বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৩
৪৪১. নিচের কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কশনিবারের চিঠি
- খবঙ্গদর্শন
- গতত্ত্ববোধিনী
- ঘসংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর: ক. শনিবারের চিঠি
প্রশ্নটা চায় কোন পত্রিকা বিশ শতকে, মানে ১৯০১ বা তার পরে প্রকাশিত। বাকি তিনটি উনিশ শতকের নামকরা পত্রিকা, তাই প্রত্যেকটার প্রকাশকাল জানলেই উত্তর পরিষ্কার।
সংবাদ প্রভাকর ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের হাতে শুরু; পরে এটি বাংলার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হয়। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৮৪৩ সালে, ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র, সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত। বঙ্গদর্শন ১৮৭২ সালে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায়।
শনিবারের চিঠি প্রকাশ শুরু হয় ১৯২৪ সালে, আর সজনীকান্ত দাসের সম্পাদনায় এটি ব্যঙ্গ ও সমালোচনার পত্রিকা হিসেবে বিখ্যাত হয়। তাই এটিই বিশ শতকের পত্রিকা।
বঙ্গদর্শন নামটা রবীন্দ্রনাথের নব পর্যায়ের বঙ্গদর্শনের কারণে, যা ১৯০১ সালে শুরু, অনেককে বিভ্রান্ত করে। তবে মূল বঙ্গদর্শন বঙ্কিমের, উনিশ শতকের।
মনে রাখুন: সাল ১৮ দিয়ে শুরু হলে উনিশ শতক, ১৯ দিয়ে শুরু হলে বিশ শতক; শতকের নাম সালের প্রথম দুই অঙ্কের চেয়ে এক বেশি।
৪৪২. নিচের কোনটি উপন্যাস নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদিবারাত্রির কাব্য
- খশেষের কবিতা
- গপল্লী-সমাজ
- ঘকবিতার কথা
সঠিক উত্তর: ঘ. কবিতার কথা
প্রশ্নটি চারটি গ্রন্থের মধ্যে যেটি উপন্যাস নয় সেটি খুঁজছে। ‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ, যেখানে তিনি কবিতা ও কবির স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বাকি তিনটি উপন্যাস। ‘দিবারাত্রির কাব্য’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস। ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, যার নায়ক অমিত আর নায়িকা লাবণ্য। ‘পল্লী-সমাজ’ শরৎচন্দ্রের উপন্যাস।
এখানে কৌশল হলো নামে ‘কাব্য’ বা ‘কবিতা’ থাকলেই বইটি কাব্য বা কবিতা বিষয়ক নয়। দিবারাত্রির কাব্য আর শেষের কবিতা দুটোই উপন্যাস।
উল্টো দিকে কবিতার কথা নামটি শুনলে কাব্যগ্রন্থ মনে হয়, কিন্তু এটি প্রবন্ধ।
মনে রাখুন: নামে কাব্য বা কবিতা থাকলেই কাব্যগ্রন্থ নয়: দিবারাত্রির কাব্য আর শেষের কবিতা উপন্যাস।
৪৪৩. ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থ কে রচনা করেছেন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কদীনেশচন্দ্র সেন
- খগোপাল হালদার
- গআহমদ শরীফ
- ঘসুকুমার সেন
সঠিক উত্তর: গ. আহমদ শরীফ
প্রশ্নটি ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থের লেখক জানতে চেয়েছে। গ্রন্থটি ড. আহমদ শরীফের, দুই খণ্ডে লেখা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
আহমদ শরীফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষক ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ। মধ্যযুগের বহু পুঁথি সম্পাদনা তাঁর বড় অবদান।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লিখেছেন আরও অনেকে, তাই নামগুলো আলাদা করে মনে রাখুন। দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’, সুকুমার সেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’, গোপাল হালদার ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা’।
ফাঁদ হলো নামগুলোর প্রায় একই শব্দ: বাঙালি, বাংলা, সাহিত্য। শিরোনামের সামান্য পার্থক্যই উত্তর ঠিক করে।
