বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৬৬
১৩০১. সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক৬
- খ২
- গ৪
- ঘ৫
সঠিক উত্তর: খ. ২
প্রশ্নটি সাহিত্যে অলংকারের প্রধান ভাগ জানতে চেয়েছে। অলংকার প্রধানত দুই প্রকার: শব্দালংকার আর অর্থালংকার।
শব্দালংকারে সৌন্দর্য আসে শব্দের ধ্বনি থেকে; শব্দ বদলালে সৌন্দর্য হারায়। যেমন গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি গরজে গগনে গগনে, এখানে গ ধ্বনির পুনরাবৃত্তি অনুপ্রাস। যমক, শ্লেষ, বক্রোক্তিও শব্দালংকার।
অর্থালংকারে সৌন্দর্য আসে অর্থ থেকে; সমার্থক শব্দ বসালেও তা থাকে। যেমন মুখখানি চাঁদের মতো সুন্দর, এটি উপমা। রূপক, উৎপ্রেক্ষা, ব্যতিরেকও অর্থালংকার।
চার, পাঁচ বা ছয় বিকল্পগুলো আসে উপভাগ গুনে ফেলার ভুল থেকে; প্রধান ভাগ কিন্তু দুটোই। চেনার পরীক্ষা হলো, শব্দ বদলে দেখুন সৌন্দর্য থাকে কি না।
মনে রাখুন: শব্দ বদলালে সৌন্দর্য হারায়: শব্দালংকার। শব্দ বদলেও থাকে: অর্থালংকার।
১৩০২. গাড়ি চলে না, চলে না, নারে……..গানের গীতিকার কে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কসঞ্জীব চৌধুরী
- খবাপ্পা মজুমদার
- গশাহ্ আবদুল করিম
- ঘদাশরথি রায়
সঠিক উত্তর: গ. শাহ্ আবদুল করিম
প্রশ্নটি গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে গানের গীতিকার জানতে চেয়েছে। উত্তর বাউলসম্রাট শাহ্ আবদুল করিম।
শাহ্ আবদুল করিমের জন্ম সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। তাঁর বিখ্যাত গান আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, বন্দে মায়া লাগাইছে, কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া। দেহতত্ত্ব আর মানুষের দুঃখ তাঁর গানের মূল বিষয়; গাড়ি চলে না গানে দেহকে গাড়ির রূপকে দেখানো হয়েছে।
অন্য বিকল্পের মানুষেরা ভিন্ন পরিচয়ে খ্যাত। সঞ্জীব চৌধুরী আর বাপ্পা মজুমদার দলছুট ব্যান্ডের শিল্পী; দলছুট শাহ্ আবদুল করিমের কিছু গান নতুন করে গেয়েছে, তাই নামগুলো সামনে আসে। দাশরথি রায় উনিশ শতকের পাঁচালিকার।
ফাঁদ হলো শিল্পী আর গীতিকার গুলিয়ে ফেলা। কে গেয়েছেন তা নয়, প্রশ্ন জানতে চেয়েছে কে লিখেছেন।
মনে রাখুন: গানের প্রশ্নে আগে দেখুন গীতিকার চাওয়া হয়েছে নাকি শিল্পী।
১৩০৩. অধ্যাপক আহমদ শরীফের মৃত্যু সন কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৯৯৭
- খ১৯৯৮
- গ১৯৯৯
- ঘ২০০০
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৯৯
প্রশ্নটি অধ্যাপক আহমদ শরীফের মৃত্যুর বছর জানতে চেয়েছে। তিনি ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মারা যান।
তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামের পটিয়ায়। পুঁথি সংগ্রাহক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন তাঁর চাচা; সেই সূত্রে মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় তাঁর বিশেষ অবদান।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তচিন্তার প্রবক্তা ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি মরণোত্তর দেহ ও চক্ষু দান করে যান, যা সে সময় খুব আলোচিত হয়।
বিকল্পগুলো পাশাপাশি চার বছর, তাই অনুমানে কাজ হবে না। মনে রাখার উপায়: জন্ম ফেব্রুয়ারিতে, মৃত্যুও ফেব্রুয়ারিতে, শতাব্দীর শেষ বছরের আগের বছর।
