বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২৪
৪৬১. 'এক' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কএকাধিক
- খবহু
- গএকতা
- ঘএকক
সঠিক উত্তর: গ. একতা
প্রশ্নটা পদ পরিবর্তন যাচাই করছে: বিশেষণ বা সংখ্যাবাচক শব্দ ‘এক’-কে বিশেষ্য করতে হবে। বিশেষ্য হলো যা কোনো নাম, গুণ বা অবস্থার নাম বোঝায়।
এক শব্দের সঙ্গে তা প্রত্যয় যোগ করলে হয় একতা, মানে এক হয়ে থাকার অবস্থা বা ঐক্য। এটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য। এক থেকে আরেকটি বিশেষ্য হলো ঐক্য।
একই নিয়মে মানব থেকে মানবতা, সরল থেকে সরলতা, দীন থেকে দীনতা।
একাধিক আর বহু দুটোই বিশেষণ, কোনো কিছুর সংখ্যা বোঝায়। একক শব্দ অনেক সময় বিশেষ্য হিসেবেও বসে, তবে এর অর্থ মাপের একক বা একটি মাত্র, এক-এর ভাবগত বিশেষ্য নয়; পরীক্ষায় তাই একতাই প্রত্যাশিত উত্তর।
মনে রাখুন: বিশেষণের বিশেষ্য রূপ চাইলে আগে ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ যোগ করে দেখুন: এক থেকে একতা, মহৎ থেকে মহত্ত্ব।
৪৬২. 'অনুগ্রহ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কদয়া
- খবিগ্রহ
- গপ্রতিগ্ৰহ
- ঘনিগ্রহ
সঠিক উত্তর: ঘ. নিগ্রহ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দ যাচাই করছে। অনুগ্রহ মানে দয়া বা কৃপা, কারো প্রতি সদয় আচরণ।
এর উল্টো হলো নিগ্রহ, মানে পীড়ন, শাস্তি বা কষ্ট দেওয়া। গ্রহ ধাতুর আগে অনু বসলে হয় দয়া, আর নি বসলে হয় দমন বা পীড়ন।
একই মূলের অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: বিগ্রহ মানে দেবমূর্তি বা যুদ্ধ, প্রতিগ্রহ মানে দান গ্রহণ।
দয়া অনুগ্রহের সমার্থক, বিপরীত নয়; সমার্থক আর বিপরীত গুলিয়ে ফেললে এই ফাঁদে পড়তে হয়।
মনে রাখুন: জোড়া মনে রাখুন: অনুগ্রহ ↔ নিগ্রহ, অনুরাগ ↔ বিরাগ, আবির্ভাব ↔ তিরোভাব।
৪৬৩. 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশামসুর রাহমান
- খআবুল হাসান
- গআহসান হাবীব
- ঘরফিক আজাদ
সঠিক উত্তর: গ. আহসান হাবীব
প্রশ্নটা আধুনিক বাংলা কবিতার লেখক ও গ্রন্থ মেলানো যাচাই করছে। বিদীর্ণ দর্পণে মুখ কবি আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ, ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত। তাঁর অন্য পরিচিত কাব্য ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
শামসুর রাহমান, আবুল হাসান আর রফিক আজাদও একই যুগের কবি, তাই নাম দেখে গুলিয়ে যেতে পারে। শামসুর রাহমান সবচেয়ে পরিচিত নাম বলে অনেকে আন্দাজে তাঁকেই বেছে নেন; সেটিই ফাঁদ।
মনে রাখুন: আহসান হাবীবের কাব্যনামে প্রকৃতি আর আয়না ঘুরে আসে: ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।
৪৬৪. কবি শামসুর রাহমানের 'আদিগন্ত নগ্ন প্রতিধ্বনি' প্রকাশিত হয় কত সালে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ক১৯৭৪
- খ১৯৮২
- গ১৯৯০
- ঘ১৯৯৫
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৭৪
