বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ২১
৪০১. ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবর্ণ
- খশব্দ
- গঅক্ষর
- ঘধ্বনি
সঠিক উত্তর: ঘ. ধ্বনি
প্রশ্নটা জানতে চাইছে ভাষার সবচেয়ে ছোট অংশ কোনটি। ভাষা আসলে মুখের উচ্চারণ, আর উচ্চারণকে ভাঙতে ভাঙতে শেষে যে ক্ষুদ্রতম অংশ পাই, সেটাই ধ্বনি।
ধ্বনি মিলে তৈরি হয় শব্দ, শব্দ মিলে বাক্য। আর ধ্বনিকে লিখে দেখানোর চিহ্নকে বলে বর্ণ। তাই বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক, ভাষার মূল একক নয়।
অক্ষর মানে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত শব্দাংশ, যেমন কলম শব্দে ক আর লম দুটি অক্ষর। এটা ধ্বনির চেয়ে বড়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বর্ণ। লেখায় বর্ণ সবচেয়ে ছোট মনে হয়, কিন্তু ভাষার মূল উপাদান উচ্চারিত ধ্বনি, লেখা নয়।
মনে রাখুন: মনে রাখুন: ভাষার মূল উপাদান ও ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি; বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক শব্দ।
৪০২. নিচের কোন শব্দটি নিত্য সমাসের উদাহরণ? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কএকটি মাত্র
- খঅনুকূল
- গআনাগোনা
- ঘরামেশ্বর
সঠিক উত্তর: ক. একটি মাত্র
প্রশ্নটা নিত্য সমাস চিনতে বলছে। যে সমাসের পদগুলো সবসময় একসাথে থাকে এবং নিজেদের পদ দিয়ে ব্যাসবাক্য করা যায় না, অন্য শব্দ যোগ করে অর্থ বোঝাতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন অন্য গ্রাম মানে গ্রামান্তর, অন্য দেশ মানে দেশান্তর, কেবল দর্শন মানে দর্শনমাত্র। এখানে অন্তর বা মাত্র ভেঙে লিখলে অর্থ দাঁড়ায় না, তাই অন্য বা কেবল শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।
বিকল্প ক-তে একটি মাত্র দেওয়া আছে, যেটা আসলে একমাত্র শব্দের অর্থ বোঝানোর রূপ। একমাত্র শব্দের মাত্র অংশকে আলাদা করে ব্যাসবাক্য হয় না, তাই এটাই নিত্য সমাসের উদাহরণ।
বাকিগুলোর স্বাভাবিক ব্যাসবাক্য হয়। আনাগোনা মানে আসা-যাওয়া, এটি দ্বন্দ্ব সমাস; অনুকূল অব্যয়ীভাব সমাস; রামেশ্বর ভাঙা যায় রাম ও ঈশ্বর দিয়ে।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: অন্য যুগ = যুগান্তর, অন্য মত = মতান্তর, কেবল নাম = নামমাত্র। শেষে অন্তর বা মাত্র থাকলে আগে নিত্য সমাস ভাবুন।
৪০৩. ‘হেলায় সুযোগ হারিও না' বাক্যে নিম্নরেখ (হেলায়) শব্দটি কারকে কোন বিভক্তি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কঅপাদানে ৭মী
- খকরণে ৭মী
- গকর্মকারকে ৭মী
- ঘঅধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: খ. করণে ৭মী
প্রশ্নটা কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের। হেলায় সুযোগ হারিও না বাক্যে প্রশ্ন করি: কী দিয়ে বা কিসের দ্বারা সুযোগ হারানো? উত্তর আসে হেলা দিয়ে, মানে অবহেলার দ্বারা। যার দ্বারা কাজটি ঘটে, সেটাই করণ কারক।
এবার বিভক্তি দেখি। হেলা শব্দের সাথে য় যুক্ত হয়েছে। এ, য়, তে, এতে এগুলো সপ্তমী বিভক্তির চিহ্ন। তাই হেলায় হলো করণে সপ্তমী।
