বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৫
৪৮১. মৃত্যুঞ্জয়’ শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কমৃতঃ+জয়
- খমৃত্যুম্+জয়
- গমৃত্যুঃ+জয়
- ঘমৃত+ জয়
সঠিক উত্তর: খ. মৃত্যুম্+জয়
মৃত্যুঞ্জয় শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। এর বিচ্ছেদ মৃত্যুম্ যোগ জয়।
নিয়মটি হলো: ম্ এর পরে কোনো বর্গীয় ব্যঞ্জন, মানে ক থেকে ম পর্যন্ত কোনো বর্ণ এলে, ম্ বদলে যায় পরের বর্ণটির বর্গের পঞ্চম বর্ণে, মানে সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণে। জ হলো চ-বর্গের বর্ণ, আর চ-বর্গের পঞ্চম বর্ণ ঞ। তাই ম্ হয়ে যায় ঞ্, আর জ এর সঙ্গে মিলে হয় ঞ্জ।
একই নিয়মে সম্ যোগ চয় হয় সঞ্চয়, শম্ যোগ কর হয় শঙ্কর, সম্ যোগ তাপ হয় সন্তাপ, আর ধনম্ যোগ জয় হয় ধনঞ্জয়।
মৃত্যুঃ যোগ জয় অপশনটি বিসর্গসন্ধির মতো দেখায় বলে ফাঁদ; কিন্তু বিসর্গ থেকে কখনো ঞ তৈরি হয় না। ঞ্জ দেখলেই বুঝবেন পেছনে ম্ আছে।
মনে রাখুন: যুক্তবর্ণে ঙ্ক, ঞ্চ, ঞ্জ, ন্ত দেখলে বিচ্ছেদে প্রথম পদ সাধারণত ম্ দিয়ে শেষ হয়: শম্+কর, সম্+চয়, ধনম্+জয়।
৪৮২. ‘ভূষন্ডির কাক’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককপটচারী
- খদীর্ঘজীবী
- গচির অশান্তি
- ঘউভয় সংকট
সঠিক উত্তর: খ. দীর্ঘজীবী
ভূষণ্ডির কাক বাগ্ধারার অর্থ দীর্ঘজীবী, মানে যে মানুষ অনেক বছর ধরে বেঁচে আছেন। শুদ্ধ বানানে মূর্ধন্য ণ: ভূষণ্ডি, কারণ ট-বর্গের ড এর আগে ণত্ব বিধানে ণ বসে।
পৌরাণিক কাহিনিতে ভুশুণ্ডি নামের এক কাকের কথা আছে, যে যুগের পর যুগ বেঁচে থেকে বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বলে কথিত। সেখান থেকেই অনেক দিন বেঁচে থাকা মানুষকে বলা হয় ভূষণ্ডির কাক। যেমন: গ্রামের ওই বৃদ্ধ যেন ভূষণ্ডির কাক, তিন প্রজন্মের ইতিহাস তাঁর মুখস্থ।
অন্য অর্থগুলোর জন্য আলাদা বাগ্ধারা আছে: কপটচারী বোঝাতে বিড়াল তপস্বী, উভয় সংকট বোঝাতে শাঁখের করাত, আর চির অশান্তি বোঝাতে রাবণের চিতা।
কাক শুনে অনেকে ধূর্ত বা কপট অর্থ ধরে নেন; কিন্তু এখানে কাকের বৈশিষ্ট্য তার দীর্ঘ আয়ু।
মনে রাখুন: অপশনের প্রতিটি অর্থের জন্য একটি করে বাগ্ধারা মনে করুন; যেটি মেলে না, বাদ দিন।
৪৮৩. ‘কাছা ঢিলা’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কনির্জীব
- খসহজেই বিশ্বাসপ্রবণ
- গঅসাবধান
- ঘসামান্য
সঠিক উত্তর: গ. অসাবধান
কাছা ঢিলা বাগ্ধারার অর্থ অসাবধান বা অগোছালো। একই অর্থে কাছা আলগাও বলা হয়।
ধুতি পরার সময় পেছনে গুঁজে রাখা অংশকে কাছা বলে। কাছা ঢিলা থাকলে যেকোনো সময় খুলে যেতে পারে; যে মানুষ এমনভাবে চলেন, তিনি নিজের ব্যাপারে খেয়াল রাখেন না। সেখান থেকেই অর্থ দাঁড়িয়েছে অসাবধান। যেমন: ছেলেটা এমন কাছা ঢিলা যে প্রায়ই মানিব্যাগ হারায়।
সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ বোঝাতে আলাদা বাগ্ধারা আছে: কান পাতলা। ঢিলা শব্দ থেকে নির্জীব বা দুর্বল অর্থ ভেবে নেওয়া এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শরীর বা পোশাকের অংশ দিয়ে তৈরি বাগ্ধারা (কাছা ঢিলা, কান পাতলা) সাধারণত স্বভাব বোঝায়।