প্রশ্নটা শামসুর রাহমানের একটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল জানতে চায়। গ্রন্থটির প্রকৃত নাম আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি; প্রশ্নে প্রতিধ্বনি ছাপা হয়েছে, তবে বোঝানো হয়েছে এই বইটিকেই। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, ১৯৬০ সালে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কবিতা নিয়ে বন্দী শিবির থেকে বের হয় ১৯৭২ সালে। এর দুই বছর পর আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
তাঁর বিখ্যাত কবিতা স্বাধীনতা তুমি আর তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা; আসাদের শার্ট কবিতাও খুব পরিচিত।
১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৫ সালেও তাঁর অনেক বই বেরিয়েছে, তাই আন্দাজে উত্তর দিলে ভুল হবে। সহজে মনে রাখুন: বন্দী শিবির থেকে ১৯৭২ সালে, তার দুই বছর পর আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
মনে রাখুন: স্বাধীনতার পরপর: ১৯৭২ বন্দী শিবির থেকে, ১৯৭৪ আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি।
৪৬৫. ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের গ্রন্থ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনাটক
- খউপন্যাস
- গপ্রবন্ধ
- ঘকাব্য
সঠিক উত্তর: খ. উপন্যাস
চতুরঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস, প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে। প্রথমে এটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিল।
নামের চতুরঙ্গ মানে চার অংশ। উপন্যাসটি চারটি পর্বে ভাগ করা: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস। প্রতিটি পর্ব একেকটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে, আর পুরো কাহিনি বর্ণনা করে শ্রীবিলাস।
রবীন্দ্রনাথের অন্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা ও যোগাযোগ। নাম শুনে নাটক মনে হতে পারে, কারণ চতুরঙ্গ শব্দটা দাবা খেলা বা প্রাচীন চতুরঙ্গ সেনাবাহিনীকেও বোঝায়; কিন্তু এটি নাটক নয়, উপন্যাস।
মনে রাখুন: চার অঙ্গ বা চার পর্বের উপন্যাস: চতুরঙ্গ। পর্বের নামগুলো চরিত্রের নাম, এটা মনে রাখলে নাটক বলে ভুল হবে না।
৪৬৬. বাংলা ভাষায় সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কউইলিয়াম কেরি
- খএডওয়ার্ড ডিমক
- গশ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
- ঘপ্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: গ. শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
বাংলা ভাষার লেখ্য সাধু রূপ আর মুখের চলিত রূপের পার্থক্য নিয়ে প্রথম তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৮৭৭ সালে তিনি Bengali, Spoken and Written নামে একটি ইংরেজি প্রবন্ধ লেখেন।
সেই প্রবন্ধে তিনি দেখান, বইয়ের সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলার ব্যাকরণ আর মানুষের মুখের বাংলার ব্যাকরণ অনেক আলাদা। তিনি প্রস্তাব করেন, দরকার ছাড়া সংস্কৃত শব্দ না নিয়ে জীবন্ত মুখের ভাষাকে লেখায় জায়গা দেওয়া উচিত।
প্রমথ চৌধুরী এখানে বড় ফাঁদ। তিনি ১৯১৪ সালে সবুজপত্র পত্রিকা বের করে সাহিত্যে চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা করেন, তাই তাঁকে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়। কিন্তু দুই রূপের তুলনামূলক গবেষণার কৃতিত্ব শ্যামাচরণের, যা প্রমথ চৌধুরীর প্রায় চার দশক আগের।
উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক, বাংলা ব্যাকরণ ও কথোপকথন বইয়ের লেখক। এডওয়ার্ড ডিমক মার্কিন বাংলা সাহিত্য গবেষক, যিনি বৈষ্ণব পদাবলি ও মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে কাজ করেছেন।
মনে রাখুন: তুলনা করেছেন শ্যামাচরণ, চালু করেছেন প্রমথ: প্রশ্নে "তুলনামূলক" থাকলে শ্যামাচরণ, "প্রবর্তক" থাকলে প্রমথ চৌধুরী।
৪৬৭. নিচের কোনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত নয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাজসজ্জা
- খলেনদেন
- গছাইভস্ম
- ঘগোলাগুলি
সঠিক উত্তর: খ. লেনদেন
দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদই প্রধান থাকে, আর ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর দিয়ে যুক্ত হয়। যখন দুটি পদের অর্থ একই বা প্রায় একই, তখন তাকে বলে সমার্থক দ্বন্দ্ব।
সাজসজ্জা মানে সাজ ও সজ্জা, দুটোরই অর্থ সাজানো। ছাইভস্ম মানে ছাই ও ভস্ম, দুটোই পোড়ার পরের গুঁড়া। গোলাগুলি মানে গোলা ও গুলি, দুটোই অস্ত্রের নিক্ষিপ্ত বস্তু। তাই এই তিনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব।
লেনদেন মানে লেন ও দেন: লেন মানে নেওয়া, দেন মানে দেওয়া। দুটি পদের অর্থ উল্টো, তাই এটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। একই ধরনের উদাহরণ আয়ব্যয়, দিনরাত, জমাখরচ।
প্রশ্নে নয় শব্দটা খেয়াল না করলে ভুল হয়: তিনটি সমার্থক উদাহরণের মাঝে একমাত্র বিপরীতার্থকটিই উত্তর।
মনে রাখুন: দুই পদের মাঝে "বনাম" বসানো গেলে বিপরীতার্থক (নেওয়া বনাম দেওয়া); "মানে" বসানো গেলে সমার্থক (ছাই মানে ভস্ম)।
৪৬৮. নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কআশীবিষ
- খহাতেনাতে
- গকানাকানি
- ঘহাতেখড়ি
সঠিক উত্তর: গ. কানাকানি
ব্যতিহার বহুব্রীহিতে একই শব্দ দুবার বসে, আর বোঝায় দুই পক্ষের মধ্যে একই কাজ পরস্পর ঘটছে। ব্যাসবাক্যে দুই পদেই এ বিভক্তি থাকে, যেমন কানে কানে; আর সমাসবদ্ধ পদে প্রথম পদে আ আর দ্বিতীয় পদে ই যুক্ত হয়, যেমন কান আ, কান ই মিলে কানাকানি।
কানাকানি মানে কানে কানে যে কথা হয়। দুজন পরস্পরের কানে কথা বলছে, কাজটা দুই দিক থেকে ঘটছে। তাই এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি। একই ধরনের উদাহরণ হাতাহাতি, লাঠালাঠি, কোলাকুলি, গলাগলি।
হাতেখড়ি দেখতে কাছাকাছি, কারণ এখানেও হাতে শব্দে এ বিভক্তি আছে। কিন্তু হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে, তাই এটি অলুক বহুব্রীহি; এখানে পরস্পর কিছু ঘটছে না। হাতেনাতে হলো হাতে ও নাতে, অলুক দ্বন্দ্ব।
আশীবিষ মানে আশীতে, অর্থাৎ দাঁতে, বিষ যার, মানে সাপ। এটি ব্যধিকরণ বহুব্রীহি। তাই একমাত্র কানাকানিতেই একই শব্দের পুনরাবৃত্তি আর পারস্পরিক কাজ দুটোই আছে।
মনে রাখুন: শব্দটা ভাঙলে একই শব্দ দুবার আসে এবং মারামারি-কানাকানির মতো দুজনের কাজ বোঝায়? তাহলেই ব্যতিহার বহুব্রীহি।
৪৬৯. ‘সৌম্য’ শব্দের বিপরীত শব্দ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কশীলিত
- খদুজন
- গউদ্ধত
- ঘউগ্র
সঠিক উত্তর: ঘ. উগ্র
