ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৪
৬১. ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কব্রহ্মপুত্র নদী
- খপদ্মা নদী
- গকর্ণফুলি নদী
- ঘমেঘনা নদী
সঠিক উত্তর: ক. ব্রহ্মপুত্র নদী
প্রশ্নটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে। ডাউকি ফল্ট মানে একটি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি। সঠিক উত্তর ব্রহ্মপুত্র নদ।
ডাউকি ফল্ট মেঘালয়ের শিলং মালভূমির দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর, সিলেট-ময়মনসিংহ সীমান্তের ঠিক উত্তরে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত একটি বড় চ্যুতি। এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প ভূমির উচ্চতা বদলে দিতে পারে, ফলে নদী নতুন ঢালের দিকে সরে যায়।
আগে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারা জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে পূর্ব দিকে বয়ে ভৈরবের কাছে মেঘনায় পড়ত। সতেরোশো বিরাশি থেকে সতেরোশো সাতাশি সালের মধ্যে ভূমিকম্প ও প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর মূল প্রবাহ দক্ষিণে সরে নতুন খাতে বইতে শুরু করে। সেই নতুন খাতই যমুনা, আর ময়মনসিংহের পুরোনো ধারাকে এখন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র বলে।
যমুনা নামটি বিকল্পে নেই, তাই অনেকে বিভ্রান্ত হন। মনে রাখুন, যমুনা আসলে ব্রহ্মপুত্রেরই নতুন পথ। পদ্মা, মেঘনা বা কর্ণফুলীর এমন বড় গতিপথ বদলের ঘটনা এই প্রশ্নের প্রসঙ্গে নেই।
মনে রাখুন: যমুনার জন্ম মানেই ব্রহ্মপুত্রের পথ বদল, সতেরোশো আশির দশকে।
৬২. বাংলাদেশের প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
- খসাভার, ঢাকা
- গসীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
- ঘবড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
সঠিক উত্তর: ঘ. বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
প্রশ্নটি দেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছে। উত্তর বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিক পাশেই এই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো হয়, যাতে খনি থেকে কয়লা সরাসরি কেন্দ্রে যেতে পারে। এটি দুই হাজার ছয় সালে উৎপাদন শুরু করে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সাধারণত জ্বালানির উৎসের কাছে বসানো হয়। তাই কয়লাখনির পাশে কয়লার কেন্দ্র, আর কর্ণফুলী নদীর বাঁধের পাশে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কাপ্তাই বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ এটি দেশের বিখ্যাত বিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু কাপ্তাই দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লার নয়।
মনে রাখুন: যেখানে কয়লাখনি, সেখানেই প্রথম কয়লার বিদ্যুৎকেন্দ্র: বড়পুকুরিয়া।
৬৩. ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কস্ট্রাটোমণ্ডল
- খট্রপোমণ্ডল
- গমেসোমণ্ডল
- ঘতাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর: ক. স্ট্রাটোমণ্ডল
প্রশ্নটি ওজোনস্তরের অবস্থান নিয়ে। উত্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