মনে রাখুন: বাঙালি ও বাঙলা: আহমদ শরীফ; বঙ্গভাষা: দীনেশ; ইতিহাস: সুকুমার; রূপরেখা: গোপাল।
৪৪৪. ‘খোকা’ ও ‘রঞ্জু’ মাহমুদুল হক-এর কোন উপন্যাসের চরিত্র? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককালো বরফ
- খখেলাঘর
- গঅনুর পাঠশালা
- ঘজীবন আমার বোন
সঠিক উত্তর: ঘ. জীবন আমার বোন
প্রশ্নটা মাহমুদুল হকের উপন্যাস ও চরিত্র চেনা যাচাই করছে। খোকা আর তার ছোট বোন রঞ্জু মাহমুদুল হকের ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৭১ সালের অস্থির মার্চের ঢাকা। খোকা এক দ্বিধাগ্রস্ত যুবক, আর বোন রঞ্জুকে ঘিরে তার ভালোবাসা ও উদ্বেগ উপন্যাসের কেন্দ্রে।
শিরোনামেই ‘বোন’ শব্দটা আছে, আর রঞ্জু খোকার বোন; এই মিলটা মনে রাখলেই উত্তর সহজ।
বাকি তিনটি বিকল্পও মাহমুদুল হকের উপন্যাস, তাই লেখক চিনে লাভ নেই; চরিত্র চিনতে হবে। এটাই এই প্রশ্নের ফাঁদ।
মনে রাখুন: শিরোনামে ‘বোন’, আর রঞ্জু খোকার বোন।
৪৪৫. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককবর
- খবহিপীর
- গপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- ঘওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর: খ. বহিপীর
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক চিনতে চেয়েছে। ‘বহিপীর’ তাঁর বিখ্যাত নাটক, যেখানে পীরের ভণ্ডামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মূলত ঔপন্যাসিক: লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো। নাটক হিসেবে বহিপীরের পাশাপাশি তরঙ্গভঙ্গ ও সুড়ঙ্গও তাঁর লেখা।
বাকি তিনটি নাটক অন্যদের। ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর, ভাষা আন্দোলন নিয়ে কারাগারে লেখা। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। ‘ওরা কদম আলী’ মামুনুর রশীদের।
লালসালু আর বহিপীর দুটিতেই পীরপ্রথার সমালোচনা, তাই এই মিল মনে রাখলে উত্তর সহজ হয়।
মনে রাখুন: লালসালুর লেখকই বহিপীরের নাট্যকার; দুটিতেই পীরপ্রথার সমালোচনা।
৪৪৬. মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’ একটি – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কমহাকাব্য
- খইতিহাস গ্রন্থ
- গউপন্যাস
- ঘইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ
সঠিক উত্তর: গ. উপন্যাস
প্রশ্নটি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ কোন ধরনের রচনা তা জানতে চেয়েছে। এটি মীর মশাররফ হোসেনের ইতিহাস-আশ্রিত উপন্যাস, যার বিষয় কারবালার বিষাদময় ঘটনা।
উপন্যাসটি তিন পর্বে প্রকাশিত হয়: মহরম পর্ব ১৮৮৫, উদ্ধার পর্ব ১৮৮৭ আর এজিদবধ পর্ব ১৮৯১। পরে তিনটি একসঙ্গে এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
ঘটনা ইতিহাস থেকে নেওয়া হলেও লেখক কল্পনা, আবেগ আর নাটকীয়তা মিশিয়ে কাহিনি সাজিয়েছেন। ইতিহাস হুবহু লেখা হয়নি বলেই এটি ইতিহাস গ্রন্থ নয়, উপন্যাস।
ফাঁদ হলো মহাকাব্য। বিষয়টি বীরত্ব ও ট্র্যাজেডির, আর নামেও সিন্ধুর বিশালতা আছে; কিন্তু বইটি গদ্যে লেখা, তাই মহাকাব্য নয়।
মনে রাখুন: বিষাদ-সিন্ধু: কারবালার কাহিনি, তিন পর্ব, গদ্যে লেখা উপন্যাস।
৪৪৭. ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআবদুল কাদের
- খখতিব মিয়া
- গআক্কাস আলী
- ঘআরেফ আলী
সঠিক উত্তর: ঘ. আরেফ আলী
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে। উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম আরেফ আলী।
এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী বাঁশঝাড়ে একটি যুবতী নারীর মৃতদেহ দেখে, আর জানতে পারে এর সঙ্গে জড়িত বড়বাড়ির কাদের। সত্য প্রকাশ করবে কি না, এই নৈতিক দ্বন্দ্বই উপন্যাসের কেন্দ্র। এটি বাংলা সাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক বা অস্তিত্ববাদী উপন্যাসের দৃষ্টান্ত।