একই ধরনের উদাহরণ: টাকায় কী না হয়, মানে টাকা দিয়ে; চোখে দেখি, মানে চোখ দিয়ে। এখানেও এ বা য় থাকলেও কাজটা হচ্ছে সেই জিনিস দিয়ে, তাই করণে সপ্তমী।
ফাঁদ হলো অধিকরণে সপ্তমী। য় দেখলেই অনেকে স্থান বা কাল ভেবে অধিকরণ ধরেন, কিন্তু হেলা কোনো স্থান বা সময় নয়, কাজের উপায়।
মনে রাখুন: কারক ধরতে প্রশ্ন করুন, বিভক্তি ধরতে শব্দের শেষটা দেখুন; দুটো মিলিয়ে নাম দিন: টাকায়, চোখে, হেলায় সবই করণে সপ্তমী।
৪০৪. ‘লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- ককেশবচন্দ্র সেন
- খরজনীকান্ত সেন
- গদীনেশচন্দ্র সেন
- ঘহীরালাল সেন
সঠিক উত্তর: গ. দীনেশচন্দ্র সেন
প্রশ্নটা লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও প্রকাশে অবদান নিয়ে। বাংলা লোকসাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাম দীনেশচন্দ্র সেন, যাঁর সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
মৈমনসিংহ গীতিকার পালাগুলো গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে, আর দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করেন। এতে মহুয়া, মলুয়া, কাজলরেখার মতো পালা আছে। পরে পূর্ববঙ্গ গীতিকাও তাঁর হাতে প্রকাশ পায়।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাজ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে প্রথম দিকের বড় গ্রন্থ।
বাকি তিনজনও সেন পদবির, তাই বিভ্রান্তি হয়। কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্ম সমাজের নেতা, রজনীকান্ত সেন গীতিকবি, হীরালাল সেন উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ।
মনে রাখুন: গীতিকা দেখলেই দীনেশচন্দ্র সেন; মাঠে সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
৪০৫. 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কভাতি
- খঅনল
- গঅংশ
- ঘজ্যোতি
সঠিক উত্তর: খ. অনল
প্রশ্নটা আগুন শব্দের সমার্থক শব্দ খুঁজতে বলছে। আগুনের প্রচলিত সমার্থক শব্দ: অনল, অগ্নি, পাবক, বহ্নি, হুতাশন, দহন। তাই উত্তর অনল।
বিকল্পগুলোর মধ্যে ভাতি আর জ্যোতি দুটোই আলো বা দীপ্তি বোঝায়। আগুন থেকে আলো আসে বলে এগুলো কাছাকাছি মনে হয়, কিন্তু অর্থ এক নয়।
অংশ মানে ভাগ বা খণ্ড, আগুনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কাছাকাছি দেখতে অংশু শব্দের অর্থ কিরণ বা রশ্মি, সেটাও আগুন নয়।
ফাঁদ হলো জ্যোতি: আলো আর আগুন আলাদা ধারণা, সমার্থক প্রশ্নে অর্থের মিল পুরোপুরি থাকতে হয়।
মনে রাখুন: আগুনের সমার্থক মনে রাখুন: অনল, অগ্নি, পাবক, বহ্নি, হুতাশন; আলোর সমার্থক: জ্যোতি, ভাতি, দীপ্তি, প্রভা।
৪০৬. সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি দেখা যায়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কবিশেষ্য ও ক্রিয়া
- খবিশেষণ ও ক্রিয়া
- গবিশেষ্য ও বিশেষণ
- ঘক্রিয়া ও সর্বনাম
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্রিয়া ও সর্বনাম
প্রশ্নটা সাধু ও চলিত রীতির মূল পার্থক্য কোথায়, তা জানতে চাইছে। দুই রীতির সবচেয়ে বেশি পার্থক্য দেখা যায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদে।