ট্রপোমণ্ডলের ঠিক ওপরে স্ট্রাটোমণ্ডল, মোটামুটি পনেরো থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় পনেরো থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোন গ্যাস ঘন হয়ে থাকে; একেই ওজোনস্তর বলে। ওজোনের প্রতিটি অণুতে তিনটি অক্সিজেন পরমাণু।
এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বেশিরভাগ শোষণ করে, ফলে ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের ছানি থেকে জীবজগৎ রক্ষা পায়। শোষিত শক্তির জন্যই স্ট্রাটোমণ্ডলে ওপরে উঠলে তাপমাত্রা বাড়ে, যা ট্রপোমণ্ডলের উল্টো।
আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে ট্রপোমণ্ডলে, উল্কা পোড়ে মেসোমণ্ডলে, আর বেতার তরঙ্গ ফেরে তাপমণ্ডলের আয়নমণ্ডলে। প্রতিটি স্তরের একটি করে পরিচয় মনে রাখলে এ প্রশ্ন গুলায় না।
মনে রাখুন: নিচ থেকে: ট্রপো আবহাওয়া, স্ট্রাটো ওজোন, মেসো উল্কা, থার্মো আয়ন।
৬৪. প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করাঙ্গামাটি
- খখাগড়াছড়ি
- গবান্দরবান
- ঘসিলেট
সঠিক উত্তর: গ. বান্দরবান
প্রশ্নটি প্রান্তিক হ্রদের অবস্থান নিয়ে। উত্তর বান্দরবান জেলা।
প্রান্তিক হ্রদ বান্দরবান সদরের টংকাবতী ইউনিয়নে, জেলা শহর থেকে প্রায় চোদ্দো কিলোমিটার দূরে। এটি বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্থান, মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি ও শৈলপ্রপাতের মতো। পাহাড়ে ঘেরা শান্ত জলাশয় হিসেবে এটি পরিচিত।
বান্দরবানে আরও একটি বিখ্যাত হ্রদ আছে: রুমা উপজেলার বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিনশো আশি মিটার উঁচুতে অবস্থিত গভীর প্রাকৃতিক মিঠা পানির হ্রদ। তাই বান্দরবান মানেই পাহাড় আর হ্রদ, এভাবে মনে রাখা যায়।
রাঙামাটির নাম শুনে অনেকে বিভ্রান্ত হন, কারণ দেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই সেখানে। কিন্তু প্রান্তিক হ্রদ রাঙামাটিতে নয়, বান্দরবানে।
মনে রাখুন: বান্দরবানের দুই হ্রদ: বগা লেক আর প্রান্তিক হ্রদ; রাঙামাটির হ্রদ কাপ্তাই।
৬৫. আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা কোথায় অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কখাগড়াছাড়ি জেলায়
- খরাঙ্গামাটি জেলায়
- গবান্দরবান জেলায়
- ঘকক্সবাজার জেলায়
সঠিক উত্তর: ক. খাগড়াছাড়ি জেলায়
প্রশ্নটি আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহার অবস্থান নিয়ে। উত্তর খাগড়াছড়ি জেলা।
আলুটিলা খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙা উপজেলায় একটি পাহাড়ি টিলা। এর ভেতরে পাথুরে সুড়ঙ্গের মতো একটি প্রাকৃতিক গুহা আছে, যার ভেতর দিয়ে ঠান্ডা পানির ধারা বয়ে যায়।
গুহার ভেতরে সূর্যের আলো ঢোকে না, তাই পর্যটকদের মশাল নিয়ে ঢুকতে হয়। স্থানীয়ভাবে একে মাতাই হাকর বলা হয়। কাছেই রিছাং ঝরনা।
পার্বত্য তিন জেলা পাশাপাশি বলে স্থানগুলো গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন: খাগড়াছড়িতে আলুটিলা, রাঙামাটিতে কাপ্তাই ও সাজেক, বান্দরবানে নীলগিরি ও বগা লেক।
মনে রাখুন: আলুটিলা গুহা খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙা উপজেলা।
৬৬. এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজিব্রাল্টার প্রণালী
- খবসফরাস প্রণালী
- গবাব এল মান্দেব প্রণালী
- ঘবেরিং প্রণালী
সঠিক উত্তর: গ. বাব এল মান্দেব প্রণালী