মনে রাখুন: একুশে জন্ম, নিরানব্বইয়ে মৃত্যু: ১৯২১ থেকে ১৯৯৯।
১৩০৪. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক২০০৭
- খ১৯০৭
- গ১৯০৯
- ঘ১৯১৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৯০৭
প্রশ্নটি চর্যাপদ আবিষ্কারের বছর জানতে চেয়েছে। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
আবিষ্কার আর প্রকাশ আলাদা বছর। পুঁথি পাওয়ার নয় বছর পরে, ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে এটি প্রকাশিত হয়।
এরপর ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান যে চর্যাপদের ভাষা বাংলার আদি রূপ। তাই চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন।
ফাঁদ হলো ১৯১৬ বিকল্পটি, কারণ সেটা প্রকাশের বছর। আর ২০০৭ বিকল্পটি শতাব্দী বদলে বিভ্রান্ত করার জন্য দেওয়া।
মনে রাখুন: সাত, ষোলো, ছাব্বিশ: ১৯০৭ আবিষ্কার, ১৯১৬ প্রকাশ, ১৯২৬ ভাষা প্রমাণ।
১৩০৫. নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কবীরবল
- খভিমরুল
- গঅনিলা দেবী
- ঘদেবদাস
সঠিক উত্তর: গ. অনিলা দেবী
প্রশ্নটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম জানতে চেয়েছে। তিনি অনিলা দেবী নামে কিছু প্রবন্ধ ও লেখা প্রকাশ করেছিলেন, তাই উত্তর অনিলা দেবী।
ছদ্মনামের প্রশ্নে একটা কৌশল কাজে দেয়: অপশনে লেখকের কোনো বইয়ের নাম বা চরিত্রের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। দেবদাস শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস ও তার নায়ক, ছদ্মনাম নয়।
বীরবল হলো প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম, যিনি সবুজপত্র সম্পাদনা করেন। আর ভিমরুল নামে শরৎচন্দ্র লেখেননি। পাশের তথ্য হিসেবে মনে রাখুন, বনফুল হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
সাধারণ ভুল হলো দেবদাস বিকল্পটি, কারণ নামটা শরৎচন্দ্রের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। কিন্তু সেটা তাঁর সৃষ্টি, তাঁর ছদ্মনাম নয়।
মনে রাখুন: ছদ্মনামের প্রশ্নে লেখকের বই বা চরিত্রের নাম বাদ দিন; ওগুলো ফাঁদ।
১৩০৬. ‘আধ্যাত্মিকা’ উপন্যাসের লেখক কে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কপ্যারীচাঁদ মিত্র
- খবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গদামোদর বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. প্যারীচাঁদ মিত্র
প্রশ্নটি আধ্যাত্মিকা উপন্যাসের লেখক জানতে চেয়েছে। লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র, যিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে আলালের ঘরের দুলাল লিখে বিখ্যাত।
প্যারীচাঁদ শেষ জীবনে আধ্যাত্মবাদ বা স্পিরিচুয়ালিজমে গভীরভাবে আগ্রহী হন, ইংরেজিতেও এ নিয়ে বই লেখেন। আধ্যাত্মিকা সেই সময়ের রচনা; নামেই বিষয়টি বোঝা যায়।
তাঁর আলালের ঘরের দুলাল আগে মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিক ছাপা হয়, পরে ১২৬৪ বঙ্গাব্দে, মানে ১৮৫৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে, বই আকারে বের হয় এবং চলিত ভাষার কাছাকাছি আলালি ভাষার জন্য বিখ্যাত। অনেকে একে বাংলা উপন্যাসের প্রথম প্রয়াস বলেন।