সর্বনামে: সাধুতে তাহারা, তাহাদের, যাহা, ইহা; চলিতে তারা, তাদের, যা, এটা। ক্রিয়াপদে: সাধুতে করিতেছিলাম, খাইয়া, যাইবে; চলিতে করছিলাম, খেয়ে, যাবে।
বিশেষ্য আর বিশেষণে পার্থক্য তুলনামূলক কম। কিছু তৎসম শব্দ সাধুতে বেশি আসে, কিন্তু ভাত, মানুষ, সুন্দর ধরনের শব্দ দুই রীতিতেই একই থাকে।
তাই সাধু থেকে চলিতে রূপান্তরের প্রশ্নে আগে সর্বনাম আর ক্রিয়া বদলান। ভুল বিকল্পগুলোতে বিশেষ্য বা বিশেষণ ঢোকানো হয়েছে, যেগুলো মূল পার্থক্যের জায়গা নয়।
মনে রাখুন: সাধু থেকে চলিত করতে প্রথমেই সর্বনাম আর ক্রিয়ার রূপ বদলান; তাতেই বেশিরভাগ কাজ হয়ে যায়।
৪০৭. কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কত্রিভুজ
- খশুণ্য
- গপূণ্য
- ঘভূবন
সঠিক উত্তর: ক. ত্রিভুজ
প্রশ্নটা শুদ্ধ বানান খুঁজতে বলছে। ত্রিভুজ শব্দটি ত্রি আর ভুজ মিলে তৈরি: তিনটি বাহু যার। ভুজ শব্দে উ-কার হ্রস্ব, তাই ত্রিভুজ শুদ্ধ।
শুণ্য ভুল, শুদ্ধ রূপ শূন্য। এখানে শ-এ দীর্ঘ ঊ-কার, আর ণ নয়, দন্ত্য ন। শূন্য শব্দে ন-এর আগে ঋ, র বা ষ নেই, তাই ণত্ব বিধানে মূর্ধন্য ণ হওয়ার কারণ নেই।
পূণ্য ভুল, শুদ্ধ রূপ পুণ্য। এখানে প-এ হ্রস্ব উ-কার, আর ণ ঠিক আছে। ভূবন ভুল, শুদ্ধ রূপ ভুবন; ভ-এ হ্রস্ব উ-কার।
এই প্রশ্নে ফাঁদ হলো উ-কার আর ঊ-কারের অদলবদল: শূন্যে দীর্ঘ, পুণ্য ও ভুবনে হ্রস্ব। জোড়ায় মনে রাখলে ভুল হয় না।
মনে রাখুন: জোড়ায় মুখস্থ: শূন্য (দীর্ঘ), পুণ্য (হ্রস্ব), ভুবন (হ্রস্ব), ভূমি (দীর্ঘ)।
৪০৮. কোন উপসর্গটি 'বাংলা' ও 'তৎসম' উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কঅ
- খনা
- গবে
- ঘসু
সঠিক উত্তর: ঘ. সু
প্রশ্নটা এমন উপসর্গ খুঁজছে যা খাঁটি বাংলা উপসর্গের তালিকায় আছে, আবার তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গের তালিকাতেও আছে। বাংলা উপসর্গ ২১টি, তৎসম উপসর্গ ২০টি।
দুই তালিকাতেই আছে এমন উপসর্গ হলো সু, আ, বি, নি। যেমন বাংলা উপসর্গ হিসেবে সু: সুখবর, সুনজর; তৎসম উপসর্গ হিসেবে সু: সুশীল, সুগন্ধ।
অ শুধু বাংলা উপসর্গ, যেমন অকাজ, অচেনা। তৎসম উপসর্গের বিশটির তালিকায় অ নেই।
না আর বে বাংলা বা তৎসম কোনোটাই নয়, এগুলো ফারসি উপসর্গ। যেমন নাবালক, নারাজ; বেহায়া, বেআদব। এদের বিদেশি বলে চিনতে পারলেই সহজে বাদ দেওয়া যায়।
মনে রাখুন: বাংলা আর তৎসম দুই তালিকায় কমন চারটি: আ, সু, বি, নি।
৪০৯. নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কত
- খড
- গঢ
- ঘ(অস্পষ্ট)
সঠিক উত্তর: গ. ঢ
প্রশ্নটা মহাপ্রাণ ধ্বনি চিনতে বলছে। যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখ দিয়ে বাতাস জোরে বের হয়, তাকে মহাপ্রাণ বলে; বাতাস কম বের হলে অল্পপ্রাণ।
স্পর্শ ব্যঞ্জনের প্রতিটি বর্গে প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণ, দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ। যেমন ট-বর্গে ট আর ড অল্পপ্রাণ, ঠ আর ঢ মহাপ্রাণ।
তাই ঢ হলো ট-বর্গের চতুর্থ বর্ণ, ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি। ত হলো ত-বর্গের প্রথম বর্ণ, অঘোষ অল্পপ্রাণ; ড হলো ট-বর্গের তৃতীয় বর্ণ, ঘোষ অল্পপ্রাণ।