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রণালী এশিয়াকে আফ্রিকা থেকে আলাদা করেছে। উত্তর বাব এল মান্দেব প্রণালী।
প্রণালী হলো দুটি বড় জলভাগকে যুক্ত করা সরু জলপথ। বাব এল মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর এক পাশে এশিয়ার ইয়েমেন, অন্য পাশে আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়া। আরবিতে নামের অর্থ অশ্রুর দরজা।
সুয়েজ খাল দিয়ে ইউরোপ থেকে এশিয়াগামী জাহাজ লোহিত সাগর পেরিয়ে এই প্রণালী দিয়েই ভারত মহাসাগরে পড়ে, তাই এটি বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
অন্য প্রণালীগুলো ভিন্ন মহাদেশ জোড়া আলাদা করে। জিব্রাল্টার ইউরোপের স্পেন আর আফ্রিকার মরক্কোকে, বসফরাস তুরস্কের ভেতরে ইউরোপ আর এশিয়াকে, আর বেরিং এশিয়ার রাশিয়া আর উত্তর আমেরিকার আলাস্কাকে আলাদা করেছে।
মনে রাখুন: লোহিত সাগরের দক্ষিণ মুখ বাব এল মান্দেব: ইয়েমেন বনাম জিবুতি।
৬৭. মার্বেল কোন ধরনের শিলা? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করূপান্তরিত শিলা
- খআগ্নেয় শিলা
- গপাললিক শিলা
- ঘমিশ্র শিলা
সঠিক উত্তর: ক. রূপান্তরিত শিলা
প্রশ্নটি মার্বেল কোন ধরনের শিলা তা নিয়ে। উত্তর রূপান্তরিত শিলা।
রূপান্তরিত শিলা হলো এমন শিলা, যা আগে আগ্নেয় বা পাললিক ছিল, পরে ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে না গলে গঠন ও খনিজ বদলে নতুন শিলায় পরিণত হয়েছে।
মার্বেল তৈরি হয় চুনাপাথর থেকে। চুনাপাথরের ক্যালসাইট কণা তাপ ও চাপে আবার কেলাসিত হয়ে বড়, শক্ত দানায় পরিণত হয়, তাই মার্বেল মসৃণ ও চকচকে পালিশ নেয়। একইভাবে কাদা বা শেল থেকে স্লেট, বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট আর গ্রানাইট থেকে নিস হয়।
মার্বেলের উৎস চুনাপাথর পাললিক শিলা বলে অনেকে পাললিক বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্ন মার্বেল নিয়ে, তার উৎস নিয়ে নয়।
মনে রাখুন: চুনাপাথর থেকে মার্বেল, শেল থেকে স্লেট, বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট, গ্রানাইট থেকে নিস।
৬৮. মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসিরাস
- খনিম্বাস
- গকিউম্যুলাস
- ঘস্ট্রেটাস
সঠিক উত্তর: গ. কিউম্যুলাস
প্রশ্নটি মধ্যম উচ্চতার মেঘ নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে কিউমুলাস।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা মেঘকে উচ্চতা অনুযায়ী তিন স্তরে ভাগ করে। উঁচু স্তরে সিরাস ধরনের পালকের মতো বরফকণার মেঘ। মধ্যম স্তরে, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে মোটামুটি দুই থেকে সাত কিলোমিটারে, অল্টোকিউমুলাস, অল্টোস্ট্রেটাস ও নিম্বোস্ট্রেটাস। নিচু স্তরে স্ট্রেটাস, স্ট্রেটোকিউমুলাস, আর কিউমুলাস ও কিউমুলোনিম্বাস, যাদের তলা নিচে কিন্তু চূড়া মাঝের ও উঁচু স্তর পর্যন্ত ওঠে।
প্রচলিত উত্তরের যুক্তি হলো, তুলোর স্তূপের মতো কিউমুলাস গরম বাতাস ওপরে উঠে খাড়াভাবে বেড়ে মাঝারি উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়, আর মধ্যম স্তরের অল্টোকিউমুলাস এরই পরিবারের মেঘ। সিরাস স্পষ্টতই উঁচু আর স্ট্রেটাস নিচু, তাই গাইডগুলো কিউমুলাসকে মধ্যম ধরেছে।
