে ব্যস্ত গরিব গৃহস্থ। গোঁফ খেজুরে মানে অতিশয় অলস, এত অলস যে গোঁফে পড়া খেজুরও মুখে তোলে না।
হতভাগ্য অর্থের আরেকটি পরিচিত বাগ্ধারা পোড়া কপাল। কপাল শব্দ থাকলেই ভাগ্যের কথা ভাবুন।
ফাঁদ হলো ছা-পোষা: এতে কষ্টের ছবি আছে বলে হতভাগ্য মনে হয়, কিন্তু এর অর্থ সংসারভারে ক্লিষ্ট গৃহস্থ।
মনে রাখুন: কপাল যুক্ত বাগ্ধারা মানেই ভাগ্যের কথা; আট কপালে, পোড়া কপাল দুটোই হতভাগ্য।
২৯২. 'তিতাস একটি নদীর নাম', বাক্যে 'নদী' কোন প্রকার বিশেষ্য? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কজাতিবাচক
- খনামবাচক
- গবস্তুবাচক
- ঘসমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর: ক. জাতিবাচক
প্রশ্নটা বিশেষ্যের প্রকারভেদ নিয়ে। নদী শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম নয়; পদ্মা, মেঘনা, তিতাস সব নদীকে একসঙ্গে বোঝায়। একই জাতির সব বস্তুকে বোঝালে তা জাতিবাচক বিশেষ্য।
বাক্যে তিতাস হলো নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট নদীর নাম। কিন্তু প্রশ্ন জানতে চেয়েছে নদী শব্দের প্রকার।
একইভাবে মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, শহর জাতিবাচক; আর রবীন্দ্রনাথ, হিমালয়, ঢাকা নামবাচক।
ফাঁদ হলো নামবাচক: বাক্যে “নাম” শব্দটা আছে এবং তিতাস নামবাচক, তাই অনেকে নদীকেও নামবাচক ধরেন।
মনে রাখুন: নির্দিষ্ট একটা নাম হলে নামবাচক, পুরো শ্রেণি হলে জাতিবাচক।
২৯৩. 'সংসার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ- (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কসং + সার
- খসাং + সার
- গসম্ + সার
- ঘসম + সার
সঠিক উত্তর: গ. সম্ + সার
প্রশ্নটা ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ে। সংসার শব্দের বিচ্ছেদ সম্ যোগ সার। উপসর্গ সম্-এর শেষে হসন্তযুক্ত ম্ আছে।
নিয়ম: ম্-এর পরে য, র, ল, ব, শ, ষ, স, হ এলে ম্ বদলে অনুস্বার হয়। তাই সম্ যোগ সার থেকে ম্ হয়ে যায় ং, আর শব্দটি দাঁড়ায় সংসার।
একই নিয়মে সম্ যোগ যোগ হয় সংযোগ, সম্ যোগ রক্ষণ হয় সংরক্ষণ, সম্ যোগ শয় হয় সংশয়, সম্ যোগ হার হয় সংহার, সম্ যোগ বাদ হয় সংবাদ।
ফাঁদ হলো সং যোগ সার: শব্দে যা দেখা যাচ্ছে তা-ই ভেঙে লেখা। কিন্তু সন্ধিবিচ্ছেদে মূল রূপে ফিরতে হয়, আর অনুস্বারের মূল রূপ এখানে ম্। আবার হসন্ত ছাড়া সম লিখলে অর্থ দাঁড়ায় সমান।
মনে রাখুন: সং দিয়ে শুরু তৎসম শব্দের বিচ্ছেদে প্রায় সবসময় সম্: সংযোগ, সংরক্ষণ, সংশয়, সংহার, সংবাদ।
২৯৪. যা বাক্য ও মনের অগোচরে তাকে কি বলে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কঅনাস্বাদিতপূর্ব
- খবিবমিষা
- গমনসিজ
- ঘঅবাঙমানসগোচর
সঠিক উত্তর: ঘ. অবাঙমানসগোচর
প্রশ্নটা বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ নিয়ে। যা বাক্য ও মনের অগোচর, অর্থাৎ ভাষায় বলা যায় না, মনে কল্পনাও করা যায় না, তাকে বলে অবাঙ্মনসগোচর।
শব্দটা ভাঙলে: অ মানে নয়, বাক্ মানে বাক্য বা কথা, মনস্ মানে মন, গোচর মানে জানার বিষয়। বাক্ আর মনসের গোচর নয়, এমন কিছু। সাধারণত ঈশ্বর বা পরম সত্তা বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
শুদ্ধ বানান অবাঙ্মনসগোচর: ঙ-এর পরে হসন্ত, আর মনস-এ ন-এর পর আ-কার নেই। প্রশ্নের বিকল্পে ছাপা হয়েছে অবাঙমানসগোচর; বানান আলাদা হলেও উত্তর এটিই।
অন্য বিকল্পগুলোও পরীক্ষায় আসে: অনাস্বাদিতপূর্ব মানে যা আগে আস্বাদ করা হয়নি, বিবমিষা মানে বমি করার ইচ্ছা, মনসিজ মানে মনে জন্মে যা, অর্থাৎ কামদেব বা প্রেম।
মনে রাখুন: বাক্ আর মন দুটো শব্দই প্রশ্নে থাকলে উত্তরে বাক্ (বাঙ্) আর মনস দুটোই খুঁজুন।