সৌম্য মানে শান্ত, স্নিগ্ধ, কোমল ও প্রসন্ন চেহারা বা স্বভাব। এর বিপরীত হলো উগ্র, মানে প্রচণ্ড, রুক্ষ ও তীব্র। তাই সৌম্য আর উগ্র পরস্পর বিপরীত শব্দজোড়া।
শব্দের বিপরীত খুঁজতে আগে মূল অর্থটা ঠিক করুন। সৌম্যের কেন্দ্রীয় অর্থ শান্ত ও কোমল ভাব, তাই তার উল্টো হবে তীব্র বা রুক্ষ ভাব বোঝানো শব্দ।
উদ্ধত মানে অহংকারী বা অবিনয়ী; এর বিপরীত বিনীত, সৌম্য নয়। শীলিত মানে চর্চিত বা মার্জিত, যা সৌম্যের কাছাকাছি, উল্টো নয়। দুজন মানে দুই ব্যক্তি; ছাপার ভুলে দুর্জন বোঝানো হলে সেটা সুজনের বিপরীত।
ফাঁদ হলো উদ্ধত: রূঢ় স্বভাব বোঝায় বলে উগ্রের কাছাকাছি মনে হয়। কিন্তু উদ্ধতের মূল ভাব অহংকার, যার বিপরীত বিনয়।
মনে রাখুন: জোড়া মুখস্থ রাখুন: সৌম্য-উগ্র, উদ্ধত-বিনীত, সুজন-দুর্জন।
৪৭০. কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়— (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কআজাদ
- খসবুজপত্র
- গবিজলী
- ঘদৈনিক পূর্বকোণ
সঠিক উত্তর: গ. বিজলী
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায়, ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, বাংলা ১৩২৮ সালের ২২ পৌষ।
কবিতাটি প্রকাশের সাথে সাথেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই সময়ে মাসিক মোসলেম ভারত পত্রিকার কার্তিক সংখ্যাতেও কবিতাটি ছাপা হয়, তবে সেই সংখ্যা বের হয়েছিল দেরিতে। পরে কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থে ১৯২২ সালে সংকলিত হয়, আর এর জন্যই নজরুল বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত।
বাকি পত্রিকাগুলো অন্য কারণে বিখ্যাত। সবুজপত্র ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক, চলিত ভাষার পত্রিকা। দৈনিক আজাদ মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর পত্রিকা, ১৯৩৬ সালে প্রকাশ শুরু। দৈনিক পূর্বকোণ চট্টগ্রামের পত্রিকা, যা বিদ্রোহীর অনেক পরে প্রকাশিত হয়েছে।
মনে রাখুন: বিদ্রোহী বজ্রের মতো, তাই প্রথম ছাপা হয় বিজলীতে।
৪৭১. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কব্যাকুল
- খব্যাকুল
- গব্যকূল
- ঘব্যকুল
সঠিক উত্তর: খ. ব্যাকুল
শুদ্ধ বানান ব্যাকুল: ব-এ য-ফলা, তারপর আ-কার, ক, আর তার নিচে হ্রস্ব উ-কার। শব্দটি তৎসম, গঠন বি উপসর্গ আর আকুল মিলে।
বি আর আকুল যুক্ত হলে সন্ধির নিয়মে ই-কার য-ফলা হয়ে যায়, আর আকুলের আ-টি থেকে যায়। তাই ব্যাকুল লিখতে য-ফলার পরে আ-কার অবশ্যই লাগবে। একই নিয়মে বি আর অবস্থা মিলে ব্যবস্থা, বি আর আপক মিলে ব্যাপক।
আকুল শব্দে কু-তে হ্রস্ব উ-কার, তাই ব্যাকুলেও হ্রস্ব উ-কার থাকবে। দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে ব্যকূল লেখা ভুল, আর আ-কার বাদ দিয়ে ব্যকুল লেখাও ভুল।
লক্ষ করুন, এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় অপশন হুবহু একই বানানে ছাপা, তাই দুটোই শুদ্ধ। মূল প্রশ্নে সম্ভবত একটিতে ভিন্ন বানান ছিল।
মনে রাখুন: মূল শব্দ আকুল মনে রাখুন: আ আছে বলে ব্যা, কু-তে হ্রস্ব উ বলে ব্যাকুল।
৪৭২. ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানটির রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ককাজী নজরুল ইসলাম
- খআবদুল গফফার চৌধুরী
- গনজরুল ইসলাম বাবু
- ঘআলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর: গ. নজরুল ইসলাম বাবু
সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে লেখা এই দেশাত্মবোধক গানটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
নজরুল ইসলাম বাবু জামালপুরের মানুষ, জন্ম ১৯৪৯ সালে, মৃত্যু ১৯৯০ সালে। তিনি দেশাত্মবোধক ও চলচ্চিত্রের গানের গীতিকার হিসেবে পরিচিত।
ফাঁদ হলো কাজী নজরুল ইসলাম: দুজনের নামে নজরুল ইসলাম আছে বলে অনেকে বিদ্রোহী কবিকে বেছে নেন। কিন্তু এই গানটি স্বাধীনতার পরের, কাজী নজরুলের নয়।
আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আর সেই গানের বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গান বলে এই নামগুলোও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: নামের শেষে "বাবু" মনে রাখুন: জানালা খোলার গান নজরুল ইসলাম বাবুর, বিদ্রোহী কবির নয়।
৪৭৩. ‘দুনিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কফারসি
- খফরাসি
- গগুজরাটি
- ঘআরবি
সঠিক উত্তর: ঘ. আরবি
দুনিয়া শব্দটি আরবি থেকে বাংলায় এসেছে, মানে পৃথিবী বা জগৎ। মুসলিম শাসনামলে ধর্ম, প্রশাসন ও বিচারের সূত্রে বহু আরবি ও ফারসি শব্দ বাংলায় ঢুকেছে।
আরবি শব্দ চেনার একটা উপায় হলো বিষয়। ধর্ম ও বিশ্বাস সংক্রান্ত অনেক শব্দ আরবি: আল্লাহ, ঈমান, কিতাব, দুনিয়া, আখেরাত। আইন ও বিচারের কিছু শব্দও আরবি: আদালত, উকিল, মামলা।
ফাঁদ হলো ফারসি: আরবি আর ফারসি শব্দ একসাথে এসেছে বলে গুলিয়ে যায়। ফারসি শব্দের উদাহরণ খোদা, নামাজ, রোজা, দোকান, চশমা। ফরাসি থেকে এসেছে কার্তুজ, রেস্তোরাঁ; গুজরাটি থেকে খদ্দর, হরতাল।
মনে রাখুন: নামাজ-রোজা-খোদা ফারসি, আল্লাহ-ঈমান-দুনিয়া আরবি: ধর্মীয় শব্দের এই ভাগটা মুখস্থ রাখুন।
৪৭৪. ‘উপজেলা’ শব্দটিতে ‘উপ’ পূর্বপদটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসামীপ্য
- খআংশিক
- গসাদৃশ্য
- ঘছোট
সঠিক উত্তর: ঘ. ছোট
উপ একটি তৎসম উপসর্গ, যা শব্দের আগে বসে অনেক রকম অর্থ দেয়। কোন অর্থে বসেছে তা বোঝা যায় নতুন শব্দটা মূল শব্দের সাথে কী সম্পর্ক বোঝাচ্ছে তা দেখে।
উপজেলা হলো জেলার ভেতরের ছোট প্রশাসনিক একক। এটি জেলার কাছে নয়, জেলার মতোও নয়, বরং জেলার চেয়ে ছোট ও অধীন। তাই এখানে উপ ছোট বা ক্ষুদ্র অর্থে বসেছে, যেমন উপগ্রহ মানে ছোট গ্রহ, উপনদী মানে ছোট নদী, উপসাগর মানে ছোট সাগর।
অন্য অর্থগুলোর উদাহরণ আলাদা। সামীপ্য অর্থে উপকূল, মানে কূলের কাছে, আর উপকণ্ঠ। সাদৃশ্য অর্থে উপবন, মানে বনের মতো বাগান, আর উপদ্বীপ।
ফাঁদ হলো সাদৃশ্য: উপজেলায়ও জেলার মতো প্রশাসন আছে বলে অনেকে জেলার সদৃশ ভাবেন। কিন্তু উপজেলা জেলার অংশ ও তার চেয়ে ছোট; সাদৃশ্যের মূল কথা হলো আলাদা জিনিস কিন্তু দেখতে একই রকম।
মনে রাখুন: উপ-যুক্ত শব্দটি মূলের "চেয়ে ছোট অংশ" হলে ক্ষুদ্র অর্থ: উপজেলা, উপনদী, উপগ্রহ, উপসাগর।
৪৭৫. গিরিসংকট’ শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপর্বতের গিরি
- খপর্বত
- গপার্বত্য বন্ধুরতা
- ঘপাহাড় চূড়া
সঠিক উত্তর: গ. পার্বত্য বন্ধুরতা
প্রশ্নটা একটি তৎসম সমাসবদ্ধ শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। গিরিসংকট শব্দটি ভাঙলে পাই গিরি আর সংকট। গিরি মানে পাহাড় বা পর্বত, আর সংকট শব্দের মূল অর্থ বিপদ নয়, বরং সংকীর্ণ বা সরু জায়গা।