৪৮৪. ‘অহি’ শব্দটির সমার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কআগুন
- খজাল
- গগিরি
- ঘসাপ
সঠিক উত্তর: ঘ. সাপ
অহি একটি তৎসম শব্দ, এর অর্থ সাপ। তাই অহি এর সমার্থক শব্দ সাপ।
সাপের আরও কয়েকটি সমার্থক শব্দ পরীক্ষায় বারবার আসে: সর্প, ভুজঙ্গ, উরগ, নাগ, ফণী, আশীবিষ। সাপে-নেউলে সম্পর্ক বোঝাতে যে অহিনকুল শব্দ, সেখানেও অহি মানে সাপ।
অন্য অপশনগুলোর সমার্থক শব্দ আলাদা: আগুনের অনল, বহ্নি, পাবক; পাহাড়ের গিরি, শৈল, অচল। গিরি নিজেই পাহাড়ের সমার্থক, অহির নয়।
অহি আর অহ শব্দ গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি আছে; অহ মানে দিন, যেমন অহরহ বা পূর্বাহ্ণ।
মনে রাখুন: অহিনকুল (সাপে-নেউলে) শব্দটি মনে রাখলে অহি মানে সাপ ভুলবেন না।
৪৮৫. নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কপঞ্চগ্রাম
- খচার-ইয়ারী কথা
- গচতুষ্কোণ
- ঘচতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. চতুরঙ্গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস চতুরঙ্গ, প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে। শচীশ, দামিনী আর শ্রীবিলাসকে ঘিরে লেখা এই উপন্যাসের চারটি অংশ: জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী আর শ্রীবিলাস; চার অংশ বলেই নাম চতুরঙ্গ।
রবীন্দ্রনাথের অন্য পরিচিত উপন্যাস: চোখের বালি, নৌকাডুবি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা আর চার অধ্যায়।
বাকি তিনটি বই অন্য লেখকের। পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস, চার-ইয়ারী কথা প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ, আর চতুষ্কোণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
সব অপশনেই সংখ্যাবাচক শব্দ, তাই চতুষ্কোণ আর চতুরঙ্গ গুলিয়ে যায়; মনে রাখুন রবীন্দ্রনাথের চার দিয়ে দুটি উপন্যাস: চতুরঙ্গ আর চার অধ্যায়।
মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের চার দিয়ে দুই উপন্যাস: চতুরঙ্গ ও চার অধ্যায়।
৪৮৬. ‘কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল’ এই বাক্যে ‘কাননে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককর্মে ৭মী
- খঅপাদানে ৭মী
- গঅধিকরণে ৭মী
- ঘকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: গ. অধিকরণে ৭মী
ক্রিয়া যেখানে, যখন বা যে বিষয়ে ঘটে, সেই স্থান, কাল বা বিষয়কে বলে অধিকরণ কারক। কারক চেনার সহজ উপায় হলো ক্রিয়াকে প্রশ্ন করা।
এখানে ক্রিয়া ফুটিল। প্রশ্ন করি: কোথায় ফুটিল? উত্তর কাননে, মানে বনে। তাই কাননে হলো ক্রিয়ার স্থান বা আধার, অর্থাৎ অধিকরণ কারক।
কানন শব্দের সঙ্গে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। এ, য়, তে, এতে বিভক্তি সপ্তমী বিভক্তি। তাই উত্তর অধিকরণে সপ্তমী।