২৯৫. যা পূর্বে দেখা যায় নি- এক কথায় কী হবে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কঅদৃষ্ট
- খঅদৃষ্টপূর্ব
- গঅপূর্ব
- ঘদৃষ্টপূর্ব
সঠিক উত্তর: খ. অদৃষ্টপূর্ব
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ নিয়ে। যা পূর্বে দেখা যায়নি, তাকে বলে অদৃষ্টপূর্ব।
শব্দটা গড়ে উঠেছে তিন অংশে: অ মানে নয়, দৃষ্ট মানে দেখা, পূর্ব মানে আগে। আগে দেখা হয়নি, এমন। একই ছাঁচে অশ্রুতপূর্ব মানে আগে শোনা যায়নি, অভূতপূর্ব মানে আগে ঘটেনি।
তুলনা করুন: দৃষ্টপূর্ব মানে আগে দেখা হয়েছে, ঠিক উল্টো অর্থ। অদৃষ্ট মানে ভাগ্য, যা চোখে দেখা যায় না।
ফাঁদ হলো অপূর্ব: এর অর্থ আশ্চর্য সুন্দর বা আগে যার তুলনা নেই, কিন্তু আগে না-দেখার অর্থ এতে স্পষ্ট নয়।
মনে রাখুন: পূর্বে হয়নি অর্থ হলে শব্দের শেষে পূর্ব আর শুরুতে অ: অদৃষ্টপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অভূতপূর্ব।
২৯৬. বাক্যের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে অন্বয় সাধনের জন্য যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের কি বলে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কসমাস
- খবিভক্তি
- গকারক
- ঘসম্বন্ধ পদ
সঠিক উত্তর: খ. বিভক্তি
প্রশ্নটা বিভক্তির সংজ্ঞা নিয়ে। বাক্যের অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বা অন্বয় তৈরির জন্য শব্দের শেষে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে।
যেমন “ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন” বাক্যে ছাদ-এর সঙ্গে এ, শিশু-র সঙ্গে কে যুক্ত হয়েছে। এগুলোই বিভক্তি; এরা না থাকলে শব্দগুলো বাক্যে কীভাবে জুড়বে, বোঝা যেত না।
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাংলা শব্দবিভক্তি মূলত সাতটি: প্রথমা থেকে সপ্তমী। ক্রিয়ার সঙ্গেও বিভক্তি যুক্ত হয়, তাকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
ফাঁদ হলো কারক: কারক হলো ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনামের সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্ক প্রকাশ করার চিহ্ন হলো বিভক্তি। অর্থাৎ কারক সম্পর্ক, বিভক্তি তার চিহ্ন।
মনে রাখুন: শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বর্ণ বা চিহ্নের কথা থাকলে উত্তর বিভক্তি; সম্পর্কের কথা থাকলে কারক।
২৯৭. সংস্কৃত থেকে আগত অপরিবর্তিত শব্দের নাম কি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কতৎসম শব্দ
- খদেশী শব্দ
- গবিদেশী শব্দ
- ঘঅর্ধতৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর: ক. তৎসম শব্দ
প্রশ্নটা উৎস অনুযায়ী বাংলা শব্দের শ্রেণি নিয়ে। সংস্কৃত থেকে যে শব্দ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় এসেছে, তাকে তৎসম শব্দ বলে। তৎ মানে তার, সম মানে সমান: অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
যেমন চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য। এগুলো সংস্কৃতে যেমন, বাংলাতেও তেমন।
যে সংস্কৃত শব্দ সামান্য বদলে এসেছে, তা অর্ধতৎসম, যেমন জ্যোৎস্না থেকে জ্যোছনা, গৃহিণী থেকে গিন্নি। আর প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে পুরো বদলে এলে তদ্ভব, যেমন হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ।
ফাঁদ হলো অর্ধতৎসম: নামে তৎসম আছে বলে বিভ্রান্তি হয়, কিন্তু অর্ধতৎসম মানেই কিছুটা বিকৃত।
মনে রাখুন: তৎসম = তার সমান; অপরিবর্তিত সংস্কৃত মানেই তৎসম।