সহজ পরীক্ষা: মুখের সামনে হাত রেখে উচ্চারণ করুন। ড আর ঢ বললে ঢ-তে বাতাসের ধাক্কা বেশি টের পাবেন, ঠিক যেমন ক আর খ-তে।
মনে রাখুন: প্রতি বর্গের জোড় সংখ্যার বর্ণ (২য়, ৪র্থ) মহাপ্রাণ; বিজোড় (১ম, ৩য়) অল্পপ্রাণ।
৪১০. 'অভয়া' চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে রয়েছে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কপল্লী সমাজ
- খশ্রীকান্ত
- গচন্দ্রনাথ
- ঘপথের দাবী
সঠিক উত্তর: খ. শ্রীকান্ত
প্রশ্নটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের চরিত্র চিনতে বলছে। অভয়া চরিত্রটি আছে শ্রীকান্ত উপন্যাসে, এর দ্বিতীয় পর্বে, যেখানে শ্রীকান্ত বার্মা বা রেঙ্গুন যাত্রা করে।
অভয়া এক সাহসী নারী, যে নির্যাতনকারী স্বামীকে ছেড়ে ভালোবাসার মানুষ রোহিণীর সাথে নতুন জীবন শুরু করে। সমাজের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে তার সিদ্ধান্তের জন্যই চরিত্রটি আলোচিত।
শ্রীকান্ত উপন্যাসের অন্য বিখ্যাত চরিত্র: রাজলক্ষ্মী বা পিয়ারী বাইজি, ইন্দ্রনাথ, অন্নদাদিদি। চার পর্বে লেখা এই উপন্যাসকে অনেকে শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক রচনা বলেন।
অন্য উপন্যাসের চরিত্রগুলো মিলিয়ে রাখুন: পল্লীসমাজে রমেশ ও রমা, পথের দাবীতে সব্যসাচী ও ভারতী, চন্দ্রনাথে চন্দ্রনাথ ও সরযূ।
মনে রাখুন: শ্রীকান্তের প্রধান নারী চরিত্রগুলো মনে রাখুন: রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, কমললতা।
৪১১. 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশী হয়? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কচলিত রীতি
- খসাধু রীতি
- গমিশ্র রীতি
- ঘআঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর: খ. সাধু রীতি
প্রশ্নটা জানতে চাইছে তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে আসা শব্দ, কোন রীতিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। উত্তর সাধু রীতি।
সাধু রীতি গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক; এতে তৎসম শব্দের প্রাধান্য থাকে, যেমন হস্ত, মস্তক, গৃহ, চন্দ্র। চলিত রীতিতে একই অর্থে বেশি আসে তদ্ভব শব্দ, যেমন হাত, মাথা, ঘর, চাঁদ।
সাধু রীতি তাই দলিল, পুরোনো সাহিত্য আর আনুষ্ঠানিক লেখায় দেখা যায়, আর চলিত রীতি মুখের ভাষার কাছাকাছি।
ফাঁদ হলো চলিত রীতি। আজকাল চলিতেও তৎসম শব্দ আসে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে সাধু রীতিতেই এর ব্যবহার বেশি।
মনে রাখুন: সাধু রীতি গুরুগম্ভীর, তাই তৎসম শব্দপ্রধান; চলিত রীতি সহজ, তাই তদ্ভব শব্দপ্রধান।
৪১২. সমাস ভাষাকে কি করে? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কসংক্ষেপ করে
- খবিস্তৃত করে
- গঅর্থপূর্ণ করে
- ঘঅর্থের রূপান্তর ঘটায়
সঠিক উত্তর: ক. সংক্ষেপ করে
প্রশ্নটা সমাসের মূল কাজ জানতে চাইছে। সমাস মানে সংক্ষেপ: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদ মিলে একটি পদ হয়ে যায়।
যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে হয় সিংহাসন, বিলাত থেকে ফেরত থেকে হয় বিলাতফেরত। কয়েকটি শব্দের কথা এক শব্দেই বলা যায়, ফলে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও গতিশীল হয়।
সমাসের অর্থ হলো সংক্ষেপ, আর যে বাক্য দিয়ে সমস্তপদের অর্থ খুলে বলা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে।
ফাঁদ হলো অর্থপূর্ণ করে বা অর্থের রূপান্তর ঘটায় বিকল্প। সমাসে অর্থ একই থাকে, শুধু প্রকাশ ছোট হয়। বহুব্রীহিতে নতুন অর্থ আসে ঠিকই, কিন্তু সব সমাসের সাধারণ কাজ সংক্ষেপণ।
মনে রাখুন: সমাস শব্দের আক্ষরিক অর্থই সংক্ষেপ; এর উল্টো প্রক্রিয়া হলো ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
৪১৩. ‘একাদশে বৃহস্পতি' অর্থ কি? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কআশার কথা
- খসৌভাগ্যের বিষয়
- গমজা পাওয়া
- ঘআনন্দের বিষয়
সঠিক উত্তর: খ. সৌভাগ্যের বিষয়
প্রশ্নটা বাগ্ধারার অর্থ জানতে চাইছে। একাদশে বৃহস্পতি মানে সৌভাগ্যের বিষয় বা সুসময়।
এর উৎস জ্যোতিষ বিশ্বাস: কারও কোষ্ঠীর একাদশ ঘরে বৃহস্পতি গ্রহ থাকলে তা খুব শুভ বলে ধরা হতো। সেখান থেকে কথাটির অর্থ দাঁড়িয়েছে ভাগ্য খুলে যাওয়া।
উদাহরণ: লটারিতে পুরস্কার আর চাকরির নিয়োগপত্র একই দিনে পেয়ে তার এখন একাদশে বৃহস্পতি।
আশার কথা বা আনন্দের বিষয় কাছাকাছি শোনালেও বাগ্ধারাটির মূল ভাব ভাগ্য বা সৌভাগ্য, শুধু আশা বা আনন্দ নয়।
মনে রাখুন: গ্রহ-নক্ষত্রের বাগ্ধারা ভাগ্যের কথা বলে: একাদশে বৃহস্পতি = সৌভাগ্য।
৪১৪. ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতার নাম- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কসৈয়দ মুজতবা আলী
- খকাজী আবদুল ওদুদ
- গনজিবর রহমান
- ঘরোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
সঠিক উত্তর: গ. নজিবর রহমান
প্রশ্নটি ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের লেখক জানতে চেয়েছে। উপন্যাসটি নজিবর রহমানের লেখা, প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। তাঁকে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ডাকা হয়।
আনোয়ারা বাঙালি মুসলমান সমাজের পারিবারিক জীবন নিয়ে লেখা সামাজিক উপন্যাস, এবং প্রকাশের পর এটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। নজিবর রহমানের আরেকটি পরিচিত উপন্যাস ‘গরীবের মেয়ে’।
বিকল্পের বাকি তিনজনও উপন্যাস লিখেছেন, তাই শুধু ‘ঔপন্যাসিক কে’ ভেবে উত্তর দেওয়া যাবে না। সৈয়দ মুজতবা আলীর উপন্যাস ‘শবনম’, কাজী আবদুল ওদুদের ‘নদীবক্ষে’, বেগম রোকেয়ার ‘পদ্মরাগ’।
ফাঁদ হলো রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন। আনোয়ারা নারীর নামে উপন্যাস হওয়ায় অনেকে নারী লেখক ধরে নেন।
মনে রাখুন: আনোয়ারা আর গরীবের মেয়ে: দুটিই সাহিত্যরত্ন নজিবর রহমানের।
৪১৫. ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ-বিপর্যয়-এর দৃষ্টান্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- করতন
- খকবাট
- গপিচাশ
- ঘমুলুক
সঠিক উত্তর: গ. পিচাশ