তাই গিরিসংকট মানে দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে যাওয়া সরু, দুর্গম পথ, ইংরেজিতে যাকে mountain pass বলে। খাইবার গিরিপথ এর পরিচিত উদাহরণ।
অপশনগুলোর কোনোটি হুবহু এই অর্থ দেয় না। তবে পার্বত্য বন্ধুরতা মানে পাহাড়ি এলাকার উঁচুনিচু, দুর্গম অবস্থা, যা গিরিসংকটের ধারণার সবচেয়ে কাছে। তাই এটিই গ্রহণযোগ্য উত্তর।
ফাঁদ হলো গিরি শব্দটা দেখে পর্বত বা পাহাড় চূড়া বেছে নেওয়া। শব্দের দ্বিতীয় অংশ সংকট যে সরু পথের ভাব আনে, সেটা ভুলে গেলেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: সংকট শব্দের মূল অর্থ ‘সংকীর্ণ স্থান’; তাই গিরিসংকট = গিরিপথ। একইভাবে গিরিকন্দর = পাহাড়ের গুহা, গিরিশৃঙ্গ = পাহাড়চূড়া।
৪৭৬. `সত্য বই মিথ্যে বলবো না’ এখানে ‘বই’ শব্দটি কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কউপসর্গ
- খপাঠ্যঊন
- গপ্রত্যয়
- ঘঅনুসর্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. অনুসর্গ
প্রশ্নটা অনুসর্গ চেনার। অনুসর্গ হলো সেই অব্যয় শব্দ, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে আলাদা শব্দ হিসেবে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে। যেমন দ্বারা, দিয়ে, থেকে, ছাড়া, বিনা, বই।
এখানে বই মানে পড়ার বই নয়। সত্য বই মিথ্যা বলব না মানে সত্য ছাড়া মিথ্যা বলব না। অর্থাৎ বই শব্দটি ছাড়া অর্থে সত্য শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে সম্পর্ক তৈরি করছে, তাই এটি অনুসর্গ।
উপসর্গ আর প্রত্যয় কখনো আলাদা শব্দ হিসেবে বসে না। উপসর্গ শব্দের আগে জুড়ে যায়, যেমন প্র যোগে প্রভাত; প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের শেষে জুড়ে যায়, যেমন পড় যোগে আ, পড়া।
ফাঁদ হলো বই শব্দটিকে বিশেষ্য ভেবে নেওয়া। বাক্যে অর্থ মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, এখানে বই মানে ছাড়া।
মনে রাখুন: বই, বিনা, ছাড়া, ব্যতীত, দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক, থেকে: শব্দের পরে আলাদা বসলে সবই অনুসর্গ।
৪৭৭. ‘আপণ’ শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কনিজ
- খপরম আত্মীয়
- গদোকান
- ঘঅফিস
সঠিক উত্তর: গ. দোকান
প্রশ্নটা একটি তৎসম শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে, যেখানে কাছাকাছি উচ্চারণের আরেকটি শব্দ ফাঁদ হিসেবে আছে।
আপণ শব্দে মূর্ধন্য ণ, এর অর্থ দোকান বা বিপণি। এখান থেকেই আপণিক মানে দোকানদার বা ব্যবসায়ী। বিপণি আর বিপণন শব্দেও একই মূল দেখা যায়।
অন্যদিকে দন্ত্য ন দিয়ে আপন মানে নিজ বা আত্মীয়। নিজ ও পরম আত্মীয় অপশন দুটি আসলে আপন শব্দের অর্থ, আপণের নয়।
তাই এই প্রশ্নে বানানের ণ আর ন এর পার্থক্যই আসল পরীক্ষা। উচ্চারণ এক হলেও বানান বদলালে অর্থ পুরো বদলে যায়।
মনে রাখুন: সমোচ্চারিত শব্দজোড়া মনে রাখুন: আপণ (দোকান) ও আপন (নিজ), দিন (দিবস) ও দীন (গরিব), শব (মৃতদেহ) ও সব (সকল)।
৪৭৮. ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে’- বাক্যটি কোন কালের? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসাধারণ বর্তমান