সতর্কতা: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মেঘ অ্যাটলাসে কিউমুলাসের তলা নিচু স্তরে, আর নিম্বোস্ট্রেটাস প্রায় সবসময় মধ্যম স্তরে থাকে। তাই নিম্বাসের পক্ষেও যুক্তি আছে; পরীক্ষায় অবশ্য প্রচলিত উত্তর কিউমুলাস।
মনে রাখুন: উঁচু মেঘ সিরাস পরিবার, মধ্যম মেঘের নাম সাধারণত অল্টো দিয়ে শুরু, নিচু মেঘ স্ট্রেটাস পরিবার।
৬৯. ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির সাথে সম্পর্কিত বিষয়বস্তু হলো: (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআপদ ঝুঁকি হ্রাস
- খজলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস
- গজনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস
- ঘসমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর: খ. জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস
প্রশ্নটি দুই হাজার পনেরো সালের প্যারিস চুক্তির বিষয় নিয়ে। উত্তর জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস।
দুই হাজার পনেরো সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো সনদের একুশতম সম্মেলন, সংক্ষেপে কপ একুশে চুক্তিটি গৃহীত হয় এবং দুই হাজার ষোলো সালের চার নভেম্বর কার্যকর হয়।
এর মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পবিপ্লবের আগের তুলনায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখা, আর সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা। এজন্য প্রতিটি দেশ নিজে ঠিক করা কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার জমা দেয় এবং প্রতি পাঁচ বছরে তা বাড়ায়।
আপদ ঝুঁকি হ্রাস শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু সেটি একই বছরের সেন্দাই কাঠামোর বিষয়। দুই হাজার পনেরো সালে তিনটি বড় বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল: সেন্দাই কাঠামো, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্যারিস চুক্তি; এগুলো গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্যারিস মানে জলবায়ু, সেন্দাই মানে দুর্যোগ।
৭০. “বঙ্গবন্ধু দ্বীপ” কোথায় অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমেঘনা মোহনায়
- খসুন্দরবনের দক্ষিণে
- গপদ্মা এবং যমুনার সংযোগস্থলে
- ঘটেকনাফের দক্ষিণে
সঠিক উত্তর: খ. সুন্দরবনের দক্ষিণে
প্রশ্নটি বঙ্গবন্ধু দ্বীপের অবস্থান নিয়ে। উত্তর সুন্দরবনের দক্ষিণে।
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবনের দক্ষিণে জেগে ওঠা একটি চর, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চরের কাছাকাছি। উনিশশো বিরানব্বই সালে মালেক ফরাজী নামের এক জেলে সঙ্গীদের নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম দ্বীপটি দেখতে পান, পরে এর নাম রাখা হয় বঙ্গবন্ধু দ্বীপ।
দ্বীপটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা পলি সাগরে জমে তৈরি; বাংলাদেশের উপকূলে এমন নতুন চর নিয়মিত জেগে ওঠে। এর সৈকত, লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মেঘনা মোহনায় জেগে ওঠা নতুন চরগুলো, যেমন নিঝুম দ্বীপ বা ভাসানচর, নোয়াখালী অঞ্চলে; টেকনাফের দক্ষিণে সেন্ট মার্টিন। এই চেনা নামগুলোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: বঙ্গবন্ধু দ্বীপ সুন্দরবনের দক্ষিণে, দুবলার চর ও হিরণ পয়েন্টের কাছে।
৭১. ‘বেঙ্গল ফ্যান’-ভূমিরূপটি কোথায় অবস্থিত? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কমধুপুর গড়ে