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি নিয়ম, বর্ণ বিপর্যয় চিনতে চেয়েছে। শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর জায়গা বদল করলে তাকে বর্ণ বিপর্যয় বা ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
মূল শব্দ পিশাচ। এতে প্রথমে শ, পরে চ। মুখের ভাষায় দুটির জায়গা বদলে হয়েছে পিচাশ। কোনো ধ্বনি যোগ হয়নি, বাদও পড়েনি, শুধু স্থান বদল হয়েছে।
একই নিয়মের আরও উদাহরণ: রিকশা থেকে রিসকা, বাক্স থেকে বাস্ক, লাফ থেকে ফাল।
অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন নিয়মের। রত্ন থেকে রতন আর মুল্ক থেকে মুলুক হয়েছে মাঝখানে স্বর ঢুকে, যাকে বলে মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি। কপাট আর কবাট রূপে একটি ব্যঞ্জনের জায়গায় অন্য ব্যঞ্জন এসেছে, যা ব্যঞ্জন বিকৃতি।
মনে রাখুন: পরিবর্তিত রূপে মূল শব্দের সব ধ্বনিই আছে, শুধু ক্রম উল্টে গেছে? তাহলে বর্ণ বিপর্যয়।
৪১৬. নিচের কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবহ্নি
- খআবীর
- গবায়ুসখা
- ঘবৈশ্বানর
সঠিক উত্তর: খ. আবীর
প্রশ্নটি অগ্নির সমার্থক শব্দ চিনতে চেয়েছে, এবং যেটি সমার্থক নয় সেটিই উত্তর।
বহ্নি অর্থ আগুন। বায়ুসখা মানে বাতাসের বন্ধু; বাতাস আগুনকে বাড়িয়ে তোলে বলে আগুনের এই নাম। বৈশ্বানর হলো পুরাণে অগ্নিদেবের একটি নাম। তিনটিই অগ্নির প্রতিশব্দ।
আবির হলো রঙিন গুঁড়া, যা ফাগ নামেও পরিচিত এবং হোলি উৎসবে ছোড়া হয়। এর লাল রং আগুনের কথা মনে করালেও এটি অগ্নির সমার্থক নয়।
অগ্নির আরও কিছু প্রতিশব্দ পরীক্ষায় আসে: অনল, পাবক, হুতাশন, কৃশানু, দহন। অচেনা শব্দ দেখে ভয় না পেয়ে চেনা অর্থের শব্দটি যাচাই করাই কৌশল।
মনে রাখুন: অগ্নির প্রতিশব্দ: অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, কৃশানু, বৈশ্বানর, বায়ুসখা।
৪১৭. ‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা’ – এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅপহৃতি
- খযমক
- গঅর্থোন্নতি
- ঘঅভিযোজন
সঠিক উত্তর: ক. অপহৃতি
প্রশ্নটি অর্থালংকার চিনতে চেয়েছে। উপমেয়কে অস্বীকার করে তার জায়গায় উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে সেই অলংকারকে বলে অপহ্নুতি। শব্দটির অর্থই হলো গোপন করা বা অস্বীকার করা। প্রশ্নপত্রের বিকল্পে বানানটি ছাপা হয়েছে অপহৃতি, তবে শুদ্ধ বানান অপহ্নুতি।
চরণে উপমেয় হলো নদীর ধারা। কবি বলছেন এটি জল না, অর্থাৎ নদীর আসল পরিচয়কে অস্বীকার করছেন, এবং বলছেন ওরা অশ্রুধারা, অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করছেন। এই অস্বীকার আর প্রতিষ্ঠা মিলেই অপহ্নুতি।
চেনার কৌশল: চরণে ‘নয়’, ‘না’, ‘নহে’ দিয়ে কোনো কিছু অস্বীকার করে তার বদলে অন্য কিছু বলা হলে অপহ্নুতি খুঁজুন। উপমায় তুলনা হয়, রূপকে অভেদ কল্পনা হয়, আর অপহ্নুতিতে আগে অস্বীকার থাকে।
যমক শব্দালংকার, যেখানে একই শব্দ বারবার এসে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দেয়। অর্থোন্নতি আর অভিযোজন অলংকারই নয়।
মনে রাখুন: চরণে ‘না’ বা ‘নয়’ দিয়ে আসলটাকে বাতিল করে অন্য কিছু বসালে অপহ্নুতি।
৪১৮. ‘যথারীতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅব্যয়ীভাব