২৯৮. বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আয়ুবের অবদানের প্রধান ক্ষেত্র কোনটি? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- ককথা সাহিত্য
- খউপন্যাস
- গনাটক
- ঘপ্রবন্ধ
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রবন্ধ
প্রশ্নটা আবু সয়ীদ আইয়ুবের সাহিত্যক্ষেত্র নিয়ে। তিনি মূলত প্রবন্ধকার ও দার্শনিক সমালোচক; বিশেষ করে রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে তাঁর মননশীল প্রবন্ধের জন্য খ্যাত।
তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ এবং পান্থজনের সখা। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতা নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা সংকলনও সম্পাদনা করেন।
তাঁর জন্ম ১৯০৬ সালে কলকাতায়। মূলত দর্শনের মানুষ হওয়ায় তাঁর লেখায় সাহিত্য, নন্দনতত্ত্ব ও দর্শন মিশে আছে; আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে, পান্থজনের সখা ১৯৭৩ সালে।
ফাঁদ হলো কথাসাহিত্য ও উপন্যাস: তিনি গল্প-উপন্যাস লেখেননি। উপন্যাস নিজেও কথাসাহিত্যের অংশ, তাই এ দুটি বিকল্প আসলে একই দিকের।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দার্শনিক আলোচনা মানেই আবু সয়ীদ আইয়ুব, প্রবন্ধ।
২৯৯. 'ন্যাকামিটা এখন রাখ' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সাথে 'টা' যুক্ত হয়ে কোন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- কসার্থকতা
- খনিরর্থকতা
- গব্যর্থতা
- ঘভিন্নার্থকতা
সঠিক উত্তর: খ. নিরর্থকতা
প্রশ্নটা নির্দেশক টা-এর বিশেষ ব্যবহার নিয়ে। সাধারণত টা যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট করে, যেমন বইটা মানে নির্দিষ্ট একটি বই। কিন্তু ন্যাকামিটা এখন রাখ বাক্যে টা কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বোঝাচ্ছে না।
এখানে টা বাদ দিলেও, ন্যাকামি এখন রাখ, অর্থ একই থাকে। অর্থে নতুন কিছু যোগ না করে শুধু বলার ভঙ্গি ও বিরক্তির সুর আনায় এ ধরনের প্রয়োগকে টা-এর নিরর্থক ব্যবহার ধরা হয়।
টা-এর অন্য ব্যবহারও জানুন: নির্দিষ্টতা বোঝাতে, যেমন কলমটা; তুচ্ছতা বা অবজ্ঞা বোঝাতে, যেমন লোকটা; আর সংখ্যার সঙ্গে, যেমন একটা, দুটা।
ফাঁদ হলো সার্থকতা ও ব্যর্থতা: নামে কাছাকাছি হলেও এগুলো কাজের ফলাফল বোঝায়, শব্দে টা-এর কাজ নয়।
মনে রাখুন: টা বাদ দিয়ে বাক্যটা পড়ুন; অর্থ না বদলালে টা নিরর্থক।
৩০০. কোথায় থাকা হয়? এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? (জনতা ব্যাংক: অফিসার, রুরাল ক্রেডিট) (২০২৩)
- ককর্মবাচ্যের
- খভাববাচ্যের
- গকর্তৃবাচ্যের
- ঘকর্তৃকর্মবাচ্যের
সঠিক উত্তর: খ. ভাববাচ্যের
প্রশ্নটা বাচ্য নির্ণয় নিয়ে। “কোথায় থাকা হয়” বাক্যে কোনো কর্তা নেই, কর্মও নেই; প্রধান হয়ে উঠেছে ক্রিয়ার ভাব, অর্থাৎ থাকার কাজটি। এমন বাক্যকে ভাববাচ্য বলে।
ভাববাচ্যের চিহ্ন: ক্রিয়া বিশেষ্যের মতো রূপ নেয়, যেমন থাকা, যাওয়া, খাওয়া, আর সঙ্গে হয়, যায়, চলে ধরনের ক্রিয়া বসে। যেমন: এখন যাওয়া যাক, তোমার কী খাওয়া হলো।
কর্তৃবাচ্যে হলে বলতে হতো: আপনি কোথায় থাকেন। কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান থাকে, যেমন চোর ধরা পড়েছে। কর্মকর্তৃবাচ্যে কর্মই কর্তার মতো কাজ করে, যেমন বাঁশি বাজে।
ফাঁদ হলো কর্মবাচ্য: “হয়” দেখে অনেকে কর্মবাচ্য ভাবেন। কিন্তু কর্মবাচ্যে একটি কর্ম থাকে, যেমন “চিঠি লেখা হয়েছে” বাক্যে চিঠি; এখানে কোনো কর্মই নেই।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার বিশেষ্য রূপ (থাকা, যাওয়া, খাওয়া) + হয়/যায়, আর কর্ম নেই: ভাববাচ্য।