ফাঁদ হলো বঙ্কিমচন্দ্র বিকল্পটি, কারণ উপন্যাস শুনলেই তাঁর নাম মনে আসে। কিন্তু বঙ্কিমের উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, আনন্দমঠ; আধ্যাত্মিকা নয়।
মনে রাখুন: আলাল, টেকচাঁদ, আধ্যাত্মিকা: তিনটিই প্যারীচাঁদ।
১৩০৭. ‘অনীক’ শব্দের অর্থ – (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কসূর্য
- খসমুদ্র
- গযুদ্ধক্ষেত্র
- ঘসৈনিক
সঠিক উত্তর: ঘ. সৈনিক
প্রশ্নটি তৎসম শব্দ অনীকের অর্থ জানতে চেয়েছে। অনীক মানে সৈন্য বা সেনাদল; কোথাও যুদ্ধ অর্থেও চলে। বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কাছের অর্থ সৈনিক।
এই শব্দ থেকেই অনীকিনী, মানে সেনাবাহিনী। প্রাচীন হিসেবে অনীকিনী ছিল একটি বড় সেনাদলের মাপ। দুটো শব্দ একসঙ্গে মনে রাখলে অর্থ ভুল হয় না।
বাকি বিকল্পগুলোর প্রতিশব্দ আলাদা। সূর্যের প্রতিশব্দ অর্ক, রবি, ভানু; সমুদ্রের প্রতিশব্দ অর্ণব, জলধি, সাগর। যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিশব্দ রণাঙ্গন বা সমরক্ষেত্র।
ফাঁদ হলো যুদ্ধক্ষেত্র বিকল্পটি। অনীক যুদ্ধ বোঝায় বলে অনেকে যুদ্ধক্ষেত্র বেছে নেন, কিন্তু যুদ্ধ আর যুদ্ধের জায়গা এক নয়।
মনে রাখুন: অনীক থেকে অনীকিনী: সৈন্য থেকে সেনাবাহিনী।
১৩০৮. জ্যোৎস্নারাত কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
- খষষ্ঠী তৎপুরুষ
- গপঞ্চমী তৎপুরুষ
- ঘউপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর: ক. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
প্রশ্নটি জ্যোৎস্নারাত শব্দের সমাস জানতে চেয়েছে। ব্যাসবাক্য হলো জ্যোৎস্না শোভিত রাত। মাঝের শোভিত পদটি লোপ পেয়ে হয়েছে জ্যোৎস্নারাত।
নিয়ম হলো, কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেলে তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। এখানে পরপদ রাত প্রধান, আর জ্যোৎস্না রাতটিকে বিশেষিত করছে।
একই ধরনের উদাহরণ: সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে সিংহাসন, ঘি মাখা ভাত থেকে ঘিভাত, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ থেকে স্মৃতিসৌধ। মাঝের ক্রিয়াবাচক শব্দটা চোখে না পড়লেও অর্থ বোঝাতে সেটা দরকার।
ফাঁদ হলো ষষ্ঠী তৎপুরুষ বিকল্পটি। অনেকে জ্যোৎস্নার রাত বলে ভাঙেন, কিন্তু রাতটা জ্যোৎস্নার মালিকানায় নয়; জ্যোৎস্না দিয়ে শোভিত। সম্বন্ধ নয়, বিশেষণের সম্পর্ক।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: সিংহাসন (সিংহ চিহ্নিত আসন), ঘিভাত (ঘি মাখা ভাত), স্মৃতিসৌধ (স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ)।
১৩০৯. Anatomy শব্দের অর্থ- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কসাদৃশ্য
- খস্নায়ুতন্ত্র
- গশারীরবিদ্যা
- ঘঅঙ্গ-সঞ্চালন
সঠিক উত্তর: গ. শারীরবিদ্যা
প্রশ্নটি ইংরেজি পরিভাষা অ্যানাটমির বাংলা জানতে চেয়েছে। অ্যানাটমি হলো দেহের গঠন বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিন্যাস নিয়ে বিদ্যা; বিকল্পগুলোর মধ্যে দেহ-সংক্রান্ত বিদ্যা একমাত্র শারীরবিদ্যা, তাই সেটিই উত্তর।