ফাঁদ হলো আবদুল কাদের। কাদের উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, কিন্তু সে শিক্ষক নয়, বড়বাড়ির লোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আক্কাস আলী নামটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আরেক উপন্যাস ‘লালসালু’র, যেখানে সে গ্রামে স্কুল চাওয়া শিক্ষিত যুবক।
মনে রাখুন: চাঁদের অমাবস্যা: শিক্ষক আরেফ, অপরাধী কাদের। লালসালু: মজিদ, জমিলা, আক্কাস।
৪৪৮. ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ – পংক্তিটির রচয়িতা- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবিদ্যাপতি
- খরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গগোবিন্দদাস
- ঘকৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্নের পঙ্ক্তিটি দেখতে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদের মতো, কিন্তু এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। কিশোর বয়সে তিনি ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় কিছু পদ লেখেন, যা ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে ১৮৮৪ সালে বই হয়ে বের হয়।
পদগুলো বিদ্যাপতির ঢঙে লেখা, তাই শুনতে প্রাচীন মনে হয়। ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ এই সংকলনের বিখ্যাত পদ, যেখানে মৃত্যুকে প্রিয়তম শ্যামের মতো আপন বলা হয়েছে।
বিকল্পের অন্যরা প্রকৃত মধ্যযুগের কবি। বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষার কবি; তাঁর পদের অনুকরণেই বাংলায় ব্রজবুলিতে পদ লেখার ধারা গড়ে ওঠে। গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির অনুসারী, তাঁকে দ্বিতীয় বিদ্যাপতি বলা হয়। কৃষ্ণদাস কবিরাজ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’র লেখক।
ফাঁদ হলো বিদ্যাপতি, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠিক তাঁর অনুকরণেই পদগুলো লিখেছিলেন।
মনে রাখুন: ব্রজবুলির পদে ‘মরণ’, ‘ভানু’ বা আধুনিক অনুভব দেখলে রবীন্দ্রনাথের ভানুসিংহ পদাবলী ভাবুন।
৪৪৯. সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনারীর মূল্য
- খরায়তের কথা
- গবীরবলের হালখাতা
- ঘতেল নুন লাকড়ী
সঠিক উত্তর: গ. বীরবলের হালখাতা
বাংলা গদ্যে চলিত রীতিকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল, আর বীরবলের হালখাতা গ্রন্থকেই সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ ধরা হয়।
প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে চলিত গদ্যরীতি সাহিত্যে জায়গা পায়। এই চলিত রীতিতে লেখা তাঁর প্রবন্ধের সংকলন বীরবলের হালখাতা।
বিকল্পের তেল-নুন-লকড়ি আর রায়তের কথাও প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ, তাই এগুলোই বড় ফাঁদ। কিন্তু প্রথম চলিত গ্রন্থের স্বীকৃতি বীরবলের হালখাতার।
নারীর মূল্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধগ্রন্থ, যা তিনি অনিলা দেবী ছদ্মনামে লেখেন।
মনে রাখুন: প্রশ্নে 'চলিত ভাষা' আর 'প্রথম' থাকলে নামের ভেতর 'বীরবল' খুঁজুন; বীরবল মানেই প্রমথ চৌধুরী।
৪৫০. 'একদিন পাপের ফল ফলবে'- এখানে 'একদিন' কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কঅধিকরণে শূন্য
- খঅধিকরণে ২য়া
- গঅধিকরণে ৩য়া
- ঘঅধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: ক. অধিকরণে শূন্য
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময় বা স্থানকে বলে অধিকরণ কারক। সময় বোঝালে তাকে বলে কালাধিকরণ।
বাক্যে প্রশ্ন করি: পাপের ফল কখন ফলবে? উত্তর: একদিন। তাই একদিন কালাধিকরণ কারক।