- খদ্বিগু
- গবহুব্রীহি
- ঘদ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর: ক. অব্যয়ীভাব
প্রশ্নটা অব্যয়ীভাব সমাস চেনা পরীক্ষা করছে। যে সমাসে পূর্বপদ একটি অব্যয়, আর পূর্বপদের অর্থই প্রধান, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যথারীতি ভাঙলে হয় রীতিকে অতিক্রম না করে। এখানে যথা একটি অব্যয়, যার অর্থ অনুযায়ী বা অতিক্রম না করে, আর পুরো শব্দে সেই অর্থটাই প্রধান। তাই যথারীতি অব্যয়ীভাব সমাস।
একই ধাঁচের আরও শব্দ যথাশক্তি, যথাসাধ্য, যথাসময়, যথাবিধি। যথা, উপ, প্রতি, আ, অনু এমন অব্যয় সামনে থাকলে অব্যয়ীভাবের কথা আগে ভাবুন।
ফাঁদ হলো বহুব্রীহি। বহুব্রীহিতে কোনো পদই প্রধান নয়, অন্য কাউকে বোঝায়; কিন্তু যথারীতি অন্য কাউকে বোঝায় না, রীতি অনুযায়ী কাজের ভাব প্রকাশ করে।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে যথা, উপ, প্রতি, অনু, আ থাকলে প্রথমে অব্যয়ীভাব ধরে মিলিয়ে দেখুন।
৪১৯. ‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ – কথাটি সংকোচন করলে হবে – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কতন্ময়
- খমন্ময়
- গমৃন্ময়
- ঘচিন্ময়
সঠিক উত্তর: গ. মৃন্ময়
প্রশ্নটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ, যার পেছনে আছে ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম। মৃত্তিকা বা মাটির তৈরি বোঝাতে বলা হয় মৃন্ময়।
মৃৎ মানে মাটি। মৃৎ আর ময় যুক্ত হলে ৎ ধ্বনি পরের ম-এর প্রভাবে ন হয়ে যায়, তাই হয় মৃন্ময়। একই নিয়মে চিৎ আর ময় মিলে চিন্ময়, তৎ আর ময় মিলে তন্ময়।
অর্থের পার্থক্য মনে রাখুন। চিন্ময় মানে জ্ঞানময় বা চৈতন্যময়। তন্ময় মানে কোনো কিছুতে সম্পূর্ণ ডুবে থাকা। মন্ময় মানে মনের ভাবে পূর্ণ বা আত্মগত।
ফাঁদ হলো চারটি শব্দই ময় দিয়ে শেষ এবং দেখতে একই রকম। প্রথম অংশের অর্থ, অর্থাৎ মৃৎ মানে মাটি, ধরতে পারলেই উত্তর সহজ।
মনে রাখুন: মৃৎ মানে মাটি, চিৎ মানে জ্ঞান, তৎ মানে সেই: সঙ্গে ময় লাগালে মৃন্ময়, চিন্ময়, তন্ময়। মন্ময় মানে আত্মগত।
৪২০. ‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটির অর্থ – (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅমাবস্যা
- খগলাধাক্কা দেওয়া
- গকাছে টানা
- ঘকাস্তে
সঠিক উত্তর: খ. গলাধাক্কা দেওয়া
এটি একটি বাগধারার প্রশ্ন। বাগধারায় শব্দের আক্ষরিক অর্থ নয়, প্রচলিত বিশেষ অর্থটা জানতে হয়। অর্ধচন্দ্র দেওয়া মানে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া।
কারণটা ছবির মতো: কারো ঘাড়ে বা গলায় হাত রেখে ধাক্কা দিলে বুড়ো আঙুল আর বাকি আঙুলের মাঝে হাতটা আধখানা চাঁদের আকার নেয়। সেখান থেকেই এই বাগধারা।
প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থের কাছাকাছি বিকল্প রেখে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কাস্তে দেখতে বাঁকা চাঁদের মতো, আর অমাবস্যা চাঁদের সাথে সম্পর্কিত; দুটোই আক্ষরিক অর্থের ফাঁদ।
মনে রাখুন: চাঁদ বা আকাশ সংক্রান্ত বাগধারায় আক্ষরিক অর্থের বিকল্প (চাঁদ, আকাশ, কাস্তে) সাধারণত ফাঁদ।