সূক্ষ্মভাবে বললে অ্যানাটমির নিখুঁত পরিভাষা শারীরস্থান বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা, আর দেহের কাজ নিয়ে বিদ্যা ফিজিওলজিকে বলা হয় শারীরবৃত্ত। পরীক্ষায় এই দুটো আলাদা করে এলে সেই পার্থক্য মাথায় রাখবেন।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য ইংরেজি শব্দের পরিভাষা। সাদৃশ্য হলো অ্যানালজি বা সিমিলারিটি, স্নায়ুতন্ত্র হলো নার্ভাস সিস্টেম, আর অঙ্গসঞ্চালন হলো লোকোমোশন বা মুভমেন্ট।
ফাঁদ হলো সাদৃশ্য বিকল্পটি। অ্যানাটমি আর অ্যানালজি শুনতে কাছাকাছি, তাই তাড়াহুড়ায় ভুল হয়।
মনে রাখুন: Anatomy = গঠন, Physiology = কাজ। গঠন মানে শারীরস্থান, কাজ মানে শারীরবৃত্ত।
১৩১০. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কগোবিন্দ দাস
- খকায়কোবাদ
- গকাহ্ন পা
- ঘভুসুকু পা
সঠিক উত্তর: ঘ. ভুসুকু পা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন। উত্তর চর্যাপদের কবি ভুসুকু পা।
চর্যাপদের একটি পদে তিনি লিখেছেন, আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী, মানে আজ ভুসুকু বাঙালি হলো। প্রাচীন যুগে নিজেকে বাঙালি বলার এটাই সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ, তাই পরীক্ষায় বারবার আসে।
চর্যাপদের আরেকটি প্রিয় প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্ন পা, তেরোটি; আর ভুসুকু পা আটটি নিয়ে দ্বিতীয়। আদি কবি হিসেবে লুই পায়ের নাম আসে।
ফাঁদ হলো কাহ্ন পা বিকল্পটি। তিনিও চর্যার কবি এবং সবচেয়ে বেশি পদের রচয়িতা, কিন্তু বাঙালি বলে আত্মপরিচয় দিয়েছেন ভুসুকু। গোবিন্দদাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদকর্তা আর কায়কোবাদ আধুনিক যুগের মহাকাব্যের কবি।
মনে রাখুন: চর্যার দুই রেকর্ড: সবচেয়ে বেশি পদ কাহ্ন পা, নিজেকে বাঙালি বলা ভুসুকু পা।
১৩১১. ‘আফতাব’ শব্দের সমার্থক কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কঅর্ণব
- খরাতুল
- গঅর্ক
- ঘজলধি
সঠিক উত্তর: গ. অর্ক
প্রশ্নটি আফতাব শব্দের সমার্থক জানতে চেয়েছে। আফতাব ফারসি শব্দ, মানে সূর্য। বিকল্পগুলোর মধ্যে অর্ক শব্দের অর্থও সূর্য, তাই উত্তর অর্ক।
সূর্যের আরও প্রতিশব্দ: রবি, তপন, ভানু, দিবাকর, ভাস্কর, প্রভাকর। এর জোড়া হিসেবে মাহতাব মানে চাঁদ, এটাও ফারসি থেকে এসেছে।
অর্ণব আর জলধি দুটিরই অর্থ সমুদ্র; জলধি মানে যে জল ধারণ করে। রাতুল মানে লাল বা রক্তবর্ণ, যেমন রাতুল চরণ।
ফাঁদ হলো অর্ণব বিকল্পটি। অর্ক আর অর্ণব শুরুতে একই রকম শোনায়, কিন্তু একটি সূর্য আর অন্যটি সমুদ্র।
মনে রাখুন: জোড়ায় মনে রাখুন: আফতাব সূর্য, মাহতাব চাঁদ।
১৩১২. বাগাড়ম্বর শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ ____। (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কবাগ + অম্বর
- খবাগ + আড়ম্বর
- গবাক্ + অম্বর
- ঘবাক্ + আড়ম্বর
সঠিক উত্তর: ঘ. বাক্ + আড়ম্বর
বাগাড়ম্বর শব্দের অর্থ বেশি কথার আড়ম্বর বা জাঁকজমক; তাই এর দুই অংশ বাক্, মানে কথা, আর আড়ম্বর। অম্বর মানে আকাশ বা কাপড়, যার সাথে অর্থ মেলে না।
এটি ব্যঞ্জনসন্ধি। নিয়ম হলো: ক্, চ্, ট্, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্, দ্, ব্ হয়ে যায়। এখানে বাক্-এর ক্-এর পরে আ আছে, তাই ক্ হয়েছে গ্।
এরপর গ্ আর আ মিলে হয় গা, ফলে বাক্ যোগ আড়ম্বর থেকে হয় বাগাড়ম্বর। একই নিয়মে দিক্ যোগ অন্ত থেকে দিগন্ত।