- খবঙ্গোপসাগরে
- গহাওর অঞ্চলে
- ঘটারশিয়ারি পাহাড়ে
সঠিক উত্তর: খ. বঙ্গোপসাগরে
প্রশ্নটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গীয় ব্যজনী ভূমিরূপের অবস্থান নিয়ে। উত্তর বঙ্গোপসাগর।
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা প্রতি বছর বিপুল পলি বয়ে এনে বঙ্গোপসাগরে ফেলে। এই পলির বড় অংশ সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামের সাগরতলের গভীর খাদ দিয়ে ঘোলা স্রোতের সঙ্গে নেমে গিয়ে গভীর সমুদ্রের তলায় পাখার মতো ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে লাখ লাখ বছরে জমে গড়ে উঠেছে বেঙ্গল ফ্যান।
এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ডুবো পলল পাখা; লম্বায় প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার, চওড়ায় প্রায় চোদ্দশো কিলোমিটার, আর পলির স্তর কোথাও সাড়ে ষোলো কিলোমিটার পুরু। এটি আসলে হিমালয় থেকে ক্ষয়ে আসা পলির ভান্ডার।
নামে ফ্যান বা পাখা শুনে স্থলভাগের পলল পাখার কথা মনে হতে পারে, যা পাহাড়ের পাদদেশে হয়। কিন্তু বেঙ্গল ফ্যান পুরোটাই সাগরের নিচে।
মনে রাখুন: বেঙ্গল ফ্যান = বঙ্গোপসাগরের তলার বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো পাখা।
৭২. UDMC-এর পূর্ণরূপ হলো: (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কUnited Disaster Management Centre
- খUnion Disaster Management Committee
- গUnion Disaster Management Centre
- ঘNone of the above
সঠিক উত্তর: খ. Union Disaster Management Committee
প্রশ্নটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি সংক্ষিপ্ত নামের পূর্ণরূপ নিয়ে। উত্তর ইউনিয়ন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটি, অর্থাৎ ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
বাংলাদেশে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। এরা কেন্দ্র বা সেন্টার নয়, কমিটি, কারণ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সমন্বয় দল।
ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দুর্যোগের আগে সতর্কবার্তা প্রচার, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ এবং পরে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি এর কাজ। মানুষের সবচেয়ে কাছের স্তর বলে এর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সেন্টার শব্দ দিয়ে দুটি বিকল্প বানানো হয়েছে বিভ্রান্ত করতে। ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামো মনে রাখলে বোঝা যায় এখানে শেষ শব্দটি কমিটি।
মনে রাখুন: স্থানীয় দুর্যোগ কাঠামোতে শেষ শব্দ সবসময় কমিটি।
৭৩. একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত অঞ্চলসমূহকে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় তার নাম- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কআইসোপ্লিথ
- খআইসোহাইট
- গআইসোহ্যালাইন
- ঘআইসোথার্ম
সঠিক উত্তর: খ. আইসোহাইট
প্রশ্নটি সমান বৃষ্টিপাতের স্থান যোগ করা কাল্পনিক রেখার নাম নিয়ে। উত্তর আইসোহাইট।
মানচিত্রে একই মানের স্থানগুলো যোগ করা যেকোনো রেখার সাধারণ নাম আইসোপ্লিথ বা আইসোলাইন। কোন জিনিস সমান তার ওপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা নাম হয়। আইসো মানে সমান, আর গ্রিক হুয়েটোস মানে বৃষ্টি, তাই আইসোহাইট সমবৃষ্টিপাত রেখা।