এ বিভক্তি দেখে অনেকে করণ বা কর্ম কারক ধরে নেন, কারণ এ বিভক্তি অন্য কারকেও বসে। বিভক্তি নয়, ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক ঠিক করুন: কোথায় বা কখন হলে অধিকরণ।
মনে রাখুন: ক্রিয়াকে কোথায় বা কখন প্রশ্ন করলে যে উত্তর, সেটিই অধিকরণ; যেমন বনে বাঘ আছে, প্রভাতে সূর্য ওঠে।
৪৮৭. ‘সমুদ্র’ শব্দটির প্রতিশব্দটি কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কজলদ
- খশর্বরী
- গজলধি
- ঘস্রোতস্বতী
সঠিক উত্তর: গ. জলধি
সমুদ্রের প্রতিশব্দ জলধি। জল ধারণ করে যে, সে জলধি; ধি অংশটি ধারণ অর্থ বহন করে। একই অর্থে বারিধি, পয়োধি, অম্বুধি, সাগর, পারাবার, রত্নাকর ও সিন্ধুও বলা হয়।
জলদ শব্দটি দেখতে কাছাকাছি হলেও অর্থ মেঘ, কারণ যে জল দেয় সে জলদ। জলধি জল ধরে রাখে, জলদ জল দেয়: এই পার্থক্যটাই প্রশ্নের মূল ফাঁদ।
শর্বরী মানে রাত, যেমন রজনী বা যামিনী। স্রোতস্বতী মানে নদী, যেমন তটিনী বা তরঙ্গিণী।
মনে রাখুন: শেষে -ধি থাকলে সাধারণত সমুদ্র (জলধি, বারিধি, পয়োধি); শেষে -দ থাকলে সাধারণত মেঘ (জলদ, নীরদ, বারিদ)।
৪৮৮. ‘আলো’ শব্দটির প্রতিশব্দটি নয় কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কময়ূখ
- খরওশন
- গভাতি
- ঘতমিস্র
সঠিক উত্তর: ঘ. তমিস্র
প্রশ্নটা জানতে চায় কোনটি আলোর প্রতিশব্দ নয়। তমিস্র মানে অন্ধকার, আলোর ঠিক বিপরীত; তাই এটিই উত্তর। তমিস্রা বলতে অন্ধকার রাতও বোঝায়।
বাকি তিনটিই আলোর সমার্থক। ময়ূখ মানে কিরণ বা রশ্মি, ভাতি মানে দীপ্তি বা আলো, আর রওশন ফারসি থেকে আসা শব্দ, অর্থ আলো বা উজ্জ্বলতা।
আলোর আরও প্রতিশব্দ: জ্যোতি, প্রভা, দ্যুতি, আভা, নূর। অন্ধকারের প্রতিশব্দ: তমঃ, তিমির, আঁধার, তমিস্র।
তম বা তিমির থেকে আসা শব্দ মানেই অন্ধকার; এই সূত্র মনে রাখলে তমিস্রকে আলো ভাবার ভুল হবে না। আর রওশন শব্দটি বিদেশি বলে অনেকে একে বাদ দিতে চান, কিন্তু এর অর্থ আলোই।
মনে রাখুন: তম-, তিমির-, তমিস্র- দিয়ে শুরু শব্দ অন্ধকারের দলে।
৪৮৯. ‘আকাশনীলা’ কাব্য কার লেখা? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআল মাহমুদ
- গজীবনানন্দ দাশ
- ঘশামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর: গ. জীবনানন্দ দাশ
প্রশ্নে আকাশনীলা লেখা, তবে আসল নাম আকাশলীনা। এটি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা, সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি: এই চরণ দিয়ে শুরু। কবিতাটি তাঁর সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থে আছে।
জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় রূপসী বাংলার কবি, আর বুদ্ধদেব বসু তাঁকে নির্জনতম কবি বলেছিলেন। তাঁর প্রধান কাব্য: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির আর রূপসী বাংলা।
অন্য তিন কবির পরিচিত কাব্য: কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা, আল মাহমুদের সোনালী কাবিন, শামসুর রাহমানের বন্দী শিবির থেকে।
আকাশ শব্দ দেখে অনেকে প্রকৃতির কবি হিসেবে অন্য কাউকে ভাবেন; কিন্তু সুরঞ্জনা নামটি মনে পড়লেই জীবনানন্দ।