দুটো ফাঁদ আছে। এক, সন্ধির পরের রূপ বাগ্ দেখে বিচ্ছেদেও বাগ লেখা; বিচ্ছেদে মূল শব্দ বাক্ লিখতে হয়। দুই, অম্বর লেখা; তাতে শব্দ হতো বাগম্বর, বাগাড়ম্বর নয়।
মনে রাখুন: শব্দের শেষাংশ ‘ড়ম্বর’ থাকলে দ্বিতীয় পদ আড়ম্বর; আর গ দেখলে মূল ধ্বনি ক্ কি না ভাবুন।
১৩১৩. ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’ এই চরণদ্বয়ের লেখক _____। (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- করবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খকুসুমকুমারী দাস
- গমদনমোহন তর্কালঙ্কার
- ঘকৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর: গ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি চরণদুটি কার লেখা। লেখক মদনমোহন তর্কালঙ্কার; চরণদুটি তাঁর আমার পণ কবিতার।
মদনমোহন তর্কালঙ্কার শিশুদের পাঠ্য বই শিশুশিক্ষা লিখেছিলেন। পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল কবিতাটিও তাঁরই। শিশুদের নীতিশিক্ষার এই ছন্দোবদ্ধ কবিতাগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন।
একই ধরনের নীতিকবিতার চরণ গুলিয়ে যায়। আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে লিখেছেন কুসুমকুমারী দাশ। কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ লিখেছেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
ফাঁদ হলো কুসুমকুমারী দাশ বিকল্পটি, কারণ তাঁর আদর্শ ছেলে কবিতাও শিশুদের ভালো হওয়ার কথা বলে। কিন্তু সকালে উঠিয়া আমি চরণটি মদনমোহনের।
মনে রাখুন: সকাল আর পাখির ডাক: দুটোই মদনমোহনের শিশুশিক্ষা থেকে।
১৩১৪. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় রচনার সংকলন? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- করূপকথা
- খছোটগল্প
- গগ্রাম্যগীতিকা
- ঘরূপকথা-উপকথা
সঠিক উত্তর: ক. রূপকথা
প্রশ্নটি ঠাকুরমার ঝুলি বইয়ের ধরন জানতে চেয়েছে। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বাংলার গ্রাম ঘুরে মুখে মুখে প্রচলিত রূপকথা সংগ্রহ করে ১৯০৭ সালে বইটি প্রকাশ করেন, ভূমিকা লেখেন রবীন্দ্রনাথ।
রূপকথা মানে রাজপুত্র, রাজকন্যা, রাক্ষস, পক্ষীরাজ ঘোড়ার অলৌকিক কাহিনি। ঠাকুরমার ঝুলিতে আছে কাঁকনমালা কাঞ্চনমালা, লালকমল নীলকমল, ডালিম কুমারের মতো গল্প; সবই রূপকথা।
উপকথা সাধারণত পশুপাখির মুখে নীতিকথা, যেমন ঈশপের গল্প। গ্রাম্য গীতিকা হলো গানের আকারে লোককাহিনি, যেমন মৈমনসিংহ গীতিকা। আর ছোটগল্প একজন লেখকের নিজের সৃষ্টি, যেমন রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ।
ফাঁদ হলো রূপকথা উপকথা বিকল্পটি, যা দেখতে আরও সম্পূর্ণ মনে হয়। কিন্তু বইটির গল্পগুলো পশুপাখির নীতিকথা নয়, রাজপুত্র রাজকন্যার রূপকথা।
মনে রাখুন: রাজপুত্র রাজকন্যা মানে রূপকথা; শিয়াল কুমির মানে উপকথা।
১৩১৫. বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত কত প্রকার? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক২
- খ৪
- গ৩
- ঘ৫
সঠিক উত্তর: গ. ৩
প্রশ্নটি বাংলা ছন্দের প্রধান প্রকার জানতে চেয়েছে। বাংলা ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার: স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর অক্ষরবৃত্ত।