একইভাবে আইসোথার্ম সমান তাপমাত্রার রেখা, আইসোবার সমান বায়ুচাপের রেখা, আইসোহ্যালাইন সমান লবণাক্ততার রেখা, আর কনট্যুর রেখা সমান উচ্চতার রেখা। বৃষ্টিপাতের মানচিত্রে আইসোহাইট আঁকলে বোঝা যায় দেশের কোন অংশ বেশি ভেজা, যেমন সিলেট, আর কোন অংশ শুকনো, যেমন বরেন্দ্র।
আইসোপ্লিথ সব সমমান রেখার সাধারণ নাম, নির্দিষ্টভাবে বৃষ্টির নয়; এখানে এটিই সূক্ষ্ম ফাঁদ।
মনে রাখুন: বৃষ্টি মানেই হাইট: আইসোহাইট।
৭৪. নিচের কোনটি সত্য নয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কইরাবতী মায়ানমারের একটি নদী
- খগোবী মরুভূমি ভারতে অবস্থিত
- গথর মরুভূমি ভারতের পশ্চিমাংশে অবস্থিত
- ঘসাজেক ভ্যালি বাংলাদেশে অবস্থিত
সঠিক উত্তর: খ. গোবী মরুভূমি ভারতে অবস্থিত
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বাক্যটি সত্য নয়। উত্তর গোবি মরুভূমি ভারতে অবস্থিত, কারণ গোবি ভারতে নয়।
গোবি মরুভূমি পূর্ব এশিয়ায়, দক্ষিণ মঙ্গোলিয়া ও উত্তর চীন জুড়ে বিস্তৃত। এটি শীতল মরুভূমি: হিমালয় ও তিব্বত মালভূমি ভারত মহাসাগরের আর্দ্র বাতাস আটকে দেয়, তাই এখানে বৃষ্টি খুব কম আর শীতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নামে।
বাকি তিনটি বাক্য সত্য। ইরাবতী মিয়ানমারের প্রধান নদী, উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে আন্দামান সাগরে পড়েছে। থর বা গ্রেট ইন্ডিয়ান মরুভূমি ভারতের পশ্চিমে রাজস্থানে, কিছু অংশ পাকিস্তানে। সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
সত্য নয় এমন প্রশ্নে তাড়াহুড়ো করে প্রথম সত্য বাক্যটি বেছে নেওয়া সাধারণ ভুল। প্রতিটি বাক্য আলাদা করে যাচাই করুন।
মনে রাখুন: ভারতের মরুভূমি থর; গোবি মঙ্গোলিয়া-চীনের।
৭৫. দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজানুয়ারি
- খফেব্রুয়ারি
- গডিসেম্বর
- ঘমে
সঠিক উত্তর: ক. জানুয়ারি
প্রশ্নটি দক্ষিণ গোলার্ধের উষ্ণতম মাস নিয়ে। উত্তর জানুয়ারি।
পৃথিবীর অক্ষ সাড়ে তেইশ ডিগ্রির মতো হেলে আছে বলে বছরে এক সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। বাইশ ডিসেম্বরের কাছাকাছি সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়; তখন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় আর গ্রীষ্মকাল শুরু।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি রোদের দিনেই সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে না। ভূমি ও সাগর তাপ জমাতে সময় নেয়, তাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে আসে। এজন্য দক্ষিণ গোলার্ধে জানুয়ারি উষ্ণতম আর জুলাই শীতলতম; আমাদের উত্তর গোলার্ধে ঠিক উল্টো।
ডিসেম্বরে সূর্য দক্ষিণে লম্ব হয় বলে অনেকে ডিসেম্বর বেছে নেন। কিন্তু তাপ জমার এই বিলম্বের জন্য উষ্ণতম মাস পরের মাস জানুয়ারি।
মনে রাখুন: দক্ষিণ গোলার্ধ: জানুয়ারি উষ্ণতম, জুলাই শীতলতম; উত্তর গোলার্ধে উল্টো।
৭৬. ট্রপিক্যাল সাইক্লোন সৃষ্টির জন্য সাগরপৃষ্ঠের ন্যূনতম তাপমাত্রা কত হওয়া প্রয়োজন? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক২৬.৫° সে.
- খ৩৫° সে.
- গ৩৭.৫° সে.
- ঘ৪০.৫° সে.
সঠিক উত্তর: ক. ২৬.৫° সে.