মনে রাখুন: সুরঞ্জনা, বনলতা সেন, শঙ্খমালা: নারী-নামের কবিতা মানেই জীবনানন্দ।
৪৯০. ‘মেঘের মত নাদ যার’ কোন সমাস? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কসমানাধিকার বহুব্রীহি
- খমধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
- গব্যধিকরণ বহুব্রীহি
- ঘব্যতিহার বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: খ. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
মেঘের মতো নাদ যার, এই ব্যাসবাক্যের সমস্তপদ মেঘনাদ, মানে রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিৎ। সমাসটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি।
বহুব্রীহি, কারণ সমস্তপদ মেঘ বা নাদ কোনোটিকেই বোঝায় না, বোঝায় তৃতীয় একজনকে, যার গর্জন মেঘের মতো। আর মধ্যপদলোপী, কারণ ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ মতো লোপ পেয়েছে: মেঘের মতো নাদ থেকে শুধু মেঘ আর নাদ থেকে গেছে।
একই রকম উদাহরণ: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর, সে বিড়ালচোখী; চাঁদের মতো মুখ যার, সে চাঁদমুখ।
সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ থাকে, যেমন নীল কণ্ঠ যার, নীলকণ্ঠ। ব্যধিকরণে দুটি পদই বিশেষ্য, কিন্তু মাঝে কিছু লোপ পায় না, যেমন আশীতে বিষ যার, আশীবিষ। ব্যতিহারে পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝায়, যেমন লাঠালাঠি। মেঘ আর নাদ দুটোই বিশেষ্য বলে ব্যধিকরণ ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে মতো বা ন্যায় থেকে শেষে যার থাকলে, এবং সমস্তপদে মতো নেই, তবে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি।
৪৯১. ‘এক থেকে আরম্ভ করে’ বাক্যটির সংকুচিত রূপ কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কএকাদিক্রমে
- খঅধিক
- গএকাধিক
- ঘবহু
সঠিক উত্তর: ক. একাদিক্রমে
প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশের। “এক থেকে আরম্ভ করে” একটানা পরপর চলা বোঝাতে একটি শব্দ আছে: একাদিক্রমে।
শব্দটি গড়া হয়েছে এক, আদি আর ক্রম মিলিয়ে। এক যার আদি বা শুরু, সেই ক্রম অনুসারে; তাই একাদিক্রমে মানে প্রথম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে। যেমন: তিনি একাদিক্রমে দশ বছর এই পদে ছিলেন।
এখানে এক আর আদি মিলে স্বরসন্ধিতে হয় একাদি, অ আর আ মিলে আ-কার। তারপর ক্রম যুক্ত হয়ে একাদিক্রম, সঙ্গে এ বিভক্তি।
ফাঁদ হলো একাধিক। নামে মিল থাকলেও একাধিক মানে একের বেশি, অর্থাৎ সংখ্যার কথা; শুরু থেকে পরপর চলার কথা নয়।
মনে রাখুন: একাধিক = একের বেশি; একাদিক্রমে = এক থেকে শুরু করে পরপর। আদি মানে শুরু, অধিক মানে বেশি।
৪৯২. ‘দুঃখ’ কোন প্রকার বিশেষ্য পদ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কসংজ্ঞাবাচক
- খগুণবাচক
- গভাববাচক
- ঘজাতিবাচক
সঠিক উত্তর: খ. গুণবাচক
বিশেষ্য পদের ছয়টি ভাগ: সংজ্ঞাবাচক, জাতিবাচক, বস্তুবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক ও গুণবাচক। প্রশ্নটি জানতে চায় দুঃখ শব্দটি কোন ভাগে পড়ে।