পার্থক্যটা রুদ্ধ দল, মানে ব্যঞ্জনে শেষ হওয়া অক্ষর, কত মাত্রা পায় তা দিয়ে। স্বরবৃত্তে রুদ্ধ দল এক মাত্রা, মাত্রাবৃত্তে সবসময় দুই মাত্রা, আর অক্ষরবৃত্তে শব্দের শেষে দুই কিন্তু শব্দের ভেতরে এক মাত্রা।
এদের অন্য নামও আছে: স্বরবৃত্তকে দলবৃত্ত বা ছড়ার ছন্দ, মাত্রাবৃত্তকে কলাবৃত্ত, আর অক্ষরবৃত্তকে মিশ্রবৃত্ত বা তানপ্রধান ছন্দ বলে। নাম আলাদা হলেও প্রকার তিনটিই।
ফাঁদ হলো চার বিকল্পটি। অনেকে অমিত্রাক্ষর বা গদ্যছন্দকে আলাদা প্রকার ধরে চার গোনেন, কিন্তু অমিত্রাক্ষর আসলে অক্ষরবৃত্তেরই একটি রূপ।
মনে রাখুন: তিন ছন্দ: স্বর, মাত্রা, অক্ষর। রুদ্ধ দল ১, ২, মিশ্র।
১৩১৬. ‘কাঁঠালপাড়া’য় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খসুভাষ মুখোপাধ্যায়
- গকাজী ইমদাদুল হক
- ঘবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কাঁঠালপাড়া গ্রামে কোন লেখকের জন্ম। উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনার নৈহাটির কাছে কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্কিমচন্দ্রকে বাংলা উপন্যাসের জনক বা সাহিত্যসম্রাট বলা হয়। তাঁর দুর্গেশনন্দিনী বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস, আর তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
অন্য তিনজনের জন্মস্থানও আলাদা করে মনে রাখুন। শরৎচন্দ্রের জন্ম হুগলির দেবানন্দপুরে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নদিয়ার কৃষ্ণনগরে, আর আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক কাজী ইমদাদুল হকের খুলনার গদাইপুরে।
ফাঁদ হলো শরৎচন্দ্র বিকল্পটি। দুজনেই চট্টোপাধ্যায়, দুজনেই উপন্যাসের বড় নাম, আর দুজনের জন্মই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে; তাই গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: কাঁঠালপাড়া মানে বঙ্কিম, দেবানন্দপুর মানে শরৎ: দুই চট্টোপাধ্যায়ের দুই গ্রাম।
১৩১৭. নিচের কোনটি অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কভ
- খঠ
- গফ
- ঘচ
সঠিক উত্তর: ঘ. চ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বর্ণ অঘোষ অল্পপ্রাণ। নিয়মটা বর্গের অবস্থান দিয়ে: প্রতিটি বর্গের প্রথম বর্ণ অঘোষ অল্পপ্রাণ। চ হলো চ-বর্গের প্রথম বর্ণ, তাই উত্তর চ।
ঘোষ মানে উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কাঁপে, অঘোষ মানে কাঁপে না। মহাপ্রাণ মানে উচ্চারণে বেশি বাতাস বা হ-এর মতো ধ্বনি বের হয়, অল্পপ্রাণে কম।
পাঁচটি বর্গের ক্রম মুখস্থ রাখুন। প্রথম বর্ণ অঘোষ অল্পপ্রাণ, দ্বিতীয় অঘোষ মহাপ্রাণ, তৃতীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ, চতুর্থ ঘোষ মহাপ্রাণ, আর পঞ্চম বর্ণ নাসিক্য। তাই ঠ ও ফ দ্বিতীয় বর্ণ, অঘোষ মহাপ্রাণ; ভ চতুর্থ বর্ণ, ঘোষ মহাপ্রাণ।
ফাঁদ হলো ঠ বা ফ বিকল্প। এরা অঘোষ ঠিকই, কিন্তু মহাপ্রাণ; অল্পপ্রাণ হওয়ার শর্ত পূরণ করে না।
মনে রাখুন: বিজোড় বর্ণ (১ম, ৩য়) অল্পপ্রাণ, জোড় বর্ণ (২য়, ৪র্থ) মহাপ্রাণ; প্রথম দুটি অঘোষ, পরের দুটি ঘোষ।
১৩১৮. ‘অপ’ কী ধরনের উপসর্গ? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কসংস্কৃত
- খবাংলা
- গবিদেশি
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: ক. সংস্কৃত