- খপুরাঘটিত অতীত
- গনিত্যবৃত্ত বর্তমান
- ঘপুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর: ঘ. পুরাঘটিত বর্তমান
প্রশ্নটা ক্রিয়ার কাল চেনার। বাক্যের মূল ক্রিয়া হলো স্বাধীন হয়েছে। এই ক্রিয়ার রূপই কাল ঠিক করে দেয়।
পুরাঘটিত বর্তমান কাল বোঝায়, কাজটি অতীতে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো বর্তমান। ক্রিয়ার শেষে এছে, য়েছে যুক্ত হয়, যেমন করেছে, গিয়েছে, হয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে, আর সেই স্বাধীনতা আজও বহাল। কাজ শেষ, ফল চলমান, তাই এটি পুরাঘটিত বর্তমান।
ফাঁদ হলো ঘটনাটি অনেক পুরোনো বলে পুরাঘটিত অতীত ধরা। পুরাঘটিত অতীতে ক্রিয়ার রূপ হতো হয়েছিল; এখানে হয়েছে, তাই বর্তমান।
মনে রাখুন: ক্রিয়ার শেষে ‘-য়েছে/-এছে’ দেখলে পুরাঘটিত বর্তমান, ‘-য়েছিল/-এছিল’ দেখলে পুরাঘটিত অতীত।
৪৭৯. ‘ভূত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কপেত্নী
- খভবিষ্যৎ
- গভয়
- ঘনির্ভীক
সঠিক উত্তর: খ. ভবিষ্যৎ
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের, আর এর ফাঁদ হলো ভূত শব্দের একাধিক অর্থ। বাংলায় ভূত মানে প্রেতাত্মা যেমন, তেমনই অতীত বা যা হয়ে গেছে।
ব্যাকরণ ও কালের প্রসঙ্গে ভূত মানে অতীত, যেমন ভূতকাল বা ভূতপূর্ব। অতীতের বিপরীত হলো ভবিষ্যৎ। তাই ভূত শব্দের বিপরীত শব্দ ভবিষ্যৎ।
প্রেতাত্মা অর্থে ভূতের কোনো বিপরীত শব্দ হয় না। পেত্নী হলো স্ত্রী প্রেত, বিপরীত নয়; আর ভয় ও নির্ভীক শুধু ভাবনার সূত্রে ভূতের সঙ্গে জড়ানো শব্দ, বিপরীত অর্থের নয়।
এ ধরনের প্রশ্নে শব্দের তৎসম, শাস্ত্রীয় অর্থ ধরে ভাবতে হয়। ভূত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ: তিন কালের জোড়া মনে রাখলেই উত্তর সহজ।
মনে রাখুন: ভূতপূর্ব = আগে যা ছিল; ভূতকাল = অতীত কাল। ভূত দেখলে অতীত ভাবুন, বিপরীত হবে ভবিষ্যৎ।
৪৮০. ‘তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি’ - কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কসরল
- খজটিল
- গযৌগিক
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: ক. সরল
প্রশ্নটা গঠন অনুযায়ী বাক্য চেনার। সরল বাক্যে একটিই সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, যেমন যে, যদি, যখন দিয়ে। যৌগিক বাক্যে দুটি স্বাধীন বাক্য এবং, কিন্তু, তবু দিয়ে জোড়া থাকে।
তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি বাক্যে হলেও হলো অসমাপিকা ক্রিয়া, এটি একা বাক্য শেষ করতে পারে না। একমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া হলো হয়নি। তাই এটি সরল বাক্য।
এর যৌগিক রূপ হবে: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। জটিল রূপ হবে: যদিও তার বয়স হয়েছে, তবু বুদ্ধি হয়নি।
ফাঁদ হলো হলেও দেখে দুটি অংশ মনে করে যৌগিক বা জটিল ধরা। গুনে দেখুন সমাপিকা ক্রিয়া কয়টি; একটি হলেই সরল। আর মিশ্র বাক্য বলে আলাদা প্রকার নেই, এটি জটিল বাক্যেরই আরেক নাম।
মনে রাখুন: অসমাপিকা ক্রিয়া (করে, হলে, হলেও, গিয়ে) দিয়ে জোড়া অংশ থাকলে বাক্য সরল; এবং/কিন্তু থাকলে যৌগিক; যদি/যদিও/যে থাকলে জটিল।