প্রশ্নটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সাগরপৃষ্ঠের ন্যূনতম তাপমাত্রা নিয়ে। উত্তর সাড়ে ছাব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘূর্ণিঝড়ের জ্বালানি হলো উষ্ণ সাগরের জলীয় বাষ্প। সাগরপৃষ্ঠ অন্তত সাড়ে ছাব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি গরম হলে, এবং এই উষ্ণ পানি প্রায় পঞ্চাশ মিটার গভীর পর্যন্ত থাকলে, প্রচুর বাষ্পীভবন হয়। গরম আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে মেঘ হয়, আর তখন জমা সুপ্ত তাপ ছেড়ে দেয়; এই তাপ বাতাসকে আরও ওপরে তোলে, নিচে নিম্নচাপ গভীর হয়।
চারদিক থেকে বাতাস সেই নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে, আর পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবে, মানে কোরিওলিস বলের জন্য, ঘুরতে থাকে; উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে। এজন্য বিষুবরেখার খুব কাছে ঘূর্ণিঝড় হয় না। ওপরে বাতাসের গতির পার্থক্য কম থাকাও জরুরি।
বাকি তিনটি সংখ্যা সাগরপৃষ্ঠের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি; উষ্ণতম ক্রান্তীয় সাগরের পৃষ্ঠও সাধারণত ত্রিশ ডিগ্রির আশপাশে থাকে। তাই উচ্চ সংখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না: প্রশ্নটি ন্যূনতম সীমা জানতে চেয়েছে।
মনে রাখুন: ঘূর্ণিঝড়ের তাপমাত্রার শর্ত একটাই সংখ্যা: সাড়ে ছাব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৭৭. কোন বনাঞ্চল প্রতিনিয়ত লবণাক্ত পানি দ্বারা প্লাবিত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কপার্বত্য বন
- খশালবন
- গমধুপুর বন
- ঘম্যানগ্রোভ বন
সঠিক উত্তর: ঘ. ম্যানগ্রোভ বন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন বন নিয়মিত লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়। উত্তর ম্যানগ্রোভ বন, বাংলায় স্রোতজ বা লবণাম্বু বন।
ম্যানগ্রোভ বন জন্মায় সমুদ্র উপকূলে, যেখানে দিনে দুবার জোয়ারে লবণাক্ত পানি ঢোকে আর ভাটায় নেমে যায়। এখানকার গাছ লবণ সহ্য করতে পারে; কাদায় অক্সিজেন কম বলে অনেক গাছের শ্বাসমূল মাটি ফুঁড়ে ওপরে ওঠে, আর ঠেসমূল গাছকে নরম কাদায় দাঁড় করিয়ে রাখে।
খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন, যার একটি অংশ ভারতে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া এখানকার প্রধান গাছ; রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর প্রতীক। উনিশশো সাতানব্বই সালে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
মধুপুর বন ও শালবন আসলে একই ধরনের, উঁচু শুকনো লাল মাটির পত্রপতনশীল বন। পার্বত্য বন পাহাড়ি চিরহরিৎ বন; সেখানে সাগরের পানি পৌঁছায় না।
মনে রাখুন: জোয়ার-ভাটা আর লবণ পানি মানেই ম্যানগ্রোভ, মানে সুন্দরবন।
৭৮. বাংলাদেশের কোন দ্বীপটি প্রবাল দ্বীপ নামে খ্যাত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কনিঝুমদ্বীপ
- খসেন্ট মার্টিনস
- গহাতিয়া
- ঘকুতুবদিয়া
সঠিক উত্তর: খ. সেন্ট মার্টিনস
প্রশ্নটি বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপ নিয়ে। উত্তর সেন্ট মার্টিন, যা দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
প্রবাল হলো সাগরের ক্ষুদ্র প্রাণী, যারা চুনজাতীয় কঙ্কাল তৈরি করে। বহু বছর ধরে এই কঙ্কাল জমে প্রবাল প্রাচীর ও দ্বীপ গড়ে ওঠে। প্রবালের জন্য দরকার পরিষ্কার, উষ্ণ, অগভীর লবণ পানি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ উপকূলের পানি নদীর পলিতে ঘোলা, তাই প্রবাল জন্মায় না; শুধু দক্ষিণ-পূর্ব কোণের পরিষ্কার পানিতে সেন্ট মার্টিন গড়ে উঠেছে।