প্রশ্নটি অপ উপসর্গের উৎস জানতে চেয়েছে। অপ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ; যেমন অপমান, অপচয়, অপকর্ম, অপযশ।
উপসর্গ তিন রকম: বাংলা, সংস্কৃত আর বিদেশি। সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি, যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু; বাংলা উপসর্গ একুশটি, যেমন অ, অঘা, অজ, আ; আর বিদেশি উপসর্গ আসে আরবি, ফারসি, ইংরেজি থেকে, যেমন বে, না, গর, হেড।
সংস্কৃত উপসর্গ সাধারণত তৎসম শব্দের আগে বসে। অপ বসেছে মান, চয়, কর্ম এসব তৎসম শব্দের আগে, আর অর্থ দিয়েছে বিপরীত বা নিকৃষ্ট। এটাই চেনার সহজ উপায়।
মিশ্র উপসর্গ নামে কোনো শ্রেণিই নেই, তাই সেই বিকল্পটি সহজেই বাদ যায়। বাংলা বিকল্পে ভুল হয় কারণ অ উপসর্গটা বাংলায় আছে, কিন্তু অপ আলাদা উপসর্গ।
মনে রাখুন: অপ দিয়ে আরও শব্দ: অপকর্ম, অপযশ, অপপ্রয়োগ। সবগুলোতেই মূল শব্দ তৎসম।
১৩১৯. নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক১৮৪৭-১৯১১
- খ১৮৫২-১৯১২
- গ১৮৫৭-১৯১১
- ঘ১৮৪৭-১৯১২
সঠিক উত্তর: ক. ১৮৪৭-১৯১১
প্রশ্নটি মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুর বছর জানতে চেয়েছে। তিনি ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১১ সালে রাজবাড়ীর পদমদীতে মারা যান।
তিনি উনিশ শতকের মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ। কারবালার ঘটনা নিয়ে লেখা বিষাদ-সিন্ধু তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই, আর জমিদারের প্রজাপীড়ন নিয়ে লেখা নাটক জমীদার দর্পণ। প্রথম উপন্যাস রত্নবতী।
জোড়া বছরের প্রশ্নে দুটো অংশই মেলাতে হয়। এখানে প্রতিটি ভুল বিকল্পের একটা অংশ ঠিক রেখে অন্যটা বদলানো হয়েছে, যাতে আধা মনে রাখা উত্তরে ধরা পড়ে।
ফাঁদ হলো ১৮৪৭ থেকে ১৯১২ বিকল্পটি; জন্মের বছর ঠিক, মৃত্যুর বছর এক বছর বেশি। আর ১৮৫৭ থেকে ১৯১১ বিকল্পে মৃত্যু ঠিক, কিন্তু জন্মের জায়গায় সিপাহি বিদ্রোহের বছর বসানো।
মনে রাখুন: জোড়া বছরের প্রশ্নে আগে একটা বছর দিয়ে বিকল্প ছাঁটুন, তারপর অন্যটা দিয়ে।
১৩২০. রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কস্বরবৃত্ত
- খঅক্ষরবৃত্ত
- গমন্দাক্রান্তা
- ঘমাত্রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মাত্রাবৃত্ত
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতার ছন্দ জানতে চেয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা, প্রতিটি চরণে আট আর পাঁচ মাত্রার পর্ব।
প্রথম চরণ ধরি: গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। গগনে তিন মাত্রা, গরজে তিন, আর মেঘ রুদ্ধ দল বলে দুই মাত্রা; মোট আট। ঘন দুই আর বরষা তিন, মোট পাঁচ।
মাত্রাবৃত্তের চিহ্ন হলো রুদ্ধ দল, মানে ব্যঞ্জনে শেষ হওয়া অক্ষর, সবসময় দুই মাত্রা পায়। লয় মাঝারি, পড়তে গানের মতো দোলা লাগে। স্বরবৃত্তে পর্ব হয় চার মাত্রার আর লয় দ্রুত, ছড়ার মতো।
ফাঁদ হলো মন্দাক্রান্তা বিকল্পটি। এটি সংস্কৃত ছন্দের নাম, কালিদাসের মেঘদূতের ছন্দ; মেঘ শব্দ দেখে অনেকে মিলিয়ে ফেলেন, কিন্তু সোনার তরী বাংলা মাত্রাবৃত্তে লেখা।
মনে রাখুন: রুদ্ধ দল সবসময় দুই মাত্রা ধরে পর্ব মিললে মাত্রাবৃত্ত; এক মাত্রা ধরে চার মাত্রার পর্ব মিললে স্বরবৃত্ত।