যে বিশেষ্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দোষ, গুণ বা অবস্থার নাম বোঝায়, তা গুণবাচক বিশেষ্য। সুখ, দুঃখ, সততা, তারুণ্য, মধুরতা এগুলো মনের বা বস্তুর অবস্থা ও গুণের নাম, তাই গুণবাচক।
ভাববাচক বিশেষ্য বোঝায় কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম, যেমন গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন। এগুলো মূলত কাজ থেকে আসে; যাওয়া থেকে গমন, দেখা থেকে দর্শন।
দুঃখ কোনো কাজের নাম নয়, একটি অবস্থার নাম; তাই এটি ভাববাচক নয়। অনুভূতি শুনেই অনেকে ভাববাচক ধরে ফেলেন, এটাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: শব্দটি কোনো কাজ থেকে এসেছে কি না দেখুন। কাজের নাম হলে ভাববাচক (গমন, শয়ন), দোষ-গুণ-অবস্থা হলে গুণবাচক (সুখ, দুঃখ, সৌন্দর্য)।
৪৯৩. ‘দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে’- এই বাক্যের অব্যয়টির নাম কী? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কঅনুসর্গ অব্যয়
- খঅনুকার অব্যয়
- গঅনন্বয়ী অব্যয়
- ঘসমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর: ক. অনুসর্গ অব্যয়
যে অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে, তাকে অনুসর্গ অব্যয় বলে। একে কর্মপ্রবচনীয় বা পরসর্গও বলে।
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে, এই বাক্যে বিনা শব্দটি দুঃখ বিশেষ্যের পরে বসে সম্পর্ক বোঝাচ্ছে: দুঃখ ছাড়া। তাই বিনা এখানে অনুসর্গ অব্যয়।
বিনা, ছাড়া, দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক, হতে, থেকে, সঙ্গে, জন্য, চেয়ে এগুলো সবই অনুসর্গের পরিচিত উদাহরণ।
অনুকার অব্যয় হলো ধ্বনির অনুকরণ, যেমন ঝমঝম, কনকন; সমুচ্চয়ী অব্যয় দুটি পদ বা বাক্য জোড়ে, যেমন এবং, ও, কিন্তু। বিনা এর কোনোটির কাজ করছে না।
মনে রাখুন: অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বসে এবং “ছাড়া, দিয়ে, থেকে, জন্য” ধরনের সম্পর্ক বোঝায়।
৪৯৪. ‘আস্থা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কঅনাস্থা
- খঅনিচ্ছা
- গঅনিষ্ট
- ঘঅনাচার
সঠিক উত্তর: ক. অনাস্থা
আস্থা মানে বিশ্বাস বা ভরসা। এর বিপরীত শব্দ বানাতে আগে না-বাচক উপসর্গ অন যোগ করা হয়: অনাস্থা, মানে বিশ্বাসের অভাব।
অন আর আস্থা মিলে অনাস্থা হয়েছে। স্বরধ্বনি দিয়ে শুরু শব্দের আগে না বোঝাতে সাধারণত অন বসে, যেমন অনাচার, অনিচ্ছা, অনিষ্ট। সংসদের অনাস্থা প্রস্তাব কথাটিতে এই শব্দই পাই।
বাকি তিনটিও না-বাচক শব্দ, কিন্তু অন্য শব্দের বিপরীত। অনিচ্ছা হলো ইচ্ছার, অনিষ্ট হলো ইষ্টের, অনাচার হলো আচারের বিপরীত।
সব অপশন অন দিয়ে শুরু, তাই দেখতে হবে মূল শব্দটা আস্থা কি না। সেটা আছে কেবল অনাস্থায়।
মনে রাখুন: বিপরীত শব্দের প্রশ্নে সব অপশন একই উপসর্গে শুরু হলে উপসর্গ বাদ দিয়ে মূল শব্দ মেলান।
৪৯৫. এক কথায় প্রকাশ কর- ‘পাখির ডাক’ (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ককূজন