সেন্ট মার্টিন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায়, টেকনাফ থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে। এর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা, আর এর দক্ষিণে ছেঁড়াদ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু।
নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া সবাই পলি জমে গড়া দ্বীপ। হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীতে মেঘনার মোহনায়, কুতুবদিয়া কক্সবাজারে বাতিঘর ও বায়ুবিদ্যুতের জন্য পরিচিত।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, ডাকনাম নারিকেল জিঞ্জিরা।
৭৯. বাংলাদেশের কোথায় প্লায়িস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কবান্দরবান
- খকুষ্টিয়া
- গকুমিল্লা
- ঘবরিশাল
সঠিক উত্তর: গ. কুমিল্লা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোথায় প্লাইস্টোসিন কালের সোপান বা চত্বরভূমি দেখা যায়। উত্তর কুমিল্লা। প্রশ্নপত্রে বানান প্লায়িস্টোসিন ছাপা হয়েছে, সঠিক বানান প্লাইস্টোসিন।
প্লাইস্টোসিন কাল প্রায় ছাব্বিশ লাখ থেকে বারো হাজার বছর আগের সময়। তখনকার জমা পলি পরে কিছুটা উঁচু হয়ে আশপাশের প্লাবন সমভূমি থেকে কয়েক মিটার উঁচু সিঁড়ির ধাপের মতো সোপান তৈরি করেছে। এর মাটি লালচে ও শক্ত, বন্যায় সহজে ডোবে না।
বাংলাদেশে এমন সোপান তিনটি: বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, আর কুমিল্লার লালমাই পাহাড়। লালমাই কুমিল্লা শহরের কাছে লাল মাটির টিলা; এখানেই ময়নামতির প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
বান্দরবান পাহাড়ি জেলা বলে উঁচু ভূমি খুঁজতে গিয়ে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু সেখানকার পাহাড় আরও পুরোনো টারশিয়ারি যুগের। কুষ্টিয়া ও বরিশাল নবীন প্লাবন সমভূমি।
মনে রাখুন: প্লাইস্টোসিন সোপান তিন: বরেন্দ্র, মধুপুর-ভাওয়াল, লালমাই (কুমিল্লা)।
৮০. নিম্নের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কচীন
- খপাকিস্তান
- গথাইল্যান্ড
- ঘমায়ানমার
সঠিক উত্তর: ঘ. মায়ানমার
প্রশ্নটি বাংলাদেশের সঙ্গে কোন দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা আছে তা নিয়ে। উত্তর মিয়ানমার। বাংলাদেশের স্থল সীমানা মাত্র দুটি দেশের সঙ্গে: ভারত ও মিয়ানমার।
বাংলাদেশের তিন দিক, পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব, জুড়ে ভারত, যার সঙ্গে সীমানা চার হাজার কিলোমিটারের বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা প্রায় দুইশো একাত্তর কিলোমিটার, যা কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার পাশ দিয়ে গেছে; এর একটি অংশ নাফ নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
চীন খুব কাছে হলেও সরাসরি সীমানা নেই; মাঝখানে ভারতের সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডোর। থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের মাঝখানে মিয়ানমার।
পাকিস্তানের নাম ইতিহাসের কারণে ফাঁদ হিসেবে কাজ করে: উনিশশো একাত্তরের আগে আমরা পূর্ব পাকিস্তান ছিলাম, কিন্তু দুই অংশের মাঝে প্রায় ষোলোশো কিলোমিটার ভারতের ভূখণ্ড ছিল, কোনো সীমানা কখনো ছিল না।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের স্থল প্রতিবেশী মাত্র দুটি: ভারত ও মিয়ানমার।