একদিন শব্দের সঙ্গে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যেমন এ, তে, য় যুক্ত নেই; শব্দটি যেমন আছে তেমনই বসেছে। এমন হলে বলা হয় শূন্য বিভক্তি। তাই উত্তর: অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।
সময়বাচক শব্দে সপ্তমী বা এ বিভক্তি বেশি দেখা যায়, যেমন সকালে, রাতে; তাই অনেকে অধিকরণে সপ্তমী বেছে নেন। কিন্তু এখানে একদিন শব্দে এ যুক্ত নেই।
মনে রাখুন: কখন প্রশ্নের উত্তর হলে অধিকরণ; শব্দে কোনো চিহ্ন না থাকলে শূন্য। যেমন: রবিবার দোকান বন্ধ, আজ বৃষ্টি হবে।
৪৫১. 'রাতের মধ্যভাগ' এক কথায় প্রকাশ কি হবে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কমাঝরাত্রি
- খমধ্যাহ্ন
- গমহানিশা
- ঘঅনামাশী
সঠিক উত্তর: গ. মহানিশা
এক কথায় প্রকাশে একটি বাক্যাংশকে একটি নির্দিষ্ট শব্দে বলা হয়। রাতের মধ্যভাগ বা গভীর রাতকে এক কথায় বলে মহানিশা।
নিশা মানে রাত। মহা যুক্ত হয়ে মহানিশা বোঝায় রাতের সবচেয়ে গভীর অংশ, অর্থাৎ মধ্যরাত। একই অর্থে নিশীথ শব্দও ব্যবহৃত হয়।
দিনের মধ্যভাগকে বলে মধ্যাহ্ন, আর দিনের শেষ ভাগকে অপরাহ্ণ। তাই মধ্যাহ্ন দিনের, রাতের নয়।
মাঝরাত্রি অর্থে কাছাকাছি হলেও এটি সাধারণ সমাসবদ্ধ শব্দ, এক কথায় প্রকাশের নির্দিষ্ট শব্দ নয়। আর চতুর্থ বিকল্পটি সম্ভবত অমানিশা, যার অর্থ অমাবস্যার অন্ধকার রাত।
মনে রাখুন: মধ্যাহ্ন দিনের মাঝ, মহানিশা রাতের মাঝ, অমানিশা চাঁদহীন রাত।
৪৫২. বাংলাদেশের কোন স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির জন্য ঘুরে বেড়ান? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ককালিগ্রাম
- খসখিপুর
- গটুনির হাট
- ঘব্যারিস্টার বাজার
সঠিক উত্তর: ক. কালিগ্রাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার জন্য বর্তমান বাংলাদেশের তিনটি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় কাটান: কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আর নওগাঁর পতিসর।
পতিসর ছিল কালীগ্রাম পরগনার সদর কাছারি। তাই বিকল্পের কালিগ্রাম রবীন্দ্রনাথের জমিদারির স্মৃতিবিজড়িত এলাকা।
পতিসরে তিনি কৃষকদের জন্য কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং নোবেল পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ সেখানে দেন। জমিদারির এই সময়েই গল্পগুচ্ছের অনেক গল্প ও ছিন্নপত্রের চিঠি লেখা।
সখিপুর টাঙ্গাইলের একটি উপজেলা, আর বাকি দুটি নামও রবীন্দ্রনাথের জমিদারির সঙ্গে যুক্ত নয়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের জমিদারি = শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর (কালীগ্রাম)।
৪৫৩. 'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যটি কোন জাতীয় বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কজটিল বাক্য
- খসরল বাক্য
- গযৌগিক বাক্য
- ঘমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: খ. সরল বাক্য
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল বা মিশ্র, আর যৌগিক। যে বাক্যে একটি উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বিধেয় থাকে, সেটি সরল বাক্য।
রক্ষকই ভক্ষক বাক্যে উদ্দেশ্য রক্ষক, বিধেয় ভক্ষক। এখানে হয় বা হলো ক্রিয়াটি উহ্য আছে: রক্ষকই ভক্ষক হয়। ক্রিয়া উহ্য থাকলেও বাক্যটি একটি মাত্র অংশ নিয়ে গঠিত।
জটিল বাক্যে যে, যদি, যখন জাতীয় সাপেক্ষ শব্দ দিয়ে একটি প্রধান ও একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে। যৌগিক বাক্যে এবং, কিন্তু, অথবা দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য জোড়া থাকে।