- খকেকা
- গকলকাকলি
- ঘহ্রেষা
সঠিক উত্তর: ক. কূজন
এক কথায় প্রকাশে পাখির ডাককে বলে কূজন। বিশেষ করে কোকিল ও অন্যান্য পাখির মধুর ডাক বোঝাতে শব্দটি চলে।
পশুপাখির ডাকের আলাদা আলাদা নাম পরীক্ষায় প্রায়ই আসে: ময়ূরের ডাক কেকা, ঘোড়ার ডাক হ্রেষা, হাতির ডাক বৃংহিত বা বৃংহণ, সিংহের ডাক গর্জন।
কলকাকলি মানে অনেক পাখির একসঙ্গে মিলিত কলরব। প্রশ্নে কেবল পাখির ডাক বলা হয়েছে, তাই প্রচলিত ও প্রত্যক্ষ উত্তর কূজন।
কেকা আর হ্রেষা ডাক তো বটে, কিন্তু নির্দিষ্ট প্রাণীর; ময়ূরও পাখি, তবে কেকা শুধু ময়ূরের ডাক, সাধারণ পাখির ডাক নয়।
মনে রাখুন: ডাকের প্রশ্নে প্রাণীর নাম দেখুন: ময়ূর কেকা, ঘোড়া হ্রেষা, হাতি বৃংহিত, পাখি কূজন।
৪৯৬. নিচের কোনটি দেশি শব্দ নয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কডাব
- খপেট
- গসূর্য
- ঘকুলা
সঠিক উত্তর: গ. সূর্য
বাংলা শব্দভান্ডারে দেশি শব্দ সেগুলো, যা এদেশের আদি অধিবাসী কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে এসেছে। যেমন ডাব, পেট, কুলা, ঢেঁকি, ডিঙা, চোঙা।
সূর্য শব্দটি সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে বাংলায় এসেছে, তাই এটি তৎসম শব্দ। চন্দ্র, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম এগুলোও তৎসম।
চেনার কৌশল: য-ফলা, ঋ-কার, ষ, ণ বা যুক্তবর্ণে ভরা গম্ভীর শব্দ সাধারণত তৎসম। ডাব, পেট, কুলার মতো ছোট, ঘরোয়া, গ্রামীণ জিনিসের নাম প্রায়ই দেশি।
প্রশ্নে নয় শব্দটি আছে, তাই খুঁজতে হবে যেটি দেশি নয়। চারটি অপশনের মধ্যে ডাব, পেট আর কুলা দেশি; একমাত্র সূর্য তৎসম।
মনে রাখুন: য-ফলা, ঋ-কার, ষ বা ণ থাকা গম্ভীর শব্দ দেখলে আগে তৎসম ভাবুন।
৪৯৭. 'Lyric' শব্দের প্রতিশব্দ- (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কসংগীত
- খসুর
- গগান
- ঘগীতিকবিতা
সঠিক উত্তর: ঘ. গীতিকবিতা
প্রশ্নটা ইংরেজি পরিভাষার বাংলা প্রতিশব্দ জানতে চেয়েছে। Lyric মানে গীতিকবিতা, যাকে গীতিকাব্যও বলে।
গীতিকবিতা হলো কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি, আবেগ বা ভাবনার সংক্ষিপ্ত, সুরেলা প্রকাশ। এতে কাহিনির চেয়ে কবির নিজের মনের কথা বড়। রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতা এবং বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্য এর উদাহরণ; বিহারীলালকে বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
শব্দটার মূল গ্রিক বাদ্যযন্ত্র লায়ার। প্রাচীন গ্রিসে লায়ার বাজিয়ে যে কবিতা গাওয়া হতো, সেখান থেকেই লিরিক নাম।
ফাঁদ গান ও সংগীত। ইংরেজিতে গানকে বলে song, সংগীতকে music, আর সুরকে tune বা melody; পরিভাষা হিসেবে lyric এর প্রতিশব্দ গীতিকবিতা।
মনে রাখুন: সাহিত্যের পরিভাষা: Lyric = গীতিকবিতা, Epic = মহাকাব্য, Sonnet = চতুর্দশপদী কবিতা, Ballad = গাথা।
৪৯৮. বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- ক
- খ
- গ
- ঘ
সঠিক উত্তর: ঘ.