এখানে কোনো খণ্ডবাক্য বা সংযোজক নেই, তাই এটি সরল বাক্য। মনে রাখবেন, জটিল আর মিশ্র বাক্য একই জিনিস, তাই এ দুটি একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না।
মনে রাখুন: প্রবাদ বা ছোট বাক্যে সাপেক্ষ শব্দ বা সংযোজক না থাকলে সরল। যেমন: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, সময় অমূল্য।
৪৫৪. 'অহি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাপ
- খহাতি
- গহরিণ
- ঘশশধর
সঠিক উত্তর: ক. সাপ
অহি একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ সাপ। সাপের আরও প্রতিশব্দ: সর্প, ভুজঙ্গ, ভুজগ, নাগ, ফণী, উরগ, আশীবিষ, পন্নগ।
এই প্রতিশব্দগুলোর পেছনে সাপের বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে আছে: উরগ মানে যে বুকে ভর দিয়ে চলে, ফণী মানে যার ফণা আছে, ভুজঙ্গ মানে যে বাঁকা হয়ে চলে।
হাতির প্রতিশব্দ হস্তী, গজ, করী, দ্বিপ; হরিণের প্রতিশব্দ মৃগ, কুরঙ্গ, সারঙ্গ। আর শশধর মানে চাঁদ, কারণ চাঁদের বুকে শশ বা খরগোশের মতো দাগ দেখা যায়।
অহি শব্দটি আরবি ওহি বা ঐশী বাণীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না; বাংলা প্রতিশব্দের প্রশ্নে অহি মানে সাপ।
মনে রাখুন: সাপের প্রতিশব্দ প্রায়ই ভুজঙ্গ, ফণী, উরগ, অহি; বিকল্পে এর একটি থাকলেই উত্তর।
৪৫৫. কোনটি নিত্য স্ত্রী বাচক শব্দ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসপত্নী
- খবিপত্রী
- গসতীন
- ঘবিধাতা
সঠিক উত্তর: গ. সতীন
কিছু শব্দ কেবল নারীকেই বোঝায়, এদের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই। এদের বলে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: সতীন, সৎমা, এয়ো, সধবা, দাই।
সতীন মানে একই স্বামীর অন্য স্ত্রী। এমন সম্পর্ক কেবল নারীর ক্ষেত্রেই হয়, তাই সতীনের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই। এজন্য সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের সবচেয়ে প্রচলিত উদাহরণ।
বিধাতা শব্দটি পুরুষবাচক, এর স্ত্রীবাচক রূপ বিধাত্রী; কর্তা থেকে কর্ত্রী, দাতা থেকে দাত্রী যেমন হয়। উল্টো দিকে কবিরাজ, অকৃতদার, বিপত্নীক হলো নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
সপত্নী সতীন শব্দেরই তৎসম রূপ, তাই এটিও অর্থে কেবল নারী বোঝায়; প্রশ্নে এটি থাকায় সতর্ক থাকুন। তবে পরীক্ষায় নিত্য স্ত্রীবাচকের আদর্শ উত্তর হিসেবে সতীনই ধরা হয়।
মনে রাখুন: সতীন, সৎমা, এয়ো, সধবা: সংসারের নারীসম্পর্ক, পুরুষ রূপ নেই।
৪৫৬. 'রেস্তোরাঁ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কচৈনিক
- খফারসি
- গপর্তুগিজ
- ঘফরাসি
সঠিক উত্তর: ঘ. ফরাসি
রেস্তোরাঁ শব্দটি এসেছে ফরাসি restaurant থেকে, যার অর্থ খাবারের দোকান বা হোটেল। শেষের চন্দ্রবিন্দু ফরাসি উচ্চারণের নাসিক্য ধ্বনির ছাপ।
বাংলায় ফরাসি ভাষার শব্দ কম, তাই কয়েকটি মুখস্থ রাখলেই চলে: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁ, বুর্জোয়া, ক্যাফে।
ফারসি আর ফরাসি নাম দুটো কাছাকাছি, এটাই বড় ফাঁদ। ফারসি ইরানের ভাষা, যেমন কারখানা, দোকান, বাদশাহ; আর ফরাসি ফ্রান্সের ভাষা।
পর্তুগিজ শব্দ: আনারস, আলমারি, বালতি, চাবি, গির্জা। চীনা শব্দ: চা, চিনি, লিচু।
মনে রাখুন: ফরাসি শব্দের মনে রাখার বাক্য: রেস্তোরাঁয় কুপন নিয়ে কার্তুজ কিনে ডিপোতে গেলাম।
৪৫৭. 'অম্বু' শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কজল
- খবাতাস
- গপাহাড়
- ঘপর্বত
সঠিক উত্তর: ক. জল
অম্বু একটি তৎসম শব্দ, অর্থ জল। জলের আরও প্রতিশব্দ: বারি, সলিল, নীর, অপ, উদক, তোয়, পানি, জীবন।
অম্বু থেকে তৈরি শব্দগুলোও পরীক্ষায় আসে। অম্বুদ মানে যে জল দেয়, অর্থাৎ মেঘ। অম্বুধি মানে জলের আধার, অর্থাৎ সাগর। অম্বুজ মানে জলে জন্মে, অর্থাৎ পদ্ম।