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, ঢাকার বর্ধমান হাউসে। এটি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির গবেষণা ও প্রসারের জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
একাডেমি প্রতিষ্ঠার পেছনে আছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এরপর ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির একটি দফায় বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণাকেন্দ্র করার অঙ্গীকার ছিল। যুক্তফ্রন্ট জেতার পর সেই দাবির ফলেই একাডেমির জন্ম।
বাংলা একাডেমি প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়, আর প্রমিত বানানরীতি ও অভিধান প্রকাশ করে।
অনেকে ১৯৫২ বা ১৯৫৪ সালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের বছর, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের বছর; একাডেমি প্রতিষ্ঠা পায় তার পরের বছর, ১৯৫৫ সালে।
মনে রাখুন: বাহান্নয় আন্দোলন, চুয়ান্নয় অঙ্গীকার, পঞ্চান্নয় একাডেমি।
৪৯৯. ‘কণ্ঠস্বর’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কসিকান্দার আবু জাফর
- খআবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- গরফিক আজাদ
- ঘআবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর: খ. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
কণ্ঠস্বর ষাটের দশকের একটি সাহিত্য পত্রিকা, যা ১৯৬৫ সালে প্রকাশ শুরু করে। এর সম্পাদক ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
কণ্ঠস্বর ছিল তরুণ, প্রথাবিরোধী লেখকদের মুখপত্র। ষাটের দশকের নতুন ধারার অনেক কবি ও লেখক এখানে লিখে পরিচিতি পান, যেমন রফিক আজাদ ও আবদুল মান্নান সৈয়দ।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, বই পড়ার আন্দোলনের জন্য তিনি পরিচিত। টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।
ফাঁদ সিকান্দার আবু জাফর। তিনিও বিখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক, কিন্তু তাঁর পত্রিকা সমকাল, কণ্ঠস্বর নয়। নামের ‘আবু’ অংশের মিলও বিভ্রান্তি বাড়ায়।
মনে রাখুন: পত্রিকা-সম্পাদক জোড়া: সমকাল = সিকান্দার আবু জাফর, কণ্ঠস্বর = আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সবুজপত্র = প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল = দীনেশরঞ্জন দাশ।
৫০০. ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে লিখতেন- (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কসমরেশ বসু
- খবিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
- গরাজশেখর বসু
- ঘসতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর: গ. রাজশেখর বসু
পরশুরাম ছদ্মনামে লিখতেন রাজশেখর বসু। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা রম্য ও ব্যঙ্গ গল্পকার।
তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ গড্ডলিকা প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। পরে কজ্জলী, হনুমানের স্বপ্ন ইত্যাদি গল্পগ্রন্থে সমাজের ভণ্ডামি নিয়ে মজার গল্প লেখেন। নিজের নামে তিনি সংকলন করেন বিখ্যাত বাংলা অভিধান চলন্তিকা।
ছদ্মনামের প্রশ্নে পাশের নামগুলোও আসে: সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট, আর বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় লিখতেন যাযাবর নামে, যাঁর বিখ্যাত বই দৃষ্টিপাত।
ফাঁদ হলো দুই বসু। সমরেশ বসুরও ছদ্মনাম আছে, কিন্তু সেটা কালকূট; পরশুরাম হলেন রাজশেখর বসু।
মনে রাখুন: রম্যগল্প আর চলন্তিকা অভিধান দেখলেই রাজশেখর বসু, ওরফে পরশুরাম।