বাতাসের প্রতিশব্দ পবন, বায়ু, সমীরণ, অনিল; পাহাড় বা পর্বতের প্রতিশব্দ অচল, গিরি, ভূধর, শৈল।
অম্বর শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না: অম্বর মানে আকাশ বা কাপড়, আর অম্বু মানে জল।
মনে রাখুন: জলের প্রতিশব্দের সঙ্গে দ জুড়লে মেঘ (বারিদ, অম্বুদ, তোয়দ), ধি জুড়লে সাগর (বারিধি, অম্বুধি)।
৪৫৮. নিচের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসংশপ্তক
- খক্রীতদাসের হাসি
- গএকটি কালো মেয়ের কথা
- ঘচিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর: গ. একটি কালো মেয়ের কথা
একটি কালো মেয়ের কথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস, ১৯৭১ সালে লেখা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি গভীর সহমর্মিতা থেকে তিনি এটি লেখেন, আর এর প্রকাশ দেখার আগেই মারা যান।
উপন্যাসে সীমান্তে আটক এক তরুণ পুলিশের জেরার মুখে পঁচিশে মার্চের কালরাতে ঢাকার গণহত্যার বিবরণ দেয়। তাই এটি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।
বিকল্পের বাকি তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নয়। চিলেকোঠার সেপাই আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের, পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান; সময়টা কাছাকাছি বলে এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
সংশপ্তক শহীদুল্লা কায়সারের, পটভূমি দেশভাগের আগে-পরের গ্রামীণ সমাজ। ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমানের, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের রূপক।
মনে রাখুন: অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: রাইফেল রোটি আওরাত (আনোয়ার পাশা), নিষিদ্ধ লোবান (সৈয়দ শামসুল হক), জাহান্নাম হইতে বিদায় (শওকত ওসমান)।
৪৫৯. নিচের কোনটি 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশৈবালিনী
- খতরঙ্গিনী
- গস্রোতোবহা
- ঘলহরী
সঠিক উত্তর: ঘ. লহরী
প্রশ্নটা সমার্থক শব্দ চিনতে পারা যাচাই করছে। চারটি শব্দের মধ্যে তিনটি নদী বোঝায়, একটি বোঝায় নদীর সঙ্গে জড়িত অন্য কিছু; সেটাই খুঁজতে হবে।
নদীর অনেক সমার্থক শব্দ ইন যুক্ত নারীবাচক রূপে গড়া: শৈবালিনী মানে শৈবাল বা শেওলা আছে যার বুকে, তরঙ্গিণী মানে তরঙ্গ আছে যার, স্রোতোবহা মানে যে স্রোত বয়ে নেয়। তিনটিই নদী।
লহরী শব্দের অর্থ ঢেউ বা তরঙ্গ। ঢেউ নদীর অংশ, কিন্তু নদী নয়; তাই লহরী নদীর সমার্থক শব্দ নয়।
ফাঁদ হলো তরঙ্গিণী আর লহরী দুটোতেই ঢেউয়ের ভাব আছে। মনে রাখুন, তরঙ্গিণী মানে ঢেউ আছে যার, অর্থাৎ নদী; আর লহরী মানে শুধু ঢেউ।
মনে রাখুন: নদীর সমার্থক শব্দের বেশিরভাগ ‘-ইনী/-ইণী’ বা ‘-বহা/-বতী’ দিয়ে শেষ: তটিনী, তরঙ্গিণী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, কল্লোলিনী।
৪৬০. বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপরাকাষ্ঠা
- খপরাক্রান্ত
- গপরায়ণ
- ঘপরাভব
সঠিক উত্তর: ঘ. পরাভব
প্রশ্নটা ‘পরা’ উপসর্গের বিভিন্ন অর্থ যাচাই করছে। পরা একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ, আর এটি মূলত দুটি অর্থে বসে: আতিশয্য বা বেশি বোঝাতে, এবং বিপরীত বা উল্টো বোঝাতে।
আতিশয্য অর্থে: পরাক্রান্ত মানে অতি শক্তিশালী, পরাকাষ্ঠা মানে চরম সীমা। বিপরীত অর্থে: জয়ের উল্টো পরাজয়, আর পরাভব মানেও হার বা পরাজয়।
তাই বিপরীতার্থে পরা উপসর্গ যুক্ত শব্দ হলো পরাভব।
পরায়ণ শব্দের অর্থ কোনো কাজে তৎপর বা আসক্ত, যেমন কর্তব্যপরায়ণ। এখানে কোনো উল্টো অর্থ নেই, তাই এটি ফাঁদ।
মনে রাখুন: বিপরীত অর্থে পরা: পরাজয়, পরাভব। আতিশয্যে পরা: পরাক্রান্ত, পরাকাষ্ঠা।